Search

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

ভূবনেশ্বরে আরবিআই-এর নব প্রতিষ্ঠিত ডেটা সেন্টার ও সাইবার সুরক্ষা প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

ভূবনেশ্বরে আরবিআই-এর নব প্রতিষ্ঠিত ডেটা সেন্টার  ও সাইবার সুরক্ষা প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের উদ্বোধন  প্রধানমন্ত্রীর


নতুন দিল্লি ২৫ অক্টোবর ২০২৬          

                                                          

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ ওড়িশার ভূবনেশ্বরে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া(আরবিআই)-এর নবপ্রতিষ্ঠিত ডেটা সেন্টার এবং সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন করেছেন। মহাপ্রভু জগন্নাথের আশীর্বাদ প্রার্থনা করে প্রধানমন্ত্রী ভূবনেশ্বরকে নতুন ভারতের জন্য এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান উপহার দেওয়ার কথা বলেন। তিনি এই দুটি কেন্দ্র চালু করার সঙ্গে যুক্ত আরবিআই এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দন জানান।

এই উদ্বোধনের বৃহত্তর তাৎপর্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি দেশের প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে এক মৌলিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, সমসাময়িক শাসনব্যবস্থায় উন্নয়নের অগ্রাধিকারের পরিধি বিস্তৃত হয়ে উন্নয়নের সুফল একেবারে প্রান্তিক স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যকে সামনে রাখা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী একটি জনমুখী ও সক্রিয় সুশাসনের মডেলকে তুলে ধরেন। এর  মূল লক্ষ্য হলো আঞ্চলিক ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন, দরিদ্র মানুষের মর্যাদা রক্ষা এবং কোনো নাগরিক যাতে পিছিয়ে না পড়েন, তা নিশ্চিত করা। তিনি উল্লেখ করেন যে, এক্সপ্রেসওয়েগুলো এখন ছোট শহরগুলোকে সংযুক্ত করছে, এইমস-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলি বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে, ছোট শহরগুলোতে মেডিকেল কলেজ খোলা হচ্ছে, গ্রামে প্রায় ১.৭৫ লক্ষ আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির স্থাপন করা হয়েছে এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডিজিটাল সংযোগ সম্প্রসারিত হচ্ছে। শ্রী মোদী জোরের সঙ্গে বলেন, নাগরিকদের জীবনধারার স্বাচ্ছন্দ্য বিধান এবং তাঁদের স্বপ্ন পূরণের নতুন সুযোগ তৈরি করে দেওয়াই এখন সুশাসনের প্রকৃত উদ্দেশ্য।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, ১৯৬০ ও ৭০-এর দশকে দরিদ্র মানুষের নামে ব্যাঙ্কগুলি জাতীয়করণ করা হলেও, ২০১৪ সাল পর্যন্ত জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি মানুষ ব্যাঙ্কিং  ব্যবস্থার বাইরে ছিল।  মধ্যবিত্তের জন্য ব্যাঙ্ক ঋণ পাওয়া ছিল এক সুদূর পরাহত স্বপ্ন। ক্ষুদ্র কৃষক, ভূমিহীন মানুষ ও নারীদের জন্য এই ব্যাঙ্ক ঋণ ছিল অকল্পনীয়। তিনি বলেন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আধুনিক যুগ সারা দেশে  পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটিয়েছে। আজ ভারতে ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং-এর মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা ব্যাঙ্কিং  পরিষেবার সঙ্গে সকলে  যুক্ত হতে পেরেছেন।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমানে সরকারি সুবিধা বিতরণের ক্ষেত্রে সব ধরনের ফাঁক বা অপচয়ের সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, কেন্দ্রীয় সরকারের পাঠানো প্রতিটি টাকা এখন হাত বদল না হয়ে  সরাসরি সুবিধাভোগীর অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাচ্ছে। দেশে প্রায় ৬০ কোটি জন ধন অ্যাকাউন্ট খোলাতে তা  সম্ভব হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, এখন কোনরকম জামানত ছাড়াই কেউ ব্যবসা শুরুর জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ পেতে পারেন। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপের মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, প্রথাগত কারিগর, হকার এবং অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীরা কিভাবে উন্নতি  করছেন। তিনি বলেন, মুদ্রা যোজনায় ১৩ কোটি মানুষ প্রথমবারের মতো উদ্যোক্তা হয়েছেন। পিএম স্বনিধি ও পিএম বিশ্বকর্মা  প্রকল্পের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ হকার ও দক্ষ কারিগর প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ পেয়েছেন এবং ১০ কোটি গ্রামীণ নারীর প্রতিনিধিত্বকারী স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি ব্যাঙ্ক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার সহায়তা পেয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একসময় ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড কেবল বিত্তবানদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, কিন্তু বর্তমানে কোটি কোটি রুপে কার্ডের মাধ্যমে তা প্রতিটি নাগরিকের নাগালের মধ্যে চলে এসেছে—যা আত্মমর্যাদা ও স্বনির্ভরতার প্রতীক। এই পরিবর্তনের পিছনে ব্যাঙ্কিং অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক, বাণিজ্যিক ব্যাঙ্ক এবং সারা দেশের প্রতিটি ব্যাঙ্ক কর্মীর সম্মিলিত প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী নাগরিক দেবো ভব—এই মূলমন্ত্রকে পাথেয় করে সামাজিক সুরক্ষা বলয়ের অভূতপূর্ব সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অটল পেনশন যোজনা-য় ৯ কোটি সুবিধাভোগী, যার মধ্যে ওড়িশার ৩৮ লক্ষ মানুষ রয়েছেন। এছাড়া, বছরে মাত্র ২০ টাকা প্রিমিয়ামে ২ লক্ষ টাকার দুর্ঘটনা বিমা প্রদানকারী প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বিমা যোজনা এবং বছরে ৪৫০ টাকারও কম প্রিমিয়ামে জীবন বিমা প্রদানকারী প্রধানমন্ত্রী জীবন জ্যোতি যোজনার মাধ্যমে বিমার মতো একসময়ের বিলাসিতাসুলভ পরিষেবা এখন দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষের নাগালের মধ্যে চলে এসেছে। তিনি উল্লেখ করেন অন্যান্য সরকারের মতো বড় ধরনের প্রচার বা হইচই না করে, অত্যন্ত নীরবে ২৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ দুর্দিনে পরিবারগুলোর হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তিনি একে সুশাসন বলে আখ্যা দেন।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, গত এক দশকে ব্যাঙ্কিং পরিষেবার আওতার বাইরে থাকা মানুষদের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। আর আগামী দশকটি ওড়িশার নতুন ডেটা সেন্টার ও শক্তিশালী কম্পিউটিং ব্যবস্থার সহায়তায় ব্যাঙ্কিং পরিষেবাকে আরও দক্ষ ও নির্ভরযোগ্য করে তোলার কাজে লাগবে। তিনি বলেন, আধুনিক যুদ্ধ পদ্ধতিতে ক্রমবর্ধমান সাইবার হুমকির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। একটি উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তিকে যে সাইবার অপরাধী ও সাইবার সন্ত্রাসীদের হাত থেকে নিজেদের আর্থিক ব্যবস্থাকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে তিনি পুরোনো প্রশিক্ষণ পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক পরিকাঠামো ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর জোর দেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, এই পরিস্থিতিতে নতুন সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

বিকশিত ভারত যাত্রায় পূর্ব ভারতকে উন্নয়নের এক শক্তিশালী চালিকাশক্তি হিসেবে তুলে ধরে এবং ওড়িশার বর্তমান সরকারের আমলে উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, এই রাজ্য তার ঐতিহ্যবাহী খনিজ-ভিত্তিক শিল্পগুলির পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিক্স, ডেটা সেন্টার এবং উন্নত কম্পিউটিংয়ের এক নতুন পরিমন্ডল গড়ে তুলছে। এর মাধ্যমে খনি থেকে মাইক্রোচিপ পর্যন্ত এক নতুন ভবিষ্যতের সূচনা হতে চলেছে। এই নতুন ক্ষেত্রগুলি যে বিপুল সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং ওড়িশার তরুণ প্রজন্মের বড় স্বপ্ন পূরণ করবে। এ ব্যাপারে পূর্ণ আস্থা ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী সকলকে উৎসবের শুভেচ্ছা জানান এবং জয় জগন্নাথ ধ্বনি দিয়ে নিজের বক্তব্য শেষে ওড়িশার মানুষদের উদ্দেশে জোরের সঙ্গে বলেন, খনি থেকে মাইক্রোচিপ পর্যন্ত ওড়িশা এক নতুন ভবিষ্যৎ রচনা করতে চলেছে।

https://x.com/narendramodi/status/2114327228570112291?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E2114327228570112291%7Ctwgr%5E0348a08e4333b94202bdd2f8457d42e7dc375fc7%7Ctwcon%5Es1_c10&ref_url=https%3A%2F%2Fwww.pib.gov.in%2FPressReleasePage.aspx%3FPRID%3D2328250reg%3D3lang%3D1

SC/AB/CS