Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

ব্রিক্‌স নেতৃবৃন্দেরজিয়ামেন ঘোষণা  

ব্রিক্‌স নেতৃবৃন্দেরজিয়ামেন ঘোষণা  

ব্রিক্‌স নেতৃবৃন্দেরজিয়ামেন ঘোষণা  

ব্রিক্‌স নেতৃবৃন্দেরজিয়ামেন ঘোষণা  


জিয়ামেন, চিন, ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭    

নয়াদি ল্লি১৬  সেপ্টেম্বর , ২০১৭  

1.    আমরা অর্থাৎ ব্রাজিল যুক্তরাষ্ট্রীয় সাধারণতন্ত্র, রাশিয়ান ফেডারেশন,সাধারণতন্ত্রী ভারত, গণপ্রজাতন্ত্রী চিন এবং দক্ষিণ আফ্রিকা সাধারণতন্ত্রেরনেতৃবৃন্দ ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ তারিখে নবম ব্রিক্‌স শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে মিলিতহয়েছি চিন-এর জিয়ামেনে। “ব্রিক্‌স : উজ্জ্বলতর ভবিষ্যতের লক্ষ্যে এক শক্তিশালীঅংশীদারিত্ব” এই বিষয়টিকে অবলম্বন করে ব্রিক্‌স-এর ভবিষ্যৎ উন্নয়নের লক্ষ্যে মিলিতদৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে ইতিমধ্যেই যে সাফল্য আমরা অর্জন করেছি, তার ওপর ভিত্তি করেআমরা এখন আরও এগিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। সাধারণ স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিকতথা আন্তর্জাতিক বিষয়গুলি নিয়েও আলোচনাক্রমে সহমতের ভিত্তিতে জিয়ামেন ঘোষণাকে আমরাসকলেই স্বাগত জানিয়েছি।  

  

2.    আজ থেকে দশ বছর আগে শান্তি, নিরাপত্তা, উন্নয়ন এবং সহযোগিতার যে আকাঙ্খাআমাদের সকলকে একত্রিত করেছিল, তাকেই অনুসরণ করে এই বিষয়টি হ’ল আমাদের অন্যতম মূললক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। জাতীয় পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গতি রক্ষা করে ব্রিক্‌স সদস্যরাষ্ট্রগুলি এ পর্যন্ত এক উল্লেখযোগ্য যাত্রাপথ অনুসরণ করে এসেছে। প্রত্যেকটিসদস্য রাষ্ট্রই তাঁদের অর্থনীতির বিকাশ প্রচেষ্টার পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরজীবনধারণের মান উন্নত করে তুলতেও প্রচেষ্টা চালিয়ে এসেছে। পূর্ববর্তী শীর্ষসম্মেলনগুলির নেতারা বহুমুখী এবং বহুস্তরীয় যে সহযোগিতাকে উৎসাহিত করে এসেছেন,তাকেই আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে মিলিত অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে আমরা  চেষ্টা চালিয়ে গেছি। একদিকে যেমন আমরা উন্নয়নেরবিষয়টিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দান করেছি, অন্যদিকে তেমনই বহুপক্ষীয় মতবাদ ওসহযোগিতাকেও আমরা সমানভাবেই প্রাধান্য দিয়ে এসেছি। ন্যায় ও সমতার ভিত্তিতে একনীতিনিষ্ঠ গণতান্ত্রিক তথা প্রতিনিধিত্বমূলক রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক শৃঙ্খলাস্থাপনের লক্ষ্যে একযোগে বর্তমানে কাজ করে চলেছি আমরা।   

  

3.    ২০০৬ সাল থেকেই আমাদের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমঝোতা, সংহতি ও সমতা এবংসেইসঙ্গে উদার ও মুক্ত অন্তর্ভুক্তিমূলক এক সহযোগিতার বাতাবরণ গড়ে উঠেছে আমাদেরমধ্যে। ব্রিক্‌স সহযোগিতার শক্তি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এ হ’ল এক অমূল্য সম্পদ। আমাদেরপারস্পরিক পছন্দ অনুযায়ী উন্নয়নের পথগুলিকে আমরা যেমন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্বীকার করেনিয়েছি, অন্যদিকে তেমনই পরস্পরের স্বার্থের বিষয়টিতেও আমাদের সমর্থন ও সমঝোতার হাতআমরা বাড়িয়ে দিয়েছি। সংহতি ও সমতার নীতিকে আমরা সবসময়েই উর্ধ্বে রেখেছি। এক উদারবিশ্ব অর্থনীতির স্বার্থে আমরা সাদরে গ্রহণ করেছি মুক্ত এবং অন্তর্ভুক্তিমূলকচিন্তাভাবনাকে। নতুন নতুন অর্থনৈতিক বিপণন এবং বিকাশশীল দেশগুলির সঙ্গে সামঞ্জস্যরক্ষা করে সহযোগিতার প্রসারও ঘটিয়েছি আমরা। পারস্পরিক কল্যাণের স্বার্থে সাধারণবিকাশ প্রচেষ্টা এবং তার সুফল লাভের জন্য মিলিত প্রচেষ্টা আমরা চালিয়ে গেছি।এরফলে, ব্রিক্‌স সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে প্রসার ঘটেছে ব্যবহারিক সহযোগিতার, যাআখেরে কল্যাণসাধন করেছে সমগ্র বিশ্বেরই।   

  

4.    আমাদের সহযোগিতা যেভাবে ফলপ্রসূ হয়ে উঠেছে, তা আমাদের পক্ষে এক বিশেষসন্তোষের কারণ। একদিকে যেমন আমরা নতুন উন্নয়ন ব্যাঙ্ক (এনডিবি) এবং আপৎকালীন অর্থমজুতের ব্যবস্থা (সিআরএ) চালু করতে পেরেছি, অন্যদিকে তেমনই ব্রিক্‌স-এর অর্থনৈতিকঅংশীদারিত্বের একটি কৌশলসূত্রও আমরা আবিষ্কার করেছি। এরফলে, নিরাপত্তার প্রশ্নেব্রিক্‌স-এর উচ্চ প্রতিনিধিত্বমূলক বিভিন্ন বৈঠক এবং বিদেশ মন্ত্রীদের আলোচনা ওমতবিনিময়ের মাধ্যমে আমাদের রাজনৈতিক তথা নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার হয়ে উঠেছে।শুধু তাই নয়, ব্রিক্‌স দেশগুলির জনসাধারণের মধ্যে ঐতিহ্য বা পরম্পরাগত মৈত্রীসম্পর্কও দিন দিন গভীরতর হয়েছে।   

  

5.    উফা এবং গোয়ায় আমাদের শীর্ষ সম্মেলনগুলিকে স্মরণ করে জনসাধারণের কল্যাণেরস্বার্থে ব্রিক্‌স-এর কৌশলগত অংশীদারিত্বের সম্পর্ক আরও প্রসারিত করতে মিলিতভাবেআমরা কাজ করে যাব। পূর্ববর্তী শীর্ষ বৈঠকগুলির ফলাফল এবং সহমতকে ভিত্তি করেঅবিচলিত আত্মবিশ্বাস ও সংকল্পের সঙ্গে আরও এগিয়ে যেতে আমরা বিশেষভাবে আগ্রহী যাতেব্রিক্‌স সংহতি ও সহযোগিতার দ্বিতীয় সুবর্ণ দশকটিতে আমরা প্রবেশ করতে পারি।   

  

6.    সংশ্লিষ্ট দেশগুলিতে উন্নয়ন প্রসারের সম্ভাবনা এবং আমাদের সহযোগিতা প্রসারেরবিশাল দিগন্তের কথা চিন্তা করে ব্রিক্‌স-এর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আমরা যথেষ্টআত্মবিশ্বাসী।  পারস্পরিক  সহযোগিতার এইবাতাবরণকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে আমরা বর্তমানে অঙ্গীকারবদ্ধ।   

  

–    ব্রিক্‌স সদস্য রাষ্ট্রগুলির উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করে তুলতেব্যবহারিক সহযোগিতার ক্ষেত্রটিতে আমরা আরও শক্তি বৃদ্ধির চেষ্টা করে যাব। অন্যভাবেবলতে গেলে, উন্নয়নের প্রশ্নে সৎ প্রচেষ্টা ও অভিজ্ঞতাকে আমরা পরস্পরের মধ্যেবিনিময়ের লক্ষ্যে সচেষ্ট থাকব, বিপণন প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে পরস্পরের মধ্যেসংযোগসাধনের চেষ্টা করে যাব এবং পরস্পর সংযুক্ত উন্নয়নের লক্ষ্য পূরণে আর্থিক তথাপরিকাঠামোগত সংহতি সাধনেও আমদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব। ইএমডিসি-গুলির সঙ্গেঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ব্রিক্‌সবহির্ভূত দেশগুলির সঙ্গেও সমতার ভিত্তিতে এবং নমনীয় আচার-আচরণের মধ্য দিয়ে আলোচনাও মতবিনিময় এবং সহযোগিতার চে ষ্টা  চালিয়ে যাব। এর অর্থহ’ল, ব্রিক্‌স-এর সুনির্দিষ্ট পরিধির বাইরেও আমাদের সহযোগিতার ক্ষেত্রকে আরওসম্প্রসারিত করা।   

  

–    ন্যায় ও সমতার ভিত্তিতেআন্তর্জাতিক স্তরে অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা  নিশ্চিত করার  কাজে বিশ্ব অর্থনীতি সম্পর্কে এক পরিচালনব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য সময় ও যোগাযোগের প্রসারের কাজেও আমরা আমাদের চেষ্টাচালিয়ে যাব। বিশ্ব অর্থনৈতিক মঞ্চগুলিতে ব্রিক্‌স সদস্য রাষ্ট্রগুলির প্রতিনিধিত্বআরও বাড়িয়ে তুলতে এবং আমাদের নিজস্ব বক্তব্যকে সেখানে যথাযথভাবে তুলে ধরতে আমরাসবরকমভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব। আর এইভাবেই এক উদার, অন্তর্ভুক্তিমূলক তথা একসুষম অর্থনৈতিক বিশ্বায়ন সম্ভব করে তুলতে নিরন্তর প্রচেষ্টা আমরা চালিয়ে যাব। এরফলে, ইএমডিসি-গুলির উন্নয়নে আমাদের অবদান যেমন অটুট ও অক্ষুণ্ণ থাকবে, অন্যদিকেতেমনই বিশ্বের উন্নয়ন প্রচেষ্টা এবং উত্তর ও দক্ষিণের মধ্যে বিকাশের ক্ষেত্রে যেভারসাম্যহীনতা রয়ে গেছে, তা দূর করা সম্ভব হবে।  

  

–    আঞ্চলিক তথা আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে রক্ষা করার স্বার্থে ন্যায়ও সততার ওপর আমরা বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে যাব। রাষ্ট্রসঙ্ঘের কেন্দ্রীয় ভূমিকাকেস্বীকার করে নিয়ে সমতার ভিত্তিতে এক বিশ্ব শৃঙ্খলা নিশ্চিত করে তোলার কাজে আমরাপ্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাষ্ট্রসঙ্ঘের সনদে যে নীতি ও লক্ষ্যের উল্লেখ করা হয়েছে, তারওপর আমাদের আস্থা ও বিশ্বাস যেমন অটুট থাকবে, অন্যদিকে তেমনই আন্তর্জাতিক আইনেরপ্রতি শ্রদ্ধা, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রসার এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেআইনের শাসনের প্রতি আমাদের আনুগত্য সমগ্র ব্যবস্থাটিতে এক বিশিষ্টতা দান করবে।সাধারণ এবং অন্যান্য ধরণের নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলায় মিলিত প্রচেষ্টাকেআমরা অটুট ও অক্ষুণ্ণ রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাব, যাতে বিশ্ব জনগণের স্বার্থেসহযোগিতার ভিত্তিতে এক উজ্জ্বলতর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।   

  

–    পরম্পরাগত গভীর মৈত্রী সম্পর্কের মাধ্যমে ব্রিক্‌স সহযোগিতার ক্ষেত্রে আরওবেশি জনসমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং জনসাধারণের মধ্যে বিনিময়সফরসূচির প্রস্তাবগুলিকে আমরা সাদরে গ্রহণ করব। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সাধারণমানুষের মধ্যে বিনিময় কর্মসূচি বিষয়গুলিকে একদিকে যেমন আমরা উৎসাহ যুগিয়ে যাব,অন্যদিকে তেমনই ব্রিক্‌স সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলিতে সমাজের সকল স্তরের মানুষেরঅংশগ্রহণের মাত্রা আরও বাড়িয়ে তোলার কাজেও আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাব। আমাদেরপারস্পরিক সংস্কৃতি ও সভ্যতা সম্পর্কে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের চেষ্টা চালিয়েযাওয়ার পাশাপাশি পারস্পরিক সংযোগ, যোগাযোগ এবং সমঝোতা বৃদ্ধির কাজেও আমাদেরপ্রচেষ্টা অব্যহত থাকবে। ঐতিহ্য তথা পরম্পরাগত মৈত্রী সম্পর্ক অটুট রাখতে ব্রিক্‌সদেশগুলির জনসাধারণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়ার ক্ষেত্র প্রসারেও আমরা চেষ্টাচালিয়ে যাব, যাতে ব্রিক্‌স সহযোগিতা তথা অংশীদারিত্বের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দেশগুলিরজনসাধারণের হৃদয়কে স্পর্শ করে যায়। 

  

ব্যবহারিক ক্ষেত্রে ব্রিক্‌স-এর আওতায় অর্থনৈতিক সহযোগিতা 

   

7.    আমরা লক্ষ্যকরেছি যে, বলিষ্ঠ অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রেক্ষাপটে এবং নতুন নতুন উদ্যোগ ও কর্মসূচিরূপায়ণের পরিপ্রেক্ষিতে ব্রিক্‌স সদস্য রাষ্ট্রগুলি আন্তর্জাতিক বিকাশ ও অগ্রগতিরক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তির ভূমিকা পালন করে চলেছে। অনিশ্চয়তা এবং নানাধরণের ঘাত-প্রতিঘাতের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও যে সমস্ত বিষয় বিশ্বের বিকাশ সম্ভাবনাএবং বিপণন ব্যবস্থার ওপর আস্থা ও বিশ্বাসের পরিপন্থী, সেগুলি সম্পর্কে সতর্কতাঅবলম্বনের ওপর আমরা বিশেষভাবে জোর দিচ্ছি। সবকটি দেশকেই আমরা আহ্বান জানিয়েছি,তাদের বৃহদায়তনের অর্থনৈতিক তথা কাঠামোগত নীতিগুলিকে ঢেলে সাজিয়ে নীতিগত সমন্বয়প্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করে তোলার জন্য। 

  

8.    আমরা আরওলক্ষ্য করেছি যে, ব্যবহারিক ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ব্রিক্‌স দেশগুলির মধ্যেসহযোগিতার ভিতকে আরও মজবুত করে তুলেছে। ব্রিক্‌স-এর অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের কৌশলও উদ্যোগের বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই এই ঘটনা ঘটে চলেছে। এই কাজে বিশেষভাবেঅগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, নির্মাণ ও উৎপাদন, খনিজ সম্পদেরপ্রক্রিয়াকরণ, পরিকাঠামোগত সংযোগ ও যোগাযোগ, আর্থিক সংহতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি,উদ্ভাবন প্রচেষ্টা এবং  তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতার মতো ক্ষেত্রগুলিকে। ব্রিক্‌সঅর্থনৈতিক সহযোগিতা তথা অংশীদারিত্বের মূল কৌশলসূত্রটির বাস্তবায়ন সম্পর্কিত প্রথমপ্রতিবেদনটিকে আমরা স্বাগত জানিয়েছি। আর্থিক, অর্থনৈতিক এবং কাঠামোগত নীতিগুলিরবাস্তবায়নে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। বিশ্বের উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে বলিষ্ঠ, নিরন্তর, সুষমএবং অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তোলার লক্ষ্যে উদ্ভাবন শক্তিচালিত উন্নয়ন কৌশলকে গ্রহণকরতেও আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।  

  

9.    ব্রিক্‌সঅর্থনীতির সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য আরও বেশি মাত্রায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহযোগিতার ওপর আমরা বিশেষভাবে জোর দিয়েছি। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতার পদ্ধতিগতব্যবস্থাকে আরও উন্নত ও উদার করে তুলতেও আমরা সহমত পোষণ করেছি। কারণ, আমাদেরলক্ষ্য হ’ল– ব্রিক্‌স অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে এক পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া এবং সেই সঙ্গেব্রিক্‌স সদস্য রাষ্ট্রগুলিতে কর্মপ্রচেষ্টার বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাকে প্রসারিত করা।ব্রিক্‌স বাণিজ্য মন্ত্রীদের সপ্তম বৈঠকের ইতিবাচক ফলগুলিকেও আমরা স্বাগতজানিয়েছি। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে – সহযোগিতার কাঠামোগত দিক, নীতি রূপায়ণেরক্ষেত্রে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত সুযোগ-সুবিধারজন্য প্রয়োজনীয় রূপরেখা স্থির করা, তথ্য বিনিময়, ক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি ইত্যাদি।এই কাজে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত যৌথ উদ্যোগগুলির ওপর বিশেষ জোর দেওয়ারপাশাপাশি পরিষেবা বাণিজ্য, বৈদ্যুতিন বাণিজ্য, অর্থনৈতিক তথা প্রযুক্তিগতসহযোগিতা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগ এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ওপর আরওবেশি করে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। ব্রিক্‌স ই-পোর্ট নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার বিষয়টিকেওআমরা স্বাগত জানিয়েছি। সেইসঙ্গে, বৈদ্যুতিন বাণিজ্যের সুযোগ-সুবিধা প্রসারের কাজখতিয়ে দেখার জন্য এক বিশেষ কর্মীগোষ্ঠী গঠনের বিষয়টিও আমাদের গ্রহণযোগ্য বলে মনেহয়েছে। আগামী ২০১৮ সালে এক আন্তর্জাতিক আমদানি-রপ্তানি প্রদর্শনীর যে উদ্যোগ চিনগ্রহণ করেছে, তাকেও আমরা আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছি। এই প্রদর্শনীতে সক্রিয়অংশগ্রহণের জন্য ব্রিক্‌স রাষ্ট্রগুলির সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে আমরা উৎসাহ যুগিয়েযাব।  

  

10.    ব্রিক্‌স সদস্য দেশগুলির উন্নয়ন সংক্রান্ত চাহিদাপূরণে এবং প্রকৃত তথা ব্যবহারিক অর্থনীতির প্রসার ও উন্নয়নের লক্ষ্যে ব্রিক্‌স-এরআওতায় আর্থিক সহযোগিতাকে আরও বাড়িয়ে তোলার ওপরও আমরা বিশেষভাবে জোর দিয়েছি।সরকারি-বেসরকারি পর্যা য়ে  অংশীদারিত্ব সম্পর্কিত যে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে ব্রিক্‌স রাষ্ট্রগুলিরঅর্থমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির প্রশাসকদের মধ্যে ,  তাও আমরা খতিয়ে দেখেছি। সহযোগিতার বিভিন্ন দিক ওবিষয়গুলি সম্পর্কে প্রযুক্তিগত আলোচনা ও মতবিনিময়ের লক্ষ্যে এক টাস্কফোর্স গঠনেরবিষয়টিও খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে আমাদের মনে হয়েছে। ব্রিক্‌স সদস্য দেশগুলির মধ্যেবন্ড বাজার চালু করার প্রাথমিক কাজকর্ম শুরু করার জন্য অডিট এবং অ্যাকাউন্টস্‌ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও সমন্বয়ের প্রস্তাবটিকেও আমরা সমর্থন জানিয়েছি। এই কাজেসংশ্লিষ্ট দেশের জাতীয় আইন ও নিয়ম-নীতিকে মেনে চলার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। ব্রিক্‌স-এরস্থানীয় কারেন্সি বন্ড বাজারগুলির বিকাশে এবং ব্রিক্‌স-এর আওতায় যৌথভাবে লোকালকারেন্সি বন্ড ফান্ড গড়ে তুলতেও আমরা সহমত প্রকাশ করেছি। কারণ, এর সুবাদে ব্রিক্‌সরাষ্ট্রগুলিতে আর্থিক যোগান ও বিনিয়োগ প্রক্রিয়াকে নিরন্তর রাখা সম্ভব হবে। এরফলে,ব্রিক্‌স-এর অভ্যন্তরীণ তথা আঞ্চলিক পর্যায়ের বন্ড বাজারগুলির যথেষ্ট মাত্রায়শক্তি বৃদ্ধি ঘটবে। এই কাজে বিদেশের বেসরকারি ক্ষেত্রগুলির অংশগ্রহণকেও স্বাগতজানাতে আমরা কোনও রকম দ্বিধাবোধ করব না। কারণ, এই সমস্ত পদক্ষেপের ফলশ্রুতিতেব্রিক্‌স রাষ্ট্রগুলির আর্থিক বনিয়াদ যথেষ্ট শক্তিশালী হয়ে উঠবে  বলে আমরা মনে করি ।   

  

11.    ব্রিক্‌স রাষ্ট্রগুলিরমধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগেরক্ষেত্র দ্রুত প্রসার লাভ করায় উদ্ভূত চাহিদার যোগানে আর্থিক বাজার ব্যবস্থারসংহতিসাধনেও আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাব। এজন্য গড়ে তোলা হবে আর্থিক সংস্থা ওপ্রতিষ্ঠানগুলির এক বিশেষ নেটওয়ার্ক। সেই সঙ্গে, আর্থিক পরিষেবা চালু থাকবে ব্রিক্‌সদেশগুলির মধ্যেও। সংশ্লিষ্ট দেশের নিয়ন্ত্রণ কাঠামো এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংগঠনেরবাধ্যবাধকতা অনুসরণ করে এই কাজে আমরা এগিয়ে যাব। আর্থিক ক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রকসংস্থাগুলির মধ্যে বেশি মাত্রায় যোগাযোগ ও সহযোগিতা প্রসারের বিষয়টিকেও বিশেষভাবেগুরুত্ব দেওয়া হবে। আর্থিক দুর্নীতি এবং সন্ত্রা সে  আর্থিক সহায়তা যোগানের মতো অপরাধগুলির মোকাবিলায়এক আন্তর্জাতিক মান গড়ে তোলার লক্ষ্যে সক্রিয়ভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার জন্যওব্রিক্‌স রাষ্ট্রগুলি সংকল্পবদ্ধ হয়েছে। এজন্য এএমএল/সিএফটি সম্পর্কিত ব্রিক্‌সপ্রধানদের সঙ্গে একদিকে যেমন সহযোগিতার প্রসার ঘটানো হবে, অন্যদিকে তেমনই ব্রিক্‌সসিটিডব্লুজি’র কাজকর্মের পরিপ্রেক্ষিতে এবং অন্যান্য মঞ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে জাতীয়স্তরের আর্থিক ব্যবস্থাগুলির সংহতিকে রক্ষা করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হবে।প্রতিটি ব্রিক্‌স রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের আইনি নির্দেশ ও বাধ্যবাধকতাঅনুসরণ করে কারেন্সি ক্ষেত্রে সহযোগিতা প্রসারের লক্ষ্যে সদস্য রাষ্ট্রগুলি একেঅপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে চলবে। ব্রিক্‌স-এর অর্থনৈতিক তথা বাণিজ্যিকসহযোগিতা প্রচেষ্টাকে সমর্থন যুগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে ব্রিক্‌স-এর আওতায় আন্তঃব্যাঙ্কসহযোগিতা প্রচেষ্টাকেও আমরা উৎসাহিত করে যাব। প্রত্যেকটি ব্রিক্‌স সদস্য রাষ্ট্রেরজাতীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্কগুলির মধ্যে মউ সম্পাদনের কাজ যেভাবে এগিয়ে গেছে, তারওসপ্রশংস উল্লেখ রয়েছে আমাদের ঘোষণার মধ্যে। আন্তঃব্যাঙ্ক লোকাল কারেন্সি ক্রেডিটএবং ক্রেডিট রেটিং-এর ক্ষেত্রেও এই ধরণের সহযোগিতার প্রসার ঘটানো হয়েছে।    

  

12.    মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক অগ্রগতি তথা বিশ্বেরনিরন্তর উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসাবে উদ্ভাবনপ্রচেষ্টার গুরুত্বকে আমরা অনুধাবন করি। আমাদের এই পাঁচটি দেশের অর্থনীতির বিকাশেগতি সঞ্চারের লক্ষ্যে এবং আমাদের উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায়বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন সংক্রান্ত সহযোগিতার প্রসারে আমরাপ্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ব্রিক্‌স-এর বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন  সম্পর্কিত  কাঠামোগত কর্মসূচির আওতায় ব্রিক্‌স গবেষণা ওউন্নয়ন প্রকল্পগুলিকে বেছে নেওয়ার উদ্যোগকে আমরা সমর্থন জানাই। ব্রিক্‌স-এর আওতায়বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন সংক্রান্ত মউ সম্পাদনের প্রচেষ্টাকেও আমরা স্বাগতজানাই। প্রযুক্তির প্রয়োগ ও হস্তান্তর সহ উদ্ভাবন ও শিল্পোদ্যোগের ক্ষেত্রেসহযোগিতার মাত্রা বৃদ্ধি করার প্রস্তাবে আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। বিজ্ঞান ওপ্রযুক্তি পার্ক এবং সংস্থাগুলির মধ্যে সহযোগিতা এবং সেই সঙ্গে গবেষক,শিল্পোদ্যোগী, পেশাদার কর্মী এবং ছাত্রছাত্রীদের বিনিময় সফরসূচিকে উৎসাহ দানেরপ্রচেষ্টাকেও আমরা সাধুবাদ জানাই। এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিকসংস্থা, সুশীল সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষের অংশগ্রহণের মাত্রাকে বাড়িয়েতুলতে উৎসাহদানের যে একটি বিশেষ ভূমিকা রয়েছে, সে কথাও আমরা স্বীকার করি। বিজ্ঞান,প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ এবং আন্তঃসীমান্ত পর্যায়ে এনডিবি সহ বিভিন্নমঞ্চ ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিনিয়োগ প্রচেষ্টাকেও আমরা সমর্থন জানাই। উদ্ভাবন ওশিল্পোদ্যোগের জন্য সহযোগিতার একটি মঞ্চ গড়ে তোলার কাজে আমরা যেমন সম্মতিজানিয়েছি, অন্যদিকে তেমনই আমরা সমর্থন জানিয়েছি ২০১৭-২০২০ পর্যন্ত ব্রিক্‌সউদ্ভাবন সহযোগিতা কার্যসূচি রূপায়ণের প্রস্তাবকেও।   

  

13.    ব্রিক্‌স-এর নীতি অনুসারে শিল্প সহযোগিতার বিষয়েআমাদের অঙ্গীকারের কথা পুনরুচ্চারিত হয়েছে। শিল্প নীতি ও উৎপাদন ক্ষমতা, নতুন নতুনশিল্প পরিকাঠামো ও তার নির্দিষ্ট গুণমান এবং ক্ষুদ্র, অতিক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্পসংস্থাগুলিকে নানাভাবে উৎসাহদানও এই শিল্প সহযোগিতার অন্তর্ভুক্ত। নতুন শিল্পবিপ্লবের ফলে যে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা এখন আমাদের সামনে উপস্থিত সদস্য রাষ্ট্রগুলিযৌথভাবে যাতে তার সদ্ব্যবহার করে নিজেদের শিল্পায়ন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতেপারে, তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। ব্রিক্‌স ইন্সটিটিউট অফ ফিউচারের বিশেষনেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সম্ভাবনার বিষয়টিকেও আমাদের উৎসাহিত করা প্রয়োজন। আইসিটিক্ষেত্রে ব্রিক্‌স-এর আওতায় আমরা যৌথভাবে গবেষণা, উন্নয়ন ও উদ্ভাবনের প্রসারেবিশেষভাবে উদ্যোগী হব। এর মধ্যে রয়েছে – ইন্টারনেট অফ থিংস, ক্লাউড কম্প্যুটিং,বৃহদাকারের তথ্য ও পরিসংখ্যান, তথ্য বিশ্লেষণ, ন্যানো প্রযুক্তি, আর্টিফিশিয়ালইন্টেলিজেন্স এবং ফাইভ-জি – এর পথ ধরে যে নতুন নতুন উদ্ভাবন পদ্ধতির সন্ধান পাওয়াযাবে, তার যথাযথ প্রয়োগের সাহায্যে একদিকে যেমন আইসিটি পরিকাঠামোর মান আরও উন্নতকরে তোলা সম্ভব হবে, অন্যদিকে তেমনই সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে সংযোগ ও যোগাযোগেরমাত্রাও বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। আইসিটি পরিকাঠামোর নিরাপত্তা, তথ্য ও পরিসংখ্যানগতসুরক্ষা এবং ইন্টারনেটের নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য তাব্যবহারযোগ্য করে তুলতে হবে। অর্থাৎ, এমন একটি বিশেষ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে আমরাআগ্রহী, যা সুরক্ষা ও নিরাপত্তার দিক থেকে শ্রেষ্ঠ বলে বিবেচিত হ বে ।  আইসিটি ক্ ষেত্রেবিনিয়োগের মাত্রা আরও বৃদ্ধি করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি আইসিটি সম্পর্কিতগবেষণা ও উন্নয়ন খাতেও বিনিয়োগের প্রসারে আমরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব। উদ্ভাবনেরসুফলকে কাজে লাগিয়ে যাতে উন্নতমানের পণ্য ও পরিষেবার যোগান নিশ্চিত করা যায়, তাদেখাও হবে আমাদের অন্যতম উদ্দেশ্য। বিভিন্ন সংস্থা, সংগঠন এবং শিল্পোদ্যোগের মধ্যেঅংশীদারিত্বের মাত্রা বাড়িয়ে তুলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও আমরা গ্রহণ করব। আইসিটিহার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার এবং দক্ষতার মধ্যে সমন্বয়ের পাশাপাশি সেগুলির ক্ষমতা ওশক্তি বৃদ্ধিরও প্রচেষ্টা আমরা চালিয়ে যাব ।  এরফলে ,স্মার্টনগরী গড়ে তোলা, স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রসার, জ্বালানি সাশ্রয়ী ব্যবস্থারউদ্ভাবন ও প্রয়োগের বিষয়গুলিকে উৎসাহিত করা সম্ভব হবে। ব্রিক্‌স-এর মঞ্চ থেকেআইসিটি’র উন্নয়ন কার্যসূচি ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমরা সমর্থনজানিয়ে যাব সক্রিয় সহযোগিতার ওপর।   

  

14.    নিরন্তর উন্নয়নের লক্ষ্যে আগামী ২০৩০ সালের জন্যধার্য লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আমাদের প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকারের কথাও আমরা পুনরুচ্চারণকরেছি ব্রিক্‌স-এর মঞ্চ থেকে। আমরা সমর্থন ও সহযোগিতা যুগিয়ে যাব এক উদার, সুষম,সার্বিক, উদ্ভাবন-চালিত অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে। কারণ আমাদের লক্ষ্যহল, নিরন্তর উন্নয়নের ত্রিমাত্রিক উদ্দেশ্যসাধন। এই তিনটি বিশেষ মাত্রা হ’ল –অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত বিকাশ। সমগ্র প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রিত হবে এক সুষম ওসুসংহত ব্যবস্থার মাধ্যমে ।  আমরা সমর্থন জানাইরাষ্ট্রসঙ্ঘের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাটিকেও। নিরন্তর উন্নয়নের লক্ষ্যে উচ্চ পর্যায়েররাজনৈতিক ফোরামটিও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। ২০৩০ সালের সুনির্দিষ্ট কার্যপরিকল্পনাছাড়াও, রাষ্ট্রসঙ্ঘের উন্নয়ন প্রক্রিয়ার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও আমরাঅনুভব করি। উন্নত দেশগুলির কাছে আমরা আর্জি জানাই যে, তারা যেন উন্নয়নের কাজেসরকারিভাবে যে সহায়তাদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা সঠিক সময়ে, সঠিক পদ্ধতিতে পালনও অনুসরণ করেন। তাদের এই ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ তাদের এই সহযোগিতারহাত ধরে বিকাশশীল দেশগুলির কাছে আরও বেশি মাত্রায় উন্নয়নের সহায়সম্পদ পৌঁছে দেওয়াসম্ভব হবে।   

  

15.    অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রচেষ্টায় জ্বালানি শক্তিরকৌশলগত গুরুত্বের বিষয়টিও আমাদের অজানা নয়। সেই কারণে জ্বালানি ক্ষেত্রেও ব্রিক্‌স-এরসহযোগিতা প্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করে তুলতে আমরা সংকল্পবদ্ধ। আমরা স্বীকার করি যে,নিরন্তর উন্নয়ন প্রচেষ্টা, সুলভ জ্বালানি শক্তি এবং জ্বালানি নিরাপত্তার মতোবিষয়গুলি বিশ্বের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সমৃদ্ধির এক বিশেষ দ্যোতক। এই সমৃদ্ধিরঅংশীদার হবে শুধুমাত্র ব্রিক্‌স সদস্য রাষ্ট্রগুলিই নয়, একই সঙ্গে সমগ্র বিশ্বও।আমরা অনুভব করেছি যে, বিশুদ্ধ এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি সকলের জন্যই সুলভ করেতোলা প্রয়োজন। এই কারণে জ্বালানির মতো একটি সম্পদ এবং তার প্রযুক্তিকে উন্মুক্ত,নমনীয় এবং স্বচ্ছ করে তোলার জন্য বিপণন ব্যবস্থাটিকে নতুনভাবে রূপ দিতে আমরাআগ্রহী। জীবাশ্ম জ্বালানির সফল ব্যবহার এবং গ্যাস, জলবিদ্যুৎ এবং পরমাণু শক্তিরসাহায্যে উৎপাদিত বিদ্যুতের ব্যাপক ব্যবহারের জন্যও আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়েযাব। কারণ, আমরা  বিশেষভাবে  ওয়াকিবহাল যে, এই সমস্ত কিছু থেকেই একদিকে যেমন দূষণ নির্গমণের মাত্রাহ্রাস পাবে, অন্যদিকে তেমনই এমন এক অর্থনীতি গড়ে উঠবে যেখানে জ্বালানি শক্তিরউন্নততর ব্যবহার এবং নিরন্তর উন্নয়ন প্রচেষ্টা বিশেষভাবে উৎসাহিত হবে। ব্রিক্‌সরাষ্ট্রগুলির নিরন্তর উন্নয়নের ক্ষেত্রে অসামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারযোগ্য পরমাণুশক্তির উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের গুরুত্ব অপরিসীম। ব্রিক্‌স-এরআওতায় একটি জ্বালানি গবেষণা সহযোগিতা মঞ্চ গঠ নের  লক্ষ্যে আলাপ-আলোচনাকে আমরা উৎসাহ যুগিয়ে যাব।জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতার প্রসার এবং ব্যয় সাশ্রয়ী জ্বালানি  উৎপাদনের লক্ষ্যে গবেষণা প্রচেষ্টাকে সমর্থনযুগিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা আহ্বান জানাব সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকেই।  

  

16.    দূষণমুক্ত উন্নয়ন প্রচেষ্টা এবং অপেক্ষাকৃত কমকার্বন নির্গমনযুক্ত অর্থনীতির বিকাশে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নিরন্তর উন্নয়ন এবংদারিদ্র্য নির্মূলকরণ  –  এই দুটি উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই আমাদের এই বিশেষ অঙ্গীকার। জলবায়ুপরিবর্তনের মোকাবিলায় এবং সবুজায়নের কাজে অর্থ বিনিয়োগে র  আমরা পক্ষপা তী ।  জলবায়ুপরিবর্তন সম্পর্কিত রাষ্ট্রসঙ্ঘের সম্মেলনের নীতি ও আদর্শ অনুসরণ করে গৃহীতপ্যারিস চুক্তি পুরোপুরিভাবে বাস্তবায়িত করার জন্য আমরা আহ্বান জানাই সবকটি দেশেরকাছেই।  সেইসঙ্গে, উন্নত দেশগুলির কাছেআমরা আবেদন জানাই যে, এক দূষণমুক্ত সবুজ পৃথিবী গড়ে তোলার কাজে তারা যেন তাদের ক্ষমতাও সামর্থ্য অনুযায়ী সকল রকম আর্থিক, প্রযুক্তিগত এবং দক্ষতা বৃদ্ধি সম্পর্কিতসহযোগিতার প্রসার ঘটান।   

  

17.    আমাদের এই দেশগুলির নিরন্তর উন্নয়ন প্রচেষ্টা এবংজনকল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলির রূপায়ণে পরিবেশেরগুরুত্ব অপরিসীম। এই কারণে বায়ু ও জলদূষণ প্রতিরোধ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জৈব বৈচিত্র্যের যথাযথ সংরক্ষণ প্রচেষ্টারবিষয়গুলিকে আমরা নানাভাবে উৎসাহ যুগিয়ে যাব। পরিবেশ গড়ে তোলার কাজে প্রযুক্তির যেএকটি বিশেষ ভূমিকা রয়েছে, একথাও আমরা স্বীকার করি। এই কারণে, শহরাঞ্চলের পরিবেশেরবিকাশ এবং দূষণমুক্ত পরিবেশকে অটুট রাখার মতো প্রযুক্তির সন্ধানে ব্রিক্‌স-এরআওতায় যৌথ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হবে। আগামী ২০২০ সালে জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণসম্পর্কিত বিশেষ সম্মেলনের উদ্যোগ আয়োজনে আগ্রহ দেখিয়েছে চিন। ব্রিক্‌সভুক্ত অন্যচারটি দেশ অর্থাৎ ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা চিন-এর এই উদ্যোগকেএকবাক্যে সমর্থন জানিয়েছে।   

  

18.    বিগতবছরগুলিতে সফল কৃষি সহযোগিতার ক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্যের বিষয়টি পর্যালোচনা করেআমরা অনুভব করেছি যে, ব্রিক্‌স সদস্য রাষ্ট্রগুলিতে কৃষি বিকাশের ক্ষেত্রেপারস্পরিক সহযোগিতা প্রসারের এক উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। তাই, এই বিশেষক্ষেত্রটিতে সহযোগিতা প্রসারের পাশাপাশি পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ুপরিবর্তনের মোকাবিলার উপযোগী করে কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, কৃষি প্রযুক্তি ক্ষেত্রেসহযোগিতা ও উদ্ভাবন  প্রচেষ্টা , কৃষি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং কৃষি ক্ষেত্রে তথ্য, যোগাযোগ ও প্রযুক্তিপ্রয়োগের মতো ৫টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্ষেত্রে সহযোগিতার মাত্রাকে আমরা আরও গভীরেনিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। এরফলে, একদিকে যেমন বিশ্বের কৃষি উৎপাদনউল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে তেমনই নিরন্তর উন্নয়নের লক্ষ্য পূরণওবাস্তবায়িত হয়ে উঠবে। ভারতে ব্রিক্‌স কৃষি গবেষণা মঞ্চের একটি সমন্বয় কেন্দ্রস্থাপনের বিষয়টিকে আমরা স্বাগত জানিয়েছি। সংশ্লিষ্ট অগ্রাধিকারের বিষয়গুলিকে এরসাহায্যে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া সম্ভব হবে।  

  

19.    এককপ্রচেষ্টায় নিরন্তর উন্নয়নের লক্ষ্য পূরণে আফ্রিকা মহাদেশের দেশগুলি যেভাবেউত্তরোত্তর চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে, তাতে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এমনকিবন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও আফ্রিকা মহাদেশের অভিজ্ঞতা একই রকম। এই কারণে,বন্যপ্রাণীদের নিয়ে অবৈধ বাণিজ্য প্রতিরোধ, কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রসার, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিকাঠামো প্রসার তথা শিল্পায়ন প্রচেষ্টার কাজেআফ্রিকার সঙ্গে আমাদের সহযোগিতার সম্পর্ককে আরও জোরদার করে তুলতে ইতিপূর্বেই গৃহীতঅঙ্গীকারের আমরা পুনরুচ্চারণ করেছি। এই লক্ষ্যে সংযোগ ও যোগাযোগের প্রসার এবং উন্নয়নসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচি রূপায়ণের কাজে আমরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়েদেব। আফ্রিকা মহাদেশের শান্তি এবং আর্থ-সামাজিক বিকাশের লক্ষ্যে ২০৬৩ সাল পর্যন্তযে কার্যসূচি রূপায়ণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আফ্রিকা ইউনিয়ন, তাতে নিবিড়ভাবে সহযোগিতাচালিয়ে যাওয়ার কথাও আমরা পুনর্ব্যক্ত করেছি ব্রিক্‌স সম্মেলনের মঞ্চ থেকে।  

  

20.    নিরন্তর উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির মতো একটিনেতিবাচক দিকের প্রভাব সম্পর্কেও আমরা বিশেষভাবে ওয়াকিবহাল। এই পরিস্থিতিতে ব্রিক্‌স-এরদুর্নীতি বিরোধী সহযোগিতা প্রচেষ্টাকে আমরা সর্বতোভাবে সমর্থন করি।  ব্রিক্‌স  সদস্যরাষ্ট্রগুলিতে দুর্নীতির মোকাবিলায় আমরা পরস্পরের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাওয়ারপাশাপাশি অভিজ্ঞতা বিনিময়েরও উদ্যোগ গ্রহণ করব। আমরা স্বীকার করি যে,দুর্নীতি-প্রসূতবেআইনি অর্থের রমরমা অর্থনৈতিক বিকাশ এবং আর্থিক স্থিতিশীলতারযথেষ্ট ক্ষতিসাধন করে । এই কারণে , সহায়সম্পদ পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টায় সর্বতোভাবেসহযোগিতা চালিয়ে  যেতে  আমরা বিশেষভাবে আগ্রহী। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রামে আন্তর্জাতিকসহযোগিতাকে আরও জোরদার করে তোলার প্রচেষ্টাকেও আমরা সমর্থন জানাই। এই লক্ষ্যেব্রিক্‌স-এর আওতায় দুর্নীতি বিরোধী এক বিশেষ কর্মীগোষ্ঠীও গঠন করা হয়েছে। আমরাঅবহিত যে, অবৈধ  উপায়ে অর্জিত  অর্থ এবং আইন বহির্ভূতভাবে আর্থিক দুর্নীতিতেমদতদানের ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বেআইনি সম্পদের মজুতভাণ্ডার ক্রমশ স্ফীত হয়ে  উঠে ছে। কিন্তু আখেরে তা অর্থনৈতিকঅগ্রগতি এবং নিরন্তর উন্নয়ন প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে নেতিবাচকভাবে প্রভাব ফেলতে পারে  বলে আমাদের দৃঢ় ধারণা ।  এই কারণে , দুর্নীতিরোধএবং তার মোকাবিলায় এক বলিষ্ঠ বিশ্ব জনমত গড়ে তুলতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। এই কাজেরাষ্ট্রসঙ্ঘের দুর্নীতি বিরোধী কনভে ন শন এং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থাগুলিকে আমরা অনুসরণকরে যাব।  

  

21.    আমরা বর্তমানে ডিজিটাল অর্থনীতির যুগে প্রবেশকরেছি। এর ফলে, যে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা আমরা লাভ করেছি, তার পুরোপুরি সদ্ব্যবহারকরতে আমরা এখন প্রস্তুত। বিশ্বের সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে যে সমস্ত চ্যালেঞ্জদেখা দিয়েছে, তার মোকাবিলা করার মতো শক্তি ও ক্ষমতা রয়েছে এই ডিজিটাল উদ্ভাবনব্যবস্থার। উদ্ভাবন, অংশীদারিত্ব, সমন্বয়, নমনীয়তা, উদারতা, অনুকূল বাণিজ্যিকপরিবেশ, আস্থা ও নিরাপত্তা, ক্রেতা সাধারণের অধিকারের সুরক্ষা – এই বিষয়গুলিরক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিয়ম-নীতি অনুযায়ী আমরা কাজ করে যাব, যাতে ডিজিটাল অর্থনীতিরপ্রসার ও উন্নয়নের পথ সুপ্রশস্ত হয়। কারণ আমরা জানি যে, এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতিরবিকাশের পাশাপাশি প্রত্যেকের জন্যই তা কল্যাণ নিশ্চিত করবে।  

  

22.    পরিকাঠামো,নির্মাণ ও উৎপাদন, কৃষি, জ্বালানি শক্তি, আর্থিক পরিষেবা, বৈদ্যুতিন বাণিজ্য,প্রযুক্তিগত মান নির্ধারণ এবং দক্ষতা বিকাশের ক্ষেত্রে আমাদের অর্থনৈতিকসহযোগিতাকে আরও জোরদার করে তোলার লক্ষ্যে ব্রিক্‌স বাণিজ্য উৎসব এবং বাণিজ্যফোরামের প্রচেষ্টা ও অবদানের আমরা বিশেষ প্রশংসা করি। আঞ্চলিক বিমান পরিবহণক্ষেত্রে একটি কর্মীগোষ্ঠী গঠনের উদ্যোগকেও আমরা স্বাগত জানিয়েছি। বাণিজ্যিকপরিষদের নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যেই এই কর্মীগোষ্ঠী গঠনের কথা বলা হয়েছে। প্রসঙ্গত,আঞ্চলিক ক্ষেত্রে বিমান পরিবহণ সম্পর্কিত সহযোগিতা প্রসারের লক্ষ্যে যে মউস্বাক্ষরের প্রস্তাব দিয়েছে ব্রাজিল তারও আমরা বিশেষ প্রশংসা করি। ব্রিক্‌সসহযোগিতার ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক সম্প্রদায় ও সংস্থাগুলির সক্রিয় অংশগ্রহণকে আমরাউৎসাহ জানাই। পারস্পরিক কল্যাণে সহযোগিতা প্রসারের ফলে বাণিজ্য  ও  বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তাবিশেষভাবে সহায়ক হয়ে উঠবে।  

  

23.    শ্রম বাজারেযে পরিবর্তন ঘটে চলেছে এবং তার ফলে যে সুযোগ ও চ্যালেঞ্জের উদ্ভব ঘটেছে, তারগুরুত্ব সম্পর্কে ও  আমরা ওয়াকিবহাল । মানবসম্পদেরক্ষেত্রে ব্রিক্‌স সহযোগিতার  অগ্রগতিতেআমরা সন্তুষ্ট। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান এবং সামাজিক সুরক্ষা ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বেশসন্তোষজনকভাবেই এগিয়ে চলেছে। এরফলে, শ্রম বাজার সম্পর্কে এক বিশেষ তথ্য ব্যবস্থাযেমন গড়ে উঠেছে, অন্যদিকে তেমনই ব্রিক্‌স-এর শ্রম গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিকনিরাপত্তা ক্ষেত্রে সহযোগিতা প্রসার সংক্রান্ত এক কাঠামোর নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে।ভবিষ্যতের কর্মপ্রচেষ্টায় প্রশাসন ও পরিচালন সংক্রান্ত বিষয়ে ব্রিক্‌স-এর বর্তমানসাধারণ অবস্থান এবং তার সাফল্যকে আমরা স্বাগত জানাই। পূর্ণ কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরা, ভালো কাজকর্মের ক্রমবৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য দূরীকরণ কর্মসূচিকে আরও এগিয়ে নিয়েযাওয়ার ক্ষেত্রে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সহযোগিতার বাতাবরণকে আমরা আরও জোরদারকরে তুলতে আগ্রহী। দক্ষতা বিকাশ এবং সার্বজনীন ও নিরন্তর সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থাকে সফল করে তোলার মাধ্যমে আমরা পূর্ণ কর্মসংস্থান তথা দারিদ্র্য দূরীকরণপ্রচেষ্টাকে সার্থক করে তুলতে ইচ্ছুক।  

  

24.    আমাদের এইদেশগুলির দক্ষ সামাজিক এবং অর্থনৈতিক বিকাশ নিশ্চিত করে তুলতে প্রতিযোগিতামুখিনতারসুরক্ষার বিষয়টি আমরা অনুভব করেছি। কারণ আমরা জানি যে, এই ব্যবস্থায় উদ্ভাবনীপ্রচেষ্টা ও প্রক্রিয়াকে যেমন আরও বেশি মাত্রায় উৎসাহিত করা যাবে, অন্যদিকে তেমনইক্রেতাসাধারণের কাছে উন্নতমানের পণ্য ও উৎপাদন পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। ব্রিক্‌সভুক্তদেশগুলির প্রতিযোগিতা সম্পর্কিত সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে আলাপ-আলোচনারগুরুত্বের বিষয়টি ও  আমরা অনুভব করেছি।  

  

25.    বাণিজ্যিককাজকর্মের সুযোগ-সুবিধার প্রসার এবং নিরাপত্তা ও নিয়ম-নীতি মেনে চলার ক্ষেত্রেবাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার কাজে শুল্ক প্রশাসন বা কর্তৃপক্ষ যেভাবে কাজ করে চলেছে,তাতেও আমরা সন্তুষ্ট। কাজের ক্ষমতা তথা দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়গুলিও এর অন্যতম। এই কাজ দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে ব্রিক্‌স-এরশুল্ক সহযোগিতা কমিটি এবং শুল্ক সংক্রান্ত কর্মীগোষ্ঠী। তথ্যের আদান-প্রদান, শুল্কনিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সম্পর্কে সহমত এবং সুনির্দিষ্ট আইন ও নিয়ম-নীতি জোরদার করার যেমূল পথনির্দেশ রয়েছে, তার নীতি অনুসরণের মাধ্যমে এই বিশেষ ক্ষেত্রটিতে আমাদেরসহযোগিতাকে আমরা আরও বাড়িয়ে তুলতে আগ্রহী। জনসাধারণের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবংবিকাশ ও অগ্রগতিকে জোরদার করে তোলাই আমাদের বিশেষ লক্ষ্য। শুল্ক সংক্রান্ত বিষয়েআমাদের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করে তোলার জন্য যত দ্রুত সম্ভব ব্রিক্‌স-এরশুল্ক সংক্রান্ত পারস্পরিক সহায়তা চুক্তি চূড়ান্ত করার যে অঙ্গীকার আমরা গ্রহণকরেছি, তারই পুনরুচ্চারণ ঘটেছে এবারের ব্রিক্‌স শীর্ষ স ম্মে লনে।  

  

26.    শান্তিরউদ্দেশ্যে বহির্মহাকাশ ব্যবহারের নীতিতে আমরা অবিচল রয়েছি। আমরা বিশেষ গুরুত্বআরোপ করেছিমহাকাশ সংক্রান্ত কর্মপ্রচেষ্টায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালীকরে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর। কারণ আমাদের লক্ষ্য হ’ল – বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তন,পরিবেশ সুরক্ষা, বিপর্যয় প্রতিরোধ, ত্রাণ সহায়তা এবং মানবজাতির অন্যান্যচ্যালেঞ্জগুলির কার্যকর মোকাবিলা করা।  

  

27.    সেন্টপিটার্সবার্গ এবং উদয়পুরে অনুষ্ঠিত ব্রিক্‌স রাষ্ট্রগুলির বিপর্যয় মোকাবিলাসম্পর্কিত দপ্তরের মন্ত্রীদের বৈঠকে যে ঘোষণাপত্রটি গৃহীত এবং বিপর্যয়ের ঝুঁকিএড়ানোর জন্য ব্রিক্‌স-এর মঞ্চে যে টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, সেকথাস্মরণ করে ব্রিক্‌স রাষ্ট্রগুলির আপৎকালীন পরিষেবার স্বার্থে যৌথভাবে কাজ করেযাওয়ার গুরুত্বের বিষয়টি আমরা অনুভব করেছি। কারণ এই কাজের লক্ষ্য হ’ল – বিপর্যয়সংক্রান্ত বর্তমানের ঝুঁকিগুলিকে হ্রাস করা এবং বিপর্যয় মোকাবিলার ক্ষেত্রেগ্রহণীয় শ্রেষ্ঠ ব্যবস্থা ও পদ্ধতিগুলি সম্পর্কে ব্রিক্‌স রাষ্ট্রগুলির মধ্যেতথ্যের আদান-প্রদান ঘটানো। সেই সঙ্গে, জল-হাওয়ার পূর্বাভাষ সম্পর্কিত বিষয়টিতেসহযোগিতার প্রসার ঘটানো ও  আমাদের এক বিশেষ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। প্রাকৃতিক এবং মানবসৃষ্ট বিপর্যয়সম্পর্কে পূর্বেই সতর্কবার্তা ঘোষণা করা যে একটি বিশেষ জরুরি কাজ, সে সম্পর্কেআমরা পূর্ণ মাত্রায় সচেতন।  

  

28.    হিসাব,পরিসংখ্যান, রপ্তানি ক্ষেত্রের লেনদেন ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্রিক্‌স সহযোগিতারঅগ্রগতিতে আমরা সন্তোষ প্রকাশ করেছি। এই ক্ষেত্রগুলিতে সহযোগিতাকে আরও বাড়িয়ে নিয়েযাওয়ারও লক্ষ্য ও চিন্তাভাবনা রয়েছে আমাদের।   

  

বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিচালন ও ব্যবস্থাপনা  

  

29.    বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষেত্রে আমরা এমন এক পরিচালন ওব্যবস্থাপনা পদ্ধতি গড়ে তোলার সংকল্প গ্রহণ করেছি, যা বর্তমান বিশ্ব অর্থনৈতিকপ্রেক্ষিতটিকে সাফল্যের সঙ্গেই তুলে ধরবে। উদ্ভূত বাজার তথা বিপণন পদ্ধতি এবংবিকাশশীল দেশগুলির নিজস্ব বক্তব্য ও প্রতিনিধিত্বও তাতে এক বিশেষ স্থান অধিকার করেথাকবে। আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডারের কোটা সম্পর্কিত পঞ্চদশ সাধারণ পর্যালোচনা সূত্র  গ্রহণ করারকাজেও  আমরা  স্থিরপ্রতিজ্ঞ। এর মধ্যে একটি নতুন কোটা ব্যবস্থার সূত্রসন্ধানও রয়েছে। আগামী ২০১৯সালের বৈঠকের মধ্যে এ সম্পর্কে আমাদের প্রয়োজনীয় কাজ আমরা শেষ করে ফেলব। ২০১৯ সালেঅনুষ্ঠেয় বার্ষিক বৈঠকগুলির আগেই এই কাজ সম্পূর্ণ করা হবে। বিশ্ব ব্যাঙ্ক গোষ্ঠীরঅংশীদারিত্ব সম্পর্কিত পর্যালোচনা প্রতিবেদনের বাস্তবায়নের বিষয়টি নিয়েও আমরা আরওএগিয়ে যেতে আগ্রহী।   

  

30.    এক উদার ও দক্ষ অর্থ ব্যবস্থা গড়ে তোলার গুরুত্বেরবিষয়টি আমরা অনুধাবন করেছি। কারণ, নিরন্তর বিকাশ ও সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে তা একান্তজরুরি। মূলধনের প্রবাহ এবং আন্তঃসীমান্ত পর্যায়ে মূলধনের আনাগোনা যে কিছু কিছুক্ষেত্রে ঝুঁকির মাত্রা বাড়িয়ে তোলে, সে সম্পর্কেও আমরা ওয়াকিবহাল। এই পরিস্থিতিতেমূলধনের প্রবাহ এবং ঝুঁকির মাত্রার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টির ওপর আমরাবিশেষভাবে জোর দিয়েছি। ব্রিক্‌স সিআরএ ব্রিক্‌স আর্থিক সহযোগিতা ও উন্নয়নপ্রচেষ্টারই এক বিশেষ দ্যোতক। বিশ্বের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেওএর বিশেষ অবদান রয়েছে। বৃহদায়তন অর্থনীতির ক্ষেত্রে তথ্য বিনিময়ের সুবিধার জন্যএকটি সিআরএ ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়টিকে আমরা স্বাগত জানিয়েছি। এ সম্পর্কে সমীক্ষাও গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে একটি চুক্তি সম্পাদনেরও আমরা পক্ষপা তী । একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার এবং সিআরএ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় সহযোগিতার মাত্রা উন্নত করে তুলতেওআমরা বিশেষভাবে আগ্রহী।  

  

31.    দক্ষিণ আফ্রিকায় এনডিবি’র আফ্রিকা আঞ্চলিককেন্দ্রের সূচনা হয়েছে। এটি হ’ল আঞ্চলিক পর্যায়ে এনডিবি’র এক বিশেষ কার্যালয়। এইউদ্যোগকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি প্রোজেক্ট পিপারেশন ফান্ড গঠনের বিষয়টিকেও আমরাসাধুবাদ জানিয়েছি। স্থায়ী সদর দপ্তর গড়ে তোলার যে উদ্যোগ এনডিবি কর্তৃপক্ষ গ্রহণকরেছে, সেজন্য আমরা তাদের অভিনন্দিত করেছি । ব্রিক্‌স সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে ঘনিষ্ঠতর অর্থনৈতিকসম্পর্ক ও অংশীদারিত্বকে আরও বেশি মাত্রায় উৎসাহিত করতে পরিকাঠামোগত যোগাযোগেরবিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে আমরা মনে করি। এনডিবি ’র ভূমিকা যাতে যথাযথভাবে পালিত হয়  তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি  বিশ্ব ব্যাঙ্ক তথা এশীয় পরিকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাঙ্কসহ উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এনডিবি’র সহযোগিতারমাত্রা বৃদ্ধি করার প্রস্তাবটিকেও আমরা উৎসাহ জানাই। সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রসারিতহবে ব্রিক্‌স বাণিজ্য পরিষদ পর্যায়েও। কারণ, ব্রিক্‌সভুক্ত দেশগুলির নিরন্তরউন্নয়নের লক্ষ্যে পরিকাঠামো নির্মাণের কাজ তাতে বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয়সহায়সম্পদকেও ভালোভাবে কাজে লাগানো যাবে।  

  

32.    এক উদার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ব অর্থনীতিরগুরুত্ব আমরা অনুধাবন করি। এই ধরণের অর্থনীতিতে বিশ্বের সবকটি দেশ এবং সেখানকারজনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয় বিশ্বায়নের সুফলগুলি। নিয়ম-নীতি ভিত্তিক,স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, উদার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক যে বাণিজ্য ব্যবস্থার কথা বিশ্ব শ্রমসংগঠন (ডব্লুটিও) বলে এসেছে, আমরা তার প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ। ডব্লুটিও-র যাবতীয়নিয়ম-নীতি অনুসরণ করে সেগুলির পূর্ণ বাস্তবায়নে আমাদের প্রতিশ্রুতির কথা আমরাপুনরুচ্চারণ করেছি। ডব্লুটিও’কে আরও শক্তিশালী করে  তোলার লক্ষ্যে  একযোগে কাজ করে যেতে আমরা সংকল্পবদ্ধ। বালি এবংনাইরবি’তে অনুষ্ঠিত এমসিএম-এর ফলাফলগুলি দ্রুত রূপায়ণের লক্ষ্যে আমরা আহ্বানজানিয়েছি। এ বছর আর্জেন্টিনায় ডব্লুটিও’র মন্ত্রিপর্যায়ের যে সম্মেলনে অনুষ্ঠিতহবে, তার ফলাফল অনুসরণ করার কাজেও আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কারণ আমরা জানি যে, ঐসম্মেলন থেকে বেশ কিছু ইতিবাচক পথের হদিশ পাওয়া যাবে। রক্ষণশীলতার আমরা পুরোপুরিবিরুদ্ধে এবং এই মানসিকতা আমরা অটুট ও অক্ষুণ্ন রেখে যাব। যাবতীয় অচলাবস্থারবিরুদ্ধে গৃহীত সংকল্পে আমরা অবিচল থাকব। একইসঙ্গে, রক্ষণশীল মানসিকতা আবার যাতেকোনোভাবেই আমাদের সামনে বাধার সৃষ্টি হয়ে না দাঁড়ায়, সেজন্য অন্যান্য দেশকেও আমরাআহ্বান জানিয়েছি আমাদের সঙ্গে একইভাবে সংকল্পবদ্ধ হওয়ার জন্য।  

  

33.    বিশ্বঅর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে জি-২০’র নিরন্তর ভূমিকা পালনের বিষয়টিকে আমরা যথেষ্টমূল্যবান বলে মনে করি। এই কারণে, হ্যা মবু র্গ শীর্ষ বৈঠক এবং হ্যাংঝাও শীর্ষ সম্মেলন সহ জি-২০’র শীর্ষ বৈঠকগুলিতে  গৃহীত সুপারিশগুলির বাস্তবায়নে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। নেতিবাচক প্রভাব দূর করতে বৃহদায়তনঅর্থনৈতিক নীতিগুলির মধ্যে আরও বেশি মাত্রায় সমন্বয়সাধনের লক্ষ্যে আমরা আহ্বানজানিয়েছি জি-২০ ভুক্ত দেশগুলিকে। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্সির আওতায় ২০১৮ সালে আমরাসহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে সম্মত হয়েছি। জি-২০ শীর্ষবৈঠকগুলির প্রক্রিয়া ও পরামর্শগুলিতে যাতে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্ষেত্রগুলির স্বার্থবিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়, সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই বিশেষ উদ্যোগ। 

  

34.    এক আধুনিক ওসঠিক আন্তর্জাতিক কর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। এক দক্ষ আন্তর্জাতিককর পরিবেশের বিকাশ ও প্রসারে উন্নয়নশীল দেশগুলিতে ক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং করসংক্রান্ত তথ্য বিনিময় প্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করে তোলারও আমরা পক্ষপা তী । আন্তর্জাতিক কর সংক্রান্তনিয়ম-নীতি ছকে ফেলার কাজে ব্রিক্‌স-এর অবদানের মাত্রা যাতে আরও বৃদ্ধি পায়, সেইলক্ষ্যে ব্রিক্‌সভুক্ত দেশগুলির সদস্য হিসাবে আমরা কর সংক্রান্ত সহযোগিতাকে আরওজোরদার করে তুলতে আগ্রহী। এই কাজে প্রত্যেকটি দেশের অগ্রাধিকার, নিরন্তর ও ফলপ্রসূএবং প্রযুক্তিগত সহায়তার বিষয়গুলি অনুসরণ করে অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলিও যাতে এইকর ব্যবস্থার সুযোগ-সুবিধাগুলি ভোগ করতে পারে আমরা তার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাব।  

  

বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা 

  

35.    ক্রমপরিবর্তনশীল বিশ্ব পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিকনিরাপত্তার ক্ষেত্রে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ ও হুমকির কথা চিন্তা করে আন্তর্জাতিকমঞ্চগুলিতে যোগাযোগ ও সহযোগিতার মাত্রা উন্নীত করতে আমরা সংকল্পবদ্ধ। আন্তর্জাতিকশান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির দিকে এজন্য আমরা বিশেষভাবেনজর দেব। করণ, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তাকে রক্ষা করতে আমরা কৃতসংকল্প। আন্তর্জাতিকআইন  এবং  রাষ্ট্রসঙ্ঘেরসনদের নীতি ও উদ্দেশ্যকে আমরা সর্বতোভাবে তুলে ধরব। যে কোনও দেশের সার্বভৌমত্বরক্ষা করার বিষয়টিকে আমরা বরাবরই অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছি। কোনও দেশের অভ্যন্তরীণবিষয়ে বাইরের অন্য কোনও দেশ যাতে কোনোভাবেই হস্তক্ষেপ করতে না পারে তা দেখাওআমাদের কর্তব্য বলে আমরা মনে করি।  

  

36.    এ বছর বেজিং-এ ২৭ ও ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিত ব্রিক্‌স-এরউচ্চস্তরীয় প্রতিনিধিবৃন্দের সপ্তম বৈঠক আয়োজনের যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়, তাকে আমরাস্বাগত জানিয়েছি। বিশ্বের প্রশাসন ও পরিচালন ব্যবস্থা, সন্ত্রাস দমন প্রচেষ্টা,তথ্য, যোগাযোগ ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে নিরাপত্তা জোরদার করা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবংসেই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা ও উন্নয়নের বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্যও ঐ বৈঠকেরআমরা বিশেষ প্রশংসা করি। গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের জন্য ব্রিক্‌স-এর আওতায় একটিবিশেষ মঞ্চ গড়ে তোলার যে প্রস্তাব ব্রাজিল উত্থাপন করেছে, তাকেও আমরা বিশেষগুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি। বৈঠকের কার্যসূচি এবং আলোচনাক্রমের যে প্রতিবেদন আমাদেরকাছে এসে পৌঁছেছে, তাকেও আমরা স্বাগত জানিয়েছি। এই প্রক্রিয়াকে পরবর্তীনেতৃত্বদানকারী দেশ যাতে আরও এগিয়ে নিয়ে যায়, সেই লক্ষ্যেও আমরা শুভেচ্ছা জ্ঞাপনকরেছি ।  বিশেষ বিশেষক্ষেত্রগুলিতে ব্যবহারিক নিরাপত্তা সহযোগিতা সম্পর্কে যে সহমত সৃষ্টি হয়েছে , তার ভিত্তিতে প্রচেষ্টা ও প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়েনিয়ে যাওয়ার সপক্ষে আমরা আমাদের বক্তব্য তুলে ধরেছি।  

  

37.    চিন-এর উদ্যোগে ব্রিক্‌স-এর বিদেশ তথা আন্তর্জাতিকসম্পর্কের দপ্তরগুলির মন্ত্রীদের সঙ্গে এ বছরের ১৮ ও ১৯ জুন যে বৈঠক অনুষ্ঠিতহয়েছে, তার উদ্যোগ আয়োজনকে আমরা অকুন্ঠভাবে সমর্থন জানিয়েছি। ঐ বৈঠকে বিশ্বেররাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, আর্থিক এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলি নিয়ে মন্ত্রীরাআলোচনা ও মতবিনিময় করেছেন। পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এই বিষয়গুলির ওপর আলোকপাতকরা ছাড়াও ব্রিক্‌স-এর আওতায় সহযোগিতার বাতাবরণকে আরও জোরদার করে তোলারপন্থা-পদ্ধতি সম্পর্কেও তাঁরা মতবিনিময় করেন। বিদেশ মন্ত্রীদের আসন্ন আরেকটিবৈঠকের জন্য আমরা অপেক্ষা করে রয়েছি। এটি অবশ্যই ইউএনজি-এর উদ্যোগ ও তৎপরতায়।আগামী বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালে শুধুমাত্র বিদেশ মন্ত্রীদের নিয়ে একটি বৈঠক আয়োজনের যেউদ্যোগ গ্রহণ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা তাকেও আমরা স্বাগত জানাই।  

  

38.    আমরা মনে করি যে, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার বিষয়গুলিপরস্পর সংযুক্ত। কারণ, নিরন্তর শান্তির লক্ষ্যে উপনীত হওয়ার ক্ষেত্রে তা হ’ল একপূর্বশর্ত। নিরন্তর শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এক সুসংবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ উদ্যোগ যেএকান্ত জরুরি, এ কথারও আমরা পুনরুচ্চারণ করেছি। পারস্পরিক আস্থা, কল্যাণ, সমতা এবংসহযোগিতার ভিত্তিতে এই ধরণের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হওয়া সম্ভব। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিকএবং সামাজিক ক্ষেত্রগুলিতে বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে যে সংঘাত ও মতভেদ রয়েছে, তারসমাধানের পথ এই প্রক্রিয়ায় খুঁজে পাওয়া যাবে বলে আমরা মনে করি। আন্তর্জাতিক আইনএবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সার্বজনীন নীতি-নিয়মকে বিসর্জন দিয়ে একতরফাভাবে যুদ্ধঘোষণা, অর্থনৈতিক মঞ্জুরি প্রদান এবং যথেচ্ছভাবে অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণেরমানসিকতাকে আমরা তীব্র ভাষায় নিন্দা জানাই। অন্যের নিরাপত্তার বিনিময়ে কোনওরাষ্ট্রেরই যে তার নিরাপত্তার বলয়কে জোরদার করে তোলার কোনও অধিকার নেই, এই বিষয়টিরওপর আমরা বারংবার গুরুত্ব দিয়ে এসেছি।  

  

39.    আমরা মনে করি যে, রাষ্ট্রসঙ্ঘ হ’ল এমন একবহুপাক্ষিক সংগঠন, যার ওপর আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা, বিশ্বের অগ্রগতি ওসমৃদ্ধি এবং মানবাধিকারের সুরক্ষা ও বিকাশের জন্য আমরা সর্বতোভাবে আস্থা স্থাপনকরতে পারি।   

  

40.    ২০০৫ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্ব বৈঠকের ফলাফল সম্পর্কিতযে নথিপত্র রচিত হয়েছে, তার অনুসরণে নিরাপত্তা পরিষদ সহ রাষ্ট্রসঙ্ঘের এক সুসংবদ্ধসংস্কার প্রচেষ্টার প্রয়োজনের বিষয়টি র ও আমরা পুনরাবৃ ত্তি  করেছি। কারণ আমরা আগ্রহী, এই আন্তর্জাতিক সংগঠনটিকে আরও প্রতিনিধিত্বমূলক,দক্ষ এবং সফল করে তোলার কাজে। একইসঙ্গে, বিকাশশীল দেশগুলি যাতে আন্তর্জাতিকচ্যালেঞ্জগুলি র  যথাযথভাবেমোকাবিলা করতে পারে, সেই লক্ষ্যে রাষ্ট্রসঙ্ঘে বিকাশশীল দেশগুলির প্রতিনিধিত্বেরমাত্রা বৃদ্ধিরও আমরা সপক্ষে। আন্তর্জাতিক বিষয়গুলিতে ব্রাজিল, ভারত এবং দক্ষিণআফ্রিকার অবস্থান ও ভূমিকাকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে স্বীকার করে চিন ও রাশিয়া।সুতরাং, রাষ্ট্রসঙ্ঘে এক বৃহত্তর ভূমিকা পালনের যে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এই তিনটিদেশ, তাকেও তারা সমর্থন করে।  

  

41.    সিরিয়ার বর্তমান সঙ্কোট ও সমস্যার স্থায়ী সমাধানযে সিরিয়া পরিচালিত এবং সিরিয়ারই নিজস্ব অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ারদ্বারা সম্ভব, একথারও আমরা পুনরুচ্চারণ করেছি। কারণ, এই ধরণের উদ্যোগ সিরিয়ারস্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং ভূখন্ডের সংহতি নিশ্চিত করতে পারে। রাষ্ট্রসঙ্ঘেরনিরাপত্তা পরিষদের সমাধানসূচক প্রস্তাব ২২৫৪ (২০১৫) অনুসারে এই উদ্যোগ পরিচালিতহওয়া উচিৎ। কারণ, তার মধ্য দিয়েই সিরিয়ার জনসাধারণের ন্যায্য আশা-আকাঙ্খাগুলিরবাস্তবায়ন ঘটতে পারে। জেনেভা ও আস্তানা শান্তি প্রক্রিয়ার উদ্যোগকে আমরাবলিষ্ঠভাবে সমর্থন জানাই। হিংসার মাত্রা হ্রাস করে ইতিবাচক পরিস্থিতির জন্ম দিয়েরাষ্ট্রসঙ্ঘের আওতায় শান্তি আলোচনার অর্থবহ প্রক্রিয়া ও প্রগতিকে আমরা সমর্থনজানিয়েছি। যে কোনও ধরণের পরিস্থিতিতে এবংযে কোনও ধরণের উদ্দেশ্য পূরণে রাসায়নিকঅস্ত্র ব্যবহারের আমরা ঘোরতর বিরোধী।   

  

42.    রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রাসঙ্গিক সমাধানসূত্র অনুসারেমধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতার লক্ষ্য পূরণে ইজরায়েল-প্যালেস্তাইন দ্বন্দ্বেরএকটি স্থায়ী, ন্যায্য এবং সুসংবদ্ধ সমাধান সূত্র  যে খুঁজে পাওয়া সম্ভব, একথাও আমরা বিশ্বাস করি। মাদ্রিদ আলোচনা বৈঠকেরনীতিসূত্র, আরব শান্তি উদ্যোগ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে ইতিপূর্বে সম্পাদিতচুক্তিগুলিও এই প্রক্রিয়ায়  এক বিশেষ ভূমিকা পালন করতে  পারে। কারণ আমরা মনে করি যে, এই ব্যবস্থায়স্বাধীন এবং ভূখন্ডের দিক থেকে সার্বভৌম এক প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের অদৃষ্ট নিশ্চিতকরা সম্ভব। এই সমাধান প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইজরায়েল ও প্যালেস্তাইনের জনসাধারণ একেঅপরের সঙ্গে শান্তি ও নিরাপত্তার মধ্যেই বসবাস করতে পারবেন। মধ্যপ্রাচ্যেরস্বার্থে এক উচিৎ ও স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আমাদের প্রচেষ্টাকে আরও বাড়িয়ে তুলতেওআমরা এখন প্রস্তুত। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার বাতাবরণকে জোরদার করেতুলতে আন্তর্জাতিক প্রয়াস ও প্রক্রিয়ার ধারাকে অক্ষুণ্ন রাখতে আমরা সম্ভাব্য সকলরকম উপায়ে সহযোগিতা ও সমর্থন যুগিয়ে যাব।   

  

43.    সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অগ্রগতি নিশ্চিত করেতুলতে মসুলের পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টায় সফল হওয়ার জন্য ইরাক সরকারকে আমার অভিনন্দন।সেই সঙ্গে, ইরাকের সার্বভৌমত্ব, ভূখন্ডগত সংহতি এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিতকরে তুলতেও আমাদের অঙ্গীকারের পুনরুচ্চারণ ঘটেছে। ইয়েমেনের বর্তমান পরিস্থিতিসম্পর্কেও আমরা যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। এজন্য সকল রকম শত্রুতার অবসান ঘটিয়েরাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রস্তাবানুযায়ী আলাপ-আলোচনা পুনরায় শুরু করার জন্য সকল পক্ষেরকাছেই আমরা আর্জি জানাই। উপসাগরীয় অঞ্চলেও যাবতীয় কূটনৈতিক সঙ্কট দূর করার কাজে যেসমস্ত পক্ষ সরাসরি যুক্ত রয়েছে, তাদের উদ্দেশ্যেও আমরা আর্জি জানা ই , যাবতীয় মতভেদ দূর করেপারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে বের করার জন্য। এই বিষয়টিতেমধ্যস্থতা করার জন্য কুয়েত যে আগ্রহ দেখিয়েছে, তাকেও আমরা সমর্থন জানাই।  

  

44.    ডিপিআরকে-এর পক্ষ থেকে পরমাণু অস্ত্রেরপরীক্ষা-নিরীক্ষার উদ্যোগেও আমরা উদ্বিগ্ন এবং আতঙ্কিত। কোরিয়ার দ্বীপগুলিতেপরমাণু অস্ত্রের বিষয়টিকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে যে গভীর উদ্বেগ আমরা লক্ষ্য করেছি,তাতেও আমরা বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা মনে করি যে, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মধ্যেসরাসরি আলাপ-আলোচনা এবং শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতেই এই বিষয়টির সমাধান খুঁজে পাওয়াসম্ভব।  

  

45.    ইরানের পরমাণু সংক্রান্ত বিষয়টিতে যৌথ এবংসুসংবদ্ধ কার্যপরিকল্পনাকে আমরা সমর্থন জানাই। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের কাছে আমরাআবেদন জানাই, এই বাধ্যবাধকতাগুলি সম্পূর্ণভাবে অনুসরণ করার জন্য। কার্যপরিকল্পনারপূর্ণ এবং  কার্যকর  রূপায়ণ সফলকরে তোলার মাধ্যমে আঞ্চলিক তথা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতাপ্রতিষ্ঠা সম্ভব বলে আমরা মনে করি।  

  

46.    আন্তর্জাতিক বিষয়গুলির সমাধানে এবং শান্তি ও নিরাপত্তাসুরক্ষিত রাখতে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ, আফ্রিকা ইউনিয়ন এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে র  বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনেরউদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। রাষ্ট্রসঙ্ঘের সনদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রসঙ্ঘের সঙ্গেআফ্রিকা ইউনিয়নের সহযোগিতা বিষয়টিতে আমরা বিশেষভাবে গুরুত্ব আরোপ করেছি। কঙ্গ, লি বি য়া, দক্ষিণ সুদান, সোমালিয়া,মধ্য আফ্রিকা এবং পশ্চিম সাহারার বিভিন্ন সমস্যার সমাধানসূত্রের অন্বেষণপ্রচেষ্টাকেও আমরা সমর্থন জানাই।   

  

47.    সন্ত্রাসবাদী হামলায় নিরীহ আফগান নাগরিকদের নৃশংসহত্যারও আমরা কঠোর নিন্দা করি। আমরা মনে করি যে, হিংসার দ্রুত অবসান একান্ত জরুরি।আফগান পরিচালিত এবং আফগানের একান্ত নিজস্ব শান্তি ও জাতীয় সংহতি  প্র ক্রিয়ার উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায়আফগানিস্তানের জনসাধারণের পাশেই রয়েছি আমরা। আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ার পাশাপাশিআফগানিস্তানের নিজস্ব উদ্যোগে এই প্রচেষ্টা চলতে থাকলে শান্তি প্রক্রিয়ার কাজদ্রুততর হবে বলে আমরা মনে করি। আফগানিস্তান প্রসঙ্গে মস্কোর উদ্যোগ এবং এশিয়াইস্তানবুল প্রক্রিয়ার বিষয়গুলিকেও এর সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন । সন্ত্রাস ওমাদক পাচারের হুমকির বিরুদ্ধে  সংগ্রাম এবংআফগানিস্তানের জাতীয় পুনর্গঠন প্রচেষ্টা যুক্ত হলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে দ্রুত শান্তিও স্থিতিশীলতার প্রসার সম্ভব। জঙ্গি সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে আফগানিস্তানের জাতীয়সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বাহিনীগুলির তৎপরতাকেও আমরা সমর্থন জানাই।   

  

48.    সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির বিষয়টিতেআমরা বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন। তালিবান, আইএসআইএল, দইস, আল কায়দা এবং তাদের অনুগামীরাযেভাবে হিংসার তান্ডব চালিয়ে যাচ্ছে, তা আমাদের কাছে এক বিশেষ আশঙ্কার কারণ। সেইসঙ্গে, পূর্ব তুর্কিস্তানের ইসলামিক আন্দোলন, উজবেকিস্তানের ইসলামি জেহাদ,হাক্কানি নেটওয়ার্ক, লসকর-এ তৈবা, জঈস এ মহম্মদ, টিটিপি এবং হিজব উৎ-তহরির মতোসংগঠনগুলিও একের পর এক জঙ্গি তৎপরতা চালিয়ে গেছে।   

  

49.    ব্রিক্‌স রাষ্ট্রগুলি সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জঙ্গিহামলার আমরা তীব্র নিন্দা করি। যে কোন ধরনের সন্ত্রাসমূলক কাজকর্মেরও আমরা তীব্রবিরোধী। কারণ আমরা মনে করি, যেখানেই বা যে উদ্দেশ্যেই জঙ্গি তৎপরতা চালানো হোক নাকেন, সন্ত্রাসের পেছনে কোন যুক্তি বা কারণ থাকতে পারে না। আমরা দৃঢ়তার সঙ্গেবিশ্বাস করি যে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের যারা মূল হোতা এবং তাদের যারা মদত দেয়,তাদের সকলকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করানো উচিৎ। সন্ত্রাস মোকাবিলা ও প্রতিরোধে বিভিন্নরাষ্ট্রের ভূমিকা ও দায়িত্বের কথা স্মরণে রেখে এবং আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়মনীতিঅনুসরণ করে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রসারের ওপর আমরা বিশেষভাবে জোর দিই। প্রতিটিরাষ্ট্রের মধ্যে সমতা, সার্বভৌমত্ব এবং বিনা হস্তক্ষেপের নীতিতে আমরা বিশ্বাসী।সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সংগ্রামে সংহতির বার্তাকেই তুলে ধরতে আমরা সঙ্কল্পবদ্ধ। এ বছর১৮ মে বেজিং-এ অনুষ্ঠিত ব্রিক্‌স-এর দ্বিতীয় সন্ত্রাস বিরোধী কর্মীগোষ্ঠীর যে বৈঠকঅনুষ্ঠিত হয়, তাকে আমরা বিশেষ মূল্যবান বলে মনে করি এবং এই সহযোগিতাকে আরও জোরদারকরে তুলতেও আমরা আগ্রহী।  

  

50.    সন্ত্রাস মোকাবিলায় এক স্বচ্ছ ও সুসংবদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গিগ্রহণের স্বার্থে আমরা আহ্বান জানাই বিশ্বের সবক’টি রাষ্টের কাছেই। আমাদের লক্ষ্যহবে – উগ্রপন্থা ও তাকে মদতদানের জন্য লোক নিয়োগ, বিদেশি জঙ্গি বিমান সহ সমস্তধরনের সন্ত্রাসবাদী তৎপরতা এবং সন্ত্রাসকে মদতদানের বিভিন্ন উৎস সহ বিভিন্ন ঘটনাকেলক্ষ্য করে সন্ত্রাস বিরোধী কর্মপ্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করে তোলা। একইসঙ্গে,সন্ত্রাসের উদ্দেশ্যে অর্থ পাচার, অস্ত্রের যোগান, মাদক পাচার এবং অন্যান্য অপরাধমূলককাজকর্মের বিরুদ্ধেও আমাদের সঙ্ঘবদ্ধ হতে হবে। সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটিগুলিকে ধ্বংস করেদেওয়া ছাড়াও সোশ্যল মিডিয়া সহ ইন্টারনেটের অপব্যবহার বন্ধ করে দেওয়ার জন্যও আমাদেরজোরদার প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। কারণ, ঐ পথেই যোগাযোগ প্রযুক্তির হাত ধরেসর্বশেষ পন্থা-পদ্ধতিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলি।সন্ত্রাসবাদী প্রচার চালানোর সমস্তরকম চেষ্টাকে বানচাল করে দেওয়ার পাশাপাশি,জঙ্গিদের আর্থিকভাবে মদত দেওয়ার সমস্তরকম উৎস, কৌশল এবং পথগুলিকে পুরোপুরি বন্ধকরে দেওয়া প্রয়োজন। এফএটিএফ এবং এফএটিএফ-এর মতো আঞ্চলিক সংগঠনগুলিতে যে ধরনেরসহযোগিতা প্রচেষ্টা চালানো হয়, সেই ধরনের প্রচেষ্টাকেই আমাদের আরও জোরদার করেতুলতে হবে। পৃথিবীর কোন দেশ থেকেই যাতে সন্ত্রাসবাদীদের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে বাজঙ্গি কার্যকলাপ চালিয়ে যেতে উৎসাহ দেওয়া না হয়, সেই লক্ষ্যে সবক’টি রাষ্ট্রকেতাদের দায় ও দায়িত্বশীলতার কথা আমাদের অবশ্যই মনে করিয়ে দিতে হবে।  

  

51.    সন্ত্রাস বিরোধী এক আন্তর্জাতিক জোট ও সমঝোতা গড়ে তুলতেএবং এই বিষয়টিতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের মূল সমন্বয়সাধকের ভূমিকাকে সমর্থন জানাতে আন্তর্জাতিকগোষ্ঠীগুলির কাছে আমরা আহ্বান জানিয়েছি। আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রসঙ্ঘের সনদ,শরণার্থী এবং মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবংমৌলিক স্বাধীনতার নীতিগুলির ওপর নির্ভর করে সন্ত্রাস বিরোধী কর্মপ্রচেষ্টাকে আরওজোরদার করে তোলার ওপর আমরা গুরুত্ব আরোপ করেছি। রাষ্ট্রসঙ্ঘের সন্ত্রাস বিরোধীকাঠামোকে সফল করে তুলতে আমাদের অঙ্গীকারের পুনরুচ্চারণের ঘোষণাও রয়েছে আমাদের এইব্রিক্‌স সম্মেলনে। আমরা জোর দিয়েছি রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়রক্ষার করার ওপরও। সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলিকে চিহ্নিত করা এবং তাদের যথাযথমোকাবিলায় সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রসারের ওপরও আমরা বিশেষদৃষ্টি দিয়েছি। রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ অধিবেশনে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস সম্পর্কিত সুসংবদ্ধসম্মেলন প্রচেষ্টার মাধ্যমে গৃহীত প্রস্তাবগুলির দ্রুত বাস্তবায়নেরও আমরা আহ্বানজানিয়েছি ।  

  

52.    রাষ্ট্রসঙ্ঘের শান্তিরক্ষামূলক কর্মপ্রচেষ্টায় ব্রিক্‌সসদস্য দেশগুলির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাকে আমরা যথেষ্ট মূল্যবান বলে মনে করি।আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার স্বার্থে রাষ্ট্রসঙ্ঘের শান্তিরক্ষামূলক কাজেরগুরুত্বকেও আমরা উপলব্ধি করি। শান্তিরক্ষার কাজে ব্রিক্‌স রাষ্ট্রগুলির মধ্যেযোগাযোগ ব্যবস্থার প্রসারের ওপরও আমরা বিশেষ জোর দিয়েছি।  

  

53.    রাষ্ট্রসঙ্ঘের মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি অনুসরণ করেবিশ্বের মাদক পাচার সমস্যার মোকাবিলায় আমরা সঙ্কল্পবদ্ধ। মাদকের যোগান ও চাহিদাহ্রাসে এক সুসংবদ্ধ ও সুষম দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের মাধ্যমেই এই আন্দোলনে আমাদের সামিলহতে হবে। বিশ্বের মাদক পাচার সমস্যা সম্পর্কে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সভার ৩০তমবিশেষ অধিবেশনের ফলাফলের ওপর আমরা যথেষ্ট গুরুত্ব আরোপ করি এবং তার অনুসরণে আফিমসহ মাদকের বেআইনি উৎপাদন ও পাচারের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক তথা আন্তর্জাতিক পর্যায়েসহযোগিতা প্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করে তোলারও আমরা আহ্বান জানিয়েছি। মাদক পাচার,অর্থ পাচার এবং সংগঠিত অপরাধ ও সন্ত্রাসমূলক ঘটনার মধ্যে বিশ্বের কয়েকটি অঞ্চলে যেভাবেযোগসূত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে, তাও আমরা লক্ষ্য করেছি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে।  

  

54.    সমতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার নীতিতে মানবাধিকার এবংমৌলিক স্বাধীনতার বিকাশে সবক’টি দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে বলেআমরা দৃঢ়তার সঙ্গে বিশ্বাস করি। এই কারণে উন্নয়নের অধিকার সহ সকলরকম মানবাধিকারকেআমরা সমান ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে বিচার করি।এই অধিকারগুলিকে আমরা খুবইগুরুত্বপূর্ণ বলেও মনে করি। পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট এই ধরনের বিষয়গুলিতেব্রিক্‌স-এরআওতায় এবং অন্যান্য বহুপাক্ষিক মঞ্চগুলিতে সহযোগিতার বাতাবরণকে আরও জোরদার করেতোলারও আমরা পক্ষপাতী। রাষ্ট্রসঙ্ঘের মানবাধিকার পরিষদের মতো মঞ্চটিকেও এজন্য আমরাসম্মান করি। এই কাজে কোনরকম দ্বিচারিতা অবলম্বন না করে অ-রাজনৈতিক এবং গঠনমূলকভাবেমানবাধিকারকে রক্ষা করতে আমরা দৃঢ় সঙ্কল্পবদ্ধ।  

  

55.    আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দেশান্তরের সমস্যা সম্পর্কেও আমরাবিশেষভাবে সচেতন। কারণ আমরা জানি যে এই ধরনের সমস্যায় বিশ্বের সার্বিক নিরাপত্তাচ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে পড়ে। এই কারণে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার কল্যাণে এবংসমাজের বিকাশে দেশান্তর ও অভিবাসন সম্পর্কিত আইন ও নিয়মনীতিগুলির সফল রূপায়ণে আমরাপ্রতিশ্রুতিবদ্ধ।  

  

56.    তথ্য, যোগাযোগ এবং প্রযুক্তির উপযোগী এক শান্তিপূর্ণ,সুরক্ষিত, মুক্ত, সহযোগিতামূলক, সুশৃঙ্খল এবংস্থিতিশীল পরিবেশ গড়ে তুলতে তথ্য,যোগাযোগ ও প্রযুক্তির ব্যবহার ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট আচরণবিধি নির্দিষ্টকরে দেওয়ার কাজে রাষ্ট্রসঙ্ঘের এক কেন্দ্রীয় ভূমিকা রয়েছে বলে আমরা মনে করি।বিকাশশীল দেশগুলির স্বার্থেই রাষ্ট্রসঙ্ঘকে এই ভূমিকা পালন করে যেতে হবে।রাষ্ট্রসঙ্ঘের সনদে আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিগুলির যে গুরুত্বকে তুলে ধরা হয়েছে আমরাতার ওপরও বিশেষ জোর দিয়েছি। বিশেষত, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, রাজনৈতিক স্বাধীনতা,ভূখণ্ডগত সংহতি এবং রাষ্ট্রগুলির মধ্যে সার্বভৌমত্বের ক্ষেত্রে সমতা রক্ষার বিষয়গুলিকেআমরা একান্ত জরুরি বলে মনে করি। সেইসঙ্গে, অন্য কোন রাষ্ট্রের ব্যক্তিগত বিষয়ে হস্তক্ষেপথেকে বিরত থাকা এবং মানবাধিকার তথা মৌলিক স্বাধীনতার নীতিগুলির প্রতি শ্রদ্ধাশীলথাকাকেও আমরা বিশেষ মূল্যবান বলে মনে করি। তথ্য, যোগাযোগ ও প্রযুক্তির অপরাধমূলককিংবা সন্ত্রাসের উদ্দেশে ব্যবহারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে আরও জোরদারকরে তুলতেও আমরা বিশেষভাবে আগ্রহী। এই বিষয়টিতে ইথেকউইনি, ফোর্টালেজা, উফা এবংগোয়া ঘোষণায় উল্লেখিত দৃষ্টিভঙ্গিগুলির আমরা পুনরুল্লেখ করেছি। উফা ঘোষণায়রাষ্ট্রসঙ্ঘের উদ্যোগে তথ্য, যোগাযোগ ও প্রযুক্তির অপরাধমূলক ব্যবহারের মোকাবিলায় একটিঅভিন্ন নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা গড়ে তোলারও আমরা পক্ষপাতী। তথ্য, যোগাযোগ ও প্রযুক্তিব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্রিক্‌স রাষ্ট্রগুলির নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ গোষ্ঠীর কাজকর্মযেভাবে এগিয়ে চলেছে, তাতেও আমরা বিশেষ সন্তোষ প্রকাশ করেছি। তথ্য, যোগাযোগ ওপ্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ সম্পর্কিত ব্যবহারিক সহযোগিতারযে দিক নির্দেশ ব্রিক্‌স-এর মঞ্চে পাওয়া গেছে, সেই অনুসারে সহযোগিতার বাতাবরণকে আরওনিবিড় করে তুলতেও আমরা বিশেষভাবে আগ্রহী। এই বিশেষ ক্ষেত্রটিতে রাশিয়ান ফেডারেশনেরউদ্যোগ ও কর্মপ্রচেষ্টারও আমরা ভূয়সী প্রশংসা করি।  

  

57.    ইন্টারনেট, তার ব্যবহার এবং পরিচালনের ক্ষেত্রে সবক’টিরাষ্ট্রেরই সমানভাবে এগিয়ে আসা উচিৎ বলে আমরা মনে করি। এই প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলঅংশীদারেরই স্মরণে রাখা উচিৎ যে তাদের প্রত্যেকেরই পালনীয় নিজস্ব কিছু ভূমিকা ওদায়িত্ব রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারনেট সম্পদগুলি যে বিশেষ কাঠামোয় পরিচালনা ওনিয়ন্ত্রণ করা হয়, তা আরও প্রতিনিধিত্বমূলক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তোলা প্রয়োজনবলেও আমাদের ধারণা। তথ্য, যোগাযোগ ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতার প্রসারে ব্রিক্‌স-এরকর্মীগোষ্ঠীযেভাবে উদ্যোগ ও কর্মপ্রচেষ্টা চালিয়ে এসেছে, তাতেও আমরা সন্তোষ প্রকাশকরেছি। কারণ আমরা মনে করি যে এই বিশেষ ক্ষেত্রটিতে সহযোগিতাকে আরও নিবিড় করে তোলাএকান্ত জরুরি। এই উদ্দেশ্যে বর্তমান কাঠামোর মধ্যে থেকে ব্রিক্‌স রাষ্ট্রগুলিরউচিৎ একযোগে কাজ করে যাওয়া যাতে আন্তর্জাতিক সমষ্টিগুলির সমান অংশগ্রহণের মাধ্যমে তথ্য,যোগাযোগ ও প্রযুক্তির ব্যবহারকে মুক্ত, সুরক্ষিত, শান্তিপূর্ণ এবং সহযোগিতামূলককরে তোলা যায়।  

  

58.    শান্তিপূর্ণ অনুসন্ধান ও গবেষণার লক্ষ্যে বহির্মহাকাশকেআমরা উন্মুক্ত করে তোলার পক্ষপাতী ।  আন্তর্জাতিকআইন অনুসরণ করে সবক’টি রাষ্ট্রই যাতে সমানভাবে এর ব্যবহার করতে পারে, তা নিশ্চিতকরতে আমরা আগ্রহী। বহির্মহাকাশকে যে কোন ধরনের শক্তি বা অস্ত্রের আওতামুক্ত রাখাপ্রয়োজন – একথার আমরা বারংবার পুনরাবৃত্তি করেছি। বহির্মহাকাশে অস্ত্র প্রতিযোগিতাবন্ধে এক আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদনের জন্য আলোচনা ও কথাবার্তা চালিয়ে যাওয়ার ওপরআমরা বিশেষ জোর দিয়েছি। আমরা মনে করি যে নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্যে এবং ব্যবহারিকক্ষেত্রের কাজকর্মে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরস্ত্রীকরণ সম্পর্কিত সম্মেলনের একটিগুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বহির্মহাকাশকে কোন রাষ্ট্রই যাতে অস্ত্র প্রয়োগেরউদ্দেশ্যে ব্যবহার না করেতা নিশ্চিত করতে এক চুক্তির খসড়া রচনার বিষয়টিকেও আমরাগুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি।  

  

59.    বহির্মহাকাশ সম্পর্কিত অনুসন্ধান ও গবেষণা প্রচেষ্টাযাতে দীর্ঘমেয়াদি হয় এবং এর কাজকর্মকে নিরন্তর করে তোলা যায়, সেই লক্ষ্যে ভবিষ্যৎপ্রজন্মের স্বার্থেবহির্মহাকাশের সংরক্ষণ একান্ত জরুরি বলে আমরা মনে করি।বহির্মহাকাশের শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের লক্ষ্যে গঠিত রাষ্ট্রসঙ্ঘের সংশ্লিষ্ট কমিটিরবর্তমান কার্যসূচির গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগুলিও আমরা অনুধাবন করেছি। এইপ্রসঙ্গে ঐ কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংক্রান্ত সাব-কমিটির কর্মীগোষ্ঠীরসিদ্ধান্তকেও আমরা স্বাগত জানাই। কর্মীগোষ্ঠীর মতে, বহির্মহাকাশ সম্পর্কিতকাজকর্মকে দীর্ঘমেয়াদি ও নিরন্তর করে তোলার লক্ষ্যে সহমতের ভিত্তিতে আলোচনা ওচুক্তি সম্পাদিত হওয়া প্রয়োজন এবং এই কাজকে অবশ্যই ২০১৮-র আগে সেরে ফেলা একান্তজরুরি। কারণ, ঐ সময়কালে বহির্মহাকাশের অনুসন্ধান ও শান্তিপূর্ণ ব্যবহার সম্পর্কিতরাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রথম সম্মেলনের ৫০তম বার্ষিকী উদযাপিত হতে চলেছে।  

  

ব্রিক্‌সরাষ্ট্রগুলির জনসাধারণের মধ্যে পারস্পরিক সংযোগ ও যোগাযোগ  

  

60.    ব্রিক্‌সভুক্ত রাষ্ট্রগুলির নাগরিকদের মধ্যে পারস্পরিকসমঝোতা, মৈত্রী ও সহযোগিতার বিকাশে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির জনসাধারণের মধ্যে সফরবিনিময় কর্মসূচির ওপর আমরা বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছি। শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ওপ্রযুক্তি, ক্রীড়া এবং স্বাস্থ্য সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনসাধারণের মধ্যে সহযোগিতারবাতাবরণকে আরও নিবিড় করে তোলার আমরা পক্ষপাতী। এই ধরনের সহযোগিতা সংশ্লিষ্টরাষ্ট্রগুলির সংবাদমাধ্যম ও সংবাদ সংস্থা এবং স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন কর্তৃপক্ষের মধ্যেওগড়ে ওঠা জরুরি বলে আমরা মনে করি। এর মাধ্যমে, ব্রিক্‌স সহযোগিতার তৃতীয় স্তম্ভটিকেআরও শক্তিশালী করে তোলা সম্ভব। একইসঙ্গে, জনসাধারণের মধ্যে ব্রিক্‌স অংশীদারিত্বেরএক সদর্থক সমঝোতার বন্ধন গড়ে ওঠাও অসম্ভব কিছু নয়।   

  

61.    সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে ব্রিক্‌স সহযোগিতার এক মূল্যবানসম্পদ বলেই আমরা মনে করি। নিরন্তর উন্নয়নের ক্ষেত্র প্রসারে সংস্কৃতি এবংসাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ভূমিকা যে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ সে বিষয়ে আমাদের মধ্যে কোনদ্বিমত নেই। সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি এবং বৈচিত্র্য ওপারস্পরিক বিনিময়ের মানসিকতাকেভিত্তি করে সাধারণ মূল্যবোধগুলিকে আরও ভালোভাবে অনুভব ও উপলব্ধি করার লক্ষ্যে ব্রিক্‌সরাষ্ট্রগুলিকে উৎসাহিত করে তোলা প্রয়োজন বলেও আমরা মনে করি। ব্যবহারিক ক্ষেত্রেসাংস্কৃতিক সহযোগিতার প্রসারে ব্রিক্‌স কার্যসূচি রচনার উদ্যোগকে আমরা স্বাগতজানিয়েছি। গ্রন্থাগার, সংগ্রহশালা, শিল্প সংগ্রহালয় এবং জাতীয় গ্যালারি তথা শিশু ওতরুণদের উপযোগী নাটক ও অন্যান্য অনুষ্ঠান বিনিময়ের জন্য ব্রিক্‌স সদস্যরাষ্ট্রগুলির মধ্যে এক বিশেষ সমঝোতা ও সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে ওঠা একান্ত জরুরি। এবছর সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি জিয়ামেন-এ যে ব্রিক্‌স সংস্কৃতি উৎসব অনুষ্ঠিত হতেচলেছে, তার সাফল্য আমরা একান্তভাবে কামনা করি। ব্রিক্‌স সদস্য দেশগুলির মধ্যেসাংস্কৃতিক সহযোগিতার প্রসারে এক বিশেষ মঞ্চ গড়ে তুলতে ব্রিক্‌স সংস্কৃতি পরিষদপ্রতিষ্ঠার কাজকেও আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে আগ্রহী।  

  

62.    ব্রিক্‌সসদস্য রাষ্ট্রগুলির নিরন্তর আর্থ-সামাজিক বিকাশএবং পারস্পরিক অংশীদারিত্বের সম্পর্ককে নিবিড় করে তোলার স্বার্থে শিক্ষার গুরুত্বওআমরা উপলব্ধি করি।শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতার প্রসারে ব্রিক্‌স ইউনিভার্সিটি লিগএবং ব্রিক্‌স নেটওয়ার্ক ইউনিভার্সিটির কাজকর্মকে সমর্থন জানানোর কথা পুনরুচ্চারিতহয়েছে এবারের ব্রিক্‌স-এর মঞ্চে। শিক্ষা জগতের বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে সহযোগিতাপ্রসারের প্রচেষ্টাকে যেমন আমরা স্বাগত জানিয়েছি, অন্যদিকে তেমনই সামার ক্যাম্পেরমতো শিক্ষা শিবির আয়োজনের মাধ্যমে ব্রিক্‌স রাষ্ট্রগুলির যুব সমাজের মধ্যে বিনিময়কর্মসূচির প্রসারের বিষয়টিকেও আমরা উৎসাহিত করেছি। আমরা প্রস্তাব রেখেছি,ছাত্রছাত্রীদের কাছে আরও বেশি সংখ্যায় শিক্ষা ও গবেষণা বৃত্তির সুযোগ পৌঁছে দেওয়ার ।  শিক্ষা সম্পর্কিত নিরন্তর উন্নয়নের লক্ষ্যকে বাস্তবায়িতকরে তুলতে কাজ ও অভিজ্ঞতার বিনিময়কে আমরা সমর্থন জানাই।  

  

63.    ব্রিক্‌স রাষ্ট্রগুলির জনসাধারণের মধ্যে প্রচলিতখেলাধূলাকে জনপ্রিয় করে তুলতে ক্রীড়া সহযোগিতা প্রসারের গুরুত্বে আমরা বিশ্বাসী।আমরা মনে করি যে এর মাধ্যমে ব্রিক্‌স দেশগুলির জনসাধারণের মধ্যে এক নিবিড় মৈত্রীসম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। ২০১৬-তে গোয়ায় আয়োজিত ব্রিক্‌স ইউ-১৭ ফুটবল টুর্নামেন্টেরসাফল্যের কথা স্মরণে রেখে প্রথম ব্রিক্‌স গেমস সফল হওয়ার ঘটনাকে সংশ্লিষ্টদেশগুলির জনসাধারণের মধ্যে বিনিময় সফরসূচির এক উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য বলে আমরা মনেকরি। এই পাঁচটি দেশের মধ্যে ক্রীড়া সহযোগিতার গুরুত্বকে তুলে ধরতে খেলাধূলাসম্পর্কিত মউ স্বাক্ষরের জন্য ক্রীড়া দপ্তরগুলিকে আমরা উৎসাহিত করেছি।  

  

64.    বিশ্বের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রসারে ব্রিক্‌স-এরও যেএকটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে একথা আমরা আন্তরিকভাবেই বিশ্বাস করি। বিশেষত,বিশ্ব স্বাস্থ্য সংগঠন (হু) এবং রাষ্ট্রসঙ্ঘের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত অন্যান্যসংস্থাগুলির কাজকর্মের পরিপ্রেক্ষিতে ব্রিক্‌স-এরও এই ক্ষেত্রে এক বিশেষ ভূমিকাপালন করে যাওয়া উচিৎ বলে আমরা মনে করি।কারণ এর ফলে, গবেষণা ও উন্নয়ন প্রচেষ্টারমাধ্যমে চিকিৎসা সংক্রান্ত নানা ধরনের উদ্ভাবনমূলক উৎপাদন সম্ভব হয়ে উঠবে।উন্নতমানের সুলভ ও নিরাপদ ওষুধ, টিকা, রোগনির্ণয় ব্যবস্থা ও প্রযুক্তির হাত ধরে বিশ্বস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বিশেষ পরিবর্তনের তাতে সূচনা হবে। উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগের প্রসারের মাধ্যমে চিকিৎসা পরিষেবাকেও সমাজেরবৃহত্তর অংশের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। ইবোলা, এইচআইভি/এড্‌স, যক্ষ্মা এবংম্যালেরিয়ার মতো রোগগুলির মোকাবিলায় পর্যবেক্ষণ ও নজরদারি ব্যবস্থা এবং চিকিৎসাপরিষেবার প্রসার একান্ত জরুরি বলে আমরা মনে করি। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার গুণগত মানকে আরওউন্নত করে তুলতে তথ্য, যোগাযোগ এবং প্রযুক্তিকে আরও বেশি করে ব্যবহারের বিষয়টিকেওউৎসাহিত করা প্রয়োজন। চিরাচরিত চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে ব্রিক্‌স স্বাস্থ্যমন্ত্রীদের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের ফলাফলকে আমরা স্বাগত জানিয়েছি। চিরাচরিত চিকিৎসাপদ্ধতি বিনিময় এবং সহযোগিতার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি এক ব্যবস্থা গড়ে তোলারউদ্যোগকেও আমরা সাধুবাদ জানাই। কারণ আমরা মনে করি যে এর সাহায্যে চিরাচরিত চিকিৎসাপদ্ধতি সম্পর্কে শিক্ষা, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার যেমন প্রসার ঘটবে, অন্যদিকে তেমনইঅভিজ্ঞতালব্ধ এই শিক্ষা ও জ্ঞান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যেও সঞ্চারিত করা যাবে। যক্ষ্মাগবেষণা সম্পর্কিত একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানিয়েছি। এবছরের ১৬ ও ১৭ নভেম্বর রাশিয়ান ফেডারেশনের মস্কোয় ‘যক্ষ্মা-মুক্ত নিরন্তর উন্নয়নেরএক নতুন যুগ’ বিষয়টির ওপর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রথম মন্ত্রীপর্যায়ের সম্মেলনেএই নেটওয়ার্কটিকে তুলে ধরা হবে। আগামী বছর যক্ষ্মা সম্পর্কে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণসভার প্রথম উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের উদ্যোগ-আয়োজনকে আমরা সমর্থন জানিয়েছি। স্বাস্থ্যসম্পর্কিত বিষয়গুলিতেসহযোগিতা প্রসারে যে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ, সেকথা বিশেষবলিষ্ঠতার সঙ্গে আমরাব্যক্ত করেছি জি-২০ সহ আন্তর্জাতিক মঞ্চগুলিতে।  

  

65.    ২০১৫-২০২০ সময়কালের জন্য জনসংখ্যা সম্পর্কিত বিষয়গুলিরওপর ব্রিক্‌স-এর কার্যসূচি অনুসারে এক সুষম বিকাশ ও সহযোগিতার প্রসারে যে আমরাঅঙ্গীকারবদ্ধ, একথারও পুনরুচ্চারণ ঘটেছে এবারের ব্রিক্‌স-এর মঞ্চে।  

  

66.    সুপ্রশাসন ও পরিচালন, চলচ্চিত্র নির্মাণ, সংবাদমাধ্যম,মননশীলতা, যুব কর্মসূচি, সংসদীয় কর্মসূচি, স্থানীয় শাসন ব্যবস্থা এবং ট্রেড ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার প্রসার ও বিনিময়ের বিষয়গুলি যেভাবে উৎসাহিত হচ্ছেতাতে আমরা সন্তোষও প্রকাশ করেছি। এই ধরনের সহযোগিতা ও বিনিময় কর্মসূচিকে আরও এগিয়েনিয়ে যেতে আমরা আন্তরিকভাবেই আগ্রহী। ব্রিক্‌স সদস্য রাষ্ট্রগুলির যৌথ উদ্যোগেপ্রথম চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রচেষ্টাকে আমরা সাধুবাদ জানিয়েছি। এছাড়া, ব্রিক্‌সচলচ্চিত্র উৎসব, সংবাদমাধ্যম মঞ্চ, মৈত্রী নগরী, স্থানীয় প্রশাসন ও পরিচালনসম্পর্কিত সহযোগিতার মঞ্চ, যুব মঞ্চ, তরুণ কূটনীতিকদের মঞ্চ এবং তরুণ বিজ্ঞানীদেরমঞ্চের মতো ক্ষেত্রগুলিরসাফল্যেআমরা বিশেষভাবে উৎসাহিত। রাজনৈতিক দলগুলির ব্রিক্‌সমঞ্চের সফল উদ্যোগ-আয়োজনকে আমরা সাধুবাদ জানিয়েছি। একইভাবে, মননশীল বুদ্ধিজীবী এবংসুশীল সমাজ সংগঠনগুলির মঞ্চ গড়ে তোলার উদ্যোগও প্রশংসনীয় বলে আমরা মনে করি। আয়োজিতহচ্ছে পরিচালন ও প্রশাসন সম্পর্কিত বিভিন্ন আলোচনাসভা ও আলোচনাচক্র। এই ধরনের শুভউদ্যোগগুলি ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার আমরা পক্ষপাতী। প্রসঙ্গত, ব্রিক্‌স গবেষণা ওবিনিময় তহবিল গঠনের যে প্রস্তাব চিন উত্থাপন করেছে তাকেও আমরা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণবলে মনে করি।  

  

67.    ব্রিক্‌স-এর প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশের কাজে গুরুত্বপূর্ণঅগ্রগতির আমরা বিশেষ প্রশংসা করি। ব্রিক্‌স সহযোগিতাকে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আরওবেশি করে সংবেদনশীল করে তোলার লক্ষ্যে সহযোগিতার মাত্রা বৃদ্ধি করতেও আমরাসঙ্কল্পবদ্ধ। ব্রিক্‌স সহযোগিতার ক্ষেত্রে শেরপাদের সমন্বয়ের ভূমিকার ওপর বিশেষগুরুত্ব আরোপ করেছে চিন। চিনের নেতৃত্বে ব্রিক্‌স-এর শীর্ষ বৈঠকে এ সম্পর্কিতবিভিন্ন ব্যবস্থার কথাও উত্থাপন করা হয়েছে। চিনের এই ভূমিকার আমরা বিশেষ প্রশংসাকরি। ব্রিক্‌স-এর প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য শেরপাদেরআমরা উৎসাহ যুগিয়েছি।  

  

68.    আন্তর্জাতিক বিষয়গুলিতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের কেন্দ্রীয় ভূমিকাএবং বহুপক্ষের মতামতকে আমরা বলিষ্ঠ সমর্থন জানিয়েছি। পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্টসাধারণ বিষয়গুলিতে সহযোগিতা ও সমন্বয়ের প্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করে তুলতে আমরাঅঙ্গীকারবদ্ধ। নিউ ইয়র্ক, জেনেভা এবং ভিয়েনায় আমাদের স্থায়ী প্রতিনিধিরানিয়মিতভাবে যে সমস্ত আলোচনা-বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছেন, তার মাধ্যমেই সহযোগিতা ওসমন্বয়ের বিষয়গুলিকে গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরা হবে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চেব্রিক্‌স-এর মতামত তুলে ধরার কাজকেও আমরা বিশেষ গুরুত্ব দান করেছি।  

  

69.    ডারবান শীর্ষ সম্মেলনের পর থেকে ব্রিক্‌স-এরকর্মপ্রচেষ্টার ঐতিহ্য অনুসরণ করে আমরা উদ্ভূত বাজার ও বিকাশশীল দেশগুলি সম্পর্কেএক বিশেষ আলাপ-আলোচনার আয়োজন করব। আমাদের আলোচ্যসূচির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেনিরন্তর বিকাশের লক্ষ্যে ২০৩০ সাল পর্যন্ত মেয়াদি কার্যসূচি। ‘সাধারণ উন্নয়নেরলক্ষ্যে পারস্পরিক কল্যাণে উন্নততর সহযোগিতা’ বিষয়টির ওপর এক বলিষ্ঠ অংশীদারিত্বেরসম্পর্ক গড়ে তোলার দিকে আমরা দৃষ্টি দেব। কারণ আমাদের লক্ষ্য হল ব্রিক্‌স-এর আওতায়উন্নয়ন সংক্রান্ত কর্মপ্রচেষ্টার ক্ষেত্রে সহযোগিতাকে আরও জোরদার করে তোলা।  

  

70.    ২০১৭-তে চিন যেভাবে ব্রিক্‌স-এ নেতৃত্ব দিয়েছে, সেজন্যদক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, রাশিয়া এবং ভারত ঐ দেশকে বিশেষভাবে প্রশংসা ও সাধুবাদজানিয়েছে। জিয়ামেন-এ নবম ব্রিক্‌স শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের জন্য চিনের সরকার ওজনসাধারণের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছে এই দেশগুলি।  

  

71.    আগামী বছর,অর্থাৎ ২০১৮ সালে দশম ব্রিক্‌স শীর্ষ সম্মেলনের উদ্যোগ-আয়োজনে দক্ষিণ আফ্রিকাকেসর্বতোভাবে সমর্থন ও সহযোগিতা যুগিয়ে যাবে চিন, ব্রাজিল, রাশিয়া এবং ভারত। 

 
  

সংযোজন ১  : ব্রিক্‌স সহযোগিতা ও তার ফলাফলসম্পর্কিত নথি  

  

বিভিন্ন বৈঠক ও সম্মেলনের ফলাফল ওপ্রতিবেদন সম্পর্কিত যে সমস্ত নথি গৃহীত হয়েছে  

  

হ্যামবুর্গ-এ  ব্রিক্‌সনেতৃবৃন্দের ঘরোয়া বৈঠকের ওপর প্রেস বিজ্ঞপ্তি  

  

রাজনৈতিক ওনিরাপত্তা সংক্রান্ত সহযোগিতা  

  

1.    ব্রিক্‌স-এর আওতায় বিদেশ/আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়কমন্ত্রীদের বৈঠক সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন  

  

2.    তথ্য, যোগাযোগ ও প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তানিশ্চিত করার বিষয়ে ব্রিক্‌স-এর রূপরেখা  

  

3.    মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিক্‌স-এর বিশেষ দূতদের মধ্যে অনুষ্ঠিতবৈঠক সম্পর্কে যৌথ বিবৃতি  

  

অর্থনৈতিক সহযোগিতা  

  

1.    অর্থনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সহযোগিতা সম্পর্কিত ব্রিক্‌সকার্যসূচি  

  

2.    ব্রিক্‌স বাণিজ্য মন্ত্রীদের সপ্তম বৈঠক ও বিবৃতি  

  

3.    পরিষেবা সহযোগিতা ক্ষেত্রে ব্রিক্‌স-এর বাণিজ্যিকরূপরেখা  

  

4.    ব্রিক্‌স রাষ্ট্রগুলির অর্থনৈতিক তথা প্রযুক্তিগতসহযোগিতাকে জোরদার করে তোলার লক্ষ্যে কাঠামোগত খসড়া  

  

5.    বৈদ্যুতিন বাণিজ্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা প্রসার সম্পর্কিতব্রিক্‌স-এর কর্মপ্রচেষ্টা  

  

6.    ব্রিক্‌স-এর বৈদ্যুতিন বাণিজ্য সম্পর্কিত কর্মীগোষ্ঠীর আলোচ্যসূচি  

  

7.    ব্রিক্‌স মডেল ই-পোর্ট নেটওয়ার্কের কার্যসূচি  

  

8.    ব্রিক্‌স আইপিআর সহযোগিতা সম্পর্কিত রূপরেখা  

  

9.    ব্রিক্‌স-এর বিনিয়োগ সংক্রান্ত সুযোগ-সুবিধার ওপর রূপরেখা  

  

10.    ২০১৭’র ব্রিক্‌স-এর আওতায় অর্থমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলিরপ্রশাসকদের বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত সম্পর্কিত নথিপত্র  

  

11.    সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব সফল করে তোলার জন্য কাঠামোগত খসড়া  

  

12.    ব্রিক্‌স সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে শিল্প সহযোগিতাকে গভীরতর করে তোলারউদ্দেশ্যে কার্যক রী  কল্পনা  

  

13.    ব্রিক্‌স-এর আওতায় যোগাযোগ দপ্তরের মন্ত্রীদের তৃতীয় বৈঠকের ঘোষণা  

  

14.    ব্রিক্‌স কাস্টমস্‌ সহযোগিতা প্রসঙ্গে কৌশলগত কাঠামোর খসড়া  

  

15.    উদ্ভাবনমূলক কর্মপ্রচেষ্টা ক্ষেত্রে কৌশলগত সহযোগিতা সম্পর্কিত ব্রিক্‌স-এরকাঠামোগত খসড়া (২০১৭-২০)  

  

16.    ব্রিক্‌স-এর আওতায় হ্যাংঝাউ-এ অনুষ্ঠিত বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনদপ্তরের মন্ত্রীদের পঞ্চম বৈঠকের ঘোষণা  

  

17.    ব্রিক্‌স ২০১৫-১৮ সময়কালের জন্য বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন সম্পর্কিতপরিকল্পনার খসড়ায় ২০১৭-১৮ বছরের জন্য কার্যপরিকল্পনা  

  

18.    ব্রিক্‌স রাষ্ট্রগুলির কর দপ্তরের প্রধানদের বৈঠকের প্রতিবেদন।   

  

19.    কর সংক্রান্ত বিষয়ে সহযোগিতার লক্ষ্যে ব্রিক্‌স-এর মউ অর্থাৎ সমঝোতাপত্র  

  

20.    ব্রিক্‌স শক্তি মন্ত্রীদের দ্বিতীয় বৈঠকের ঘোষণা  

  

21.    ব্রিক্‌স পরিবেশ মন্ত্রীদের তৃতীয় বৈঠকের পরিবেশ সংক্রান্ত তিয়ানজিন বিবৃতি  

  

22.    ব্রিক্‌স কৃষি মন্ত্রীদের সপ্তম বৈঠকের যৌথ ঘোষণাপত্র  

  

23.    ব্রিক্‌স সদস্য রাষ্ট্রগুলির কৃষি সহযোগিতা বিষয়ে ২০১৭-২০২০ পর্যন্তমেয়াদকালের কর্মপরিকল্পনা  

  

24.    ব্রিক্‌স-এর শ্রম এবং কর্মসংস্থান দপ্তরের মন্ত্রীদের ঘোষণাপত্র  

  

25.    দক্ষতা বিকাশের সাহায্যে দারিদ্র্য হ্রাস ও দূরীকরণের লক্ষ্যে ব্রিক্‌স-এরকার্যপরিকল্পনা  

  

26.    ব্রিক্‌স-এর অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রকৌশল রূপায়ণের ক্ষেত্রে অগ্রগতিসম্পর্কিত প্রতিবেদন  

  

27.    ব্রিক্‌স আন্তঃব্যাঙ্ক সহযোগিতা ব্যবস্থার আওতায় আন্তঃব্যাঙ্ক  পর্যায়ে  আঞ্চলিক মুদ্রায় ঋণ সহায়তাদান সম্পর্কিত চুক্তিপত্র  

  

28.    ব্রিক্‌স আন্তঃব্যাঙ্ক সহযোগিতা ব্যবস্থার আওতায় ক্রেডিট রেটিং-এর ক্ষেত্রেসহযোগিতা সম্পর্কিত স্মারকলিপি  

  

29.    শহরাঞ্চলের পরিবেশকে অক্ষুণ্ণ রাখতে ব্রিক্‌স অংশীদারিত্ব সম্পর্কিতনথিপত্র  

  

30.    ব্রিক্‌স-এর যৌথ পরিসংখ্যানগত স্মারকপত্র প্রকাশ (২০১৭)  

  

31.    ব্রিক্‌স-এর গবেষণা পরিকাঠামো এবং বৃহদাকারের বিজ্ঞান প্রকল্পগুলি সম্পর্কেগঠিত কর্মীগোষ্ঠীর বিচার্য বিষয়  

  

32.    ব্রিক্‌স-এর বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং শিল্পোদ্যোগের ক্ষেত্রেঅংশীদারিত্বের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্মীগোষ্ঠীর বিচার্য বিষয়  

  

33.    ব্রিক্‌স-এর রপ্তানি ক্রেডিট সংস্থা এবং এনডিবি’র মধ্যে সাধারণ সহযোগিতাসম্পর্কিত মউ বা সমঝোতাপত্র  

  

34.    ভবিষ্যতের কর্মপ্রচেষ্টায় পরিচালন ও প্রশাসন সম্পর্কিত ব্রিক্‌স-এর সাধারণপরিস্থিতি  

  

35.    ব্রিক্‌স-এর শ্রম গবেষণা সংস্থাগুলির বিচার্য বিষয় সম্পর্কিত নেটওয়ার্ক  

  

36.    ব্রিক্‌স সামাজিক নিরাপত্তা সহযোগিতা সম্পর্কিত কাঠামো  

  

37.    ব্রিক্‌স-এর কৃষি উন্নয়ন সম্পর্কিত প্রতিবেদন ২০১৭  

  

38.    ব্রিক্‌স বাণিজ্য মঞ্চ ২০১৭’র যৌথ বিবৃতি  

  

39.    ব্রিক্‌স বাণিজ্য পরিষদ এবং নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের মধ্যে কৌশলগতসহযোগিতা সম্পর্কিত সমঝোতাপত্র  

  

40.    ব্রিক্‌স বাণিজ্য পরিষদের নির্দিষ্ট গুণমান নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত যৌথ ঘোষণা 

  

ব্রিক্‌স রাষ্ট্রগুলির জনসাধারণেরমধ্যে সফর বিনিময়সূচি   

  

1.    বিভিন্ন ব্রিক্‌স রাষ্ট্রের সরকারগুলির মধ্যে সাংস্কৃতিকবিষয়সমূহ সম্পর্কে সহযোগিতার প্রসার সংক্রান্ত চুক্তির রূপায়ণ  এবংসে  সম্পর্কিত কর্মপরিকল্পনা (২০১৭-২১)  

  

2.    ব্রিক্‌স-এর আওতায় সংগ্রহশালাগুলিকে যুক্ত করার লক্ষ্যেলেটার অফ ইনটেন্ট   

  

3.    ব্রিক্‌স রাষ্ট্রগুলির বিভিন্ন গ্রন্থাগারের মধ্যেসহযোগিতা প্রসারের লক্ষ্যে লেটার অফ ইনটেন্ট  

  

4.    ব্রিক্‌স রাষ্ট্রগুলির শিল্প সংগ্রহশালা এবং জাতীয় গ্যালারিগুলিরমধ্যে সহযোগিতা প্রসার সম্পর্কিত লেটার অফ ইনটেন্ট  

  

  

5.    শিশু এবং তরুণদের নাট্যচর্চা প্রসঙ্গে ব্রিক্‌স-এর মধ্যেকৌশলগত সহযোগিতার মঞ্চ গড়ে তোলার লক্ষ্যে লেটার অফ ইনটেন্ট  

  

6.    ব্রিক্‌স রাষ্ট্রগুলির মধ্যে চিরাচরিত চিকিৎসা ব্যবস্থারক্ষেত্রে সহযোগিতাকে আরও জোরদার করে তোলার লক্ষ্যে যৌথ ঘোষণাপত্র  

  

7.    ব্রিক্‌স স্বাস্থ্য মন্ত্রীদের বৈঠকের পরিপ্রেক্ষিতেতিয়ানজিন ঘোষণাপত্র  

  

8.    ব্রিক্‌স শিক্ষা মন্ত্রীদের পঞ্চম বৈঠকে শিক্ষাসম্পর্কিত বেজিং ঘোষণা  

  

9.    ব্রিক্‌স-এর আওতায় সংবাদ মাধ্যমগুলির মধ্যে সহযোগিতাপ্রসার সম্পর্কিত কর্মপরিকল্পনা  

  

10.    ব্রিক্‌স যুব ফোরামের কর্মপরিকল্পনা ২০১৭  

  

11.    ব্রিক্‌স রাষ্ট্রগুলির বন্ধু শহর এবং স্থানীয় শাসনকর্তৃপক্ষগুলির মধ্যে সহযোগিতার মঞ্চ গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে চেংডু উদ্যোগ  

  

12.    প্রশাসন ও পরিচালনের ক্ষেত্রে ব্রিক্‌স-এর আলোচনাচক্রসম্পর্কিত কোয়ানঝাউ ঘোষণা  

  

13.    ব্রিক্‌স রাষ্ট্রগুলির বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বুদ্ধিজীবীএবং সুশীল সমাজকে নিয়ে গড়ে তোলা মঞ্চের উদ্যোগ ও কর্মসূচি (ফুঝাউ)  

  

14.    নবম ব্রিক্‌স শীর্ষ বৈঠকের  জন্য  নবম ব্রিক্‌স শিক্ষা ফোরামের সুপারিশ সম্পর্কিত নথিপত্র  

  

15.    দ্বিতীয় ব্রিক্‌স চলচ্চিত্র উৎসবের ব্রিক্‌স চলচ্চিত্রপ্রতিনিধিদের সহমত প্রসঙ্গে চেংডু ঘোষণা  

  

16.    ২০১৭-২১ সময়কালের জন্য ব্রিক্‌স রাষ্ট্রগুলির মধ্যেচলচ্চিত্র ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্পর্কিত পরিকল্পনা  

  

17.    ব্রিক্‌স রাষ্ট্রগুলির চলচ্চিত্র ক্ষেত্রের ছাত্রছাত্রীও প্রতিভাবান ব্যক্তিদের জন্য বিফিএ কর্মসূচি  

  

18.    তরুণ প্রতিভাকে প্রচলিত চলচ্চিত্র সংস্কৃতি এবংসৃজনশীলতা সম্পর্কে উৎসাহদান সম্পর্কিত যৌথ ঘোষণা  

  

19.    ব্রিক্‌স ট্রেড ইউনিয়ন মঞ্চের ঘোষণা  

  

20.    ব্রিক্‌স শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রীদের বৈঠকে ব্রিক্‌সট্রেড ইউনিয়নগুলির বিবৃতি 

  

নিম্নলিখিতদলিল ও নথিপত্রগুলিকেও এর সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে 

অর্থনৈতিকসহযোগিতা  

  

1.    ব্রিক্‌স আইপিআর সহযোগিতা সম্পর্কিত কর্মপরিকল্পনা  

  

2.    ব্রিক্‌স রাষ্ট্রগুলির দূরসংবেদী কৃত্রিম উপগ্রহ সম্পর্কিত সহযোগিতা চুক্তি  

  

3.    ব্রিক্‌স রাষ্ট্রগুলির জাতীয় হিসাব-নিকাশ সম্পর্কিত দপ্তরগুলির মধ্যেসহযোগিতা সম্পর্কিত যৌথ বিবৃতি  

  

4.    অডিট নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত সহযোগিতা প্রসারের ক্ষেত্রে ব্রিক্‌স-এর মঞ্চেপ্রদত্ত যৌথ বিবৃতি 

  

ব্রিক্‌সরাষ্ট্রগুলির জনসাধারণের মধ্যে বিনিময় কর্মসূচি 

   

1.    ব্রিক্‌সরাষ্ট্রগুলির আঞ্চলিক পরিষদ গঠন সম্পর্কিত সমঝোতাপত্র  

   

2.    ব্রিক্‌স রাষ্ট্রগুলির মধ্যে ক্রীড়া সহযোগিতা প্রসারসম্পর্কিত সমঝোতাপত্র  

  

  

সংযোজন ২  : জিয়ামেন কর্মপরিকল্পনা  

  

জিয়ামেন শীর্ষ বৈঠকের আগে চিনেরনেতৃত্বে অন্যান্য যে সমস্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল তার ভিত্তিতে এই তালিকাটি প্রস্তুতকরা হয়েছে। ঐ সময়কালের উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলীও সন্নিবেশিত হয়েছে এই তালিকায়।  

  

মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠক এবং প্রাসঙ্গিক ঘটনাবলী  

  

1.    ব্রিক্‌স নেতৃবৃন্দের ঘরোয়া বৈঠক (৭ জুলাই, ২০১৭,হ্যামবুর্গ)  

  

2.    নিরাপত্তা সম্পর্কিত বিষয়গুলি নিয়ে ব্রিক্‌স-এর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের বৈঠক (২৭-২৮ জুলাই, ২০১৭, বেজিং)  

  

3.    ব্রিক্‌স বিদেশ মন্ত্রী/আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়কদপ্তরগুলির মন্ত্রীদের বৈঠক (১৮-১৯ জুন, ২০১৭, বেজিং)  

  

4.    ব্রিক্‌স শেরপা/সাউস-শেরপা-দের বৈঠক (২৩-২৪ ফেব্রুয়ারি,২০১৭, নানজিং; ১৪-১৫ জুন, ২০১৭, কিংডাও; ৪-৫ জুলাই, ২০১৭, হ্যামবুর্গ; সেপ্টেম্বর,২০১৭, জিয়ামেন)  

  

5.    ব্রিক্‌স অর্থমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলিরপ্রশাসকদের বৈঠক/অর্থ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির উপ-প্রশাসকদের বৈঠক (১৭ মার্চ,২০১৭, বাদেন-বাদেন; ২০ এপ্রিল, ২০১৭, ওয়াশিংটন ডিসি; ১৯ জুন, ২০১৭, সাংহাই)  

  

6.    ব্রিক্‌স স্থানীয় পর্যায়ের কারেন্সি বন্ড ফান্ডসম্পর্কিত কর্মীগোষ্ঠী (২০ এপ্রিল ওয়াশিংটন ডিসি; ১৮ জুন, ২০১৭, সাংহাই)  

  

7.    ব্রিক্‌স শক্তিমন্ত্রীদের বৈঠক (৭ জুন, ২০১৭, বেজিং)  

  

8.    ব্রিক্‌স কৃষি এবং কৃষি বিকাশ দপ্তরের মন্ত্রীদের বৈঠক(১৬-১৭ জুন, ২০১৭, নানজিং)  

  

9.    ব্রিক্‌স পরিবেশ মন্ত্রীদের বৈঠক (২২-২৩ জুন, ২০১৭,তিয়ানজিন)  

  

10.    ব্রিক্‌স-এর মহাকাশ সহযোগিতা সম্পর্কিত যৌথ কমিটির বৈঠক(২-৩ জুলাই, ২০১৭, হাইকু)  

  

11.    ব্রিক্‌স শিক্ষামন্ত্রীদের বৈঠক (৪-৫ জুলাই, ২০১৭,বেজিং)  

  

12.    ব্রিক্‌স-এর কাস্টমস সহযোগিতা কমিটির বৈঠক (৫ জুলাই,২০১৭, ব্রাসেল্‌স)  

  

13.    ব্রিক্‌স সংস্কৃতি মন্ত্রীদের বৈঠক (৫-৬ জুলাই, ২০১৭,তিয়ানজিন)  

  

14.    ব্রিক্‌স স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং চিরাচরিত চিকিৎসাব্যবস্থা সম্পর্কিত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক (১৩-১৪ জুলাই, ২০১৭, ঝেংঝাউ)  

  

15.    ব্রিক্‌স-এর মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলির মধ্যে সহযোগিতারপ্রসার সম্পর্কিত বৈঠক (১৩-১৪ জুলাই, ২০১৭, ঝেংঝাউ   

  

16.    ব্রিক্‌স-এর বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন সংক্রান্ত দপ্তরগুলিরমন্ত্রীদের বৈঠক (১৮ জুলাই, ২০১৭, হ্যাংঝাউ)  

  

17.    ব্রিক্‌স শ্রম ও কর্মসংস্থান দপ্তরগুলির মন্ত্রীদের বৈঠক(২৬-২৭ জুলাই, ২০১৭, চোংকিং)  

  

18.    ব্রিক্‌স যোগাযোগ মন্ত্রীদের বৈঠক (২৭-২৮ জুলাই, ২০১৭,হ্যাংঝাউ)  

  

19.    ব্রিক্‌স কর কর্তৃপক্ষ প্রধানদের বৈঠক (২৭-২৮ জুলাই, ২০১৭,হ্যাংঝাউ)  

  

20.    ব্রিক্‌স শিল্পমন্ত্রীদের বৈঠক (২৯-৩০ জুলাই, ২০১৭,হ্যাংঝাউ)  

  

21.    ব্রিক্‌স বাণিজ্য মন্ত্রীদের বৈঠক (১-২ আগস্ট, ২০১৭,সাংহাই)  

  

22.    নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের বোর্ড অফ গভরনর্স-এর বার্ষিকবৈঠক (১-২ এপ্রিল, ২০১৭, নয়াদিল্লি)  

  

23.    ব্রিক্‌স বাণিজ্য মঞ্চের বৈঠক (৩-৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭,জিয়ামেন)  

  

বরিষ্ঠ আধিকারিক/কর্মীগোষ্ঠী/বিশেষজ্ঞদের বৈঠক  

  

1.    ব্রিক্‌স-এর পরিবেশ সম্পর্কিত বরিষ্ঠ আধিকারিকদের বৈঠক(২২ জুন, ২০১৭, তিয়ানজিন)  

  

2.    ব্রিক্‌স-এর শিক্ষা সম্পর্কিত বরিষ্ঠ আধিকারিকদের বৈঠক(৪ জুলাই, ২০১৭, বেজিং)  

  

3.    ব্রিক্‌স-এর সাংস্কৃতিক বিষয় সম্পর্কিত বরিষ্ঠআধিকারিকদের বৈঠক (৫ জুলাই, ২০১৭, তিয়ানজিন)  

  

4.    ব্রিক্‌স-এর স্বাস্থ্য বিষয়ক বরিষ্ঠ আধিকারিকদের বৈঠক (৫জুলাই, ২০১৭, তিয়ানজিন)  

  

5.    ব্রিক্‌স-এর বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন সংক্রান্তবিষয়গুলির বরিষ্ঠ আধিকারিকদের বৈঠক (১৭ জুলাই, ২০১৭, হ্যাংঝাউ)  

  

6.    ব্রিক্‌স বাণিজ্য পরিষদের বৈঠক (৩১ মার্চ, ২০১৭,নয়াদিল্লি; ৩১ আগস্ট-২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, সাংহাই ও জিয়ামেন)  

  

7.    ব্রিক্‌স-এর দুর্নীতি বিরোধী কর্মীগোষ্ঠীর বৈঠক (২২জানুয়ারি, ২০১৭, বার্লিন; ৯ এপ্রিল, ২০১৭ ব্রাসিলিয়া)  

  

8.    ব্রিক্‌স-এর মেধাসম্পদ পরীক্ষকদেরপ্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যেসেমিনার (২০-২৪ফেব্রুয়ারি, ২০১৭, নাগপুর)  

  

9.    ব্রিক্‌স-এর মেধাসম্পদ সমন্বয় গোষ্ঠীর বৈঠক (২২-২৩ফেব্রুয়ারি, ২০১৭, নাগপুর)  

  

10.    ব্রিক্‌স-এর অর্থনীতি ও বাণিজ্য সম্পর্কিত বিষয়গুলিরযোগাযোগ গোষ্ঠীর বৈঠক (২০-২১ মার্চ, ২০১৭, বেজিং; ২৩-২৫ মে, ২০১৭, বেজিং; ৩০-৩১জুলাই, ২০১৭, সাংহাই)  

  

11.    ব্রিক্‌স-এর জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরগুলির কারিগরি বৈঠক (২৭-২৯মার্চ, ২০১৭, সাংহাই)  

  

12.    ব্রিক্‌স-এর কাস্টম্‌স সম্পর্কিত কর্মীগোষ্ঠীর বৈঠক (২৯-৩১মার্চ, ২০১৭, জিয়ামেন)  

  

13.    ব্রিক্‌স-এর মধ্যপ্রাচ্য সম্পর্কিত বিষয়গুলি আলোচনারজন্য বিশেষ দূতদের মধ্যে অনুষ্ঠিত পরামর্শ বৈঠক (১১-১২ এপ্রিল, ২০১৭,বিশাখাপত্তনম)  

  

14.    ব্রিক্‌স-এর কর্মসংস্থান সম্পর্কিত কর্মীগোষ্ঠীর বৈঠক (১৯এপ্রিল, ২০১৭, ইউক্সি; ২৫ জুলাই, ২০১৭, চোংকিং)  

  

15.    ব্রিক্‌স-এর পরিবেশ সম্পর্কিত কর্মীগোষ্ঠীর বৈঠক (২৫-২৭এপ্রিল, ২০১৭, তিয়ানজিন)  

  

16.    ব্রিক্‌স-এর সন্ত্রাস বিরোধী কর্মীগোষ্ঠীর বৈঠক (১৮ মে,২০১৭, বেজিং)  

  

17.    ব্রিক্‌স-এর মেধাসম্পদ অধিকার সম্পর্কিত প্রথম বৈঠক (২৩মে, ২০১৭, বেজিং)  

  

18.    ব্রিক্‌স সংস্কৃতি মন্ত্রীদের কর্মীগোষ্ঠীর বৈঠক (২৫ মে,২০১৭, বেজিং)  

  

19.    ব্রিক্‌স-এর বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন সম্পর্কিতকর্মসূচিগুলির তহবিল সম্পর্কিত কর্মীগোষ্ঠীর বৈঠক (২৮-৩১ মে, ২০১৭, প্রিটোরিয়া)  

  

20.    ব্রিক্‌স-এর তথ্য, যোগাযোগ এবং প্রযুক্তি ব্যবহারেনিরাপত্তা সংক্রান্ত কর্মীগোষ্ঠীর বৈঠক (১-২ জুন, ২০১৭, বেজিং)  

  

21.    ব্রিক্‌স-এর জ্বালানি সাশ্রয় এবং জ্বালানির উন্নততরসাশ্রয় সম্পর্কিত কর্মীগোষ্ঠীর বৈঠক (৫ জুন, ২০১৭, বেজিং)  

  

22.    ব্রিক্‌স-এর রপ্তানি বাণিজ্য সম্পর্কিত ক্রেডিটসংস্থাগুলির প্রধানদের বৈঠক (১২-১৫ জুন, ২০১৭, হ্যাংঝাউ)  

  

23.    ব্রিক্‌স-এর কৃষি সহযোগিতা প্রসার সম্পর্কিতকর্মীগোষ্ঠীর বৈঠক (১৫ জুন, ২০১৭, নানজিং)  

  

24.    ব্রিক্‌স-এর আন্তঃব্যাঙ্ক সহযোগিতা সম্পর্কিত কারিগরিবিষয়ক গোষ্ঠীর বৈঠক (২৮-২৯ জুন, ২০১৭, বেজিং)  

  

25.    ব্রিক্‌স-এর আন্তঃব্যাঙ্ক সহযোগিতা সম্পর্কিত গোষ্ঠীরবৈঠক (২৮-২৯ জুন, ২০১৭, বেজিং)  

  

26.    ব্রিক্‌স-এর এএমএল সম্পর্কিত প্রতিনিধিদলগুলির প্রধানদেরবৈঠক (১৮-২৩ জুন, ২০১৭, স্পেন)  

  

27.    ব্রিক্‌স-এর বিদেশ নীতি পরিকল্পনা সম্পর্কিত আলোচনা-বৈঠক(২০-২১ জুলাই, ২০১৭, বেজিং)  

  

28.    ব্রিক্‌স-এর শান্তিরক্ষা সম্পর্কিত বিষয়গুলিরবিশেষজ্ঞদের পরামর্শ বৈঠক (২৫ জুলাই, ২০১৭, বেজিং)  

  

29.    ব্রিক্‌স-এর কর সংক্রান্ত বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের বৈঠক (২৫-২৬জুলাই, ২০১৭, হ্যাংঝাউ)  

  

30.    ব্রিক্‌স-এর তথ্য, যোগাযোগ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তাসম্পর্কিত কর্মীগোষ্ঠীর বৈঠক (২৬ জুলাই, ২০১৭, হ্যাংঝাউ)  

  

31.    ব্রিক্‌স-এর মাদক বিরোধী কর্মীগোষ্ঠীর বৈঠক (১৬ আগস্ট,২০১৭, উইহাই)  

  

32.    ব্রিক্‌স-এর আন্তঃব্যাঙ্ক সহযোগিতা এবং আর্থিক মঞ্চেরবার্ষিক বৈঠক (৩১ আগস্ট-২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, বেজিং)  

  

33.    ব্রিক্‌স-এর মেধাসম্পদ সম্পর্কিত দপ্তরগুলির প্রধানদেরবৈঠক (৬-৭ এপ্রিল, ২০১৭, নয়াদিল্লি)  

  

34.    ব্রিক্‌স-এর বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবংশিল্পোদ্যোগসহযোগিতা সম্পর্কিত কর্মীগোষ্ঠীর বৈঠক (৯ এপ্রিল, ২০১৭, বেঙ্গালুরু)  

  

35.    ব্রিক্‌স-এর তথ্য, যোগাযোগ এবং প্রযুক্তি তথা সাফল্য ওফলাফল বিশ্লেষণ সম্পর্কিত কর্মীগোষ্ঠীর বৈঠক (২৩-২৬ এপ্রিল, ২০১৭, গুয়াংঝাউ)  

  

36.    ব্রিক্‌স-এর গবেষণা পরিকাঠামো এবং প্রধান প্রধান বিজ্ঞানপ্রকল্প সম্পর্কিত কর্মীগোষ্ঠীর বৈঠক (১৫-১৬ মে, ২০১৭, দুবনা)  

  

37.    ব্রিক্‌স-এর সলিড স্টেট লাইটিং সম্পর্কিত কর্মীগোষ্ঠীরবৈঠক (১৯-২৪ জুন, ২০১৭, হ্যাংঝাউ)  

  

ব্রিক্‌স রাষ্ট্রগুলির মধ্যে নাগরিক পর্যায়ে সফর বিনিময় কর্মসূচি,বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণবৈঠক এবং তাৎপর্যময় অনুষ্ঠান ও ঘটনাবলী  

  

1.    ব্রিক্‌স তরুণ কূটনীতিকদের মঞ্চ (৩০ মে-৩ জুন, ২০১৭,বেজিং এবং লিনুউই)  

  

2.    ব্রিক্‌স সংবাদমাধ্যমগুলির মঞ্চ (৬-৮ জুন, ২০১৭, বেজিং)  

  

3.    ব্রিক্‌স-এর বুদ্ধিজীবী পরিষদের বৈঠক (১০ জুন, ২০১৭,ফুঝাউ)  

  

4.    ব্রিক্‌স-এর রাজনৈতিক দল, বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায় এবংসুশীল সমাজ সংগঠনগুলির মঞ্চ (১০-১২, ২০১৭, ফুঝাউ)  

  

5.    ব্রিক্‌স গেম্‌স (১৭-২১ জুন, ২০১৭, গুয়াংঝাউ)  

  

6.    ব্রিক্‌স চলচ্চিত্র উৎসব (২৩-২৭ জুন, ২০১৭, চেংডু)  

  

7.    ব্রিক্‌স মৈত্রী নগরী এবং স্থানীয় শাসন কর্তৃপক্ষগুলিরসহযোগিতা মঞ্চ (১১-১৩ জুলাই, ২০১৭, চেংডু)  

  

8.    ব্রিক্‌স ট্রেড ইউনিয়ন মঞ্চ (২৪-২৫ জুলাই, ২০১৭, বেজিং)  

  

9.    ব্রিক্‌স যুব মঞ্চ (২৪-২৮ জুলাই, ২০১৭, বেজিং)  

  

10.    ব্রিক্‌স তরুণ বিজ্ঞানীদের মঞ্চ (১১-১৫ জুলাই, ২০১৭,হ্যাংঝাউ)  

  

11.    ব্রিক্‌স-এর প্রশাসন ও পরিচালন সম্পর্কিত সেমিনার (১৭-১৮আগস্ট, ২০১৭, কুয়ানঝাউ)  

  

12.    ব্রিক্‌স-এর আইন পরিষেবা সম্পর্কিত প্রধানদের বৈঠক(আগস্ট, ২০১৭, ব্রাজিল)  

  

13.    ব্রিক্‌স-এর বুদ্ধিজীবী পর্যায়ে আলোচনাচক্র (২২ মার্চ,২০১৭, বেজিং; ১৫ মে, ২০১৭ গুয়াংঝাউ; ২০ মে, ২০১৭, চোংকিং)  

  

14.    ব্রিক্‌স-এর নাট্যচর্চা সম্পর্কিত সংস্থাগুলিরআন্তর্জাতিক উৎসব (১৪-২১ মে, ২০১৭, মস্কো)  

  

15.    ব্রিক্‌স-এর প্রতিযোগিতা আইন সম্পর্কিত বিষয়ে সহযোগিতাপ্রসারের লক্ষ্যে বৈঠক (১৬-২০ মে, ২০১৭, পিটার্সবার্গ)  

  

16.    বার্ষিক মঞ্চ ‘ ব্রিক্‌স : অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রসারের লক্ষ্যে’ (১-৩ জুন, ২০১৭, সেন্ট পিটার্সবার্গ)  

  

17.    ব্রিক্‌স-এর হিসাব পরীক্ষা সম্পর্কিত শীর্ষ সংস্থাগুলিরকারিগরি সহযোগিতা বিষয়ক বৈঠক (২৮-২৯ জুন, ২০১৭, প্রিটোরিয়া)  

  

18.    এসসিও এবং ব্রিক্‌স রাষ্ট্রগুলির আন্তর্জাতিক মহিলাকংগ্রেস (২-৪ জুলাই, ২০১৭, নোভসিবার্ক্স)  

  

চিনের নেতৃত্বেব্রিক্‌স-এর আসন্ন বৈঠক এবং ঘটনাবলীকেও আমরা এর সঙ্গে যুক্ত করতে পারি।  

  

1.    ইউএনজিএ-এর নীতি ও নির্দেশ অনুসারে বিদেশ মন্ত্রীদের বৈঠক  

  

2.    ব্রিক্‌স-এর পঞ্চম শেরপা/সাউস-শেরপা বৈঠক  

  

3.    ব্রিক্‌স-এর সংসদীয় মঞ্চ  

  

4.    ব্রিক্‌স-এর জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরগুলির প্রধানদের বৈঠক  

  

5.    ব্রিক্‌স বাণিজ্য মেলা  

  

6.    ব্রিক্‌স-এর আইনি উপদেষ্টাদের পরামর্শ বৈঠক  

  

7.    ব্রিক্‌স-এর এসওই সংস্কার এবং পরিচালন সম্পর্কিত মঞ্চ  

  

8.    প্রতিযোগিতা আইন সম্পর্কিত বিষয়ে ব্রিক্‌স সহযোগিতা বৈঠক  

  

9.    এসসিও এবং ব্রিক্‌স অঞ্চলগুলির ক্ষুদ্র বাণিজ্য সম্পর্কিত তৃতীয় মঞ্চ  

  

10.    ব্রিক্‌স আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সম্মেলন  

  

11.    ব্রিক্‌স-এর জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্পর্কিত কর্মীগোষ্ঠীর বৈঠক (২১-২২সেপ্টেম্বর, পুণে)  

  

12.    ব্রিক্‌স-এর রপ্তানি সম্পর্কিত ক্রেডিট সংস্থাগুলির কারিগরি কর্মশালা (৩১ অক্টোবর-৩নভেম্বর, নানজিং)  

  

13.    ব্রিক্‌স-এর বস্তুবিজ্ঞান এবং ন্যানো-প্রযুক্তি সম্পর্কিত কর্মীগোষ্ঠীরবৈঠক (২৬-২৭ অক্টোবর, ২০১৭, ইয়াকাতেরিনবার্গ)  

  

14.    ‘ভবিষ্যতের লক্ষ্য এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন নীতি’ সম্পর্কিতআন্তর্জাতিক শিক্ষা সম্মেলন (১-২ নভেম্বর, ২০১৭, মস্কো)  

  

15.    ব্রিক্‌স-এর মানব স্বাস্থ্য ও স্নায়ুবিজ্ঞান সহ জৈবপ্রযুক্তি এবং জৈবচিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কিত কর্মীগোষ্ঠীর বৈঠক (১৫-১৬ নভেম্বর, ২০১৭, মস্কো)  

  

16.    বার্ধক্যের সমস্যা বিষয়ে আলোচনার জন্য ব্রিক্‌স বৈঠক  

  

যে সমস্তপ্রস্তাব সম্পর্কে পুনরায় আলোচনা-বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে  

  

1.    নৌ-সহযোগিতা  

  

2.    সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে প্রকল্প রূপায়ণের লক্ষ্যেপ্রয়োজনীয় তহবিল গঠন সম্পর্কিত বৈঠক  

  

3.    ব্রিক্‌স-এর আওতায় জ্বালানি সম্পর্কিত বিষয়ে সহযোগিতাপ্রসারের লক্ষ্যে এক বিশেষ মঞ্চ গঠন  

  

4.    ব্রিক্‌স-এর দূরসংবেদী উপগ্রহ উৎক্ষেপণ সম্পর্কিত আলোচনা-বৈঠক  

  

5.    জিয়ামেন-এ ব্রিক্‌স-এর কাস্টম্‌স প্রশিক্ষণ কেন্দ্রস্থাপন সম্পর্কিত আলোচনা-বৈঠক  

  

6.    ব্রিক্‌স সংস্কৃতি পরিষদ গঠন  

  

7.    ব্রিক্‌স আঞ্চলিক পরিষদ গঠন  

  

8.    পর্যটন সহযোগিতা  

  

9.    আঞ্চলিক পর্যায়ে বিমান পরিবহণ প্রসারের লক্ষ্যেকর্মীগোষ্ঠী গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা  

  

       

PG /SKD/ SB/DM…