Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

লোকসভায় পণ্য পরিষেবা কর বিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ


আজ ৮ই আগস্ট। আজকের দিনে মহাত্মা গান্ধী আগস্ট বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন। তাঁর ইংরেজ ভারত ছাড়ো-এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে সারা দেশে স্বাধীনতা আন্দোলন তীব্র হয়ে উঠেছিল। ৯ই আগস্টে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অনেক অত্যাচারের সম্মুখীন হতে হয়েছিল। আজ আগস্ট আন্দোলনের ৭৫তম বর্ষপূর্তি। এই দিনে সকল স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মরণ করে দেশকে করসন্ত্রাস থেকে মুক্তি দেওয়ার লক্ষ্যে আমাদের সংসদের উভয় কক্ষের সকল সাংসদ মিলেএকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন।

অনেকেইহয়তো জানেন, আমাদের বর্তমান কর ব্যবস্থার অসামঞ্জস্যের কথা। কর ব্যবস্থা নিয়েসুপ্রিম কোর্টে একটি বিবাদ শুরু হয়েছিল যে, নারকেল’কে ফল বলা হবে নাকি সব্জি বলাহবে। ফল বলা হলে, নারকেলের উপর কর ধার্য হবে, আর সব্জি হলে কর মুক্ত হবে। আমাদেরদেশে কর ব্যবস্থার ভিত্তি অনেক প্রাচীন। এই পরম্পরায় অনেক উত্থান-পতন এসেছে। সেইউত্থান-পতনকে বুঝতে হলে এই একটি উদাহরণই যথেষ্ট।

আমিএই মূহুর্তে যে সকল রাজনৈতিক দল দ্বারা পরিচালিত সরকার ক্ষমতাসীন রয়েছে, তাদেরসকলকে ধন্যবাদ জানানোর জন্য উঠে দাঁড়িয়েছি।

আমরা এমনএকটি সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছি, যাতে রাজ্যসভা ও লোকসভায় দেশের ২৯টি রাজ্য থেকে যাঁরানির্বাচিত হয়ে এসেছেন, যে ৯০টি রাজনৈতিক দলের সদস্য রয়েছেন, সকলে দীর্ঘআলাপ-আলোচনা ও বাগবিতন্ডার পর যে অন্তিম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন – তাকে চূড়ান্ত করবেন।একথা সত্যি যে, কেউ জন্ম দেন আর কেউ লালন-পালন করেন।

ভগবানকৃষ্ণ’কে যেমন কেউ জন্ম দিয়েছেন আর অন্য কেউ লালন-পালন করেছেন। এটা সত্যি যে এইসিদ্ধান্ত কোনও বিশেষ দল এবং সরকারের বিজয় ঘোষণা করে না। এই সিদ্ধান্ত ভারতেরগণতন্ত্র এবং উন্নত ঐতিহ্যসমূহের বিজয় ঘোষণা করে, সকল রাজনৈতিক দলের বিজয় ঘোষণাকরে। পূর্বতন এবং বর্তমান সকল সরকারের অবদান এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে। সেজন্যক্ষেত্রে কার জয় আর কার পরাজয় সেই বিবাদে কোনও প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে আমি মনে করিনা।

জি এস টি’রমানে আমার কাছে ‘গ্রেট স্টেপ বাই টিম ইন্ডিয়া’, জি এস টি’র মানে ‘গ্রেট স্টেপটুওয়ার্ডস ট্রান্সফরমেশন’, জি এস টি’র মানে ‘গ্রেট স্টেপ টুওয়ার্ডসট্রান্সপারেন্সি’। সেজন্য আমরা একটি নতুন ব্যবস্থায় প্রবেশ করতে চলেছি।

‘এক ভারতশ্রেষ্ঠ ভারত’ – এটা আমাদের সকলেরই স্বপ্ন। আমরা যখন ভারতীয় রেলওয়ের দিকে তাকাইতখন এক ভারতকে অনুভব করতে পারি। তেমনই অনুভব করতে পারি যখন আমাদের অভিন্ন ডাকব্যবস্থা কিংবা অল ইন্ডিয়া সিভিল সার্ভিসেস-এর দিকে তাকাই, যখন আমরা আই পি সি, সিআর পি সি’র দিকে তাকাই। এর সঙ্গে নতুন সংযোজন ‘ভারত নেট’, ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ ও‘সাগরমালা’ – এই সকল প্রকল্প আমাদের মনে ঐক্যবদ্ধ ভারতের ভাবনাকে জাগিয়ে তোলে। সেইমালায় আজ এক নতুন মুক্তো আমরা যুক্ত করতে যাচ্ছি, যা আমাদের আরও বেশি করে ঐক্যবদ্ধভারত’কে অনুভব করাবে। এটি হল অভিন্ন পণ্য ও পরিষেবা কর। সকল রাজ্য ও কেন্দ্রীয়সরকার মিলে আমরা এমন একটি ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছি, যা বৃহত্তম রাজ্য থেকে শুরুকরে ক্ষুদ্রতম রাজ্যের প্রত্যেক মানুষের নিজের মনে হয়। এই ব্যবস্থা ঐক্যবদ্ধভারত’কে নতুন শক্তি যোগাবে – এই আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

জি এস টিনিয়ে অনেকের মনেই অনেক সংশয় ছিল। আমি যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম, তখন আমার মনেও অনেকসংশয় ছিল। শ্রদ্ধেয় প্রণব মুখার্জির সঙ্গে আমি এ বিষয়ে অনেকবার আলাপ-আলোচনা করেছি।একজন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে এই বিষয়টিকে যেভাবে দেখেছিলাম, আজ প্রধানমন্ত্রী হিসাবেএ বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আমার অভিজ্ঞতা অনেক কাজে লাগছে। অনেক সরলভাবে আমি সেটাবলতে পারছি। তখন অনেক কিছুই আমার কাছে স্পষ্ট ছিল না। তারপর এত দীর্ঘ সার্বজনিকআলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আমার দৃষ্টিভঙ্গী অনেকটা সরল হয়েছে। তখনকার তুলনায় আজকের যেবিলটি পাশ হতে চলেছে, সেটি অনেক বেশি ত্রুটিমুক্ত। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে আর কোনওবিবাদ থাকবে না, এমন ঘোষণা কোনও ব্যক্তি করতে পারেন বলে আমার মনে হয় না। সেজন্যএহেন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এতজনের চিন্তাভাবনার সাহায্য নেওয়া হয়েছে।বিলটিকে যথাসম্ভব সরল ও গণমুখী করার চেষ্টা করা হয়েছে। পরিণাম-স্বরূপ আজ সারা দেশঅনুভব করছে যে – এক মঞ্চ, এক মত, এক পথ – একই লক্ষ্যে পৌঁছনোর মন্ত্র হয়ে উঠতেচলেছে এই জি এস টি বিল। আমাদের রাজ্যসভায় জনপ্রতিনিধিত্বের যে গণিত রয়েছে, সেখানেএই বিলের সংকটগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। অনেক রাজ্যই যে কেন্দ্রের প্রতি সম্পূর্ণবিশ্বাস রাখতে পারছিলেন না, এটাও সত্যি। প্রত্যেকেই নিজ নিজ অভিজ্ঞতা থেকে কথাবলছিলেন। সেজন্য কেন্দ্র ও রাজ্যগুলির মধ্যে আস্থার পরিবেশ গড়ে ওঠার প্রয়োজনীয়তাছিল। সবচেয়ে বড় প্রয়োজনীয়তা ছিল, যাতে এই সিদ্ধান্ত নিছকই সংখ্যাধিক্যের ভিত্তিতেনা নেওয়া হয়। আমি আগেও এই কক্ষে বলেছি যে, গণতন্ত্রে শুধুই সংখ্যাধিক্যের খেলাচলতে পারে না। সহমত তার থেকে অনেক বড়। এই সহমতের অঙ্ক ভবিষ্যতেও দেশকে এগিয়ে নিয়েযাবে বলে আমার বিশ্বাস। আমরা দীর্ঘকাল ধরে এ নিয়ে আলাপ-আলোচনা করেছি। আজও আমাদেরমৌলবি সাহেব বলেছেন যে, এই কক্ষকে নিম্নকক্ষ বলা হয় বলে তিনি খুশি নন। যাঁরা এধরনের শব্দ প্রয়োগ করেন, তাঁরা আপনার এই বার্তা অবশ্যই পেয়েছেন। এতে তাঁদের মনেকোনও পরিবর্তন আসবে কি না জানি না, কিন্তু আমি নিশ্চিত যে, আপনার বার্তা তাঁদেরকানে পৌঁছছে। এ বিষয়ে কথা বলতে আমি শ্রদ্ধেয় সোনিয়াজীকে আহ্বান জানিয়েছিলাম,প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধেয় মনমোহন সিংজীকে আহ্বান জানিয়েছিলাম। লোকসভা ওরাজ্যসভা’কে সমান মর্যাদা দিয়ে আমরা এই বিল নিয়ে আলাপ-আলোচনা করেছি, সকলেরপরামর্শই গ্রহণ করেছি। এভাবেই একটি অভূতপূর্ব সহমতের পরিবেশ গড়ে উঠেছে। সেই পরিবেশথেকেই একটি শক্তি জেগে উঠেছে। এই শক্তি দেশের সকল রাজ্যের জন্য একটি সম্পদ হয়েউঠতে চলেছে। আমরা ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক মূল্যবোধ থেকে উঠে এসেছি, আমাদের কথাবার্তাও অস্তিত্বে রাজনীতি রয়েছে কিন্তু এই অভিন্ন পণ্য পরিষেবা কর সংক্রান্ত আলোচনায়আমরা দেখেছি যে, সকলেই রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে একটি পবিত্র মঞ্চে পাশাপাশি এসেদাঁড়িয়েছেন। এই জাতীয় মঞ্চ রাষ্ট্রহিতে একটি সর্বোপরি মঞ্চের মর্যাদা পেয়েছে।

আজকের এইসিদ্ধান্ত ভারতীয় গণতন্ত্রে উজ্জ্বলতম মাইলফলকগুলির অন্যতম। এক্ষেত্রে রাজনীতিরউর্ধ্বে স্থান পেয়েছে রাষ্ট্রনীতি। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কারও মনে কোনও অভিযোগ থাকবেনা। একেবারেই কোনও অভিযোগ থাকবে না – এটা আমি মানি না। এখানে অনেকেই বসে রয়েছেন,যাঁরা ভাবছেন, অমুক শব্দটি বদলে তমুক শব্দটি লিখলে আরও ভালো হতো। এটাই গণতন্ত্রেরশক্তি।

আজ প্রত্যেকরাজ্যে নানা ধরনের ফর্ম ভরতে হয়। জি এস টি কার্যকর হওয়ার পর সারা দেশে সরকারিআধিকারিকদের এখন একই ধরনের পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। আর কর ব্যবস্থায় এখন থেকেসারা দেশে একই ধরনের ফর্ম ভরতে হবে। কর প্রক্রিয়ায় এবং দর নির্ণয়ে অনেক সরল হবে।এই বার্তা সকলের কাছে স্পষ্ট হবে। এই জি এস টি’র সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হল – এখানেগ্রাহককে রাজা কল্পনা করা হয়েছে। সারা দেশে এক আইন, এক ব্যবস্থা এবং গ্রাহকদেররাজা বলে ঘোষণা করার নীতি ভারতীয় শাসন ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন বলে আমিমনে করি।

এখন দেশে ৭থেকে ১৩ টি আলাদা আলাদা কর ব্যবস্থা রয়েছে। দেশের ছোট-বড় সকল ব্যবসায়ীকে এই বিবিধব্যবস্থার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ব্যবসা চালাতে হয়। জি এস টি চালু হলে এই ৭ থেকে ১৩ টিআলাদা আলাদা কর ব্যবস্থা সমাপ্ত হয়ে যাবে। এই সরলীকরণের ফলে ছোট ছোট ব্যবসায়ীরালাভবান হবেন, আর সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন গ্রাহকরা। জি এস টি ছোট ছোটউৎপাদনকারীদের নিরাপত্তা প্রদান করবে। এই ক্ষুদ্র উৎপাদনকারী এবং ক্ষুদ্রব্যবসায়ীরাই আমাদের দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় শক্তি। আমরা এইবিলের মাধ্যমে তাঁদের যতটা নিরাপত্তা দেব, তাঁরা ততটাই লাভবান হবেন। আমরা জানি,অর্থ ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নানা পর্যায় রয়েছে।

আমি যতটাঅর্থনীতি বুঝি, অর্থ ব্যবস্থাকে সুনিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালনার জন্য পাঁচটি মুখ্যবিষয়ে সচেতন থাকতে হয়। সেগুলি হল – Man, Machine, Material, Money and Minute – সময়, এগুলিরসুষম ব্যবহারের মাধ্যমে আমাদের অর্থ ব্যবস্থা যদি এগিয়ে যায়, তা হলে আর দেখতে হবেনা।

আজ আমাদেরএকটি রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে যেতে হলে সীমান্তে ‘চুঙ্গি নাকায়’ কয়েক মাইল লম্বাগাড়ি দাঁড়িয়ে থাকে। ফলে দেখা গেছে, আমরা প্রায় প্রত্যেক যানবাহনই ক্ষমতার তুলনায়৪০ শতাংশের বেশি ব্যবহার করতে পারি না। ৬০ শতাংশ সময় সেগুলিকে কোথাও না কোথাও দাঁড়িয়েথাকতে হয়।

দেশের অর্থব্যবস্থা নিয়ে গবেষণারত একটি এজেন্সির সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশে কেবল দাঁড়িয়ে থেকেথেকে প্রায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হয়। গাড়িগুলি দাঁড়িয়ে থেকে থেকেকিম্বা ধীরে ধীরে এগিয়ে চলার সময় যে পরিমাণ পেট্রোল ডিজেল পোড়ায়, যে পরিমাণ বিষাক্তধোঁয়া নির্গমন করে তা থেকে পরিবেশ দূষিত হয়। জি এস টির ফলে এই সকল বাধা-বিপত্তিদূর হবে। পাশাপাশি, সকলেরই অনেক সময় বাঁচবে। প্রতি বছর বিদেশ থেকে যেপরিমাণ পেট্রোলিয়ামজাত পদার্থ আমদানি করতে হয়, এই সরলীকরণের ফলে তা হ্রাস পাবে।ফলে, দেশের রাজকোষে যে সাশ্রয় হবে, সেই টাকা উন্নয়নের কাজে লাগানো যাবে। দেশেরপ্রতিটি রাজ্যই পরস্পরের ওপর কোনও না কোনওভাবে নির্ভরশীল। কেউ-ই সম্পূর্ণভাবেস্বয়ম্ভর নয়। প্রত্যেক রাজ্যকেই অন্য কোনও রাজ্য থেকে কোনও না কোনও জিনিস আমদানিকরতে হয়। সেজন্য কর ব্যবস্থার সরলীকরণের ফলে রাজ্যগুলির আয় বৃদ্ধি পাবে।

আজ আমরা যেগুলিকে পিছিয়ে পড়া রাজ্য ভাবি, নতুন কর ব্যবস্থায়তারাই বেশি লাভবান হবে। ফলে, যে অর্থ সাশ্রয় হবে, তা রাজ্যের শিক্ষা ও ক্রীড়াব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে কাজে লাগবে। পরিকাঠামো ক্ষেত্রে প্রতিটি রাজ্য অনেকবেশি বিনিয়োগ করতে পারবে। ভারতের পূর্ব প্রান্তের রাজ্যগুলি দ্রুততার সঙ্গে পশ্চিমপ্রান্তের রাজ্যগুলির সমকক্ষ হয়ে ওঠার পথে গিয়ে যাবে। একথা সত্যি যে, জি এস টিকার্যকর হলে উৎপাদনকারী রাজ্যগুলি কিছুটা অসুবিধায় পড়বে। গ্রাহক রাজ্যগুলি বেশিলাভবান হবে। কেন্দ্রীয় সরকার জি এস টি’র মাধ্যমে তাদের ভর্তুকি দেওয়ার ব্যবস্থারেখেছে। সেজন্য আমি দেশের পূর্ব প্রান্তের রাজ্যগুলিকে আহ্বান জানাই, আপনারা এইবিলকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করুন।

সাধারণত, দুই ভাই-এর মধ্যে ঝগড়া হয় সম্পত্তি নিয়ে। আমাদেরদেশে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারতগুলির মধ্যে বিবাদের কারণও অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রাকৃতিকসম্পদ নিয়ে উদ্ভূত নানা বিষয় নিয়ে। জি এস টি এই সম্পর্কের টানাপোড়েনে একটিস্বচ্ছতার পরিবেশ নিয়ে আসবে। প্রত্যেকেই জানতে পারবেন, কোন ক্ষেত্র থেকে কেন্দ্রীয়সরকার এবং কোন রাজ্য সরকার কতটা লাভবান হয়েছে। কোন নিয়মের ভিত্তিতে বন্টন হয়েছে।ফেডারেল স্ট্র্যাকচারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হল আস্থার। বিশ্বাসই সবচেয়ে বড়অনুঘটক হিসেবে এই নতুন ব্যবস্থাকে মহিমান্বিত করবে। এর ফলে, ভারতের ফেডারেলস্ট্র্যাকচার মজবুত হবে। কর সংগ্রহের সমস্ত তথ্য সকলের কাছে থাকবে।

শ্রদ্ধেয় খাড়গেজী যদি এই বিলটিকে আগে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পড়েনিতেন, তা হলে খুব ভালো হতো। হয়তো তিনি সময় পাননি। পরে আমি তাঁকে বুঝিয়ে বলব।

এই জি এস টি বিলে দেশের দরিদ্র জনসাধারণ সকল প্রকার করেরবাঁধন থেকে মুক্ত। গ্রাহক মুদ্রাস্ফীতি নিরূপণ করার বিষয়গুলির মধ্যে প্রায় ৫৫শতাংশ খাদ্য এবং জরুরি ওষুধপত্র’কে জি এস টি’র বাইরে রাখা হয়েছে।

আমরা জানি, আমাদের দেশে রাজস্ব বা আর্থিক ঘাটতি সবসময়েই একরকম ছিল। যে রাজ্যগুলি ঋণে জর্জরিত তাদের ঋণের পরিমাণ ক্রমবর্ধমান, সেই রাজ্যগুলিমিলিতভাবে একটি এফ আর বি এম আইন প্রণয়ন করেছে। আর্থিক শৃঙ্খলার স্বার্থে রাজ্যগুলিতা মেনেও নিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারও চাপ সৃষ্টি করেছে। এভাবে ভারতে এফ আর বি এমআইনের ফলে রাজস্ব ও ঘাটতির মধ্যে একটি ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। সেজন্যরাজ্যগুলির অর্থনীতিতে সেগুলির আর্থিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়েছে।

এই সরকার আইনসম্মতভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।আর আমি আইন সম্মতভাবেই বলছি, এর অত্যন্ত গুরুত্ব রয়েছে। আমাদের দেশে রিজার্ভব্যাঙ্ক একরকম চিন্তাভাবনা করে আর সরকার অন্যরকম চিন্তাভাবনা করে – এই মতানৈক্যনিয়ে দেশ-বিদেশে সমালোচনা হয়। আর্থিক উন্নতিকে সর্বদাই মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে যুক্তকরে দেখা হয়। সচরাচর বলা হয়, মুদ্রাস্ফীতি রয়েছে তাই সুদের হার এরকম থাকবে, সুদেরহার এরকম থাকলে বিনিয়োগ আসবে না।

এই প্রথম বর্তমান সরকার আইনসম্মতভাবে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক’কেবলেছে, এখন মুদ্রাস্ফীতি ৪ শতাংশে স্থির রাখতে হবে, ২ শতাংশ কম-বেশি হতে পারে। এইনির্দেশ ২০২১ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এর ফলে, অর্থ সংক্রান্ত সকল প্রতিষ্ঠানএখন মুদ্রাস্ফীতির ক্ষেত্রে দায়িত্ব নিতে বাধ্য হবে। এই প্রথম আইনসম্মতভাবে এটিকরা হয়েছে। আমার মনে হয়, এর পরে আমাদের কর আদায় ব্যবস্থা ও সঞ্চয় ব্যবস্থারউন্নয়নের ক্ষেত্রে আরও দায়িত্ব বাড়বে, ফলে আর্থিক পরিবেশটাই অনেক বেশি ইতিবাচক হয়েউঠবে। একথা সত্যি দেশ স্বাধীন হওয়ার এত বছর পরেও আমরা দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াইকরছি। যখনই কেউ বলেন, আজও দেশের ৬৫ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্য সীমার নীচে রয়েছে, আমরামাথা নত করে তা স্বীকার করে নিই। আমরা পরম্পরাগতভাবে দৈন্যকে মেনে নিতে বাধ্য।কিন্তু আমরা সকলেই দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই করতে চাই। শাসক দল কিংবা বিরোধীপ্রত্যেকেই নিজের মতো করে আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি যে, দরিদ্রদের আর্থিক ক্ষমতায়ন ওশিক্ষাগত ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে আমাদের চেষ্টা এমন এক গরিবদের ফৌজ গড়ে তুলব, যাঁরানিজেরাই দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বিজয়ী হবেন। জি এস টি সেই পরিবেশ গড়ে তুলতেএকটি বড় মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে। আমরা জানি, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিতেগেলে কত অসুবিধার সম্মুখীন হন। আমরা এ ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছি। এত এতবছর ধরে যে ব্যবস্থা চলে আসছে, যে স্বভাব গড়ে উঠেছে, সেসব পুরনো স্বভাব হঠাত বদলেফেলা যায় না। এগুলি বদলানোর জন্য আমরা অনেক পরিশ্রম করছি। আগে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদেরব্যাঙ্কের ৫০টি কাগজে লিখতে ও প্রশ্নের জবাব দিতে হতো। তারপরেও তাঁদের আবেদন খারিজকরে দেওয়া হতো। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যাঙ্ক বাবুদের পছন্দের মানুষরা ঋণ পেতেন। জিএস টি’র ফলে এখন প্রত্যেক আর্থিক ব্যবসা শংসিত রূপে প্রতি মূহুর্তে দেখা যাবে।তিনি যখন ব্যাঙ্কে আবেদন করবেন তখন ব্যাঙ্ক কোনওভাবেই বৈষম্য করতে পারবে না। ঋণেরযোগ্যতা থাকলে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, ধনী, গরিব নির্বিশেষে যে কোনও ব্যক্তিকেইব্যাঙ্ক ঋণ দিতে বাধ্য থাকবে। জি এস টি’র সবচেয়ে বড় শক্তি প্রযুক্তির ব্যবহার। যেকোনও সময়েই এর মাধ্যমে অধুনাতম তথ্য জানতে পারা যাবে। এই জ্ঞান যে কোনও ব্যক্তিকেতুলনামূলক বিচার করতে সাহায্য করবে। নিজের ক্ষমতা ও অবস্থান যাচাই করে নিতেপারবেন।

এর ফলে, ঋণ ব্যবস্থা সরল হলে একটি প্রতিযোগিতার পরিবেশ গড়েউঠবে। নির্মাণ ক্ষেত্রে প্রতিস্পর্ধার সম্ভাবনা তৈরি হবে। নির্মাণ ক্ষেত্রেপ্রতিস্পর্ধা বৃদ্ধি পেলে অর্থনীতি গতিশীল হবে। নবীন প্রজন্মের অনেক মানুষেরকর্মসংস্থান হবে। আর এই ব্যবস্থায় মুদ্রা প্রবাহ বৃদ্ধির ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগওবৃদ্ধি পাবে। আমাদের দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে GSDP ratio -তে সর্বদাই প্রশ্নচিহ্ন থাকে। নতুন ব্যবস্থায়এই প্রশ্নচিহ্ন চিরকালের মতো নিশ্চিহ্ন হবে।

এই সুযোগে রাজ্যগুলিও নিজের মতো সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিকাঠামোউন্নয়ন সামাজিক সহায়তা বৃদ্ধি ইত্যাদি ক্ষেত্রে গতি আনতে পারবে।

আমরা সকলেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনেক কথা বলি। কিন্তু,দুর্নীতি নিরসন করতে হলে ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হয়। কারও ওপর ভরসা করে ভুলব্যক্তিকে দায়িত্ব দিলেও ব্যবস্থা সঠিক হলে সেই ভুল মানুষটিই ঠিক কাজ করতে বাধ্যহবেন।

এই জি এস টি’র সুযোগ নিয়ে কর ফাঁকি দেওয়ার প্রসঙ্গ উঠেছে।আমরা জানি, আমাদের দেশে ব্যবসায়ীদের মধ্যে কাঁচাবিল আর পাকাবিল শব্দ দুটি অত্যন্তজনপ্রিয়। জি এস টি’র ফলে ব্যবসায়ীরা এখন নিজেরাই পাকা বিল দিতে চাইবেন। কারণ,স্বাস্থ্য বিমার ক্ষেত্রে যেমন আমরা সমস্ত বিল সাবধানে সামলে রাখি, যাতে হারিয়ে নাযায়, আমরা যথাসময়ে আদায় করতে পারি। জি এস টি’র ক্ষেত্রেও ব্যবসায়ীরা তেমনই পাকাবিল তৈরি রাখবেন, যাতে তাঁর কেনা সকল জিনিসের মূল্য ফেরৎ পেতে পারেন। এভাবেইকাঁচা-পাকা বিলের মাধ্যমে যে কালো টাকার লেনদেন চলতো তা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়েযাবে। অর্থাৎ, এই বিল দেশ থেকে দুর্নীতি এবং কালো টাকা রোজগারের ব্যবস্থা বিলুপ্তকরতে যাচ্ছে। আশা করি, আমাদের এই প্রচেষ্টা সার্থক হবে।

আমরা জানি যে, আমাদের দেশে কর সংগ্রহকারীদের একটি বড় দলরয়েছে। উপর থেকে নীচ পর্যন্ত কর সংগ্রহের খরচ গোটা দেশে ক্রমবর্ধমান। জি এস টিচালু হলে সমস্ত লেনদেন অনলাইন হওয়ার ফলে কর সংগ্রহের খরচ অনেক কমে যাবে। এতে যেবিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হবে, তা দরিদ্র জনসাধারণের উন্নয়নের কাজে লাগবে।

এই ব্যবস্হায় এখানে সকল তথ্য সংহত হবে কাঁচামাল থেকে শুরুকরে পণ্য উৎপাদনের সকল পর্যায়ের সমস্ত তথ্য অনলাইন রেজিস্টারে নথিভুক্ত থাকবে।এক্ষেত্রে যান্ত্রিকভাবেই পুনর্যাচাই-এর ব্যবস্থা থাকবে। যে কোনও পর্যায়ে কোথাওভুল থাকলে তা ধরা পড়ে যাবে। এই অনুপম ব্যবস্থা যিনি এই উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পর্কেভালোভাবে জানেন না, তাঁকেও সতর্ক হতে সাহায্য করবে। কর দাতা এবং কর সংগ্রাহকেরমধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক শূন্য হয়ে যাবে। কর দাতা সহজেই বুঝতে পারবেন যে, তাঁর আয়অনুযায়ী তাঁকে কতটা কর দিতে হবে। এভাবে সম্পূর্ণ অর্থ ব্যবস্থা থেকে দুর্নীতিদূরীকরণে জি এস টি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

রাজ্য ও কেন্দ্রের কর-এর পরিসংখ্যান এক জায়গায় পাওয়া যাবে,নিবন্ধীকরণ, রিটার্ন কিম্বা কর দানের ডিজিটাল ব্যবস্থা – সবকিছু। অনলাইন হওয়ার ফলেএটি স্বচ্ছতার সবচেয়ে বড় মঞ্চ হয়ে উঠবে।

এ বিষয়ে শ্রী অরুণ জেটলি আমাদের আরও বিস্তারিতভাবে বলবেন।আশা করি, আজ এখানে যে ভোটদান পর্ব সম্পাদিত হবে সেটি অত্যন্ত পবিত্রভাবে আমরা পালনকরব। পাশাপাশি, ১৬টির বেশি রাজ্যে এই বিল প্রণয়ন করা আবশ্যক। এছাড়া, আরও কয়েকটিসাংবিধানিক ব্যবস্থা আমাদের সম্পন্ন করতে হবে, এরপর কেন্দ্রীয় জি এস টি,ইন্টিগ্রেটেড জি এস টি এবং স্টেট জি এস টি’র মতো কয়েকটি আইন আমাদের প্রণয়ন করতেহবে। কিন্তু আজ এই সকল প্রক্রিয়ার জন্য একটি দরজা খুলে গেল, আমরা একটি শুভ সূচনারমাধ্যমে এগিয়ে চলেছি। আগামীদিনে আমরা সকলেই এর সুফল পাব।

এটা ঠিক, এর ফলে কয়েকটি নতুন বিষয়ে আমাদের জনগণকে শিক্ষিতকরে তুলতে হবে। আয়করের ক্ষেত্রে প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে, আইনি প্রস্তুতিরপ্রয়োজন রয়েছে, ট্যাক্স অথরিটি আধিকারিকদের প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে। এইব্যবস্থার অনুকূল গ্রাহকদের প্রস্তুত করার দায়িত্বও আমাদের ওপরই বর্তাবে। তবেইআমরা এই আইনকে সদর্থকভাবে বাস্তবায়িত করতে পারব।

আমার বলার তাৎপর্য হল, বিশ্বে বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশগুলিরমধ্যে যে দেশগুলি বিশ্বকে উপদেশ দেওয়ার সামর্থ্য রাখে সেগুলিতেও অর্থ বিলের মতোগুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাস্তবায়িত করা কখনও কঠিন হয়ে ওঠে। এটা ভারতের গণতন্ত্রেরপরিপক্কতা, ভারতীয় রাজনীতিবিদদের দূরদৃষ্টির পরিচায়ক। আমরা সকলে রাজনৈতিক মতভেদথাকা সত্ত্বেও দেশের স্বার্থে সকলে মিলেমিশে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি – এটাই

ভারতীয়গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি। এরফলে, আমাদের সম্পর্কে বিশ্ববাসীর ধারণা বদলে যাবে।আজ আমি এই কক্ষে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে বিনীতভাবে সকল রাজনৈতিক দলকে সম্মানজানাই। যাঁরা শাসক দলের সমর্থক, যাঁরা বিরোধী এবং যাঁরা নিরপেক্ষ – সকলেই গর্বেরসঙ্গে বলতে পারি, এই সরকার প্রায় ১০০ সপ্তাহ অতিক্রম করেছে। এই সময়ের মধ্যেই এইকক্ষ শতাধিক আইন প্রণয়নে সক্ষম হয়েছে, এটাই এই কক্ষের শক্তি। এই শক্তি দেশেরজনমানসে নতুন বিশ্বাস জাগিয়ে তুলেছে। এই ইতিবাচক ভূমিকার জন্য আপনাদের সকলকেঅভিনন্দন জানাই। আমি সর্বদলীয় বৈঠকেও বলেছিলাম, আজও বলছি, এর যশ প্রত্যেকের। এরবাস্তবায়নে যাঁরা নিরলস পরিশ্রম করেছেন, তাঁদের সকলকে আমার অভিনন্দন। আমি এ বিষয়েবলার সুযোগ পেয়ে নিজেকে সৌভাগ্যবান বলে মনে করছি। পরিশেষে, মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়াএবং কক্ষে উপস্থিত সকল সাংসদকে কৃতজ্ঞতা জানাই। আমরা সকলে মিলে এই পদক্ষেপকেসাফল্যমণ্ডিত করব। এই শুভেচ্ছা জানিয়ে সকলকে অনেক অনেকে ধন্যবাদ।

PG/SB/SB……