পিএমইন্ডিয়া
নতুন দিল্লি, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে, ফরাসি প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ১৭ থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারি সরকারি সফরে ভারতে এসে AI Impact Summit 2026-এ অংশগ্রহণ করেন। দুই নেতার মধঅযে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইতে তাঁরা যৌথভাবে ২০২৬ সালকে ভারত-ফ্রান্স উদ্ভাবন বছর হিসেবে ঘোষণা করেন। এটি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর চতুর্থ ভারত সফর, এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী মোদী ফ্রান্সে গিয়েছিলেন।
উভয় নেতা আগামী দশকগুলিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে “বিশ্বজনীন বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্বে” উন্নীত করতে সহমত হন। ভারত-ফ্রান্স সম্পর্কের উন্নয়ন দুই নেতার ক্রমবর্ধমান উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটায়। তাঁরা মনে করেন এই সম্পর্ক শুধু তাদের অর্থনীতিতে সমৃদ্ধি ও সুস্থিতি আনার পাশাপাশি দেশের নিরাপত্তাই সুনিশ্চিত করবে না, এটি বিশ্বকল্যাণের এক শক্তি হিসেবেও কাজ করবে। এর মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান অনিশ্চিত বিশ্ব পরিবেশের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্মিলিতভাবে কাজ করা সম্ভব হবে এবং একটি স্থিতিশীল নিয়ম-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা গড়ে তোলা সহজ হবে। দুই দেশ ২০২৩ সালে কৌশলগত অংশীদারিত্বের ২৫তম বার্ষিকী উদযাপন করেছে, সেই সময়ে ২০৪৭ সাল পর্যন্ত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পথ নির্ধারণের জন্য হরাইজন ২০৪৭ রোডম্যাপ গ্রহণ করা হয়েছে। ২০৪৭ সাল একইসঙ্গে ভারতের স্বাধীনতার শতবর্ষ, দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের শতবর্ষ এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের ৫০ বছর। দুই দেশের অংশীদারিত্ব বাস্তবায়নের অগ্রগতির পর্যালোচনার জন্য প্রতি বছর বিদেশমন্ত্রীদের সার্বিক বার্তালাপের আয়োজন করা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে ভারত ও ফ্রান্সের সহযোগিতার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে প্রতিরক্ষা প্ল্যাটফর্মের সহ-নকশা, সহ-উন্নয়ন এবং সহ-উৎপাদনের উপর, ফ্রান্স ভারতের অন্যতম প্রধান প্রতিরক্ষা অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। উভয় দেশ বৃহৎ ক্ষমতাসম্পন্ন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং ক্ষুদ্র মডুলার রিঅ্যাক্টর এবং উন্নত মডুলার রিঅ্যাক্টরের মতো উদীয়মান ক্ষেত্রগুলিতে সম্ভাব্য সহযোগিতার উপর ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে অসামরিক পারমাণবিক শক্তিতে সহযোগিতা আরও গভীর করেছে। মহাকাশ ক্ষেত্রে উভয় দেশের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে যৌথ উপগ্রহ উন্নয়ন, উৎক্ষেপক এবং মানব উড়ান কর্মসূচির মতো ক্ষেত্রগুলি। উভয় দেশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উদ্ভাবন, গবেষণা, প্রযুক্তি, ডিজিটাল এবং সাইবার স্পেস, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, শিক্ষাগত সংযোগ এবং নাগরিকদের মধ্যে বিনিময়ের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা প্রসারিত করেছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সংযোগ আরও গভীর হয়েছে। উভয় দেশ বিশ্বস্ত, নির্ভরযোগ্য এবং স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খল তৈরিতে সহযোগিতা করছে, নিজেদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা সুদৃঢ় করছে। বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্বের আওতায় ভারত ও ফ্রান্স দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক স্তরে গভীর সহযোগিতা ও সমন্বয়ের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, ভারত-ফ্রান্স হরাইজন ২০৪৭ রোডম্যাপ এর দিশানির্দেশ করছে।
উভয় নেতা, বৈজ্ঞানিক জ্ঞান, গবেষণা এবং উদ্ভাবনের অগ্রগতির গুরুত্ব এবং এই ক্ষেত্রগুলিতে ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী এবং স্থায়ী সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়ে যৌথভাবে ২০২৬ সালের ভারত-ফ্রান্স উদ্ভাবন বর্ষের উদ্বোধন করেছেন। এই বছর ভারত এবং ফ্রান্সে উদ্ভাবন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সাইবারস্পেস এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, সুস্থিত উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল অর্থনীতি এবং গবেষণা ও শিক্ষার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে গভীর প্রভাবসম্পন্ন সহযোগিতা দেখা যাবে। এর লক্ষ্য হল স্টার্টআপ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা এবং শিল্পের মধ্যে বর্তমান সহযোগিতা আরও নিবিড় করে নতুন সহযোগিতার পথ অন্বেষণ করা।
প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ ভারতে AI Impact Summit-এর সফল আয়োজনের জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদীকে অভিনন্দন জানান। শীর্ষ সম্মেলনে AI-এর সম্ভাব্য ঝুঁকি ও সম্ভাবনার নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্যারিসে ফ্রান্সের আয়োজনে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীর যৌথ সভাপতিত্বে AI অ্যাকশন সামিটের অগ্রগতির উপর ভিত্তি করে এবারের শীর্ষ সম্মেলনল আয়োজিত হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপর ভারত-ফ্রান্স ঘোষণাপত্রের কথা স্মরণ করে, উভয় নেতা একটি নিরাপদ এবং বিশ্বাসযোগ্য AI-এর প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। উভয় পক্ষই AI সম্পদের গণতন্ত্রীকরণ এবং বিশ্বব্যাপী AI বিভাজনের মধ্যে সেতুবন্ধনকে গুরুত্বপূর্ণ নীতি হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ ২০২৬ সালে ফ্রান্সে আয়োজিত G7 শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানান। বিশ্বব্যাপী সমষ্টিগত অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতার মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব ও সংহতির জন্য এক নতুন যুগের সুচনা নিয়ে শীর্ষ সম্মেলনের আগে আলোচনা ও প্রস্তুতিমূলক কাজে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের জন্য ভারতকে আমন্ত্রণ জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী মোদী এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে G7-এর সঙ্গে ভারতের দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্ব এবং বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতা, উন্নয়নে অর্থের যোগান, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সুস্থিত সরবরাহ শৃঙ্খল, জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিশ্বব্যাপী আলোচনায় গঠনমূলক অবদান রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।
প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ, প্রেসিডেন্ট রুটোর সঙ্গে যৌথভাবে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ” আফ্রিকা অগ্রসর: উদ্ভাবন ও বিকাশের জন্য আফ্রিকা ও ফ্রান্সের অংশীদারিত্ব” শীর্ষক সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানোর কথা স্মরণ করেন। এই সম্মেলন ১১ ও ১২ মে কেনিয়ার নাইরোবি-তে আয়োজিত হবে। ফ্রান্স এবং আফ্রিকার দেশগুলির সঙ্গে ভারতের দীর্ঘস্থায়ী ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা বিবেচনা করে, প্রধানমন্ত্রী মোদী আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং পারস্পরিক স্বার্থের ক্ষেত্রগুলিতে, বিশেষ করে শক্তি স্থানান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং নীল অর্থনীতিতে সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
দুই নেতা ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং অন্যত্র একটি নিয়ম-ভিত্তিক শৃঙ্খলার প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। ভারত-ফ্রান্স সম্পর্কের উত্তরণ ভবিষ্যৎমুখী বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করবে, দুদেশের সার্বভৌমত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে এবং বিশ্বের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলায় দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া যাবে বলে তাঁরা আশাপ্রকাশ করেন।
দুই নেতা বিশেষ করে রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের আশু প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। বহুদেশীয় মঞ্চে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় সাধনের বিষয়ে তারা সহমত হয়েছেন। ফ্রান্স রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদ লাভের প্রতি তার দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। গণহত্যার ক্ষেত্রে ভেটো ব্যবহারের নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে আলোচনায় দুই দেশ সহমত পোষণ করেছে।
উভয় নেতা ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ভারত সম্পর্ক জোরদার করার গুরুত্বের উপরও জোর দিয়েছেন এবং ভারত ও ইইউর মধ্যে ঐতিহাসিক শীর্ষ সম্মেলনকে স্বাগত জানিয়েছেন। এই শীর্ষ সম্মেলনেই ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ভারত, ফ্রান্স এবং ইউরোপের মধ্যে আরও অর্থনৈতিক সহযোগিতার সুযোগ উন্মুক্ত করবে, ব্যবসাগুলির প্রতিযোগিতার ক্ষমতা বাড়াবে, সুস্থিত সমৃদ্ধি, এবং স্থিতিশীল মূল্য শৃঙ্খলের এক নতুন যুগের সূচনা করবে। উভয় নেতাই নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বকে স্বাগত জানিয়েছেন। এর ফলে, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন আরও জোরদার হবে, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, মহাকাশ, সন্ত্রাসবাদ দমনের মতো অভিন্ন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলায় গভীর বিনিময় ও সহযোগিতার জন্য একটি কাঠামো গড়ে তুলবে এবং প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতার প্রসারে সহায়ক হবে বলে তাঁরা আশাপ্রকাশ করেন।
দুই নেতা ইউক্রেনের যুদ্ধ নিয়ে তাদের উদ্বেগ পুনর্ব্যক্ত করেছেন, এই যুদ্ধ মানবিক বিপর্যয় ও নেতিবাচকতার আকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউক্রেনে শান্তি ও সুস্থিতি ফিরিয়ে আনতে তারা রাষ্ট্রসংঘের সনদ ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে কূটনীতি ও আলোচনার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
উভয় পক্ষ ইরান ও সংলগ্ন অঞ্চলের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী নিয়ে আলোচনা করেছেন। এক্ষেত্রেও শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যা সমাধানের জন্য তারা সংলাপ ও কূটনীতির গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছেন।
উভয় নেতা রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত ২৮০৩ সংখ্যক প্রস্তাব এবং নিউইয়র্ক ঘোষণাপত্রের নীতি অনুসারে গাজার শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। তারা গাজা উপত্যকা জুড়ে দ্রুত, নিরাপদ এবং বাধাহীন মানবিক সহায়তা সুনিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন।
১. নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য অংশীদারিত্ব
ফ্রান্স ও ভারতের মধ্যে গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ ২০২৪ সালে প্রতিরক্ষা শিল্প পথনির্দেশিকার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণভাবে বিমান, নৌ ও স্থল ব্যবস্থা এবং দ্বিবিধ-ব্যবহার প্রযুক্তি সহ উন্নত প্রতিরক্ষা প্ল্যাটফর্মগুলির যৌথ গবেষণা, সহ-নকশা, সহ-উন্নয়ন এবং সহ-উৎপাদন জোরদার করতে সম্মত হয়েছেন। তারা ২০২৫ সালের নভেম্বরে ডিজিএ এবং ডিআরডিওর মধ্যে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে সহযোগিতার জন্য একটি প্রযুক্তিগত চুক্তি স্বাক্ষরকেও স্বাগত জানিয়েছেন যা দুটি সংস্থার মধ্যে গবেষণা ও উন্নয়ন অংশীদারিত্বের জন্য একটি মঞ্চ গড়ে তুলবে। ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে উচ্চ প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতার উপর ভিত্তি করে, উভয় নেতা সরবরাহ শৃঙ্খলের দুর্বলতা কমাতে চিহ্নিত বিশেষ ক্ষেত্রগুলিতে উদীয়মান এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি সহ-উন্নয়নের সুযোগগুলি অন্বেষণ করার জন্য একটি যৌথ প্রযুক্তি উন্নয়ন গোষ্ঠী গঠনে সম্মত হয়েছেন।
তারা হেলিকপ্টার এবং জেট ইঞ্জিনে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা এবং উভয় পক্ষের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির মধ্যে সহযোগিতাকে স্বাগত জানিয়েছেন। বিশেষ করে, উভয় নেতা ২৬টি রাফালে-মেরিন যুদ্ধবিমান ক্রয়ের চুক্তির প্রশংসা করেছেন। তারা বিশেষ করে মেক ইন ইন্ডিয়া উদ্যোগের অধীনে যুদ্ধবিমান এবং যুদ্ধবিমান ইঞ্জিন তৈরির ক্ষেত্রে তাদের অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং এই ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক ইতিবাচক অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা সাফরান গ্রুপের সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং ভারতীয় পক্ষের মধ্যে চমৎকার সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেছেন। তারা ইন্ডিয়ান মাল্টি রোল হেলিকপ্টার (IMRH) উন্নয়নের জন্য সাফরান এবং HAL-এর মধ্যে অংশীদারিত্বের প্রশংসা করেছেন। উভয় পক্ষই LEAP ইঞ্জিনের জন্য রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত এবং ওভারহল (MRO) সুবিধা উদ্বোধন, রাফালে বিমানে মাউন্ট করা M-88 ইঞ্জিনের জন্য MRO সুবিধা স্থাপন এবং ভারতে HAMMER ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেডের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। উভয় নেতা যৌথভাবে H125 ফাইনাল অ্যাসেম্বলি লাইন উদ্বোধন করেছেন। এটি ভারতে এই ধরণের প্রথম বেসরকারি ক্ষেত্রের হেলিকপ্টার উৎপাদন সুবিধা, একটি ঐতিহাসিক মেক ইন ইন্ডিয়া মাইলফলক, যা TATA অ্যাডভান্সড সিস্টেমস এবং এয়ারবাসের শক্তিকে একত্রিত করে ভারতের ক্রমবর্ধমান বাজার এবং তৃতীয় দেশগুলিতে রপ্তানি করবে। প্রধানমন্ত্রী মোদী ভারতের পিনাকা এমবিআরএল-এর প্রতি ফরাসিদের আগ্রহের প্রশংসা করেছেন।
উভয় নেতাই ভারতে তৈরি স্করপিন প্রোগ্রাম (পি৭৫ – কালভারি) এর সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। এর ষষ্ঠ সাবমেরিনটি ১৫ জানুয়ারী, ২০২৫ সালে ভারতীয় নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল, তাঁরা সাবমেরিন ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা বলেছেন।
উভয় নেতাই সকল ক্ষেত্রে নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক সামরিক মহড়া পরিচালনার প্রশংসা করেছেন, এর মধ্যে ২০২৫ সালে তিনটি প্রধান দ্বিপাক্ষিক মহড়া (বরুণ, শক্তি এবং গরুড়) অনুষ্ঠিত হয়েছিল, পাশাপাশি ফরাসি মহাকাশ সামরিক মহড়ায় ভারতের অংশগ্রহণ সহ বহুপাক্ষিক মহড়ায় উভয় পক্ষের অংশগ্রহণও রয়েছে। তারা উভয় দেশের মধ্যে নিয়মিত বন্দর কল পরিচালনাকেও স্বাগত জানিয়েছেন। ২০২৬ সালে নিজেদের সেনাবাহিনীতে অফিসারদের মোতায়েনকেও স্বাগত জানিয়েছেন, যা সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক জ্ঞানকে শক্তিশালী করতে অবদান রাখবে।
২০২৪ সালের জানুয়ারীতে স্বাক্ষরিত লেটার অফ ইন্টেন্টের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন দুই নেতা। ডিআরডিও এবং ডিজিএ-র মধ্যে কারিগরি চুক্তি প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতার জন্য একটি কাঠামো প্রদান করে।
সবুজ ও ডিজিটাল অর্থনীতি, উদীয়মান প্রযুক্তি এবং উন্নত উৎপাদনকে সমর্থন করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের মূল ভূমিকাকে স্বীকৃতি দিয়ে বৈচিত্র্যময়, সুস্থিত, দায়িত্বশীল এবং স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খল তৈরির জন্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ এবং বিরল মৃত্তিকা অনুসন্ধান, নিষ্কাশন, প্রক্রিয়াকরণ এবং পুনর্ব্যবহার প্রযুক্তিতে সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে দুই নেতা সম্মত হয়েছেন। এই প্রসঙ্গে, উভয় পক্ষ ফ্রান্স এবং ভারতের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের ক্ষেত্রে সহযোগিতার যৌথ ঘোষণাপত্রকে স্বাগত জানিয়েছে।
উভয় নেতা ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোর (আইএমইসি) -এ সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন, বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য, সংযোগ এবং সমৃদ্ধির পুনর্গঠন এবং প্রচারে এর রূপান্তরমূলক সম্ভাবনাকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। প্রকল্পটি ঘিরে প্রাথমিক আলোচনার প্রশংসা করে, তারা ২০২৬ সালে এই উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রথম আইএমইসি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠককে উৎসাহিত করেছেন।
তারা অস্ট্রেলিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতার প্রশংসা করে এই উদ্যোগের আওতায় পারস্পরিকভাবে চিহ্নিত কাজের ক্ষেত্রগুলির বাস্তবায়নের কথা বলেছেন।
তারা একটি মুক্ত, উন্মুক্ত, সমৃদ্ধ এবং নিয়ম-ভিত্তিক ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং ২০১৮ সালের ‘ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারত-ফ্রান্স সহযোগিতার যৌথ কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি’ এবং ২০২৩ সালের ‘ভারত-ফ্রান্স ইন্দো-প্যাসিফিক রোডম্যাপ’ অনুসারে ভারত- প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা ইন্দো-প্যাসিফিক মহাসাগর উদ্যোগ (আইপিওআই) এর অধীনে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এবং ভারতের সভাপতিত্বে ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনে সহযোগিতা জোরদার করার জন্যও উন্মুখ। তারা এই অঞ্চলে যৌথ উদ্যোগের সর্বশেষ উন্নয়নকে স্বাগত জানিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে ভারত ও ফরাসি উভয়পক্ষের অর্থানুকূল্যে আন্তর্জাতিক সৌর জোট (ISA) এর মাধ্যমে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলিতে সাম্প্রতিক নতুন সৌরশক্তি প্রশিক্ষণ, সেইসঙ্গে তৃতীয় দেশগুলিতে দুর্যোগ প্রতিরোধী শক্তি জোরদার করার জন্য কোয়ালিশন ফর ডিজাস্টার রেজিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচারস (CDRI) এবং AFD গ্রুপের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর। তারা ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরের দেশগুলির জলবায়ু এবং SDG কেন্দ্রিক প্রকল্পগুলিকে সমর্থন করার লক্ষ্যে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় ত্রিভুজাকার উন্নয়ন সহযোগিতা (IPTDC) এর অগ্রগতির প্রশংসা করেছেন।
মহাকাশ ক্ষেত্রে, তারা CNES এবং ISRO এর মধ্যে অংশীদারিত্বের প্রশংসা করেছেন এবং মহাকাশ শিল্পে গভীর সহযোগিতা বৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়েছেন। এই লক্ষ্য অর্জনে ভারত-ফ্রান্স কৌশলগত মহাকাশ সংলাপের প্রথম দুটি অধিবেশনের উল্লেখযোগ্য অবদানের কথা উল্লেখ করে, তারা ২০২৬ সালে তৃতীয় অধিবেশনটি দ্রুত আহ্বানের আহ্বান জানান। প্রতিরক্ষা মহাকাশে সহযোগিতার বিষয়ে স্বাক্ষরিত অভিপ্রায় পত্রের উপর ভিত্তি করে, উভয় নেতা মহাকাশে সার্বভৌম প্রবেশাধিকার এবং মহাকাশ পরিস্থিতিগত সচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তাদের সমন্বয় জোরদার করতে সম্মত হন। মহাকাশে বহুপাক্ষিকতা জোরদার করার জন্য ২০২৬ সালের জুলাই মাসে ফ্রান্স আন্তর্জাতিক মহাকাশ শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করতে চলেছে। ভারত এই উদ্যোগকে স্বাগত জানায় এবং তার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।
দুই নেতা তাদের প্রধান সমুদ্রবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে সহযোগিতা আরও গভীর করার এবং মহাসাগর-মহাকাশ সংযোগে সমন্বয় গড়ে তোলার গুরুত্বের উপরও জোর দিয়েছেন, বিশেষ করে CNES এবং INCOIS-এর মধ্যে শক্তিশালী সহযোগিতার মাধ্যমে সমুদ্রবিজ্ঞানের নৌবহরের সঙ্গে সম্পর্কিত সমুদ্র পর্যবেক্ষণ উন্নত করার কথা বলেছেন।
সাইবার ক্ষেত্রে, উভয় নেতা ভারতীয় এবং ফরাসি শিল্পের মধ্যে সমন্বয়ের উপর ভিত্তি করে শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বের প্রশংসা করেছেন। উভয় পক্ষ নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক সাইবার সংলাপ এবং সাইবার সহযোগিতা জোরদার করার উপর জোর দিয়েছেন। দুই নেতা সাইবার পরিসরের কৌশলগত তাৎপর্য এবং আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগ এবং সাইবার পরিসরে দায়িত্বশীল রাষ্ট্রীয় আচরণের কাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়ে রাষ্ট্রসংঘে তাদের সমন্বয় জোরদার করার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করেছেন, সেইসঙ্গে উদ্ভুত সমস্যাগুলির মোকাবিলা করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন।
দুই নেতা দ্ব্যর্থহীন এবং দৃঢ়ভাবে সন্ত্রাসবাদ এবং সীমান্ত সন্ত্রাসবাদ সহ সব ধরণের সহিংস চরমপন্থার নিন্দা করেছেন। প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ ২০২৫ সালের এপ্রিলে পহেলগাও সন্ত্রাসবাদী হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের আত্মরক্ষার অধিকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি ২০২৫ সালের নভেম্বরে নয়াদিল্লির লাল কেল্লার কাছে সন্ত্রাসের ঘটনারও নিন্দা করেছেন। নেতারা সন্ত্রাস, সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী এবং রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা কমিটির তালিকায় থাকা সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী এবং তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। উভয় পক্ষই ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (FATF) এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সন্ত্রাসবাদীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল এবং পরিকাঠামো নির্মূল করার পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কগুলিকে ব্যাহত করার এবং সন্ত্রাসবাদে অর্থের যোগানের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য সমস্ত দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। উভয় দেশই রাষ্ট্রসংঘ, FATF এবং অন্যান্য বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মে একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ২০২৬ সালের মে মাসে প্যারিসে পরবর্তী “নো মানি ফর টেরর” (NMFT) সম্মেলনের আয়োজন করতে চলেছে ফ্রান্স, এই আয়োজনের প্রতি ভারত পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে।
উভয় নেতাই ২০২৫ সালের নভেম্বরে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষী (NSG) এবং গ্রুপ ডি’ইন্টারভেনশন দে লা জেন্ডারমেরি ন্যাশনাল (GIGN)-এর মধ্যে সন্ত্রাস দমনে সহযোগিতার জন্য একটি লেটার অফ ইনটেন্ট স্বাক্ষরের প্রশংসা করেছেন। তারা ২০২৫ সালে একে অপরের দেশে MILIPOL প্রদর্শনী আয়োজনে দুই দেশের পারস্পরিক সহায়তার প্রশংসা করেছেন এবং নয়াদিল্লি এবং প্যারিসে MILIPOL ২০২৭-এর সফল আয়োজনের প্রত্যাশা করেছেন। দুই নেতা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত সন্ত্রাস দমন সংলাপের ফলাফলকে স্বাগত জানিয়েছেন, যা ভারত-ফ্রান্স সন্ত্রাস দমন এবং গোয়েন্দা সহযোগিতার ক্রমবর্ধমান প্রতিফলন।
২. গ্রহের জন্য অংশীদারিত্ব
উভয় নেতা জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবগুলিকে স্বীকৃতি দিয়েছেন – তাঁরা প্যারিস চুক্তির গুরুত্ব এবং সুস্থিত জীবনযাত্রার প্রচারের প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এর কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা করতে তাঁরা সম্মত হয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে বিশ্বের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে প্রাক-শিল্প-পূর্ব স্তরের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখা এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে প্রাক-শিল্প-পূর্ব স্তরের চেয়ে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। ফ্রান্স এবং ভারত জলবায়ু কর্মকাণ্ডের ভিত্তি হিসাবে বিজ্ঞানের ভূমিকা রক্ষা করার এবং জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত আন্তঃসরকারি প্যানেল (IPCC) এর কাজকে সমর্থন করার জন্য তাদের দৃঢ় সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেছে। তারা ২০২৪ সাল থেকে কোয়ালিশন ফর ডিজাস্টার রেজিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার (সিডিআরআই) এবং ২০১৮ সাল থেকে আন্তর্জাতিক সৌর জোট বা ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স (আইএসএ)-এর বহুপাক্ষিক মঞ্চে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা প্যারিসে আন্তর্জাতিক সৌর জোটের একটি ইউরোপীয় অফিস প্রতিষ্ঠার জন্য চলতি আলোচনাকেও স্বাগত জানিয়েছেন।
উভয় নেতা জলবায়ু এবং পরিবেশ সংক্রান্ত বিষয়ে ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার প্রশংসা করেছেন। পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি সহযোগিতার ক্ষেত্রে সহযোগিতাকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন। তারা AFD গ্রুপের অংশগ্রহণে ভারতে নগর গতিশীলতা, জ্বালানি রূপান্তর, , জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। ভারতে জ্বালানি রূপান্তরের প্রভাবের একটি নতুন সমষ্টিগত অর্থনৈতিক মডেল যৌথভাবে তৈরি করার জন্য নীতি আয়োগ এবং AFD গ্রুপের মধ্যে অভিপ্রায় বিবৃতির আলোচনার অগ্রগতির কথা তারা উল্লেখ করেছেন।
উভয় নেতা ২০২৫ সালের জুনে নিসে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রসংঘ মহাসাগর সম্মেলন (UNOC-3) এর সাফল্যকে স্বাগত জানিয়েছেন। ফ্রান্স এবং ভারত জাতীয় বিচারব্যবস্থার বাইরের অঞ্চলে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সুস্থিত ব্যবহার সম্পর্কিত চুক্তি (BBNJ চুক্তি) কার্যকর হওয়ার জন্য স্বাগত জানিয়েছেন। বহুপাক্ষিকতা, বিজ্ঞান এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য এই চুক্তি যে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এনেছে তা উল্লেখ করে, দুই নেতা প্রথম সম্মেলন থেকে কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য সর্বাধিক সংখ্যক রাষ্ট্রের অনুমোদনের গুরুত্বের বিষয়ে সহমত হয়েছেন। মহাসাগরীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে, ফ্রান্স এবং ভারত বিশ্বব্যাপী সামুদ্রিক সুরক্ষিত অঞ্চল সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছে। ভারত এবং ফ্রান্স কুনমিং-মন্ট্রিল গ্লোবাল বায়োডাইভারসিটি ফ্রেমওয়ার্কের পূর্ণ এবং কার্যকর বাস্তবায়নের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। ফ্রান্স এবং ভারত মহাসাগরের অনুসন্ধান এবং পর্যবেক্ষণে তাদের সহযোগিতা জোরদার করার, উচ্চ সমুদ্র চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক তথ্য তৈরি এবং আদান-প্রদান, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক স্থানের শাসন ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং নতুন সামুদ্রিক সুরক্ষিত অঞ্চলের উন্নয়নে তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা অর্জনের ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য এবং এই ক্ষেত্রে বেসরকারি বিনিয়োগের অনুমতি সহ ভারতের পারমাণবিক ক্ষেত্রের সাম্প্রতিক সংস্কারের প্রশংসা করেন। গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন থেকে শুরু করে শিল্প প্রয়োগ পর্যন্ত মূল্য শৃঙ্খলে পারমাণবিক শক্তিতে ভারত-ফ্রান্স সহযোগিতা আরও গভীর করতে এবং সহযোগিতার সম্ভাবনাগুলি অন্বেষণ করতে দুই নেতা সম্মত হন । তারা জৈতাপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের আলোচনা সহ অসামরিক পরমাণু শক্তি সম্পর্কিত বিশেষ টাস্ক ফোর্সের নিয়মিত বৈঠকের কথাও উল্লেখ করেন। একই প্রেক্ষাপটে, তারা ২০২৫ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ বিশ্ব পারমাণবিক প্রদর্শনী (ডব্লিউএনই) তে ভারতীয় কোম্পানি এবং শিল্প প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ এবং আইএইএ-এর সহযোগিতায় ফ্রান্সে দ্বিতীয় বিশ্ব পারমাণবিক শক্তি শীর্ষ সম্মেলনে ভারতের আসন্ন অংশগ্রহণের বিষয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
এই প্রসঙ্গে, নেতারা পারমাণবিক শক্তি বিভাগ (DAE) এবং কমিশনারিয়েট এ ল’এনার্জি অ্যাটোমিক এট অক্স এনার্জিজ অল্টারনেটিভস (CEA) এর মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ককে স্বাগত জানিয়েছেন এবং শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে পুনর্নবীকরণ এবং শক্তিশালী সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন।
২০২৫ সালে স্বাক্ষরিত ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে ক্ষুদ্র ও উন্নত মডুলার রিঅ্যাক্টর (SMR/AMR) বিষয়ে সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার জন্য অভিপ্রায় ঘোষণা (DoI) এবং নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং অ-প্রসারণের সর্বোচ্চ মান প্রয়োগের প্রতিশ্রুতি স্মরণ করে, দুই নেতা এই ক্ষেত্রে ফরাসি স্টার্ট-আপ কোম্পানি এবং প্রাসঙ্গিক ভারতীয় কোম্পানিগুলির মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করার জন্য উভয় পক্ষের প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেছেন।
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের সুস্থিত বিকাশ এবং শক্তিশালী দ্বিমুখী বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছেন নেতারা। তারা MSME, স্টার্টআপ, ডিজিটাইজেশন, AI এবং উদ্ভাবন-চালিত উদ্যোগের মাধ্যমে অব্যবহৃত অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। নেতারা উভয় দেশের কোম্পানিগুলির মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গভীরতর হওয়ার জন্য আনন্দ প্রকাশ করেছেন, বিশেষ করে মহাকাশ, শক্তি এবং সরবরাহ, কৃষি-খাদ্য, টেলিকম এবং প্রযুক্তি ক্ষেত্রে। আগামীকাল অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সিইও ফোরাম দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের কর্মসূচি আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেছেন।
নেতারা দ্বিপাক্ষিক কর চুক্তির সংশোধনী স্বাক্ষরকেও স্বাগত জানিয়েছেন, যা ফরাসি এবং ভারতীয় ব্যবসার জন্য অর্থনৈতিক কার্যকলাপ সুরক্ষিত করবে এবং দুই দেশের মধ্যে বৃহত্তর বিনিয়োগ এবং সহযোগিতার পথ প্রশস্ত করবে।
উভয় নেতা UPI প্রদানকারী প্রথম ইউরোপীয় দেশ ফ্রান্সে UPI-এর ধারাবাহিক অগ্রগতিতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাগশিপ স্টোর ইতিমধ্যে UPI গ্রহণ করেছে, যা প্যারিসকে ভারতীয় পর্যটকদের জন্য আরও আকর্ষণীয় গন্তব্য করে তুলেছে।
উভয় নেতা রেলওয়ে ক্ষেত্রে সহযোগিতাকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ, যাত্রী সুবিধা, সুস্থিতি এবং পরিবেশগত প্রভাব ব্যবস্থাপনা, রেল কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধি, উচ্চ-গতির রেলের মতো নির্মাণ প্রযুক্তি, পরিকাঠামো, হাইড্রোজেন-চালিত ট্রেন সহ উৎপাদন প্রযুক্তির মতো বিস্তৃত ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
৩. জনগণের জন্য অংশীদারিত্ব
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে ভারত-ফ্রান্স সহযোগিতার সমৃদ্ধ ইতিহাস স্মরণ করে, নেতারা বিশেষ করে ভারত-ফ্রান্স উদ্ভাবন বর্ষ ২০২৬ এর প্রেক্ষাপটে এই ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন, । তারা মহাকাশ, অসামরিক পরমাণু শক্তি, সাইবার এবং এআই সহ গুরুত্বপূর্ণ এবং উদীয়মান প্রযুক্তিতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং প্রযুক্তি সহযোগিতায় আরও এগিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছেন। তারা উভয় দেশের উদ্ভাবক, স্টার্ট-আপ, ব্যবসা এবং ইনকিউবেটর সহ মূল পক্ষগুলিকে সংযুক্ত করে একটি ডিজিটাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ফ্রান্স এবং ভারতের উদ্ভাবনী পরিমণ্ডলকে একত্রিত করার জন্য ভারত-ফ্রান্স ইনোভেশন নেটওয়ার্কের সূচনাকে স্বাগত জানিয়েছেন।
গত বছর স্টেশন এফ-এ দশটি ভারতীয় স্টার্টআপের সাফল্যের পর, নেতারা ভারতীয় ও ফরাসি স্টার্টআপ পরিমণ্ডলের আরও স্টার্টআপ ইনকিউবেশন এবং বৃহত্তর সহযোগিতা সম্পর্কে চলতি আলোচনা এবং দুটি স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের মধ্যে সহযোগিতার জন্য টি-হাব এবং নর্ড ফ্রান্স ইনভেস্টের মধ্যে স্বাক্ষরিত LoI-কে স্বাগত জানিয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে, ফরাসি পক্ষ বেঙ্গালুরু টেক সামিটের সঙ্গে অংশীদারিত্বে ইউরোপের বৃহত্তম প্রযুক্তি মেলা ভিভাটেককে ভারতে আনার প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেছে। একাধিক প্রকল্পে শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক অংশীদারিত্বকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য, দুই নেতা ভারতে ডিজিটাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক একটি দ্বি-জাতীয় কেন্দ্র খোলার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন। এই লক্ষ্যে উভয় পক্ষ যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির পাশাপাশি, উন্নত উপকরণের জন্য একটি যৌথ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জন্য দ্য সেন্টার ন্যাশনাল দে লা রিচার্চে সায়েন্টিফিক (সিএনআরএস) এবং ডিএসটির মধ্যে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতার জন্য সমঝোতা স্মারক (সিএনআরএস) এবং ডিএসটি এবং সিএনআরএসের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক পুনর্নবীকরণের পাশাপাশি, উন্নত উপকরণের জন্য একটি যৌথ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জন্য ডিএসটি এবং সিএনআরএসের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিও পুনর্নবীকরণ করা হয়েছে। তারা এআই এবং ফলিত গণিতের ক্ষেত্রে এএনআর এবং ডিএসটি কর্তৃক যৌথ প্রকল্পগুলির জন্য আহ্বান দ্রুত চূড়ান্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
অসামরিক বিমান চলাচলে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও গভীর করার লক্ষ্যে, উভয় পক্ষ সম্প্রতি একটি ঘোষণাপত্র স্বাক্ষরকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা সেন্ট-ডেনিস দে লা রিইউনিয়ন এবং চেন্নাইয়ের মধ্যে একটি নতুন বিমান রুট চালু করার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন, যা লা রিইউনিয়ন এবং ভারতের মধ্যে অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বিকাশে সহায়তা করবে। উভয় নেতা কানপুরের ন্যাশনাল স্কিল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (NSTI) তে অ্যারোনটিক্স এবং সংশ্লিষ্ট খাতে একটি জাতীয় উৎকর্ষ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জন্য ইচ্ছাপত্র স্বাক্ষরকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং দক্ষতা উন্নয়ন, বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারকের আওতায় দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছেন, যার লক্ষ্য দক্ষতা বৃদ্ধি করা।
ভারত ও ফ্রান্স স্বাস্থ্য সহযোগিতার ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব গতিশীলতাকে স্বাগত জানিয়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে নয়াদিল্লিতে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রো-র শেষ সফরের সময় স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য ইচ্ছাপত্র স্বাক্ষরের পর, ভারত ও ফ্রান্স এই কৌশলগত সহযোগিতার মূলে AI এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্যকে স্থান দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায়, উভয় নেতা এই সফরের সময় স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রে AI-এর জন্য নিবেদিত একটি অনন্য গবেষণা কেন্দ্র চালু করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন, যার মধ্যে থাকবে সোরবোন বিশ্ববিদ্যালয়, অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (AIMS), নয়াদিল্লি এবং প্যারিস ব্রেইন ইনস্টিটিউটের মধ্যে সহযোগিতা। ডিজিটাল স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ভারত-ফরাসি সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি এই গতিশীলতাকে আরও শক্তিশালী করবে, যার মধ্যে রয়েছে PariSanté ক্যাম্পাস এবং C-CAMP (সেন্টার ফর সেলুলার অ্যান্ড মলিকুলার প্ল্যাটফর্ম) এবং Health Data Hub এবং ICMR (ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ) এর মধ্যে অংশীদারিত্ব। দুই নেতা ফরাসি-ভারতীয় ক্যাম্পাস অন লাইফ সায়েন্সেস ফর হেলথের অগ্রগতির প্রশংসা করেছেন। তারা উভয়েই সংক্রামক রোগ এবং বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য গবেষণার উপর গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য ভারত-ফ্রান্স সহযোগিতার উপর একটি ইচ্ছাপত্র স্বাক্ষরকে স্বাগত জানিয়েছেন।
দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী সাংস্কৃতিক সহযোগিতার উপর ভিত্তি করে, উভয় নেতা সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন, বিশেষ করে ভারত-ফ্রান্স উদ্ভাবন বর্ষ ২০২৬ এর প্রেক্ষাপটে, ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে অভিন্ন সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য উদযাপন এবং প্রচারের লক্ষ্যে উভয় দেশে একাধিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। উভয় নেতা সাংস্কৃতিক বিনিময় বৃদ্ধির জন্য পারস্পরিক ‘ভিলা স্বাগতম’ রেসিডেন্সি নেটওয়ার্কের গুরুত্ব স্বীকার করেছেন।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দিল্লির জাতীয় জাদুঘর এবং ফ্রান্স জাদুঘর উন্নয়নের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির কথা স্মরণ করে, উভয় নেতাই ভারত জাদুঘরকে একটি বিশ্বব্যাপী সাংস্কৃতিক ল্যান্ডমার্ক হিসেবে প্রতিষ্ঠার অগ্রগতির প্রশংসা করেছেন। উভয় নেতাই লোথালে জাতীয় সামুদ্রিক ঐতিহ্য কমপ্লেক্সে সহযোগিতার জন্য আলোচনার অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা ২০২৮ সালে ফরাসি জাতীয় এশিয়ান আর্টস জাদুঘরে (গিমেট জাদুঘর) ভারতকে উৎসর্গীকৃত একটি সাংস্কৃতিক বর্ষ ঘোষণা এবং ২০২৮ সালে ফ্রাঙ্কো-ভারতীয় কৌশলগত অংশীদারিত্বের ৩০ তম বার্ষিকী উদযাপনের জন্য মুসি ডু কোয়ে ব্রানলি – জ্যাক শিরাকে সমসাময়িক ভারতীয় আলোকচিত্রের জন্য একটি প্রদর্শনী ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন। ২০২৫ সালের শেষে মোবিলিয়ার ন্যাশনাল-এ উপস্থাপিত উভয় দেশের টেক্সটাইল দক্ষতার জন্য নিবেদিত “সে কুই সে ট্রাম” / “টেক্সটাইল ম্যাটার্স” প্রদর্শনীটি শীঘ্রই ভারতে প্রদর্শিত হবে।
ফ্রান্স এবং ভারত উভয়ই, তাদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক এবং সৃজনশীল ঐতিহ্যের সঙ্গে সাংস্কৃতিক এবং সৃজনশীল শিল্প (সিসিআই) প্রচারে সহযোগিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
প্যারিস বই উৎসব ২০২২-এ ভারতের এবং নতুন দিল্লি বিশ্ব বই মেলা ২০২৩-এ ফ্রান্সের পারস্পরিক আমন্ত্রণের সাফল্যের উপর ভিত্তি করে, ফ্রান্স এবং ভারত পেশাদারদের পারস্পরিক আমন্ত্রণ, দ্বিমুখী অনুবাদ প্রবাহ এবং সহযোগিতামূলক উদ্যোগকে উৎসাহিত করে বই এবং সাহিত্যের ক্ষেত্রে তাদের সহযোগিতা জোরদার করার ইচ্ছা পোষণ করে।
২০২৩ সালে নমস্তে ফ্রান্সের সাফল্যের উপর ভিত্তি করে, উভয় নেতা ২০২৮ সালে কৌশলগত অংশীদারিত্বের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে নমস্তে ফ্রান্সের পরবর্তী সংস্করণ উদযাপন করতে এবং এটিকে দ্বিপাক্ষিক সাংস্কৃতিক সহযোগিতার একটি নিয়মিত বৈশিষ্ট্য হিসেবে গড়ে তুলতে সম্মত হন।
তারা ভারতে অ্যালায়েন্স ফ্রাঁসেজ নেটওয়ার্ক এবং লা রিইউনিয়নে ভারতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের দ্বারা সম্পাদিত কাজের প্রশংসা করেন। তারা প্যারিসে ভারতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (স্বামী বিবেকানন্দ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র – SVCC) উদ্বোধনকে স্বাগত জানান এবং প্যারিসে ভারতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং ভারতে অ্যালায়েন্স ফ্রাঁসেজ নেটওয়ার্কের নির্দিষ্ট লক্ষ্যগুলিকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদনের জন্য তাদের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। এই প্রেক্ষাপটে, উভয় পক্ষই ভারতে মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষা কেন্দ্রগুলিতে ফরাসি ভাষা শিক্ষা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যার মধ্যে রয়েছে ফ্রেঞ্চ ফর অল, ফ্রেঞ্চ ফর আ বেটার ফিউচার প্রোগ্রাম।
উভয় নেতা শিক্ষাগত সহযোগিতা এবং শিক্ষার্থীদের গতিশীলতা জোরদার করার জন্য প্রদত্ত অগ্রাধিকারের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেন। এই লক্ষ্যে, তারা আন্তর্জাতিক ক্লাস উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন, যা ভারতীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থার শিক্ষার্থীদের জন্য ভাষাগত এবং পদ্ধতিগত প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে ফরাসি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে প্রবেশাধিকার সহজতর করে। এটি শিক্ষার্থীদের গতিশীলতা বৃদ্ধি করবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে বর্তমান ১০,০০০ থেকে ৩০,০০০ ভারতীয় শিক্ষার্থীকে ফ্রান্সে স্বাগত জানানোর লক্ষ্য অর্জন করবে। উভয় নেতাই মুম্বাইতে একটি হাব প্রতিষ্ঠাকে স্বাগত জানিয়েছেন যা ESSEC বিজনেস স্কুল এবং সেন্ট্রালসুপেলেক ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলকে একত্রিত করবে। দুই নেতাই পারস্পরিক শিক্ষাগত যোগ্যতার স্বীকৃতি সংক্রান্ত চুক্তির আসন্ন সংশোধনকে স্বাগত জানিয়েছেন।
উভয় নেতাই ১৮ এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি নয়াদিল্লিতে এইমস কর্তৃক আয়োজিত উচ্চ পর্যায়ের শিক্ষাগত ও বৈজ্ঞানিক বৈঠকের সাফল্য এবং শিক্ষা ও বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রশংসা করেছেন। এই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকগুলি উভয় দেশের ২০০ টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং বৈজ্ঞানিক সংস্থাগুলিকে একত্রিত করেছিল এবং উভয় পক্ষের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে যৌথ ডিগ্রি ব্যবস্থা সহ ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার উপর আলোকপাত করেছিল।
উভয় নেতা ভারত-ফ্রান্স অভিবাসন ও গতিশীলতা অংশীদারিত্ব চুক্তি (MMPA) এবং তরুণ পেশাদার প্রকল্প (YPS) এর গুরুত্বের উপর জোর দিয়ে দক্ষতা উন্নয়ন, বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকে স্বাগত জানিয়েছেন যা যুব ও পেশাদারদের গতিশীলতার সুযোগ বাড়াবে এবং ভারত ও ফ্রান্সের জনগণের মধ্যে বন্ধনকে শক্তিশালী করবে। এই মনোভাব বজায় রেখে, নেতারা ফরাসি বিমানবন্দর দিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের আসন্ন ভিসা-মুক্ত ট্রানজিটের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন, যা ছয় মাসের পর পর্যালোচনা করা হবে।
উভয় নেতা মার্সেইতে অনুষ্ঠিত রাইসিনা সংলাপের প্রথম ভূমধ্যসাগরীয় সংস্করণকে স্বাগত জানিয়েছেন, যা ভূমধ্যসাগরীয় এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মধ্যে বাণিজ্য ও সংযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার, শিল্প নেতা, বাণিজ্য ও সংযোগ বিষয়ক বিশেষজ্ঞ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক অংশীদারদের নিয়ে উচ্চ-স্তরের সংলাপকে উৎসাহিত করবে এবং উল্লেখ করেছেন যে এটি উভয় পক্ষের শিক্ষাবিদ এবং থিঙ্ক-ট্যাঙ্কগুলির মধ্যে পাশাপাশি ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বিনিময়কে আরও উন্নত করবে।
ভারত-ফ্রান্স বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্ব ভারত-ফ্রান্স সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে, যা দুই দেশের মানুষের জন্য আরও সুযোগ-সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে এবং আন্তর্জাতিক শান্তি, সুস্থিতি এবং সমৃদ্ধির বিকাশে সহায়ক হচ্ছে।
SC/SD/SKD
The launch of the Indo-French Centre for AI in Health, the Indo-French Centre for Digital Science and Technology and a National Centre of Excellence for Skilling in Aeronautics are examples of futuristic India-France cooperation.
— Narendra Modi (@narendramodi) February 17, 2026
2026 is a turning point in the relations between India and Europe. The FTA with the EU will bring unprecedented momentum to India-France ties as well. Today, we have also signed an agreement to avoid double taxation, thus boosting investment between our people and companies. pic.twitter.com/IqhcBFWt8U
— Narendra Modi (@narendramodi) February 17, 2026
Held wide-ranging talks with President Macron in Mumbai. Today’s meeting assumes significance because we have elevated the India-France relationship to a Special Global Strategic Partnership. Ours is a partnership for global stability and progress. We discussed cooperation in… pic.twitter.com/Ux7P4bG8Be
— Narendra Modi (@narendramodi) February 17, 2026
Le lancement du Centre indo-français pour l’IA en santé, du Centre indo-français pour les sciences et technologies numériques ainsi que d’un Centre national d’excellence pour le développement des compétences en aéronautique constitue des exemples d’une coopération d’avenir entre…
— Narendra Modi (@narendramodi) February 17, 2026
L’année 2026 marque un tournant dans les relations entre l’Inde et l’Europe. L’accord de libre-échange avec l’Union européenne apportera également un élan sans précédent aux relations entre l’Inde et la France. Aujourd’hui, nous avons aussi signé un accord visant à éviter la… pic.twitter.com/g8u5iw6RAU
— Narendra Modi (@narendramodi) February 17, 2026
J’ai eu des entretiens approfondis avec le Président Macron à Mumbai. La réunion d’aujourd’hui revêt une importance particulière puisque nous avons élevé la relation Inde-France au rang de Partenariat stratégique global spécial. Notre partenariat est au service de la stabilité et… pic.twitter.com/WKy1Y3o6Xn
— Narendra Modi (@narendramodi) February 17, 2026