পিএমইন্ডিয়া
বিশাল সংখ্যায় আগত আমার বারাণসীর প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
এই কর্মসূচি বারাণসীর মাটিতে হলেও গোটা দেশের জন্য হচ্ছে। এই বারাণসীর মাটি হাজার হাজার বছর ধরে মানবজাতিকে জ্ঞানের আলো দিয়েছে। আজ এই জ্ঞানের আলো প্রদানকারী শহর জ্বালানির আলো প্রদর্শনেও নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছে। সেজন্য আমি দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানাই, বিশেষ করে বারাণসীবাসীদের শুভেচ্ছা জানাই।
এমনিতে এটি একটি অনুষ্ঠান, কিন্তু এখানে সাতটি কর্মসূচির শুভ সূচনা হচ্ছে। প্রথমটি, আপনারা এখনই ভিডিওতে দেখেছেন। বিদ্যুৎ সরবরাহ ক্ষেত্রে সারা দেশে আমূল পরিবর্তন আনতে আমরা কী করতে যাচ্ছি ! দ্বিতীয়ত, বারাণসীবাসীদের একটি দীর্ঘকালীন দাবি ছিল এই শহরটিকে চারপাশে রিং রোডের মাধ্যমে যুক্ত করা। আজ এই মঞ্চ থেকে সেই রিং রোডেরও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। কাশী একটি পবিত্র তীর্থক্ষেত্র। সারা পৃথিবী থেকে পর্যটকরা এখানে আসেন। কিন্তু বাবতপুর বিমানবন্দর থেকে কাশীতে আসার পথটি এতই ভাঙ্গাচোরা যে পর্যটকরা শুরুতেই বার বার হোঁচট খাবেন। আজ এখান থেকে সেই পথকে প্রশস্ত করা, আধুনিকীকরণ এবং সৌন্দার্যায়ন প্রকল্পেরও শুভ উদ্বোধন হচ্ছে যাতে বাবতপুর বিমানবন্দর থেকে বেরিয়েই পর্যটকদের মনে হয় যে একটি ঐতিহ্যশালী পুরাতন নগরে প্রবেশ করছি।
আজ এখানে গোটা দেশের জন্য আই পি ডি এস পরিকল্পনারও সূত্রপাত হচ্ছে। এই আই পি ডি এস পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে বারাণসীতে দুটি নতুন সাব-স্টেশনের ভিত্তিপ্রস্তরও এই মঞ্চ থেকে স্থাপন করা হচ্ছে। এগুলি হল – চৌক সাব-স্টেশন ও কাজ্জাকপুরা সাব-স্টেশন। পাশাপাশি, বারাণসীবাসীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কিছুদিন আগে যে ট্রমা সেন্টার চালু হয়েছে আজ এই মঞ্চ থেকে তার পরিষেবার শুভ উদ্বোধন হচ্ছে। তেমনই, গঙ্গার পাড়েই পার্শ্ববর্তী রামনগর শহরের জনসংখ্যা ক্রমবর্ধমান। রামনগরবাসীদের রেলে রিজার্ভেশনের জন্য এতদিন বারাণসীতে আসতে হত। আজ ভিস্যাট-এর মাধ্যমে রামনগরেও রেল রিজার্ভেশনের পরিষেবার শুভ উদ্বোধন হচ্ছে। এভাবেই এই একটি মঞ্চ থেকে গোটা দেশের জন্য একটি পরিকল্পনা, আর কাশীবাসীদের জন্য সেই পরিকল্পনা সহ মোট সাতটি পরিকল্পনার শুভ উদ্বোধন করে আমি গর্ব অনুভব করছি।
আমি অনেকবার কাশীতে এসেছি। দলের কর্মকর্তা হিসেবে সংগঠনের কাজে এসেছি। এই মাটির প্রতি আমার আকর্ষণ ছিল। কিন্তু প্রত্যেকবারই ওপরের দিকে তাকালে আমার মন বিরক্তিতে ভরে যেত। যেদিকে তাকাও তার ঝুলত। এত পুরাতন শহরের শোভা সেই তারের বেড়াজালে ঢাকা পড়ে যেত। আপনারা যখন আমাকে আপনাদের জনপ্রতিনিধি করে সংসদে পাঠালেন তখন প্রথম নাগরিক অভিবাদনের সময়েই আমি বলেছিলাম, এই তারের বেড়াজাল সরাতে হবে। আজ আমি অত্যন্ত আনন্দিত। ৫৭২ কোটি টাকা খরচ করে কাশী শহরকে নতুনভাবে আলোকিত করা হচ্ছে। মাঝেমধ্যেই বিদ্যুৎ চলে যাওয়া, তার পুরনো হয়ে যাওয়া, ট্রান্সমিশন লাইন খারাপ হয়ে যাওয়া, মান্ধাতা আমলের তার ঝুলে থাকা, – এসব ঠিক করার সময় কারোর নেই। গাড়ি চলতে চলতে খারাপ হলে এখানে ঠিক করে দাও, ওখানে ঠিক করে দাও – জোড়াতালি দিয়ে কাজ চলছিল। এই সমস্যা শুধু বারাণসীর নয়, গোটা দেশের অনেক শহরে এসব কারণে বিদ্যুতের অনেক অপচয় হয়। সেজন্য গোটা দেশেই বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকাঠামোকে আধুনিক করার প্রয়োজন রয়েছে। স্মার্ট করে তুলতে হবে। বারাণসীকে ‘স্মার্ট সিটি’ করার কল্পনা এই বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা সংস্কারের মাধ্যমে শুরু হল। এজন্য বারাণসীকে বেছে নেওয়ায় কারোর মনে হতে পারে প্রধানমন্ত্রী এখানকার সাংসদ বলেই এখান থেকে শুরু করা হয়েছে। আসলে তা নয়। আমি খুলে বলছি। আমাদের শক্তি মন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের পিতৃদেব বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেছেন। সেজন্যই হয়তো পীযূষজি ভেবেছেন, তাঁর পিতার শিক্ষার দীক্ষাভূমি থেকেই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের শুভারম্ভ করবেন। এই পরিকল্পনায় প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। ফলে, শক্তিক্ষেত্রে যত দুর্নীতি, যত সমস্যা – এসব কিছু থেকে শহরের মানুষ মুক্তি পাবেন। অনেক বড় কাজ, অনেক কঠিন কাজ। কিন্তু না করলেও চলবে না। আগামী ২০২২ সালে দেশ স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তি পালন করবে। যাঁরা আমাদের দেশকে স্বাধীন করার জন্য প্রাণ দিয়েছেন, গোটা জীবন জেলে কাটিয়েছেন, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অত্যাচার সহ্য করেছেন, তাদেরকে আমরা স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তিতে কী জবাব দেব ? আপনারা আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছেন, আমরা মজা করছি ? আপনারা যে স্বপ্ন দেখেছিলেন সেগুলি আমরা বাস্তবায়িত করিনি। এমন জবাব আমরা দিতে পারবো না। কোন ভারতীয় কী এরকম জবাব দিতে পারবেন ? স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্বপ্নের অনুকূল দেশ নির্মাণের উত্তর দায়িত্ব আমাদের। স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তি উৎসবে সাধারণ মানুষের যোগদান থাকবে না ? দেশে কোন পরিবর্তন আসবে না ? সেই পরিবর্তনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হল বছরে ৩৬৫ দিন, ২৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ পরিষেবা। আজ সারা দেশে সাধারণ মানুষ গড়ে চার থেকে আট ঘন্টা বিদ্যুৎ পরিষেবা পান। আমাদের স্বপ্ন গ্রাম হোক কিংবা অরণ্য, দেশের প্রান্তিক গৃহকোণে ২০২২-এর মধ্যে সারা বছর, ২৪ ঘন্টা বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা। এই গুরুত্বপূর্ণ কাজে পরিকাঠামো নির্মাণে আজ ৪৫ হাজার কোটি টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে, শুধু কাশীর জন্য ৫৭২ কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে আজ এই পরিবর্তনের শুভ সূচনা হচ্ছে।
এই পরিকল্পনা সফল করতে আমি আপনাদের সবার আর্শীবাদ চাই। বাবা ভোলানাথের আর্শীবাদ চাই। বারাণসী এগিয়ে যাবে। আশপাশের জেলাগুলির সঙ্গে যাতায়াত আরও সুগম হবে। শহরগুলির ট্র্যাফিক সমস্যা দূর হবে। এসব কথা ভেবেই এই রিং রোডের পরিকল্পনা করা হয়েছে। শহরকে কোনভাবে বিরক্ত না করে ঐ রিং রোড ধরে দ্রুতগতিতে পরিবহণ ব্যবস্থা সচল থাকবে। এটাও অনেক বড় কাজ। প্রায় ৬০০ কোটি টাকা খরচ হবে। তার সঙ্গে যুক্ত হবে আশপাশের জেলাগুলিকে যুক্ত করার পথ। খরচ হবে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা। ফলস্বরূপ, কাশী এবং তার চারপাশের জেলাগুলি আর্থিক বিকাশের একটি উন্নয়ন কেন্দ্র হয়ে উঠবে। সেজন্য বিদ্যুৎ, জল, সড়ক – তিনটি ক্ষেত্রেই আমরা এমন সংস্কারের কথা ভাবছি যাতে পূর্ব উত্তরপ্রদেশের উন্নয়নে এই অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বারাণসীর মাটি থেকে শুরু করে পূর্ব উত্তরপ্রদেশ তথা গোটা উত্তরপ্রদেশেই এই উন্নয়নের জাল প্রসারিত করার লক্ষ্যে আমরা কাজ শুরু করেছি। আগামীদিনে আমরা এ কাজের সুফল পাবো।
আপনারা সবাই ঘাটে যান। এল ই ডি আলোকমালায় সাজানোর পর ঘাটগুলির চেহারাই পালটে গেছে। আমরা কাশীর প্রত্যেক পরিবারে বিদ্যুতের বিল কমাতে চাই। আপনারাও নিশ্চয় চান। তাহলে আমার একটা কথা মানবেন ? যদি মানেন তাহলে প্রতিশ্রুতি দিন, বাবা ভোলানাথকে স্মরণ করে প্রতিশ্রুতি দিন, আপনার বাড়ির যত বাল্ব রয়েছে, টিউবলাইট রয়েছে সেগুলি পালটে এল ই ডি লাগিয়ে নিন। তাহলে দেখবেন বিদ্যুতের বিলে কত সাশ্রয় হয়েছে। এতে দ্বিগুণ লাভ হবে। গোটা ভারতেই আমাদের আন্দোলন শুরু করতে হবে, পুরনো বাল্ব পাল্টানোর আন্দোলন। এই নতুন প্রযুক্তি আমাদের চোখের জন্য ভালো, পকেটের জন্যও ভালো। কাশীতে যদি আন্দোলন শুরু করি আপনারা সবাই সেই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করলে প্রত্যেকেই লাভবান হবেন। কাশীর রাস্তার আলোগুলি পালটে এল ই ডি করায় কাশী পৌরসংস্থার অনেক বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। যে টাকা বাঁচবে, তা শহরের পরিচ্ছন্নতার কাজে খরচ করা হলে আমার কাশী চকচক করবে। সন্ধ্যায় বিদ্যুতের আলোয় আর দিনে পরিচ্ছন্নতায় চকচক করবে। বিশ্ববাসী নতুন কাশীকে দেখে চোখ ফেরাতে পারবে না।
নির্বাচনে জিতে যখন এসেছিলাম, আমি গঙ্গা মায়ের আরতি করেছিলাম। এখান থেকে গঙ্গা মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে তবেই আমি প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য শপথ গ্রহণ করেছিলাম। সেদিনও আমি পরিচ্ছন্নতার কথা বলেছিলাম। শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে নাগরিকদের অংশগ্রহণের কথা বলেছিলাম। বারাণসীর মানুষ আমার সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে অনেক সংগঠন তৈরি করে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। মহিলারা, কলেজ পড়ুয়া মেয়েরাও শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার অভিযানে এগিয়ে এসেছেন।
আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি আজ বারাণসী উন্নয়নের নতুন উচ্চতা স্পর্শ করার ক্ষেত্রে একটি কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। সড়ক পথ কিংবা রেলপথের পরিকাঠামো, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, দক্ষতা উন্নয়ন, তাঁতশিল্পের উন্নয়ন – এই সকল বিষয়ে আজ বারাণসী এগিয়ে। এই শহরকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য আজ একটি বড় অভিযান শুরু হল। সেই অভিযানের শুভারম্ভ করার সুযোগ পেয়ে আমি আনন্দিত।
দেশের গরিব মানুষদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার মাধ্যমে তাদেরকে দেশের অর্থ ব্যবস্থার কেন্দ্রে নিয়ে আসার যে পরিকল্পনা আমরা ‘প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনা’র মাধ্যমে শুরু করেছি তা অত্যন্ত সফল হয়েছে। আমার বিশ্বাস, এই পদক্ষেপ আগামীদিনে দেশে পরিবর্তন আনবে। বিগত দিনে উত্তরপ্রদেশে শিক্ষাক্ষেত্রে একটি সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। আমি উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে চেয়েছি। তারা বলেছে, এখন পর্যন্ত আদালতের আদেশনামা তারা পায়নি। আদালত মৌখিকভাবে জানিয়েছে। আজ আমি কয়েকজন শিক্ষক নেতার সঙ্গে কথা বললাম। তাঁদের সমস্যার কথা বোঝার চেষ্টা করলাম। তাঁদের কাছেও আদালতের আদেশ না থাকায় পুরো ব্যাপারটা স্পষ্ট হয়নি। কিন্তু ইতিমধ্যেই একজন শিক্ষক আত্মহত্যা করেছেন। আমি আপনাদের সবাইকে অনুরোধ করছি, এখনও আদালতের আদেশ আসেনি, আপনারা আত্মহত্যা করলে সমস্যার সমাধান হবে না। যিনি আত্মহত্যা করবেন তিনি তো চলে যাবেন, কিন্তু তারপর তাঁর পরিবারের কী হবে, তার ছেলেমেয়ের কী হবে ? আমি শিক্ষক বন্ধুদের অনুরোধ করব আপনারা হেরে যাবেন না। আদালতের আদেশ আসতে দিন। উত্তরপ্রদেশ সরকার কী করতে চায় সেটা শুনুন। আপনাদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে, সাংসদ হিসেবে আমিও আপনাদের হয়ে উত্তরপ্রদেশ সরকারের সঙ্গে কথা বলব। যে শিক্ষক বন্ধুরা ছাত্রদের জীবন নির্মাণ করেন, ছাত্রদেরকে সাহসী করে গড়ে তোলেন, বাঁচার প্রেরণা যোগান, তাঁরা কেন আত্মহত্যার পথ বেছে নেবেন ? আমার বিশ্বাস উত্তরপ্রদেশ সরকার এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে। উত্তরপ্রদেশ সরকারকে সময় দিন। আমার মনে হয় না রাজ্য সরকার আপনাদের প্রতি কোন অন্যায় করতে চাইবে। আমিও কথা বলব। সমাধানের পথ কী – সবাই মিলে সেটা খুঁজে বের করব।
ভাই ও বোনেরা, আজ কাশীতে পর্যটন ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। আজ সকালেই আমি অনেক ক’টি সুসজ্জিত পর্যটক-বান্ধব রিক্সা চালকদের হাতে তুলে দিয়েছি। এই রিক্সাগুলি কাশীর পর্যটন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আমার বিশ্বাস, দেশের সকল পর্যটন ক্ষেত্রের জন্য এই ব্যবস্থা একটি দৃষ্টান্তস্বরূপ হয়ে উঠবে। আগেরবার যখন আমি এসেছিলাম, অনেকে আমার কাছে ৭ আগস্টকে ‘হস্ত তাঁত’ দিবস ঘোষণার আবেদন রেখেছিলেন। তাদের দাবি অনুযায়ী আমরা সেই দিবস ঘোষণা করে দিয়েছি। চেন্নাই শহরে তার শুভ উদ্বোধন হয়েছিল। আর আমার কাশীর তাঁতিরাও তখন চেন্নাই গিয়েছিলেন। তাদেরকে যথাযোগ্য সম্মান জানানোর সুযোগ আমি পেয়েছিলাম।
কাশীর শক্তি তার শিল্পকলায়। কাশীর সংস্কৃতির মধ্যে শিল্প রয়েছে। কাশীর সংস্কৃতিতে সঙ্গীতের ঐতিহ্য রয়েছে। কিন্তু কাশীকে এগিয়ে যেতে হলে আধুনিক হয়ে উঠতে হবে। পাশাপাশি, নিজের ঐতিহ্যকেও বাঁচিয়ে রাখতে হবে। আপনারা হয়তো লক্ষ্য করেছেন, কেন্দ্র থেকে অনেক মন্ত্রী বারবার এই শহরে এসেছেন। অনেক ক’টি নতুন পরিকল্পনা শুরু হয়েছে। আমার বিশ্বাস, এগুলির মিলিত প্রভাব কাশীকে একটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।
আপনারা আমাকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করেছেন। আপনাদের ইচ্ছেতেই আজ আমি প্রধানমন্ত্রী হয়ে দেশের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। দেশ কিভাবে উন্নতি করবে, দেশের নবীন প্রজন্ম কিভাবে কর্মসংস্থান পাবে, সম্ভব হলে তারা কিভাবে নিজের এলাকাতেই কর্মসংস্থান পাবে – এই বিষয়গুলিকে মাথায় রেখে দেশের নবীন প্রজন্মের কোটি কোটি মানুষের জন্য দক্ষতা উন্নয়নের অভিযান আমরা শুরু করেছি। তাদের হাতে ডিগ্রি থাকে কিন্তু দক্ষতা থাকে না। শুধু শংসাপত্র দিয়ে কাজ চলে না। এখন গোটা পৃথিবীতে আমরা সবচাইতে নবীন দেশ। দেশের জনসংখ্যার ৬৫ শতাংশ ৩৫ বছরের নিচে। সেই ৬৫ শতাংশ মানুষের হাতে যদি দক্ষতা যুক্ত হয় তাহলে গোটা দুনিয়ায় আমাদের মানবসম্পদ গুরুত্ব পাবে। সেজন্যই আমরা দক্ষতা উন্নয়নে এত জোর দিয়েছি।
এ বছর ১৫ আগস্টে লালকেল্লার প্রাকার থেকে আমি ছোট ছোট পদে নিযুক্তির ক্ষেত্রে ইন্টারভিউ উঠিয়ে দেওয়ার কথা বলেছি। ড্রাইভার, পিয়ন, করণিক – এধরণের ছোট ছোট পদের জন্য ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে নবীন প্রজন্মের লক্ষ লক্ষ মানুষ কারোর সুপারিশের অপেক্ষায় পথ হারিয়ে ঘুরে মরে। দালালরা তাদের পকেট কাটে। ঋণ করে পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা ঘুষ দেয়। এই বিরাট দুর্নীতি বন্ধ করার জন্য আমি ছোট ছোট পদে নিযুক্তির ক্ষেত্রে ইন্টারভিউ বন্ধ করার পরামর্শ দিয়েছি। আমাদের সরকার সেই লক্ষ্যে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। কয়েকটি বিভাগ যথারীতি কাজ শুরু করে দিয়েছে। দু’দিন আগে শুনলাম রেলে চাকরির ক্ষেত্রেও একটা পর্যায়ের নিচে ইন্টারভিউ ছাড়াই শুধু অনলাইন পরীক্ষার মাধ্যমে নির্বাচন হবে। এভাবে আমরা ধীরে ধীরে একটি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে পারব বলে মনে করি।
আমরা সবাই মিলে দেশকে কিভাবে এগিয়ে নিয়ে যাব ? আজ গোটা দিন আমি শুধু উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেছি। বারাণসীর প্রায় সকল ক্ষেত্রের মানুষের সঙ্গে মেলামেশার সৌভাগ্য আমার আজ হয়েছে। অনেক কথা বলেছি। কিন্তু সকল কথার কেন্দ্রে ছিল উন্নয়ন। আমার বিশ্বাস উন্নয়নই সব সমস্যার সমাধান করতে পারে। উন্নয়ন হলে কর্মসংস্থান হবে, কর্মসংস্থান হলে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করতে পারব, কর্মসংস্থান হলে ছেলেমেয়েদের শিক্ষা দিতে পারব, সকল ব্যবস্থা বিকশিত হবে। সেজন্যই সরকার ব্যবস্থা বিকাশের পাশাপাশি নাগরিকদের সামর্থও বাড়াতে চায়। আর্থিক সামর্থ, শিক্ষার সামর্থ, দক্ষতার সামর্থ, আরোগ্যের সামর্থ – আমরা নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
আজ গোটা বিশ্বে ভারতের জয়জয়কার। আগে আমাদের দিকে কেউ ফিরে তাকাতো না। গত বছর জুন মাসে আমি রাষ্ট্রসঙ্ঘে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের প্রস্তাব রেখেছিলাম। আপনারা জেনে খুশি হবেন, বারাণসীর মাটি থেকেই এই পরিকল্পনার অঙ্কুরোদ্গম। আপনারা সবাই দেখেছেন, বিশ্ব সমুদায় আমাদের প্রস্তাবকে কিভাবে মেনে নিয়েছে। গোটা বিশ্বের ১৯৩টি দেশ একে সমর্থন জানিয়েছে। আর সমস্ত দেশ এই যোগ দিবস পালন করেছে। এই যোগ দিবসের মানে একসঙ্গে হাত-পা নাড়ানো নয়। আমাদের আবেদনে সাড়া দেওয়ার মানে ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা। এই যোগ দিবস বিশ্বসমুদায়কে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করেছে। আজ গোটা বিশ্ব ভারতের দিকে আশা নিয়ে গর্বের দৃষ্টিতে দেখছে। এই অবসরে আমরা মা গঙ্গা যে পাঁচটি রাজ্যের বুক চিরে প্রবাহিত হন, সেই পাঁচটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে নিয়ে গঙ্গা সাফাই অভিযান পরিকল্পনা শুরু করেছি। সবার সহযোগিতা চাই। নদী তীরবর্তী কোন শহরের নোংরা জল যাতে গঙ্গায় না ফেলা হয় রাজ্য সরকারগুলি তার ব্যবস্থা করবে। যারা আদেশ মানবে না, তাদেরকে উপযুক্ত শাস্তি দেবে। সম্প্রতি কেরলের মাতা অমৃতানন্দময়ী এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ১০০ কোটি টাকা দান করেছেন। তাঁর আশ্রম কেরলে কিন্তু তিনি গঙ্গাকে পরিচ্ছন্ন দেখতে চান বলেই এই দান করেছেন। ১২৫ কোটি ভারতবাসীর হৃদয়ে মা গঙ্গার জন্য ভক্তি রয়েছে। সবাই গঙ্গার জন্য কিছু না কিছু করতে চান। কিন্তু সূত্রপাত আমাদের করতে হবে। দায়িত্ব নিতে হবে। রাজ্যগুলিকে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। ভারত সরকার রাজ্যগুলির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে। আর নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে মা গঙ্গাকে পরিচ্ছন্ন করে তুলবে। আমি জানি এটা খুব কঠিন কাজ। ১৯৮৪ থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ হয়ে গেছে। আর সেজন্যই এই পরিকল্পনার সাফল্য নিয়ে মনে আশঙ্কা থাকা স্বাভাবিক। তবুও আমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারি না। এত বড় দেশ ! এই একটা কাজকে করে দেখাতে হবে। শুদ্ধ গঙ্গা, নির্মল গঙ্গা, জঞ্জালমুক্ত গঙ্গা আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব। এই দায়িত্ব আমাদের পালন করতে হবে।
আমার বিশ্বাস ভাই ও বোনেরা, একটি নবজাগরণ এসেছে। পরিচ্ছন্নতার অভিযানকে দেখুন। বাড়ির ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা পর্যন্ত এখন যেখানে সেখানে নোংরা ফেলতে দেয় না। মানুষের মনে এত দ্রুত পরিবর্তন আসতে পারে তা কেউ ভাবেনি। সম্ভবত এর আগে ভারতের সংসদে পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কোন বিতর্ক হয়নি। কিন্তু যেদিন থেকে আমি ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান’ শুরু করেছি, ভারতের সংসদেও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। যাঁরা বিপক্ষে বসে আছেন তাঁরা আমাদের সমালোচনা করেছেন। তবুও আমি খুশি। পরিচ্ছন্নতা নিয়ে বিতর্কের সময় তো তাঁরা বের করেছেন। এটা ছোট ব্যাপার নয়। দেশের সংসদ যদি পরিচ্ছন্নতা নিয়ে এতটা সচেতন হয়ে ওঠে, তাহলে আমার বিশ্বাস এ বিষয়টি তৃণমূলস্তর পর্যন্ত পৌঁছবে।
আমাদের দেশে উন্নয়ন ক্ষেত্রে আমরা দুটো শব্দ দেখেছি – আর্থিক উন্নয়ন এবং শিল্পোন্নয়ন। আর দুটি শব্দবন্ধন – প্রাইভেট সেক্টর এবং পাবলিক সেক্টর। অর্থাৎ, সরকারি ক্ষেত্র এবং বড় বড় শিল্পপতিদের কর্পোরেট হাউস। আমরা শুরু থেকে এই দুই লাইনের ওপর দিয়েই আমাদের উন্নয়নের রেলগাড়ি চালানোর চেষ্টা করেছি। আমার মনে হয় এই দুই লাইনের ওপর দিয়ে উন্নয়নের গতি যতটা দ্রুত হওয়া উচিত তা হওয়া সম্ভব নয়। আর সেজন্যই আমি তৃতীয় ক্ষেত্রে জোর দিচ্ছি। সেটা হল পার্সোনাল সেক্টর। দেশের প্রতিটি মানুষ দেশের সবচাইতে বড় সম্পদ। এই ব্যক্তিগত ক্ষেত্রকে আমরা কিভাবে এগিয়ে নিয়ে যাব ? প্রাইভেট সেক্টর এবং পাবলিক সেক্টরের সমান্তরালে পার্সোনাল সেক্টরকে দু’কদম এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। আমরা সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছি।
এই পার্সোনাল সেক্টরকে উন্নত করতে আমরা একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি – তার নাম ‘মুদ্রা ব্যাঙ্ক’। আমাদের দেশে প্রায় ছয় থেকে সাত কোটি মানুষ ছোট এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তাদের পুঁজি অল্প, কিন্তু তারা কারোর কাছে হাত পাতেন না। নিজের সামর্থের মধ্যে তাঁরা ব্যবসা করেন। তাদের এত সামর্থ রয়েছে যে তারা প্রায় ১৫ কোটি মানুষকে কর্মসংস্থান যোগান। একজন দুধ বিক্রেতা, ধোপা, নাপিত, চা বিক্রেতা, পকৌড়া ব্যবসায়ী, রিক্সাচালক, সব্জি বিক্রেতা, ফল বিক্রেতা, রেডিমেড বস্ত্র ব্যবসায়ী, মন্দিরের সামনে প্রসাদ বিক্রেতার মতো ছোট ছোট মানুষেরা আজ ১৫ কোটি মানুষকে কর্মসংস্থান দিয়েছে। আমরা যদি তাদেরকে শক্তি যোগাতে পারি তাহলে তাঁরা আগামীদিনে ৩০ কোটি মানুষকে কর্মসংস্থান দিতে পারবেন। তাদেরকে আর্থিক সহায়তার জন্য আমরা ‘মুদ্রা ব্যাঙ্ক’-এর মাধ্যমে কোনরকম গ্যারান্টি ছাড়াই ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মঞ্জুর করার কথা ভেবেছি, যাতে তাদের আর মহাজনদের কাছ থেকে চড়া হারে সুদ না নিতে হয়। তাঁরা যাতে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন। এই অভিযানের মাধ্যমে ভারতে পার্সোনাল সেক্টর একটি বড় অর্থনৈতিক উপাদান হয়ে উঠতে পারে। আমরা পঞ্চাশ বছর ধরে প্রাইভেট সেক্টর আর পাবলিক সেক্টরের কথা বলেছি। এখন সময় এসেছে পার্সোনাল সেক্টরকে শক্তিশালী করে তোলার। সামান্য ঋণদানের মাধ্যমে, প্রযুক্তির মাধ্যমে, দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের সামর্থ বৃদ্ধির এই আন্দোলন ভারতকে, সাধারণ মানুষের ভারতকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।
আর সেজন্যই আজ কাশীর মাটিতে দাঁড়িয়ে আমি প্রথমবার এই পার্সোনাল সেক্টর নিয়ে আমার স্বপ্নের কথা বলছি। আগামীদিনে এই কাশীর মাটির আর্শীবাদ নিয়ে ১২৫ কোটি ভারতবাসীর ৬৫ শতাংশ মানুষ যাদের বয়স ৩৫ বছরের কম, সেই পার্সোনাল সেক্টরকে শক্তি যুগিয়ে আমি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আপনারা আমাকে আশীর্বাদ দিন। আমার সঙ্গে বলুন, ভারতমাতার জয়, ভারতমাতার জয়, ভারতমাতার জয়।
অনেক অনেক ধন্যবাদ।
SB/DM.…
How to make the poor of India self-reliant, that must be our focus: PM @narendramodi speaks in Varanasi https://t.co/IEmqVENCQP
— PMO India (@PMOIndia) September 18, 2015
Our efforts to remove poverty over the years have not yielded the results we desired. The speed (of removing poverty) needs to improve: PM
— PMO India (@PMOIndia) September 18, 2015
Every person wants his or her child to lead a life better than what they led. Every person wants his or her child lead a life of dignity: PM
— PMO India (@PMOIndia) September 18, 2015
I urge all of you (in this gathering), whatever circumstances are, ensure that your children receive education: PM https://t.co/IEmqVENCQP
— PMO India (@PMOIndia) September 18, 2015
Education is the best (and even the least expensive) way to fight poverty: PM @narendramodi https://t.co/IEmqVENCQP
— PMO India (@PMOIndia) September 18, 2015
I am proud to inaugurate these schemes, which will benefit Varanasi and the nation: PM https://t.co/dq9tEbcTuB
— PMO India (@PMOIndia) September 18, 2015
Our dream is from villages to cities, homes of everyone must have constant electricity: PM @narendramodi https://t.co/dq9tEbcTuB
— PMO India (@PMOIndia) September 18, 2015
I had urged you all to work on cleanliness and everyone worked together to make Varanasi clean: PM @narendramodi https://t.co/dq9tEbcTuB
— PMO India (@PMOIndia) September 18, 2015
It is essential to give an impetus to tourism in Varanasi: PM @narendramodi https://t.co/dq9tEbcTuB
— PMO India (@PMOIndia) September 18, 2015
Through Jan Bhagidari, we have to take India ahead. Today's programmes have been about development related issues: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) September 18, 2015
We are working on cleaning the Ganga and we are working with the CMs of all the concerned states on this: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) September 18, 2015
Spent a fruitful day in Varanasi. Met people from different walks of life & discussed development issues. http://t.co/nyjMpsHRUF
— NarendraModi(@narendramodi) September 18, 2015
Integrated Power Development Scheme will rejuvenate the electricity network across India & help provide 24/7 electricity.
— Narendra Modi (@narendramodi) September 18, 2015
Financial inclusion initiatives will change fortunes of people in Varanasi & will add strength to our fight against poverty.
— NarendraModi(@narendramodi) September 18, 2015
Also had a great interaction with beneficiaries of the schemes. They dream of better education for their children. http://t.co/1TLugRV4jc
— NarendraModi(@narendramodi) September 18, 2015
Our initiatives on skill development & MUDRA bank are dedicated towards 'personal sector', which will become the engine of economic growth.
— NarendraModi(@narendramodi) September 18, 2015