Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

জাতির উদ্দেশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘মন কি বাত’ (পঞ্চম) অনুষ্ঠান


কলকাতা, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ নমস্কার, আমার তরুণ-বন্ধুরা, আজ তো সম্ভবতঃ সারা দিন তোমাদের মন ক্রিকেট ম্যাচের দিকেই পড়ে ছিল। এক দিকে পরীক্ষার চিন্তা আর অন্য দিকে বিশ্বকাপ! এমন হতে পারে যে তুমি ছোটো বোনকে বলেছ যে মাঝে মাঝে এসে স্কোরটা জানিয়ে যেতে। কখনও হয়ত তোমার এ-ও মনে হয়েছে যে ‘ছাড়ো, আর কয়েক দিন বাদে হোলি আসছে’। কিন্তু আবার মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়েছো, বলেছো , যাঃ হোলিও বরবাদ হয়ে গেল। কেন? না, পরীক্ষা এসে গেছে। এমনই হয় না? আমি জানি, ঠিক এমনটাই হয়। যাই হোক বন্ধুরা, এই সমস্যার মধ্যেই আমি তোমাদের কাছে এসেছি। তোমাদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সময়, তখনই আমি এসেছি। তবে আমি তোমাদের কোনো উপদেশ দিতে আসিনি। হাল্কা দু-একটা কথা বলতে এসেছি। অনেক পড়েছ না? খুব ক্লান্ত হয়ে গিয়েছ বোধহয়? মা বকছেন, বাবা বকছেন, শিক্ষক বকছেন, কে জানে – কী কী কথা শুনতে হচ্ছে। ফোন রেখে দাও, টিভি বন্ধ করে দাও, সারাক্ষণ কেন কম্পিউটারে বসে আছো, ছাড়ো সবকিছু, চলো – পড়তে বসো। এই চলছে ঘরে, তাই না! বছরভর এই শুনেছো, সে তুমি দশম শ্রেণিতে থাকো বা দ্বাদশ শ্রেণিতে। আর তোমরা নিশ্চয়ই ভাবছ যে এই পরীক্ষা শেষ হলে বাঁচি! এই রকমই ভাবছো, তাই তো? আমি জানি, তোমাদের মনের অবস্থা আর তাই আমি তোমাদের সঙ্গে মনের কথা বলতে এসেছি। এমনিতে এই বিষয়টা খুব কঠিন। মা-বাবা চান যে আজকের বিষয়ে আমি সেই-সেই কথা বলি যা তারা নিজেদের ছেলে বা মেয়েকে বলে উঠতে পারেন না। তোমার শিক্ষক চান যে আমি সেই সব কথা বলি যাতে তাঁর ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে সঠিক বার্তাটি পৌঁছে যায়। আর শিক্ষার্থী সম্ভবতঃ চায় যে আমি এমন কিছু কথা বলি, যাতে তার ওপরে যে চাপ আছে তা কম হয়ে যায়। আমি জানি না আমার কথা কার কতটা কাজে আসবে। কিন্তু আমি খুশী হব যে আমার তরুণ বন্ধুদের জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমি তাদের মধ্যে থেকেছি। আমার মনের কথা তাদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পেরেছি। ব্যাস্‌, এইটুকুই আমার লক্ষ্য। আর এমনিতেও আমার তো অধিকার নেই যে তোমাদের বলি কীভাবে পরীক্ষা ভালো করা যায়, উত্তর কীভাবে লেখা উচিত, উত্তর লেখার পদ্ধতি কেমন হবে, বেশি বেশি নম্বর পাওয়ার পদ্ধতিগুলি কী… কারণ এক্ষেত্রে আমি খুব সাধারণ একজন ছাত্র। কারণ আমি আমার জীবনে কোনো পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করতে পারিনি। সাধারণভাবে মানুষ যেমন পড়াশোনা করে আমিও তেমন ছিলাম। আর তাছাড়া আমার হাতের লেখাও খুব খারাপ। তাই সম্ভবতঃ কোনও কোনও সময় আমি পাশ হয়ে যেতাম এই কারণে যে আমার শিক্ষক আমার উত্তরপত্র পড়তে পারতেন না। যাই হোক্‌ সে তো অন্য কথা হয়ে গেল, হাল্কা কথাবার্তা। কিন্তু আমি আজ একটি কথা অবশ্যই বলতে চাইব যে তোমরা পরীক্ষাকে কীভাবে নাও তার উপর নির্ভর করবে তোমাদের পরীক্ষা কেমন হবে। আমি দেখেছি যে বেশিরভাগ মানুষ একে জীবনের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা ঘটনা বলে ধরে নেয় এবং মনে করে যে এতে খারাপ হলে আমার গোটা জগৎটাই অন্ধকার হয়ে যাবে। বন্ধুরা, জগৎটা এমন নয়। আর তাই কখনও মনে এতটা উদ্‌বেগ পুষে রেখো না। হ্যাঁ ভালো ফলাফল করার ইচ্ছেটা ভেতরে অবশ্যই থাকা চাই। দৃঢ় ইচ্ছে থাকা দরকার, আত্মবিশ্বাস মজবুত হওয়া চাই। কিন্তু পরীক্ষা যেন বোঝা না হয়ে ওঠে, এ তোমার জীবনের কোনও কষ্টিপাথর নয়। এমন ভাবার কোনও প্রয়োজনও নেই। কখনও কখনও এমন মনে হয় না যে আমরা নিজেরাই পরীক্ষাকে বোঝা বানিয়ে ফেলি আর এই বোঝা বানানোর অন্যতম একটা কারণ যেটা তা হল, আমাদের যারা আত্মীয়স্বজন-বন্ধুবান্ধব আছে, তাদের ছেলে বা মেয়ে আমার সন্তানের সঙ্গে একসঙ্গে পড়ে। যদি আপনার ছেলে দশম শ্রেণিতে পড়ে এবং আপনার আত্মীয়ের ছেলেও দশম শ্রেণিতে পড়ে, তো আপনার মন সবসময় এই তুলনা করে চলে যে আমার ছেলের উচিত ওদের থেকে এগিয়ে যাওয়া, আপনার বন্ধুর ছেলের থেকে এগিয়ে থাকা উচিত। ব্যাস্‌, এই যে আপনার মনের পোকাটা আছে না সেটাই আপনার ছেলের উপর চাপ তৈরি করে। আপনার ইচ্ছা হয় যে আমার পরিচিতদের মধ্যে আমার ছেলের নাম উজ্জ্বল হোক আর ছেলের নাম তো ঠিকই আছে, আপনি নিজের নাম উজ্জ্বল করতে চান। আপনার কি মনে হয় না যে নিজের সন্তানকে আপনি এই নীচু জায়গাটায় এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন? জীবনের এক সুউচ্চ পর্যায়, জীবনের এক বিশাল ব্যাপকতা, তার সঙ্গে কি ওর সম্পর্ক তৈরি করতে পারেন না? আশপাশের বন্ধুবান্ধবদের সন্তানদের সঙ্গে ওর তুলনা টানতে চান কেবল! আর এতেই কি আপনার তৃপ্তি হবে? ভেবে দেখুন তো! এই সমপর্যায়ের লোকের সঙ্গে মোকাবিলা আর তার ফলে নিজেরই সন্তানের জীবনকে সঙ্কীর্ণ করে দেওয়া, এটা কতটা উচিত? ছোটোদের সঙ্গে কথা বলার সময় সুন্দর স্বপ্নের কথা বলুন। উচ্চতায় পাখা মেলার কথা বলুন। আপনি দেখবেন, পরিবর্তন শুরু হয়ে যাবে। বন্ধুরা, একটা ব্যাপার আছে যা আমাদের খুব সমস্যায় ফেলে। আমরা সবসময় আমাদের অগ্রগতি অন্যের সঙ্গে তুলনা করে মাপতে অভ্যস্ত। আমাদের পুরো শক্তি পারস্পরিক প্রতিযোগিতায় ক্ষয় হয়ে যায়। জীবনের এমন অনেক ক্ষেত্র হয়ত আছে যেখানে সম্ভবতঃ প্রতিযোগিতার দরকার পড়ে কিন্তু নিজের বিকাশের জন্য প্রতিযোগিতা ততটা প্রেরণা দেয় না যতটা দেয় নিজের সঙ্গেই প্রতিযোগিতা। নিজের সঙ্গেই প্রতিদিন প্রতিযোগিতা করো – আরো ভালোর জন্য প্রতিযোগিতা, দ্রুততর গতিতে এগিয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতা, আরও বেশি-বেশি করার প্রতিযোগিতা, আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছনোর প্রতিযোগিতা নিজের সঙ্গে করো, গতকালের থেকে আজ যেন বেশি ভালো করা যায় সেইদিকে মন দাও। আর দেখো এই প্রতিযোগিতার থেকে পাওয়া শক্তি তোমাকে এত তৃপ্তি দেবে, এত আনন্দ দেবে যা তুমি কল্পনাও করতে পারবে না। আমরা খুব গর্বের সঙ্গে অ্যাথলিট সের্গেই বুব্‌কার কথা স্মরণ করি। এই অ্যাথলিট্‌ পঁয়ত্রিশবার নিজেরই রেকর্ড ভেঙেছিলেন। উনি নিজেই নিজের পরীক্ষা নিতেন। নিজেই নিজেকে কষ্টিপাথরে যাচাই করতেন আর নতুন প্রতিজ্ঞাকে বাস্তবায়িত করতেন। তুমি এই পথে এগিয়ে গেলে দেখবে তোমার অগ্রগতির পথ কেউ রোধ করতে পারবে না। তরুণ বন্ধুরা, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানারকম ভাগ আছে। কেউ-কেউ এমন যে যত বড় পরীক্ষাই আসুক না কেন আপন আনন্দে থাকে। তারা কিছুই পরোয়া করে না আর কেউ কেউ আছে যারা পরীক্ষার চাপে নুয়ে পড়ে। আর এক দল আছে যারা মুখ লুকিয়ে ঘরের কোণে বইয়ের পাতায় বন্দী হয়ে থাকে। এই সব সত্বেও পরীক্ষা পরীক্ষা-ই এবং তাতে সফল হওয়া খুবই আবশ্যক এবং আমিও চাই যে তোমরা সফল হও। কিন্তু কখনও কখনও তোমরা দেখেছ যে আমরা বাইরের কারণ খুঁজে বেড়াই। এই বাইরের কারণ আমরা তখনই খুঁজি যখন নিজেরা বুঝতে পারিনা যে কী করব। নিজেদের উপর আস্থা থাকে না, যেন জীবনে প্রথমবার পরীক্ষা দিচ্ছি। ঘরে কেউ জোরে টিভি চালিয়ে দিলে, জোরে আওয়াজ হলে আমরা খিটখিটে হয়ে যাই। মা খেতে ডাকলেও বিরক্ত হই। অন্যদিকে নিজের কোনও বন্ধুর ফোন এসে গেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলতে থাকি। তোমার মনে হয় না, যে তুমি নিজেই নিজের ব্যাপারে কনফিউজ্‌ড (Confused)? বন্ধুরা, নিজেকে চেনাও খুব জরুরী। তোমরা এক কাজ কর, বেশি দূরে যাওয়ার দরকার নেই, তোমার নিজের বোন বা কোনও বন্ধুর বোন যদি থাকে যে দশম বা দ্বাদশ স্তরের পরীক্ষা দিচ্ছে বা দিতে যাচ্ছে, তুমি দেখে থাকবে, দশম হোক বা দ্বাদশ স্তরের পরীক্ষা হোক্‌ মেয়েরা ঘরে মায়ের কাজে সাহায্য করে। কখনও ভেবেছ যে তাদের মধ্যে এমন কোন শক্তি আছে যে তারা ঘরে মার সঙ্গে কাজও করে এবং আজকাল পরীক্ষায় ছেলেদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যায় অনেক আগে। তোমরা একটু আশেপাশে নজর রেখে দেখো, তোমরা বুঝে যাবে যে বাইরের কারণে ব্যতিব্যস্ত হওয়ার প্রয়োজন নেই। কখনও কখনও কারণ থাকে ভেতরে। নিজের প্রতি অবিশ্বাস থাকলে আত্মবিশ্বাস কোন্‌ কাজে আসবে? আর এইজন্য আমি সবসময় বলি যে যত আত্মবিশ্বাসের অভাব হয় ততই অন্ধবিশ্বাসের প্রভাব বাড়তে থাকে। আর আমরা অন্ধবিশ্বাসের মধ্যে বাইরের কারণ খুঁজে বেড়াই। বাইরের কারণের সূত্র খুঁজতে থাকি। কিছু শিক্ষার্থী তো এমন আছে যাদের জন্য আমি বলি ‘আরম্ভীশুরা’! প্রতিদিন এক নতুন চিন্তাধারা, প্রতিদিন এক নতুন ইচ্ছা, প্রতিদিন এক নতুন প্রতিজ্ঞা আর অকালেই সেই প্রতিজ্ঞার অপমৃত্যু হয়ে যায়। আর আমরা যেখানে ছিলাম সেখানেই থেকে যাই। আমি এটা স্পষ্ট মানি যে পরিবর্তনশীল সব ইচ্ছাকে মানুষ তরঙ্গ বলে অভিহিত করে। আমাদের সঙ্গীসাথী, বন্ধুবান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশী, মা-বাবা আমাদের নিয়ে মজা করে আর তাই আমি বলব, ইচ্ছা স্থির হওয়া দরকার আর ইচ্ছা যখন স্থির হয় তখনই তো প্রতিজ্ঞার নির্মাণ হয় এবং প্রতিজ্ঞা নিষ্ফলা হতে পারে না। প্রতিজ্ঞার সঙ্গে পুরুষার্থের যোগ আছে আর যখন পুরুষার্থ জুড়ে যায় তখন প্রতিজ্ঞা সিদ্ধ হয়। আর তাই আমি বলি যে ইচ্ছা যোগ স্থিরতা সমান সমান প্রতিজ্ঞা। প্রতিজ্ঞা যোগ পুরুষার্থ সমান সমান সিদ্ধি। আমার বিশ্বাস যে তোমাদের জীবনযাত্রায় সিদ্ধি তোমাদের চরণস্পর্শ করতে আসবে। নিজেকে উজাড় করে দাও, নিজের প্রতিজ্ঞার জন্য নিজেকে উজাড় করো আর প্রতিজ্ঞাকে সদর্থক রাখো। কারোর থেকে এগিয়ে যাওয়ার কথা চিন্তা কোরো না। নিজে যেখানে ছিলে সেখান থেকে এগিয়ে যাওয়ার কথা ভাবো। আর তাই রোজ নিজের জীবনকে কষ্টিপাথরে যাচাই করতে হবে। তাতে যত বড় কষ্টিপাথরই আসুক না কেন, কখনও কোনও সঙ্কট আসবে না। আর বন্ধুরা, কেন অন্য কেউ আমাদের যাচাই করবে? কেন আমাদের পরীক্ষা নেবে? নিজের অভ্যাসটাকে গড়ে তোলো যে আমি নিজেই আমার পরীক্ষা নেবো। প্রতিদিন নিজের পরীক্ষা নেবো। দেখব কাল যেখানে ছিলাম আমি সেখান থেকে এগিয়ে এসেছি কিনা। কাল যেখানে ছিলাম সেখান থেকে আরও উপরে উঠেছি কিনা। আমি কাল যা পেয়েছিলাম তার থেকে আজ বেশি পেয়েছি কি না। প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্ত নিজেকে কষ্টিপাথরে যাচাই করো। তারপর একদিন জীবনে কোনো কষ্টিপাথরকেই আর কষ্টিপাথর বলে মনে হবে না। প্রতিটি কষ্টিপাথর নিজেকে যাচাই করার সুযোগ হয়ে দেখা দেবে আর যে নিজেকে যাচাই করতে জানে সে কষ্টিপাথরে সহজেই উত্তীর্ণ হয়। আর তাই, যে জীবনের পরীক্ষার সঙ্গে নিজেকে যোগ করে তার জন্য শ্রেণিকক্ষের পরীক্ষা অত্যন্ত মামুলি হয়ে দেখা দেয়। কখনও তুমিও হয়ত কল্পনা করো নি যে তুমি এত ভালো-ভালো কাজ করে ফেলবে। সেই কাজগুলোকে মনে করো আর আপনা-আপনি আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়ে যাবে। তুমি ওটাও করেছিলে, এটাও করেছিলে। গত বছর অসুস্থ অবস্থাতেও পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেয়েছিলে। গতবার মামাবাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল, সেখানে এক সপ্তাহ বরবাদ হয়ে গিয়েছিল, তবুও অত ভালো নম্বর পেয়েছিলে। আরে আগে তো তুমি ছ’ঘণ্টা ঘুমোতে আর গত বছর তুমি ঠিক করলে, না-না এবার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ঘুমোব আর তুমি সেটা করে দেখিয়েছ। আরে এইটাই তো ঘটনা। মোদী তোমাকে কি উপদেশ দেবে! তুমি নিজেই নিজের পথপ্রদর্শক হয়ে যাও। আর ভগবান বুদ্ধ তো বলতেন ‘অন্তঃদীপো ভব’। আমি মানি যে তোমার ভেতরে যে দীপ্তি থাকে তাকে চেনো, তোমার ভেতরে যে সামর্থ্য আছে তাকে চেনো। আর যে নিজেকে বার-বার কষ্টিপাথরে যাচাই করে সে নতুন-নতুন বাধা অতিক্রম করেই চলে। এছাড়া কখনও-কখনও আমরা খুব দূর পর্যন্ত ভেবে ফেলি। কখনও কখনও অতীতে নিমগ্ন থাকি। বন্ধুরা, পরীক্ষার সময় এমনটা কোরো না। পরীক্ষার সময় বর্তমানকালে বেঁচে থাকাই শ্রেয়। কোনও ব্যাটস্‌ম্যান আগে কতবার শূন্য রানে আউট হয়েছে বা পুরো সিরিজ জিতব কি জিতব না – এটা নিয়ে ভাবে কি? মাঠে নামার পর ব্যাটিং করার সময় শতরান করতে পারব কি পারব না – এটা ভাবে কি? আজ্ঞে না। আমি মনে করি, একজন ভালো ব্যাটসম্যান যে বলটি তার দিকে ধেয়ে আসে তার উপরই মনোনিবেশ করে। সে না পরের বল নিয়ে – না পুরো ম্যাচ – না পুরো সিরিজ নিয়ে ভাবে। তোমরাও বর্তমান নিয়ে ভাব। জেতার মূলমন্ত্র একটাই – বর্তমান নিয়ে বাঁচো, বর্তমানের সঙ্গে একাত্ম হও, বর্তমানের সঙ্গে লড়াই করো। তুমি বিজয়ী হবেই। আমার তরুণ বন্ধুরা, তোমরা কি মনে কর তোমাদের ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য পরীক্ষা নেওয়া হয়! যদি তাই ভাব তবে ভুল ভাবছ। তোমরা কাকে ক্ষমতা দেখাবে? কার সামনে সেই ক্ষমতা দেখাবে? যদি তোমরা ভাব পরীক্ষা অন্যকে ক্ষমতা দেখানোর জন্য নয় বরং তোমাদের নিজের মধ্যেকার ক্ষমতাকে চিনে নেওয়ার জন্য – যখনই তুমি এই মূলমন্ত্রটি বুঝতে পারবে তখনই তোমার আত্মবিশ্বাস বাড়তে থাকবে। একবার নিজেকে চিনে ফেললে, নিজের ক্ষমতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হলে তুমি নিজেই সেই শক্তিকে পরিপুষ্ট করতে পারবে। তখন এই শক্তি এক নতুন সামর্থ্যে পরিনত হবে। এই জন্য পরীক্ষা সকলকে দেখানোর জন্য একটা চ্যালেঞ্জ হিসাবে না নিয়ে একটা সুযোগ হিসেবে নাও। নিজেকে জানার, নিজেকে চেনার, নিজের সঙ্গে বাঁচার এটি একটি সুযোগ। এ সুযোগ ছেড়ো না। বন্ধুরা, আমি দেখেছি, অনেক পরীক্ষার্থী পরীক্ষার দিনগুলিতে নার্ভাস হয়ে পড়ে। কেউ কেউ বলে, দ্যাখো আজ আমার পরীক্ষা কিন্তু মামা আমাকে শুভেচ্ছা জানাল না – কাকা আমাকে শুভেচ্ছা জানাল না – বড় ভাইও আমাকে শুভেচ্ছা জানাল না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরিবারে এই আলোচনা চলতে থাকে – ও কি শুভেচ্ছা জানাল – ও-র ফোন কি এল – ও কি ফুল পাঠাল – বন্ধুরা, এসবের ঊর্দ্ধে ওঠ, এসবের মধ্যে মন দিয়ো না। কে শুভেচ্ছা জানাল – কে জানাল না এসব পরীক্ষার পরে ভেব। নিজের উপর আস্থা থাকলে এসব বিষয়ের উপর মনই যাবে না। বন্ধুরা, আমি দেখেছি, বেশিরভাগ পরীক্ষার্থী নার্ভাস হয়ে পড়ে। আমি মানছি, নার্ভাস হয়ে পড়া কিছু লোকের স্বভাব। কোনো কোনো পরিবারের ধাতটাই এরকম। নার্ভাস হওয়ার মূল কারণ নিজের ওপর আস্থা না থাকা। যদি বিষয়টির উপর তোমার দখল থাকে, সব বিষয়ের ওপর পরিশ্রম করে থাক, বার বার বিষয়টি অভ্যাস করে থাক, তবেই নিজের ওপর আস্থা হবে। এই বিষয়টির ওপর আমার দখল আছে – এই ভরসা রাখ। তুমি নিশ্চয়ই দেখেছ যে পাঁচটি কি সাতটি বিষয়ের মধ্যে দু-তিনটি নিয়ে তোমার কোনো দুশ্চিন্তাই নেই। একটি-দুটি বিষয়ে নার্ভাসনেস্‌ থাকতেই পারে। যদি বিষয়ের ওপর দখল থাকে তবে নার্ভাসনেস কখনোই আসবে না। তুমি বছর জুড়ে যে পরিশ্রম করেছ, রাত জেগে পড়াশোনা করেছ – আমার বিশ্বাস তা কখনোই বিফলে যাবে না। ওটা তোমার মনে-প্রাণে গেঁথে আছে। পরীক্ষায় বসলেই তোমার মনে পরে যাবে। নিজের মেধার ওপর ভরসা রাখ। নিজের জ্ঞানের উপর ভরসা রাখো। বিশ্বাস রাখো তুমি যে পরিশ্রম করেছো, তার ফল পাবেই। দ্বিতীয় কথা হল, নিজের ক্ষমতা সম্পর্কে আস্থা রাখ। বিশ্বাস রাখ, প্রশ্ন যতই কঠিন হোক বা প্রশ্নপত্র যত লম্বা হোক, পরীক্ষা আমার ভালো হবেই। আমি সফল হবই। ভরসা থাকা চাই যে পরীক্ষা দু ঘণ্টার হোক বা তিন ঘণ্টার – সময়ের মধ্যে আমি আমার উত্তর লেখা শেষ করব। আমার মনে আছে, নিশ্চয়ই তোমাদেরও কেউ না কেউ বলেছে – আমি যখন ছোট ছিলাম, আমার শিক্ষক তখন আমাকে বলেছিলেন – সহজ প্রশ্নের উত্তর আগে লিখবে, কঠিন প্রশ্নের উত্তর পরে লিখবে। এই উপদেশ তোমাদেরও কেউ না কেউ দিয়েছে আর তোমরাও তা পালন করেছ। বন্ধুরা mygov-এ বেশকিছু মতামত ও অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। সেগুলো শিক্ষা দপ্তরকে পাঠিয়ে দেব। কিন্তু কিছু কথার আমি উল্লেখ করতে চাই। মুম্বই, মহারাষ্ট্র থেকে অর্ণব মোহতা লিখে জানিয়েছেন যে কিছু মানুষ পরীক্ষাকে মরণ-বাঁচন বিষয় হিসেবে দেখেন। পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে পৃথিবী যেন রসাতলে গেল। বারাণসী থেকে বিনীতা তেওয়ারীজী জানিয়েছেন, পরীক্ষার ফল বেরোনর পর কিছু পরীক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। আমার খুব কষ্ট হয়। এই কথা তো আপনার কানেও নিশ্চয়ই পৌঁচেছে। এর একটি ভাল প্রতিকার আমাকে আরো একজন লিখে জানিয়েছেন – তামিলনাড়ু থেকে মিস্টার আর কামাথ। উনি বলেছেন – ছাত্ররা, ‘Worrier’ হবে না ‘Warrior’ হও। অর্থাৎ ‘ভীত’ হয়ো না, ‘যোদ্ধা’ হও। চিন্তিত হয়ো না। যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াকু হও। আমি মনে করি, চিন্তিত না হয়ে বিজয়ী হওয়ার সঙ্কল্প নিয়ে এগিয়ে যাওয়াটাই ঠিক। জীবন অনেক বড়। ওঠা-পড়া লেগেই থাকে। এতে কেউ ডুবে যায় না। কখনো কখনো অনভিপ্রেত ফলও এগিয়ে যাওয়ার, নতুন শক্তির প্রেরণা জোগায়। একটি জিনিস আমি দেখেছি, কোনো কোনো পরীক্ষার্থী পরীক্ষার হল থেকে বেরিয়েই হিসেব করতে থাকে কত নম্বর পাব। বন্ধু-বাবা-মা – যার সঙ্গে দেখা হয় সে-ই জিজ্ঞেস করে – আজকের পরীক্ষা কেমন হল? আমার মনে হয়, যা হয়ে গেছে – হয়ে গেছে। ওটা ভুলে যাও। আমি বাবা-মায়েদের কাছেও অনুরোধ করব, পরীক্ষা কেমন হল – এই প্রশ্নটা বাচ্চাদের করবেন না। পরীক্ষা হল থেকে বেরোনো মাত্র তাদের বলুন, তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে তোমার পরীক্ষা খুব ভালো হয়েছে। সাবাশ্‌! চলো কালকের জন্য তৈরি হও। এমনটাই করুন। বন্ধুরা, আমি তোমাদের বলছি, ধর তুমি পরীক্ষা দিয়ে নম্বরের হিসাব করলে। তারপরে তোমার মনে হল, দুটি উত্তর আমি ভুল করেছি, ছয় নম্বর কম পাব। এর প্রভাব কি পরের দিনের পরীক্ষায় পরবে না? কেন এই ভেবে সময় নষ্ট করছ? কেন মাথা ঘামাচ্ছ। সব পরীক্ষা শেষ হয়ে যাওয়ার পর যত কিছু হিসাবনিকেশ করার করে নিয়ো। কত নম্বর পাব, কি পাব না – সব পরে করো। পরীক্ষার সময় একটা বিষয় শেষ হলে পরের বিষয়টিতে মনোনিবেশ করো। এতেই তোমাদের ২০-২৫ শতাংশ বোঝা কমে যাবে। আমার মনে আরও কিছু ভাবনা আছে – এখন তো পরীক্ষার সময় এসে গেছে এগুলি হয়তো কাজে লাগবে। আমি শিক্ষক-বন্ধুদের – স্কুল-বন্ধুদের বলতে চাই, আমরা কি বছরে দুবার প্রত্যেক অর্ধে এক সপ্তাহের পরীক্ষা-উৎসব পালন করতে পারি না? যেখানে পরীক্ষার ওপর ব্যঙ্গ-কবিতার কবি সম্মেলন, কার্টুন প্রতিযোগিতা, নিবন্ধ প্রতিযোগিতা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা হবে। পরীক্ষার মানসিক চাপের বিষয়ে কেউ যদি আমাদের বক্তৃতা দেয়, বিতর্ক হয় তবেই পরীক্ষার ভীতি আপনা আপনিই চলে যাবে। এভাবেই পরীক্ষা একটা উৎসবের রূপ নেবে। এরপর যখন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে যাবে তখন শেষ মুহূর্তে আজকের মত আমি যেমন সময় নিচ্ছি তেমনটি করতে হবে না। এটা এমনিই এসে যাবে। কখনও কখনও তো আমার মনে হয়, সিলেবাসে পরীক্ষা বিষয়টা কি সেই সম্পর্কে একটি ক্লাস হওয়া প্রয়োজন। কারণ এই দমবন্ধ পরিস্থিতি ঠিক নয়। বন্ধুরা, আমি যা বলছি হয়তো এর চেয়ে বেশি অনেকেই বলেছেন। মা-বাবা বলেছেন, মাস্টারমশাই বলেছেন, টিউশন ক্লাসে গেলে সেখানেও শুনেছো। আমিও বেশি কথা বলে তোমাদের বিব্রত করতে চাইনা। আমি এই বিশ্বাসটুকু দিতে পারি যে এই দেশের প্রতিটি ছেলে-মেয়ে যারা পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে, তারা খুশী মনে, আনন্দের সঙ্গে পরীক্ষা দিতে যাক। তোমাদের খুশীর জন্য আমি তোমাদের সঙ্গে কথা বললাম। তোমরা ভাল ফল করবেই। সফল হবেই। পরীক্ষাকে উৎসবে পরিনত কর। খুশী মনে পরীক্ষা দাও আর প্রতিদিন সাফল্যের আনন্দ উপভোগ করো। পুরো পরিবেশ বদলে দাও। মা-বাবা-শিক্ষক-স্কুল-ক্লাসরুম – সবাই মিলে এটা করুন। দেখো কষ্টিপাথরকে যাচাই করার কী আনন্দ। চ্যালেঞ্জকে চ্যালেঞ্জ জানানোর কী আনন্দ! প্রতি মুহূর্তকে সুযোগে পরিনত করায় কী মজা। পৃথিবীতে সবাই সবাইকে খুশী করতে পারে না। আমার আগে কবিতা লেখার শখ ছিল। গুজরাতী ভাষায় আমি একটি কবিতা লিখেছিলাম। পুরো কবিতাটি মনে নেই, আমি লিখেছিলাম, সফল হলে ঈর্ষার পাত্র হবে বিফল হলে সমালোচনার পাত্র -এটাই জীবনের নিয়ম। এভাবেই জীবন চলতে থাকে। কাউকে পরাজিত করার জন্য সফল হয়ো না, নিজের সঙ্কল্পকে ছাপিয়ে যাওয়ার জন্য সফল হও। সফল হও নিজের আনন্দের জন্য। সফল হও তাঁদের জন্য যাঁরা তোমার জন্য জীবনপাত করছে। এই আনন্দকে ঘিরেই তুমি এগিয়ে যাবে। আমার বিশ্বাস বন্ধুরা তোমরা সফল হবেই। আর তারপর হোলি উৎসব পালন করলাম কি করলাম না, মামার বাড়িতে বিয়েতে যেতে পারলাম কি পারলাম না, বন্ধুদের জন্মদিনের উৎসবে যেতে পারলাম কি পারলাম না, বিশ্বকাপ ক্রিকেট দেখতে পারলাম কি পারলাম না – তোমার কাছে এসবের কোনো অর্থ থাকবে না। তোমরা এক নতুন আনন্দ – নতুন খুশীর শরিক হবে। তোমাদের অনেক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। তোমাদের ভবিষ্যৎ যত উজ্জ্বল হবে, দেশের ভবিষ্যত ততটাই উজ্জ্বল হবে। ভারতের তরুণরাই ভারতের ভাগ্য তৈরি করবে – তোমরাই তৈরি করবে। ছেলে হোক বা মেয়ে – কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে যাবে। এসো, পরীক্ষার উৎসবকে আনন্দের উৎসবে পরিনত করি। অনেক অনেক শুভেচ্ছা!