পিএমইন্ডিয়া
নয়া দিল্লি, ১৯ জুন ২০২৬
আমার মন্ত্রিসভার সহকর্মী শ্রী মনসুখ মান্ডভিয়া জি, বোন শোভা জি, সারা দেশ জুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি ও প্রযুক্তির মাধ্যমে যুক্ত সকল বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সঞ্চালক যেমনটি উল্লেখ করলেন—এই মুহূর্তে ২০০টি স্থান থেকে প্রায় দুই লক্ষ মানুষ এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন—আমি দূর থেকেই তাঁদের সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। আজ এখানে শিল্প জগতের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকেও আমি উপস্থিত থাকতে দেখছি; আর অবশ্যই, বিপুল সংখ্যক তরুণ সঙ্গীদের মধ্যে যে উদ্দীপনা রয়েছে, তা-ও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।
আজ এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত তরুণ সঙ্গীদের মধ্যে আমি ভারতের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ছবি দেখতে পাচ্ছি। মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই আমি ফ্রান্স ও স্লোভাকিয়া সফর থেকে ফিরেছি। জি-৭ সম্মেলনে আমি উন্নত দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। আজ বিশ্বজুড়ে ভারতের যুবশক্তির কথা আলোচিত হচ্ছে। সর্বত্রই ভারতের মেধা, দক্ষতা ও সম্ভাবনার বিষয়ে আলোচনা চলছে। বিশ্ব এখন ভারতের যুবসমাজের সক্ষমতাকে প্রকৃত অর্থে স্বীকৃতি দিতে শুরু করেছে। আর ঠিক এমন এক সময়ে, আমাদের প্রচেষ্টা হলো ভারতের প্রত্যেক তরুণ যেন তাদের সক্ষমতাকে সুযোগে রূপান্তরিত করতে পারে। এই লক্ষ্য নিয়েই ‘প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত রোজগার যোজনা’ চালু করা হয়েছে। কর্মসংস্থান সংক্রান্ত সাধারণ ধারণার চেয়েও এই প্রকল্পটি অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ—এটি এমন একটি প্রকল্প যা প্রথম চাকরিপ্রার্থী তরুণদের স্বপ্নকে শক্তিশালী করে তোলে। এটি এমন একটি প্রকল্প যা তরুণ সমাজ ও শিল্পক্ষেত্রের মধ্যে এক শক্তিশালী সেতুবন্ধন গড়ে তোলে।
বন্ধুগণ,
সাধারণত কোনো প্রকল্প হয় কর্মীদের জন্য, নয়তো শিল্পের জন্য। কিন্তু এটি এমন একটি প্রকল্প যা উভয়কেই—অর্থাৎ আমাদের দক্ষ ও সমৃদ্ধ যুবসমাজকে—ভবিষ্যৎ এবং শিল্প-উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। যখন কোনো তরুণ বা তরুণী তাদের প্রথম চাকরি শুরু করেন, তখন সরকার তাঁদের পাশে দাঁড়াচ্ছে।এর ফলে শিল্পোদ্যোক্তারাও অনুভব করেন যে, এই ব্যক্তি একা আসেননি; বরং পুরো সরকারই তাঁর পেছনে রয়েছে। এ কারণে এমন তরুণ-তরুণীদের প্রতি শিল্পোদ্যোক্তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। আর যেসব প্রতিষ্ঠান নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, সরকার তাদেরও উৎসাহিত করে। আগে এখানকার কিছু নিয়মকানুন ও ব্যবস্থা এমন ছিল যে, মানুষ বড় হতে ভয় পেত; তারা ভাবত, বড় হলে হয়তো নানা বিধিনিষেধের বেড়াজালে জড়িয়ে পড়তে হবে। তাই ছোট থাকাই শ্রেয় বলে মনে করত তারা। আর যদি বড় হওয়ার সুযোগ আসত, তবে ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর বদলে তারা নতুন আরেকটি ছোট ব্যবসা শুরু করার কথা ভাবত। আজ সেই মানসিকতা বদলেছে। সবারই বড় হওয়ার সাহস থাকা উচিত, তাদের আকাঙ্ক্ষার ডানা মেলা উচিত—আর শিল্পের জন্যও এটি প্রয়োজন। এই প্রকল্পটি সেই সুযোগের দ্বার উন্মোচন করেছে এবং এটাই এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য। কিছুক্ষণ আগেই আমি কয়েকজন সুবিধাভোগী তরুণ-তরুণীর সঙ্গে বসেছিলাম এবং তাদের অভিজ্ঞতার কথা শুনেছি। তাদের মধ্যে কেউ কেউ প্রথম চাকরি পেয়েছেন, আবার কেউ কেউ এই প্রকল্পের আওতায় অন্যদের চাকরি দিয়েছেন। সত্যি বলতে, সেই তরুণ-তরুণীদের আত্মবিশ্বাস ছিল অসাধারণ; মনে হচ্ছিল যেন তারা বিশ্বজয় করেছে। তাদের স্বপ্ন ও বিশ্বাস—এটাই আসলে আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ।
বন্ধুগণ,
‘প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত রোজগার যোজনা’-র সহায়তায় এ পর্যন্ত প্রায় ৭০ লক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ৭০ লক্ষ নতুন কর্মী সামাজিক সুরক্ষার আওতাভুক্ত হয়েছেন। প্রায় ২০ লক্ষ তরুণ-তরুণী তাঁদের প্রথম চাকরিতে ইতিমধ্যে ছয় মাস পূর্ণ করেছেন। আর আজ, এই তরুণ সঙ্গীদের মধ্যে প্রায় ১০ লক্ষ জন—প্রথম চাকরিতে ছয় মাস পূর্ণ করার পর—এই প্রকল্পের সুবিধাভোগী হিসেবে প্রণোদনা পেয়েছেন। ২ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ সরাসরি তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছেছে। এই অর্থ কেবল আর্থিক সহায়তা নয়—এটি তাঁদের কঠোর পরিশ্রমের প্রতি সম্মান। এটি তাঁদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ওপর জাতির আস্থারই বহিঃপ্রকাশ।
বন্ধুগণ,
আমি সেইসব প্রতিষ্ঠানের জন্যও সমানভাবে আনন্দিত যারা আমাদের তরুণদের সুযোগ দিয়েছে এবং তাদের ভেতরের সুপ্ত সম্ভাবনাকে চিনতে পেরেছে; তাই যাঁরা এই সুযোগগুলো তৈরি করে দিয়েছেন, তাঁরাও সমান প্রশংসার দাবিদার। এই প্রতিষ্ঠানগুলোই সাম্প্রতিক মাসগুলোতে লক্ষ লক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। মনসুখ ভাই যে পরিসংখ্যান তুলে ধরলেন, আশা করি গণমাধ্যম সেগুলোর দিকে নজর দেবে। এত বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে জেনে দেশের মানুষ আনন্দিত হবেন। এই পরিসংখ্যান ও অভিজ্ঞতা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, সরকার, যুবসমাজ এবং শিল্পখাত যখন একত্রে এগিয়ে চলে, তখন কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি বহুগুণ বেড়ে যায়। ‘প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত রোজগার যোজনা’ হলো এই নতুন ভারতের পরিচয়—এমন এক ভারত যেখানে যুবসমাজ সুযোগ পায়, শিল্পখাত উৎসাহ পায় এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি একটি জাতীয় অভিযানে পরিণত হয়।
বন্ধুগণ,
ভারত বিশ্বের অন্যতম তরুণপ্রধান দেশ। তাই একটি উন্নত ভারতের পথে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আমাদের যুবসমাজের স্বপ্ন, দক্ষতা ও সক্ষমতার ওপরই নির্ভর করে। আমাদের লক্ষ্য হলো, দেশের প্রত্যেক তরুণ যেন তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ উন্নতি করতে পারে। যার প্রতিভা আছে, সে যেন সুযোগ পায়; যার নতুন ধারণা বা আইডিয়া আছে, সে যেন উদ্ভাবনের জন্য উপযুক্ত মঞ্চ পায়; আর যে নিজের চেষ্টায় কিছু অর্জন করতে চায়, সে যেন পূর্ণ সহায়তা পায়। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ভারতের মতো তরুণপ্রধান দেশে সুযোগের উৎস যত বেশি হবে, তরুণদের স্বপ্নের ডানা তত উঁচুতে উড়বে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে গত ১২ বছরে কর্মসংস্থানের প্রতিটি ক্ষেত্রকে শক্তিশালী করা হয়েছে। পরিকাঠামো থেকে উদ্ভাবন, উৎপাদন খাত থেকে ডিজিটাল অর্থনীতি, মহাকাশ গবেষণা থেকে স্টার্ট-আপ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ অভিযান, ‘ভোকাল ফর লোকাল’, স্থানীয় পণ্যকে বিশ্ববাজারে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ এবং ‘মিশন ম্যানুফ্যাকচারিং’-এর মতো কর্মসূচিগুলো দেশে চাকরি ও স্ব-কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করছে। আজ গাড়ি থেকে শুরু করে মেট্রো কোচ, ট্রেনের বগি কিংবা প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম—অনেক ক্ষেত্রেই রপ্তানি দ্রুতগতিতে বাড়ছে। এর কারণ হলো ভারতে উৎপাদন খাতের প্রসার ঘটছে, কারখানার সংখ্যা বাড়ছে এবং সেখানে কর্মরত মানুষের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বন্ধুগণ,
গত ১২ বছরে ভারত সরকারের বিভিন্ন নীতি ও সিদ্ধান্ত দেশে ক্রমাগত কর্মসংস্থানের নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি করেছে। আজ পরিকাঠামো খাতে ১২ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ লক্ষ লক্ষ তরুণের ভবিষ্যতের ভিত্তি হয়ে উঠছে। মুদ্রা যোজনার আওতায় ৩৩ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি সহায়তা কোটি কোটি তরুণকে নিজেদের কাজ শুরু করার সুযোগ করে দিয়েছে। ১০ কোটিরও বেশি মহিলা ‘স্বয়ং-সহায়ক গোষ্ঠী’র (সেল্ফ হেল্প গ্রুপ্স) সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন এবং ৩ কোটিরও বেশি নারী ‘লাখপতি দিদি’ হয়ে উঠেছেন। ‘স্বনিধি’ এবং ‘পিএম বিশ্বকর্মা’-র মতো উদ্যোগগুলি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, রাস্তার হকার এবং ঐতিহ্যবাহী কারিগরদের নতুন প্রযুক্তি, নতুন আর্থিক সহায়তা ও নতুন শক্তি জুগিয়েছে। একটু আগেই আমি যেসব তরুণের সঙ্গে কথা বলছিলাম, তাদের মধ্যে আইটিআই থেকে উত্তীর্ণ এক তরুণ অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে ড্রোন তৈরির কাজে যুক্ত ছিল। ড্রোন খাতের একটি উদাহরণই আপনাদের দিই। ওষুধ সরবরাহ, কীটনাশক ছড়ানো, ‘স্বামিত্ব’ প্রকল্পের আওতায় ম্যাপিং বা প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ব্যবহার—সব মিলিয়েই দেশে ড্রোনের ব্যবহার ক্রমাগত বাড়ছে। আর ড্রোনের এই ক্রমবর্ধমান ব্যবহার তরুণদের জন্য নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে। আইটিআই থেকে সদ্য উত্তীর্ণ সেই তরুণটি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেছিল: “শুধু ড্রোন-এর ভিডিও দেখবেন না, নিজেই ড্রোন তৈরি করা শুরু করুন—আপনারাও এটা করতে পারেন।” সে কী দারুণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই না কথা বলেছিল! মহাকাশ ক্ষেত্রকে উন্মুক্ত করার বিষয়ে আমাদের সরকারের সিদ্ধান্তটিও তরুণদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক হয়েছে।
বন্ধুগণ,
গত এক দশকে ডিজিটাল অর্থনীতিও সুযোগের এক সম্পূর্ণ নতুন জগৎ তৈরি করেছে। গিগ ইকোনমি, প্ল্যাটফর্ম ইকোনমি, কনটেন্ট তৈরি বা প্রযুক্তি পরিষেবা—কর্মসংস্থানের নতুন নতুন ক্ষেত্র দ্রুত উঠে আসছে। একসময় যেসব সুযোগের কথা কল্পনাই করা যেত না, আজ সেগুলোই লক্ষ লক্ষ তরুণের আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে। স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম বা উদ্যোগ-পরিবেশেও একই পরিবর্তন দৃশ্যমান। একসময় দেশে মাত্র ৫০০-এর মতো স্টার্টআপ ছিল। আজ সেখানে ২ লক্ষেরও বেশি নিবন্ধিত স্টার্টআপ রয়েছে এবং দেশের প্রতিটি জেলাতেই আপনি স্টার্টআপ খুঁজে পাবেন। এই পরিসংখ্যানগুলি এমন এক আত্মবিশ্বাস জাগায় যে, আগামী বছরগুলিতে ভারতের তরুণরাই প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবন এবং উদ্যোক্তা হওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে।
বন্ধুগণ,
আজ সমগ্র বিশ্ব ভারতের ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী ও উচ্ছ্বসিত। ভারতের তরুণশক্তির ক্ষমতার ওপর সবারই অগাধ আস্থা রয়েছে। আপনারা নিশ্চয়ই ফ্রান্সে আয়োজিত জমকালো ‘ইন্ডিয়া ইনোভেটস’ কর্মসূচির প্রতিবেদন দেখেছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা(এআই), মহাকাশ গবেষণা, সবুজ শক্তি(পরিবেশবান্ধব গ্রিন এনার্জি) এবং জৈব-প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রগুলোতে ভারতের স্টার্টআপ এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিনিয়োগকারীরা যৌথভাবে কাজ করার লক্ষ্যে এক নতুন শক্তি হিসেবে উঠে আসছে। আজ ভারত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নতুন নতুন বাণিজ্য চুক্তি করছে—এমন সব চুক্তি যা ভারতের শিল্পখাতের জন্য নতুন বাজারের দ্বার উন্মোচন করছে এবং দেশের পেশাজীবীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউরোপের অনেক দেশের সঙ্গেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তিগুলো দেশে লক্ষ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যম হয়ে উঠছে।
বন্ধুগণ,
বিশ্ব এখন ভবিষ্যতের অর্থনীতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর ভারত সেই ভবিষ্যতের অর্থনীতির নেতৃত্ব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশ্ব যখন ভবিষ্যতের প্রযুক্তির দিকে এগিয়ে চলেছে, তখন ভারত তার তরুণ প্রজন্মকে ভবিষ্যতের উপযোগী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। ভারতের তরুণদের জন্য এটি এক বিশাল সুযোগ এবং আমাদের অবশ্যই এর পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে হবে।
বন্ধুগণ,
গত ১২ বছরে ভারতের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে আরও একটি বড় পরিবর্তন এসেছে। বিষয়টি নিয়ে হয়তো খুব বেশি আলোচনা হয় না, কিন্তু একটি উন্নত ভারত গড়ার যাত্রায় এর গুরুত্ব অপরিসীম। এই পরিবর্তনটি হলো কর্মসংস্থানের সঙ্গে কাজের নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে যুক্ত করা। আমাদের লক্ষ্য হলো নিরাপদ কর্মসংস্থান। আমাদের লক্ষ্য হলো প্রত্যেক শ্রমিকের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আর তাই প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে আজ ইপিএফও (এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ড ফান্ড) ব্যবস্থাকে আধুনিক করা হয়েছে। পেনশন ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও সহজলভ্য করা হয়েছে। লক্ষ লক্ষ নতুন শ্রমিককে স্বাস্থ্যবিমা এবং সাশ্রয়ী চিকিৎসা পরিষেবার আওতায় আনা হয়েছে।
বন্ধুগণ,
এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আমরা শ্রম-সংস্কারের কাজ এগিয়ে নিয়েছি। নতুন শ্রম আইনের (লেবার কোড) উদ্দেশ্য হলো শ্রমিকদের আরও বেশি নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও অধিকার প্রদান করা। নিয়োগপত্রকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হোক, নির্দিষ্ট মেয়াদের কর্মীদের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হোক কিংবা ন্যূনতম মজুরির পরিধি বাড়ানো—আমাদের প্রতিটি প্রচেষ্টার লক্ষ্যই হলো শ্রমিকদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা সুদৃঢ় করা।
বন্ধুগণ,
আজ প্রতিটি ক্ষেত্রে আমাদের নারীশক্তি নতুন উচ্চতায় পৌঁছাচ্ছে। তাই মহিলাদের জন্য এমন এক পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে যা নিরাপদ, সম্মানজনক এবং সুযোগে পরিপূর্ণ। রাতের শিফটে কাজ সংক্রান্ত পুরনো বিধিনিষেধ পরিবর্তন করা, ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজ করার সুবিধা দেওয়া কিংবা নিরাপদ কর্মক্ষেত্র সুনিশ্চিত করা—সব মিলিয়ে আমরা মহিলাদের অংশগ্রহণকে আরও জোরদার করছি।
বন্ধুগণ,
আজ শিল্পজগতের অনেক সহকর্মীও এখানে উপস্থিত আছেন। আপনাদের সবার কাছে আমার একটি অনুরোধ রয়েছে। একবিংশ শতাব্দীতে সেই দেশগুলোই এগিয়ে থাকবে যাদের দক্ষ জনশক্তি, উদ্ভাবনী ক্ষমতা এবং গুণমান বা উৎকর্ষ রয়েছে। আর আজ, এই তিনটি ক্ষেত্রেই ভারতের অভাবনীয় সক্ষমতা রয়েছে। তাই ভারতের শিল্পজগতের কাছে আমি বলতে চাই—আজ আমাদের সামনে যে সুযোগগুলো এসেছে, সেগুলোকে পূর্ণ শক্তি দিয়ে কাজে লাগাতে হবে। আমাদের নতুন নতুন বাজারে পৌঁছাতে হবে। নতুন পণ্য তৈরি করতে হবে। বিশ্বের সেরা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হবে। কারণ আজ বিশ্ব ভারতের জন্য তার দরজা খুলে দিচ্ছে। বন্ধুগণ, আগে তো আমাদের জন্য একটা জানালাও খোলা হতো না, আর আজ দরজা খুলে যাচ্ছে। ভারত প্রায় ৪০টি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এবং আমাদের সেগুলোর পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে হবে। এই চুক্তিগুলো নতুন বাজার তৈরি করছে, নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ করে দিচ্ছে এবং বিশ্বজুড়ে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ব্র্যান্ডগুলোর জন্য নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছে। তাই বন্ধুগণ, আমাদের এই সুযোগগুলো হাতছাড়া হতে দেওয়া চলবে না।
বন্ধুগণ,
লক্ষ্য যখন বড় হয়, তখন অর্জনও বড় হয়। দৃষ্টিভঙ্গি যখন বিশ্বমানের হয়, তখন সাফল্য ও পরিধিও স্বাভাবিকভাবেই প্রসারিত হয়। তাই প্রশিক্ষণ, পরামর্শদান (মেন্টরশিপ) এবং ইন্টার্নশিপ এখন আর ঐচ্ছিক বিষয় নয়—এগুলো একবিংশ শতাব্দীর অপরিহার্য প্রয়োজন। ভারতের শিল্পখাতকে নিজের জন্য দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে এবং ভবিষ্যতের জন্য নতুন সুযোগও সৃষ্টি করতে হবে। কারণ, একটি উন্নত ভারত গড়ার পথ কেবল বিনিয়োগের মাধ্যমে তৈরি হবে না; তা গড়ে উঠবে মেধা, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী শক্তির দ্বারা। আর এই পুরো যাত্রার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হলো একটিই বিষয়—যা আমি আমার শিল্পজগতের সহকর্মীদের বারবার বলে থাকি—এই সব পরিস্থিতির পূর্ণ সদ্ব্যবহার করার সবচেয়ে শক্তিশালী উপায় হলো ‘গুণমান’ বা ‘কোয়ালিটি’। শিক্ষার গুণমান, দক্ষতার গুণমান, পরিষেবার গুণমান, পণ্যের গুণমান—এমনকি প্যাকেজিংয়ের গুণমানও। বিশ্বমঞ্চে টিকে থাকতে হলে আমাদের সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করতে হবে। বিশ্বে এগিয়ে যেতে হলে উৎকর্ষই হয়ে উঠতে হবে আমাদের পরিচয়। আজ ভারতের কাছে বিশ্বের অনেক প্রত্যাশা। কিন্তু আমি নিশ্চিত যে, ভারতের যুবসমাজ কেবল সেই প্রত্যাশা পূরণই করবে না, বরং তা ছাড়িয়ে গিয়ে বিশ্বকে গর্ব ও সাহসের সাথে নিজেদের সক্ষমতা দেখিয়ে দেবে। এটাই উন্নত ভারতের শক্তি। এটাই আমার তরুণ সহকর্মী ও আমাদের যুবসমাজের পরিচয়—তাদের সক্ষমতা ও শক্তির বহিঃপ্রকাশ।
বন্ধুগণ,
স্বপ্ন কেবল সেখানেই বিকশিত হয় যেখানে তা বাস্তবায়িত হয়। একটি স্বপ্নের পূর্ণতা আরও বড় কোনো স্বপ্নের পথ খুলে দেয়। আর ঠিক এই বিষয়টিই আজ ভারতে ঘটছে। আমি ভারতের যুবসমাজের অধৈর্য বা আগ্রহ বুঝি এবং তাদের একটি কথাই বলতে চাই—আমার তরুণ বন্ধুরা, আমি আবারও বলছি, তোমাদের স্বপ্নই হলো মোদীর সংকল্প! সাফল্যের পথে তোমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ আমার জন্যও অনুপ্রেরণা। আর হ্যাঁ, ব্যর্থতায় হতাশ হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। প্রতিটি ব্যর্থতা আমাদের কিছু না কিছু শেখায়। ক্রীড়াজগতের মানুষদের আমি সবসময় বলি—যখন তোমরা মাঠে নামো, তখন কেউ হারে না। একজন জেতে, আর অন্যজন শেখে। কেউ হারে না। তরুণ মনের প্রকৃত পরিচয় হলো ব্যর্থতা থেকে ক্রমাগত শেখা, স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা এবং প্রতিটি অর্জনের পর নতুন স্বপ্নের জন্ম দেওয়া। ভারতের যুবশক্তির ওপর আমার অগাধ আস্থা রয়েছে। ভারতের উদ্যোক্তা-শক্তির ওপর আমার পূর্ণ বিশ্বাস আছে। এই আস্থার সঙ্গে, আমি আবারও আপনাদের সকলকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। ২০৪৭ সালে, যখন জাতি স্বাধীনতার শতবর্ষ উদযাপন করবে, তখন ভারত একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে। এটিই আমাদের স্বপ্ন, এটিই আমাদের সংকল্প। আর আমার বিশ্বাস, আমার তরুণ বন্ধুরা, আমরা তা নিজেদের চোখেই দেখব—আমরা নিজেরাই একটি উন্নত ভারতকে প্রত্যক্ষ করব। আপনাদের অনেক ধন্যবাদ। আপনাদের সকলের জন্য আমার শুভকামনা রইল।
বি. দ্র.- এটি প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের একটি আনুমানিক অনুবাদ। মূল ভাষণটি হিন্দিতে দেওয়া হয়েছিল।
****
SC/SB/DM
Through PM Viksit Bharat Rozgar Yojana, we are supporting employment generation, empowering youth and building a stronger workforce for the future.
— Narendra Modi (@narendramodi) June 19, 2026
https://t.co/UzweKrA6nk
PM Viksit Bharat Rozgar Yojana is about empowering first-time employees and building a bridge between youth and industry. pic.twitter.com/hlhr9u9Xh8
— PMO India (@PMOIndia) June 19, 2026
The aspirations, skills and potential of our youth shape the path to a Viksit Bharat. pic.twitter.com/wmWpy7GtnS
— PMO India (@PMOIndia) June 19, 2026
India's youth will be at the forefront of driving global growth, innovation and entrepreneurship in the years to come. pic.twitter.com/C96TwqjWjL
— PMO India (@PMOIndia) June 19, 2026
India is set to lead from the front. pic.twitter.com/WkZZoTHbh3
— PMO India (@PMOIndia) June 19, 2026
In the 21st century, opportunities will belong to nations that nurture skilled talent, foster innovation and uphold the highest standards of quality. pic.twitter.com/aU2GZ7HKu9
— PMO India (@PMOIndia) June 19, 2026
To compete globally, we must meet the highest quality standards. pic.twitter.com/GzHwzUnJXb
— PMO India (@PMOIndia) June 19, 2026