Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

নতুন দিল্লিতে আয়োজিত রামনাথ গোয়েঙ্কা পুরস্কার অনুষ্ঠানে মূল বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী রমূল অভিভাষণ

নতুন দিল্লিতে আয়োজিত রামনাথ গোয়েঙ্কা পুরস্কার অনুষ্ঠানে মূল বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী  রমূল অভিভাষণ


সকল মাননীয় ব্যক্তিবর্গ,

আজ যাঁরা পুরস্কৃত হলেন, তাঁদের সবাইকে আমার অনেক অনেক শুভেচ্ছা। তা ছাড়া,অনেকেই হয়তো পুরস্কারের কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন, কিন্তু পুরস্কার পাননি, তাঁদেরকেওঅভিনন্দন জানাই। যাতে এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে। প্রত্যেকেই নিজের কলম, মেধা ওপরিশ্রম দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজে কোনও না কোনোভাবে অংশগ্রহণ করতে থাকেন।

অনেকেই নিজের জীবৎকালে নিজের নিজের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ স্থান তৈরি করেনিতে পারেন। কেউ কেউ নিজের জীবৎকালে নিজের কর্মক্ষেত্রের বাইরেও একটি বিশেষ স্থানতৈরি করে নিতে পারেন। কিন্তু খুব কম মানুষই মৃত্যুর পরও নিজের ক্ষেত্রে, এমনকিনিজের কাজের পরিধিতেও নিজস্ব স্থান তৈরি করে অমরত্ব লাভ করেন। তেমনই একজন হলেনশ্রদ্ধেয় রামনাথ গোয়েঙ্কাজি।

এটা আমার সৌভাগ্য যে, শ্রদ্ধেয় রামনাথজি’র দর্শনলাভ হয়েছিল। তিনি গুজরাটেএসেছিলেন। তখন তাঁর যে উচ্চতা ছিল, তাঁর সঙ্গে দেখা করতে হলে কোনও রাজনৈতিক দলেরঅধ্যক্ষ কিংবা মুখ্যমন্ত্রী হতে হ’ত। আসলে আমি এগুলির কোনোটাই ছিলাম না। তখন কোনওসংবাদমাধ্যমের সম্পাদকের সঙ্গে দেখা করতে হলেও আমার মাসখানেক পর অ্যাপয়েন্টমেন্টপাওয়ার সম্ভাবনা ছিল, অন্যথা তাঁদের মনে এমন ধারণা তৈরি করার প্রয়োজন ছিল যে আমিভবিষ্যতে বড় সাংবাদিক, দলীয় নেতা কিংবা মুখ্যমন্ত্রী হতে পারি। তখন জয়প্রকাশজিরনেতৃত্বে আন্দোলন চলছিল। রামনাথজি তখন ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে নিয়মিত লিখতেন। কিন্তুসেই সংবাদপত্রের মাধ্যমে যতটা অভিব্যক্ত হ’ত, তা নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট ছিলেন না।তাঁর ভাবনার বিশালতার তুলনায় ঐ খবরের কাগজের প্রকাশ-ক্ষমতা যথেষ্ট ছিল না। সেজন্যতিনি ঐ সংবাদপত্রের পরিধির বাইরেও কিছু করতে চাইতেন এবং করতেন। তিনি জয়প্রকাশনারায়ণের পেছনে একটি বড় শক্তি রূপে দাঁড়িয়ে পড়েছিলেন। নিজের আদর্শে এতটাই অটলছিলেন যে তাঁর পরিবারিক সম্পর্কগুলির ওপরে তাঁর আদর্শকে স্থান দিতেন। তাঁরনিকটাত্মীয়দের মনে তাঁর সম্পর্কে কেমন ধারণা ছিল জানি না, কারণ সেই সময় ঐ পরিবারেরকৃপা পেলে এদেশের অনেকেই অনেক কিছু করতে রাজি হয়ে যেতেন। অথচ শ্রদ্ধেয় গোয়েঙ্কাজিআদর্শের খাতিরে সেই পরিবারের সঙ্গেও সম্পর্ক ত্যাগ করার সাহস দেখিয়েছিলেন।

সেজন্য তাঁর সাংবাদিকতা আগামীকাল খবরের কাগজের পাঠকরা যা পড়বেন, শুধুসেইটুকু লেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। আমি জানি না এখন সাংবাদিকতার ছাত্রদেরপাঠক্রমে ইতিহাসের কোন্‌ কোন্‌ অংশ থাকে! ভারতের সাংবাদিকতার ইতিহাসের দিকে যদিতাকান, তা হলে দেখবেন যে স্বাধীনতার আন্দোলনের সঙ্গে এই সাংবাদিকতার ইতিহাসেরবিবর্তন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এদেশে স্বাধীনতার এমন কোনও আন্দোলন হয়নি, যার সাফল্যেএক বা একাধিক সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল না। সকলেই ভাবতেন যে, ব্রিটিশসাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে আমরা এই মাধ্যমকে যত বেশি ব্যবহার করতেপারি। সেজন্য দেশের অনেক বড় নেতাকেই খবরের কাগজে কোনও সরকার বিরোধী লেখার জন্য জেলখাটতে হয়েছিল। তবুও তাঁরা কলম ছাড়েননি। লোকমান্য তিলক, মহাত্মা গান্ধী, ঋষি অরবিন্দপ্রত্যেকেই কোনও না কোনও সংবাদপত্রের মাধ্যমে স্বাধীনতার আন্দোলনকে ছড়িয়ে দিতেপেরেছিলেন। ভারতের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হ’ল, মা সরস্বতীর সন্তানরা সংবাদিকতার সঙ্গেযুক্ত হয়েছিলেন, যাঁরা কেবলই কাব্যচর্চা কিংবা সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে সমাজে সুনামঅর্জন করতে পারতেন, দেশপ্রেম তাঁদেরকে সেই সহজ জীবন ত্যাগ করে সাংবাদিকের ভূমিকায়অবতীর্ণ হতে প্রেরিত করেছে। তাঁদের কলমের জোর সাংবাদিকতাঁর শক্তি বৃদ্ধি করেছে।দেশের কল্যাণে এমনই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই সাহিত্যিকরা সাংবাদিকের ভূমিকাপালন করে নিজেদের জীবনে অনেক বিপত্তি ডেকে এনেছিলেন। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে সঙ্কটেরসম্মুখীন করে তুলতে পেরেছিল এই সাহিত্যিক সাংবাদিকরা। লেখাপড়া জানা মানুষরা তাঁদেরলেখা পড়ে উদ্বুদ্ধ হয়ে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে পেরেছিলেন। স্বাধীনতারআন্দোলন এভাবে ক্রমে ছড়িয়ে পড়েছিল, তীব্র হয়েছিল।

দেশ স্বাধীন হ’ল । স্বাধীনতার পরও ভারতের গণতন্ত্রকেশক্তিশালী করতে সঠিক পথ দেখাতে ভারতের সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।নেহাতই নিন্দা করার জন্য কারও সমালোচনা তাঁরা করতেন না। মনে করুন , কোনও মহামারীতে অনেক মানুষ মারা যাচ্ছেন, এক্ষেত্রে সাংবাদিকরা সেইমহামারীর কারণ অন্বেষণের মাধ্যমে প্রশাসনকে সচেতন করতেন এবং জানা থেকে অজানার পথেনতুন নতুন সমস্যার সম্মুখীন হতে সাহায্য করতেন। জরুরি অবস্থার কথাই ধরুন না কেন,আজ জরুরি অবস্থার কথা বললে অনেকেই হয়তো ভাবতে পারেন যে আমি রাজনীতির কথা বলছি।কিন্তু আমার উদ্দেশ্য তা নয়। আমি মনে করি, জরুরি অবস্থা এখন ইতিহাস, তা নিয়ে এখনআর রাজনীতি করে কোনও লাভ নেই। আমি একদমই নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে বলছি, যাতেভবিষ্যতেও দেশে কোনও নেতা এই ধরণের ভুল করার ইচ্ছেও পোষণ না করেন। সেই সময়কারসাংবাদিকরা দেখিয়ে দিয়েছেন যে, রাষ্ট্রের চরম দমন-পীড়ণ এবং চাপের মুখেও কিভাবেমানুষের কথা তুলে ধরা যায়। যে মহান সাংবাদিকরা ঐ জরুরি অবস্থার সময় সরকারের বড়প্রতিস্পর্ধী হয়ে উঠেছিলেন, তাঁদের মধ্যে রামনাথ গোয়েঙ্কা অন্যতম। তাঁর নেতৃত্বেইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সেই সময় একটি বড় ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছিল। আমি মনে করি,গণতন্ত্রকে যুগে যুগে এরকম তীক্ষ্ণধার করে তুলতে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম।

আজও আমি মনে করি, ভারতের গণতন্ত্র রক্ষায় সংবাদমাধ্যমের গুরুত্ব আগের চেয়েঅনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। যে সমস্যাগুলি বিগত শতাব্দীতে ছিল না, আজ এরকম অনেক নতুন নতুনসমস্যা গণতন্ত্রের শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মূল কারণ সম্ভবত প্রযুক্তি। সংবাদমাধ্যমের জন্য প্রযুক্তিই সবচেয়ে বড় প্রতিস্পর্ধা হয়ে উঠে দাঁড়িয়েছে। আগে ২৪ ঘন্টাপর পর খবরের কাগজের মাধ্যমে জনগণ সংবাদ পেতেন। আর আজ ২৪ সেকেন্ড দেরীতে হলেই লোকেবলবে ‘ও তুমি জানো না…… মোবাইলের মাধ্যমে এই খবর পেয়েছি’। বিশ্বের যে কোনওপ্রান্তে কোনও কিছু হলেই মুহূর্তের মধ্যে সে খবর সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে যাচ্ছে।সংবাদ মাধ্যমের ভয়ে সরকারও তটস্থ থাকে। যে কোনও সমস্যার মোকাবিলা করতে যে সময়দরকার সংবাদ মাধ্যম সেই সময়ও সরকারকে দেয় না। মহামারী শুরু হলে চিকিৎসকদল পাঠাতেহবে, দাঙ্গা হলে পুলিশ পাঠাতে হবে কিন্তু তার আগেই খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে,ব্রেকিং নিউজ…… অমুক সমস্যার সমাধান করার সামর্থ্য সরকারের নেই, সাধারণ জনগণওএই সংবাদ দেখে সোশ্যাল মিডিয়াতে তাঁর আত্মীয়স্বজনদের কাছে নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করাশুরু করে দেবেন। কাজেই এক্ষেত্রে সততা ও গ্রহণযোগ্যতার গুরুত্ব বেড়ে গেছে। রোজসকালে চায়ের টেবিলে খবরের কাগজ পড়ার স্বভাব আমাদের আছে। যতই আমরা টিভিতে খবর দেখিনা কেন, সংবাদপত্র পড়ে সেই খবরকে যাচাই করতে যাই। সোশ্যাল মিডিয়ায় পাওয়া খবরসম্পর্কেও আমরা নিশ্চিত হই, যখন আমাদের প্রিয় কোনও সাংবাদিক বা প্রতিবেদক সেইসম্পর্কে খবরের কাগজে বিস্তারিত লেখেন। তারমানে বুঝুন, আপনাদের প্রতি সাধারণমানুষের আস্থা কতটা। প্রত্যেক ছোট ছোট জিনিসকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তাঁরা আপনাদেরবিশ্লেষণের মাধ্যমে যাচাই করতে চান।

আমার মনে আছে, যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম, তখন অনেক নেতার কথাই খবরেরকাগজে ছাপা হ’ত। মন্ত্রীরা, ভিআইপি’রা কত গাড়ি নিয়ে চলাফেরা করেন, তাঁদের নানাখুঁটিনাটি খবরের কাগজে ছাপা হ’ত আমিও পড়তাম। বেশ কয়েকবার আমি খবরের কাগজ পড়েসংশ্লিষ্ট নেতা ও উচ্চপদস্থ আধিকারিককে জিজ্ঞেস করেছি, কিন্তু তাঁরা ব্লু-বুকদেখিয়ে এমন অকাট্য যুক্তি দিতেন যে, আমিও চুপ করে যেতাম। কিন্তু একবার আমেদাবাদেসন্ধ্যার দিকে আমার কনভয় যাচ্ছিল, তখন এক যুবক নিজের মোবাইলে সেটা রেকর্ড করেসোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করে দেন। আমি বরাবরই সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ সক্রিয়। সেজন্যদু-তিন ঘন্টার মধ্যেই সেই ছবিগুলি আমার কাছেও পৌঁছে যায়। অন্য নেতা বা আধিকারিকদেরসমালোচনা সংবাদপত্রে পড়ে আমি যতটা প্রভাবিত হতাম, ঐ যুবকের আপলোড দেখে আমি সেদিনতার থেকেও বেশি প্রভাবিত হলাম। আমি এজন্য আপনাদের বলছি যে, সত্যের কত শক্তি।জনগণের ক্ষমতায়ন কত ভালো। আর সত্যের সঠিক প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা কত অমোঘ।

এটা এমন একটি ক্ষেত্র, যেখানে সকলের বক্তব্যের মূল্য রয়েছে। আমি সারা জীবনধরে সংবাদমাধ্যমের কাছে কৃতজ্ঞ থাকব, না হলে আমাকে কে জানতেন! স্বাধীনতার পর কোনওরাজনৈতিক নেতা যদি সংবাদমাধ্যমের সর্বাধিক আনুকূল্য পেয়ে থাকেন, সে হলাম আমি।সেজন্য আমার মনে সর্বদা দুটি জিনিস প্রাধান্য পায়। আপনারা ভেবে দেখুন পৃথিবী বদলেগেছে। শুধু আমাদের অর্থনীতির বিশ্বায়ন হয়নি, আমাদের গোটা জীবনটারই বিশ্বায়ন হয়েগেছে। সারা পৃথিবী এখন ইন্টারকানেক্টেড এবং ইন্টার ডিপেন্ডেন্ট। তা হলে আমারপ্রশ্ন হ’ল – সংবাদমাধ্যমের দুনিয়ায় কোনও ভারতীয় সংবাদমাধ্যম কেন আজও বিশ্বমানেরহয়ে উঠতে পারেনি? বিবিসি, সিএনএন কিম্বা আলজজিরা’র মানের কোনও সংবাদমাধ্যম আমরাআজও কেন বিশ্বকে দিতে পারিনি? অথচ আমি ভালভাবেই জানি যে, এগুলির মধ্যে প্রথম দুটিরসাফল্যে বেশ কয়েকজন ভারতীয় সাংবাদিকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিভিন্নআন্তর্জাতিক বিষয়ে ভারত’কে নেতৃত্ব দিতে হলে সকল ক্ষেত্রের সমস্যাগুলিকে বুঝতেহবে। সেজন্য ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকেও আন্তর্জাতিক মানের হয়ে উঠতে হবে, যাতে তাদেরসংবাদ পরিবেশন দেশ-কাল-জাতি-রাজনীতি নিরপেক্ষ হয়। এতে কারও কারও খারাপ লাগতে পারেকিন্তু আমি খুশি হব। আমাদের দেশে অনেক অন্তর্লীন শক্তি আছে। সম্প্রতি পরিবেশ নিয়েপুরস্কৃত হওয়ার পর আমি নিজের বিবেক’কে প্রশ্ন করছিলাম যে, আমরা কি সত্যি সত্যিইপরিবেশ রক্ষা করার জন্য পুরস্কৃত হলাম নাকি নিছকই প্রদূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্যপুরস্কৃত হলাম।

আজ সারা বিশ্ব পরিবেশ এবং বিশ্ব উষ্ণায়ন নিয়ে চিন্তিত। প্রকৃতির সাথেকিভাবে বাঁচতে হবে, প্রকৃতির গুরুত্ব কি এবং প্রকৃতির সামর্থ্যকে স্বীকার করেনেওয়ার সংস্কৃতি প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিকের শিরা-ধমনীতে প্রবাহিত। শুধু যদি আমাদেরকাছে ঐ মানের কোনও সংবাদমাধ্যম থাকত, তা হলে বিশ্বকে ভারতবাসী বুঝিয়ে দিতে পারতযে, পরিবেশ দূষণ ও বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণ কারা? নিজেদের স্বার্থ রক্ষার খাতিরেআপনারা মানবতার অস্তিত্বকেই সঙ্কটের মুখে ফেলে দিয়েছেন। ১৯৩০ সালে সাবরমতী নদীরতীরে মহাত্মা গান্ধী থাকতেন। তখন সাবরমতীতে ভালো জল থাকত। কিন্তু কেউ গান্ধীজিকেএক গ্লাস জল এনে দিলে তিনি বলতেন, অর্ধেক জল ঐ কলসিতে রাখো আর অর্ধেকটা আমাকে দাও।আমাদের দেশের শিশুদের ছোটবেলাতেই শেখানো হয় যে, বিছানা থেকে নেমে মাটিতে পা রাখারপরই ধরিত্রী মায়ের কাছে ক্ষমা চাও, প্রণাম করো। আমাদের মায়েদের শিক্ষাগত যোগ্যতাযা-ই থাকুক না কেন, তাঁরা বাচ্চাদের শেখাতেন সূর্য তোর দাদা, চাঁদ তোর মামা, গোটাব্রহ্মাণ্ড তোর পরিবার। এই সংস্কার আমাদের শিরা-ধমনীতে প্রবাহিত হয়। সেজন্যেই বলছিআমাদের হাতে বিশ্বমানের বড় সংবাদমাধ্যম থাকলে সেটা বিশ্ব উষ্ণায়ণের বিপদ থেকে মানবসভ্যতাকে বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে। আমরা কি এরকম কোনওআন্তর্জাতিক মানের সংস্থা গড়ে তুলতে পারি না। জানি খুব কঠিন, আমি এক্ষেত্রেআপনাদের কোনও সাহায্য করতে পারি?

আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, অদূর ভবিষ্যতেই এরকম আন্তর্জাতিক মানের কোনও সংস্থাসত্যি সত্যি গড়ে উঠবে। আর এতে সরকারের কোনও হাত থাকা উচিৎ নয়। শ্রদ্ধেয় ভিনোভাভাবে বলতেন, বেসরকারি – অ-সরকারি (প্রভাবশালী)! ভিনোভা ভাবের কথাগুলি আমারমন্ত্রের মতো ভালো লাগত। তিনি শব্দ নিয়ে খেলতেন। তাঁর লেখা পড়তে ভীষণ ভালো লাগত। আমাদেরস্বপ্ন থাকা উচিৎ যে বিশ্বে সেই মানের সংবাদমাধ্যম গড়ে তোলা। সংবাদমাধ্যম নিয়ে যাঁরাগবেষণা করেন, তাঁরা জানেন, বিশ্বের উন্নত দেশগুলি আজকাল অর্থ, বাজেট ইত্যাদিব্যবস্থার ক্ষেত্রে বিশ্বমানের কম্যুনিকেশন এজেন্সিগুলির সাহায্য নেয়। সবাই ভাবেন,এটাই বিশ্বায়িত অর্থ ব্যবস্থা। সারা বিশ্ব এভাবেই পরিবর্তিত হচ্ছে। সেখানে আমাদেরসংবাদমাধ্যমগুলির প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন। এটা যেমন সমস্যা, তেমনসুযোগও বটে। এ নিয়ে আমাদের ভাবা উচিৎ।

দ্বিতীয় যে কথাটি আমি বলতে চাই, সংবাদমাধ্যম যত বেশি সরকারের সমালোচনাকরবে, ততই ভালো। এতে আমার কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু ভুল সংবাদ পরিবেশন করবেন না।ভারত বিবিধতায় ভরা দেশ, বৈশিষ্ট্যময় দেশ, দেশের ঐক্য আপনাদের জন্য একটি খবর আরপ্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই আপনাদের পরবর্তী খবরের অন্বেষণে থাকতে হয়। কিন্তু কখনোকখনও এই সংবাদ প্রকাশ এত গভীর আঘাত দেয়; এই পাপ আপনারা যতটা করেন, তারচেয়ে আমাদেরসতীর্থরা বেশি করেন। সংবাদ যদি সঠিক হয়, তা হলে আপনাদের কোনও পাপ হয় না। কিন্তুতার প্রভাবকে আমার সতীর্থরা যেভাবে ব্যবহার করেন, সেখানেই পাপ জন্ম নেয়। একটিউদাহরণ দিই, যদি আমি ভুল করি তা হলে এখানে অনেক মানুষ রয়েছেন, যাঁরা শুধরে দিতেপারেন। আগে একটা দুর্ঘটনা হলে খবর আসত যে, অমুক গ্রামে একটি ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কালেগে একজন সাইকেল চালক আহত হয়েছেন কিংবা মারা গেছেন। ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসে। এখনবলা হয়, অমুক গ্রামে দিনের বেলা এক মদমত্ত চালকের দোষে একজন নির্দোষ ব্যক্তিরমৃত্যু কিংবা বিএমডব্লুউ গাড়ি একজন দলিতকে মেরে ফেলেছে। স্যর, আপনারা আমাকে ক্ষমাকরবেন। বলুন তো, বিএমডব্লুউ’র গাড়ির চালক কি জানতেন যে, যিনি চাপা পড়ছেন তিনিদলিত। কিন্তু সমাজে আগুন লাগানোর জন্য এই খবর যথেষ্ট। দুর্ঘটনার খবর শুধুইদুর্ঘটনা হিসাবে কেন দেখানো হবে না?

বাজেটের সময় খবর হওয়া উচিৎ যে, বাজেটে কতটা ঘাটতি রয়েছে এবং কেন? সরকার কতহাজার কোটি টাকার কর নির্ধারিত করেছে। কিন্তু এভাবে না ছেপে খবরে ছাপা হয়, মোদীসরকারের কোমর ভাঙ্গা বাজেট। মোদী সরকারের উত্তর প্রদেশের নির্বাচনকে মাথায় রেখেআনা বাজেট!

এত বড় দেশ, কেবল সরকারের পরিচালনায় চলতে পারে না। যত ধরনের সংস্থা দেশকেঐক্যবদ্ধ রাখতে পারে, এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে, তার মধ্যে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকাঅত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি বলছি না যে শুধু আপনাদেরই দায়। আমাদের সকলকেই কাজ করতেহবে। তা হলে, আমাদের দেশ পিছিয়ে পড়ার আর কোনও কারণ থাকবে না। বিশ্বকে আমরা অনেককিছু দিতে পারব। যে নবীন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা সাংবাদিকতাকে নিজেদের ধর্ম মেনে,একটি আদর্শ নিয়ে জীবন শুরু করতে যাচ্ছেন, তাঁদেরকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা। তাঁদের কাছথেকে প্রেরণা গ্রহণ করে পরবর্তী প্রজন্ম সত্যের অন্বেষণে উৎসর্গীকৃত হওয়ার জন্যতৈরি হবেন, তাঁদেরকেও আমার শুভেচ্ছা। ভাই নিজের বিবেকের কথা শুনুন। আমিও বিবেকের ডাকশুনে এখানে এসেছি। এই পরিবারের সঙ্গে আমার সম্পর্ক অত্যন্ত পুরনো। আজ এই মহানপুরস্কার প্রদান উপলক্ষে আপনাদের মধ্যে আসার সৌভাগ্য হয়েছে। আমি পরিবারের সদস্যদেরঅনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই। ধন্যবাদ।

PG /SB/ SB…