Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

রানী গাইদিনলিউ জন্মশতবার্ষিকী উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

রানী গাইদিনলিউ জন্মশতবার্ষিকী উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

রানী গাইদিনলিউ জন্মশতবার্ষিকী উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

রানী গাইদিনলিউ জন্মশতবার্ষিকী উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

রানী গাইদিনলিউ জন্মশতবার্ষিকী উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

রানী গাইদিনলিউ জন্মশতবার্ষিকী উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

রানী গাইদিনলিউ জন্মশতবার্ষিকী উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

রানী গাইদিনলিউ জন্মশতবার্ষিকী উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

রানী গাইদিনলিউ জন্মশতবার্ষিকী উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

রানী গাইদিনলিউ জন্মশতবার্ষিকী উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ


উপস্থিত সকল মাননীয় ব্যক্তিবর্গ,

আমরা রানী মায়ের জন্মশতবার্ষিকী পালন করতে যাচ্ছি। আমি নতমস্তকে রানী মাকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাই। রানী মায়ের জীবন আমাদের সকলকে প্রেরণা জোগায়। দেশের একতা, অখন্ডতা বজায় রাখতে উন্নতির নতুন উচ্চতা লঙ্ঘন করে যেতে যাঁরা স্বপ্ন দেখেছিলেন, তাঁদের মধ্যে রানী মা’ও একজন ছিলেন।

এটা আমাদের দেশের দুর্ভাগ্য যে, স্বাধীনতার পর এতো বছর কেটে যাওয়ার পরও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অনেক বীর সেনানীর বীরত্বের কাহিনী এখনও ইতিহাসের পাতায় অনুজ্জ্বল। নিজের দেশের পরাক্রমী বীরদের ইতিহাসে যথাযথ স্থান দেওয়া প্রত্যেক সমাজেরই দায়িত্ব। এই পুঁজি প্রজন্মের পর প্রজন্মকাল ধরে দেশবাসীকে তাঁদের মহান ইতিহাস সম্পর্কে গর্বিত করবে। সময়ে সময়ে এই বীরগাথাগুলির সংযোজন তাই অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তবেই সমাজ বেঁচে থাকার এবং দেশের জন্য প্রাণদানের প্রেরণা পাবে।

একটা সময়ে ইতিহাস শুধু রাজপুরুষদের কীর্তিকলাপ, শাসকদের কার্যকলাপের বর্ণনাতেই সীমাবদ্ধ ছিল। ভারতের পরম্পরা একটি ভিন্ন ঐতিহ্যে লালিত। এদেশে সাধারণ মানুষের পরাক্রমকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ দেশের মানুষ মনে করেন, দেশ শুধুই রাজা-মহারাজাদের দ্বারা গঠিত হয়নি। সাধারণ মানুষ এই দেশকে নির্মাণ করেছেন। তাঁদের সাহস, শক্তি, পরাক্রম, রক্ত ও ঘামের দ্বারা এই দেশ পল্লবিত। সেজন্যই আমরা যতক্ষণ কেবলই শাসকদের কীর্তির কথা বলতে থাকবো, আমাদের ক্যামেরার ফোকাস শুধুই তাঁদের ওপর থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা সাধারণ মানুষের শক্তিকে উপলব্ধি করতে পারবো না।

যখন আমরা রানী মায়ের জন্মশতবার্ষিকী পালনের উদ্যোগ নিলাম, দিল্লিতে অনেকেই জিজ্ঞাস করতে শুরু করলেন, ইনি আবার কে? এটা কী করছেন আপনারা? এটা প্রশ্নকর্তাদের দোষ নয়, দোষ আমাদের বিকৃত ব্যবস্থার। সেজন্যই যে অসংখ্য মহাপুরুষ ও মহীয়সীরা প্রতি মূহুর্তে আমাদের প্রেরণা দিতে পারেন, তাঁদেরকে আমরা ভুলে বসে আছি অথবা ইচ্ছাকৃতভাবেই তাঁদেরকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই বিস্মৃতি কোনও সমাজের পক্ষেই শুভ লক্ষণ নয়। বিগত ৬০ বছরে রানী মা এবং তাঁর মতো আরও অনেক মহাপুরুষ এই উত্তর-পূর্ব ভারতে বিস্মৃতির অন্তরালে চলে গেছেন। এঁদের জীবন ও আদর্শকে নবীন প্রজন্মের সামনে যথাযথভাবে তুলে ধরতে পারলে আজ ভারতের এই রাজ্যগুলিতে বিচ্ছিন্নতাবাদের অঙ্কুরোদগমই হতো না। কারণ, এই যুবকরাই তখন দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করতে এগিয়ে আসতো।

এই অঞ্চলের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নেতা জাদোনাঙ্গ – এর ফাঁসি হয়েছিল। সেই সময়ে ব্রিটিশ সরকারের চালে তাঁদের সংগঠন ভেঙে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এত অল্প বয়সী নেতার ফাঁসি তাঁর অনুগামীদের নিরাশ করলেও তাঁদের সংগঠন কিন্তু ভেঙে যায়নি। আমরা কল্পনাও করতে পারবো না কতটা তীব্র দেশপ্রেম থাকলে মাত্র ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সে রানী মা তাঁর গুরুর ফাঁসির পরও তেরঙ্গা’কে অবনমিত হতে দেননি, সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে নিজেকে সঁপে দেন। গুরু-শিষ্য পরম্পরা এর থেকে বড় উদাহরণ কী হতে পারে? স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে গুরুর ফাঁসি হলে তাঁর পতাকা ধারণ করেন মাত্র ১৩ বছর বয়সী কন্যা আর নিজের জীবন উৎসর্গ করে দেন। ব্রিটিশের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়ে এত বছর জেলে কাটিয়েছেন। সারা ভারতে তখন তাঁর বীরত্বের কথা শোনা যেত। পণ্ডিত নেহরু তাঁর সঙ্গে দেখা করতে জেলখানায় এসেছিলেন। কত অসামান্য ব্যক্তিত্ব হলেই সেটা সম্ভব হয়েছিল। এমনিতে কংগ্রেস দল অহিংসায় বিশ্বাসী ছিল। কিন্তু, গুজরাটের হরিপুরা কংগ্রেস অধিবেশনে সুভাষ চন্দ্র বসু সভাপতি নির্বাচিত হলে এই সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামীর মুক্তির জন্য প্রস্তাব রেখেছিলেন। রানী মায়ের মুক্তির সপক্ষে কংগ্রেস দলের সিদ্ধান্ত তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বলে বিবেচিত হয়েছিল।

কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও রানী মা’কে জেল থেকে মুক্তি দিতে তিন-চার মাস সময় লেগে গিয়েছিল। এর থেকে বড় দুর্ভাগ্য আর কী হতে পারে! দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও রানী মা’কে তিন-চার মাস কারান্তরালে থাকতে হয়েছিল আর আমাদের রাজনৈতিক বিকৃতির কারণে স্বাধীনতার পরও রানী মা’কে তাঁর নিজের গ্রামে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

যে রানী মা দেশের স্বাধীনতার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, যিনি কখনও ইংরেজদের সামনে মাথানত করেননি জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পরও স্বাধীন ভারতে দশ বছর তাঁকে সাম্প্রদায়িক অসহিষ্ণুতার কারণে লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকতে বাধ্য করা হয়েছিল। রানী মা প্রকৃতির পূজারী ছিলেন, তিনি প্রকৃতিকে পরমাত্মা বলে শ্রদ্ধা করতেন। আজ গোটা বিশ্বের সামনে উষ্ণায়নের যে সমস্যা প্রকট হয়ে উঠেছে, আমরা যদি রানী মায়ের উপদেশ, তাঁর প্রকৃতি প্রেমকে অনুভব করি, তাঁর দর্শন আমাদের সঠিক পথ দেখায়।

রানী মায়ের হরা সম্প্রদায়, প্রকৃতি পূজার সম্প্রদায় ছিল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও দশ বছর তাঁর বিরোধীদের দৌরাত্মে তাঁকে লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকতে হয়েছিল। তারপর অবশ্য, পরিস্থিতি বদলায় কিন্তু তিনি বাকি জীবনটা সমাজ সেবাতেই কাটিয়ে দেন। মাঝে মধ্যে তাঁকে কিছু সম্মান সংবর্ধনা দেওয়ার খবর প্রকাশিত হতো কিন্তু তিনি যতদিন বেঁচে ছিলেন সমাজ সেবাকে তাঁর জীবনের ব্রত করে নিয়েছিলেন।

প্রকৃতি পূজার বিপরীত পরিবেশেও তিনি নিজের লক্ষ্যে স্থির ছিলেন। তিনি সংঘর্ষের পথে যাননি। এই শ্রদ্ধেয়া বীরাঙ্গনা সমাজের উন্নতির কথা ভেবে সমন্বয়ের পথ বেছে নিয়েছিলেন। সশস্ত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তাঁর গুরুর ফাঁসি হয়েছিল, সেই লড়াইকে এগিয়ে নিতে গিয়ে তিনি এত বছর কারান্তরালে কাটিয়েছেন, তবুও তিনি ১৯৩২-৩৫ সাল নাগাদ উত্তর-পূর্ব ভারতে মহাত্মা গান্ধী জয়গান গেয়েছেন। এ ধরণের সমন্বয়পন্থী মহান ব্যক্তিত্বের আদর্শকে আমরা দেশের নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে পারিনি। তাঁদের প্রেরণা পরবর্তী প্রজন্মের মনে সঞ্জীবিত করতে পারেনি।

তিনি সব সময়ে স্বপ্ন দেখতেন, নাগা সংস্কৃতির উৎকর্ষ। আমাদের দেশের গর্ব এই নাগা বীরাঙ্গনা দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতার স্বপ্ন দেখতেন। অখণ্ড ভারতের স্বাধীনতার জন্য তিনি লড়াই করেছেন। তিনি বলতেন, মহাত্মা গান্ধী একদিন রাজা হবেন। দেশের সুশীল সমাজের নেতৃত্ব দেবেন মহাত্মা গান্ধী। এভাবেই তিনি নিজের অনুগামীদের শিক্ষিত করতেন।

আমাদের সকলের দায়িত্ব দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এ ধরনের যত মহান ব্যক্তিত্ব রয়েছেন, তাঁদের জীবন ও আদর্শকে নতুন প্রজন্মের সামনে সঠিকভাবে তুলে ধরা। আন্দামানের সেলুলার জেলে যান, দেখবেন সেখানকার পাথরে কত অসংখ্য স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নাম খোদিত রয়েছে। অথচ, সেই মহাপুরুষদের গ্রাম কিংবা তাঁদের রাজ্যের মানুষ তাঁদের সম্পর্কে কিছুই জানেন না। তাঁরা জানেন না, আজ থেকে ১০০ বছর আগে দেশের স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখা মানুষটি তাঁদের গ্রাম থেকেই দেশের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন।

আমাদের সমাজের এই অসম্পূর্ণতাকে আমাদের সম্পূর্ণ করতে হবে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে যে গবেষকরা গবেষণা করেন, তাঁদের এগিয়ে আসতে হবে। উত্তর-পূর্ব ভারতের এই মহান ব্যক্তিদের জীবন নিয়ে গবেষণা করা, দেশের উত্তর-দক্ষিণ-পূর্ব-পশ্চিম সমস্ত প্রান্তের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের গৌরবগাথাকে গবেষণার মাধ্যমে ইতিহাসের অন্তর্ভুক্ত করার দায়িত্ব তাঁদের পালন করতে হবে।

জাতীয় সংহতির জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আজ যেকথা মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, তাঁদের বক্তব্যকে সম্মান জানিয়ে আমরা কিভাবে এগিয়ে যাব? এটা গোটা দেশের দায়িত্ব।

রানী মা তাঁর গোটা জীবন কারান্তরালে কেন কাটিয়েছেন? তাঁর নিজের কোনও স্বার্থ তো ছিল না, তিনি দেশকে স্বাধীন দেখতে চেয়েছিলেন, দেশকে ঐক্যবদ্ধ এবং উন্নত দেখতে চেয়েছিলেন। পূর্ব ভারতে যতদিন উন্নয়ন হবে না, ততদিন দেশ উন্নত হতে পারে না, উত্তর-পূর্ব ভারতে যতদিন উন্নয়ন হবে না, ততদিন দেশ উন্নত হতে পারে না।

সেজন্য আপনারা দেখেছেন, আমাদের সরকার পরিকাঠামো ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করেছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য। কারণ আমি জানি, একবার পরিকাঠামো তৈরি হয়ে গেলে ঈশ্বরের আশীর্বাদে দেশের অন্যান্য প্রান্তের তুলনায় এই অঞ্চলের উন্নয়ন দ্রুত হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হলে এই অঞ্চলের চেহার বদলে যাবে। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের বলেছি, এবার পর্যটনস্থল হিসেবে আপনারা উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বেছে নিন।

গত বছর অনেক ছাত্রছাত্রী দেশের অন্যান্য প্রান্ত থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বেড়াতে এসেছিলেন। তারা এখানকার জীবনযাত্রা দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। তারা বাড়ি ফিরে সবাইকে নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা বলেছিলেন। আমাদের এভাবে প্রতিনিয়ত যুক্ত থাকার কথা ভাবতে হবে। অরুণজী যেমন বললেন, বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সীমান্ত বিবাদ মিটে যাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। দু’দেশের জন্যই এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত লাভদায়ক হয়েছে। বিশেষ করে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য এটি লাভদায়ক হয়েছে। ভৌগোলিকভাবেও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে দেশের অন্যান্য প্রান্তের সঙ্গে দূরত্ব কমেছে। পরিকাঠামোর উন্নতি হলে গোটা দেশই আরও লাভবান হবে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সমস্ত রাজ্যের রাজধানীগুলিকে রেলপথে যুক্ত করার কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চল দেশের ‘অর্গানিক ক্যাপিটাল’ হয়ে ওঠার সামর্থ রাখে। আপনারা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের আনারস খেয়েছেন। একবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আনারস খেয়ে দেখুন, বুঝতে পারবেন ঈশ্বর আমাদের কী দিয়েছেন।

আরেকটা কথা বলি, আমাদের জেলিয়াঙ্গজী বললেন, আপনি শুধু আনারসের কথা বলছেন কেন, আমাদের কাঁচালঙ্কার কথা কেন বলছেন না। খুব কম মানুষই জানেন যে, বিশ্বের সবচেয়ে ঝাল লঙ্কা নাগাল্যান্ডে হয়। এই অঞ্চল বহু বৈচিত্র্যের সমাহার ধারন করে। দেশের আর্থিক বিকাশে এই অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। হ্যাঁ ঠিক শুনেছেন, ভারত কেবল এই অঞ্চলের উন্নয়নই করবে না, এই অঞ্চলের উন্নয়ন ভারতের উন্নয়নের নতুন কারণ হয়ে উঠবে। আমি তা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি।

সেজন্যই আমাদের সরকার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে এগিয়ে চলেছে। স্বাধীনতার আগে থেকেই নাগাল্যান্ডে যে বিচ্ছিন্নতাবাদ ও সন্ত্রাসবাদের স্বর শোনা গেছে, প্রত্যেক সরকারই তার সমাধানের চেষ্টা করেছে। কখনও পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে আবার কখনও অবনতি হয়েছে। কিন্তু, প্রত্যেক সরকারই নিজের মতো করে চেষ্টা চালিয়ে গেছে, যার পরিণামস্বরূপ আজ নাগাল্যান্ডের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে সফল আলোচনা সম্ভব হয়েছে। তাঁরাও এখন মূলস্রোতের সঙ্গে মিশে গিয়ে নাগাল্যান্ডের বিকাশ, গোটা উত্তর-পূর্বাঞ্চল তথা গোটা ভারতের উন্নয়নের স্বপ্ন দেখছেন।

আমার বিশ্বাস, যে যাত্রা শুরু হয়েছে, পাশাপাশি চলার এই অভিযান সফল হবে, দেশ উন্নতির নতুন শিখরে পৌঁছবে। আজ রানী মায়ের স্মৃতিতে এই মুদ্রা প্রকাশিত হল। এখানে যাঁরা বসে আছেন তাঁরা কল্পনাও করতে পারবেন না যে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রত্যেক বাড়িতে এই মুদ্রা কত গুরুত্ব পাবে!

তাঁদের জন্য এটি একটি পবিত্র মূহুর্ত। এত বড় প্রেরণাদাত্রী ছিলেন রানী মা। এই মহান ব্যক্তিত্বের জীবনের সঙ্গে বর্তমানকে যুক্ত করতে পেরে সরকারের কর্ণধার হিসেবে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমাদের ভবিষ্যতের নির্মাণে এহেন ব্যক্তিত্বের প্রেরণার গুরুত্ব অপরিসীম। এ থেকে আমরা শক্তি পাব, এই শুভেচ্ছা নিয়েই আমি আরেকবার রানী মায়ের চরণে প্রণাম জানাই। তাঁর আশীর্বাদ আমাদের সবাইকে তাঁর ‘সমৃদ্ধ দেশ, ঐক্যবদ্ধ দেশ, অখন্ড দেশ’ – এর স্বপ্নকে সাকার করতে প্রেরণা জোগাবে।

অনেক অনেক শুভেচ্ছা।

PG/SB/SB/25_AUGUST_2015