পিএমইন্ডিয়া
জুলু-রজাতীয় রাজা মাননীয় গুডউইল জ্বেলিথিনিকা ভেকুজুলু,
কোয়াজুলুন্যাটাল প্রোইন্সের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
ইথেকুয়িনিমিউনিসিপ্যালিটির মেয়র মহোদয়,
বিশিষ্টঅতিথিবৃন্দ এবংভাই ও বোনেরা,
নমস্তে,ভনক্কম,
সানিবোনানি
আপনাদের এই সুন্দরভাবেসাজানো শহরে আমাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানানোর জন্য আপনাদের সকলকে অনেক অনেকধন্যবাদ। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের আজ আমার দ্বিতীয় দিন। কোয়াজুলু ন্যাটাল-এ উপস্থিতথাকতে পারা আমার কাছে বিশেষ আনন্দের বিষয়। এটি হল জুলু যোদ্ধাদের দেশ। এই দেশেরইঅধিবাসী ছিলেন অ্যালবার্ট লুথুলি। আবার, এই দেশেই গান্ধীজি সম্মানিত হয়েছিলেন‘মহাত্মা’ রূপে।
এই দেশটিরসঙ্গে ভারত বরাবরই রক্ষা করে এসেছে এক নিবিড় সম্পর্ক যার মধ্যে ছিল :
· এক ঐতিহাসিক শক্তিশালী সংযোগ ও যোগাযোগ;
· সংস্কৃতির এক গভীর সম্পর্ক;
· নতুন নতুন অর্থনৈতিক কর্মপ্রচেষ্টার জোটবন্ধন; এবং
· এক শক্তিশালী ক্রীড়া সম্পর্ক।
এই সুন্দরদেশের এক উজ্জ্বল বৈশিষ্ট্য হল এখানকার প্রাণময় বৈচিত্র্য।
ডারবান শহরএবং কোয়াজুলু ন্যাটাল ছাড়া আর কোন শহরেই বৈচিত্র্যের এই সমাহার লক্ষ্য করা যায় না।এ হল বহুত্ববাদের এক বিশেষ উদযাপনযার মধ্যে রয়েছে :
· বিভিন্ন ভাষা ও উপ-ভাষা;
· নানা বিশ্বাসের মধ্যেও এক সমন্বয় প্রচেষ্টা; এবং
· সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক বহমান স্রোত।
এ সমস্তই হলএই শহরটির ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।
একদিকেবহমান ভারত মহাসাগর এবং অন্য প্রান্তে দণ্ডায়মান ড্রেকেন্সবার্গ পর্বত। এক সমৃদ্ধঐতিহ্যের প্রাকৃতিক সুষমা রয়েছে এই দেশটিতে। বহুত্ববাদকে সুরক্ষাদানের মাধ্যমেআপনারা জিইয়ে রেখেছেন ম্যান্ডেলার রামধনু জাতির স্বপ্নকে। মাননীয় নেতৃবৃন্দ, ডারবানশহরে সরকারিভাবে আমাকে যেভাবে সংবর্ধনা দেওয়া হল তাতে আমি অভিভূত। আপনারা আমাকেশুধুমাত্র সম্মানিতই করেননি, আমার দেশের ১২৫ কোটি নাগরিককে এর মাধ্যমে আপনারা মান্যতাদানকরেছেন। আজ এখানে আমার একথা উল্লেখ করার কারণ দক্ষিণ আফ্রিকায় ভারতের আগমন শুরু হয়১৮৬০ সাল থেকেই। ঐ বছর ১৬ নভেম্বর তারিখে ট্রুরো জাহাজটি ৩৪২ জন ভারতীয়কে নিয়ে এসেপৌঁছয়ন্যাটাল বন্দরের উপকূলে। আমি যতদূর জানি, ঐ জাহাজ থেকে যে প্রথম চার যাত্রীএই দেশের মাটি স্পর্শ করেন তাঁরা হলেন – দাবারাম, তাঁর স্ত্রী এবং দুই শিশুকন্যা।আর আজ এই দেড় শতক পরে ডারবান হল ভারতের বাইরে ভারতীয়দের বসবাসের এক বৃহত্তম শহর।দক্ষিণ আফ্রিকার ভারতীয় জনসাধারণের বৃহত্তম অংশের বাস এই শহরটিতেই। বর্ণ বিদ্বেষএবং ঔপনিবেশিকতার শাসনে পূর্ব প্রজন্মের ভারতীয়রা যে এখানে প্রচুর কষ্ট ও দুর্ভোগসহ্য করেছেন একথা সকলেরই জানা। কিন্তু সমস্তরকম প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও নিজস্বসংস্কৃতি ও মূল্যবোধকে তাঁরা অটুট রাখতে পেরেছিলেন।
আজ এখানকারভারতীয় বংশোদ্ভূতরা এই দেশের সফল, গর্বিত এবং অনুগত নাগরিক। এই দেশের বিভিন্নক্ষেত্রে তাঁরা তাঁদের অবদান সৃষ্টি করে চলেছেন :
· শিক্ষা এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার জগতে;
· শিল্পোদ্যোগ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যকে পথ প্রদর্শনের কাজে;
· আইনজ্ঞ এবং বিচারপতি হিসেবে কর্মকুশলতায়; এবং
· ব্যাঙ্ক কর্মী, চিকিৎসক তথা প্রযুক্তিবিদ হিসাবে।
কিন্তুতাঁরা জীবনযাপন করেন শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থেই নয়।
নিজেদেরচেষ্টায় এবং সমষ্টিগতভাবে দরিদ্র এবং অবহেলিতদের অবস্থার উন্নয়নে নানা ধরনের উদ্যোগতাঁরা চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। অসুস্থ এবং বার্ধক্য পীড়িত মানুষদের সেবাতেও তাঁরানিয়োজিত। একদিকে যেমন তাঁরা বৃদ্ধাবাস গড়ে তুলেছেন, গুরুতর অসুস্থদের জন্যসেবাকেন্দ্র পরিচালনা করছেন, অন্যদিকে তেমনইএড্স ও ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসারপাশাপাশি অনাথ আশ্রমও স্থাপন করেছেন। বন্ধুগণ, মানুষে-মানুষে সম্পর্ক স্থাপনের যেইতিহাসকে আমরা বহন করে চলেছি, তা আধুনিক যুগের অংশীদারিত্বের সম্পর্কের ক্ষেত্রেএক বলিষ্ঠ বনিয়াদ গড়ে তুলতে পেরেছে। ভারত বর্তমানে এক অর্থনৈতিক রূপান্তরের মধ্যদিয়ে এগিয়ে চলেছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকা হল আফ্রিকার অর্থনীতির এক অগ্রণী পথপ্রদর্শক। বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমাদের মধ্যে যে অংশীদারিত্বের সম্পর্কগড়ে উঠেছে, তা যথেষ্ট সফল ও ফলপ্রসূ।
গতকালপ্রিটোরিয়ায় প্রেসিডেন্ট জুমা এবং আমি সম্মত হয়েছি আমাদের কৌশলগত সম্পর্ককে সামাজিকতথা অর্থনৈতিক কর্মপ্রচেষ্টার প্রতিটি ক্ষেত্রে আরও প্রসারিত করার লক্ষ্যে। এইবিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রগুলি হল :
· বাণিজ্য ও বিনিয়োগ;
· ক্ষুদ্র ও মাঝারি বাণিজ্যিক উদ্যোগগুলির বিকাশ;
· তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি; এবং
· দক্ষতা তথা প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশ।
এর মধ্যেঅনেকগুলি বিষয়েই কোয়াজুলু ন্যাটাল যথেষ্ট দক্ষতার অধিকারী। এর ফলে, ডারবানের সঙ্গেআমাদের পরম্পরাগত সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও নিবিড় হয়ে উঠবে। নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষাসম্পর্ককে আরও জোরদার করে তোলার লক্ষ্যে একযোগে কাজ করে যাওয়ার প্রশ্নেও আমরা সহমতপোষণ করেছি। বন্ধুগণ, দক্ষিণ আফ্রিকায় এবং বিশেষত ডারবান শহরে ক্রিকেট সম্পর্কে দু-এককথা না বললে আমার বক্তব্য আজ অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। এই খেলাটির জন্য আবেগ ওভালোবাসা আমাদের দু’দেশের সমাজেই যথেষ্ট গভীর ও সুদূরপ্রসারী। আমাদের পারস্পরিকসম্পর্কের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে রয়েছে ক্রিকেট। কিংমিডগ্রাউন্ড বহু স্মরণীয় খেলার সাক্ষী হয়ে রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি ম্যাচ ছিল ভারতও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে।
বন্ধুগণ,
পরিশেষে,আরেকটি কথা আমি এখানে নিবেদন করতে চাই। পরস্পর নির্ভরশীল বর্তমান বিশ্বে আমাদেরউন্নয়নের কাহিনী হল উজ্জ্বলতম বিষয়গুলির অন্যতম। কিন্তু ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়নপ্রচেষ্টা শুধুমাত্র তার নিজের সামাজিক কল্যাণেই চালিত হচ্ছে না। এক্ষেত্রেঅংশীদারিত্বের সম্পর্ক আমরা প্রসারিত করেছি আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মতোআমাদের বন্ধু রাষ্ট্রগুলির বৃহত্তর কল্যাণেও। আজ এর আগে আমি পরিদর্শন করে এসেছিফিনিক্স। দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থানকালে গান্ধীজির বাড়ি ছিল এই ফিনিক্সেই। দক্ষিণআফ্রিকার প্রতিবেশীদের প্রতি তাঁর ছিল এক বিশেষ দরদ। একবিংশ শতকে আমাদেরচ্যালেঞ্জগুলির প্রকৃতি হয়তো বদলে গেছে, কিন্তু দু’দেশের উন্নয়নের লক্ষ্যগুলি রয়েগেছে এক ও অভিন্ন। উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমাদের অংশীদারিত্বের সুফল যাতে সমাজের সেইসমস্ত মানুষের চাহিদা মেটাতে পারে, যাঁদের প্রয়োজন আজ সবথেকে বেশি, বিশেষত যুবসমাজের সেই লক্ষ্যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব আমি।
আসুন, আমরাপরস্পরের সঙ্গে অংশীদারিত্বের সম্পর্কে আবদ্ধ হয়ে এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলারলক্ষ্যে যে বিরাট সুযোগ আমাদের সামনে আজ উপস্থিত তার আমরা সদ্ব্যবহার করি। আমাকেএইভাবে স্বাগত জানানো এবং সেইসঙ্গে সম্মানিত করার জন্য আমি আরও একবার ধন্যবাদজানাই আপনাদের।
ধন্যবাদ,
আপনাদেরঅনেক অনেক ধন্যবাদ।
PG/SKD/DM/…
Thank you very much, for your wonderful welcome to this beautiful city: PM @narendramodi at the civic reception in Durban
— PMO India (@PMOIndia) July 9, 2016
One of the hallmarks of this beautiful nation is its vibrant diversity: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) July 9, 2016
Durban is the largest Indian city outside India. It is home to the largest population of people of Indian origin in SA: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) July 9, 2016
In our inter-dependent world India's growth story is one of the brightest spots: PM @narendramodi in Durban
— PMO India (@PMOIndia) July 9, 2016