Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

জাপানের কোবে শহরে সমাগত অনাবাসী ভারতীয় উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

জাপানের কোবে শহরে সমাগত অনাবাসী ভারতীয় উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী  নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ


নমস্কার,

এরআগেও কোবে শহরে আপনাদের মাঝে আসার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। তখন তো আপনারা ভাবতেওপারেননি যে এমন কোনও ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী হবে। তখনও আপনারা আমাকে এত ভালবাসাদিয়েছেন, যা আমি কখনও ভুলতে পারবো না। সেজন্য কোবেতে এসে আপনাদের সঙ্গে দেখা নাকরে চলে যাব, এমনটি আমি কল্পনাও করতে পারি না।

গতকালআমি প্রধানমন্ত্রী আবের সঙ্গে কথায় কথায় কোবের সঙ্গে আমার সম্পর্কের কথা বলছিলাম।আমি তাকে বলেছি, ২০০১ সালে গুজরাটে ভয়ানক ভূমিকম্পের সময় সবার আগে কোবে থেকেইআন্তর্জাতিক সাহায্য পৌঁছায়। তার কিছুদিন আগেই এখানে ভূমিকম্প হয়েছিল ; ত ৎ সত্ত্বেও সুখের সময় কেউ না এলে বলা হয়, এলে খুশিহতাম। কিন্তু দুঃখের সময় যাঁরা পাশে দাঁড়ান মানুষ তাদের কোনওদিন ভুলতে পারে না,সারাজীবন মনে মনে পুজো করে। আমাদের দুঃখের সময়ে কোবেবাসী যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন,তাঁরা সকলেই আমাদের মনে চিরস্মরনীয় হয়ে থাকবেন। আজ আপনারাও দেশ থেকে এত দূরে থাকাসত্ত্বেও ভারতের প্রতিটি খবরে নিশ্চয়ই গর্ববোধ করছেন। বুক ফুলিয়ে, মাথা উঁচু করে,সকলের চোখে চোখ রেখে চলতে পারছেন। আর তার কারণ, তার কারণ মোদী নয়…। তার কারণ হল,১২৫ কোটি ভাবতবাসী। যেভাবে তাঁরা, বিশেষ, করে নবীন প্রজন্মের মানুষেরা নিষ্ঠারসঙ্গে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছেন, যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন, তাতেপ্রত্যেক ভারতবাসী গর্ব করতেই পারে।

বিগত দুই বছর দেশকে ভয়ঙ্কর খরার সঙ্গে যুঝতে হয়েছে। বর্ষা কম হলেকৃষিপ্রধান ভারতের অর্থব্যবস্হা এমনিতেই সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। আমাদের গত দুই বছরতাই কঠিন সময় গেছে। তা সত্ত্বেও গোটা বিশ্ব সমস্বরে বলছে, বিশ্বব্যাঙ্ক, আইএমএফএবং বিশ্বের সকল তাবড় তাবড় রেটিং এজেন্সিগুলির রিপোর্ট অনুসারে, বিশ্বের বড়দেশগুলির মধ্যে সবচাইতে দ্রুতগতিতে অগ্রসরমান অর্থনীতির দেশ এখন ভারত।

প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ- এফডিআই। এই এফডিআই-কে আমি একটি নিজস্বপরিভাষা দিয়েছি- ফার্স্ট ডেভেলাপ ইন্ডিয়া। বর্তমানে ভারতের ইতিহাসে সর্বাধিকপ্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আসছে। আর প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ পাওয়ার বিকাশ দরওঐতিহাসিকভাবে সর্বোচ্চ। এসব পরিণাম থেকে বোঝা যায় যে দেশ দ্রুত অর্থনৈতিক অগ্রগতিরপথে এগিয়ে চলেছে।

আমাদের দেশে গোড়া থেকেই দারিদ্র্য নিয়ে অনেক আলাপ-আলোচনা হয়েছে।বিশেষ করে প্রত্যেক নির্বাচনের আগে প্রত্যেক রাজনৈতিক নেতার মুখে দারিদ্র্যদূরীকরণের লক্ষ্যে নানা প্রতিশ্রুতি শোনা যায়। কিন্তু ভোটে জেতার পরই তাঁরা সেসবপ্রতিশ্রুতি অবলীলায় ভুলে যান। আমি কিন্তু নির্বাচনে জেতার পর থেকেই দেশ থেকেদারিদ্র্য নির্মূলীকরণের অভিযান শুরু করেছি। এতদিন আমাদের দেশের চল্লিশ শতাংশমানুষ ব্যাঙ্কের দরজায় পা রাখার সুযোগ পেতেন না। আমরা এসে শুরুতেই সকলের ব্যাঙ্কঅ্যাকাউন্ট খোলানোর অভিযান শুরু করেছি। এমনকি ফর্মের খরচ বাবদ আট আনা এক টাকাওযাতে তাদের দিতে না হয় সেরকম নির্দেশ দিয়েছি। বিনা খরচে এই অ্যাকাউন্ট খোলারঅভিযানে আমরা অভূতপূর্ব সাড়া পাই। কিছুদিনের মধ্যেই প্রায় সকল ভারতবাসীর ব্যাঙ্কঅ্যাকাউন্ট খুলে যায়। পাশাপাশি আমাদের গরিবদের মন কতো ধনী দেখুন। ব্যাঙ্কেরঅ্যাকাউন্ট খুলতে কোনও টাকা জমা রাখার শর্ত না থাকলেও তারা ২০০ টাকা ৫০০ টাকা ১০০০টাকা করে জমা দিয়ে দেশের রাজকোষে মোট ৪৫০০০ কোটি টাকা জমা করেন। এই গরিবদের মনের ঔদার্যইহল ভারতের সবচাইতে বড় সম্পদ। আমরা নিজের দেশকে যেমন দেখার স্বপ্ন দেখি সেরকম দেশগড়ে তোলার সামর্থ্য এদেশের জনগণের রয়েছে।

২০১১-য় জাপানে বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয় এসেছিল। প্রথমে ভয়ানকভূমিকম্প আর তারপর প্রবল সুনামি। পাশাপাশি ফুকুশিমায় পারমানবিক কারখানায় ভয়াবহদূর্ঘটনা হয়। তখনকার জাপানের কথা ভাবলে শিউরে উঠতে হয়। বিদ্যুতহীনতা, পানীয় জলেরসঙ্গট প্রবল হয়ে উঠেছিল। আপনাদের সরকারের পক্ষ থেকে সরকারি কর্মচারিদের প্রতিআত্মসংযমের আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু সরকারি কর্মচারিদের পাশাপাশি দেশের প্রায় সকলমানুষই নিঃশব্দে এই আত্মসংযমের পথ বেছে নেয়। সকলেই কোট-প্যান্ট-টাই পরিধান করাত্যাগ করেন। কেউ এসি মেশিন চালান নি। যথাসম্ভব কম জল ব্যবহার করে বাড়িতে তিনটিসব্জির জায়গায় একটি সব্জি রান্না করে, কষ্ট করে খেয়ে অনেক কষ্টে সংকটের দিনগুলিঅতিক্রম করেন। আপনারাও করেছেন। এসব কথা শুনে আমার মনে জাপানবাসী ও জাপানেবসবাসকারী ভারতীয়দের প্রতি শ্রদ্ধা বেড়ে গেছে। মনে মনে ভেবেছি, এরকম সংকট আমাদেরদেশে এলে আমরা কী করতাম ? এরকম সংযম করতে পারতাম ? কিন্তু আজ আমি অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে আত্মিবিশ্বাসনিয়ে বলতে পারছি- আমরাও পারি। ভারতবাসীও আত্মসংযমের দৃষ্টান্ত স্হাপন করতে পারে।

আপনারা জানেন, বিগত আট নভেম্বর রাত আটটায় হঠা ৎ ই আমিদেশের ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোট বাতিল ঘোষণা করতে বাধ্য হই। আমি ১২৫ কোটি ভারতবাসীকেপ্রণাম জানাই। সেলাম জানাই। বাড়িতে বিয়ে, টাকা নেই, মা অসুস্হ, টাকা বাতিল হয়েগেছে- এরকম প্রায় প্রতিটি পরিবারেই কোনও না কোনও ছোট-বড় বিপত্তির সম্মুখীন। কেউকেউ আমার বিরুদ্ধে সমালোচনায় মুখর হয়েছেন। এটাই স্বাভাবিক। তবুও আমি দেশের জনগণকেশতশত প্রণাম জানাই, সেলাম জানাই- গত কয়েকদিন ধরে তাঁরা ঘন্টার পর ঘন্টা ব্যাঙ্ককিম্বা এটিএমের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়েছেন। কিন্তু এত কষ্টসত্ত্বেও অধিকাংশ দেশবাসী এই সিন্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। অনেকে পাঁচ-ছয় ঘন্টালাইনে দাঁড়ানোর পর এটিএম খারাপ হয়ে গেছে, সার্ভার ডাউন হয়ে গেলে শুকনো মুখে বাড়িফিরে আবার পরদিন এসে ব্যাঙ্কের লাইনে দাঁড়িয়েছেন। এই সহনশীলতা দেশের উজ্জ্বলভবিষ্য ৎ কে সুনিশ্চিত করবে। পাপী লোকের সংখ্যা খুব বেশি নয়-দু-চার-পাঁচ লক্ষ কালো টাকার মালিক। তাদের পাপের ফল ১২৫ কোটি ভারতবাসী কেন ভুগবে ? হ্যাঁ, এই কয়েকদিন কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু এই কষ্ট দেশেরউজ্জ্বল ভবিষ্যত ৎ কে সুনিশ্চিত করবে। ইতিমধ্যেই Whats app- এআমরা দেখেছি যাঁরা আগে গঙ্গায় চারআনা পয়সাও ফেলতেন না, তাঁরা ৫০০ টাকা, ১০০০ টাকাভাসিয়ে দিয়েছেন।

আপনারাই বলুন, হাজার হাজার কোটি কালো টাকা বের করতে এই পদক্ষেপনেওয়া জরুরি ছিল কি না ? এখন ৫০০ টাকার নোট, ১০০০ টাকার নোট মোদীও আর বাজারে চালাতে পারবে না। সকলের জন্যসমান ব্যবস্হা করা হল। এজন্যই সকলে এখন প্রশংসায় পঞ্চমুখ। আমি নিজেও ভাবিনি আপামরভারতবাসী আমার এই কঠিন সিদ্ধান্তকে এমনভাবে স্বাগত জানাবে, এমনভাবে আশীর্বাদ করবে।আমি তো ভাবছিলাম, এমন করলে মানুষের কত কষ্ট হবে, কী কী কষ্ট হবে, কী কী লাভ হবে তাএকদমই ভাবিনি। প্রস্তুতিপর্বের কথা কাউকে বলতেও পারছিলাম না। হঠাত ৎ ইঘোষণা করতে হতো, নাহলে কালোবাজারিরা আমাদের সকল কষ্ট ব্যর্থ করে দিতে পারতো। আমারবিশ্বস্ত একটি ছোট দল প্রস্তুতিপর্বের কাজ সারছিলেন আর আমি ভাবছিলাম লোকের কী কীকষ্ট না হবে।

আমাদের গৃহিনীরা সবজি কিনতে যান, সামান্য পয়সা যা বাঁচে দুর্দিনেরজন্য তা আঁচলে বেঁধে রাখেন, খুঁটিতে দু একটা বড় নোট লুকিয়ে রাখেন যাতে বিপদের সময়কাজে লাগে। এই সামান্য ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের পুরো টাকাটাই তাঁর রক্তজল করা টাকা, তাঁরপরিবারের কোনও সদস্যের পরিশ্রমের টাকা। সেদিন আমি যখন ঘোষণা করলাম, যে কোনও গৃহিনীনিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আড়াই লক্ষ টাকা জমা করতে পারেন। সরকাল এতে কোনও প্রশ্নতুলবে না। তখন অনেক পুত্র-পুত্রবধূ যাঁদের মা বৃদ্ধাশ্রমে থাকেন, তাঁর অ্যাকাউন্টেআড়াই লক্ষ টাকা জমা দিয়ে টাকা বাঁচিয়েছেন। এখন বলুন, সেই বৃদ্ধা মায়ের আর্শীবাদপেলে আমার সরকারের কোনও প্রকল্পই অসফল হবে না।

ভাই ও বোনেরা, আমরা সরকারে এসেই সারা দেশে পরিচ্ছন্নতার অভিযানশুরু করেছি। কাউকে সমস্যায় ফেলতে নয়, দেশকে পরিচ্ছন্ন করতে। যাদের কষ্ট হয়েছে, আমিজানি, আট তারিখ তাই জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে আমি বলেছি, এত বড় দেশ, কাউকেতাড়াহুড়ো করতে হবে না, ৫০ দিন সময় যথেষ্ট। এর মধ্যেই আপনাদের রক্তজল করাউপার্জনের অর্থ আপনারা ব্যাঙ্কে জমা করতে, আর পুরনো ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট পাল্টেনিতে পারবেন। কিন্তু হিসেবের বাইরে যাদের কাছে টাকা রয়েছে তাদের তো কষ্ট হবেই।স্বাধীনতার পর থেকে সেদিন পর্যন্ত যারা অন্যায়ভাবে উপভোগ করেছেন, তাদের কষ্ট হোক। এজন্যযত নতুন মানুষকে কাজে লাগাতে হয় আমরা লাগাবো। মানুষের অধিকার এবং ন্যায়ের জয়-জয়কারহোক। পরিশ্রমের উপার্জনের জয়-জয়কার হোক। কোনও সমস্যা নেই। কেউ যদি আজ হিসেবেরবাইরের টাকা ব্যাঙ্কে জমা করেও থাকেন, রেহাই পাবেন না। সেজন্য অনেকেই ব্যাঙ্কে নাগিয়ে গঙ্গার জলে নোট ভাসিয়ে দিচ্ছেন। এভাবে যদি তাদের পূণ্যার্জনে সম্ভব হয়-তারাতা করতে পারেন। কিন্তু আমাদের সরকার স ৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের অধিকার রক্ষার খাতিরে যা যাকরার-সবকিছু করবে। বেইমানদের আমরা চিহ্নিত করে ছাড়বো।

গত দু ’ বছরধরেই আমরা এ ধরনের নানা চেষ্টা করেছি। ফলস্বরুপ, প্রায় ১ লক্ষ ২৫ হাজার কোটি টাকারাজকোষে জমা পড়েছে। কাজেই কেউ বলতে পারবেন না যে সুযোগ দিইনি। বারবার সুযোগদিয়েছি। এখনও তাদের জন্য ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় রয়েছে। ততদিন ১২৫ কোটি ভারতবাসীরকোনও সমস্যা হবে না। সকলেই সমান অধিকার ভোগ করবেন। কিন্তু তারপরও যাদের কাছ থেকেবেহিসেবি অর্থ, যা তাঁরা অন্যায়ভাবে সরিয়ে রেখেছেন- সেগুলি উদ্ধার করা সম্ভব হবেনা, তাদের জন্য সরকার আরও কঠিন পদক্ষেপ নেবে না- তার কোনও গ্যারান্টি নেই।

এখন বিশ্ব বদলে গেছে, এখন মূলধারায় ফিরে আসুন। আগে যা করেছেন,করে নিয়েছেন। আর নয়। আমি সুযোগ দিয়েছি, নিজের ভাগ্যের কথা ভাবুন। কিন্তু আমারপ্রিয় দেশবাসী, যারা কঠিন পরিশ্রম করে দেশের নাম উজ্জ্বল করছেন, যারা দেশের গৌরববৃদ্ধি করছেন, বিশ্বের যে কোনও প্রান্তে বসবাসকারী ভারতীয়রা তাদের ইতিবাচক স্বভাবও আচার-ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর প্রশংসা কুড়োচ্ছেন। আজ ভারতের সম্মানবৃদ্ধিরপাশাপাশি দেশ গঠনে আপনাদের অংশগ্রহণের জন্যও দেশবাসী গর্ব অনুভব করেন।

আমি আরেকবার আপনাদের সকলের সঙ্গে মিলিত হতে পেরে আপ্লুত। অনেক অনেকধন্যবাদ জানিয়ে আপনাদের আশ্বস্ত করছি, এখন থেকে ভারত নিরন্তর অগ্রগতির পথে হাঁটবে।উন্নয়নের নতুন নতুন শিখর স্পর্শ করবে। ভারতের বাইরে থেকে আপনারা যেমন ভারতেরস্বপ্ন দেখেন, সেইসব ভাল কিছু ভারতে হওয়া সম্ভব। ভারতবাসী নিজেদের জন্য,বিশ্ববাসীর কল্যাণে সেসব কিছু করার সামর্থ্য রাখেন। সেগুলি হবেই।

অনেক অনেক ধন্যবাদ।

PG/SB /NS/