Search

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

গুজরাটের বনসকাঁথায় উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সূচনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

গুজরাটের বনসকাঁথায় উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সূচনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ


নতুন দিল্লি ৩০ অক্টোবর ২০২৬,

 

ভারতমাতার জয়।

 

ভারতমাতার জয়।

 

গুজরাটের জনপ্রিয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী ভূপেন্দ্রভাই প্যাটেল, উপমুখ্যমন্ত্রী ভাই হর্ষ সাংভি জি, বিধানসভার অধ্যক্ষ শ্রী শঙ্করভাই চৌধুরী, গুজরাট সরকারের সকল মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও বিধানসভার সদস্যবৃন্দ, অন্যান্য জন-প্রতিনিধিবৃন্দ এবং আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা।

 

আজ প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের প্রতিটি জেলার কৃষকরা আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। প্রযুক্তির মাধ্যমেই গুজরাটের প্রতিটি গ্রামের কৃষকরা আজ আমাদের সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছেন। বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীরাও আজ কৃষকদের জন্য আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে আমাদের সঙ্গে উপস্থিত রয়েছেন। তাঁদের সকলকেও আমি আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই।

 

আজ বনসকাঁথা এক অনন্য উচ্চতায় নিজের স্থান প্রতিষ্ঠা করেছে। কিছুক্ষণ আগে আমি টিভি-র পর্দায় দেখছিলাম, সম্ভবত বিশ্বের কোথাও একসঙ্গে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের খাটিয়ায় বসে সমবেত হওয়ার এমন দৃশ্য আগে কখনও দেখা যায়নি। দেশের মানুষের কাছেও এটি নিশ্চয়ই এক বিস্ময়কর দৃশ্য যে, এই সমাবেশে প্রত্যেকেই খাটিয়ায় বসে রয়েছেন। আজ বনসকাঁথা আমাদের গ্রামের এই মহান ঐতিহ্যকে আবারও নতুন করে জাগিয়ে তুলেছে। আপনারা যদি আগে থেকে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষকে জানাতেন, তাহলে তাঁরা নিশ্চয়ই এটিকে বিশ্বরেকর্ড হিসেবে নথিভুক্ত করতেন। কিছুক্ষণ আগেই এখানে সে কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

 

আপনারা আমাকে যে দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন, তার আজ পঁচিশ বছর পূর্ণ হয়েছে। আর দেখুন কী আশ্চর্য সমাপতন, পঁচিশ বছর পূর্ণ হওয়ার পর আমার প্রথম সফর হচ্ছে আমাদের এই বনসকাঁথায়। আপনাদের মনে করিয়ে দিতে চাই, ২০০১ সালে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আমার প্রথম বড় জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ডিসায়। এখানকার প্রবীণরা সেই লোককল্যাণ মেলার কথা নিশ্চয়ই মনে করতে পারবেন। সেই অনুষ্ঠানটি সম্ভবত ঐতিহাসিক ছিল। একটি মাত্র জেলা থেকে তিন লক্ষ মানুষ তাতে অংশগ্রহণ করেছিলেন। আমার বিশ্বাস, আজও সেই রেকর্ড কেউ ভাঙতে পারেনি। সেই রেকর্ডের কৃতিত্ব বনসকাঁথার। সেখান থেকেই এই যাত্রার সূচনা হয়েছিল এবং আজ একই স্থানে দাঁড়িয়ে পঁচিশ বছরের সেবার খতিয়ান তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছি।

 

নবরাত্রি শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক দিন পরেই মা অম্বার পবিত্র ভূমিতে আসার সুযোগ পেয়েছি। আমি মা অম্বার চরণে প্রণাম জানাই। কিছুক্ষণ আগেই এখানে নারী, শিশু, কৃষক এবং পশুপালকদের কল্যাণে উৎসর্গীকৃত বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করা হয়েছে। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধির একটি নতুন কিস্তির অর্থও সারা দেশের কোটি কোটি ক্ষুদ্র কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে গিয়েছে। গুজরাটবাসী, দেশবাসী এবং সমগ্র ভারতের কৃষক ভাই-বোনদের জানাই আমার আন্তরিক অভিনন্দন।

 

বন্ধুগণ,

 

গুজরাট ও বনসকাঁথার মানুষ আমাকে ক্ষমা করবেন। কিন্তু আজ আমাকে হিন্দিতে কথা বলতে হচ্ছে, কারণ সারা দেশের মানুষ এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। আপনারা আমাকে হিন্দিতে কথা বলার অনুমতি দিচ্ছেন তো?

খুব ভালো।

 

বন্ধুগণ,

 

আমাদের কৃষকরা আমাদের অন্নদাতারা, উন্নত ভারত গড়ে তোলার অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ। আমাদের সরকার সর্বদাই কৃষকদের কল্যাণ ও ক্ষমতায়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছে। ২০১৩-১৪ সালের তুলনায় বর্তমানে দেশের কৃষি বাজেট পাঁচ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি আজ কোটি কোটি ক্ষুদ্র কৃষকের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। আজ প্রায় ১০ কোটি কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১৮,০০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ হস্তান্তর করা হয়েছে। গুজরাটের ৫০ লক্ষেরও বেশি কৃষকও এর মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন। তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১,০০০ কোটি টাকারও বেশি জমা হয়েছে। শুধু বনসকাঁথা জেলাতেই লক্ষ লক্ষ কৃষক পরিবারের অ্যাকাউন্টে প্রায় ৫০ কোটি টাকা পৌঁছে গিয়েছে।

 

বন্ধুগণ,

 

গত কয়েক বছরে আমাদের সরকারের নীতির ফলে কৃষকরা ৫০ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের সুবিধা ও সাশ্রয়ের সুফল পেয়েছেন। ৫০ লক্ষ কোটি টাকা! মাত্র পাঁচটি প্রকল্পের উদাহরণ দিলেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৪.৫ লক্ষ কোটি টাকা সরাসরি ক্ষুদ্র কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে গিয়েছে। 

(দর্শকাসনে ছবি হাতে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মেয়েকে) বোন, আপনি তো আমাকে হার মানিয়ে দিয়েছেন! আমি ভেবেছিলাম, কিছুক্ষণ পর আপনার হাত ব্যথা হয়ে যাবে এবং আপনি ছবিটি নামিয়ে বসে পড়বেন। আমি এসপিজি কর্মীদের অনুরোধ করছি, এই কন্যাটি যে সুন্দর ছবিটি নিয়ে এসেছে, সেটি যেন তাঁরা সংগ্রহ করে নেন। নইলে ছবিটি এতক্ষণ ধরে উঁচু করে রাখতে রাখতে ও ক্লান্ত হয়ে পড়বে। ওরা এখান থেকেই ছবিটি নিয়ে নেবে, মা। তুমি যেখানে আছ, সেখানেই থেকো। এসপিজি কর্মীদের ছবিটি সংগ্রহ করতে দাও। 

তো…, স্বাধীনতার পর ক্ষুদ্র কৃষকদের প্রকৃত চাহিদা ও সমস্যাগুলি কখনও যথাযথভাবে বোঝার চেষ্টা করা হয়নি। তাঁদের দিকে কেউ তেমন নজর দেননি। অথচ আমাদের দেশে মোট কৃষকের ৮৫ শতাংশেরও বেশি হলেন ক্ষুদ্র কৃষক। ৮৫ শতাংশেরও বেশি! আমাদের সরকারই তাঁদের সমস্যাগুলি বুঝেছে এবং প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি প্রকল্পের মাধ্যমে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছে।

 

বন্ধুগণ,

 

গত কয়েক বছরে বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তার কারণে সারের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু কৃষকদের প্রতি দায়বদ্ধ সরকার সেই বাড়তি বোঝা তাঁদের ওপর পড়তে দেয়নি। এর জন্য সরকার প্রায় ১৬ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। আপনাদের জন্য সারের দাম সাশ্রয়ী রাখতে এবং কৃষকদের ওপর বাড়তি আর্থিক বোঝা না চাপাতে আমাদের জাতীয় কোষাগার থেকে ১৬ লক্ষ কোটি টাকা খরচ করতে হয়েছে।

 

বন্ধুগণ,

 

পূর্ববর্তী সরকারগুলি ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এমএসপি) নিয়ে বারবার কৃষকদের বিভ্রান্ত করেছে। কিন্তু আমাদের সরকার এমএসপি সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে। গত বারো বছরে গম ও ধান চাষিরা এমএসপি বাবদ সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ২৪ লক্ষ কোটি টাকা পেয়েছেন।

 

বন্ধুগণ,

 

আমাদের সরকার প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনার মাধ্যমে কৃষকদের জন্য একটি শক্তিশালী সুরক্ষা বলয় গড়ে তুলেছে। আমরা ব্যাপকভাবে ফসল বিমা ব্যবস্থা চালু করেছি। গত দশ থেকে বারো বছরে কৃষকরা ফসলের ক্ষতিপূরণ বাবদ ২ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি অর্থ পেয়েছেন। যখনই ফসলের ক্ষতি হয়েছে, বিমা সহায়তার মাধ্যমে ২ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি অর্থ কৃষকদের কাছে পৌঁছে গিয়েছে। কৃষকদের সেচের খরচ কমানোর জন্যও আমরা নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এই প্রচেষ্টায় প্রধানমন্ত্রী কুসুম যোজনা ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যেই প্রায় ১২ লক্ষ সৌরচালিত পাম্প সরবরাহ করা হয়েছে। অর্থাৎ, সেচের জন্য কৃষকদের হাতে সৌরশক্তিচালিত ১২ লক্ষ পাম্প তুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ ও ডিজেলের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এই সৌরচালিত পাম্পগুলি সরবরাহ করা না হলে কৃষকদের ৮০ কোটি লিটারেরও বেশি ডিজেল কিনতে হতো। লক্ষ লক্ষ কৃষক এই বিপুল ব্যয় থেকে সাশ্রয় পেয়েছেন। শুধু তাই নয়, এর পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎও উৎপাদিত হয়েছে। অন্যভাবে বিচার করলে দেখা যাবে, এই পাঁচটি প্রকল্প ও সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই কৃষকরা সরাসরি সুবিধা পেয়েছেন অথবা প্রায় ৫০ লক্ষ কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ সাশ্রয় করতে পেরেছেন। এটি অত্যন্ত বিপুল অঙ্কের অর্থ। এই ৫০ লক্ষ কোটি টাকা কৃষকদের আয় বৃদ্ধি করেছে এবং ভারতের কৃষি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

 

বন্ধুগণ,

 

কৃষিকাজ আমাদের ঐতিহ্য। কৃষিকাজ আমাদের সংস্কৃতি। কৃষিকাজ আমাদের জীবনধারা। গত বারো বছরে আমাদের সরকার কৃষিকাজের সঙ্গে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যাপক সংযোগ ঘটিয়েছে। কৃষি ও পশুপালনকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। মৃত্তিকা স্বাস্থ্য কার্ড এর একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ। আগে কৃষকদের পক্ষে তাঁদের জমিতে কী ধরনের সার এবং কত পরিমাণে প্রয়োগ করা প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করা বেশ কঠিন ছিল। ‘মৃত্তিকা স্বাস্থ্য কার্ড’ এই সমস্যার সমাধান করেছে। বর্তমানে কৃষকদের হাতে ২৬ কোটিরও বেশি মৃত্তিকা স্বাস্থ্য কার্ড রয়েছে। এর ফলে কৃষিকাজের পদ্ধতিতে আধুনিকীকরণ ঘটেছে।

 

বন্ধুগণ,

 

আবহাওয়ার পরিবর্তিত ধরন কৃষকদের কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাই পরিবর্তনশীল জলবায়ুর সঙ্গে আরও ভালোভাবে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম নতুন নতুন বীজের জাত কৃষকদের কাছে ধারাবাহিকভাবে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা আমাদের অব্যাহত রয়েছে। গত কয়েক বছরে প্রায় তিন হাজার নতুন জাতের বীজ কৃষকদের ব্যবহারের জন্য উপলব্ধ করা হয়েছে।

 

বন্ধুগণ,

 

পশুপালন আমাদের গ্রামীণ অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এতে আমাদের মা-বোনেদের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। গত এক দশকে আমরা পশুপালন ও দুগ্ধশিল্পের ক্ষেত্রে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহারকে বিশেষভাবে উৎসাহিত করেছি। পশুর উন্নত প্রজাতি গড়ে উঠলে দুধের উৎপাদনও বৃদ্ধি পায়। শঙ্করভাই যেমন কিছুক্ষণ আগে বলছিলেন, আমাদের লক্ষ্য হল, একটি গরু থেকে যেন আগে চারটি গরু যতটা দুধ দিত, ততটাই দুধ পাওয়া যায়। পশুদের সময়মতো টিকাকরণ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলে রোগের কারণে ক্ষয়ক্ষতিও কমে। অর্থাৎ, পশু সুস্থ থাকলে আমাদের পশুপালক ভাই-বোনেদের আয়ও বৃদ্ধি পায়।

 

বন্ধুগণ,

 

আপনারা সকলেই রাষ্ট্রীয় গোকুল মিশন সম্পর্কে অবগত। এই মিশনের মাধ্যমে দেশীয় গবাদি পশুর প্রজাতি সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে উন্নত প্রজনন ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। বনসকাঁথায় প্রতিষ্ঠিত নতুন গবেষণা কেন্দ্রটি এই মিশনকে আরও শক্তিশালী করবে। এখানে গির, সাহিওয়াল ও কাঁকরেজের মতো দেশীয় গরুর প্রজাতি এবং মেহসানা, মুররাহ ও জাফরাবাদির মতো মহিষের প্রজাতি সংরক্ষণ করা হবে। একই সঙ্গে, এই প্রজাতিগুলির গুণগত মান উন্নয়নের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা হবে। কাঁকরেজ প্রজাতির জন্য এটি দেশের প্রথম এই ধরনের গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র। ধরুন, কোনও কৃষকের কাছে একটি উন্নত প্রজাতির গরু রয়েছে, যা বেশি দুধ দেয়, সুস্থ থাকে এবং তার পরিচর্যার খরচও তুলনামূলকভাবে কম। স্বাভাবিকভাবেই, সেই কৃষক চাইবেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের গরুগুলির মধ্যেও যেন একই গুণাবলি বজায় থাকে। আইভিএফ-এর মতো আধুনিক প্রযুক্তি ঠিক এই কাজেই সাহায্য করে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে উন্নত বৈশিষ্ট্যগুলি পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে সঞ্চারিত হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। এর সরাসরি সুফল পান পশুপালকরা।

 

বন্ধুগণ,

 

গবাদি পশুদের রোগ থেকে রক্ষা করাও আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। ক্ষুরা রোগ (ফুট-অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ) পশুদের স্বাস্থ্যের পাশাপাশি দুধ উৎপাদনেও বিরূপ প্রভাব ফেলে। তাই আমরা দেশজুড়ে বিনামূল্যে টিকাকরণের একটি অভিযান শুরু করেছি। এখনও পর্যন্ত পশুদের প্রায় ১৫০ কোটি টিকার ডোজ দেওয়া হয়েছে। ৮ কোটিরও বেশি কৃষকের গবাদি পশুকে বিনামূল্যে টিকাকরণের আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে পশুপালকদের আর্থিক বোঝাও অনেকটা কমেছে।

 

বন্ধুগণ,

 

এই সমস্ত প্রচেষ্টার প্রভাব দুধ উৎপাদনের ক্ষেত্রেও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। ২০১৩-১৪ সালে একটি গরু বা মহিষ থেকে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ লিটারেরও কম দুধ পাওয়া যেত। সেই সময়ই আপনারা আমাকে দিল্লিতে পাঠিয়েছিলেন। দৈনিক পাঁচ লিটারেরও কম! বর্তমানে জাতীয় গড় বেড়ে প্রতিদিন প্রায় আট লিটারে পৌঁছেছে। দুধ উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ভারতের অগ্রগতির হার বর্তমানে বিশ্বে সর্বাধিক। দুধ উৎপাদনে ভারত বিশ্বে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। এর সুফল দেশের গ্রামাঞ্চলে পৌঁছেছে এবং কৃষক পরিবারগুলির আয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

বন্ধুগণ,

 

আমাদের লক্ষ্য হল, পশুপালকরা যেন শুধু দুধ বিক্রি করেই নয়, গোবর থেকেও আয় করতে পারেন। গোবর ও কৃষিজ বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস, বায়ো-সিএনজি এবং জৈব সার উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। এক্ষেত্রে বনাস ডেয়ারির মতো প্রতিষ্ঠানগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আজ দুটি বায়ো-সিএনজি প্ল্যান্টেরও শিলান্যাস করা হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — পশুদের স্বাস্থ্য ভালো রাখা, দুধের উৎপাদন বৃদ্ধি করা এবং গোবরের সম্পূর্ণ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা। আমরা পশুপালনকে শুধু একটি ঐতিহ্য হিসেবেই নয়, বরং কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং গ্রামগুলির সমৃদ্ধির একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলছি। কিছুক্ষণ আগে এখানে উপস্থিত মহিলাদের সঙ্গে আমি কথা বলছিলাম। তাঁরা আমাকে জানালেন, তাঁরা ২ কোটি টাকার দুধ সরবরাহ করেন। হ্যাঁ, ২ কোটি টাকার দুধ! এরপর আমি তাঁদের জিজ্ঞাসা করলাম, তাঁরা কতদূর পড়াশোনা করেছেন। উত্তরে তাঁরা বললেন, “চারটি বই”। অথচ তাঁরাই ২ কোটি টাকার দুধ সরবরাহ করছেন।

 

বন্ধুগণ,

 

গত কয়েক বছরে আমরা গ্রামের সার্বিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করেছি। মৎস্যক্ষেত্রের দিকে তাকালেই দেখতে পাবেন, এই ক্ষেত্রে কতটা সম্প্রসারণ ঘটেছে। আপনাদের জেনে ভালো লাগবে যে, ভারতের সামুদ্রিক খাদ্যপণ্যের রপ্তানি দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের মৎস্যজীবীরা সমুদ্রে যান, মাছ ও চিংড়ি ধরেন এবং তা বিক্রি করেন। বর্তমানে এই ক্ষেত্রটি অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং সারা বিশ্বে এর চাহিদাও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মৎস্যক্ষেত্রে সমবায় ব্যবস্থাকেও উৎসাহিত করা হচ্ছে।

 

বন্ধুগণ,

 

আরও একটি ক্ষেত্র রয়েছে, যা আমাদের কৃষকদের আয়ের অতিরিক্ত উৎস হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সেই ক্ষেত্রটি হল মৌমাছি পালন। গত বারো বছরে মধু উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছে। আমার মনে আছে, যখন আমি বনাসকাঁথায় এসেছিলাম, তখন আপনাদের সকলকে মিষ্টি বিপ্লব, অর্থাৎ মধু উৎপাদনে বিপ্লব ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছিলাম। আজ বনসকাঁথা মধু উৎপাদনের ক্ষেত্রে একের পর এক নতুন রেকর্ড গড়ছে। কিছুক্ষণ আগে এখানে মহিলাদের সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁরা আমাকে জানিয়েছেন, তাঁরা ৩৫ লক্ষ টাকার মধু বিক্রি করেন। আপনাদের জেনে গর্ব হবে যে, ভারত বর্তমানে প্রাকৃতিক মধু রপ্তানিতে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। এই মিষ্টি বিপ্লবে আমাদের মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির অবদানও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

 

বন্ধুগণ,

 

কয়েক দিন আগে, ৭ অক্টোবর, সরকার প্রধান হিসেবে আমার ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। মনে হচ্ছে, ঘটনাটি যেন গতকালেরই। হ্যাঁ, ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর, যেদিন আমি প্রথম শপথ গ্রহণ করেছিলাম, সেই দিনটির কথা আজও মনে হয় যেন এই সেদিনের ঘটনা। আপনারা আপনাদের নরেন্দ্রভাইকে অপরিসীম স্নেহ ও ভালোবাসা দিয়েছেন। আজ এখানে এসে আমি কিছুটা অস্বস্তি বোধ করছিলাম। দেশের অন্যান্য জায়গায় আমাকে যেভাবে সম্বোধন করা হয়, তা এক বিষয়। কিন্তু এখানে শঙ্করভাই বললেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সাহেব, প্রধানমন্ত্রী সাহেব’। আপনারাই বলুন, এই সম্বোধন আমার মুখ দিয়ে কীভাবে নামবে? এখানে তো সবাই অভ্যাসবশত বলেন, ‘আমাদের নরেন্দ্রভাই এসেছেন’। এভাবে বলতে কি বেশি ভালো লাগে না? ‘প্রধানমন্ত্রী সাহেব’ বলে সম্বোধন করার মধ্যে আর কী আনন্দ রয়েছে? আর গুজরাটের আমার ভাইয়েরা যখন বলেন, ‘আমাদের নরেন্দ্রভাই’, তখন আমার হৃদয় আবেগে ভরে ওঠে। স্নেহ-ভালোবাসার পাশাপাশি প্রত্যেক গুজরাটবাসী আমাকে কিছু না কিছু শিখিয়েছেন। আপনারাই আমাকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন এবং অনুপ্রাণিত করেছেন। সেই সময় সরকারি দপ্তর, সরকারের কাজকর্ম কিংবা ফাইলপত্র সম্পর্কে আমার কোনও ধারণাই ছিল না। এক সাধারণ পরিবারের সন্তান, যার পরিবারের প্রজন্মের পর প্রজন্ম কখনও গ্রামের প্রধান হওয়ার স্বপ্নও দেখেনি, সেই মানুষটির ওপর আপনারাই প্রথমে গুজরাট এবং পরে গোটা দেশের সেবা করার দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন। কিছুক্ষণ আগে মহিলাদের সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁরা আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, জ্যোতিগ্রাম যোজনা, জল পৌঁছে দেওয়া, প্রাকৃতিক কৃষি এবং পশুপালনের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগের মতো ভাবনাগুলি আমার মাথায় কীভাবে এসেছিল। আমি তাঁদের বলেছিলাম, এর পিছনে কোনও বিশেষ সূত্র ছিল না। আপনারাই আমাকে সবকিছু শিখিয়েছেন, আর আমি শুধু সেই শিক্ষাগুলি বাস্তবে কার্যকর করেছি।

 

বন্ধুগণ,

 

আমি বরাবর মাত্র দুটি বিষয়ই জানি — জনগণের সেবাই হল দেশসেবা এবং গুজরাটের উন্নয়নই ভারতের উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করে। কীভাবে কাজ করতে হবে এবং কীভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে, তার বাকি সবকিছু আপনারাই আমাকে শিখিয়েছেন। দেশের জন্য আমি যা কিছু করতে পেরেছি, তার কৃতিত্ব ভারতের সমস্ত নাগরিকের পাশাপাশি আপনাদের সকলেরও প্রাপ্য। এর জন্য আমি সারা জীবন আপনাদের কাছে ঋণী থাকব। আমার শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আমি সেবার কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখব। সেবা, সেবা এবং দেশের মানুষের ও আপনাদের সকলের সেবাই হবে আমার জীবনের একমাত্র ব্রত।

 

বন্ধুগণ,

 

এখানে উপস্থিত প্রবীণ নাগরিকদের নিশ্চয়ই পুরনো দিনের কথা মনে আছে। পঁচিশ বছর আগে যখন আমি এখানে আসতাম, তখন বিদ্যুৎ ও জলের তীব্র সমস্যা ছিল। সেই সময়ও আমি বলতাম, আমাদের বিদ্যুৎ ও জল সাশ্রয় করতে হবে। কৃষকরা আমার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতেন। তাঁরা বলতেন, “জল সাশ্রয় করার কথা বলার কে এই মোদী? তিনি তো আমাদের বিদ্যুৎও দেবেন না।” আমি আপনাদের সঙ্গে বারবার এই বিষয়ে আলোচনা ও তর্ক করেছি। অবশেষে আপনারা আমার বক্তব্য মেনে নিয়েছিলেন। আর আজ দেখুন, আমরা কোথা থেকে কোথায় পৌঁছে গিয়েছি! সেই পুরনো সমস্যাগুলি আজ শুধুই স্মৃতি হয়ে রয়ে গিয়েছে। আজ আমি আপনাদের আবারও সেই একই কথা বলব — আমাদের জল সাশ্রয় করতে হবে এবং বিদ্যুৎও সাশ্রয় করতে হবে।

 

বন্ধুগণ,

 

নর্মদার জল এবং ড্রিপ ইরিগেশন বা ফোঁটা ফোঁটা সেচের মতো আধুনিক প্রযুক্তি বনাসকাঁথার আমূল পরিবর্তন ঘটিয়েছে। এই দুইয়ের প্রভাবে বনাসকাঁথার চেহারা ও ভাগ্য—উভয়েরই পরিবর্তন হয়েছে। বনাসকাঁথার আলু আজ বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত। বনাসকাঁথার কোনও মানুষকে এখন আর কেউ এসে বলতে পারে না, ‘আমি আলুকে সোনায় পরিণত করে দেব।’ কারণ তিনি উত্তরে বলবেন, ‘আমি তো ইতিমধ্যেই সেই কাজ করছি।’ এখানে বনাস ডেয়ারির মতো একটি সমবায় সংস্থা রয়েছে, যা কাশী-সহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও সমবায় আন্দোলনের প্রসার ঘটাচ্ছে। বনাস ডেয়ারির প্রতি আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। কারণ আমার কাশীতেও আপনাদের অভিজ্ঞতা ও পরিষেবার সুফল মানুষ পাচ্ছেন। এখন ফ্রেঞ্চ ফ্রাই তৈরির জন্য আলু প্রক্রিয়াকরণ কারখানাটির উৎপাদন ক্ষমতাও বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে আরও বেশি পরিমাণে আলু কেনা সম্ভব হবে। এটি আলুচাষিদের জন্য একটি বড় সুবিধা এবং গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা।

 

বন্ধুগণ,

 

ফল ও সবজি চাষে যুক্ত কৃষকদের জন্য একটি ক্লাস্টার উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত করা হচ্ছে। এই কর্মসূচির আওতায় আজ বারোটি ক্লাস্টার অনুমোদন করা হয়েছে। এই ক্লাস্টারগুলি টমেটো, আলু, লঙ্কা, আঙুর, কলা, পেঁয়াজ, কমলালেবু, ডালিম এবং কোকোর মতো বিভিন্ন ফল ও সবজির সঙ্গে সম্পর্কিত। এই উদ্যোগের আওতায় কৃষকদের নতুন ফলের বাগান তৈরি এবং পুরনো বাগানগুলির পুনরুজ্জীবনের জন্য সহায়তা করা হবে। পুরনো বাগানগুলির পুনরুজ্জীবনের বিষয়ে মানুষকে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হবে। পাশাপাশি, সমগ্র প্রকল্পের জন্য ভর্তুকিও প্রদান করা হবে। উত্তর গুজরাটে অনুমোদিত দুটি ক্লাস্টার বনাসকাঁথা ও সাবরকাঁথার আলুচাষিদের বিশেষভাবে উপকৃত করবে।

 

বন্ধুগণ,

 

আজ গুজরাটের উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত আরও বেশ কয়েকটি প্রকল্পেরও উদ্বোধন ও সূচনা করা হয়েছে। গুজরাট দুটি নতুন রেল পরিষেবা পেয়েছে — আমেদাবাদ-বারাণসী সবরমতী এক্সপ্রেস এবং মেহসানা-বেচারাজি-সবরমতী মেমু ট্রেন। রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই দুটি প্রকল্পই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও, আমেদাবাদ মেট্রো পরিষেবারও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। আজ গিফট সিটি এবং বিমানবন্দরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী মেট্রো প্রকল্পগুলির শিলান্যাস করা হয়েছে। আমেদাবাদ-মেহসানা মহাসড়কটি বর্তমানে চার লেন থেকে আট লেনে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

বন্ধুগণ,

 

আজ গুজরাটের শিশুদের জন্য ৪,০০০-এরও বেশি আধুনিক অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রেরও উদ্বোধন করা হচ্ছে। এর ফলে প্রায় চার লক্ষ শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা মা উপকৃত হবেন।

 

বন্ধুগণ,

 

এই ধরনের প্রতিটি প্রচেষ্টার লক্ষ্য হল ভারতকে একটি উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা। আজ দেশের প্রত্যেক কৃষক, প্রত্যেক যুবক-যুবতী এবং প্রত্যেক মা-বোন উন্নত ভারত গড়ার সংকল্প নিয়ে এগিয়ে চলেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু মানুষ তা পছন্দ করেন না। তাঁরা এই অগ্রগতি মেনে নিতে পারেন না। এঁরা এমন মানুষ, যাঁরা দেশকে সংকটের মধ্যে দেখতে চান। দেশের দুর্দশা দেখেই তাঁরা সন্তুষ্টি লাভ করেন। যখনই দেশের সামনে কোনও চ্যালেঞ্জ আসে, তখনই তাঁরা খুশি হন।

 

বন্ধুগণ,

 

এর সাম্প্রতিক উদাহরণ হল ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলকে ঘিরে চলতে থাকা যুদ্ধ। এমন এক সময়ে, যখন ভারত তার প্রভাব মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে, তখন এই মানুষগুলি গুজব ছড়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। কৃষকদের মধ্যে গুজব ছড়ানো হয়েছিল যে সারের অভাব দেখা দেবে এবং সার পাওয়া যাবে না। কৃত্রিমভাবে সারের জন্য লম্বা লাইন তৈরি করা হয়েছিল এবং অশান্তির পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছিল। মহিলাদের ভয় দেখিয়ে বলা হয়েছিল, রান্নার গ্যাস আর পাওয়া যাবে না। তাঁদের প্রশ্ন করা হয়েছিল, তাহলে তাঁরা কীভাবে রান্না করবেন এবং কীভাবেই বা তাঁদের সন্তানরা স্কুলে যাবে? তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল দেশে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা, যাতে মোদীকে বদনাম করা যায়।

 

বন্ধুগণ,

 

আমি দেশের কৃষক ভাই-বোনদের একটি কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। আমি বলেছিলাম, মোদী আপনাদের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকবে। আর আপনারা নিজেরাই দেখতে পাচ্ছেন, যুদ্ধ এখনও চলতে থাকা সত্ত্বেও মোদী কৃষকদের জন্য সারের কোনও অভাব হতে দেয়নি। আমরা সারের সরবরাহে কোনও ঘাটতি হতে দিইনি।

 

বন্ধুগণ,

 

এই যুদ্ধের কারণে সারা বিশ্বে সারের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে গিয়েছে। সার উৎপাদনে ব্যবহৃত রাসায়নিক উপাদানগুলির দামও অনেক বেড়েছে। তা সত্ত্বেও সরকার এই বাড়তি আর্থিক বোঝা কৃষকদের ওপর পড়তে দেয়নি। বিশ্বের অন্যান্য দেশে এক বস্তা ইউরিয়ার দাম যেখানে প্রায় ৩,০০০ টাকা, সেখানে ভারতীয় কৃষকরা তা ৩০০ টাকারও কম দামে পাচ্ছেন। অর্থাৎ, বিশ্ববাজারে এক বস্তা ইউরিয়ার দাম প্রায় ৩,০০০ টাকা হলেও সরকার সেই বাড়তি খরচের বোঝা বহন করে কৃষকদের প্রায় ৩০০ টাকায় তা সরবরাহ করছে। বিশ্ববাজারে এক বস্তা ডিএপি সারের দাম ৫,০০০ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। কিন্তু ভারতীয় কৃষকরা সেই একই বস্তা প্রায় ১,৩৫০ টাকায় পাচ্ছেন। আমাদের কৃষকরা যাতে আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠেন এবং তাঁদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়, সেই লক্ষ্যেই দেশ তাঁদের এই সহায়তা প্রদান করছে।

 

বন্ধুগণ,

 

অনিশ্চয়তায় পরিপূর্ণ এই বিশ্বে ভারতের দ্রুত উন্নয়ন আজ সমগ্র বিশ্বের কাছে আশার এক নতুন উৎস হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে আমাদের ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’-এর পথে এগিয়ে চলতে হবে। আর আগামীকাল, ৩১ অক্টোবর, এই সংকল্পকে আরও দৃঢ় করার দিন। আগামীকাল সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্মবার্ষিকী এবং জাতীয় ঐক্য দিবস। সমগ্র দেশ জাতীয় ঐক্য দিবস উদযাপন করবে। এই উপলক্ষে সারা দেশে ‘রান ফর ইউনিটি’ বা ঐক্যের দৌড়ের আয়োজন করা হয়। ‘রান ফর ইউনিটি’কে ঘিরে দেশজুড়ে যে বিশাল প্রস্তুতি চলছে, তার খবর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসছে। আমি দেশের সকল নাগরিক, বিশেষ করে আমাদের তরুণ বন্ধুদের, আগামীকাল সকালে ‘রান ফর ইউনিটি’-তে উৎসাহের সঙ্গে অংশগ্রহণ করার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানাচ্ছি।

 

বন্ধুগণ,

 

প্রতি বছর ৩১ অক্টোবর সকালে একতা নগরে ঐক্য উৎসব উদযাপিত হয়। কিন্তু এ বছর ‘রান ফর ইউনিটি’ এবং অন্যান্য কর্মসূচির কথা বিবেচনা করে, সকালে নয়, সন্ধ্যায় এই উৎসবের আয়োজন করা হবে। এটি বিগত বছরগুলির তুলনায় একটি পরিবর্তন। আগামীকাল সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটায় একতা নগরে এক বর্ণাঢ্য ঐক্য উৎসব উদযাপিত হবে। অত্যন্ত ব্যাপক আকারে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। আপনারা অবশ্যই টেলিভিশনে অনুষ্ঠানটি দেখবেন। গুজরাটের মাটিতে এমন এক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে, যা আপনাদের দিল্লির প্রজাতন্ত্র দিবসের উদযাপনের কথা মনে করিয়ে দেবে। অবশ্যই অনুষ্ঠানটি দেখবেন। সেখানে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর কুচকাওয়াজ হবে এবং দৃষ্টিনন্দন ট্যাবলো প্রদর্শিত হবে। আগামীকাল সন্ধ্যায় এই অনুষ্ঠানেও দেশের সকল নাগরিককে অংশগ্রহণ করার জন্য আমি আহ্বান জানাচ্ছি। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী, কচ্ছ থেকে কামাখ্যা—সমগ্র দেশ যেন সর্দার প্যাটেলকে শ্রদ্ধা জানায় এবং ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’-এর সংকল্পকে পুনরায় দৃঢ় করে। এই আহ্বান জানিয়ে, এই উন্নয়নমূলক কাজগুলির জন্য আমি আপনাদের সকলকে আরও একবার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

 

আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ।

 

পিছনে বসে থাকা বোনেরা আমাকে আশীর্বাদ করছেন। মায়েরা, আপনাদের চরণে আমার প্রণাম। আপনাদের আশীর্বাদ আমাকে অপরিসীম শক্তি জোগায়। আপনাদের সকলের কাছে আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।

 

ভারতমাতার জয়!

 

ভারতমাতার জয়!

 

(এটি প্রধানমন্ত্রীর মূল ভাষণটি হিন্দিতে দেওয়া হয়েছিল) 

 

MH/SB/DM.