Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

ভারতে বিনিয়োগের ব্যাপারে অনেকেই এখন উৎসাহী : প্রধানমন্ত্রী

ভারতে বিনিয়োগের ব্যাপারে অনেকেই এখন উৎসাহী : প্রধানমন্ত্রী

ভারতে বিনিয়োগের ব্যাপারে অনেকেই এখন উৎসাহী : প্রধানমন্ত্রী


আর্থিক ক্ষেত্রের শীর্ষস্থানীয় মার্কিন সি.ই.ও.’দের সঙ্গে বৃহস্পতিবার এক গোলটেবিল বৈঠকে মিলিত হন প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং।

ভারতে ব্যবসা-বাণিজ্যকে সহজতর করে তুলতে প্রধানমন্ত্রী যে সমস্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন তার বিশেষ প্রশংসা করেন উপস্থিত সি.ই.ও.’রা। পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং ডিজিটাল ভারত গড়ে তোলার যে উদ্যোগ তিনি গ্রহণ করেছেন তারও প্রশংসা করেন তাঁরা। উপস্থিত সি.ই.ও.’দের অনেকেই ভারতের ‘স্টার্ট আপ’ সেক্টরের ব্যাপারে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং শিল্পোদ্যোগের কাজে বিনিয়োগের ইচ্ছাও প্রকাশ করেন। তবে, ভারতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কর ব্যবস্থা এবং আমলাতান্ত্রিক বাধাবিপত্তি যে এখনও বিশেষ প্রতিবন্ধকতার কাজ করছে তারও উল্লেখ করেন সি.ই.ও.’রা।

ভারতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের পরিমাণ যে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে তার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ‘স্টার্ট আপ ইন্ডিয়া, স্ট্যান্ড আপ ইন্ডিয়া’ দর্শনের কথা উপস্থিত সি.ই.ও.’দের সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্র ছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে শিল্পোদ্যোগ শুরু করা এবং শিল্পোদ্যোগ গড়ে তোলার ওপরও তিনি বিশেষ জোর দিচ্ছেন। তথ্য প্রযুক্তি বিপ্লবের মূলে ‘স্টার্ট আপ’ এবং উদ্ভাবন প্রযুক্তির যে বিশেষ ভূমিকা রয়েছে তারও উল্লেখ করেন তিনি।

উপস্থিত সি.ই.ও.’রা ভারতের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি এ সম্পর্কে তাঁদের আশা, আস্থা ও বিশ্বাসের কথা ব্যক্ত করায় প্রধানমন্ত্রী বিশেষ সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সেইসঙ্গে, তাঁদের উদ্বেগের কথাও তাঁরা সুস্পষ্টভাবেই তুলে ধরেছেন।

গত ১৫ মাসে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সাফল্যের বিশেষ বিশেষ দিকগুলি প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই সময়কালে ভারতে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ যে শুধুমাত্র উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে তাই নয়, বরং বিশ্বের অন্যত্র যেখানে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মন্দাভাব লক্ষ্য করা গেছে, ভারতের এই সাফল্য সেখানে উল্লেখ করার মতো। আর, এরই ফলশ্রুতিতে ভারতে বিনিয়োগের লক্ষ্যে অনেকেই বর্তমানে উৎসাহ দেখাতে শুরু করেছেন।

বিভিন্ন দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজতর করে তোলার ব্যাপারে বিশ্ব ব্যাঙ্ক সাফল্যের নিরিখে ক্রম অনুযায়ী যে তালিকা প্রস্তুত করেছে, তারও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এর ফলে দেশগুলির মধ্যে এক সুস্থ প্রতিযোগিতার বাতাবরণ গড়ে উঠেছে। রান্নার গ্যাসে ভর্তুকি সরাসরি গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে জমা হওয়ার বিষয়টির উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ধরণের সাফল্য বিশ্বের অন্যত্র এই বিশেষ মাত্রায় এখনও উন্নীত হতে পারেনি। রেল, বিমা ও প্রতিরক্ষা সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগকে আরও উদার করে তোলার প্রসঙ্গটিও প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরেন।

কৃষি ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বিমা প্রকল্প সহ কয়েকটি বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে উদ্ভাবনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন, বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম নির্মাণ, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎপাদনের যন্ত্রপাতি, রেল ও মেট্রো, ‘পরিচ্ছন্ন ভারত’ এবং ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ সহ এমন অনেক ক্ষেত্র রয়েছে, যেখানে বিনিয়োগের সম্ভাবনা প্রচুর। ২০২২ সালের মধ্যে পাঁচ কোটি গৃহ নির্মাণ , ছয় লক্ষ গ্রামে ব্রডব্যান্ডের সুযোগ, রেলের উৎপাদন ক্ষমতাকে দ্বিগুণ করে তোলা এবং ১৭৫ গিগাওয়াট পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির উৎপাদন তাঁর সরকারের ধার্য লক্ষ্যমাত্রার অন্তর্ভুক্ত বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই সমস্ত ক্ষেত্রেও বিনিয়োগের সম্ভাবনা প্রচুর ও সম্ভাবনাময়।

এই বৈঠকে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁরা হলেন – জে.পি. মর্গানের চেয়্যারম্যান, সি.ই.ও. তথা প্রেসিডেন্ট জেমি ডাইমন; ব্ল্যাকস্টোনের চেয়ারম্যান, সি.ই.ও. তথা সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ স্কোয়ার্জম্যান; ওয়ারবার্গ পিংকাসের অন্যতম সি.ই.ও. চার্লস কেয়ি; কে.কে.আর-এর অন্যতম চেয়ারম্যান তথা অন্যতম সি.ই.ও. হেনরি ক্র্যাভিস; জেনারেল আটলান্টিক-এর সি.ই.ও. বিল ফোর্ড; এ.আই.জি. ইন্স্যুরেন্সের প্রেসিডেন্ট তথা সি.ই.ও. পিটার হ্যাংকক; টাইগার গ্লোবালের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও ম্যানেজিং পার্টনার চেজ কোল্ডম্যান এবং নিউইয়র্ক স্টেট কমন রিটায়ারমেন্ট ফান্ডের চিফ ইনভেস্টেমন্ট অফিসার ভিকি ফুলার।

PG/SKD/SB/