Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

ভারত সরকারের সচিবদের সঙ্গে তৃতীয় উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকে পৌরোহিত্য করলেন প্রধানমন্ত্রী


নতুন দিল্লি, ২০ অগাস্ট, ২০২৬

 

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ সকালে তাঁর ৭, লোককল্যাণ মার্গের বাসভবনে ভারত সরকারের সচিবদের সঙ্গে তৃতীয় উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকে পৌরোহিত্য করেন। তিনি পরিকাঠামো, সংযোগ, নিরাপত্তা, বিদেশ এবং শাসনব্যবস্থা সংক্রান্ত মন্ত্রক ও বিভাগগুলির ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।

সচিবদের দুটি দলের সঙ্গে আগের আলোচনার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সচিবদের তাৎক্ষণিক বিষয় ও পরিসংখ্যান নিয়ে ভাবার পাশাপাশি দেশের ভবিষ্যৎ কীভাবে গড়া উচিত,  সে বিষয়েও দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা করা উচিত।

বিভাগীয় বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে ওঠার চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বিচ্ছিন্নতা কেবল একটি প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যা নয়, এটি মানসিকতারও একটি সমস্যা। তিনি বলেন, এই বিচ্ছিন্নতা অনুভূমিক এবং উল্লম্ব উভয় প্রকারেরই হতে পারে। আধিকারিকদের দায়বদ্ধতা ও একাত্মতার মনোভাব নিয়ে কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি।

সম্মিলিত প্রচেষ্টার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী কোভিড-১৯ মহামারী এবং পশ্চিম এশিয়ার সংকটের অভিজ্ঞতার উল্লেখ করে বলেন,  তখন বিভিন্ন বিভাগের আধিকারিকরা একযোগে কাজ করেছিলেন। এই ধরনের সমন্বয় ব্যবস্থা সরকারের কর্মসংস্কৃতির একটি স্বাভাবিক অংশ হয়ে ওঠা উচিত বলে তিনি মতপ্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী মানবিক হস্তক্ষেপ ও বিচারবুদ্ধি নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যকর ব্যবহারের আহ্বান জানান। তিনি এআই-এর সক্ষমতার সঙ্গে মানব দক্ষতার সমন্বয়ের উদ্ভাবনী উপায় অন্বেষণের কথা বলেন।

তথ্যকে এক জাতীয় সম্পদ এবং ভবিষ্যতের উৎস বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনায় সম্পদ বিনিয়োগ করলেও বিভাগীয় বিচ্ছিন্নতা এবং খণ্ডিত ব্যবস্থার কারণে এর পূর্ণ সদ্ব্যবহার সবসময়ে হয়ে ওঠে না। বিভিন্ন উদ্দেশ্যে তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি বিভিন্ন রকম হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী এমন এমন সমাধান খুঁজে বের করার আহ্বান জানান, যা তথ্যের বৃহত্তর আন্তঃকার্যকারিতা এবং কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করবে।

নীতি নির্ধারণে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনার জন্য প্রধানমন্ত্রী সরকারি বিভাগ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং তরুণদের মধ্যে বৃহত্তর সমন্বয়ের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় এবং তরুণদের সঙ্গে ব্যাপক সংযোগ, নতুন এবং গতানুগতিকতার  বাইরের ধারণা নিয়ে আসতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রসহ গবেষণা ও উদ্ভাবনের ওপর আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পকে আরও শক্তিশালী করার এবং বিশ্ব পর্যায়ে এটিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি প্রতিরক্ষা খাতে উদ্ভাবনী কোর্স তৈরি এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন জোরদার করার কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী ভারতের সামুদ্রিক ক্ষেত্রকে শক্তিশালী করার জন্য একটি সমন্বিত পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা করেন। জাহাজ নির্মাণকে পরিকাঠামোর মর্যাদা দেওয়ার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি উদ্দিষ্ট লক্ষ্যগুলি মিশন মোডে অর্জিত হচ্ছে কিনা তা মূল্যায়ন করার আহ্বান জানান। বন্দর উন্নয়ন থেকে বন্দর-চালিত উন্নয়নের দিকে ভারতের এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর পুনরায় জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।

ভারতের উৎপাদন এবং রপ্তানি ক্ষমতা তার সামুদ্রিক পরিকাঠামো থেকে যাতে সম্পূর্ণরূপে উপকৃত হতে পারে, সেজন্য প্রধানমন্ত্রী উৎপাদন ইউনিট এবং রপ্তানিমুখী ইউনিটগুলির মধ্যে উন্নত সংযোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।  

প্রধানমন্ত্রী জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে এবং দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিকোণ থেকে ভারতের ভবিষ্যৎ গঠন করতে একটি সর্বাত্মক সরকারি দৃষ্টিভঙ্গি, বৃহত্তর সমন্বয়, উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা এবং সম্মিলিত মালিকানার প্রয়োজনীয়তার ওপর পুনরায় জোর দিয়ে তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।

প্রধানমন্ত্রী আধিকারিকদের মধ্যে ঘরোয়া আলাপচারিতা এবং দলীয় মনোভাব গড়ে তোলার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের অধস্তন সহকর্মীদের সঙ্গে আরও বেশি ব্যক্তিগত যোগাযোগ বাড়াতে এবং বিভিন্ন ক্যাডার ও বিভাগ জুড়ে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করতে উৎসাহিত করেন।

সচিবরা ক্ষেত্রভিত্তিক অগ্রাধিকার, উদীয়মান বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। বৈঠকে ক্যাবিনেট সচিব, গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক ও বিভাগের সচিবরা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।

 

SC/SD/SKD/