পিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

নীতি আয়োগের উদ্যোগে তরুণ শিল্পোদ্যোগীদের সঙ্গে আলোচনা ও মত বিনিময় প্রধানমন্ত্রীর

 

           

বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্রবাসী ভারতীয় কেন্দ্রে নীতি আয়োগের উদ্যোগে “পরিবর্তনের দিশারী” অনুষ্ঠানে তরুণ শিল্পোদ্যোগীদের সঙ্গে আলোচনা ও মত বিনিময়ে মিলিত হলেন প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী।

তরুণ শিল্পোদ্যোগীদের ৬টি গোষ্ঠী এদিন বিভিন্ন বিষয়ের ওপর উপস্হাপনা পেশ করে প্রধানমন্ত্রীর উপস্হিতিতে। ‘শিক্ষা ও দক্ষতা বিকাশ’, ‘স্বাস্হ্য ও পুষ্টি’, ‘এক নিরন্তর ভবিষ্যতের লক্ষ্যে উৎসাহদান’, ‘ডিজিটাল ভারত’ ইত্যাদির ওপর তাঁদের বক্তব্য ও উপস্হাপনা শিল্পোদ্যোগীরা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর সামনে। আগামী ২০২২ সালের মধ্যে এক ‘নতুন ভারত’ গড়ে তোলার উদ্যোগকে কিভাবে সফল করে তোলা যায় সে সম্পর্কে তাঁদের বক্তব্য ও উপস্হাপনাও ছিল এদিনের আলোচ্য সূচির অন্তর্ভূক্ত। ‘সফট পাওয়ার’ এবং ‘ইনক্রেডিবল ইন্ডিয়া’-র মতো বিষয়গুলিও শিল্পোদ্যোগীরা স্পর্শ করে যান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা ও মতবিনিময়কালে।

শিল্পোদ্যোগীদের উপস্হাপনার মধ্যে নতুন নতুন চিন্তা-ভাবনা এবং উদ্ভাবন প্রচেষ্টা লক্ষ্য করে তাঁদের ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অতীতে সামাজিক উদ্যোগগুলির লক্ষ্য ছিল জনসাধারণের বৃহত্তর অংশের চাহিদা পূরণ। এই ধরণের আন্দোলনে তখন নেতৃত্ব দিতেন সমাজের বিশিষ্ট জনেরা।

“পরিবর্তনের দিশারী”-এই উদ্যোগটির মধ্য দিয়ে সমাজ তথা সমগ্র জাতির কল্যাণে বিভিন্ন শক্তির সমন্বয় ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এই উদ্যোগকে যে আরও জোরদার করে তোলা হবে একথাও তিনি এদিন ঘোষণা করেন। শ্রী মোদী বলেন, সম্ভাব্য সকল রকম উপায়ে এই উদ্যোগকে প্রাতিষ্ঠানিক করে তোলার লক্ষ্যেও সমস্ত রকম প্রচেষ্টা নিয়োজিত হবে। এদিন যাঁরা উপস্হাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তাঁদেরও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও মন্ত্রকের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে বলে তিনি প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ করেন।

পদ্ম সম্মান ও পুরস্কারের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে সমাজের অন্যান্য ক্ষেত্রে যাঁরা উল্লেখযোগ্য সাফল্যের নজীর সৃষ্টি করেছেন কিংবা জাতীয় জীবনে কোনও না কোনওভাবে অবদান রেখেছেন তাঁদেরও কিভাবে সম্মানিত করা যায় সে সম্পর্কেও আমাদের চিন্তাভবনা করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন যে কেন্দ্রীয় সরকারের পদস্হ আধিকারিকরা সাধারণ মানুষের বিকাশ ও কল্যাণে কোন্ কোন্ ব্যবস্হা গ্রহণ করা যেতে পারে তা খুঁজে বের করার কাজে খুবই আগ্রহী। নিজেদের গোষ্ঠীগুলির মধ্যে তাঁদের নিজস্ব চিন্তাভাবনা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য শিল্পোদ্যোগীদের এদিন উৎসাহদান করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন যে এই কাজে সফল হলে সুপ্রশাসন ও সুপরিচালনের স্বার্থে তাঁরা যথেষ্ট অবদানের নজির সৃষ্টি করবেন।

দেশে বহু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরিবর্তন যে কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই সম্ভব করে তুলেছে সেকথার উল্লেখ করে তিনি বলেন যে এই ধরনের পদক্ষেপগুলির সুদূরপ্রসারী ফলাফলও ইতিমধ্যে লক্ষ্য করা গেছে। স্বপ্রত্যায়িত নথিপত্র পেশ করার বিষয়টিতে অনুমোদন দানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ওপর আরও বেশি করে আস্হা ও বিশ্বাস প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এমনকি গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সাক্ষাৎকার গ্রহণের প্রথাও তুলে দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন যে বর্তমানে কোনও বিষয়ে কোনরকমভাবে জ্ঞান ও তথ্যের যাতে ঘাটতি না থাকে সেজন্য একটি করে “অ্যাপ”-এরও সূচনা হয়েছে। কারণ তিনি মনে করেন যে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের সমন্বয় সরকারি প্রশাসন ও পরিচালনের ক্ষেত্রে রূপান্তরমুখী পরিবর্তন সম্ভব করে তুলতে পারে। বাস্তব অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে প্রয়োজন বিকেন্দ্রীকৃত কাঠামোশক্তি। সরকারের রূপান্তর প্রচেষ্টায় ‘স্টার্ট-আপে’-এর ভূমিকার কথাও এদিন উল্লেখ করেন তিনি।

সমাজে ভালো শিক্ষকের ভূমিকাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে শ্রী মোদী বলেন যে প্রযুক্তি শিক্ষার গুণগত মানকে অনেকটাই বাড়িয়ে তুলতে পারে। সরকারের সমাজ কল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলি নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের স্বার্থেও রূপায়ণের জন্য শিল্পোদ্যোগীদের উৎসাহ দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর মতে এক নতুন ভারত গঠন সম্ভব দেশের কোটি কোটি সাধারণ নাগরিকের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে। এই আন্দোলনে সামিল হওয়ার জন্য শিল্পোদ্যোগীদের কাছে আর্জি জানান তিনি।

কয়েকজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান শ্রী অরবিন্দ পানাগারিয়া এবং কেন্দ্রীয় সরকারি পদস্হ আধিকারিকরা উপস্হিত ছিলেন এদিনের অনুষ্ঠানে। সমন্বয় ও সঞ্চালনের দায়িত্ব পালন করেন নীতি আয়োগের সিইও শ্রী অমিতাভ কান্ত।

 

PG/SKD/NS