Search

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

ভুবনেশ্বরে আরবিআই-এর বিভিন্ন সুবিধার সূচনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ভুবনেশ্বরে আরবিআই-এর বিভিন্ন সুবিধার সূচনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ


নয়াদিল্লি, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ 

 

জয় জগন্নাথ।

ওড়িশার রাজ্যপাল শ্রী ব্রজমোহন রামজি; রাজ্যের জনপ্রিয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী মোহন চরণ মাঝিজি; কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় আমার সহকর্মী শ্রীমতী নির্মলা সীতারমনজি ও শ্রী জুয়েল ওরামজি; রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার গভর্নর শ্রী সঞ্জয় মালহোত্রাজি; ওড়িশার উপ-মুখ্যমন্ত্রী শ্রীমতী প্রভাতী পরিদা ও শ্রী কনক বর্ধন সিং দেও; ব্যাঙ্কিং ও আর্থিক ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ, ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ।

পরিবেশ এত গম্ভীর কেন? ব্যাঙ্কিং বা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে কি এত বেশি চাপ থাকে? আপনারা অনুগ্রহ করে আরাম করে বসুন।

মহাপ্রভুর আশীর্বাদে, আজ ভুবনেশ্বর ‘নতুন ভারত’কে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান উপহার দিচ্ছে। ভুবনেশ্বরে আরবিআই-এর ডেটা সেন্টার এবং সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এটি ওড়িশার মানুষ তথা সমগ্র দেশের পক্ষে অত্যন্ত কল্যাণকর হবে। আমি আরবিআই এবং এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত সকলকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।

বন্ধুগণ,

আজকের এই অনুষ্ঠানটি প্রমাণ করে যে, ভারতে শাসন পরিচালনার দৃষ্টিভঙ্গি কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে এবং কত দ্রুতগতিতে তা বিবর্তিত হচ্ছে। আর এর মূল কেন্দ্রবিন্দু হল, উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া, উন্নয়নের পরিসরের বিস্তার করা এবং উন্নয়নের সুফল সমাজের শেষ প্রান্তে থাকা মানুষটির কাছে পৌঁছে দেওয়া।

বন্ধুগণ,

স্বাধীনতার পর দেশে বড় বড় শহর গড়ে উঠেছিল, বিশাল সব প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল তৈরি হয়েছিল, এমনকি বড় বড় বিমানবন্দরও তৈরি হয়েছিল। অথচ, দেশের একটি বড় অংশের মানুষ তখনও মৌলিক সুযোগ-সুবিধার অপেক্ষায় ছিলেন। দিল্লিতে বড় বড় হাসপাতাল ছিল, কিন্তু ছোট শহর বা প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হতো। বড় শহরগুলিতে বিমান ভ্রমণের সুবিধা ছিল, কিন্তু ছোট শহরগুলিকে আকাশপথে যুক্ত করার বিষয়ে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বড় শহরগুলিতে কিছু সুযোগ-সুবিধা থাকলেও, অসংখ্য গ্রামে রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ ও জলের মতো মৌলিক চাহিদা পূরণ করাও ছিল এক বড় চ্যালেঞ্জ। সাধারণ মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রে রেল স্টেশনগুলি ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম, অথচ সেখানেও আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাব ছিল। সহজ কথায়, উন্নয়নের সুফল যেন প্রতিটি অঞ্চলে এবং প্রতিটি নাগরিকের কাছে সমানভাবে পৌঁছায় – এটি নিশ্চিত করাই ছিল এক বড় বাধা। আমরা এই মানসিকতাকেই বদলে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমরা ‘জনমুখী, সক্রিয় এবং সুশাসন’-এর একটি মডেল নিয়ে এগিয়ে চলেছি। আমাদের কাছে উন্নয়নের অর্থ হল, ভারত জুড়ে সুষম অগ্রগতি, যেখানে গ্রাম থেকে শুরু করে ছোট শহর, সব জায়গাতেই সমান সুযোগ থাকবে। আমাদের লক্ষ্য হল,  দূরবর্তী অঞ্চলগুলিতে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা পৌঁছে দেওয়া, সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলির মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা সুনিশ্চিত করা এবং প্রতিটি নাগরিকের মনে এই আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে রাখা যে, উন্নয়নের যাত্রাপথে তারা কেউই পিছিয়ে থাকবে না। আজ দেশের এক্সপ্রেসওয়েগুলি ছোট শহরগুলিকে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত করছে। এইমস-এর মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলি এখন বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। ছোট শহরগুলিতে নতুন নতুন মেডিক্যাল কলেজ খোলা হচ্ছে। গ্রামে প্রায় ১.৭৫ লক্ষ ‘আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির’ স্থাপন করা হয়েছে। দুর্গম অঞ্চলগুলিতেও ডিজিটাল সংযোগ ব্যবস্থা সম্প্রসারিত হচ্ছে। বর্তমানে সুশাসনের প্রকৃত উদ্দেশ্য এটাই, নাগরিকদের জীবনকে সহজতর করা এবং তাঁদের আকাঙ্ক্ষা পূরণের নতুন পথ উন্মুক্ত করে দেওয়া।

বন্ধুগণ,

কীভাবে সাধারণ পরিবার, দরিদ্র মানুষ এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণি কয়েক দশক ধরে বঞ্চিত ছিল, তার একটি বড় উদাহরণ হল, আমাদের ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্র। ষাট ও সত্তরের দশকে গরিবদের নাম করে ব্যাঙ্কগুলিকে জাতীয়করণ করা হয়েছিল। অথচ, ২০১৪ সাল পর্যন্ত দেশের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার বাইরে ছিলেন। ব্যাঙ্ক ঋণের মতো আর্থিক সুবিধা পাওয়া মধ্যবিত্তদের কাছেও ছিল সুদূরপরাহত এক স্বপ্ন; আর দরিদ্র মানুষ, প্রান্তিক কৃষক, ভূমিহীন ব্যক্তি কিংবা আমাদের মা-বোনেরা তো এসব পাওয়ার কথা চিন্তাও করতে পারতেন না। আজ ভারতে ডিজিটাল ব্যাঙ্কিংয়ের মাধ্যমে সবাই ২৪ ঘণ্টা আর্থিক পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত হতে পেরেছেন। কিন্তু ২০১৪ সালের আগে ‘ফোন ব্যাঙ্কিং’-এর এক ভিন্ন যুগ ছিল। তখন দিল্লি ও প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যুক্ত হাতেগোনা কিছু মানুষকে কেবল একটি ফোন কলের মাধ্যমেই হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ দেওয়া হতো। যেখানে সাধারণ দরিদ্র বা মধ্যবিত্ত পরিবারের একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলতেই জামিনদারের প্রয়োজন হ’ত, সেখানে কংগ্রেসের সেই ‘ফোন ব্যাঙ্কিং’ ব্যবস্থায় ধনকুবেরদের জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা সবসময় সহজলভ্য ছিল। এই অব্যবস্থার ফলেই ভারতের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা এনপিএ-এর জালে জড়িয়ে পড়েছিল এবং ধ্বংসের কিনারায় পৌঁছে গিয়েছিল।

বন্ধুগণ,

যে কোনও বড় ধরনের পরিবর্তনের জন্য একটি উদার ও ব্যাপক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা অপরিহার্য; যখন উদ্দেশ্য থাকে নির্মল এবং লক্ষ্য থাকে মহৎ, তখন অসম্ভব বলে মনে হওয়া কাজও বাস্তবে রূপ নেয়। দৃষ্টিভঙ্গি সংকীর্ণ হলে সম্ভাবনার পরিধিও সংকুচিত হয়ে পড়ে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দেশ যে পরিকাঠামো গড়ে তুলেছে এবং ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’র আওতায় যে নতুন পরিমণ্ডল তৈরি হয়েছে, তা প্রতিটি নাগরিকের কাছে ব্যাঙ্কিং পরিষেবাকে পৌঁছে দিয়েছে। আজ ভারতের ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্র বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। আগে ফোন ব্যাঙ্কিং-এর সুবিধা কেবল দিল্লির প্রভাবশালী পরিবারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাই পেতেন; আর আজ ডিজিটাল ব্যাঙ্কিংয়ের মাধ্যমে সারা দেশের প্রতিটি পরিবারই এর সুফল ভোগ করছে।

বন্ধুগণ,

ওড়িশার এই মাটি থেকেই দেশের এক প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী একবার বলেছিলেন যে, দিল্লি থেকে এক টাকা পাঠানো হলে, মানুষের কাছে পৌঁছয় মাত্র ১৫ পয়সা। এটি ছিল একজন প্রধানমন্ত্রীর উক্তি। সে ছিল এক যুগ, আর আজ হলো অন্য সময়। আজ, দিল্লি থেকে যখন এক টাকা পাঠানো হয়, তখন পুরো এক টাকাই প্রতিটি সুবিধাভোগীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যায়। নির্মলা জি যেমনটা একটু আগে উল্লেখ করলেন, এটি সম্ভব হয়েছে কেবল দেশে প্রায় ৫৯ থেকে ৬০ কোটি ‘জন ধন’ অ্যাকাউন্ট খোলার কারণে।

বন্ধুগণ,

আজ যার কাছে ব্যাঙ্কে জমা দেওয়ার মতো কোনও আমানত নেই, তিনিও নিজের কাজ শুরু করার জন্য সহজ শর্তে ঋণ পেতে পারছেন। ছোট উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে ঐতিহ্যবাহী কারিগর, রাস্তার বিক্রেতা থেকে অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিক —সবাই প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার সুফল পাচ্ছেন। ‘মুদ্রা যোজনা’-র মাধ্যমে ১৩ কোটি মানুষ প্রথমবারের মতো উদ্যোক্তা হয়েছেন। ‘পিএম স্বানিধি’ প্রকল্পের আওতায় লক্ষ লক্ষ রাস্তার বিক্রেতাকে ঋণ দেওয়া হয়েছে। ‘পিএম বিশ্বকর্মা’ যোজনা লক্ষ লক্ষ দক্ষ কারিগরকে ব্যাঙ্কের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এছাড়া, গ্রামীণ এলাকার ১০ কোটি নারীকে নিয়ে গঠিত স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে ব্যাংকগুলি হাজার হাজার কোটি টাকার সহায়তা প্রদান করেছে।

বন্ধুগণ,

এটি সেই দেশ, যেখানে একসময় ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড কেবল ধনী ব্যক্তিদের বিলাসিতার প্রতীক ছিল। আজ প্রতিটি এগুলি নাগরিকের নাগালে রয়েছে। দেশে কোটি কোটি ‘রুপে’ ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড ইস্যু করা হয়েছে, যা এখন আত্মসম্মান ও স্বনির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। আপনাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এসব সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া  থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি ব্যাঙ্ক এবং সেখানে কর্মরত প্রতিটি ব্যাঙ্ক কর্মী—আপনারা যে কাজ করেছেন, তার জন্য এই সাফল্যের প্রকৃত দাবিদার আপনারাই।

বন্ধুগণ,

গত এক দশকে আর্থিক ক্ষমতায়নের পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষার পরিধিও অভূতপূর্বভাবে বিস্তৃত হয়েছে। ‘অটল পেনশন যোজনা’-র মাধ্যমে ৯ কোটি মানুষ সামাজিক সুরক্ষার আওতায় এসেছেন, যার মধ্যে কেবল ওড়িশাতেই ৩৮ লক্ষ মানুষ রয়েছেন। প্রায় ১০-১২ বছর আগে বিমা ছিল এক বিলাসিতার বিষয়; দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষ তো এর কথা চিন্তাও করতে পারতেন না। আমাদের কাছে ‘নাগরিক দেবো ভব’ (নাগরিকই ঈশ্বরতুল্য) হল, সুশাসনের মূল মন্ত্র। দুর্ঘটনার সময় সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে আমরা ‘প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বিমা যোজনা’ চালু করেছি। বছরে মাত্র ২০ টাকা প্রিমিয়ামের বিনিময়ে এতে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিমা সুরক্ষা পাওয়া যায়। একইভাবে, জীবন বিমার জন্য আমরা ‘প্রধানমন্ত্রী জীবন জ্যোতি বিমা যোজনা’ চালু করেছি, যার বার্ষিক প্রিমিয়াম ৪৫০ টাকারও কম। কোটি কোটি ভারতীয় এই দুটি যোজনার অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত ২৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি বিমার টাকা  সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। অন্য কোনও সরকার যদি ২৫ হাজার কোটি টাকা বিতরণের ঘোষণা করত, তবে তা নিয়ে বড় বড় শিরোনাম হতো এবং মাসের পর মাস ধরে উৎসব ও প্রচার চলত। কিন্তু আমাদের শাসনকালে কঠিন সময়ে এই সহায়তা দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষের কাছে নীরবে এবং কোনও আড়ম্বর ছাড়াই পৌঁছে যায়। এটাই হল, সুশাসনের প্রকৃত পরিচয়।

বন্ধুগণ,
গত এক দশক ছিল ব্যাঙ্কিং পরিষেবার বাইরে থাকা মানুষদের এই পরিষেবার আওতায় নিয়ে আসার সময়কাল। আর আগামী দশকটি হবে ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ ও নির্ভরযোগ্য করে তোলার। এই উদ্যোগে ওড়িশায় স্থাপিত নতুন এই ডেটা সেন্টারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখতে হলে এর ডিজিটাল পরিকাঠামোকেও সুরক্ষিত রাখা জরুরি। আর এই কারণেই আমাদের প্রয়োজন শক্তিশালী ডেটা সেন্টার এবং উন্নত কম্পিউটিং ব্যবস্থা।

বন্ধুগণ,

আমরা সবাই জানি যে, আধুনিক যুদ্ধ কেবল অস্ত্রের মাধ্যমেই চালিত হয় না। কোনও দেশের অর্থনীতিতে আঘাত হেনেও তাকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হতে পারে। ভারত যখন অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠছে, তখন সাইবার অপরাধী ও সাইবার সন্ত্রাসবাদীদের হাত থেকে আমাদের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থাকে রক্ষা করাও সমান জরুরি। বর্তমানে সাইবার হুমকির ধরন প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। পুরনো পদ্ধতি, সেকেলে প্রশিক্ষণ মডিউল বা সেকেলে সরঞ্জাম দিয়ে এই নতুন চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন আধুনিক পরিকাঠামো এবং দক্ষ মানবসম্পদ। আর ঠিক এখানেই এই নতুন ‘সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট’-এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বন্ধুগণ,

একটি উন্নত ভারতের লক্ষ্যে পূর্ব ভারত এখন অগ্রগতির এক শক্তিশালী চালিকাশক্তি হিসেবে উঠে আসছে। ওড়িশায় ‘ডাবল-ইঞ্জিন’ সরকার গঠনের পর থেকে উন্নয়নের গতি আরও ত্বরান্বিত হয়েছে। প্রাকৃতিক সম্পদের পাশাপাশি, প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে ওড়িশার অর্থনীতি এখন আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। একদিকে যেমন খনিজ-ভিত্তিক শিল্পগুলির প্রসার ঘটছে, অন্যদিকে সেমিকন্ডাক্টর ও ইলেকট্রনিক্সের জন্য একটি নতুন পরিমণ্ডল গড়ে তোলার লক্ষ্যে সুসংহত প্রয়াস চালানো হচ্ছে। আপনারা দেখবেন যে, খনি থেকে শুরু করে মাইক্রোচিপ পর্যন্ত – সব ক্ষেত্রেই ওড়িশা এক নতুন ভবিষ্যৎ রচনার পথে এগিয়ে চলেছে। ওড়িশায় ডেটা সেন্টার এবং অ্যাডভান্সড কম্পিউটিংয়ের মতো ক্ষেত্রে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে, যা রাজ্যের তরুণ প্রজন্মের জন্য অসংখ্য সুযোগের দ্বার উন্মোচন করবে। ওড়িশার তরুণ-তরুণীদের আমি নিশ্চয়তা দিচ্ছি যে, আপনারা যে বড় স্বপ্ন দেখেছেন, তা অবশ্যই পূরণ হবে। আমরা এটি করে দেখাব; আমরা তা সম্পন্ন করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই সংকল্প নিয়ে, আমি আপনাদের সবাইকে আবারও আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।

সবাইকে অনেক শুভকামনা।

জয় জগন্নাথ!

(প্রধানমন্ত্রীর মূল ভাষণটি দিয়েছেন হিন্দিতে)

 

SC/MP/SB