নতুনদিল্লি, ৫ নভেম্বর, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ নতুনদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ২০২৬ এর এশিয়ান প্যারা গেমসে অংশগ্রহণকারী ভারতীয় দলের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগে এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণকারী ভারতীয় দলের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর থেকেই তিনি প্যারা-এশিয়ান গেমসের ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষায় ছিলেন। তাঁদের এই দুর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্য খেলাধুলার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি বড় শক্তি হিসেবে ভারতের দ্রুত উত্থানের প্রতিফলন। ১৪০ কোটি দেশবাসীর পক্ষ থেকে খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি, তাঁদের পরিবার, ট্রেনার ও কোচদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তিনি তাঁদেরও ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ক্রীড়াবিদরা কেবল বড় প্রতিযোগিতায় পদকই পাননি, বরং সারা দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের হৃদয়ও জয় করে নিয়েছেন।
অতীতের সঙ্গে বর্তমানের তুলনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একসময় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ভারতের অংশগ্রহণকে শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখা হতো এবং প্যারা-স্পোর্টসের ক্ষেত্রে ভারত অনেক পিছিয়ে ছিল। ২০১০ সালের প্যারা এশিয়ান গেমসে ভারত মাত্র একটি স্বর্ণপদকসহ মোট ১৪টি পদক জিতেছিল। কিন্তু এবারের প্রতিযোগিতায় ভারতীয় দল ১১৪টি পদক জয়ের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩০টি সোনা, ৩৫টি রূপা ও ৪৯টি ব্রোঞ্জ। এর পাশাপাশি তাঁরা পাঁচটি বিশ্ব রেকর্ড এবং নয়টি এশিয়ান রেকর্ডও গড়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫৬ জন মহিলা ক্রীড়াবিদের মধ্যে ৩৪ জনই পদক জিতেছেন; চারটি প্রতিযোগিতায় ভারতীয় খেলোয়াড়রা প্রথম তিনটি স্থানই দখল করেছেন এবং প্রতিযোগিতার শেষ দিনেও তাঁরা নয়টি স্বর্ণপদক জিতেছেন। টুর্নামেন্টের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জয়ের ধারা বজায় রাখার এই অদম্য প্রয়াসের জন্য তিনি তাঁদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। “১৪টি থেকে ১১৪টি পদক পর্যন্ত পৌঁছানোর এই যাত্রা আপনাদের কঠোর পরিশ্রমেরই চূড়ান্ত ফসল।”
যেসব ইভেন্টে ভারত আগে কখনও সাফল্য পায়নি, সেগুলিতেও ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের প্রথমবার স্বর্ণপদক জয়ের প্রসংগটি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোনা আগরওয়াল প্যারা শুটিংয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন এবং হানি নিজের গড়া আগের বিশ্ব রেকর্ড নিজেই ভেঙেছেন। “হিমাংশু, রবি এবং জেহান তাঁদের ক্রীড়া নৈপূণ্যের মাধ্যমে পৃথিবীকে দেখিয়ে দিয়েছেন, কীভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করতে হয়।” শ্রী মোদী বলেন, পৃথিবী যখন ব্যক্তিগত বা সমষ্টিগত কোনো জয়লাভ প্রত্যক্ষ করে, সাফল্যের সেই বিশাল সৌধটি আসলে বহু বছরের না দেখা কঠোর পরিশ্রম আর অবিচল সাধনার ওপর গড়ে ওঠে। তিনি এই প্রসঙ্গে ক্রীড়াবিদ রিঙ্কুর কথা উল্লেখ করেন। রিঙ্কু এশিয়ান প্যারা গেমস শুরুর মাত্র দুই মাস আগে নিজের মাকে হারানোর পরও নিজের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হন নি এবং স্বর্ণপদক জয়ের পর মায়ের ছবি উঁচিয়ে ধরে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। “সেই মুহূর্তে আমরা সবাই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম।”
ক্রীড়াবিদদের লড়াই ও সাফল্যের কাহিনীকে অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক হিসেবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের ব্যক্তিগত পথ চলার সঙ্গে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের যাত্রাপথের মধ্যে সাদৃশ্যের বিষয়টি তুলে ধরেন। “আজ আপনাদের উদ্যোগ এবং দেশের প্রচেষ্টা একত্রিত হয়ে এক অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে পরিণত হয়েছে।”
শ্রী মোদী বলেন, ক্রীড়াবিদরা যেমন প্রতিকূলতার কাছে নতি স্বীকার করেননি, তেমনই তরুণ প্রতিভারা যাতে হারিয়ে না যান, দেশও তার জন্য পরিস্থিতিকে আমূল পরিবর্তনের সংকল্প নিয়েছে। ফলে তরুণ ক্রীড়াবিদদের মনে এই আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে যে, দেশ তাঁদের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। তিরন্দাজি, অ্যাথলেটিক্স, শুটিং, সাঁতার, টেবিল টেনিস, ব্যাডমিন্টন, জুডো এবং ভারোত্তোলনের মতো ক্ষেত্রে ভারতের ক্রমবর্ধমান আধিপত্যের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এশিয়ান প্যারা গেমসে প্রথমবার অংশগ্রহণকারী ৬১ জন ক্রীড়াবিদের মধ্যে ৩৬ জনই পদক জিতেছেন। সন্দীপ তাঁর প্রথম অংশগ্রহণেই বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন। “তরুণদের এই অংশগ্রহণ যেমন আজকের ভারতের মানসিকতার প্রতিচ্ছবি, পাশাপাশি তা ভবিষ্যতের ভারতেরও ঘোষণা।”
প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, সরকার খেলাধুলাকে কেবল জাতীয় বা আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিযোগিতার মাধ্যম হিসেবেই বিবেচনা করে না, বরং একে ব্যক্তিত্ব ও দেশ গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবে বিবেচনা করে। খেলাধুলা তরুণদের জীবনে প্রয়োজনীয় মূল্যবোধ সঞ্চার করে। “খেলাধুলাই একমাত্র মাধ্যম যা তরুণদের শেখায় কীভাবে হারের পর ঘুরে দাঁড়িয়ে জিততে হয় এবং শৃঙ্খলা ও দলীয় সংহতির প্রকৃত অর্থ কী।”
স্কুল ও তৃণমূল স্তরে প্রচার অভিযান, অসংখ্য ‘খেলো ইন্ডিয়া’ কেন্দ্র স্থাপন এবং ‘টপস’ প্রকল্পের আওতায় অলিম্পিক-মানের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একটি আধুনিক ক্রীড়া পরিকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি লালকেল্লার প্রাকার থেকে দেওয়া তাঁর সাম্প্রতিক ভাষণের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। সেই সময় তিনি তরুণদের অলিম্পিককে লক্ষ্য রেখে দেশব্যাপী প্রতিভা অন্বেষণ অভিযানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। “এই লক্ষ্য নিয়েই আমরা দেশের জন্য একটি আধুনিক ক্রীড়া পরিকাঠামো গড়ে তুলছি।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় উদ্যোগগুলোর মধ্যে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদের খেলাধুলাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে তাঁরা বড় বড় আন্তর্জাতিক আসরে নিজেদের সাফল্য তুলে ধরতে পারেন। সাম্প্রতিক প্রতিযোগিতায় অর্জিত ফলাফলের দিকে ইঙ্গিত করে শ্রী মোদী বলেন, “এই প্রতিযোগিতায় ‘টপস’ প্রকল্পের সহায়তা পাওয়া ক্রীড়াবিদরা ৪১টি পদক এবং ‘খেলো ইন্ডিয়া’র ক্রীড়াবিদরা ১৯টি পদক পেয়েছেন—যার থেকে প্রমাণিত আমরা সঠিক পথেই এগিয়ে চলেছি।”
ভারতের আধুনিক ক্রীড়া নীতিগুলি যে খেলার মাঠের বাইরেও তরুণদের জন্য প্রচুর সুযোগ তৈরি করছে, সেই বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ক্রীড়া পরিকাঠামো নির্মাণ, খেলাধুলার সরঞ্জাম উৎপাদন এবং সম্প্রচার সংক্রান্ত অর্থনীতির দ্রুত প্রসারের দিকগুলি তুলে ধরেন। “আজ ভারতে ক্রীড়া সংক্রান্ত আধুনিক নীতিগুলি খেলার মাঠের বাইরেও তরুণদের জন্য ক্রীড়া জগতে অসংখ্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছে।”
১,৮০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের ‘খেলো ইন্ডিয়া স্পোর্টস গুডস ম্যানুফ্যাকচারিং স্কিম’ -এর সাম্প্রতিক অনুমোদনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী দেশীয় ক্রীড়া সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক শিল্পে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। সারা পৃথিবীতে ক্রীড়াবিদরা যেন ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’র পোশাক ও জুতো পরে মাঠে নামেন সেটি নিশ্চিত করতে হবে। এর ফলে অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগ শক্তিশালী হবে এবং ছোট ছোট শহর ও গ্রামাঞ্চলে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। “আমরা চাই ভারত থেকে আন্তর্জাতিকমানের খেলোয়াড়রা উঠে আসুন, পাশাপাশি দেশে বিশ্বমানের ক্রীড়া সরঞ্জামও উৎপাদিত হোক।”
ক্রীড়াবিদদের পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্কুল, কলেজ বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার সময় তাঁরা যেন তরুণদের খেলার মাঠে জয়ের পাশাপাশি মাঠের বাইরের খেলাধুলা সংক্রান্ত পেশার বিষয়েও পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে তিনি ভিন্ন ভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—প্রতিবন্ধীদের পেনশন বৃদ্ধি, পেনশনের যোগ্যতার মাপকাঠি ৮০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪০ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং ১৮ বছরের পরিবর্তে জন্ম থেকেই পেনশনের সুবিধা প্রদান। এছাড়া, ১০ হাজার শব্দের একটি ভারতীয় সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ অভিধান তৈরি, সাইন ল্যাঙ্গুয়েজে পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ এবং ‘সুগম্য ভারত অভিযান’-এর মাধ্যমে সর্বসাধারণের ব্যবহার্য স্থানগুলি যাতে ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য প্রবেশযোগ্য করে তোলার মতো পদক্ষেপগুলোও তিনি তুলে ধরেন। “আমাদের লক্ষ্য হলো, দেশের প্রতিটি ভিন্ন ভাবে সক্ষম ভাই-বোন যেন যথাযথ সম্মান পান, সমান সুযোগ সুবিধা লাভ করেন এবং নিজেদের ক্ষমতার জোরে জীবনে এগিয়ে যেতে পারেন।”
২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস গেমসের বিষয়ে ভারতের লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ক্রীড়াবিদদের মনে করিয়ে দেন যে, আইচি-নাগোয়া প্রতিযোগিতা অন্তিম গন্তব্য নয়, বরং এটি এক যাত্রার সূচনা মাত্র। উল্লেখ্য, অবনী ও মণীশ ইতিমধ্যেই ২০২৮ গেমসে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী ক্রীড়াবিদদের তাঁদের এই জয় উদযাপনের পাশাপাশি ২০২৮ সালে রেকর্ড সংখ্যক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ ও পদক জয়ের লক্ষ্যে এখনই প্রস্তুতি শুরু করার আহ্বান জানান। তাঁদের শুভকামনা জানিয়ে তিনি তাঁর ভাষণ শেষ করেন। “সমগ্র দেশ আপনাদের পাশে আছে এবং আপনাদের পরবর্তী জয়ের অপেক্ষায় রয়েছে।”
MKH/CB/DM…..
What a performance by our Asian Para Games athletes! They have shown what aiming high really looks like. https://t.co/5t3aCa71rT
— Narendra Modi (@narendramodi) November 5, 2026
2010 के Para Asian Games में भारत ने बस 1 Gold जीता था। कुल मिलाकर उस tournament में हम केवल 14 medals जीत पाये थे। वहीं, इस बार हमारे खिलाड़ी 114 medals ke साथ आए हैं। 14 से 114 medals की ये यात्रा आपके परिश्रम की पराकाष्ठा का परिणाम है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) November 5, 2026
Olympics को ही ध्यान में रखते हुए इस बार लाल किले से मैंने talent hunt अभियान में युवाओं से आगे आने का आह्वान किया है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) November 5, 2026
सरकार ने खेलो इंडिया Sports Goods Manufacturing Scheme को मंजूरी दी है। अब समय है, हमारी Sports Goods Manufacturing Industry भी नए कमाल करे। जब कोई भारतीय या विदेशी खिलाड़ी किसी मैदान पर उतरे तो, उसके sports gear भी ‘Made in India’ हों और उसके कपड़े-जूते भी ‘Made in India’ हों: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) November 5, 2026
हम चाहते हैं कि भारत world-class players भी दे और world-class sports equipment भी बनाए: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) November 5, 2026