Search

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

ব্লুমবার্গ নিউ ইকোনমি ফোরামে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ব্লুমবার্গ নিউ ইকোনমি ফোরামে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ


নয়াদিল্লি, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ 

 

নমস্কার!
ব্লুমবার্গ, বিশিষ্ট চিন্তাবিদ, শিল্পজগতের নেতৃবৃন্দ, সম্মানিত প্রতিনিধিগণ এবং বন্ধুগণ,
ভারতে আপনাদের সকলকে আন্তরিক স্বাগত জানাই।
কিছুক্ষণ আগে ব্লুমবার্গ তাঁর বক্তব্যে আমার সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বের কথা উল্লেখ করেছেন। বয়সে তিনি আমার চেয়ে বড় এবং নিজের পেশাগত ক্ষেত্রে অত্যন্ত সফল। নিজের কাজের প্রতি তাঁর গভীর অঙ্গীকার এবং ভারতের প্রতি তাঁর অনুরাগ আমি বিশেষভাবে উপলব্ধি করি। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারত সম্পর্কে তাঁর ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির জন্য তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
প্রতি বছর ব্লুমবার্গ নিউ ইকোনমি ফোরাম বিশ্বের বিশিষ্ট চিন্তাবিদ, নীতিনির্ধারক এবং শিল্পজগতের নেতৃবৃন্দকে একত্রিত করে। অর্থনীতি, প্রযুক্তি, জ্বালানি ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী নিয়ে এখানে আলোচনা হয়। এবারই প্রথম এই ফোরাম ভারতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের জন্য মি. ব্লুমবার্গ ও তাঁর সমগ্র দলকে অভিনন্দন জানাই। আপনারা সঠিক সময়ে সঠিক স্থান বেছে নিয়েছেন।
বন্ধুগণ,
এ বছরের ফোরামের মূল ভাবনা হলো বিশ্বজুড়ে শক্তির নতুন উৎসগুলির উত্থান। প্রতিটি যুগেই শক্তির উৎস ও তার সংজ্ঞা পরিবর্তিত হয়েছে। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীতে, বিশেষত এই দশকে, এক বড় রূপান্তর ঘটছে। আজ প্রযুক্তি শক্তি, তথ্য শক্তি, জ্ঞান শক্তি এবং উদ্ভাবন শক্তি।
কিন্তু মূল প্রশ্নটি এই নয় যে কার হাতে ক্ষমতা রয়েছে। বরং প্রশ্ন হলো, সেই ক্ষমতা কীভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে। প্রযুক্তি কি কেবল কয়েকজনের উন্নতিতে সহায়তা করবে, নাকি লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে? জ্ঞান কি মুষ্টিমেয় মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি তা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে?
নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ক্ষমতার চেয়ে অন্যকে সক্ষম করে তোলার ক্ষমতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিযোগিতায় জয়ী হওয়ার পাশাপাশি সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়াও জরুরি। নিজের সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি অন্যদের সফল হতে সাহায্য করার মধ্যেও ক্ষমতার প্রকৃত সার্থকতা নিহিত।
বন্ধুগণ,
এই ধারণা ভারতের কাছে নতুন নয়। আমাদের ঐতিহ্যে বলা হয়েছে –

“বিদ্যা বিবাদায় ধনং মদায়, শক্তিঃ পরেষাং পরিপীড়নায়।
খলস্য সাধোঃ বিপরীতমেতৎ, জ্ঞানায় দানায় চ রক্ষণায়॥”

এই শ্লোকের মর্মার্থ হলো, জ্ঞান, সম্পদ কিংবা ক্ষমতার অধিকারী হওয়াই যথেষ্ট নয়; সেগুলি কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিই আসল বিষয়। ক্ষমতার প্রকৃত মূল্য নির্ধারিত হয় তার ব্যবহারের মাধ্যমে। বর্তমান বিশ্বে এই দর্শনের তাৎপর্য অপরিসীম।
ক্ষমতার মাধ্যমে অন্যকে সক্ষম করে তোলার এই চেতনা শুধু উপদেশের বিষয় নয়। হাজার হাজার বছর ধরে আমাদের ঐতিহ্য এই শিক্ষাই দিয়ে এসেছে। ভারত তার শাসনব্যবস্থা ও কর্মসংস্কৃতিতেও এই আদর্শকে অন্তর্ভুক্ত করে বাস্তবে প্রয়োগ করেছে। আজ আমি ভারতের কয়েকটি উদাহরণের মাধ্যমে এই ভাবনা তুলে ধরতে চাই।
বন্ধুগণ,
আপনারা সকলেই জানেন, ভারত গণতন্ত্রের জননী। আমাদের দেশে একশোরও বেশি ভাষা, প্রায় ৮০ হাজার সংবাদপত্র ও সাময়িকী এবং এক হাজারেরও বেশি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল রয়েছে। সামাজিক মাধ্যমের এই যুগে ভারতে ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রাম – উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫০ কোটির বেশি। আমাদের দেশে মানুষ বিভিন্ন বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা ও বিতর্কে অংশ নেন এবং নানা দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন। এই প্রক্রিয়াকে আরও ব্যাপক ও সহজলভ্য করে তুলতে ডিজিটাল প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
প্রায় ১২–১৩ বছর আগেও ভারতে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ ছিল এক ধরনের বিশেষ সুবিধা। যাঁদের এই সুযোগ ছিল, তাঁরাই তথ্য, জ্ঞান ও বিভিন্ন সম্ভাবনার নাগাল পেতেন। ২০১৪ সালে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর মোবাইল ডেটাকে সাশ্রয়ী করে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর ফলে আজ ছোট শহরের শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল মাধ্যমে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছেন, গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা নতুন ক্রেতাদের কাছে পৌঁছতে পারছেন এবং তরুণেরা অনলাইন পাঠক্রমে অংশ নিতে পারছেন।
অর্থাৎ, ভারতে ডিজিটাল সংযোগ শুধু মানুষকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করেনি, তাদের সামনে নতুন সুযোগের দ্বারও খুলে দিয়েছে। এটাই ক্ষমতার মাধ্যমে ক্ষমতায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
বন্ধুগণ,
ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা নেওয়ার জন্য আমি বিদেশ থেকে আগত অতিথিদের আহ্বান জানাই। আমাদের দেশে রাস্তার ধারের ক্ষুদ্র বিক্রেতা থেকে শুরু করে বড় গাড়ির শোরুম—সব ক্ষেত্রেই একই ডিজিটাল পেমেন্ট পরিকাঠামো ব্যবহার করা সম্ভব। অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রযুক্তির শক্তি এখানেই – তা সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের কাছে সুযোগ পৌঁছে দিতে পারে।
ভারত তার সক্ষমতাকে দেশের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না। গ্লোবাল সাউথের দেশগুলি-সহ বিভিন্ন সহযোগী রাষ্ট্রের সঙ্গে আমরা আমাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা ভাগ করে নিই। ডিজিটাল জনপরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভারতের অভিজ্ঞতা অন্যান্য দেশের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে।
কোভিড অতিমারির সময় ভারত কোউইন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছিল। এই প্ল্যাটফর্মটি উন্মুক্ত উৎসভিত্তিক হওয়ায় অন্যান্য দেশও এর অভিজ্ঞতা থেকে উপকৃত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। ভারতের সক্ষমতা যাতে অন্যান্য দেশের জন্যও নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে, তা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। অর্থাৎ, আমাদের শক্তি যেন সমগ্র মানবজাতির ক্ষমতায়নে কাজে লাগে।
বন্ধুগণ,
উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও এই নীতি সমানভাবে প্রযোজ্য। কোনও ধারণাকে কার্যকর পণ্যে রূপান্তরিত করা কিংবা কোনও সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করা – উভয়ই সক্ষমতার পরিচায়ক। কিন্তু উদ্ভাবনের সুযোগ যখন সমাজের আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, তখন তার সুফলও বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
ভারতের স্টার্টআপ ক্ষেত্রের অগ্রগতি এই পরিবর্তনেরই একটি উদাহরণ। ২০১৪ সালের আগে দেশে স্টার্টআপের সংখ্যা ছিল মাত্র কয়েকশো। বর্তমানে সেই সংখ্যা ২ লক্ষ ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। এর প্রায় অর্ধেকই ছোট শহর থেকে উঠে এসেছে। ৪৫ শতাংশেরও বেশি স্টার্টআপে অন্তত একজন মহিলা ডিরেক্টর বা অংশীদার রয়েছেন। এর ফলে উদ্ভাবনের সুযোগ আরও বিস্তৃত হয়েছে, নতুন প্রতিভার বিকাশ ঘটেছে এবং সমস্যার সমাধানে নতুন নতুন পথ উন্মুক্ত হয়েছে।
বন্ধুগণ,
ক্ষমতার সঠিক ব্যবহারের এই নীতি প্রশাসনের ক্ষেত্রেও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের হাতে কর্তৃত্ব রয়েছে, কিন্তু সেই কর্তৃত্বের উদ্দেশ্য নাগরিকদের ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল করে রাখা নয়। বরং নাগরিকদের স্বনির্ভর ও ক্ষমতায়িত করে তোলাই সরকারের লক্ষ্য হওয়া উচিত।
ভারত এই লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছে। গত এক দশকে দেশে ২৫ কোটি মানুষ দারিদ্র্য থেকে মুক্ত হয়েছেন। এই সংখ্যা বিশ্বের বহু দেশের মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি।
আপনারা হয়তো ‘জ্যাম ট্রিনিটি’ এবং প্রত্যক্ষ সুবিধা হস্তান্তর ব্যবস্থার কথা শুনেছেন। প্রযুক্তির সহায়তায় এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে, যার মাধ্যমে সরকারি সহায়তা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যায়। এর ফলে সরকারি পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পেয়েছে, অনিয়ম কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং সরকার ও নাগরিকদের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হয়েছে।
বন্ধুগণ,
ক্ষমতার মাধ্যমে ক্ষমতায়নের এই দর্শন ভারতের আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ডেও প্রতিফলিত হয়। কোভিড অতিমারির সময় টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। তখন প্রশ্ন ছিল, এই সক্ষমতার সুফল কি কেবল কয়েকটি দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি যেসব দেশ ও জনগোষ্ঠীর কাছে টিকা উৎপাদনের পরিকাঠামো নেই, তারাও এর সুফল পাবে?
ভারত দ্বিতীয় পথটি বেছে নিয়েছিল। আমরা ১০০টিরও বেশি দেশে টিকা সরবরাহ করেছি। আমাদের উৎপাদনক্ষমতা অন্যান্য দেশের জন্যও সহায়তার উৎস হয়ে উঠেছিল।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রেও একই দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়েছে। ভারত এআই ইমপ্যাক্ট সামিটের আয়োজন করেছিল। সেখানে মানবকল্যাণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি প্রাণীদের কল্যাণেও এই প্রযুক্তি কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সেই বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছিল। এর মাধ্যমে প্রযুক্তির সুফলকে আরও বিস্তৃত পরিসরে পৌঁছে দেওয়ার ভাবনা প্রতিফলিত হয়েছে।
বন্ধুগণ,
ভারত শুধু নিজের অগ্রগতির জন্য ক্ষমতা ব্যবহার করতে চায় না; আমরা অন্যদেরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে চাই। এই দৃষ্টিভঙ্গি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

২০২১ সালের নভেম্বরেই ভারত অজীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক উৎস থেকে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতার ৪০ শতাংশ অর্জন করেছিল—নির্ধারিত সময়ের নয় বছর আগেই। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনকারী প্রথম জি-২০ দেশ ছিল ভারত। ২০১৪ সালে দেশে পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানির উৎপাদনক্ষমতা ছিল প্রায় ৭৫ গিগাওয়াট; বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ৩০০ গিগাওয়াটে পৌঁছেছে।
প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর মুফত বিজলি যোজনা এবং প্রধানমন্ত্রী-কিষান উর্জা সুরক্ষা এবং উত্থান মহাভিযান (পিএম – কুসুম) – এর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদন ও ব্যবহারে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। সৌরশক্তির প্রসার এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহায়তা করছে।
বন্ধুগণ,
আজকের বিশ্ব একাধিক সংকটের মুখোমুখি। অতিমারি, যুদ্ধ, বাণিজ্য ও জ্বালানির সরবরাহে বিঘ্ন, গুরুত্বপূর্ণ খনিজের জোগান নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের সমস্যা বিশ্ব অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত প্রসার এবং জনসংখ্যার বার্ধক্যের মতো বিষয়গুলিও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতাও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে জটিলতা বাড়াচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে পারস্পরিক আস্থা বজায় রাখা ও জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি। বিশ্বকে এমন সহযোগিতামূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে দেশগুলি নিজেদের সক্ষমতা ভাগ করে নিয়ে সম্মিলিতভাবে চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলা করতে পারে।
বন্ধুগণ,
ভারত একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় অবদান রাখতে চায়। বিশ্বের জেনেরিক ওষুধের প্রতি পাঁচটির মধ্যে একটি ভারত থেকে সরবরাহ করা হয়। ডিজিটাল পরিচয় ও ডিজিটাল পেমেন্টের ক্ষেত্রে ভারতের অভিজ্ঞতা বিভিন্ন দেশের কাছে কার্যকর মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাশাপাশি, দক্ষ ও প্রতিভাবান মানবসম্পদ বিশ্ব অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রকে সহায়তা করছে।
ভারতে বর্তমানে ২,০০০-এরও বেশি গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার কাজ করছে। গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও পরিষেবার ক্ষেত্রে এই কেন্দ্রগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
ভারতের উন্নয়নের লক্ষ্য অন্য দেশের অগ্রগতির ব্যয়ে নিজেদের সমৃদ্ধ করা নয়। আমরা এমন উন্নয়নে বিশ্বাস করি, যার সুফল অন্যরাও পেতে পারে এবং যা আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করে।

আন্তর্জাতিক সৌর জোট, দুর্যোগ সহনশীল পরিকাঠামো জোট, বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্স এবং গ্লোবাল বায়োফুয়েল অ্যালায়েন্স – এই উদ্যোগগুলি তারই উদাহরণ। ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর – এর মতো উদ্যোগও বিভিন্ন অঞ্চলকে সংযুক্ত করে বাণিজ্য, যোগাযোগ ও সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
আমাদের ‘মিশন লাইফ’ পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের ওপর গুরুত্ব দেয়। ‘এক সূর্য, এক বিশ্ব, এক গ্রিড’ উদ্যোগের লক্ষ্য সৌরশক্তির সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক স্তরে কাজে লাগানো। এই সমস্ত উদ্যোগের অন্তর্নিহিত ভাবনা হ’ল – আমাদের সক্ষমতা যেন বৃহত্তর মানবসমাজের উপকারে আসে।
‘এক পৃথিবী, এক পরিবার, এক ভবিষ্যৎ’ এবং ‘এক পৃথিবী, এক স্বাস্থ্য’—এই ভাবনাগুলিও একই বার্তা বহন করে। আমাদের পৃথিবী অভিন্ন এবং ভবিষ্যৎও পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। তাই মানবকল্যাণের স্বার্থে আমাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
বন্ধুগণ,
ভারতের অর্থনীতি দ্রুত এগিয়ে চলেছে। চলতি অর্থবর্ষের এপ্রিল থেকে জুন ত্রৈমাসিকে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭.৮ শতাংশ। চলতি হিসাবের ঘাটতি ছিল জিডিপির ০.৬১ শতাংশ এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চিতি ৭০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। এই সূচকগুলি ভারতের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও সক্ষমতার পরিচায়ক।
অর্থনীতিকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করে তুলতে ভারত একাধিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পণ্য ও পরিষেবা কর চালু করা, দেউলিয়া সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন এবং শ্রমক্ষেত্রে সংস্কার তার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। ২৯টি শ্রম আইনকে একত্রিত করে চারটি শ্রমবিধি প্রণয়ন করা হয়েছে। ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে ছোটখাটো অপরাধের জন্য শাস্তিমূলক বিধানগুলির অবসান ঘটানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
এই সংস্কারগুলির লক্ষ্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও সহজ করা, ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ গড়ে তোলা এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা। আমাদের কাছে সংস্কার কেবল নীতিগত পদক্ষেপ নয়; এটি একটি দৃঢ় অঙ্গীকার।
বন্ধুগণ,
হাজার হাজার বছর আগে আমাদের বেদে একটি মন্ত্র উচ্চারিত হয়েছিল – 
“সংগচ্ছধ্বং সংবদধ্বং সং বো মনাংসি জানতাম্।”

আজ আসুন, আমরা সেই মন্ত্রেরই পুনরুচ্চারণ করি – একসঙ্গে পথ চলি, একসঙ্গে কথা বলি এবং পরস্পরকে বোঝার চেষ্টা করি।
আমরা যখন একসঙ্গে পথ চলি, তখন আমাদের শক্তি বৃদ্ধি পায়। আলোচনার মাধ্যমে আমাদের উপলব্ধি আরও গভীর হয়। আর পরস্পরকে বুঝতে পারলে আমরা সম্মিলিতভাবে বড় বড় চ্যালেঞ্জের সমাধান করতে পারি।
এটাই ক্ষমতার মাধ্যমে ক্ষমতায়নের মূল কথা। এর অর্থ, নিজেদের অগ্রগতির মধ্যেই আমাদের ক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ না রেখে, অন্যদের জন্যও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করতে সেই ক্ষমতাকে কাজে লাগানো।
আমি আত্মবিশ্বাসী যে, ব্লুমবার্গ নিউ ইকোনমি ফোরামের এই মঞ্চও এই চেতনাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী সকলকে আবারও জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা।
আপনাদের সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ। ধন্যবাদ।

(মূল ভাষণটি হিন্দিতে দেওয়া হয়েছিল)

 

 

SC/PM/SB