Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

১৬ জুলাই, ২০১৭ তারিখে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর সর্বদলীয় বৈঠকে প্রদত্ত ভাষণের বিশেষ বিশেষ অংশ  

১৬ জুলাই, ২০১৭ তারিখে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর সর্বদলীয় বৈঠকে প্রদত্ত ভাষণের বিশেষ বিশেষ অংশ  

১৬ জুলাই, ২০১৭ তারিখে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর সর্বদলীয় বৈঠকে প্রদত্ত ভাষণের বিশেষ বিশেষ অংশ  


বাদলঅধিবেশন  :  সংসদের সময়সূচি, সহায়সম্পদ এবং মর্যাদারপ্রতি শ্রদ্ধা ও সম্ভ্রম

·    সংসদের বাদল অধিবেশন আগামীকাল শুরু হতে চলেছে। এই মুহূর্তে সর্বাপেক্ষাযা জরুরি তা হল অধিবেশনের সময়কালকে সর্বোচ্চ মাত্রায় কাজে লাগানো। কয়েকটিব্যতিক্রমী ঘটনা ছাড়া গত তিন বছরে সংসদের কাজকর্মে যথেষ্ট বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।এজন্য সবক’টি রাজনৈতিক দলকেই ধন্যবাদ জানাই।

·    আমি খুবই আশাবাদী যে সংসদের কাজকর্মের জন্য যে সময় বরাদ্দ করা হয়েছে তাএই বাদল অধিবেশনে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হবে।শুধু তাই নয়, সংসদের সার্বিককাজকর্মের দিক থেকে তা এক বিশেষ রেকর্ডও সৃষ্টি করবে। এই প্রক্রিয়ায় সবক’টিরাজনৈতিক দলের সহযোগিতা অবশ্য প্রয়োজন।

·    আমাদের দায়িত্ব আমরা পুরোপুরিভাবে পালন করতে পারি অর্থবহ আলোচনাপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। সংসদের নির্দিষ্ট সময়সূচি, সম্পদ এবং মর্যাদার কথা আমাদেরমনে রাখতে হবে।

জিএসটি-র জন্য ধন্যবাদ

·    জিএসটি-র বাস্তবায়নে মিলিতভাবে সহযোগিতার জন্য আমি আরও একবার আমারকৃতজ্ঞতা জানাই আপনাদের সকলের কাছে।

·    জিএসটি চালু হয়েছে গত ১৫ দিন যাবৎ। এই ১৫ দিনে আমরা তার ইতিবাচক ফলওলক্ষ্য করেছি।  অনেক রাজ্যের সীমানা থেকেইচেক পোস্ট ব্যবস্থার বিলোপ ঘটানো হয়েছে। ফলে, ট্রাক চলাচলের বিষয়টি এখন আরও সহজহয়ে উঠেছে।
·    যে সমস্ত ব্যবসায়ী এখনও জিএসটি-র মঞ্চে নথিভুক্তির উদ্যোগ গ্রহণ করেননি,তাঁদের এর আওতায় অনতিবিলম্বে নিয়ে আসার জন্য প্রক্রিয়াকরণের কাজ দ্রুততর করে তুলতেকেন্দ্র ঘনিষ্ঠ সমন্বয়সাধনের মাধ্যমে মিলিতভাবে কাজ করে চলেছে রাজ্যগুলির সঙ্গে।

বাজেট অধিবেশনের ফলাফল

·    প্রায় এক মাস আগে বাজেট অধিবেশন আহ্বান করা হয়। সবক’টি রাজনৈতিক দলইসেখানে সহযোগিতার মনোভাব দেখিয়েছিল। বাজেট অধিবেশনের ইতিবাচক ফলগুলি আমি এখানেতুলে ধরতে আগ্রহী।

·    বাজেট প্রক্রিয়ার কাজকে আরও এক মাস এগিয়ে নিয়ে আসার ফলে যে গুরুত্বপূর্ণসাফল্য অর্জিত হয়েছে তা হল, বিভিন্ন কর্মসূচির জন্য দপ্তরগুলিতে বাজেট বরাদ্দেরঅর্থ বাদল অধিবেশনের পূর্বেই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। অতীতে বিভিন্ন কর্মসূচিরজন্য বাজেট বরাদ্দ দপ্তরগুলির কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে দু থেকে তিন মাসের মতোবিলম্ব ঘটত। এর ফলে বর্ষার কারণে কর্মসূচি রূপায়ণের কাজ হত বিলম্বিত। কিন্তু এবারঐ ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেনি। মার্চের পর কোন সময়ই এবার কোনভাবেই নষ্ট হয়নি।পরিকাঠামো প্রকল্পগুলির কাজ সম্পূর্ণ করার জন্য অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে আরও তিনমাস।

·    কন্ট্রোলার জেনারেল অফ অ্যাকাউন্টস-এর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী গতবছরের সমতুল সময়কালের তুলনায়এ বছর এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত ব্যয়ের মাত্রাবৃদ্ধি পেয়েছে ৩০ শতাংশ বেশি।

·    পরিকাঠামো সম্পর্কিত প্রকল্পগুলিতে মূলধনী ব্যয়ের পরিমাণ গত বছরের তুলনায়বৃদ্ধি পেয়েছে ৪৮ শতাংশের মতো।

·    বিভিন্ন কর্মসূচি রূপায়ণে ব্যয়ের মাত্রা থেকে এটাই প্রতিফলিত হয়েছে যেবরাদ্দকৃত অর্থের সুষম ব্যবহার সম্ভব হবে সারা বছর ধরেই। অতীতে শুধুমাত্র বর্ষারপরেই কর্মসূচি রূপায়ণে অর্থ ব্যয় করা হত। অথচ, অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করা হতমার্চেরআগেই বরাদ্দকৃত অর্থ শেষ করার জন্য।সার্বিক ব্যবস্থায় ত্রুটি বা গলদের এটিও ছিলঅন্যতম এক কারণ।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিতে বন্যাপরিস্থিতি

·    দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবিশ্রান্ত বর্ষণ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয়রাজ্যগুলির বন্যা পরিস্থিতি বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। রাজ্য সরকারগুলিরসঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রেখে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেইসঙ্গে, পরিস্থিতির ওপরওসতর্ক দৃষ্টি রাখা হয়েছে। বন্যা ত্রাণ ও উদ্ধারের কাজে নিয়োগ করা হয়েছে কেন্দ্রীয়সরকারি বিভিন্ন এজেন্সিকে। কোনরকম সাহায্য ও সহায়তার প্রয়োজন হলে তা সঙ্গে সঙ্গেজানানোর জন্য বলা হয়েছে রাজ্য সরকারগুলিকে।

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর মনোভাব

·    অমরনাথ যাত্রীদের ওপর জঙ্গি হামলার ঘটনায় সমগ্র জাতি ব্যথাহত। আক্রমণে যেসমস্ত তীর্থযাত্রী নিহত হয়েছেন, তাঁদের পরিবার-পরিজনদের জানাই আমার আন্তরিকসমবেদনা। এই পরিস্থিতিতে যে সমস্ত পরিবার এক কঠিন মুহূর্তের সম্মুখীন, তাঁদের জন্যপূর্ণ সহানুভূতি ও সহমর্মিতা রয়েছে আমার। এই আক্রমণের সঙ্গে যারা যুক্ত তারা যাতেকোনভাবেই যাতে রেহাই না পায় তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

·    জম্মু ও কাশ্মীরে শান্তি রক্ষার কাজে আমরা সম্পূর্ণভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ।জাতি বিরোধী কার্যকলাপকে এই রাজ্য থেকে নির্মূল করার লক্ষ্যেও আমরাপ্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অটলজির প্রদর্শিত পথ অনুসরণ করে চলেছে বর্তমান সরকার।

গো-রক্ষার নামে যারা হিংসায় ইন্ধনযোগাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিৎ রাজ্য সরকারগুলির

·    গো-রক্ষার নামে কিছু কিছু সমাজ বিরোধী শক্তি হিংসায় ইন্ধন যুগিয়ে চলেছে।দেশের সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে যারা উদ্যত, তারাও এই পরিস্থিতির সুযোগ গ্রহণ করতেচাইছে।

·    কিন্তু এই ধরনের ঘটনা জাতির ভাবমূর্তিতে আঘাত ঘটাচ্ছে। তাই, এই সমস্তসমাজ বিরোধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিৎ রাজ্য সরকারগুলির।

·    আমাদের দেশে গরুকে আমরা গো-মাতা বলে শ্রদ্ধা ও সম্মান করি। এর সঙ্গেসাধারণ মানুষের আবেগও যুক্ত থাকে। কিন্তু সকলের এটা জানা প্রয়োজন যে গো-রক্ষারজন্য এক সুনির্দিষ্ট আইন রয়েছে। তাই, এই আইন লঙ্ঘন করা কোনভাবেই গো-রক্ষার বিকল্পহতে পারে না।

·    আইন ও শৃঙ্খলা রক্ষা করার দায়িত্ব রাজ্য সরকারগুলির। তাই, যেখানেই এইধরনের ঘটনা ঘটে থাকুক না কেন, রাজ্য সরকারগুলির উচিৎ কঠোর হাতে তা দমন করা।গো-রক্ষারনামে কোন কোন ব্যক্তি তাদের ব্যক্তিগত শত্রুতার মোকাবিলা করতে উদ্যত। তাই এইবিষয়টির ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন রাজ্য সরকারগুলির।

·    গো-রক্ষার নামে এই ধরনের গুণ্ডামিকে কঠোরভাবে নিন্দা করার জন্য এগিয়ে আসাউচিৎ সবক’টি রাজনৈতিক দলেরই।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ

·    গত কয়েক দশকে দেশের কয়েকজন নেতার কাজকর্মের ফলে রাজনৈতিক নেতৃত্বেরভাবমূর্তি এক কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন। এই পরিস্থিতিতে আমাদের উচিৎ জনসাধারণেরমধ্যে এই আস্থা ও বিশ্বাস জাগিয়ে তোলা যে সব নেতাই কিন্তু প্রলোভনের শিকার নন এবংতাঁদের প্রত্যেকেই অর্থের জন্য লালায়িত নন।

·    জনজীবনে আমাদের সর্বদা প্রতিটি কাজেই স্বচ্ছতা রক্ষা করা প্রয়োজন।প্রয়োজনে যে সমস্ত নেতা দুর্নীতি পরায়ণ, তাঁদের বিরুদ্ধে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থাগ্রহণ করতে হবে।

·    দলের মধ্যে এই ধরনের নেতাদের চিহ্নিত করার দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলিরই।রাজনৈতিক যাত্রাপথে এই ধরনের দুর্নীতি পরায়ণ নেতাদের সর্বতোভাবে এড়িয়ে চলতে হবে।

·    দেশের আইনকে যদি সফল করে তুলতে হয়, তাহলে আমাদের সকলকে মিলিতভাবে চেষ্টাকরতে হবে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের আড়ালে যাঁরা নিজেদের লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করেযাচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ গ্রহণের জন্য।

·    জাতিকে যারা নানাভাবে লুন্ঠন করে চলেছে, তাদের সমর্থন করলে দেশ কখনইলাভবান হবে না।

·    আগামী ৯ আগস্ট পূর্ণ হতে চলেছে ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের ৭৫তম বর্ষ। সংসদেরআলোচ্যসূচিতে এই বিষয়টিকে অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করা উচিৎ।

·    সহমতের ভিত্তিতে যদি দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হত, তাহলে তারথেকে ভালো আর বেশি কিছু হতে পারত না। তবে, গর্ব ও সন্তোষের বিষয় যে এই নির্বাচনেরপ্রচার ও অভিযানে যথেষ্ট মর্যাদা রক্ষা করা হয়েছে। এজন্য সবক’টি রাজনৈতিক দলকেইঅভিনন্দন। তাদের উচিৎ নিজের নিজের সাংসদ ও বিধায়কদের ভোটদানে প্রশিক্ষণ দেওয়া যাতেকোন ভোটই নষ্ট না হয়।

PG/SKD/DM/ ..