Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

নিউ ইয়র্কে জি-৪ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী ভাষণ

নিউ ইয়র্কে জি-৪ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী ভাষণ

নিউ ইয়র্কে জি-৪ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী ভাষণ

নিউ ইয়র্কে জি-৪ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী ভাষণ


মহামান্য রাষ্ট্রপতি দিলমা রউসেফ,
মহামান্য চ্যান্সেলর এঞ্জেলা মার্কেল,
মহামান্য প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে,
প্রতিনিধি দলের বিশিষ্ট সদস্যরা,

আমি আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাতে আনন্দিত বোধ করছি| শনিবারের একটি সকালে এত তাড়াতাড়ি আপনারা এই সভায় যোগ দিয়েছেন বলে সবাইকে ধন্যবাদ| আমি প্রধানমন্ত্রী আবে-কে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই, যিনি এইমাত্র নিউ ইয়র্ক এসে পৌঁছেছেন|

সংযুক্ত রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের বিষয়টি কয়েক দশক ধরেই আন্তর্জাতিক মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিনত হয়েছে—যদিও দুর্ভাগ্যবশত এনিয়ে কোনো অগ্রগতি হয় নি|

২০০৪ সালে একত্রিত হওয়া আমাদের এই চার দেশীয় জোট জি-৪ বিশ্বের শান্তি ও সমৃদ্ধি, জোটবদ্ধতায় আমাদের বিশ্বাস এবং পৃথিবী আমাদের কাছে যা আশা করে সেই বৈশ্বিক দায়িত্ব পালনের সম্মতির অঙ্গীকারের অংশীদারে আবদ্ধ|

.
আমি অনিন্দিত যে দশ বছর পর আবার আমরা সরকারের প্রধান হিসেবে মিলিত হয়েছি|

সংযুক্ত রাষ্ট্রসংঘের সত্তরতম বার্ষিকীতে আমার চিঠিতে আমি যেকথা বলেছি যে, রাষ্ট্রসংঘের জন্মের সময় থেকে আমরা মৌলিকভাবে একটি ভিন্ন জগতে বাস করছি| সদস্য রাষ্ট্রের সংখ্যা চার গুন বৃদ্ধি পেয়েছে| শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতি হুমকি আরও জটিল, অনিশ্চিত ও অনির্দিষ্ট হয়েছে| নানা দিক দিয়ে আমাদের জীবন বিশ্বায়িত হয়ে উঠছে, কিন্তু আমাদের অস্তিত্বের চারপাশে ত্রুটি-রেখা আরও বাড়ছে|

আমরা একটি ডিজিট্যাল যুগে বাস করছি| প্রবৃদ্ধির নতুন চালিকা-শক্তি, আরও ব্যাপকভাবে বিচ্ছুরিত অর্থনৈতিক শক্তি এবং সম্পদের বৈষম্য বাড়ার সঙ্গে বিশ্বের অর্থনীতি পরিবর্তিত হচ্ছে|

জনসংখ্যা, নগরায়ন ও দেশ পরিবর্তনের প্রবণতা নতুন প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন| জলবায়ু পরিবর্তন ও সন্ত্রাসবাদ উদ্বেগের নতুন বিষয়| সাইবার ও মহাকাশ এই বিষয় দু’টি সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণরূপে নতুন এক দিগন্ত|

তা সত্বেও, আমাদের প্রতিষ্ঠান, পন্থা এবং একই মানসিকতা, আমরা যে শতাব্দিতে আমরা বাস করছি তা নয়, আমাদের ফেলে আসা শতাব্দীর প্রজ্ঞাকেই প্রতিফলিত করে| আর তা সংযুক্ত রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সত্যি|

সংযুক্ত রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হওয়া এক জরুরি এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে| বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রগুলিকে, বিশ্বের অর্থনীতির পরিচালক শক্তিগুলিকে এবং বিশ্বের প্রধান দেশগুলির আওয়াজকে নিরাপত্তা পরিষদের অন্তর্ভুক্ত করা অবশ্যই প্রয়োজন| এটা বৃহত্তর বিশ্বাসযোগ্যতা ও বৈধতাকে সূচিত করবে এবং একুশ শতকের প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলায় তা আরও বেশি প্রতিনিধিত্বমূলক এবং কার্যকর হবে|

কয়েক দশক পরে আমরা অবশেষে কিছু গতিবিধি লক্ষ্য করছি| সাধারণ পরিষদের ৬৯তম অধিবেশন বিষয়-ভিত্তিক আলোচনা শুরু করায় এক উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে| এগুলো মহামান্য শ্রী স্যাম কুটেসা এবং রাষ্ট্রদূত কোর্টনি রাট্টরের শক্তিশালী নেতৃত্ব ছাড়া সম্ভব হত না|
যাইহোক, এটা শুধুমাত্র প্রথম পদক্ষেপ| ৭০তম অধিবেশনে এই প্রক্রিয়াকে এর যৌক্তিক উপসংহারে নিয়ে যাওয়া আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত| আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, আমাদের আজকের সভা এই লক্ষ্যে আমাদের প্রচেষ্টাকে এক বিরাট প্রেরণা দেবে|

***

SC/AKD/AGT