পিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

২৯ অক্টোবর, ২০১৭ তারিখে কর্ণাটকের উজিরে’তে একটি জনসভায় প্রধানমন্ত্রীশ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

বিপুল সংখ্যায় আগত আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা,

আমার পরম সৌভাগ্য যে আজ ভগবান মঞ্জুনাথের চরণে এসেআপনাদের সকলের দর্শনলাভের সুযোগ পেয়েছি। গত সপ্তাহে আমার কেদারনাথ যাওয়ার সৌভাগ্যহয়েছিল। গুরু আদি শঙ্করাচার্য হাজার বছরেরও আগে সেখানে গিয়ে রাষ্ট্রীয় একতারস্বার্থে কত বড় সাধনা করেছিলেন। আজ আমার আরেকবার দক্ষিণ ভারতে মঞ্জুনাথের চরণস্পর্শ করার সৌভাগ্য হয়েছে।

আমি মনেকরি না যে, ডঃ বীরেন্দ্র হেগরে’কে সম্মান জানানোর অধিকার নরেন্দ্র মোদী নামক কোনওব্যক্তির আছে কিনা! তাঁর ত্যাগ, তপস্যা, তাঁর জীবন মাত্র ২০ বছর বয়সেই তিনি ‘ওয়ানলাইফ, ওয়ান মিশন’ লক্ষ্য স্থির করে নিজেকে সেই লক্ষ্য-সাধনে সমর্পণ করেছিলেন। আরআমি আজ তাঁর এই ত্যাগ ও তপস্যার কথা এত বিস্তারিতভাবে প্রথমবার শুনলাম এত দেরিতে,এটা কি স্বাভাবিক! এহেন বনস্পতিসম জীবন – তাঁকে সম্মান জানানোর ক্ষেত্রে ব্যক্তিহিসাবে আমি অত্যন্ত ক্ষুদ্র! কিন্তু ১২৫ কোটি ভারতবাসীর প্রতিনিধি রূপে আপনারাআমাকে যে পদে বসিয়েছেন, সেই পদের গরিমাই আমাকে আজ এহেন কাজে শরিক হওয়ার সৌভাগ্যএনে দিয়েছে।

সার্বজনিক জীবনে এ ধরনের অধ্যাত্মিক প্রতিষ্ঠানেঈশ্বরকে সাক্ষী রেখে আচার ও ভাবনায় এক সূত্রে বেঁধে মন-বাণী-কর্মে পবিত্রতা বজায়রেখে তিনি স্থির লক্ষ্য সাধনের জন্য,নিজের জন্য নয় সমষ্টির জন্য প্রতি পদক্ষেপে নানা প্রতিস্পর্ধার সম্মুখীন হয়েছেন।প্রতিটি প্রতিস্পর্ধার মাধ্যমে প্রত্যেক দাঁড়িপাল্লায় যখন ব্যক্তির প্রতিটিব্যক্তব্য ও কৃতিকে মাপা হয়, সেসব কিছুই হাসি মুখে মেনে নিয়ে দীর্ঘ ৫০ বছরেরসাধনার মাধ্যমে তিনি আমার মতো কোটি কোটি মানুষের জীবনে প্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছিলেন।আর সেজন্য আমি তাঁকে সশ্রদ্ধ প্রণাম জানাই।

হেগড়েজির সঙ্গে যতবার আমার সাক্ষাতের সৌভাগ্যহয়েছে, তাঁকে সর্বদা হাসিখুশি দেখেছি, খুব সরল-সহজ ও নিস্পৃহভাবে কথা বলতেন । গীতায় যেমন বলেছে – ‘নিষ্কাম কর্মযোগ’। আমি যখন তাঁকে সম্মানিতকরছিলাম, তিনি সহজভাবেই আমাকে বলেছিলেন, মোদীজি ৫০ বছর ধরে যে কাজ হয়েছে, তার কোনওসম্মান নেই, আর আপনি আমার কাছে আগামী ৫০ বছর এ রকমই কাজ করার গ্যারান্টি চাইছেন!এত মানুষ যাঁকে ভালোবাসতেন, ঈশ্বরের আশীর্বাদে ধনী, ৮০০ বছরের মহান তপস্যার ঐতিহ্যযিনি গুরু-শিষ্য পরম্পরায় পেয়েছিলেন, তৎসত্ত্বেও জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে কর্মেরপথকেই কিভাবে বেছে নিতে হয়, তা আমাদের হেগড়েজির কাছ থেকে শিখতে হবে। যোগ,স্বাস্থ্য, গ্রামীণ বিকাশ, দরিদ্র কল্যাণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উত্থানের জন্যবিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে ডঃ বীরেন্দ্র হেগড়েজি নিজের চিন্তাভাবনা এবং দক্ষতার মাধ্যমেপ্রতিটি বিষয়কে স্থান, কাল ও পরিস্থিতি অনুযায়ী এগিয়ে নিয়ে গেছেন। একথা বলতে আমারবিন্দুমাত্র সঙ্কোচ নেই, অনেক রাজ্যে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়নপ্রকল্পে কর্মপদ্ধতি নির্ণয় করার সময় ডঃ বীরেন্দ্র হেগড়েজির প্রয়োগ থেকে প্রাপ্তফলিত বিদ্যাকে আমরা মডেল হিসাবে গ্রহণ করেছি।

আজ একবিংশ শতাব্দীতে বিশ্বের সমৃদ্ধ থেকে সমৃদ্ধতমদেশও দক্ষতা উন্নয়ন নিয়ে নানারকম ভাবনাচিন্তা করছে। এই দক্ষতা উন্নয়নকে আজ সারাপৃথিবীতেই প্রশাসনের একটি মুখ্য ক্ষেত্র হিসাবে মনে করা হয়। ভারতের মতো দেশে ৮০কোটি মানুষ, মোট জনসংখ্যার ৬৫ শতাংশের বয়স ৩৫ বছর । এই জনসংখ্যার অনুপাত নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারি।এদেশে দক্ষতা উন্নয়ন নিছকই পেট পুজোর জন্য নয়, নতুন ভারতের স্বপ্নগুলিকেবাস্তবায়িত করতে দক্ষতা উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। আগামী দিনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেমানবসম্পদের যে প্রয়োজন হবে, সেই চাহিদা মেটাতে আমাদের যুবসম্প্রদায়কে দক্ষ হয়েউঠতে হবে। আজ থেকে অনেক বছর আগে ডঃ বীরেন্দ্র হেগড়ে একথা বুঝতে পেরেছিলেন এবং তিনিএই কাজে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেছিলেন।

আমি তাঁর সেই গুরুত্বপূর্ণ কর্মপদ্ধতিতে আরওগতিসঞ্চার করতে চাই। আধুনিক ভারতের তীর্থস্থানগুলি কেমন হওয়া উচিৎ? সম্প্রদায়,আস্থা, পরম্পরা – এসবের লক্ষ্য কী হওয়া উচিৎ – এসব বিষয়ে যে ধরনের গবেষণা হওয়াউচিৎ ছিল, দুর্ভাগ্যবশত তা হয়নি। আজ বিশ্বে শ্রেষ্ঠ বাণিজ্য ব্যবস্থাপনা স্কুলগুলিকিভাবে চলছে, তা নিয়ে অনেক আলাপ-আলোচনা হয়। দেশের বড় বড় পত্রপত্রিকায় সেগুলির র‍্যাঙ্কিংনির্ণয় করে। আজ আমি এই ধর্মস্থলে দাঁড়িয়ে এই পবিত্র ভূমি থেকে বিশ্বের বড় বড়বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে এবং ভারতের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে আমন্ত্রণ জানাই যে,আপনারা যেমন বিভিন্ন হাসপাতালে সমীক্ষা চালান, তাদের কর্মপদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করেন,তেমনভাবেই এই তীর্থস্থানগুলির বিভিন্ন দিক নিয়ে গবেষণা করুন। আমরা যেমনইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলির র‍্যাঙ্কিং করি, আজ সময়ের চাহিদা হ’ল শতাব্দীর পরশতাব্দীকাল ধরে আমাদের মুনিঋষিদের তত্ত্বাবধানে যে পরম্পরাগত সংস্থাগুলি আজও চালুরয়েছে, প্রজন্মের পর প্রজন্মান্তরে সেই সংস্থাগুলিতে কিভাবে সময়ের চাহিদা অনুসারেসংস্কারসাধিত হয়েছে, সেগুলির সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া কেমন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা কেমন,সেখানে স্বচ্ছতা ও সংহতির জন্য কিসব পদ্ধতি চালু রয়েছে – সেগুলি নিয়ে গবষণা করলেভারতে এ ধরনের হাজার হাজার সংস্থা রয়েছে, সহস্রাধিক আন্দোলনের সাক্ষী এই সংগঠনগুলিআজও কোটি কোটি মানুষের জীবনকে ইতিবাচক করে তুলতে প্রেরণা যোগায়, মানুষকে ব্যষ্টিথেকে সমষ্টির জীবনে বাঁচতে প্রেরণা যোগায়। এর বড় উদাহরণ এ ধরনের ধর্মস্থান, যারপরম্পরা ৮০০ বছরেরও পুরনো।

অন্যান্য দেশের নামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ছাত্র,গবেষক ও অধ্যাপকরা ভারতের এ ধরণের অসংখ্য আন্দোলনগুলি নিয়ে গবেষণা করলে বিশ্বআশ্চর্য হয়ে দেখবে আমাদের এখানে কেমন ব্যবস্থা ছিল, কেমন ব্যবস্থা চলত, সমাজেরভেতর আধ্যাত্মিক চেতনার পরম্পরা কিভাবে উত্তরাধিকার সূত্রে পালন করা হ’ত। আমাদেরমধ্যে যে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে লালিত ভালো দিকগুলি রয়েছে, সেগুলি নিয়ে সগর্বেসময়ানুকূল সংস্কারসাধন করতে হবে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, শুধু আস্থায় সীমাবদ্ধ নাথেকে এগুলির বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমেও দেশের যুবসম্প্রদায়কে আকর্ষণকরার প্রয়োজন রয়েছে।

এখানে এসে আজ আমার মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে রুপেকার্ড প্রদানের সৌভাগ্য হয়েছে। যাঁরা বিগত নভেম্বর, ডিসেম্বর, জানুয়ারি ওফেব্রুয়ারি মাসে সংসদ ভবনে বক্তব্য রেখেছেন, আপনারা যদি সেগুলি শুনতেন! যাঁরাশোনেননি তাঁরা রেকর্ড থেকে শুনে নেবেন। আমাদের দেশের অনেক বড় বড় পণ্ডিত ব্যক্তি,দিগ্‌গজ মানুষ সংসদ ভবনে তাঁদের বক্তব্যে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে, ভারতে যেপরিমাণ অশিক্ষা ও দারিদ্র্য রয়েছে তারফলে দেশে ডিজিটাল লেনদেন অসম্ভব। বহু মানুষেরকাছে এখনও মোবাইল ফোনই নেই। তাঁরা যতটা সমালোচনা করতে পারেন, যতটা নিন্দা করতেপারেন, তাঁরা করেছেন। কিন্তু আজ ডঃ বীরেন্দ্র হেগরেজি সেই সমালোচনার জবাব দিয়েদিয়েছেন।

গ্রামে বসবাসকারী আমার মা ও বোনেরা যতটাই শিক্ষিতহন না কেন, এরকম ১২ লক্ষ মা ও বোনেরা সংকল্প গ্রহণ করেছেন যে, তাঁদের পরিচালনাধীনস্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি সম্পূর্ণ লেনদেন তাঁরা নগদ ব্যবহার না করে রুপে কার্ড বা ভীমঅ্যাপ-এর মাধ্যমে করবেন, ডিজিটাল লেনদেন করবেন। মন থেকে ভালো কিছু করতে চাইলে যতইবাধা আসুক না কেন, কিভাবে দ্রুত বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাওয়া যায়, তা আজ ডঃবীরেন্দ্র হেগড়েজির নেতৃত্বে এই মা ও বোনেরা করে দেখিয়েছেন।

আমি আপনাদের সকলকে হৃদয় থেকে অভিনন্দন জানাই। ভাবীভারতের বীজ বপনের জন্য ডিজিটাল ইন্ডিয়া, লেস ক্যাশ সোস্যাইটি’র দিকে দেশকে নিয়েযাওয়ার জন্য আপনারা এমন ক্ষেত্রের মানুষদের স্পর্শ করেছেন, যাঁদের কাছে পৌঁছতেসরকার এবং ব্যাঙ্কিং সিস্টেমকে না জানি কত দশক সময়কাল ধরে পরিশ্রম করতে হ’ত।

কিন্তু আপনারা তৃণমূল স্তর থেকে ব্যবস্থাটি চালুকরে দেখিয়েছেন। ডঃ বীরেন্দ্র হেগরেজির নেতৃত্বে দেশে এতবড় অভিযান শুরু করার জন্যআমি সেসব স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির বোনেদেরও অভিনন্দন জানাই। এখন সময় বদলে গেছে।মুদ্রা ব্যবস্থা যুগে যুগে বারবার বদলেছে। আগে পাথরে নির্মিত মুদ্রা হ’ত, তারপরচামড়ার মুদ্রা চালু হয়, অনেক জায়গায় সোনা ও রূপার মুদ্রাও ছিল। এমনকি হীরা,জহরতকেও মুদ্রা হিসাবে ব্যবহার করা হ’ত। কখনও কাগজ আবার কখনও প্লাস্টিকের মুদ্রাচালু হয়েছে। কিন্তু এখন বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল মুদ্রার যুগ শুরু হয়েছে। ভারত’কেএক্ষেত্রে দেরী করলে চলবে না।

আমি দেখেছি যে, নগদ লেনদেন নানা সামাজিক অপরাধকেআকর্ষণ করে। পরিবারের মধ্যেও ছেলেমেয়ে বড় হলে যতই সুখীসম্পন্ন পরিবার হোক, তাদেরহাতে হিসাব করে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দেওয়া হয়। এর কারণ এটা নয় যে তাঁরা টাকা খরচকরতে ভয় পান। কিন্তু তাঁরা জানেন যে, নবযুবক-যুবতীদের হাতে টাকা যত থাকবে, তাদেরঅভ্যাস ও চরিত্র তত বেশি খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। সেজন্য সীমিত অর্থ তাদেরহাতে দেওয়া হয় এবং নিয়মিত হিসাব নেওয়া হয়। সমাজের ক্ষেত্রেও এটা প্রযোজ্য। সমাজেরনিজেই নিজের খরচের হিসাব রাখতে হবে। এই আত্মসংযম সমাজের ক্ষেত্রে একটিগুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ডঃ হেগড়ে আজ সেই লক্ষ্যে তাঁর নেতৃত্বাধীন সমাজকেনিয়ে যাচ্ছেন, আমার মতে তিনি একটি বৃহৎ মহাসড়ক খুলে দিচ্ছেন। আজ আরেকটি কাজ হয়েছে,এমন একটি লোগো উদ্বোধন হয়েছে, যা ধরিত্রী মায়ের প্রতি আমাদের ঋণ পরিশোধের প্রেরণাযোগায়। আমরা জানি যে, বৃক্ষ আমাদের প্রতি নিয়ত অক্সিজেন দিয়ে তার দায়িত্ব পালনকরে। তা হলে বৃক্ষকে বাঁচিয়ে রাখা কি আমাদের দায়িত্ব নয়! আমাদের অন্ন সংস্থানেরদায়িত্ব যে ধরিত্রী মা পালন করছেন, সন্তান হিসাবে তাঁকে সুস্থ রাখার দায়িত্ব কিআমাদের নয়। এই বৃক্ষ ও ধরিত্রীর সঙ্গে যখন আমরা বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলি,সর্বদা যখন মাথায় লাভের চিন্তা থাকে, তখনই আমাদের দায়িত্বে ভারসাম্য নষ্ট হয়। একপক্ষ শুধু দিয়ে যাবে, আরেক পক্ষ শুধু ভোগ করবে – এমনটি চলতে থাকলে ভারসাম্য নষ্টহবেই। আর প্রকৃতিতে ভারসাম্য নষ্ট হলে আমাদের বিশ্ব উষ্ণায়নের মতো কঠিন সমস্যারমতো সম্মুখীন হওয়া অবধারিত।

আজ সারা পৃথিবী বলছে, অদূর ভবিষ্যতেই মানবজাতিরসামনে পানীয় জলের সঙ্কট একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে। এটা আমাদের ভুললে চলবে না যে,আমরা যে গ্লাস ভরে জল খাই, এক বালতি জলে স্নান করি, সেই জল আমরা কোনও পরিশ্রমেরদ্বারা উপার্জন করি না। সেজন্য সেই জলের ওপর আমাদের কোনও অধিকার নেই। আমাদেরপূর্বজরা তাঁদের সচেতনতার মাধ্যমে যেসব কাজ করে গেছেন, আমাদের জন্য যা কিছু রেখেগেছেন, সেগুলিতে আমাদের যতটা অধিকার, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মেরও ততটাই অধিকার।আমরা যদি অপচয় করি, তা হলে আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তাঁদের অধিকার থেকে বঞ্চিতকরছি। আমাদের পূর্বজরা আমাদের জন্য যেরকম রেখে গেছেন, আমাদেরকেও ভবিষ্যৎ প্রজন্মেরজন্য সেরকমই রেখে যেতে হবে। এই ভাবনাকে জাগিয়ে তুলতে এই ধর্মস্থলের মাধ্যমে পরিবেশরক্ষার একটি বড় আন্দোলন শুরু হয়েছে। আমি মনে করি যে, এই আন্দোলন বিশ্বব্রহ্মাণ্ডেরই সেবা।

আমরা কিভাবে প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত হব, আগামী ২০২২সালে ভারতের স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে। ডঃ হেগড়েজির আশীর্বাদে ধর্মস্থল থেকেএত বড় আন্দোলন শুরু হওয়ায় আমার নতুন ভারতের স্বপ্ন বাস্তবায়নের ভরসা বেড়ে গেছে।

আজ আমরা নিজেদের বুদ্ধি ও শক্তি ব্যবহার করে লোভেরবশবর্তী হয়ে এই ধরিত্রী মা’কে শোষণ করি । আমরা কখনও ভেবে দেখি না যে , এই অতিরিক্ত শোষণের ফলে আমাদের মা অসুস্থ হয়ে পড়বেন না তো! আগে আমরাচাষের ক্ষেত থেকে বছরে একবার ফসল তুলতাম পরবর্তীকালে সেই জমিকে দু’ফসলী বানালাম,তারপর নানা রাসায়নিক সার ইত্যাদি প্রয়োগ করে তিন ফসলী করে তুললাম। এরফলে আমরাতাৎক্ষণিক লাভ ঠিকই পাচ্ছি কিন্তু এই প্রক্রিয়া চলতে থাকলে জানি না আমরা ভবিষ্যতেকোথায় গিয়ে থামব!

আমরা কি আজ এই ধর্মস্থল থেকে ডঃ হেগড়ে’র নেতৃত্বেএকটি সংকল্প গ্রহণ করতে পারি। এই গোটা এলাকার সমস্ত কৃষক কি সংকল্প গ্রহণ করতেপারেন যে, এখন আমরা ক্ষেতে যতটা ইউরিয়া প্রয়োগ করি, আগামী ২০২২ সালের মধ্যে আমরাতার প্রয়োগ অর্ধেক করব। এটুকুই যদি আপনারা বাস্তবায়িত করতে পারেন, তা হলে দেখবেনধরিত্রী মায়ের রক্ষায় আপনাদের অবদান অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এতে কৃষকের খরচ বাঁচবেকিন্তু উৎপাদন হ্রাস হবে না। অতিরিক্ত মুনাফা হয়তো সম্ভব হবে না। কিন্তু আপনাদেরক্ষেত-খামার, এই ধরিত্রী মা, আপনাদের আশীর্বাদ করবেন।

তেমনই জল; কর্ণাটকের মানুষ জলের সঙ্কট কাকে বলে,সেটা ভালোভাবেই জানেন। কারণ, কর্ণাটক বেশ কয়েকবার আকালের সম্মুখীন হয়েছে। আমিদেখেছি যে, আমাদের ইয়েদুরাপ্পাজি সুপারির দাম পড়ে গেলে আমার শরণাপন্ন হতেন। আমিতখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম, তিনি এসে বলতেন, মোদীজি আপনারা কিনে নিন, আমাদেরম্যাঙ্গালোর অঞ্চলটিকে রক্ষা করুন।

আমরা কি ২০২২ সালের মধ্যে ক্ষুদ্র সেচের মাধ্যমে,বিন্দু বিন্দু সেচ, ‘প্রতি বিন্দুতে অধিক শস্য’ উৎপাদনের সংকল্প নিয়ে প্রতিটিবিন্দু জলকে মুক্তোর মতো ব্যবহার করতে পারি? এক্ষেত্রে মাথায় রাখতে হবে যে,প্রতিটি বিন্দু জলের মূল্য একটি মুক্তোর সমান। তা হলেই আমরা এই সময়কালের মধ্যেএকটি বড় পরিবর্তন আনতে পারব বলে আমার বিশ্বাস।

যখন আমি ডিজিটাল ইন্ডিয়া নিয়ে কথা বলছিলাম …., কেন্দ্রীয়সরকার সম্প্রতি “জিইএম” উদ্যোগ নিয়েছে, আমি বিশেষ করে মহিলা স্বনির্ভরগোষ্ঠীগুলিকে আমন্ত্রণ জানাই, আপনারা যা-ই উৎপাদন করুন না কেন, আপনাদের উৎপাদিতপণ্য বিক্রির জন্যে আপনারা ভারত সরকারের এই জিইএম পোর্টালকে ব্যবহার করুন। আপনারাসেখানে নিজেদের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন করান। সেক্ষেত্রে আমরা সারা দেশে সরকারিদপ্তরগুলির জন্যে যত চেয়ার, টেবিল, গ্লাস, রেফ্রিজারেটর – ছোট বড় যা কিছু কিনি, তাআপনাদের কাছ থেকে কিনতে পারবো। যারা রেজিস্ট্রেশন করান, তাঁরা কতটা মাল সরবরাহকরতে পারবেন তা জানিয়ে রাখলে সরকারি দপ্তরগুলি তাঁদের প্রয়োজন অনুসারে সেগুলিন্যায্যদামে কিনে নেবে। অত্যন্ত স্বচ্ছ ব্যবস্থা।

গত বছর ৯ আগস্ট আমি এই ব্যবস্থার উদ্বোধন করেছিলামআর বছর ঘুরতে না ঘুরতেই দেশে প্রায় ৪০ হাজার উৎপাদনকারী সংস্থা এই ব্যবস্থাকে আপনকরে নিয়েছে। দেশের ১৫টি রাজ্য সরকারও মউ স্বাক্ষর করেছে আর হাজার হাজার কোটি টাকারতৈজসপত্র ও অন্যান্য জিনিস এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কেনা হচ্ছে। এরজন্য কোনও দরপত্রআহ্বান করা হয় না, পর্দার পেছনে কিছুই থাকে না। সমস্ত তথ্য কম্প্যুটারে আপনাদেরসামনে থাকে। ফলে, আগে সরকারি দপ্তরগুলি যেসব জিনিস ১০০ টাকায় কিনতো এখন ৫০-৬০ টাকায়কিনতে পারছে ।

এখন সবকিছুই বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকে। আগে বড় বড়মানুষেরা দপ্তরগুলিতে পণ্য সরবরাহ করতেন, তাদেরই একচেটিয়া ব্যাপার ছিল। আজ গ্রামেরগরিব মানুষও তাঁর উৎপাদিত পণ্য সরকারকে বিক্রি করতে পারেন। আমি আমাদের এই মহিলাস্বনির্ভর গোষ্ঠী ‘সখী’কেও আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, সরকারকে তাঁদের পণ্য বিক্রি করতে ।

আর আমি কর্ণাটক সরকারকেও আহ্বান জানাচ্ছি যে,ভারতের ১৫টি রাজ্য যেমন ইতিমধ্যেই এই ব্যবস্থায় মউ স্বাক্ষর করেছে, কর্ণাটক সরকারওদেরী না করে এগিয়ে আসুক। এতে কর্ণাটকের সাধারণ মানুষের উৎপাদন করা বস্তুগুলি বড়বাজার পাবে। মাঝখানে দালাল না থাকায় উৎপাদনকারীরা আগের তুলনায় বেশি মূল্য পাবেন।আপনাদের রাজ্য সরকারের দপ্তরগুলিও তুলনামূলক কম মূল্যে জিনিস কিনতে পারবে। ফলে,কর্ণাটকের দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর ব্যক্তি একটি নিশ্চিত বাজার পেয়ে সুনিশ্চিত আয়েরপথে পা বাড়াতে পারবেন। আমি চাই যে, কর্ণাটক সরকার আমার এই আমন্ত্রণ স্বীকার করুকআর কর্ণাটকের সাধারণ মানুষ এর দ্বারা লাভবান হোক।

আমরা আধার-এর সঙ্গে রুপেকার্ড, মোবাইল ফোন এবংব্যাঙ্কের পরিষেবাকে যুক্ত করেছি। দেশের গরিব মানুষকে উৎকৃষ্ট পরিষেবা দেওয়ারস্বার্থে এরকম বেশ কিছু প্রকল্প আমরা চালু করেছি। কিন্তু জানি না, যাঁদের জন্য এইপ্রকল্প, তাঁরা কি সত্যি সত্যিই লাভবান হচ্ছেন, নাকি অন্যরা হচ্ছেন? মাঝে কোথাওকারচুপি হচ্ছে না তো?

আমাদের দেশের একজন প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন যে,দিল্লি থেকে এক টাকা বরাদ্দ করা হলে গ্রামে পৌঁছতে পৌঁছতে তা ১৫ পয়সা হয়ে যায়। এইমাঝখানে এই ৮৫ পয়সা কারা খায়? আমরা ঠিক করেছি যে, দিল্লি থেকে ১ টাকা বরাদ্দ হলেগ্রামের গরিবের হাতে ১০০ পয়সা পৌঁছবে, ৯৯ পয়সা নয়। আর সেই গরিবের হাতে পৌঁছবে,যাঁরা হাতে এই টাকা পৌঁছনো উচিৎ। সেজন্য আমরা প্রত্যক্ষ সুবিধা হস্তান্তর ব্যবস্থাচালু করেছি। সাধারণ মানুষকে রেজিস্ট্রেশন করিয়েছি। এখন আমি একটি পবিত্র স্থানে বসেআছি। সর্বজন শ্রদ্ধেয় ডঃ হেগড়েজির পাশে বসে আছি। এই স্থানের পবিত্রতা এবং সততাসম্পর্কে আমি অবহিত। সেই পবিত্রস্থলে বসে আমি বলছি, যে রাজ্যগুলি এখনও পর্যন্তআমাদের ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়নি, সেসব রাজ্যের নাগরিকরা কোনও না কোনওভাবেবঞ্চিত হচ্ছেন। যেসব রাজ্য আমাদের ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে, তারা ইতিমধ্যেই ৫৭হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করতে পেরেছে। এই টাকা যথার্থ সুফল গ্রহীতাদের হাতে নাপৌঁছে অন্য কারও হাতে পৌঁছত। এই দুর্নীতি সেসব রাজ্যে সম্পূর্ণ বন্ধ করা গেছে।

এখন আমাকে বলুন, প্রতি বছর যাদের পকেটে এই ৫০-৬০হাজার কোটি টাকা যেত, এখন তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেই মানুষেরা কি মোদীকে পছন্দ করবে।তাদের রাগ হওয়াটা স্বাভাবিক।

আপনারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন বন্ধুরা, এইপবিত্রস্থানে দাঁড়িয়ে আমি বলছি, আমি থাকি কিংবা নাই থাকি এই দেশকে নষ্ট হতে দেবনা। আমি নিজের জন্য বাঁচতে শিখিনি, ছোটবেলা থেকেই আমি অন্যের জন্য বাঁচতে শিখেছি।

আর সেজন্য ভাই ও বোনেরা, আমার সৌভাগ্য যে আজ আমারমনের ভাবনার কথা সাহস করে ডঃ বীরেন্দ্রজির সামনে বলছি, বিজ্ঞান সম্পর্কে আমার বেশিজ্ঞান নেই, একজন সাধারণ মানুষ হিসাবে বলছি, কিন্তু আমি জানি, আপনারা আমার অনুরোধরাখার চেষ্টা করবেন। এই ম্যাঙ্গালোরের পাশেই যে সমুদ্রতট রয়েছে, সেই সমুদ্রতটে যেমৎস্যজীবী ভাই-বোনেরা কাজ করেন, তাঁরা বছরে বিশেষ কিছু মাসেই উপার্জন করতে পারেন।বর্ষার সময় সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠলে তাঁদের ঘরে বসে থাকতে হয়। সেই সময় আপনারাসমুদ্রতটে সমুদ্রগুটিকার চাষ করুন। সমুদ্রের পাড়ে কাঠের মাচা বানান, এমনভাবে বানানযাতে সমুদ্রের ঢেউ নিয়মিতভাবে সেই মাচাকে সিক্ত করে রাখে। আর তার ওপর কিছুসমুদ্রগুটিকা ফেলে রাখুন, সেই গুটিকাগুলি জলের মধ্যে ভাসতে থাকবে আর ৪৫ দিনেরমধ্যে ফসল তৈরি হয়ে যাবে। দেখতে খুব সুন্দর, জলভরা ঐ গুটিকাগুলি।

আজ সারা পৃথিবীর ওষুধ নির্মাণ কারখানগুলিতে এইসমুদ্রগুটিকার চাহিদা রয়েছে। আমাদের মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিও এভাবে সমুদ্রতীরেএর চাষ করতে পারেন। বারো মাস ধরে ৪৫ দিন পর পর ফসল উঠবে। অবশিষ্ট অংশ কৃষকের চাষেরক্ষেতে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিন। সেগুলিতে এত জল ও পুষ্টিমূল্য থাকে যে আপনার ফসলওভালো হবে। একবার আমরা এই ধর্মস্থলের পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলিতে এর প্রয়োগ করে দেখতেপারি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, এখানকার মাটির উৎকর্ষ বৃদ্ধিতে এই সমুদ্রগুটিকারগুল্মাবশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আর মৎস্যজীবী ভাই-বোনদের বার্ষিকরোজগার তো দ্বিগুণ থেকে তিনগুন হয়ে যাবে। এই ধর্মস্থলে যে শিক্ষিত মানুষ ওবৈজ্ঞানিকরা রয়েছেন, তাঁরা এই প্রয়োগের ভালোমন্দ নিয়ে গবেষণা করুন এবং আমাকেরিপোর্ট দিন। আমি সরকারিভাবে কাউকে এই নির্দেশ দিইনি। এখানে এজন্যই বলছি যে,আপনারা প্রয়োগ করলে সরকারের নীতি-নিয়মের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে খোলা মনে করতেপারবেন। আপনারা দেখবেন, এই মাটির উৎপাদনশীলতা এত বৃদ্ধি পাবে যে, খরার সময়ও আমাদেরকৃষকরা সমস্যায় পড়বেন না । ধরিত্রী মা ’কে রক্ষা করার জন্য অনেক প্রকল্পের কথা আমরাভেবেছি। এই সবকটি প্রকল্পই আমরা চালু রাখব।

আমি আরেকবার ডঃ বীরেন্দ্রজির আশীর্বাদ প্রার্থনাকরি। মঞ্জুনাথেশ্বর-এর আশীর্বাদ প্রার্থনা করি। এখান থেকে আমি নতুন প্রেরণা ও নতুনউৎসাহ নিয়ে দিল্লি ফিরব এই অঞ্চলের সামান্য লেখাপড়া জানা মা-বোনেরা ডঃবীরেন্দ্রজির নেতৃত্বাধীন বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ১২ লক্ষ বোনেরা যেভাবে নগদহীনলেনদেনকে আপন করে নিয়েছেন, তাঁদের থেকে শিক্ষা নিয়ে এই সমগ্র জেলার মানুষকে আহ্বানজানাব যে, আপনারাও দ্রুত ভীম অ্যাপ-এর শিখে নিন, এই বোনেদের থেকে আপনারা পিছিয়েথাকবেন না। আপনারাও নগদহীন লেনদেন শিখে নিন। আপনারা দেখেছেন, দেশে এখন সততার যুগশুরু হয়েছে। এই সততা আমাদের শক্তি বৃদ্ধি করছে। বেইমানদের সংখ্যা দ্রুতগতিতে হ্রাসপাচ্ছে। একটা সময় ছিল, যখন দুর্নীতি-অনুকূল ব্যবস্থা ছিল আর এখন সততা-অনুকূলব্যবস্থা ক্রমশই শক্তিশালী হয়ে উঠছে। আমরা এই শক্তির প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করলেঅন্ধকার দূর হওয়া সুনিশ্চিত। সততাকে শক্তিশালী করে তুলতে পারলে দেশ থেকে দুর্নীতিদূর হবেই। এই সংকল্প নিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আপনাদের অনেক অনেক শুভেচ্ছা। ডঃবীরেন্দ্র হেগড়ে মহোদয়কে অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও প্রণাম। সুদীর্ঘ ৫০ বছর ধরে তিনি যেভাবেদেশের সেবা করেছেন, তেমনভাবেই আগামী ৫০ বছর তিনি দেশকে নিরন্তর সেবা করে যান। অনেকঅনেক ধন্যবাদ।

PG /SB/ SB……