Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

ঝাড়খন্ডের খুঁটি জেলা আদালতের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

ঝাড়খন্ডের খুঁটি জেলা আদালতের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

ঝাড়খন্ডের খুঁটি জেলা আদালতের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

ঝাড়খন্ডের খুঁটি জেলা আদালতের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

ঝাড়খন্ডের খুঁটি জেলা আদালতের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ


আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা,

আমার মনে হয়, আজ নতুন ইতিহাস রচিত হচ্ছে। ভারতের ইতিহাসে আদালত সংশ্লিষ্ট কোনও কর্মসূচিতে এর আগে কোথাও এতো জনসমাগম হয়নি। সাধারণত, আদালত চত্বরে কালোকোট পরিহিত মানুষজনের সমাগম হয়। কিন্তু, আজ যে পরিবেশ আমি দেখতে পাচ্ছি, তা অসাধারণ। আমি ঝাড়খন্ড’কে অভিন্দন জানাই। যাঁরা এখানে উপস্থিত হয়েছেন, বিপুল সংখ্যায় আগত মা ও বোনেদের প্রত্যেককে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।

আজ ২ অক্টোবর। মহাত্মা গান্ধী এবং লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর মতো মহাপুরুষদের জন্মদিন। কিছুদিন আগে তাসখন্দ যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম। সেখানেই ভারতমাতার সন্তান লাল বাহাদুর শাস্ত্রী শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন। সেখানে এবার গিয়ে লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর প্রস্তরমূর্তির আবরণ উন্মোচনের সৌভাগ্য হয়েছে। সম্প্রতি ভারত, ১৯৬৫ সালের যুদ্ধ বিজয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করেছে। সেই বিজয়পর্ব উদযাপনের সময়ে দেশ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী যাঁর নেতৃত্বে দেশের সেনাবাহিনী নিজের পরাক্রম দেখিয়েছিল, সেই লাল বাহাদুর শাস্ত্রীকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছে।

আজ শ্রদ্ধেয় বাপুর জন্মজয়ন্তী। আপনারা শুনলে অবাক হবেন, এই অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ আমি লুফে নিয়েছিলাম। বিচারপতি জি.এন. প্যাটেল আমাকে ফোনে বলেছিলেন যে, আমরা এ ধরনের কাজ করেছি। আমি তৎক্ষণাৎ আজকের দিনে এখানে আসার সম্মতি জানিয়েছিলাম। গান্ধীজি নিজেও প্রকৃতিপ্রেমী ছিলেন। সারা জীবন তাঁর সাদামাটা জীবনযাপনের মাধ্যমে প্রকৃতিকে কিভাবে রক্ষা করা যায়, তার পথ দেখিয়েছেন। আপনারা হয়তো আমার নিজের আগ্রহে এখানে আসার খবর শুনে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। বিশেষ করে, সংবাদ মাধ্যমের বন্ধুরা হয়তো ভেবেছিলেন, আজ অনেক মশলা পাবেন। দেশের প্রধানমন্ত্রী একটি জেলা আদালতে চলে আসছেন, এ কেমন প্রধানমন্ত্রী, যিনি ১৭৫ গিগাওয়াট পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির স্বপ্ন দেখেন, তিনি কেবলমাত্র ১৮৫ কিলোওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধনের জন্য খুঁটি পৌঁছে যান। কিন্তু, আমি গান্ধীজির জন্মজয়ন্তী থেকে প্রেরণা নিয়ে আজ এখানে পৌঁছে গেছি। তিনি তো গোটা বিশ্বেরই প্রেরণা পুরুষ।

সম্প্রতি রাষ্ট্রসঙ্ঘের শীর্ষ সম্মেলনে গিয়েছিলাম। অধিকাংশ সময় প্রায় প্রত্যেক রাষ্ট্রনেতা পরিবেশ নিয়ে কথা বলছিলেন। বিশ্ব উষ্ণায়নের সঙ্কট, অনিশ্চিত বর্ষা, সমদ্র স্তর বৃদ্ধি, ছোট ছোট দেশগুলি ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা – এই বিষয়গুলি নিয়েই অধিকাংশ আলোচনা হয়েছে। কিন্তু আমি আজ ১২৫ কোটি ভারতবাসীর পক্ষ থেকে গোটা বিশ্বকে বলতে চাই যে, এই সঙ্কটের জন্য আমরা দায়ী নই। ভারতবাসী এই পাপের ভাগীদার নয়। আমাদের পূর্বজরা কোনও দিনই আমাদের প্রকৃতি বিনাশের পথ দেখাননি। কিন্তু, পাপ যারাই করে থাকুন না কেন, ভুল যারাই করে থাকুন না কেন, মানবসভ্যতাকে রক্ষা করার জন্য ভারতকেও সক্রিয় হতে হবে। এই মহাযজ্ঞে আমরাও অংশগ্রহণ করবো। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণে আমি আজ এখানে এসেছি। গুজরাট কিংবা রাজস্থান যদি সৌরশক্তি উৎপাদনের পথে এগোয়, তা হলে কেউ তেমন অবাক হবেন না। কারণ, তাঁদের কাছে কোনও কয়লা সম্পদ নেই। কিন্তু, ঝাড়খন্ডে কয়লার ভান্ডার রয়েছে, সেখানকার মানুষ যখন সৌরশক্তি উৎপাদনে উৎসাহ দেখান, তা গোটা বিশ্বের কাছে এক নতুন বার্তা পৌঁছে দেয়। আমি ভারতের খুঁটি নামক একটি ছোট্ট জেলা সদর থেকে বলছি, যে রাজ্যের অধিকাংশ মানুষ আমার আদিবাসী ভাই-বোন, যাঁরা শতাব্দীর পর শতাব্দীকাল ধরে অরণ্যকে রক্ষা করে এসেছেন, তাঁদের কাছে কয়লার ভান্ডার থাকা সত্ত্বেও তাঁরা সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে উৎসাহী। আমি সেজন্য বিশেষ রূপে ঝাড়খন্ড’কে অভিনন্দন জানাতে এসেছি।

আরেকটি কারণ হল – আমি যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম, তখন প্রতি বছর সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের একটি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রিত হতাম। সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা আসতেন, সমস্ত হাইকোর্টের বিচারপতিরাও আসতেন। প্রধানমন্ত্রী এসে উদ্বোধনের পর চলে গেলে, আমরা সারা দিন ধরে আলাপ-আলোচনা করতাম, প্রতিটি রাজ্যের বিচারালয়গুলিতে কতো মামলা অমীমাংসিত রয়েছে, কেমন করে দ্রুত সেই মামলাগুলির নিষ্পত্তি করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হতো। এখানে আমাদের প্রদীপ ভট্ট সাহেব বসে রয়েছেন, তিনি তখন রেজিস্টার ছিলেন, তিনিও সেই আলোচনায় থাকতেন। সেখানেই একবার একজন হাইকোর্টের বিচারপতি তাঁর বক্তব্যে আমাদের সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন। অমীমাংসিত মামলা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, তাঁর রাজ্যের আদালতগুলিতে সপ্তাহে দু-এক দিনই বিদ্যুৎ থাকে, তাও মাত্র দু-তিন ঘন্টার জন্য। আর আমাদের আদালতের ঘরগুলি অন্ধকার থাকে। বিদ্যুৎ এলে তবেই আমরা আদালতের কাজ করতে পারি। সেজন্য মানুষ ঠিক সময়ে বিচার পান না। আমি চমকে উঠেছিলাম। স্বাধীনতার এতো বছর পরও আমার দেশের আদালতে বিদ্যুতের অভাবে অসংখ্য সাধারণ মানুষ ন্যায়-বিচারের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন! ঝাড়খন্ডের বিচারকরা এই সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করায় তাঁদেরকে অভিনন্দন জানাতে আমি এখানে এসেছি। সৌরশক্তিতে এই আদালতের কক্ষগুলি উজ্জ্বল হয়ে উঠলে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি দ্রুত ন্যায়-বিচারের ক্ষেত্রেও এক নতুন বাতায়ন খুলে গেল।

জানি না আপনারা খবরের কাগজে পড়েছেন কি না, কিছুদিন আগে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের খবরের কাগজগুলিতে একটি খবর ছাপা হয়েছিল, টিভিতেও প্রচার হয়েছিল, কয়েকটি চ্যানেল দেখিয়েছিল যে, কেরলের কোচি বিমানবন্দর পৃথিবীর সর্বপ্রথম সম্পূর্ণ সৌরশক্তি চালিত বিমানবন্দর হিসেবে সফলভাবে কাজ শুরু করেছে। এই মাস দু-য়ের আগের কথা। এ মাসের গোড়ার দিকেই আমি ফরিদাবাদ থেকে দিল্লি মেট্রোরেল লাইন উদ্বোধন করতে গিয়েছিলাম। ঐ রেলপথে সবকটি স্টেশন, সৌরশক্তি-চালিত স্টেশন হিসেবে কাজ শুরু করেছে। আমার কাছে এগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খবর। আপনারা যদি বৈষ্ণোদেবী যান, তা হলে দেখবেন, সর্বশেষ রেল স্টেশনটির কাজকর্ম সৌরশক্তির মাধ্যমে চলছে। আর আজ দেশের প্রথম আদালত হিসেবে খুঁটি জেলা আদালত পূর্ণ রূপে সৌরশক্তি-চালিত আদালত হিসেবে কীর্তি স্থাপন করলো। এর মাধ্যমে আপনারা জাতির জনক’কে সর্বোত্তম শ্রদ্ধাঞ্জলি জানালেন।

আমাদের দেশে শাস্ত্রগুলিতে এসব বিষয় নিয়ে হাজার হাজার বছর ধরে অনেক কথা লেখা হয়েছে। পাঁচ হাজার বছর পূর্বে ঋগ্বেদে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা লেখা হয়েছে ‘সূর্য আত্মা জগতাস তথুষ’ অর্থাৎ, ভগবান সূর্য ‘চল’ এবং ‘অচল’-এর আত্মা। এতদিন পর বিশ্ববাসী সেই সৌরশক্তির ব্যবহার নিয়ে ভাবছেন। ভারত এখন ১৭৫ গিগাওয়াট পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎপাদনের স্বপ্ন দেখছে। এমনিতে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে সমস্ত হিসাব-নিকাশ মেগাওয়াটে করা হয়। এই প্রথমবার দেশ গিগাওয়াটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্বপ্ন দেখছে। এটা আমার স্বপ্ন, আগামী ২০২২ সালে যখন দেশ স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তি উদযাপন করবে, ততদিনে আমরা ১৭৫ গিগাওয়াট পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎপাদনে সক্ষম হবো। এই স্বপ্নের কথা শুনে বিশ্ব আশ্চর্যচকিত। গোটা বিশ্ব আমাদের অভিনন্দন জানাচ্ছে। তাদের বিশ্বাস, এই অভিযান আগামীদিনে পরিবেশকে রক্ষা করবে।

আমি আরেকবার এই গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার জন্য ঝাড়খন্ড’কে অভিনন্দন জানাই। ঝাড়খন্ডের নাগরিকদের আমি একটি কথা বলতে চাই। বলবো? আমার কথা শুনবেন? সবাই যদি বলি বলেন, আমার কথা শুনবেন, তা হলেই বলবো, মা ও বোনেরা আমার কথা শুনে চলবেন? আপনারা কী চান যে আপনাদের বিদ্যুতের বিল কম আসুক? আপনারা কী পয়সা বাঁচাতে চান? যে পয়সা বাঁচবে সে পয়সা দিয়ে শিশুদের দুধ খাওয়াতে চান? এর একটা সমাধান রয়েছে বিজ্ঞানের একটি নতুন আবিষ্কার হল – এল.ই.ডি. বাল্ব। একটু দাম বেশি কিন্তু এগুলি ব্যবহার করলে আপনার বিদ্যুতের খরচ অর্ধেক হয়ে যাবে, বিদ্যুৎ-ও সাশ্রয় হবে। সেজন্য আমি সারা দেশে এল.ই.ডি বাল্ব লাগানোর অভিযান শুরু করেছি। আপনারাও সেই অভিযানে সামিল হোন। মানবসভ্যতাকে রক্ষা করার জন্য বিদ্যুতের সাশ্রয় জরুরি হয়ে উঠেছে। আমরা যদি সকল প্রাকৃতিক শক্তির উৎসগুলি শেষ করে দিই, তা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কী রেখে যাবো। এগুলি আমাদের পরিশ্রমের উপার্জন নয়। গাছপালা, নদীর নির্মল জল – এগুলি আমাদের উপার্জন নয়। আমাদের ঠাকুরদা-ঠাকুমা এবং তাঁদের পূর্বপুরুষরা এগুলি আমাদের জন্য রেখে গেছেন। তাঁদের পুণ্যের ফল আমরা ভোগ করছি। আমাদের পুণ্যের ফলও পরবর্তী প্রজন্মের কাজে লাগা উচিত। এই দায়িত্ব আমাদের সকলের। আমার বিশ্বাস, দেশের মানুষ এ বিষয়ে সচেতন হবেন।

আজ পূজনীয় বাপুর জন্মজয়ন্তী। তিনি নিজেও ব্যারিস্টার ছিলেন, সারা জীবন সাধারণ মানুষের ন্যায়-প্রাপ্তির জন্য লড়াই করে গেছেন। তাঁর জন্মজয়ন্তীতে আজ একটি আদালত সম্পূর্ণরূপে সৌরশক্তি-চালিত আদালত হিসেবে কাজ শুরু করলো।

অনেক অনেক শুভেচ্ছা। অনেক অনেক ধন্যবাদ।

PG/SB/SB/