পিএমইন্ডিয়া
নয়াদিল্লি , ১৯ ফেব্রুয়ারি , ২০১৫ রাজস্থানে পানীয় জলের সমস্যা মেটাতে এবং রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী শ্রীমতী বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়ার অনুরোধে সেখানকার কৃষক সমাজের ফসল ফলাতে যাতে কোনরকম অসুবিধা না হয় সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী সদর্থক ব্যবস্থা নিয়েছেন। রাজস্থানের কৃষকদের কৃষিকাজে ব্যবহৃত জলের সমস্যা এবং দৈনন্দিন জীবনে জলের পিপাসা মেটাতে তিনি নতুন সেচ ব্যবস্থা প্রয়োগের কথা বলেছেন। এক সময় প্রচলিত ছিল `বিমারু` কথাটি। বলা যায় বিগত ২০ বছর ধরে এই শব্দটি প্রয়োগ হচ্ছে। এই শব্দের অর্থ – বিহার, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ প্রভৃতি রাজ্যগুলি। প্রধানমন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রদেশে শ্রী শিবরাজ সিংহ চৌহান আর্থিক বিকাশ ত্বরান্বিত করতে একটি অভিযান চালিয়েছিলেন। যার জন্য সেখানে যে বিকাশ ঘটেছে তাতে মধ্যপ্রদেশ এবং ছত্তিশগড় বিমারু রাজ্যের অন্তর্গত আর নেই। কৃষিক্ষেত্রে তিনি ক্রান্তির সন্ধান দিয়েছিলেন এবং তাঁর নেতৃত্বেই প্রথম স্থানে এসেছিল সে রাজ্যের কৃষিক্ষেত্র। তিনি কৃষিকাজ সহজতর এবং পরিমিত জল যাতে ব্যবহার করা যায় তার জন্য সিঞ্চন পদ্ধতির আধুনিকীকরণ করেছিলেন। কৃষিকদের অভিজ্ঞতা এবং আধুনিক কৃষি শিক্ষা পদ্ধতি প্রয়োগে কৃষিক্ষেত্রে বিপ্লব এনেছিলেন এবং সাধারণের ধারণাকে নস্যাৎ করে গঙ্গা-যমুনা প্রদেশ ছাড়াও অন্যান্য প্রদেশে যে কৃষিক্ষেত্রে বিকাশ ত্বরান্বিত করা যেতে পারে তা দেখিয়ে দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজস্থান এবং ভারত সরকার কৃষিক্ষেত্রে যৌথভাবে যে পরিবর্তন আনার প্রয়াস করছে তাতে বলা যেতে পারে অচিরেই রাজস্থানও বিমারু রাজ্যের বাইরে চলে আসবে। তাঁর বক্তব্য, নিতি আয়োগের মতোই, প্রত্যেকটি রাজ্য কৃষিক্ষেত্রে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি তথা বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। নিতি আয়োগকেও একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। রাজ্যগুলি তাদের সমস্যাগুলিকে নিয়ে স্ব স্ব রাজ্যের বিকাশ ত্বরান্বিত করতে নিজস্ব মডেল যাতে গঠন করতে পারে সে ব্যাপারেও সুপারিশ করা হয়েছে। প্রত্যেকটি রাজ্য এবং ভারত সরকার মিলে ন্যূনতম অথচ একইরকম ব্যবস্থা চয়ন করে সারা দেশে সেই ব্যবস্থা প্রয়োগ করলে তা কৃষিক্ষেত্রে নতুন দিশা দেখাবে। প্রথমে রাজ্যগুলিতে বিশেষ যোজনা শুরু করা হবে যাতে ভারত সরকার রাজ্যগুলির সঙ্গে বৈঠক-সাপেক্ষে একটি কেন্দ্রীয় স্তরের যোজনা গঠন করতে পারে এবং সেই কাজ এখনই শুরু হবে। শ্রী মোদী বলেন, গোটা যোজনার জন্য সয়েল হেল্থ কার্ড তথা মাটির স্বাস্থ্য পরীক্ষার কার্ড শুরু হয়েছে। এই কার্ডের একটাই বক্তব্য – ধরিত্রী স্বাস্থ্যবতী হলে খেতও হবে সবুজ। মাটি যদি উর্বর না হয়, তাহলে শত চেষ্টাতেও যথেষ্ট ফসল ফলানো সম্ভব হবে না। ফসলের মানও বাড়বে না। অতএব, কৃষককেও জানতে হবে যে মাটিতে ফসল ফলাতে চান তিনি তা উর্বর কিনা। অর্থাৎ, মৃত্তিকা পুষ্ট না হলে ফসলের মানে ফারাক চোখে পড়বেই। ধরিত্রী মাতাকে সদা ফসলবতী করার কাজ আমাদেরই বলে প্রধানমন্ত্রী মত ব্যক্ত করেন। যেই মনোভাব নিয়ে কন্যাকে বাঁচিয়ে তাঁকে পড়াশোনা করিয়ে তাকে মানুষ করার সঙ্কল্পও নেওয়া হয়েছে, ঠিক তেমন করেই দেশের মৃত্তিকাকে সুজলা-সুফলা করে তুলতে হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন এবং বলেন, মাটির স্বাস্থ্য উদ্ধারের জন্যই `স্বাস্থ্য কার্ড` বা `সয়েল হেল্থ কার্ড`-এর সূচনা করা হল। শরীরের রোগের উৎপত্তির কারণ নির্ণয়ে যেমন রক্ত পরীক্ষা করা হয়, ডাক্তার দেখানো হয়, তেমন মৃত্তিকা পরীক্ষারও প্রয়োজন রয়েছে বলে মত ব্যক্ত করেন শ্রী মোদী। অতএব, সয়েল হেল্থ কার্ড, যার মূল মন্ত্র হচ্ছে `ধরিত্রী স্বাস্থ্যবতী হলে খেতও হবে সবুজ`, সেই স্বপ্ন সাকার করতে প্রত্যেক বছরই কৃষকভাইরা যাতে মৃত্তিকার নমুনা পরীক্ষার ওপর জোর দেন এবং সে বিষয়ে মতামত জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি সারা দেশে রক্তের নমুনা পরীক্ষার ল্যাবরেটরির মতোই উদ্যোগ স্থাপনের কথা বলেছেন যেখানে মৃত্তিকার নমুনা পরীক্ষা করা যাবে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী যেসব বিদ্যালয়ে দশম, একাদশ এবং দ্বাদশ শ্রেণী রয়েছে সেখানে রসায়নাগার রয়েছে। বিদ্যালয়ের ছুটির সময় সেই রসায়নাগারগুলিকেই মৃত্তিকা নমুনা পরীক্ষা করার ল্যাবরেটরিতে পরিণত করা যেতে পারে। বিভিন্ন ছুটির সময়ে গরিব ছাত্রছাত্রীরা সেখানে মৃত্তিকার নমুনা পরীক্ষা করেও রোজগার করতে পারেন বলে প্রধানমন্ত্রী জানান। শ্রী মোদী বলেন, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বন করলে অধিকতর ফসল ফলানো সম্ভব। পাশাপাশি, কৃষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জলের অভাব এবং মাটিতে বেশি জলের কুপ্রভাব থেকে বাঁচতে `ড্রিপ` সেচের প্রয়োগ করতে অর্থাৎ, সিঞ্চন পদ্ধতি প্রয়োগও ফলপ্রসূ হবে। ভারতীয় কৃষকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী ভারতের দুর্মূল্য জল সযত্নে বাঁচিয়ে ন্যূনতম জল প্রয়োগে অধিকতম ফসল ফলানোর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের কৃষিক্ষেত্রকে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক করতে উদ্যোগী হতে হবে। খেতে কৃষিকাজ করতে আধুনিক বিজ্ঞানকে কৃষিকাজের ব্যবহার করে কেবল খেতের ফসল নয়, ফলের গাছের উপযুক্ত যত্ন নিয়ে বা পাশাপাশি পশুপালন, মুরগি পালন বা মাছ চাষ ইত্যাদিতে মনোসংযোগ করতে হবে যাতে দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি পায় বা খামারের কাজে গতি আসে। এতে গ্রামের অর্থনীতি বদলে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
Emphasised on the need to focus on the Mantra of “स्वस्थधरा, खेतहरा” at the launch of the Soil Health Card scheme. http://t.co/dKWLD8Yu4k
— NarendraModi(@narendramodi) February 19, 2015
Focus on soil health will boost productivity, give an impetus to the agriculture sector & bring increased prosperity for the farmers.
— NarendraModi(@narendramodi) February 19, 2015