পিএমইন্ডিয়া
নতুন দিল্লি, ০৩ জুন, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর পৌরোহিত্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে আজ তালিকাভুক্ত ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলির অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের জন্য জ্বালানির মূল্য স্থিতিশীল রাখতে তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে ১০,০০০ কোটি টাকার এককালীন বাজেট সহায়তা অনুমোদন করা হয়েছে। এই অর্থ সহায়তা পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের অনুদানের মাধ্যমে তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে সুদ-মুক্ত অগ্রিম হিসাবে প্রদান করা হবে। পশ্চিম এশিয়ায় সংকটের জেরে জ্বালানির মূল্যে যে অস্বাভাবিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, তার মোকাবিলায় বিমান সংস্থাগুলির জন্য জ্বালানির মূল্য স্থিতিশীল রাখতে তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে এই সহায়তা প্রদান করা হবে।
অনুমোদিত মূল্য স্থিতিশীলতা তহবিলের মূল উপাদান:
১) তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে সুদ-মুক্ত অগ্রিম
তালিকাভুক্ত ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলির জন্য জ্বালানির মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে সুদ-মুক্ত অগ্রিম হিসাবে ১০,০০০ কোটি টাকা পর্যন্ত এককালীন বাজেট সহায়তা প্রদান করা হবে। যখনই আমদানি সমতা মূল্য, অনুমোদিত পদ্ধতির অধীনে নির্ধারিত মূল্যকে অতিক্রম করবে, তখন উদ্ভূত ক্ষতির জন্য এই তহবিল তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে ক্ষতিপূরণ দেবে।
২) পুনরুদ্ধার এবং সমন্বয় ব্যবস্থা
যখন আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য স্থিতিশীল হবে, তখন অতিরিক্ত অর্থ তেল বিপণন সংস্থাগুলির কাছ থেকে পুনরুদ্ধার করে ভারতের সংযুক্ত তহবিলে ফেরত দেওয়া হবে। এই ব্যবস্থা ততক্ষণ পর্যন্ত চলবে যতক্ষণ না বাজেট সহায়তার অর্থ সম্পূর্ণরূপে পুনরুদ্ধার করা হয়।
৩) অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের আওতা
এই প্রকল্পটি সমস্ত তালিকাভুক্ত ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলির জন্য অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক উভয় কার্যক্রমের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।
৪) বিমান জ্বালানির নির্দিষ্ট মূল্যের ব্যবস্থা
এই পদ্ধতিটি অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের জন্য একটি নির্দিষ্ট মূল্যের ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এর ফলে জ্বালানির আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি থেকে বিমান সংস্থাগুলি রক্ষা পাবে।
৫) তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে বিমান জ্বালানি সরবরাহের একচেটিয়া অধিকার
এই ব্যবস্থাটি অংশগ্রহণকারী ভারতীয় বিমান সংস্থা এবং তেল বিপণন সংস্থাগুলির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। এক্ষেত্রে অসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রক এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক স্বাক্ষরকারী হিসেবে থাকবে। এই এককালীন ব্যবস্থার অধীনে, অংশগ্রহণকারী বিমান সংস্থাগুলি বার্ষিক পর্যালোচনা সাপেক্ষে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত অথবা অগ্রিম প্রদত্ত অর্থ সম্পূর্ণরূপে আদায় না হওয়া পর্যন্ত, এই দুটির মধ্যে যেটি আগে ঘটবে, ততদিন শুধুমাত্র তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলোর কাছ থেকে বিমানের জ্বালানি সংগ্রহ করবে।
৬) পর্যবেক্ষণ ও নিরীক্ষা
অসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রক, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক এবং ব্যয় বিভাগের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি পর্যবেক্ষণ কমিটি দাবি যাচাই, সমন্বয় এবং নিষ্পত্তির তত্ত্বাবধান করবে। সমস্ত দাবি এবং আদায় নিরীক্ষার অধীনে থাকবে।
৭) মূল্য স্থিতিশীলতা সহায়তার সময়কাল
এই সহায়তা বার্ষিক পর্যালোচনা সাপেক্ষে ছত্রিশ মাসের জন্য অথবা অগ্রিম অর্থ সম্পূর্ণরূপে আদায়/নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত, যেটি আগে ঘটবে, ততদিন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রস্তাবটি ছত্রিশ মাসের পরেও বাড়ানো যেতে পারে।
প্রত্যাশিত ফলাফল:
প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থা ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলির জ্বালানির খরচে স্থিতিশীলতা আনবে। এর ফলে, পরিচালন ব্যবস্থা ও আর্থিক পরিকল্পনার সুবিধা হবে।
পশ্চিম এশীয় সংকটের সময় এই প্রস্তাবিত উদ্যোগ তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে বিপুল পরিমাণ ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করবে।
এই পদক্ষেপটি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিমান সংযোগ রক্ষা করতে সাহায্য করবে এবং বিমান পরিষেবার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে।
এটি যাত্রীদের উপর জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কমাবে, যার ফলে বিমান ভাড়ার ওঠানামা কমবে।
এই ব্যবস্থাটি প্রত্যন্ত, আঞ্চলিক, টিয়ার-২ এবং টিয়ার-৩ শহরগুলিতে নিরবচ্ছিন্ন বিমান সংযোগ বজায় রাখতে সহায়তা করবে। এর ফলে, সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বিকাশ ত্বরান্বিত হবে।
SC/SD/SKD