Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

সরকারি প্রশাসন ও উন্নয়ন ক্ষেত্রে মহাকাশ প্রযুক্তিভিত্তিক সরঞ্জাম ও প্রয়োগ বৃদ্ধিকল্পে জাতীয় বৈঠকের বিশেষ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

সরকারি প্রশাসন ও উন্নয়ন ক্ষেত্রে মহাকাশ প্রযুক্তিভিত্তিক সরঞ্জাম ও প্রয়োগ বৃদ্ধিকল্পে জাতীয় বৈঠকের বিশেষ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

সরকারি প্রশাসন ও উন্নয়ন ক্ষেত্রে মহাকাশ প্রযুক্তিভিত্তিক সরঞ্জাম ও প্রয়োগ বৃদ্ধিকল্পে জাতীয় বৈঠকের বিশেষ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

সরকারি প্রশাসন ও উন্নয়ন ক্ষেত্রে মহাকাশ প্রযুক্তিভিত্তিক সরঞ্জাম ও প্রয়োগ বৃদ্ধিকল্পে জাতীয় বৈঠকের বিশেষ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

সরকারি প্রশাসন ও উন্নয়ন ক্ষেত্রে মহাকাশ প্রযুক্তিভিত্তিক সরঞ্জাম ও প্রয়োগ বৃদ্ধিকল্পে জাতীয় বৈঠকের বিশেষ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

সরকারি প্রশাসন ও উন্নয়ন ক্ষেত্রে মহাকাশ প্রযুক্তিভিত্তিক সরঞ্জাম ও প্রয়োগ বৃদ্ধিকল্পে জাতীয় বৈঠকের বিশেষ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

সরকারি প্রশাসন ও উন্নয়ন ক্ষেত্রে মহাকাশ প্রযুক্তিভিত্তিক সরঞ্জাম ও প্রয়োগ বৃদ্ধিকল্পে জাতীয় বৈঠকের বিশেষ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

সরকারি প্রশাসন ও উন্নয়ন ক্ষেত্রে মহাকাশ প্রযুক্তিভিত্তিক সরঞ্জাম ও প্রয়োগ বৃদ্ধিকল্পে জাতীয় বৈঠকের বিশেষ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

সরকারি প্রশাসন ও উন্নয়ন ক্ষেত্রে মহাকাশ প্রযুক্তিভিত্তিক সরঞ্জাম ও প্রয়োগ বৃদ্ধিকল্পে জাতীয় বৈঠকের বিশেষ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ


বন্ধুগণ, বিগত ২০১৪ সালের জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরই আমি শ্রীহরিকোটায় গিয়েছিলাম। কারণ, আমি এই বিভাগেরও মন্ত্রী। এই বিভাগ সম্পর্কে ভালোভাবে বোঝার জন্য গিয়েছিলাম। তখন বৈজ্ঞানিকরা আমার সামনে যে বিশদ উপস্থাপনা পেশ করেন। তারপর আমি তাঁদেরকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, এই মহাকাশ প্রযুক্তি দেশের সাধারণ মানুষের কতটা কাজে লাগবে? সরকারের বিভিন্ন বিভাগ কতটা এই প্রযুক্তির মাধ্যমে জনগণকে কতটা পরিষেবা দিতে পারছে? আমি তাঁদেরকে অনুরোধ করেছিলাম, সমস্ত তথ্য সন্নিবদ্ধ করতে। আমি ভেবেছিলাম, অধিকাংশ সরকারই সাহসী হয় না, নতুন কিছু করতে চায় না, অধিকাংশ আবিষ্কারই দু-একজন আধিকারিকের ব্যক্তিগত উৎসাহে হয়। প্রযুক্তির পরিবর্তনকে যথাযথ ব্যবহারের খাতিরে সঠিক পরিকাঠামো নির্মাণ করতে না পারলে আমরা নতুন যুগের সঙ্গে তালমিলিয়ে চলতে পারবো না। নতুন যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে অধুনাতম প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতেই হবে।

আজ গোটা বিশ্বে মহাকাশ বিদ্যাচর্চায় ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করেছে। আমাদের বৈজ্ঞানিকদের জন্য প্রতিটি ভারতবাসী গর্ব করতে পারেন। কিন্তু, ভারত যখন মহাকাশ প্রযুক্তি ক্ষেত্রে পদার্পণ করেছিল, তখন একটি বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। আমাদের মতো দরিদ্র দেশ মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে টাকা খরচ করবে কিনা, সে বিতর্ক আজও চলছে। এই প্রশ্নের উত্তরে ডঃ বিক্রম সারাভাই খুব সুন্দর কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যে, ভারতের মতো গরিব দেশ কেন এই প্রতিযোগিতায় নামবে? আসলে আমরা কোনও প্রতিযোগিতায় যাচ্ছি না, সাধারণ মানুষের জীবনে প্রযুক্তির ব্যবহারকে সুলভ করে সকল পরিষেবায় আমরা উন্নতি ঘটাতে চাই। তাঁর সেই দর্শন যে ভুল ছিল না, আজ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নানা আবিষ্কারের মাধ্যমে আমাদের ইসরোর বৈজ্ঞানিকরা যে সাফল্য পেয়েছেন, সেই সাফল্যকে দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে কাজে লাগিয়ে কম-বেশি অনেক পরিষেবাকেই উন্নত করা গেছে।

একটু আগেই আমি আপনাদের ‘প্রেজেন্টেশন’ দেখছিলাম। এটা দেখে খুব ভালো লাগলো যে, সকল বিভাগই এই প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। কোনও কোনও বিভাগ অনেকটাই এগিয়ে গেছে, আর অন্য বিভাগগুলিও কাজ শুরু করে দিয়েছে। সম্প্রতি আমি বেনারসে লোকো-শেড – এ গিয়েছিলাম, একটি হাই-পাওয়ার ইঞ্জিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। তখন আমি রেলের প্রযুক্তিবিদদের জিজ্ঞেস করি, বিমানের ককপিটে যেমন আবহাওয়া সংক্রান্ত সূচনার যন্ত্র রয়েছে, যার মাধ্যমে আগামী এত মিনিট পর বিমানটি এই পরিমাণ মেঘের মধ্য দিয়ে যাবে, যাতে অত্যন্ত ঝাঁকুনি লাগবে – এ ধরনের সংকেত যাত্রীদের জানানো যায়, রেলের ক্ষেত্রেও এ রকম কিছু করা যায় কি না? ইঞ্জিন ড্রাইভারের সামনে এমন কোনও কৃত্রিম উপগ্রহ সংযোগ বিশিষ্ট মনিটরিং সিস্টেম লাগানো যায় কি না যার মাধ্যমে তিনি প্রহরী বিহীন লেভেল ক্রসিংগুলিকে দু-চার কিলোমিটার আগে থেকেই বিশেষ প্রকার আলো এবং হর্নের মাধ্যমে সতর্ক করতে পারবেন। তারপর, তিন-চার মাসও হয়নি, রেল বিভাগ থেকে আমাকে জানানো হয়েছে যে এ বিষয়ে তাঁরা অনেকটাই এগিয়ে গেছেন এবং খুব শীঘ্রই তাঁদের এই উদ্ভাবনকে কার্যকর করবেন। মাত্র তিন-চার মাসের মধ্যে আমাদের বৈজ্ঞানিকরা তাঁদের নতুন উদ্ভাবনের খবর শুনিয়ে দিলেন।

আমার বিভাগের সহকর্মীদের অনুরোধ করবো, আপনারাও একটি ছোট্ট সেল বানান যেখানে প্রতিটি পরিষেবা ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহারকে কিভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হবে। আপনাদের চিন্তাকে বাস্তবায়িত করতে কী কী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, তা আমরা ইসরোর বৈজ্ঞানিকদের সামনে তুলে ধরবো। তা হলেই দেখবেন, তাঁরা তক্ষুনি কাজে লেগে পড়বেন। আপনাদের তথ্য সংগ্রহ, কনভার্সন এবং তাকে পরিষেবায় রূপান্তরণে প্রযুক্তিকে কিভাবে ব্যবহার করবেন সেই সমস্যার সমাধান কিছুদিনের মধ্যেই আপনারা পেয়ে যাবেন। এরকম বেশ কিছু নতুন পদক্ষেপ আমরা নিতে পারি।

২০১৪ সালের জুন মাসে যখন আমি ইসরো গিয়েছিলাম, তখন প্রায় ২০টি সরকারি বিভাগ মহাকাশ প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত ছিল। একটু আগেই কিরণজী আমাদেরকে সেকথা বললেন। আর আজ প্রায় ৬০টি সরকারি বিভাগ মহাকাশ প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। এটা কিভাবে সম্ভব হল? ছোট ছোট চেষ্টা, বিভিন্ন দপ্তরে ছোট ছোট আলোচনা এবং সমন্বয়সাধনের মাধ্যমে আমার মতে, স্বাধীন ভারতের সরকার পরিচালনার ইতিহাসে এটা সবচেয়ে বড় ঘটনা যে কেন্দ্র ও বিভিন্ন রাজ্যে প্রায় ১ হাজার ৬০০ আধিকারিক একত্রিত হয়ে সারা দিন ধরে একটি বিষয়ে ‘ব্রেইন স্টরমিং’ করেছেন, কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেছেন। এই একদিনের কর্মশালা আসলে একদিনের কর্মশালা নয়, এর পেছনে রয়েছে গত ৬-৮ মাস ধরে প্রতিটি দপ্তরের সঙ্গে, প্রতিটি রাজ্যের সঙ্গে বৈজ্ঞানিকদের দেখা-সাক্ষাৎ, কথাবার্তা, সমস্যাগুলি খুঁজে বের করা এবং সমাধান খোঁজার পরিণাম এই কর্মশালা। আজ আমরা একটি প্রত্যয় নিয়ে একত্রিত হয়েছি যে, আমরা এই সমস্যাগুলির সমাধান খুঁজতে পারবোই।

সুলভ প্রযুক্তির ব্যবহার সরলভাবে দরিদ্র থেকে দরিদ্রতম ব্যক্তির কাছে কিভাবে পৌঁছবে? এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আপনারা হয়তো দেখেছেন, সম্প্রতি হরিয়ানার নির্বাচনে কৃত্রিম উপগ্রহ প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন ধরনের পরিচয়পত্র চালু করা হয়েছে। কেউ উদ্যোগ নিয়েছেন বলেই এই চমৎকার সম্ভব হয়েছে।
নতুন কিছু করতে না পারলেও যে প্রযুক্তি আমাদের হাতে রয়েছে দেশের সাধারণ মানুষের প্রয়োজন অনুসারে সেই প্রযুক্তিকে কিভাবে পরিষেবায় রূপান্তরিত করা যায় তা নিয়ে ভাবতে হবে। আমাদের ডাকবিভাগের এত বড় নেটওয়ার্ক রয়েছে, সেই নেটওয়ার্ককে আমরা উপগ্রহ প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করে দেশের সাধারণ নাগরিকদের কতটা পরিষেবা দিতে পারি? ডাকঘর সাধারণ মানুষের জীবনের অঙ্গ। প্রায় প্রতিটি পরিবারের কেউ না কেউ বাইরে থাকেন। তাঁদের চিঠিপত্র, মানি-অর্ডারের প্রতীক্ষায় থাকে প্রায় প্রতিটি পরিবার। গ্রামের প্রতিটি মানুষ ডাক পিওন’কে ভালোবাসেন। ডাকঘরের প্রতি মানুষের এই বিশ্বাসের সঙ্গে প্রযুক্তিকে যুক্ত করলে পরিষেবা আরও উন্নত হবে।

আমি যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম, তখন কিরণজীও আমাদের ওখানে ছিলেন, তাঁর সঙ্গে আমার খুব ভালো বন্ধুত্ব ছিল। নিয়মিত কথাবার্তা হতো। নতুন কি আবিষ্কার হয়েছে, সেই আবিষ্কার জনগণের কী কাজে লাগবে, এসব নিয়েই কথাবার্তা হতো। এই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের মোবাইলের মাধ্যমে তথ্য সরবরাহের পরিষেবা চালু করা হয়। উপগ্রহ সংযুক্তিকরণের মাধ্যমে কত অমুক অক্ষরেখা, তমুক দ্রাঘিমা রেখায় মাছেরা একত্রিত হয়েছে, আর মাছেরা একত্রিত হলে প্রায় ২৪ ঘন্টা সেই এলাকায় থাকে। আগে জেলেরা গভীর সমুদ্রে গেলে ঘন্টার পর ঘন্টা যত্রতত্র জাল ফেলে দীর্ঘ প্রতীক্ষায় থাকতেন, ভাগ্য ভালো থাকলে জালে মাছ থাকতো না হলে খালি হাতে ফিরতে হতো। নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে তাঁদের প্রতিদিনকার সমুদ্র অভিযান অর্থবহ হয়ে ওঠে। জ্বালানির খরচ কমে, সময় ও শক্তিও বাঁচে। এভাবেই দরিদ্র মানুষের কাজে লাগলে প্রযুক্তির ব্যবহারে সাফল্য আসে।

আজ শুনলাম, মধ্যপ্রদেশের আদিবাসীদের হাতে জমির পাট্টা তুলে দেওয়ার পরিষেবায় এই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। আমরা এই পরিষেবা আরও উন্নত কিভাবে করতে পারি? অনেক আদিবাসী মানুষ বলেন, আমরা যে জমিতে চাষ করি, সেটা আমাদের হওয়া উচিত। গ্রামের মানুষরা বলেন, ও মিথ্যে কথা বলছে, কোনও চাষবাস করে না, মিছি মিছি জমি হাতাতে চায়। তার পৈত্রিক জমি ঐ জায়গায় রয়েছে! এই ধরনের ঝগড়ার সমাধানে আমরা উপগ্রহ চিত্রকে ব্যবহার করতে পারি। এত বছর আগের উপগ্রহ চিত্রের সঙ্গে বর্তমান উপগ্রহ চিত্রের তুলনা করে, তখন অরণ্য কোথায় ছিল, সেখানে আদৌ চাষবাস হতো কিনা সে সমস্ত তথ্য প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। শুধুমাত্র উপগ্রহের সাহায্যে আমরা একটি আদিবাসী বসতির দাবিকে যাচাই করে দেখতে পারি। কোনও বৈজ্ঞানিকের আবিষ্কার যখন এরকম পরিষেবায় পরিণত হয়, প্রান্তিক মানুষের কাজে লাগে তখন সেই বৈজ্ঞানিকের জীবন ধন্য। আমরা যত বেশি সংখ্যক মানুষকে যুক্ত করতে পারবো, প্রতিটি দপ্তরের উচিত নবীন প্রজন্মের বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিবিদদের আলোচনায় আমন্ত্রণ জানিয়ে তাঁদের পরামর্শ অনুযায়ী নতুন প্রযুক্তি, উপগ্রহ কিংবা মহাকাশ প্রযুক্তির মাধ্যমে কিভাবে সমস্যাগুলিকে সমাধান করা। এমনকি, এক্ষেত্রে আপনারা ছাত্রদের সাহায্য নিতে পারেন। আপনারা দেখবেন, তাঁরা কত সুচারুভাবে আপনার সঙ্গে অনলাইনে যুক্ত হবেন এবং নতুন নতুন উদ্ভাবন আপনাদের সামনে চলে আসবে। প্রতিটি বিভাগে নবীন প্রজন্মের সঙ্গে সংযুক্তিকরণের স্বার্থে একটি সেল গঠন করুন, দেখবেন আপনারা লাভবান হবেন।

আমাদের দেশের দরিদ্র থেকে দরিদ্রতম ব্যক্তিও নতুন প্রয়োগের কথা ভাবেন। উদ্ভাবনী শক্তিতে আমরা পিছিয়ে নেই। আপনারা হয়তো খবরের কাগজে পড়েছেন, কোনও কৃষক বাড়ি থেকেই কেমন করে সেচের ফার্ম পরিচালনা করে, মোবাইল ফোন দ্বারা পরিচালনা করে, তিনি নিজের মতো করে মোবাইল প্রযুক্তি প্রয়োগ করে নিজের সেচ পরিষেবাকে কিভাবে উন্নত করেছেন। বাড়িতে বসে জানতে পারলেন, বিদ্যুৎ এসেছে আর তখনই তিনি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পাম্প চালু করে দিলেন আর সেচের কাজ শুরু হয়ে গেল।

আরেক কৃষক গ্রামে একটি বায়ো-গ্যাসের ইউনিট চালু করেছিল। নিজের পালিত পশুদের গোবর ইত্যাদি এবং রান্নাঘরের শাকসব্জি, বর্জ্য পদার্থ জমিয়ে তিনি যতটা গ্যাস উৎপাদন করতেন, তার বাড়ির রান্নাঘরের প্রয়োজন মিটিয়ে বেশি হতো। তিনি সেই অতিরিক্ত গ্যাস ট্র্যাক্টরের টিউবে ভরতেন, ট্র্যাক্টরের টিউব কত বড় হয়, ট্র্যাক্টরের টিউবে হাওয়া ভরে গ্রামের কৃষকদের স্কুটারে করে ক্ষেতে নিয়ে যেতে হয়। তারপর তিনি পাম্পের ডিজেল ইঞ্জিনে পরিবর্তন এনে ডিজেলের পরিবর্তে সেই গ্যাস ব্যবহার করে সেচের কাজ শুরু করেন। তিনি কোনও বৈজ্ঞানিক নন, একজন সামান্য কৃষক মাত্র। কিন্তু, বিজ্ঞানের উদ্ভাবনকে নিজের প্রয়োজন অনুসারে কিভাবে প্রয়োগ করেছেন। এই সাধারণ মানুষদের উদ্ভাবনকে কাজে লাগালে আমাদের জ্ঞান-বিজ্ঞানের ভাণ্ডার সম্প্রসারিত হবে। বিজ্ঞানও সাধারণ মানুষের অনেক বেশি কাজে লাগবে।

আজ আমাদের শিক্ষার উৎকর্ষকে নির্ণয় করতে হবে। কেউ বলবেন, এতগুলি গ্রামে বিদ্যুৎ নেই, এতগুলি গ্রামে ব্রডব্যান্ড কানেকশন নেই, এতগুলি গ্রামে অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক নেই, কেমন করে শিক্ষার উৎকর্ষ নির্ণয় করা যাবে? যাঁরা এইসব ভাবছেন, ভাবতে থাকুন। কিন্তু, এটাও ভাবুন, এতগুলি গ্রামে এবং এতগুলি শহরে এই সুবিধাগুলি রয়েছে। নিদেনপক্ষে ‘লং ডিসট্যান্স এডুকেশন’ – এর মাধ্যমে বড় শহরের সেরা শিক্ষকদের স্টুডিও’তে বসিয়ে ছেলেমেয়েদের ক্লাস ভিডিও’র মাধ্যমে দেখতে পেলেও দূর-দূরান্তের প্রান্তিক ছাত্ররা শিক্ষা লাভ করতে পারে।

একটু আগেই কিরণজী বলছিলেন, আমাদের স্বাস্থ্য সচিব তাঁকে বলেছেন, তাঁদের ব্রডব্যান্ড ক্যাপাসিটি নিয়ে সমস্যা রয়েছে। আমার মতে, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে আমাদের যথেষ্ট সামর্থ রয়েছে, সেই সামর্থকে ব্যবহার করার কথা আমরা ভাবতে পারি, সীমান্তে আমাদের যে সৈনিকরা মোতায়েন রয়েছেন, প্রযুক্তির মাধ্যমে কিভাবে তাঁদের প্রয়োজনগুলি মেটাতে পারি? সীমান্ত সুরক্ষা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা এই সীমান্ত সুরক্ষাকে আরও মজবুত করতে পারি।

মহাকাশ প্রযুক্তির মাধ্যমেই ‘প্রধানমন্ত্রী কৃষি সিঞ্চাই যোজনা’য় সাফল্য এসেছে। আমরা ভালো রূপরেখা নির্মাণ করতে পারি, গ্রামের চাষযোগ্য জমির আকার-প্রকার অনুসারে কতটা জলের প্রয়োজন, গ্রামের জলাধারগুলি সেই চাহিদা কতটা মেটাতে পারে, কতটা বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা – এই সব কিছু বিবেচনা করে আমরা প্রযুক্তির মাধ্যমে একটি ভবিষ্যতের নক্শা তৈরি করতে পারি। এভাবে বিজ্ঞান সুশাসনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। আগে আমরা অভিজ্ঞতা নির্ভর পরিকল্পনা করতাম। আজ উপগ্রহ চিত্র এবং উপগ্রহের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যানুযায়ী পরিকল্পনা করতে পারি। এতে সময় ও অর্থ দুই-ই বাঁচে। আজ তার ‘রোড নেটওয়ার্ক’ বানাতে হবে। আপনারা দেখুন, দশরথ মাঝি এত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন – এর কারণ কী? সরকার নির্মিত পথে পাহাড়ের গা ঘেঁষে একটা গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যেতে ৫০-৬০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ অতিক্রম করতে হতো। দশরথ মাঝির মন বলতো, তাঁর মনের জি.আই.এস. সিস্টেম বলতো, এদিক দিয়ে সোজা চলে গেলে ২ কিলোমিটার হাঁটলেই পৌঁছে যাওয়া যাবে। তিনি নিজের হাতুড়ি দিয়ে পাথর ভেঙে একাই সেই রাস্তা বানিয়ে নিলেন। আজ প্রযুক্তি এত উন্নত হয়েছে যে, আর কোনও দশরথ মাঝি’কে এমন পথ সংক্ষেপের জন্য জীবন কাটিয়ে দিতে হবে না। উপগ্রহের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত পথ নির্মাণের রূপরেখা তৈরি করা যাবে।

আমাদের দেশে সেচের খালগুলি আঁকাবাঁকা হয়। হেলিকপ্টার কিংবা বিমান থেকে নীচের দিকে তাকালে ঐ সাপের মতো খালগুলিকে দেখে কষ্ট হয়। এগুলি খননের সময় চাপের মুখে পড়ে অমুক প্রভাবশালীর ক্ষেত এড়িয়ে, তমুকের জমি এড়িয়ে এই অবস্থা হয়েছে। প্রযুক্তি ব্যবহার করলে এই দশা হতো না।

আমাদের হাইওয়ের দু’পাশের জমি জবরদখল হয়ে যায়। আমরা যদি উপগ্রহের মাধ্যমে নিয়মিত হাইওয়েগুলির ওপর নজরদারি করি, তা হলে এই জবরদখল হওয়া থেকে হাইওয়েগুলিকে মুক্ত রাখা যাবে।

আমাদের অরণ্যগুলিতে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণে উপগ্রহের ব্যবহার বৃদ্ধি করলে বন্যপ্রাণীদের গতিবিধির ওপর নিয়মিত নজর রাখা গেলে তাদের সুরক্ষার সুবিধা হবে।

প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারে আমাদের ঊষর জমিগুলিকে চিহ্নিত করে সকল সরকারি দপ্তরের মিলিত প্রয়াসে এই জমিগুলির প্রতি ইঞ্চি মাটিকে কিভাবে কাজে লাগানো যায়, তা দেখতে হবে।

সারা দেশে আমাদের বনভূমি দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। বিশেষ করে, যে অরণ্যগুলিতে লাল চন্দনের মতো মূল্যবান বৃক্ষ রয়েছে, হাই রেজ্যুলেশন ক্যামেরার মাধ্যমে নিয়মিত লক্ষ্য রাখা গেলে সেই অরণ্যকে ধ্বংসের মাধ্যমে রক্ষা করা যেতে পারে।

খনির ক্ষেত্রে একটি বিশেষত্ব রয়েছে, কাগজে-কলমে গোটা ব্যবস্থাই স্বয়ংসম্পূর্ণ। কেউ দুই বর্গকিলোমিটার এলাকায় খনিজ পদার্থ নিষ্কাশনের কন্ট্রাক্ট পেয়েছেন, কিন্তু তিনি সেখানে খননকার্য শুরু না করে একটু দূর থেকে খননকার্য শুরু করলেন। এখন কেউ গিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করলে তবেই এই চালাকি ধরা যাবে। কিন্তু, আমরা যদি উপগ্রহের মাধ্যমে প্রতিটি খনির খননকার্যের দিকে নজর রাখি, তাদের খনিজ পদার্থ পরিবহণকারী গাড়িগুলির দিকে নজর রাখি, কত গাড়ি মাল কোন্ দিকে গেল, সেই তথ্য কর ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে সমস্ত ফাঁকি ধরা পড়ে যাবে।

আমাদের বৈজ্ঞানিকরা অনেক গবেষণা করে যেসব প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছেন, সেগুলিকে সরলভাবে কাজে লাগিয়ে দেশের সামগ্রিক জনপরিষেবাকে উন্নত করার দায়িত্ব আমাদের। যিনি একথা ভাববেন, তিনি কাজ করতে থাকবেন। আর যিনি ভাববেন, দু’বছর পরে অবসর নেবো, আমার কী দরকার তোমরা করে নিও, তিনি অবসর নেওয়ার পরেও জীবনের আনন্দ নিতে পারবেন না। আমরা কর্মক্ষেত্রে যতই উচ্চপদে যাই না কেন, অধুনাতম প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে কাজ করতে পারলে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আমরা পথ প্রশস্ত করে যাবো।

আজ এখানে তিন প্রজন্মের প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়েছেন, যারা সদ্য মুসৌরি থেকে পাশ করে বেরিয়েছেন, তারা যেমন রয়েছেন, পাশাপাশি এমন কয়েকজন বর্ষীয়ান আধিকারিকও রয়েছেন, যাঁরা আগামী ৩০ তারিখ অবসর গ্রহণ করবেন। প্রবীন আধিকারিকদের থেকে সুশাসনের ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে যেতে, তাঁদের সঙ্গে এবং বিভিন্ন দপ্তরে দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে কাজ করতে থাকা পরবর্তী প্রজন্মের যে মেলবন্ধন ঘটেছে, সেই ধারাকে নবীন প্রজন্মের মনে সঞ্চারিত করতে আমরা আজ তিন প্রজন্মের আধিকারিকদের একত্রিত করেছি।

প্রত্যেক বিভাগের ছোট ছোট কাজগুলিকে নির্দিষ্ট করে সেগুলি সম্পাদনের সময়সীমা বেঁধে দিতে হবে। আমরা সবাই উপগ্রহ প্রযুক্তিকে ব্যবহার করতে পারি আর প্রয়োজনে নবীন প্রজন্মের সাহায্য নিতে তাঁদেরকে চুক্তিভিত্তিক কাজে লাগাতে পারি। আজ যেমন গোটা দেশের আধিকারিকদের এই কর্মশালা চলছে, রাজ্যগুলিতেও তেমনই দুই-তিন প্রজন্মের আধিকারিকদের একত্রিত করে সারা দিনের আলাপ-আলোচনা এবং কর্মশালার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। কেন্দ্রীয় সরকারের আধিকারিকরাও গিয়ে সেই আলোচনাসভা এবং কর্মশালায় অংশগ্রহণ করে পরিকল্পনা চূড়ান্ত রূপ দিতে পারে।

যে কোনও পরিষেবা ক্ষেত্রে যাঁরা সিদ্ধান্ত নেন, তাঁদেরকে যদি আমরা বাস্তব সমস্যাগুলির সঙ্গে পরিচিত না করাই, গ্রাম প্রধান থেকে শুরু করে বিধায়ক ও অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদেরও এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে নিয়ে এসে তাঁদেরকে নিয়ে কর্মশালা করা উচিত। তাঁদেরকে জানানো উচিত যে, উপগ্রহের মাধ্যমে আমরা আপনাদের গ্রামে এই পরিষেবাগুলি দিতে পারি। এতে বৈজ্ঞানিকদের আবিষ্কার, আধিকারিকদের কর্মদক্ষতা এবং সরকারের কাজের প্রতি তাঁদের বিশ্বাস বাড়বে। গ্রামপ্রধানের সঙ্গে যদি গ্রামের পাটোয়ারি আসেন, অন্য ৫-৭ জন হোমরাচোমরা গ্রামবাসীও আসেন, তারা এসব দেখেশুনে উজ্জীবিত হয়ে উঠবেন। দুর্নীতিমুক্ত সুশাসনের জন্য স্বচ্ছতা, দক্ষতা, তদারকি, বিশ্বাসযোগ্যতা, গ্রহণযোগ্যতা এবং সমস্ত পরিষেবা ক্ষেত্রেই প্রযুক্তির ব্যবহার সরকার ও দেশবাসীকে ঋদ্ধ করবে। সুশাসন শুরু হয়, সুপরিকল্পনার মাধ্যমে। তার জন্য প্রয়োজন ভালো ডেটাবেস, ভালো মানচিত্র। পরিকল্পনা নির্মাণকালে বাস্তব চিত্রে ‘থ্রি-ডি রেজ্যুলিউশন’ পেলে পরিকল্পনা আরও সুচারু হবে। সুপরিকল্পনার পাশাপাশি, যথার্থ ‘রোড ম্যাপ’ এবং সেই পরিকল্পনা প্রয়োগের ক্ষেত্রে সময় বেঁধে দিলে, প্রযুক্তির মাধ্যমে অনেক কম সময়ে অনেক বেশি উৎকৃষ্ট পরিণাম আমরা পেতে পারি।

সম্প্রতি এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে, যা হাজার হাজার মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে, লক্ষ কোটি টাকার লোকসান বাঁচিয়েছে, গত বছর নেপালের পাহাড়ে প্রবল শিলাবৃষ্টির ফলে সমস্ত জলধারা বরফ হয়ে গিয়েছিল। এখন আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, যখন গরম পড়বে, তখন হঠাৎ করে এই সমস্ত বরফ গলে গেলে যে পরিমাণ জলধারা নীচে নেমে আসবে, তাতে কেউই বাঁচবে না। বড় বড় বরফের চাঁই নীচে গড়িয়ে আসবে আর গ্রামের পর গ্রাম ধ্বংস করে দেবে। নেপাল সরকার’কে সাহায্য করতে আমাদের দেশ থেকে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং সেনাবাহিনীর আধিকারিকরা গেলেন, হেলিকপ্টার থেকে বোমাবর্ষণ করে জমে থাকা শিলাগুলিকে ফাটিয়ে দিতেই আবার জলপ্রবাহ শুরু হল। উপগ্রহ চিত্র থেকে পাওয়া তথ্য এভাবে নেপাল ও পূর্ব ভারতের একটা বিরাট অংশকে সম্ভাব্য বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করল।

নেপালে কোশিনদীতে ধস নেমে জলপ্রবাহ থেমে গিয়েছিল। ওদিকে জল জমতে জমতে একটি অতি প্রাকৃতিক বাঁধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সেই মাটির বাঁধ ভেঙে গেলে, কী অবস্থা হতো, তা ভাবলে শিউরে উঠতে হয়। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী গিয়ে আগে আমাদের বিহারে কোশীনদীর দু-পারের গ্রামগুলিকে খালি করে। এতে মানুষ বিরক্ত হন। তাঁদেরকে অনেক কষ্টে বুঝিয়ে তারপর ধীরে ধীরে মাটি কেটে জলপ্রবাহ স্বাভাবিক করা হয়। উপগ্রহ চিত্র থেকে পাওয়া তথ্য এভাবে নেপাল ও ভারতের একটা অংশকে সম্ভাব্য বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করল।

ভাইজাগ-এ যখন হুদহুদ ঘূর্ণীঝড় এসেছিল, আমাদের বিভাগের রাঠোর সাহেব এখানে বসে আছেন, তিনি ঐ ঘূর্ণীঝড় সম্পর্কে এতো যথার্থ তথ্য দিয়েছিলেন, ঘূর্ণীঝড়ের দূরত্ব, প্রাবল্য ইত্যাদি সম্পর্কে উপগ্রহ প্রযুক্তির মাধ্যমে পাওয়া তথ্য অগ্রিম জানতে পেরে প্রশাসন সঠিক ব্যবস্থা নেওয়ায় ন্যূনতম ক্ষতি হয়েছে। সেজন্যই বিপর্যয় ব্যবস্থাপনার দৃষ্টিভঙ্গী থেকে সতর্কতা এবং প্রস্তুতির নিরিখে মানবজাতির কল্যাণে উপগ্রহের ব্যবহার সুফলদায়ক হবেই, এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত।

ইসরো যেভাবে নতুন নতুন কর্মসূচি গ্রহণ করছে, আমাদের ছাত্রদের উপগ্রহ প্রযুক্তি সম্পর্কে অবহিত করলে, তাঁদেরকে স্লাইড-শো, ভালো ভিডিও ইত্যাদির মাধ্যমে যথাযথভাবে প্রশিক্ষিত করে তুলতে পারলে, তাঁরা ফিরে গিয়ে অন্যদেরকে শেখাতে পারবেন। এভাবে জনশিক্ষা প্রসারে রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মানবসম্পদ উন্নয়ন দপ্তর ইসরো’র সাহায্য নিতে পারে। আপনারা স্কুল-কলেজে গিয়ে বিভিন্ন পরিষেবা ক্ষেত্রে উপগ্রহ প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে বক্তৃতা দিলে প্রতিটি স্কুল-কলেজ থেকেই কিছু আগ্রহী ছাত্রছাত্রী বেরিয়ে আসবে, যাদেরকে ইসরো’তে এক-দুই সপ্তাহের জন্য নিয়ে আসা যেতে পারে। আর তাদের মাধ্যমেই জনশিক্ষা প্রসারিত হবে।

বিগত ১৫ আগস্টে আমি লালকেল্লার প্রাকার থেকে বলেছিলাম, ‘স্টার্ট অফ ইন্ডিয়া – স্ট্যান্ড-আপ ইন্ডিয়া’।একটু আগেই স্লাইডে দেখানো হয়েছে, প্রায় তিন হাজার ছোটখাটো বেসরকারি উদ্যোগ আমাদের এই গতিবিধির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। আমি কোনও বৈজ্ঞানিক নই, কিন্তু আমার মনে হয়, এক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য আকাশই একমাত্র পরিসীমা। এভাবেই আমাদের বিজ্ঞান মনোভাবাপন্ন নবীন প্রজন্মকে আমরা নিজস্ব উদ্যোগ গড়ে তুলতে প্রেরণা জোগাতে পারি। তাঁদের হাতে নতুন ব্লু-প্রিন্ট তুলে দিতে পারি। তাঁদেরকে বোঝাতে পারি যে, এই রকম ৪০০ ধরনের কাজে নবীন প্রজন্ম এগিয়ে এলে, নতুন আবিষ্কার করলে নব্য আবিষ্কৃত উপাদানগুলি উৎপাদন করলে আমাদের মহাকাশ বিজ্ঞানেও কাজে লাগতে পারে। তাঁদের উদ্ভাবন আমাদের মহাকাশ বিজ্ঞানকে উন্নত করে তুলতে পারে। এই ‘স্টার্ট অফ ইন্ডিয়া – স্ট্যান্ড-আপ ইন্ডিয়া’র স্বপ্ন উদ্ভাবন প্রযুক্তির প্রয়োগের মাধ্যমে সাকার করা যেতে পারে। এমনকি, আর্থিক সংস্থাগুলিকেও ভাবতে পারে, নবীন প্রজন্মের উদ্যোগপতিরা ইসরো’র সাহায্যে কিভাবে এগিয়ে এলে লাভবান হবেন।

সকল দপ্তরই ‘ক্যাপাসিটি বিল্ডিং’ নিয়ে চিন্তিত ছিল। আমরা যখন কর্মী নিয়োগ করবো, তখন বিজ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের অধিক সংখ্যায় বেছে নিলে ‘ক্যাপাসিটি বিল্ডিং’ – এর সমস্যা দূর হবে। আমাদের দপ্তরগুলিতে যাঁরা এসব বিষয়ে আগ্রহী সেই সমস্ত কর্মচারী ও আধিকারিকদের ৭ থেকে ১০ দিনের কোর্স করানো যেতে পারে। এই ব্যবস্থার মানবসম্পদ উন্নয়ন যথাযথ হলে প্রাতিষ্ঠানিক ‘ক্যাপাসিটি বিল্ডিং’ স্বাভাবিক হবে। শুধুমাত্র আর্থিক সংস্থানের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা বৃদ্ধি হয় না। প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার আধার তার পরিকাঠামো নয়, বাড়ি-ঘর, যন্ত্রপাতি থেকেও গুরুত্বপূর্ণ সেই প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ। যদি আপনার কাছে ভালো মানবসম্পদ থাকে, তা হলে কী হতে পারে, ইসরো হল তার প্রমাণ। ভারতে মহাকাশ গবেষণার সূত্রপাত হয়েছিল, একটি গ্যারাজে। সাইকেলে চাপিয়ে যন্ত্রপাতি এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নিয়ে যাওয়া হতো। আপনারা এগুলি নিয়েও একটি স্লাইড আজকে দেখাতে পারতেন। কিন্তু, উৎকৃষ্ট মানবসম্পদের ক্ষমতা এত যে আজ ভারত মহাকাশ বিজ্ঞানে একটি বড় নাম। ভালো মানবসম্পদের ক্ষমতাই আমাদের সামনে মহাকাশ পরিক্রমার সুযোগ খুলে দিয়েছে। সাইকেলে চাপিয়ে যন্ত্রপাতি পরিবহণের মাধ্যমে এই কাজ শুরু হয়েছিল। এর থেকে বড় উদাহরণ আমাদের সামনে আর কী হতে পারে? আমাদের মনের শক্তি কিনা করতে পারে, বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে কত বড় অবদান রাখতে পারে, কত সম্ভাবনা রয়েছে আমাদের দেশে!

ভালো পরিকল্পনার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই কার্যকর করার খাতিরে আমরা সেই আত্মিক শক্তিকে কাজে লাগালে আজ সারা দিন ধরে যে আলাপ-আলোচনা হয়েছে, প্রায় ১ হাজার ৬০০ আধিকারিকের মস্তিষ্ক মন্থনের সুফল দেশের সাধারণ মানুষ পাক। মহাকাশ প্রযুক্তি সাধারণ মানুষের পারস্পরিক দূরত্বকে হ্রাস করুক। এই স্বপ্ন সাকার করার জন্য আপনাদের অনেক অনেক শুভেচ্ছা। ধন্যবাদ।

PG/SB/SB/08_SEPTEMBER_2015