পিএমইন্ডিয়া
নয়াদিল্লি, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ নয়াদিল্লিতে ‘সেমিকন ইন্ডিয়া ২০২৬’-এর উদ্বোধন করলেন। অনুষ্ঠানের পঞ্চম সংস্করণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি সকল অংশগ্রহণকারীকে উষ্ণ আন্তরিক অভ্যর্থনা জানান। এই সম্মেলনে যোগ দিতে বিদেশ থেকে ভারতে আসা প্রতিনিধিদের প্রতি তিনি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। শ্রী মোদী বলেন, “বিদেশ থেকে ভারতে আগত অতিথিদের আমি বিশেষ করে স্বাগত জানাই।”
‘সেমিকন ইন্ডিয়া’-র সূচনা এবং ‘বিশ্বকর্মা দিবস’-এর মধ্যে এক বলিষ্ঠ যোগসূত্র স্থাপন করে প্রধানমন্ত্রী দেশের নির্মাণ ও সৃজনশীলতার বহু-শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্যকে সম্মান জানান। তিনি একবিংশ শতাব্দীর প্রযুক্তি ও দূরদর্শিতার সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী সৃজনশীল শক্তির মেলবন্ধনের এক চমৎকার কাকতালীয় ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, “এটিই আমাদের ‘আত্মনির্ভর ভারত’ ও ‘বিকশিত ভারত’-এর অনুপ্রেরণা।”
গত ১৫ দিনে দেশের দ্রুত অগ্রগতির ওপর আলোকপাত করে প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকের কথা তুলে ধরেন—যার মধ্যে রয়েছে ‘গ্লোবাল ফিনটেক ফেস্ট’-এ অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা, ৩,০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডোর’ চালু হওয়া এবং ত্রৈমাসিক জিডিপি-র ৭.৮ শতাংশের শক্তিশালী বৃদ্ধির হার। তিনি জাপানের একটি ক্রেডিট রেটিং সংস্থার দ্বারা দেশের ‘সভেরেন রেটিং’ বা রাষ্ট্রীয় ঋণমান উন্নীত করার বিষয়টিকেও তুলে ধরেন, যা দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক আস্থার প্রমাণ। শ্রী মোদী তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, “এর অর্থ, একদিকে যেমন ভারতের অর্থনীতি বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে ভারতের প্রতি বিশ্বের আস্থাও বাড়ছে।”
ভারতে সদ্য সমাপ্ত ‘ব্রিকস’ সম্মেলনের কূটনৈতিক সাফল্যের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক ঐকমত্যের প্রতিফলন হিসেবে ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা’-র সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সাফল্য দেশের প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের অটল আস্থাকেই প্রমাণ করে। শ্রী মোদী বলেন, “ভারতের প্রতি বিশ্বের আস্থার এটি আরও একটি বড় প্রমাণ।”
২০২২ সালে ‘সেমিকন ইন্ডিয়া’-র যাত্রা শুরুর পর থেকে এর ক্রমবিকাশের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী প্রাথমিক নীতি-আলোচনা থেকে শুরু করে প্রকল্পের পরিকল্পনা, পাইলট লাইন এবং অবশেষে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর্যায়গুলো বর্ণনা করেন। তিনি এই প্রচেষ্টার সফল বাস্তবায়নের বিষয়টি উদযাপন করেন—যার ফলে এখন ভারতের তৈরি চিপ বিশ্বজুড়ে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছচ্ছে এবং মোহালি ও সুরাটের দুটি নতুন কারখানায় বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়েছে। শ্রী মোদী উল্লেখ করেন, “এখন ভারতের কারখানাগুলো থেকে উৎপাদিত চিপ দেশের এবং বিশ্বের গ্রাহকদের কাছে পৌঁছতে শুরু করেছে।” সেমিকন্ডাক্টর পরিমণ্ডল গড়ে তোলার বিপুল জটিলতার কথা স্বীকার করে, প্রধানমন্ত্রী রেকর্ড সময়ের মধ্যে চিপ ডিজাইন, সরঞ্জাম উৎপাদন এবং পরীক্ষার সক্ষমতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় যৌথ প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তিনি বর্তমান শিল্প-নেতাদের ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে অভিহিত করেন, যাদের অংশীদারিত্বের ফলেই প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এই দ্রুত অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, “আপনারাই ভারতের এই সাফল্যের স্তম্ভ, আপনারাই অংশীদার।”
এই ক্ষেত্রের লাগাতার অগ্রগতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী ‘টেপ-আউট’-এর ধারণাটি ব্যাখ্যা করেন এবং জানান যে সরকার কীভাবে কোনো বিরতি ছাড়াই পরবর্তী প্রযুক্তিগত সংস্করণের দিকে ক্রমাগত এগিয়ে চলেছে। তিনি সেমিকন্ডাক্টর মিশনের ১৩.৫ বিলিয়ন ডলারের বিশাল দ্বিতীয় পর্যায়ের ঘোষণা করেন এবং নতুন সব নীতিগত সংস্কারের কথা উল্লেখ করেন যা আন্তর্জাতিক কোম্পানি, স্টার্টআপ এবং ডিজাইন সংস্থাগুলোর মধ্যে সহযোগিতাকে সহজতর করে। শ্রী মোদী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “আপনাদের প্রকল্পের সাফল্যের জন্য ভারত সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিচ্ছে।”
একটি শক্তিশালী দেশীয় সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার রূপরেখা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী ‘ফ্যাবলেস’ কোম্পানিগুলোকে সহায়তা করা, মেধা-সম্পদ সৃষ্টি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই -চালিত পরিকাঠামোর জন্য সিলিকন ফোটোনিক্সকে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সরঞ্জাম, রাসায়নিক, গ্যাস এবং কাঁচামাল ক্ষেত্রের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা অনুমোদিত বারোটি প্রকল্প এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদার সুযোগকে কাজে লাগান। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, “আমরা চাই পুরো পরিমণ্ডলটি যেন একসঙ্গে বিকশিত হয়।”
ভারতের জনসংখ্যাগত সুবিধাকে কৌশলগত সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বিপুল সংখ্যক প্রকৌশল প্রতিভার কথা এবং বিশেষ করে চিপ ডিজাইনের জন্য গৃহীত ব্যাপক দক্ষতা উন্নয়ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি গর্বের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিশেষভাবে ডিজাইন করা চিপ পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন এবং এক লক্ষ প্রকৌশল শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষিত করার সরকারের উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন—যার মধ্যে ৭০,০০০ শিক্ষার্থী ইতিমধ্যেই প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছে। শ্রী মোদী মন্তব্য করেন, “এত বিশাল সংখ্যক দক্ষ জনশক্তি বা প্রতিভার ভাণ্ডার আপনাদের সবার জন্য এক কথায় স্বর্ণখনির চেয়ে কম কিছু নয়।”
দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণায় নিয়োজিত মেধাবীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তরুণ প্রতিভাদের দেশের ভেতরেই উন্নত প্রযুক্তি উদ্ভাবনে সক্রিয় অংশগ্রহণের অনুরোধ জানান। তিনি শিল্প-নেতাদের স্থানীয় গবেষণা ও উন্নয়নের নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে ব্যবসা এবং দেশের যুবসমাজ—উভয়েরই পারস্পরিক বিকাশ নিশ্চিত হয়। শ্রী মোদী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “এতে শিল্পের যেমন লাভ হবে, তেমনি ভারতের যুবশক্তিও এর মাধ্যমে শক্তিশালী হয়ে উঠবে।”
সেমিকন্ডাক্টর বাজারের ক্রমবিকাশমান জটিলতাগুলোর কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আলোচনা করেন যে, কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যাপক চাহিদা কেবল ট্রানজিস্টরের আকারের ওপর মনোযোগ নিবদ্ধ রাখার বিষয়টিকে সরিয়ে সামগ্রিক সমন্বয়ের দিকে—যার মধ্যে মেমোরি বিন্যাস ও তাপ ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত—নিয়ে যাচ্ছে। তিনি এই নতুন আন্তর্জাতিক উৎপাদন-সংক্রান্ত সমস্যা মোকাবিলায় দেশকে একটি নির্ভরযোগ্য ও সর্বদা প্রস্তুত গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরেন। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, “ভারত এর জন্য প্রতিনিয়ত নিজেকে প্রস্তুত করছে।”
উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিংয়ের ক্ষেত্রে জ্বালানি নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী এআই ডেটা সেন্টারগুলোর বিশাল বিদ্যুৎ চাহিদা এবং উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে দেশের ব্যাপক সম্প্রসারণের বিস্তারিত বিবরণ দেন; যার মধ্যে রয়েছে সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা ১৬০ গিগাওয়াটেরও বেশিতে উন্নীত করা, বেসরকারি ক্ষেত্রের জন্য পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের সুযোগ উন্মুক্ত করা এবং ছোট মডুলার রিঅ্যাক্টর বা চুল্লি উন্নয়ন। শ্রী মোদী উল্লেখ করেন, “তাই, ভারত আজ বিদ্যুৎ ক্ষেত্রেও বিপুল বিনিয়োগ করছে।”
বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর দ্রুত সম্প্রসারণকে শিল্প-প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত করে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, এই জ্বালানি নিরাপত্তা সেমিকন্ডাক্টর পরিমণ্ডলের জন্য একটি মৌলিক শক্তি হিসেবে কাজ করে। তিনি সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের আশ্বস্ত করেন যে, শিল্প বিকাশের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শ্রী মোদী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য ভারতকে একটি পছন্দের গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপই নেওয়া হচ্ছে।”
দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির বিষয়টি তুলে ধরে নিজের বক্তব্য শেষ করার সময় প্রধানমন্ত্রী শ্রোতাদের ভারতীয় সংবিধানের ৭৫ বছরের ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন যে, ‘গণতন্ত্রের জননী’-তে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পের সাফল্য সামগ্রিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে অভ্যন্তরীণভাবে শক্তিশালী করে তোলে; সেই সঙ্গে তিনি ভবিষ্যতের অবারিত সুযোগগুলো অন্বেষণের জন্য আন্তরিক আমন্ত্রণ জানান। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, “ভারতের প্রত্যাশা আপনাদের সামনে রয়েছে এবং ভারতে তৈরি হওয়া নতুন সুযোগগুলো আপনাদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।”
SC/AP/NS
India's semiconductor ecosystem is expanding rapidly. It is opening new opportunities for innovation, investment and growth. Addressing SEMICON India 2026 in Delhi. https://t.co/a7A2Rs89DI
— Narendra Modi (@narendramodi) September 17, 2026
India's economy is growing...
— PMO India (@PMOIndia) September 17, 2026
The world's trust in India is also growing. pic.twitter.com/oP0Q3JGdmD
PM @narendramodi has a request for India's young talents and industry leaders... pic.twitter.com/Y8EFX5mJ3l
— PMO India (@PMOIndia) September 17, 2026
The world is looking for new and trusted manufacturing destinations. India is steadily preparing itself to meet this need. pic.twitter.com/RuwZAT6NZM
— PMO India (@PMOIndia) September 17, 2026
India is taking every step needed to become a preferred destination for the semiconductor industry. pic.twitter.com/djf4r1d2zS
— PMO India (@PMOIndia) September 17, 2026