Search

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক ক্রীড়া সরঞ্জাম উৎপাদন পরিমণ্ডল গড়ে তোলার লক্ষ্যে খেলো ইন্ডিয়া ক্রীড়া সামগ্রী প্রস্তুত প্রকল্পে অনুমোদন মন্ত্রিসভার


নয়াদিল্লি, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ 

 

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে ২০২৬ থেকে ২০৩৩-৩৪ সময়কালের জন্য ১,৮৫৬.৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘খেলো ইন্ডিয়া স্পোর্টস গুডস ম্যানুফ্যাকচারিং স্কিম’ (ক্রীড়া সরঞ্জাম উৎপাদন প্রকল্প)-র অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হ’ল – বিনিয়োগ, উৎপাদন, উদ্ভাবন ও রপ্তানিকে উৎসাহিত করা এবং বিশ্বব্যাপী ক্রীড়া সরঞ্জাম ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করা।
২০২৬-২৭ বর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটে ঘোষিত এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হ’ল – বিনিয়োগ, প্রযুক্তি গ্রহণ, গবেষণা ও উদ্ভাবন, দক্ষতা উন্নয়ন, গুণমান সনদ প্রদান এবং বাজার উন্নয়নের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট সহায়তার মাধ্যমে ভারতের ক্রীড়া সরঞ্জাম তৈরির ভিতকে শক্তিশালী করা। এই প্রকল্পটি বিশ্বমানের প্রতিযোগিতামূলক ক্রীড়া সরঞ্জাম শিল্প গড়ে তুলতে এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে ভারতের অবস্থান সুদৃঢ় করতে সহায়তা করবে।
‘খেলো ভারত নীতি ২০২৫’, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রণীত এই প্রকল্পটি বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াবে এবং ভারতীয় ক্রীড়া সরঞ্জামের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সুসংহত ক্রীড়া সরঞ্জাম উৎপাদন পরিমণ্ডল গড়ে তোলা:

এই প্রকল্পের আওতায় ‘স্পোর্টস গুডস ম্যানুফ্যাকচারিং জোন’ বা ক্রীড়া সরঞ্জাম উৎপাদন অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে ক্লাস্টার-ভিত্তিক উৎপাদনকে উৎসাহিত করা হবে এবং প্রস্তুতকারক, সরবরাহকারী, পরীক্ষাগার, ডিজাইন ও প্রোটোটাইপিং কেন্দ্র এবং আনুষঙ্গিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলিকে একই স্থানে একত্রিত করে একটি সুসংহত শিল্প পরিমণ্ডল গড়ে তোলা হবে। ‘ভাব্য’ প্রকল্প এবং এনআইসিডিসি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের বর্তমান শিল্প পরিকাঠামোর সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে এই অঞ্চলগুলি গড়ে তোলা হবে। এটি কার্যকর উৎপাদন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করবে, শিল্পের বিভিন্ন অংশের মধ্যে সংযোগ জোরদার করবে এবং ক্রীড়া সরঞ্জামের সামগ্রিক মূল্য-শৃঙ্খলে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।

এই অঞ্চলগুলি উৎপাদন সুবিধা গড়ে তুলতে, শিল্পের পারস্পরিক সংযোগ শক্তিশালী করতে এবং কার্যক্রম পরিচালনার দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করবে। এই উদ্যোগগুলি বিনিয়োগকে ত্বরান্বিত করবে, উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াবে এবং দেশে একটি শক্তিশালী ক্রীড়া সরঞ্জাম উৎপাদন ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিনিয়োগ আকর্ষণ ও অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সম্প্রসারণ:

এই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হল, ক্রীড়া সরঞ্জাম ক্ষেত্রে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সক্ষমতা জোরদার করা। প্রকল্পের ‘অ্যাঙ্কর ইনভেস্টমেন্ট সাপোর্ট’ (প্রধান বিনিয়োগ সহায়তা) অংশটি শীর্ষস্থানীয় দেশি ও আন্তর্জাতিক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান, ব্র্যান্ড এবং খুচরা বিক্রয় শৃঙ্খলগুলিকে নির্দিষ্ট ‘স্পোর্টস গুডস ম্যানুফ্যাকচারিং জোন’-এ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনে উৎসাহিত করবে। পাশাপাশি, এটি একটি শক্তিশালী সরবরাহকারী ও আনুষঙ্গিক শিল্প ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। 
১,১৩০ কোটি টাকার সম্মিলিত ব্যয়ের এই উদ্যোগগুলি দেশীয় উৎপাদন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে, আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাবে, অভ্যন্তরীণ মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি করবে, বেসরকারি বিনিয়োগকে উল্লেখযোগ্যভাবে ত্বরান্বিত করবে, পুরো ভ্যালু চেইন জুড়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং বিশ্ববাজারে ভারতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা উন্নত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এমএসএমই এবং বর্তমান উৎপাদন ক্লাস্টারগুলির শক্তিশালীকরণ:

ক্রীড়া সামগ্রী ক্ষেত্রে অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্বীকার করে, এই প্রকল্পে বর্তমান উৎপাদন ক্লাস্টারগুলিকে শক্তিশালী করার ওপর এবং ছোট উদ্যোগগুলির বিকাশে সহায়তা প্রদানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

ক্রীড়া সামগ্রী উৎপাদন ক্লাস্টারগুলির মানোন্নয়নের জন্য সহায়তা প্রদান করা হবে, যার মধ্যে সাধারণ সুযোগ-সুবিধা এবং যৌথ পরিকাঠামোর উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

গুণমান ও আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশনের প্রসার:

আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ফেডারেশনগুলি থেকে শংসাপত্র অর্জন ও নবীকরণের জন্য প্রস্তুতকারকদের সহায়তা প্রদান করা হবে; এর জন্য ১০৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এই পদক্ষেপগুলি পণ্যের গুণমান উন্নত করতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ সহজতর করতে এবং ভারতীয় ক্রীড়া সামগ্রীর ওপর আস্থা বাড়াতে সাহায্য করবে।

গবেষণা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ:

এই প্রকল্পে ক্রীড়া সামগ্রী ক্ষেত্রে গবেষণা, নকশা ও উদ্ভাবনকে শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ক্রীড়া সরঞ্জাম, সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম এবং উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে গবেষণাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে ‘সেন্টারস অফ এক্সিলেন্স’ (উৎকর্ষ কেন্দ্র) স্থাপনের জন্য সহায়তা প্রদান করা হবে।

‘অনুসন্ধান ন্যাশনাল রিসার্চ ফাউন্ডেশন’-এর সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমকেও উৎসাহিত করা হবে।
‘স্টার্টআপ ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের সাথে সামঞ্জস্য রেখে স্টার্টআপগুলির জন্য বিশেষ সহায়তা প্রদান করা হবে, যা উদ্ভাবনকে ত্বরান্বিত করবে এবং ক্রীড়া সামগ্রী উৎপাদন ইকোসিস্টেমের মধ্যে নতুন প্রযুক্তি, প্রক্রিয়া ও পণ্যের উন্নয়ন, পরীক্ষা, যাচাইকরণ এবং বাণিজ্যিকীকরণে সহায়তা করবে।

ভবিষ্যতের জন্য দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা:

ক্রীড়া সামগ্রী ক্ষেত্রটি  কর্মসংস্থানমুখী, তাই এই প্রকল্পটি শিল্পের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ দক্ষতা উন্নয়ন উদ্যোগগুলিকে সহায়তা করবে।

শিল্পের পরিবর্তনশীল চাহিদার সাথে তাল রাখতে দক্ষতা উন্নয়ন উদ্যোগগুলি ‘দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা বিষয়ক মন্ত্রক’ এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প অংশীজনদের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হবে।

এই প্রচেষ্টাগুলি দক্ষ জনশক্তির ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে এবং ক্রীড়া সামগ্রী উৎপাদন ক্ষেত্রের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নে সহায়তা করবে।

ভারতীয় ক্রীড়া সামগ্রীকে বিশ্ববাজারে পৌঁছে দেওয়া:

এই স্কিমটির লক্ষ্য হ’ল – সুনির্দিষ্ট ব্র্যান্ডিং, প্রচারমূলক কার্যক্রম এবং বাজার উন্নয়ন উদ্যোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সামগ্রীর বাজারে ভারতের উপস্থিতি সম্প্রসারিত করা। ‘এক্সপোর্ট প্রমোশন মিশন’কে কাজে লাগিয়ে এই উদ্যোগগুলি ভারতীয় ক্রীড়াসামগ্রীর উপস্থিতি বৃদ্ধি করবে, বাজারে প্রবেশাধিকার জোরদার করবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এগুলির প্রসার ঘটাতে সহায়তা করবে।

ভারতের আন্তার্জাতিক ক্রীড়া-লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা:

উচ্চমানের এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ক্রীড়াসামগ্রী উৎপাদনের প্রসারের মাধ্যমে এই প্রকল্পটি ভারতের ক্রীড়া ক্ষেত্র ও ক্রীড়াবিদ উন্নয়ন কর্মসূচির ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে। এই প্রকল্পের আওতায় উদ্ভাবন বৃদ্ধি, উন্নত পরিকাঠামো এবং উৎপাদন সক্ষমতা ‘খেলো ইন্ডিয়া’ ও ‘ফিট ইন্ডিয়া’র মতো উদ্যোগগুলিকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।
এই প্রকল্পটি ভারতকে ক্রীড়াসামগ্রীর নকশা, উন্নয়ন ও উৎপাদনের ক্ষেত্রে একটি বিশ্বমানের প্রতিযোগিতামূলক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে। উৎপাদন সক্ষমতা জোরদার করা, উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং বিশ্ববাজারে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণের মাধ্যমে এটি কর্মসংস্থান ও রপ্তানির নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে এটি ভারতকে একটি শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়া দেশ হিসেবে গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষাকে সহায়তা করবে এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ ও ‘বিকশিত ভারত @ ২০৪৭’-এর লক্ষ্যকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।

 

MH/MP/SB