পিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

নববর্ষ ২০১৭র পূর্বসন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

আমার প্রিয়দেশবাসী,

কয়েক ঘণ্টাপরই আমরা সবাই নববর্ষ ২০১৭কে স্বাগত জানাবো। ভারতের ১২৫ কোটি নাগরিক নতুন সংকল্প,নতুন আশা, নতুন উৎসাহ, নতুন স্বপ্ন নিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাবো ।

গত দীপাবলিরপরই আমাদের দেশ একটি ঐতিহাসিক শুদ্ধিযজ্ঞের সাক্ষী থেকেছে। ১২৫ কোটি দেশবাসীর ধৈর্‍্যআর সংকল্পশক্তি দিয়ে চলতে থাকা এই শুদ্ধিযজ্ঞআগামীঅনেকবছরধরেদেশকেলক্ষ্যপ্রদানেরক্ষেত্রেঅত্যন্তগুরুত্বপূর্ণভূমিকাপালনকরবে ।

ঈশ্বরপ্রদত্তমানবস্বভাবঅনেকভালগুণাবলীদিয়েগড়া । কিন্তুসময়েরসঙ্গেআসা বিকৃতি ও দোষের আবর্জনায় সে দমবন্ধঅনুভব করে। ভেতরের ভাল গুণাবলীর কারণে এই দোষের দমবন্ধ পরিবেশ থেকে বেরিয়ে আসারজন্যে সে ছটফট করতে থাকে। আমাদের জাতীয় জীবনে, সমাজ জীবনে দুর্নীতি, কালোটাকা, নকলনোটের জাল সৎ মানুষদের হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করেছিল। জীবনযুদ্ধে হারিয়ে দিচ্ছিল ।  তাঁরা এসব মন থেকে মেনে নিতে না পারলেও পরিস্থিতির শিকারহয়ে সব সহ্য করতে হচ্ছিল, মেনে নিতে হচ্ছিল।

দীপাবলীপরবর্তী ঘটনাবলী থেকে প্রমাণ হয়েছে যে, কোটি কোটি দেশবাসী এ ধরণের দমবন্ধ পরিবেশথেকে মুক্তির সুযোগ খুঁজছিলেন।

আমাদেরদেশবাসীর মনের শক্তিকে আমরা বারবার উপলব্ধি করেছি। ১৯৬২র বিদেশি আক্রমণ, ১৯৬৫রযুদ্ধ, ১৯৭১এর যুদ্ধ, কার্গিলের যুদ্ধের সময় আমরা দেখেছি ভারতের কোটিকোটিদেশবাসীরসংগঠিত শক্তি আর অপ্রতিম দেশভক্তি। আমাদের বুদ্ধিজীবীরা একদিন অবশ্যই এ নিয়ে কথাবলবেন যে বহিঃশত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে দেশবাসীর এই সঙ্ঘবদ্ধ সংকল্প স্বাভাবিকব্যাপার, কিন্তু যখন কোটিকোটিদেশবাসী নিজেদের স্বভাবে বাসা বেঁধে থাকা রোগগুলিরবিরুদ্ধে, অসাধুতা ও বিকৃতিগুলির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্যে যুদ্ধক্ষেত্রে অবতীর্ণহন, তখন সেই ঘটনা প্রত্যেককে নতুনভাবে ভাবতে প্রেরণা জোগায়।

দীপাবলির পরথেকে লাগাতার আমাদের দেশবাসী দৃঢ় সংকল্প আর অপ্রতিম ধৈর্যের সঙ্গে  ,  ত্যাগের পরাকাষ্ঠা হয়ে অনেক কষ্টসহ্য করে অসাধুতা ও বিকৃতিগুলিকে পরাজিত করার যুদ্ধে বীরদর্পে লড়ে যাচ্ছেন।

কখনও মনে হয়যে সামাজিক জীবনের অসাধুতা ও বিকৃতিগুলি আমাদের অজান্তেই অনিচ্ছাসত্বেও আমাদেরজীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। কিন্তু গত ৮ নভেম্বরের পরবর্তী ঘটনাবলীআমাদের এগুলি পুনর্বিচার করতে বাধ্য করে। ১২৫ কোটি দেশবাসী অনেককষ্ট সহ্য করে প্রমাণ দিয়েছেন যে ,  প্রত্যেক ভারতবাসীর জীবনে সততা আর সদাচারের কত গুরুত্ব রয়েছে । জনশক্তির সামর্থ্য কতটা তা মহাকালের কপালে আঁকা হয়ে গেছে ,  ভাল অনুশাসন কাকে বলে ,  অপপ্রচারের ঝড়ঝঞ্ঝার মধ্যেও সত্যকেচিনতে পারার বিবেক বুদ্ধি কাকে বলে, বেইমানীর সামনে সততার সংকল্প কিভাবে বিজয়ী হয়।

দারিদ্র্যেরকবল থেকে বেরিয়ে আসার জন্যে ব্যাকুলতা, সমৃদ্ধ ভারত গড়ে তোলার জন্যে কী না করতেপারে! দেশবাসীযেকষ্টসহ্যকরেছেন ,   তা ভারতের উজ্জ্বলভবিষ্যত গড়ে তোলার জন্যে দেশবাসীর ত্যাগের দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

১২৫ কোটি দেশবাসীসংকল্পবদ্ধ হয়ে ,  নিজেদের পৌরুষও পরিশ্রম দিয়ে ,  উজ্জ্বল ভবিষ্যতগড়ে তোলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। সাধারণতঃ দেশের নানা আন্দোলনে সরকার আরদেশের সাধারণ মানুষ পরস্পরবিরোধী থাকে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সত্য আর সদাচারপুনঃপ্রতিষ্ঠার এই লড়াইয়ে উভয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এক ঐতিহাসিক লড়াইয়ে সামিল হয়েছে।

আমারপ্রিয়দেশবাসী ,

আমি জানি যেবিগত দিনগুলিতে আপনারা নিজের টাকা তোলার জন্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যাঙ্ক ও এটিএমেরলাইনে দাঁড়িয়েছেন ।  কষ্ট পেয়েছেন। এর মধ্যে আমিআপনাদের কাছ থেকে কয়েক হাজার চিঠি পেয়েছি। সবাই নিজের মতামত জানিয়েছেন, সংকল্পেরকথা লিখেছেন, পাশাপাশি নিজেদের কষ্টের কথাও লিখেছেন। কিন্তু এই সকল চিঠি পড়ে আমিঅনুভব করেছি, আপ্নারা আমাকে কত আপন ভাবেন! আপনারা দুর্নীতি, কালো টাকা ,  নকল নোটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে  এ কপা – ও পিছিয়ে আসতে চান না !  আপাদের এই ভালবাসা আমার কাছে আশীর্বাদস্বরূপ ।

এখন আমরা চাইছি ,  নতুন বছরে যত দ্রুত সম্ভব ব্যাঙ্কগুলিতেসাধারণ অবস্থা ফিরিয়ে আনতে !  সরকারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সকলকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যাতেদ্রুত ব্যাঙ্কগুলিতে সাধারণ অবস্থা ফিরিয়ে আনা হয় । বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে ,  দূরদুরান্তের এলাকাগুলিতে প্রো – অ্যাক্টিভ হয়ে সাধারণ নাগরিকের প্রতিটিছোট ছোট অভাবঅভিযোগ দূর করতে হবে !

আমার প্রিয় ভাইও বোনেরা ,

ভারত যা করেদেখাল তার সঙ্গে তুলনীয় কোনও ঘটনা বিশ্ব ইতিহাসে আর নেই ! বিগত ১০ – ১২ বছরে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোটেরসাধারণ প্রচলন কম আর সমান্তরাল অর্থব্যবস্থায় বেশি ছিল। আমাদের সমকক্ষ দেশগুলিতেএত নগদ অর্থ থাকে না! আমাদের অর্থব্যবস্থায় এই অতিরিক্ত ক্যাশ মূল্যবৃদ্ধির কারণহয়ে উঠেছিল, কালোবাজারী বাড়াচ্ছিল, দেশের গরিব মানুষের অধিকার হরণ করছিল।

অর্থব্যবস্থায়ক্যাশের অভাব যেমন কষ্ট দেয়, ক্যাশ মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি পেলেও তেমনি অনেক সমস্যা।আমরা এর ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে চাই। এই ব্যাপারে সকল অর্থনীতিবিদের একটাই রায়,  ক্যাশ  অর্থ ব্যবস্থার বাইরে থাকলে অনেক বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয় ,  তেমন ই   ক্যাশ বা নগদ অর্থ ব্যবস্থার মুখ্যধারার মধ্যে থাকলে উন্নয়নের কাজকে ত্বরান্বিত করে।

সম্প্রতি ১২৫কোটি দেশবাসী যে ধৈর্য ,  অনুশাসন আর সংকল্পশক্তির পরিচয় দিয়েছেন ,  আজ লালবাহাদুর শাস্ত্রী বেঁচে থাকলে ,  জ্য়প্রকাশ নারায়ণজী ,  রামমনোহর লোহিয়াজী কি ংবা  কামরাজজী বেঁচে থাকলে অনেক আশীর্বাদকরতেন ।

যে কোনওদেশের সকল নাগরিক যদি নিয়ম কানুন মেনে গরিবদের সেবায় নিয়োজিত সরকারের পাশে দাঁড়াতেঅর্থব্যবস্থার মুখ্যধারায় ফিরে আসেন সেটা দেশের পক্ষে শুভ সংকেত। সম্প্রতি এত ভালভাল উদাহরণ পাওয়া গেছে যে সেগুলির বর্ণনা করতে গেলে কয়েক সপ্তাহ লেগে যাবে। নগদেব্যবসার ক্ষেত্রে অনেক নাগরিকই  ইতিমধ্যেই  নিয়মকানুন মেনে অর্থ ব্যবস্থার মুখ্য ধারায় ফিরে আসতে চেয়েছেন ,  এটা অপ্রত্যাশিত ছিল । তাদেরকে সরকার স্বাগত জানাচ্ছে ।

আমার প্রিয়দেশবাসী,

আমরা কতদিনসত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকবো! একটি তথ্য শুনলে আপনারা হয় হেসে ফেলবেন অথবা রেগেউঠবেন, সরকারের কাছে পেশ করা তথ্য অনুযায়ী সারা দেশে স্রেফ ২৪ লক্ষ ব্যক্তিস্বীকার করেছেন যে, তাদের বার্ষিক আয় ১০ লক্ষ টাকার বেশি। একথা কি দেশের মানুষবিশ্বাস করবেন? আপনারা সবাই চারপাশে বড় বড় দালানবাড়ি, বড় বড় গাড়ি দেখেন। দেশের বড়শহরগুলির দিকে তাকালে একটি শহরেই বার্ষিক ১ লক্ষ টাকার বেশি রোজগার সম্পন্ন লক্ষলক্ষ মানুষ দেখতে পাই। তার মানে বুঝতে পারছেন, দেশের কল্যাণে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনকেআরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে!

দুর্নীতি আরকালোটাকার বিরুদ্ধে বর্তমান লড়াইয়ে সাফল্য থেকে এখন সারা দেশে আলোচনার বিষয় হয়েউঠেছে, এখন বেইমানদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে? ভাই ও বোনেরা, আইন আইনেরপথে চলবে। কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে!কিন্তু সরকারের অগ্রাধিকার হল, সৎ ব্যাক্তিরাকিভাবে সাহায্য পাবে, তাদের নিরাপত্তা কিভাবে সুনিশ্চিত করা যায় যাতে সততার পথেচলা মানুষদের কষ্ট কমানো যায়, কিভাবে সততাকে বেশি প্রতিষ্ঠিত করা যায়!

এই সরকার সৎমানুষদের বন্ধু আর দুর্জনদের সৎপথে ফিরিয়ে আনার উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার পক্ষে।

এটাই অপ্রিয়সত্য যে মানুষ কিছু সরকারি আধিকারিকের স্বজনপোষণ আর দুর্নীতির শিকার। আমরা চাই,সাধারণ মানুষের চেয়ে বেশি করে সরকারিআধিকারিক ও কর্মচারিরা রাজ্য কিম্বা কেন্দ্র- যে কোনও সরকারের প্রতিনিধিত্ব করুকনা কেন তাঁরা যেন সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন।আপনারা সৎ মানুষদের সাহায্য করুন আর বেইমানদের চিহ্নিত করুন।

বন্ধুগণ,

গোটা পৃথিবীএখন জানে যে সন্ত্রাসবাদ, নকশালবাদ, মাওবাদ, নকল নোটের কারবারী, ড্রাগস ব্যবসায়ী,শিশু ও নারী পাচারকারীরা কালোটাকার উপর নির্ভরশীল। সমাজ এবং সরকারের এরা শত্রু।আমাদের এই একটি পদক্ষেপে এদের মধ্যে থেকে অনেকেই আজ মূলধারায় ফিরে আসছে, অনেকপথভ্রষ্ট যুবক মূলস্রোতে ফিরছে। আমরা সচেতন থাকলে ভবিষ্যতে যাতে আমাদের কোন সন্তানআর হিংসা আর অত্যাচারের পথে না যায় সেটা সুনিশ্চিত করতে পারব!

এই অভিযানেরআরেকটি সাফল্য হল, অনেকের হিসাববহির্ভূত আয়ের টাকা ব্যাঙ্কে জমা করায়, তা আবার অর্থব্যবস্থারমুখ্যধারায় ফিরে এসেছে। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে অনেকের চালাকি ধরা পড়ে গেছে।

বন্ধুগণ,

গত ৫০ দিনধরে ব্যাঙ্ক কর্মচারীরা দিন রাত এক করে কাজ করেছেন। ডাকঘরের কর্মচারী এবং ব্যাঙ্কমিত্ররাও হাসিমুখে উল্লেখযোগ্য কাজ করেছেন। আপনাদের এই কর্মযজ্ঞের মাঝে হাতেগোনাকিছু ব্যাঙ্ক আধিকারিক ও কয়েকজন সরকারি কর্মচারি পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে দুর্নীতিরপথে পা বাড়িয়েছেন। তাদেরকে ক্ষমা করা হবে না!

ব্যাঙ্কিংব্যবস্থার জন্যে আজ সোনালি সুযোগ, ঐতিহাসিক উপলক্ষ! ইতিহাস সাক্ষী রয়েছে যে ভারতেরইতিহাসে কোনদিন এত কম সময়ে এত বেশি মাত্রায় অর্থরাশি ব্যাঙ্কে জমা পড়েনি।ব্যাঙ্কের স্বায়ত্তশাসনকে সম্মান জানিয়ে আমি অনুরোধ করছি, আপনারা নিজেদের প্রথাগতঅগ্রাধিকার থেকে বেরিয়ে এসে দেশের গরিব, নিম্ন মধ্যবিত্ত আর মধ্যবিত্তদের কেন্দ্রেরেখে নিজেদের ব্যবসা চালান। ভারত এবছর পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের জন্মশতবার্ষিকীকে‘ গরিব কল্যাণ বর্ষ’ হিসেবে পালন করছে। ব্যাঙ্কগুলি লোকহিতে কাজ করার এই সুবর্ণসুযোগহাতছাড়া করবে না!

যখন নিশ্চিতলক্ষ্য নিয়ে নীতি রচিত হয়, পরিকল্পনা গড়ে তোলা হয়, সুবিধাভোগীদের ক্ষমতায়নেরপাশাপাশি তাৎক্ষণিক এবং সুদূরপ্রসারী ফলও পাওয়া যায়। প্রত্যেক পয়সা খরচের হিসেবথাকে। এতে গ্রাম, গরিব, কৃষক, দলিত, পীড়িত, শোষিত, বঞ্চিত আর মহিলাদের ক্ষমতায়নবৃদ্ধি পায়। আর এই দুর্বল মানুষেরা যত স্বাবলম্বী হবে দেশও তত শক্তিশালী হবে।উন্নয়নের গতিও তত বাড়বে!

‘সবার পাশে– সবার উন্নয়ন’ এই শ্লোগানকে বাস্তবায়িত করতে নববর্ষের পূর্ব সন্ধ্যায় দেশের ১২৫কোটি নাগরিকদের জন্যে সরকার কিছু নতুন প্রকল্প আনছে।

বন্ধুগণ,দেশ স্বাধীন হওয়ার এতবছর পরও দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের নিজস্ব ঘর নেই। দেশেরঅর্থব্যবস্থায় কালোটাকার বাড়বাড়ন্ত হওয়ায় গরিব তো দূর, নিম্ন মধ্যবিত্ত ওমধ্যবিত্তরা বাড়ি কিনতে পারছিলেন না! এখন তাঁরা প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার মাধ্যমে২০১৭য় শহরে ৯ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে সুদে ৪ শতাংশ ছাড়, আর ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রেসুদে ৩ শতাংশ ছাড় পাবেন ।   এভাবেই গ্রামের ক্ষেত্রেপ্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার মাধ্যমে নির্মীয়মান বাড়ির সংখ্যা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।আগের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেশি বাড়ি বানানো হবে।২০১৭-য় গ্রামের নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তদেরপ্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে তাদের গৃহ নির্মাণ কিম্বা বর্তমান বাড়ির পরিসর বাড়াতেচাইলে, দুটি কামরা বাড়াতে বা একতলা উপরে নির্মাণের ক্ষেত্রে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্তঋণে ৩ শতাংশ সুদ ছাড় দেওয়া হবে।

বন্ধুগণ,বিগত দিনে চারপাশে এমন পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছিল যে দেশের কৃষির সর্বনাশ হয়েছে।আমাদের দেশের কৃষকরা তাদের সুযোগ্য জবাব দিয়েছেন। গত বছরের তুলনায় এ বছর ৬ শতাংশবেশি রবিচাষ হয়েছে। সারও গতবারের তুলনায় ৯ শতাংশ বেশি তোলা হয়েছে। সরকার লক্ষ্যরেখেছে যাতে কৃষকদের বীজ পেতে কিম্বা সার পেতে কোন অসুবিধা না হয়। এবার কৃষকভাইদের স্বার্থে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

জেলা সমবায়কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক এবং প্রাইমারি সোসাইটি গুলি থেকে রবি ও খরিফ ফসল বপনের জন্যে যেঋণ নেওয়া হয়েছিল সেই ঋণের ৬০ দিনের সুদ সরকার মেটাবে আর সেই টাকা কৃষকদেরব্যাঙ্কের খাতায় ট্র্যান্সফার করা হবে।

সমবায়ব্যাঙ্ক আর সোসাইটিগুলি থেকে যাতে কৃষকরা আরও ঋণ নিতে পারেন সেজন্যে নাবার্ডগতমাসে ২১হাজার কোটী টাকার ব্যবস্থা করেছিল, এবার সরকার সেই অঙ্ক প্রায় দ্বিগুণকরে আরও ২০ হাজার টাকা দিয়েছে। এক্ষেত্রে সুদের হার কম করায় নাবার্ডের যে ক্ষতিহবে সেটা সরকার বহন করবে। সরকার সিদ্ধান্তনিয়েছে যে আগামী তিন মাসের মধ্যে ৩ কোটি কিসান ক্রেডিট কার্ড বদলে রুপে কার্ডদেওয়া হবে।  কিষাণ  ক্রেডিট   কার্ডে   একটি   খামতি   ছিল   যে   এর   মাধ্যমে   টাকা   তুলতে   হলে   ব্যাঙ্কে   যেতেহ   তো ।   এখন   রুপে   কার্ড   হাতে   পেলে   তাঁরা   এই   কার্ড   দিয়ে   সরাসরি   বিকিকিনি   করতে   পারবেন ।

আমার   ভাই   ও   বোনেরা ,

দেশের   অর্থ   ব্যবস্থায়   কৃষির যত গুরুত্ব ক্ষুদ্র ও মাঝারিশিল্পেরও ততটাই গুরুত্ব। সরকার এই এমএসএমই ক্ষেত্রের জন্যেও কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেযাতে এই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপতিরা আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ গড়ে তোলা যায়। সরকারঠিক করেছে, ছোট শিল্পপতিদের ক্রেডিট গ্যারান্টি ১ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ কো টি  টাকা করবে। একটি ট্রাস্টেরমাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার ব্যাঙ্কগুলিকে গ্যারান্টি দিয়ে এই ঋণদান সুনিশ্চিত করবে।এনবিএফসি অর্থাৎ নন ব্যাঙ্কিং ফাইনান্সিয়াল কোম্পানির দেওয়া ঋণও এর মাধ্যমে নেওয়াযাবে।

সরকারের এইসিদ্ধান্তের ফলে ছোট দোকানদার, ছোট শিল্পগুলি বেশি ঋণ পাবে। কেন্দ্রীয় সরকারগ্যারান্টি দেওয়ায় সুদের হার কম হবে।

সরকারব্যাঙ্কগুলিকে বলেছে, ক্ষুদ্র শিল্পের ক্ষেত্রে নগদ ঋণের পরিমাণ ২০ শতাংশ থেকেবাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করতে। তাছাড়া ডিজিটাল মাধ্যমে  লেনদেন  করলে মূলধন ঋণ ২০ শতাংশ থেকেবাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করার কথা  বলা  হয়েছে। নভেম্বরে এই ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই নগদ টাকা ব্যাঙ্কে জমা দিয়েছেন। ব্যাঙ্কগুলিকেবলা হয়েছে ব্যাঙ্কিং মূলধন নির্ণয়ের ক্ষেত্রে এই জমারাশির কথা যেন মাথায় রাখা হয়।

কিছুদিন আগেইসরকার ছোট ব্যবসায়ীদের দেয় কর হ্রাস করেছিল। যে ব্যবসায়ী বছরে ২ কোটি টাকা পর্যন্তব্যবসা করে তাঁর করের গণনা ৮ শতাংশ আয় মেনে নিয়ে করা হয়। এখন এই ব্যবসায়ীদেরডিজিটাল লেন দেনের ক্ষেত্রে ৬ শতাংশ আয় মেনে নিয়ে করা হয়।

বন্ধুগণ,

মুদ্রাযোজনার সাফল্য নিশ্চিতভাবেই উতসাহব্যঞ্জক ।  গত বছরপ্রায় তিন কোটি মানুষ এর দ্বারা লাভবান হয়েছেন। দলিত-আদিবাসী-পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়সমূহ এবং মহিলাদের অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার এবার এই প্রকল্পকে দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

গর্ভবতীমহিলাদের জন্যে একটি দেশব্যাপী প্রকল্প শুরু করা হচ্ছে। এখন দেশের সমস্ত জেলায়,৬৫০টিরও বেশি জেলায় সরকার গর্ভবতী মহিলাপিছু পঞ্জীকরণ, টিকাকরণ, পৌষ্টিক আহার আরপ্রসবের খরচ বাবদ ৬০০০টাকা করে আর্থিক সহায়তার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই টাকা গর্ভবতীমহিলাদের ব্যাঙ্ক আকাউন্টে ট্র্যান্সফার করা হবে। বর্তমানে এই প্রকল্পের পাইলটপ্রজেক্ট দেশের ৫৩টি জেলায় গর্ভবতী   মহিলাপিছু ৪০০০ টাকা হারে দেওয়াহচ্ছে।

সরকারবর্ষীয়ান নাগরিকদের জন্যেও একটি প্রকল্প শুরু করতে যাচ্ছে। ব্যাঙ্কে বেশি টাকা জমাদিলে সাধারণতঃ সুদের হার কমে যায়। বর্ষীয়ান   নাগরিকদের যাতে কোনও ক্ষতি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে ৭.৫লক্ষ টাকা পর্যন্ত ১০ বছর ধরে বার্ষিক ৮ শতাংশ সুদ সুরক্ষিত করা হবে। এই সুদেরটাকা ব র্ষীয়ান  নাগরিক প্রতিমাসে তুলতে পারবেন।

দুর্নীতি ওকালোটাকার প্রসঙ্গ যখনই ওঠে তখন রাজনৈতিকনেতা, রাজনৈতিক দল, নির্বাচনের খরচইত্যাদি নিয়ে আলোচনা হয়। এখন সময় হয়েছে সকল রাজনৈতিক নেতা আর রাজনৈতিক দল যেন দেশের সৎ নাগরিকদের ভাবনাকে সম্মান জানিয়ে তাদেরআক্রোশের কারণগুলি বোঝেন। একথা সত্যি যে আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলি বিভিন্নসময়ে আচরণবিধি সংস্কারের সার্থক প্রয়াস নিয়েছে। এখন সময়ের প্রয়োজন রাজনীতিরউর্দ্ধে উঠেসকল দলের নেতারা একসঙ্গে বসে স্বচ্ছতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এমন পদক্ষেপনিক যাতে ভবিষ্যতে তাদের ও দলগুলির ছবি জনমনে পরিচ্ছন্ন হয়।

আমাদেরদেশের সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে শ্রদ্ধেয় রাষ্ট্রপতি পর্যন্ত অনেকেই নানা সময়েবলেছেন, সকলেই চাইছেন খরচ বাঁচাতে লোকসভা ও বিধানসভার নির্বাচন যেন এক সঙ্গে করানোহয়।   এখন সময় এসেছে এই নিয়ে বিতর্ক হোক,পথ খোঁজা হোক। আমাদের দেশ সর্বদাই ইতিবাচক পরিবর্তনের পরিসর থাকে। এখন ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রেও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনদেখা যাচ্ছে। গতকাল সরকার বাবা সাহেব ভীমরাওআম্বেদকরের নামে ডিজিটাল লেনদেনের একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ স্বদেশী প্ল্যাটফর্ম খুলেছে   BHIM – ।  BHIM  মানে ভারত ইন্টারফেস ফর মানি। আমি দেশের যুব সম্প্রদায়,ব্যবসায়ী ও কৃষকদের অনুরোধ করবো এই  BHIM  এর সঙ্গে যুক্ত হতে।

বন্ধুগণ, ৮নভেম্বর পরবর্তী ঘটনাক্রম, সিদ্ধান্ত ও নতুন নীতিসমূহ নিয়ে অর্থনীতিবিদরা তোমূল্যায়ন করবেনই, দেশের সমাজ বিজ্ঞানীরাও যদি এই ঘটনাক্রম ,  সিদ্ধান্ত   ও   নতুন   নীতিসমূহ নিয়ে আর কিভাবে দেশেরগ্রাম ,  গরিব ,  কৃষক ,  দলিত ,  পীড়িত ,  শোষিত ,  বঞ্চিত ,  লেখাপড়া   জানা   যুবসম্প্রদায় ,  আর   মহিলারা   অপ্রতিম   ধৈর্য   আর   লোকশক্তির   প্রদ র্শন  করেছেন তার বিচার বিশ্লেষণ করেনতাহলে ভাল হয়।

আর কিছুক্ষণপর নতুন বছর ২০১৭   শুরু হবে। আজ থেকে ১০০ বছর আগে ১৯১৭ – তে মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে চম্পারণে প্রথমবার সত্যাগ্রহআন্দোলন শুরু হয়েছিল। ১০০ বছর পরও আমরা দেখেছি এ দেশের মানুষ সততা ও সদাচারেরপ্রতি ইতিবাচক মনোভাব রাখেন। মহাত্মা গান্ধীর আদর্শ আজ আমাদের সত্যের প্রতি আগ্রহীকরে রেখেছে। চম্পারণ সত্যাগ্রহের শতবর্ষে আমরা দুর্নীতি ও কালো টাকার বিরুদ্ধেলড়াই জারি রেখেই মহাত্মা গান্ধীকে শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধা জানাতে পারি!

সত্যেরপ্রতি আগ্রহই সম্পূর্ণ সাফল্যের গ্যারান্টি দিতে পারে। ১২৫ কোটির দেশ, ৬৫ শতাংশ জনসংখ্যার বয়স ৩৫বছরের কম। উপায় আছে, সামর্থ্য আছে, এহেন দেশ কারও থেকে পিছিয়ে থাকবে কেন?

নতুন বছরেরনতুন সূর্যকিরণ নতুন সাফল্যের সংকল্প নিয়ে আসছে। আসুন আমরা সবাই মিলে এগিয়ে যাই,সকল বাঁধা পেরিয়ে এগিয়ে যাই… এক উজ্জ্বল নতুন ভবিষ্যৎ গড়ে তুলি।

জয় হিন্দ।

PG/SB/DM

Your Comment

আপনার ইমেইল এড্রেস প্রকাশ করা হবে না। Required fields are marked *

CAPTCHA Image

*