পিএমইন্ডিয়া
নতুন দিল্লি, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে আয়োজিত ২০-তম ‘রোজগার মেলা’-য় বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় নবনিযুক্ত তরুণ-তরুণীদের হাতে ৫১,০০০-এরও বেশি নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন। এই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এই মাইলফলকটি হাজার হাজার পরিবারের জন্য অত্যন্ত আনন্দের বার্তা বয়ে এনেছে। এটি একইসঙ্গে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত কঠোর পরিশ্রম এবং তাঁদের বাবা-মায়ের অসামান্য ত্যাগের প্রতি এক সম্মাননা। শ্রী মোদী বলেন, “জীবনের এই নতুন যাত্রার জন্য আমি আপনাদের সকলকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই।”
২০৪৭ সালের মধ্যে দেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যে এগিয়ে চলার এই পর্যায়ে ভারত সরকারের অংশ হিসেবে নবনিযুক্তদের স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ‘উন্নত ও আত্মনির্ভর ভারত’ গড়ার যে জোড়া অভিযান চলছে, তাকে ক্রমাগত শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তরুণদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি তরুণদের প্রতি তাঁদের বিশেষ দায়িত্বের কথা তুলে ধরেন এবং বলেন যে, তরুণ প্রজন্মের মেধা ও দক্ষতা বিশ্বজুড়ে আস্থা অর্জন করেছে। এর ফলে ভারতীয় উদ্ভাবক, উদ্যোক্তা এবং যুবশক্তির কাছে বিশ্ববাসীর প্রত্যাশা বহুগুণ বেড়ে গেছে। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের উদ্ভাবক, উদ্যোক্তা এবং যুবশক্তির কাছে বিশ্বের অনেক বড় প্রত্যাশা রয়েছে।”
সম্প্রতি সমাপ্ত ব্রিকস সম্মেলনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের কৌশল হলো প্রথাগত ‘সরকার-থেকে-সরকার’ (জিটুজি) যোগাযোগের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রকে আরও প্রসারিত করা। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘ব্রিকস কানেক্ট’ এবং ‘ব্রিকস এমএসএমই কো-অপারেশন পোর্টাল’-এর মতো উদ্যোগগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে উদ্যোক্তা, কৃষক, নারী এবং তরুণরা সরাসরি বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পারেন। শ্রী মোদী বলেন, “এই অংশীদারিত্বে প্রত্যেকেরই সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হওয়া উচিত।”
গত কয়েক বছরের অর্থনৈতিক কূটনীতির ওপর আলোকপাত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রায় ৪০টি দেশের সঙ্গে স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কর্মজীবনের ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই চুক্তিগুলো দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন বাজার ও গতিশীল অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার পাশাপাশি তরুণদের কর্মজীবনের পরিধিও প্রসারিত করছে। শ্রী মোদী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিগুলো আমাদের তরুণদের জন্য সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে দিচ্ছে।”
ভবিষ্যৎ-উপযোগী দক্ষতা উন্নয়নের ওপর সরকারের ধারাবাহিক গুরুত্বের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় শিক্ষানীতি, স্কিল ইন্ডিয়া মিশন, প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিকাশ যোজনা এবং শিক্ষানবিশ বা অ্যাপ্রেন্টিসশিপ কার্যক্রমকে উৎসাহিত করার মতো যুগান্তকারী উদ্যোগগুলোর কথা উল্লেখ করেন। তিনি ‘পিএম-সেতু’ প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন। এর আওতায় শিল্পের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে ৬০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে এক হাজার সরকারি আইটিআই-কে আধুনিক করে তোলা হচ্ছে। শ্রী মোদী বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো তরুণদের শিক্ষা ও দক্ষতা যেন পরিবর্তনশীল অর্থনীতির চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে।”
দেশের স্টার্টআপ পরিমণ্ডলের অভাবনীয় উন্নয়নের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্টার্টআপ হাব হিসেবে ভারতের অবস্থানের বিষয়টি তুলে ধরেন এবং বলেন, বর্তমানে স্বীকৃত স্টার্টআপগুলোর প্রায় অর্ধেকই টিয়ার-টু ও টিয়ার-থ্রি শহরগুলো থেকে উঠে এসেছে। তিনি ছোট শহরের যে তরুণরা নিজেদের উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে, কোম্পানি গড়ে তুলছে এবং সমবয়সীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে তাদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। শ্রী মোদী বলেন, “বর্তমানে গ্রাম, মফস্বল ও ছোট শহরের তরুণরাও ভারতের নতুন অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।”
বেসরকারি ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির কৌশল তুলে ধরার সময় প্রধানমন্ত্রী ‘প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত রোজগার যোজনা’-র কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। এক লক্ষ কোটি টাকার এই বিশাল উদ্যোগের লক্ষ্য হলো দুই কোটি তরুণ-তরুণীকে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের আওতায় নিয়ে আসা। তিনি জানান, এই প্রকল্পের আওতায় প্রথমবার কাজে যোগ দেওয়া কর্মীদের ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত প্রণোদনা দেওয়া হবে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী নিয়োগকর্তাদেরও আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হবে। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, “দেশে কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রে কাজ করে যাচ্ছে।”
কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি দেশের শক্তিশালী সমষ্টিগত অর্থনৈতিক অবস্থার যোগসূত্র স্থাপন করে প্রধানমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন যে, অর্থনীতি যখন বিকশিত হয়, বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায় এবং নতুন শিল্পের প্রসার ঘটে – তখনই তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হয়। তিনি দেশের ৭.৮ শতাংশের চিত্তাকর্ষক উন্নয়ন হার এবং প্রথম প্রান্তিকে বিনিয়োগে ১২ শতাংশ বৃদ্ধির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে ব্যাপক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও বিভিন্ন রেটিং এজেন্সি ভারতের অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির মানোন্নয়ন করছে। শ্রী মোদী বলেন, “ভারতের এই উন্নয়নের পেছনে বিগত বছরগুলোতে গৃহীত সংস্কারমূলক পদক্ষেপগুলোর বড় অবদান রয়েছে।”
নতুন কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক পরিবর্তনের এক নিরন্তর যুগের সূচনা করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী কর সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সহজ করা, ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নত করা, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে সংস্কার সাধন এবং উদ্ভাবনের জন্য নতুন ক্ষেত্র উন্মুক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তিনি তরুণ আমলাদের তাদের কর্মকালে প্রশাসনিক সংস্কারের এই গতিধারা অব্যাহত রাখার দায়িত্ব দেন। শ্রী মোদী দৃঢ়ভাবে বলেন, “দেশে ‘সংস্কার এক্সপ্রেস’ যেন পূর্ণ গতিতে অবিরাম চলতে থাকে, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”
উত্তাল ঢেউ জয় করতে সূর্য, সমুদ্র, নৌকা ও নাবিককে আপন করে নেওয়ার বিষয়ে নিজের কাব্যিক মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের দেশের তরুণদের গভীর আকাঙ্ক্ষা পূরণের মাধ্যমে সেই সাহসিকতার পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রতিটি ফাইলের স্বাক্ষর এবং প্রতিটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যেন বাধা দূর করা হয়, নতুন ধারণার বিকাশ ঘটানো হয় এবং উদ্ভাবন-নির্ভর বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা হয়। এটিই শেষ পর্যন্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। শ্রী মোদী বলেন, “ফাইলের প্রতিটি স্বাক্ষরের মাধ্যমে যেন তরুণদের আকাঙ্ক্ষা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।”
প্রধানমন্ত্রী নবনিযুক্ত আধিকারিকদের সরকারি ব্যবস্থায় প্রাপ্ত নতুন ক্ষমতা গভীর সহানুভূতির সঙ্গে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। চাকরিতে যোগদানের আগে তাঁরা নিজেরা যেসব আমলাতান্ত্রিক বাধার সম্মুখীন হয়েছিলেন, সেগুলো সক্রিয়ভাবে দূর করার পরামর্শ দেন। শ্রী মোদী বলেন, “আপনাদের এমনভাবে কাজ করা উচিত যাতে আপনারা যেসব সমস্যার মধ্য দিয়ে গিয়েছেন, অন্য তরুণদের যেন আর সেসব পরিস্থিতির শিকার হতে না হয়।”
দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে আজীবন শেখার মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে, প্রধানমন্ত্রী নবনিযুক্তদের ‘মিশন কর্মযোগী’ কাঠামোর আওতায় নিজেদের দক্ষতা ক্রমাগত বৃদ্ধি এবং নতুন প্রযুক্তি আয়ত্ত করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ‘কর্মযোগী প্রারম্ভ’ মডিউলটি বিশেষভাবে নতুন কর্মীদের সরকারি ব্যবস্থায় মানিয়ে নেওয়ার সুবিধার্থে তৈরি করা হয়েছে। এটি তাঁদের ‘আই-গট’ প্ল্যাটফর্মে থাকা ১.৭ কোটি কর্মীর সঙ্গে যুক্ত করবে। শ্রী মোদী দৃঢ়ভাবে বলেন, “আপনারা নিজেদের যত বেশি উন্নত করবেন, দেশের নাগরিকদের তত ভালোভাবে সেবা প্রদান করতে পারবেন।”
যেকোনো সরকারের প্রকৃত শক্তি যে জনগণের আস্থার ওপর নির্ভরশীল – এই বিষয়ের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নবনিযুক্তদের মনে করিয়ে দেন যে, বয়স্কদের পেনশন প্রদান থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও কৃষকদের ভর্তুকি-র মত তাঁদের দৈনন্দিন কাজের প্রতিটি পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তাঁদের আচরণ, দক্ষতা, সততা এবং সংবেদনশীলতাই শেষ পর্যন্ত দেশের সঙ্গে নাগরিকদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার স্বরূপ নির্ধারণ করবে। শ্রী মোদী বলেন, “আপনাদের আচরণ, সংবেদনশীলতা, দক্ষতা এবং সততা—এসবই ঠিক করে দেবে যে সরকারের সঙ্গে কোনো নাগরিকের অভিজ্ঞতা কেমন হবে।”
প্রশাসনের জন্য একটি শক্তিশালী মূলমন্ত্র দিয়ে নিজের বক্তব্য শেষ করার সময়, প্রধানমন্ত্রী নতুন আধিকারিকদের দৈনন্দিন সেবাকার্যে ‘নাগরিক দেবো ভব’ (নাগরিকই ঈশ্বরতুল্য) দর্শনটি গ্রহণ করার আহ্বান জানান এবং নাগরিক সেবাকেই দেশসেবার সমতুল্য বলে অভিহিত করেন। তাঁরা সমস্ত বিভাগে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সেবার মনোভাব নিয়ে নিজেদের দায়িত্ব পালন করবেন বলে তিনি দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন। শ্রী মোদী বলেন, “আপনাদের কাজের ফলে কোনো নাগরিকের জীবন যখন সহজ হয়ে উঠবে তখনই আপনাদের সাফল্য আরও বড় হয়ে উঠবে।”
SC/PM/AS
India's Yuva Shakti is at the heart of our journey towards a Viksit Bharat. The Rozgar Mela reflects our commitment to creating new opportunities for the youth. https://t.co/lHgFkJ6zmM
— Narendra Modi (@narendramodi) September 19, 2026
हमारे युवाओं के talent और skills ने पूरी दुनिया का भरोसा जीता है।
— PMO India (@PMOIndia) September 19, 2026
दुनिया को हमारे innovators... हमारे entrepreneurs... और हमारी युवा शक्ति से बहुत उम्मीदें है: PM @narendramodi
Free Trade Agreements हमारे युवाओं के लिए संभावनाओँ के नए द्वार बना रहे हैं।
— PMO India (@PMOIndia) September 19, 2026
इस तरह के trade agreements से हमारे entrepreneurs के लिए नई partnerships के रास्ते खुलते हैं, नए markets के रास्ते खुलते हैं और हमारे युवाओं के लिए career में नई possibilities बनती हैं: PM @narendramodi
भारत आज दुनिया का तीसरा सबसे बड़ा startup ecosystem है।
— PMO India (@PMOIndia) September 19, 2026
और भारत की startup story अब केवल बड़े शहरों की कहानी नहीं है।
आज करीब आधे recognised startups
Tier 2 और Tier 3 शहरों में हैं: PM @narendramodi