পিএমইন্ডিয়া
নয়াদিল্লি, ০৭ এপ্রিল, ২০১৫ ভাই ও বোনেরা, আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাই। দু-দিন ধরে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এই মন্থন থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসবে যা পরবর্তী সময়ে নীতি বা নিয়মের রূপ ধারণ করতে পারে আর সেজন্যই আমরা যত বেশি একটি সুদূরপ্রসারী দৃষ্টি নিয়ে এই আলোচনায় অংশগ্রহণ করব দু-দিনের সম্মেলন বেশি সার্থক করতে। এই বিষয়ে আজ কিছু মনের কথা বলতে ইচ্ছে করছে। আবহাওয়া সম্পর্কে বা পরিবেশ সম্পর্কে বিশ্বের সামনে গোড়া থেকেই আমাদের কিছু ভ্রান্তি প্রকাশিত হয়েছে, যা থেকে এমন মনে হয় যেন আবহাওয়া নিয়ে আমরা কোনও চিন্তাভাবনা করি না, পরিবেশ সম্পর্কেও পরোয়া করি না। এই ভ্রান্তির ফলে সমগ্র পরিবেশ সচেতন বিশ্ব এটা ধরে নেয় যে পৃথিবীর অন্যান্য দেশ যখন আবহাওয়া নিয়ে চিন্তা করছে ভারত তখন বাধা দিচ্ছে এর মূল কারণ এই নয় যে আমরা পরিবেশ বিগড়াতে কোনও নক্কারজনক ভূমিকা পালন করছি, আবহাওয়াকে ধ্বংস করতে আমাদের বা আমাদের পূর্বজদের কোনও ভূমিকা রয়েছে। বাস্তবে এর উল্টোটা ঘটছে। আমরা সেই পরম্পরা, সেসব নীতি, নিয়ম এবং বন্ধনের মধ্যে লালিত-পালিত মানুষ, যেখানে ধরে প্রকৃতিকে পরমেশ্বর রূপে মানা হয়, পুজো করা হয় এবং প্রকৃতি রক্ষাকে মানবিক সমবেদনার সঙ্গে জুড়ে রাখা হয়। কিন্তু বহু বছর ধরে দাসত্বের কারণে, দুশো বছর ব্রিটিশের অধীনে দাসত্বের ফলে আমাদের এমন মানসিকতা তৈরি হয়েছে যে নিজেদের কথা বিশ্বের সামনে প্রকাশ করতে আমরা সঙ্কোচ বোধ করি, মনের কথা খুলে বলতে পারি না। এ রকম মনে হয় যে এগিয়ে থাকা বিশ্বের কাছে আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের মানুষ উপহাসের বিষয় হয়ে পড়ব না তো? যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের মনে আত্মবিশ্বাস বাড়বে না, হয়তো এই বিষয়ে আমরা সঠিকভাবে বোঝাতে পারব না বিশ্বের মানুষকে। আজ এই সভাগৃহে উপস্থিত সমস্ত শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিদের আমি সাগ্রহে বলতে চাই যে আমরা প্রকৃতি সম্পর্কে যতটা সংবেদনশীল, বিশ্ব আমাদের সামনে কোনও রকম প্রশ্নচিহ্ন দাঁড় করাতে পারবে না। আজও ব্যক্তি প্রতি কার্বন নিঃসরণে আমাদের অংশগ্রহণ সবথেকে কম। কিন্তু তারপর পৃথিবীতে যখন পরিবেশ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা শুরু হয়েছে, ভারতের উচিত ছিল সবার থেকে এগিয়ে এই চিন্তাভাবনায় নেতৃত্ব দেওয়া। কারণ, বিশ্বের অধিকাংশ দেশের পরিবেশ নিয়ে চিন্তার মূল সুর অন্যদের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা, যেখানে আমরা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে প্রকৃতি রক্ষার মাধ্যমেই জীবনপথে এগিয়ে যাওয়ার পক্ষপাতী। পৃথিবী আজ আবআওয়া নিয়ে যে সঙ্কটের মুখোমুখী, বিশ্ব উষ্ণায়ণের এর সঙ্কটের সম্মুখীন, এখনও বাঁচার পথ খুঁজে পাওয়া যায়নি, কেন না তাঁরা বহির্মুখী প্রয়াস চালাচ্ছেন। আর আমি অনেকবার বলেছি এই সমস্যার মূলে রয়েছে কার্বন নিঃসরণ। এই কার্বন নিঃসরণকে বন্ধ করার জন্যে আমরা অনেক নীতি-নিয়ম সৃষ্টি করছি, বিশ্বে একটি বন্ধনের লক্ষ্যে আমরা এগিয়ে চলেছি, কিন্তু আমরা নিজেদের জীবনশৈলী বদলাতে প্রস্তুত নই। সমস্যার মূলে মানুষের ভোগবাদ, অধিক উপভোগের পথে এগিয়ে যাওয়া আর যেসব দেশে উপভোগের সংস্কৃতি ও পরম্পরা রয়েছে, সেখানেই প্রকৃতি সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়, যেখানে উপভোগের প্রবণতা কম, সেখানে প্রকৃতির শোষণও কম হয় আর সেজন্যে আমরা যতক্ষণ নিজেদের জীবনশৈলী সম্পর্কে গুরুত্ব আরোপ করব না আর পৃথিবীতে এই একটি বিষয়কে কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসতে পারব না বাকি সমস্ত প্রয়াস থাকা সত্ত্বেও, এই অনেক এগিয়ে থাকা দেশগুলির পক্ষেও তা মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে উঠবে। ওরা মানুক আর না মানুক আমরা তো এসব ভাবনাচিন্তার মধ্যেই লালিত-পালিত মানুষ, আমাদেরকে আবার সেসব কথা ভুলিয়ে দিতে চাইলে আমাদের উচিত তা নিয়ে বিশ্লেষণ করা। উদাহরণস্বরূপ বলি, আজকাল বিশ্বে পুনর্নবীকরণ বা ‘রিসাইকল’ নিয়ে অনেক ভাবনাচিন্তা চলছে। এটি একটি নতুন বিজ্ঞান, নতুন ব্যবস্থা। একটু নিজেদের দিকে তাকান। ‘রিসাইকল’, রিইয়ুজ’ আর আমাদের ন্যূনতম ব্যবহারের স্বভাবের দিকে তাকান। আগেকার দিনের ঠাকুমা-দিদিমারা বাড়ির জামাকাপড় পুরোনো হয়ে গেলে সেগুলি দিয়ে রাতে বিছানায় পাতার কাঁথা কিংবা গদি বানাতেন। অনেকদিন ব্যবহারের পর সেই কাঁথা কিংবা গদি ছেঁড়া কাপড় ঘর মোছার জন্যে বের করে দিতেন। তার মানে প্রত্যেক জিনিসকে কেমন করে ‘রিসাইকল’ করতে হবে তা আমাদের সহজ পরম্পরার মধ্যে রয়েছে। এটাই আমাদের সহজ প্রকৃতি। গুজরাটের মানুষ আম খেলে, আমেরও এত ‘রিসাইকল’ করে ‘রিইয়ুজ’ করে যে বাইরের মানুষ তা কল্পনাও করতে পারবে না। এসব বলার তাৎপর্য এই যে এই অভ্যাস আমাদের বাইরে থেকে ধার করা নয়। কিন্তু আমরা আগ্রহ দেখিয়ে বাইরের মানুষের কাছে বোঝাতে যাইনি। পৃথিবীর সামনে আমরা নিজেদের কথা সঠিকভাবে পরিবেশন করতে পারিনি। আমাদের এখানে বৃক্ষে পরমাত্মার বসবাস। জগদীশ চন্দ্র বসু গবেষণাগারে বৈজ্ঞানিক আবিস্কারের মাধ্যমে গাছের প্রাণ আছে একথা প্রমাণ করার পরই আমরা একথা মেনে নিয়েছি, তা নয়। আমরা তো হাজার হাজার বছরে ধরে একথা মেনে আসছি, আমাদের গীতা-মহাভারতেও বৃক্ষে পরমাত্মার বসবাসের কথা বলা হয়েছে। গাছ পুজো, গাছের সংরক্ষণ এসব বিষয় পরম্পরাগতভাবেই আমাদের সামাজিক জীবনের অঙ্গ। পরবর্তী সময়ে কালের যাত্রার ধ্বনি আমাদের ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে পথ অন্বেষণের প্রেরণা দিয়েছে। এখানে অনেক নগর প্রশাসক বসে আছেন …… কখনও আমার মনে প্রশ্ন জাগে, আমরা কেমন করে পারম্পরিক পদ্ধতিতে আধুনিক নাগরিক সমস্যাগুলির মোকাবিলা করব? এখন আমি যা বলব তা শুনে পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত মানুষ হয়তো ৪৮ ঘন্টা ধরে তা নিয়ে উপহাস করবেন। খুব ঠাট্টা করবেন, আপনারাও টিভিতে দেখে খুব আনন্দ পাবেন, কেননা ভিন্ন দৃষ্টিকোণ যে! তবু আমি বলছি, আপনাদের মধ্যে যাদের গ্রামে জন্ম, কিংবা যারা গ্রামের সঙ্গে কোনওভাবে জুড়ে আছেন, তারা নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে আমার কথা ভালভাবে বুঝতে পারবেন। গ্রামে পূর্ণিমার রাতে ঠাকুমা-দিদিমারা ছোটদের চাঁদের আলোয় ছুঁচের মধ্যে সুতো পরানোর অভ্যাস করান, দৃষ্টিমান শিশুদের মনে চাঁদের আলোর অনুভূতি সঞ্চারের এই চেষ্টা আমাদের পরম্পরায় রয়েছে। আজ যদি নতুন প্রজন্মকে জিজ্ঞেস করা হয়, তা কি জ্যোৎস্নার আলো দেখেছেন? পূর্ণিমার রাতে পথে বেরিয়েছেন? প্রকৃতির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কমে গিয়েছে। আমাদের নগর প্রশাসকরা যদি ঠিক করেন, নাগরিকদের বুঝিয়ে দেন যাতে পূর্ণিমার রাতে রাস্তার আলো না জ্বালায়, সে রাতে চাঁদের আলোয় পুরো শহরে উৎসব পালন করা হবে, পাড়ায় পাড়ায় ছুঁচে সুতো পরানোর প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন, একটি সার্বজনিক অনুষ্ঠান হবে, আনন্দ উৎসব হবে আর পরিবেশ দূষণও কমবে। নগর প্রশাসকরা, কল্পনা করুন মাসে একবার পূর্ণিমার রাতে রাস্তার আলো না জ্বালালে কতটা বিদ্যুৎ বাঁচবে? কতটা বিকিরণ আমরা কমাতে পারব? কার্বন নিঃসরণের হিসেব লাগালেও দেখবেন, এমনকি যারা নিজেদের শিক্ষিত আধুনিক মানুষ বলে ভাবেন তাদের কাছেও এটি নতুন উদ্ভাবন বলে মনে হবে, কিন্তু এটা আমাদের গ্রামে দিদিমা-ঠাকুমারা নিছকই ছুঁচে সুতো পরানোর গল্প বলে বোঝাতেন, আরে, পুরোনো দিনের মানুষের কি বুদ্ধি ছিল না? দেশ অনেক বদলে গেছে। না জানি কে কোন্ কথার কী মানে বের করে ফেলবেন। আমি এটা বলছি না যে প্রত্যেকেরই সাইকেল কেনা উচিত, কিন্তু এটা তো ভাবতেই পারেন যে একদিন এ ধরণের কোনও বাহন চড়লে জ্বালানি বাঁচাবো। নিজের সুবিধা মতো দিনে এমনটি করলে আমি যে জীবনশৈলীর কথা বলছি পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে আমরা প্রত্যেকেই বড় অবদান রাখতে পারি। একটি চেষ্টা করলে অনায়াসেই আমরা তা করতে পারি। আমি একজন শিক্ষককে দীর্ঘদিন ধরে চিনি। আমি যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম, প্রায়ই বিভিন্ন পিছিয়ে পড়া এলাকাগুলিতে যেতাম, যেসব অঞ্চল কন্যাসন্তানদের শিক্ষিত করার ক্ষেত্রেও পশ্চাদপদ। জুন মাসে ৪০-৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমানে আমি সে ধরণের গ্রামগুলিতে গিয়ে তিন-চারদিন থাকতাম। যতদিন মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম নিয়মিত যেতাম। একবার আমি সমুদ্র তটবর্তী একটি গ্রামে গিয়েছি, একটিও গাছ নেই, পুরো গ্রামে একটিও গাছ দেখতে পাইনি, কিন্তু গ্রামের বিদ্যালয়টি যেন একটি তপোবন। ঘন জঙ্গলের মধ্যে একটি ছোট্ট কুড়ে ঘরে সেই বিদ্যালয়। আমি অবাক। আমি গিয়ে জিজ্ঞেস করি, এটা কেমন করে সম্ভব হল, চারপাশে দূর-দূরান্তে কোনও গাছ দেখা যাচ্ছে না, অথচ বিদ্যালয়টি বেশ সবুজ! তখন সেই শিক্ষক বললেন, তাঁর অভূতপূর্ব চেষ্টার কথা। তিনি কী করেছেন – যেখানে যত খালি বিসলারি বা খনিজ জলের বোতল পেতেন সেগুলি সংগ্রহ করতেন, পেট্রোল পাম্প থেকে তেলের খালি ডাব্বা সংগ্রহ করতেন। সেগুলি নিজের হাতে বালি দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করে ছাত্রদের হাতে তুলে দিয়ে বলতেন, বাড়িতে মাকে বলবি রান্নাঘরে বাসন ধোয়ার পর এঁটো জলটা ফেলে না দিয়ে এই পাত্রে ভরে দিতে। ছাত্ররা প্রতিদিন পাত্র ভরে সেই নোংরা জল নিয়ে স্কুলে এসে প্রত্যেকের জন্য নির্ধারিত একটি গাছের গোড়াতেই ঢালতো। এভাবেই অদ্ভূত উপায়ে জল ও জৈব সারের জোগান দিয়ে তিনি একটি বৃক্ষ শূন্য শুষ্ক পরিবেশে একটি ছোটখাটো মরুদ্যান বা তপোবন বানিয়ে ফেলেন। উদাহরণটি দেওয়ার তাৎপর্য হল আমাদের সহজাত স্বভাবকে আমরা কিভাবে প্রেরণা জোগাতে পারি বা জোগানো উচিত। আমি একবার ইসরায়েল গিয়েছিলাম, ইসরায়েলের বৃষ্টিহীন মরু অঞ্চলে প্রতিটি জলকনাকে কিভাবে উপযোগী করে তোলা হয়, জলকে কিভাবে ‘রিসাইকল’ করা হয়, সমুদ্রের জলকে কিভাবে মিষ্টি জলে রূপান্তরিত করা হয়, এসব বিষয় নিয়ে তাঁরা অনেক গবেষণা করেছেন। অনেক উন্নতি করেছেন। ইসরায়েলের অনেকটা অংশকে ইতিমধ্যেই শস্যশ্যামলা করে তুলেছেন তারা। আবার অনেকটা অংশে এখনও মরুভূমি রয়েছে। ইসরায়েলের রাষ্ট্রপিতা রূপে যাঁকে মানা হয়, সেই বেন গুরিয়নের সমাধি দর্শনে গিয়েছিলাম। আমার অনুরোধে সাড়া দিয়ে সেখানকার সরকার থেকে আমাকে তিনি যেখানে থাকতেন সেই মরু অঞ্চলেও ঘুরতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে গিয়ে দুটো দৃশ্য আমার মন ছুঁয়ে যায়। প্রথমটি হল, বেন গুরিয়নের শয়নকক্ষে মহাত্মা গান্ধীর ছবি। তিনি প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে মহাত্মা গান্ধীর প্রতিকৃতিকে প্রণাম জানিয়ে কাজ শুরু করতেন। আর দ্বিতীয়টি হল, বেন গুরিয়নের সমাধিতে প্রস্তর অর্ঘ্যের ব্যবস্থা। সমাধির কাছেই একটি টুকরিতে অনেক নুড়ি-পাথর রাখা থাকে। বেন গুরিয়নের ইচ্ছা অনুসারেই এই ব্যবস্থা। দর্শনার্থীরা ঐ টুকরি থেকে একটি নুড়ি হাতে নিয়ে সমাধির উপর রেখে শ্রদ্ধা জানান। সন্ধ্যে নাগাদ সেখানকার কর্মীরা ঐ নুড়িগুলি একত্রিত করে আবার টুকরিতে রেখে দেন। এভাবেই তাঁর সবুজ রক্ষা করেন, ফুল-ফল নষ্ট হতে দেন না। আমরাও এ ধরণের অনেক কিছু করতে পারি। আমাদের বিদ্যালয়গুলিতে এমন পরিবেশ তৈরি করে শিশুদের মনে প্রকৃতি রক্ষা, প্রকৃতি পুজো, প্রকৃতি সংরক্ষণের সহজ মানবিক বোধকে লালন করতে পারি। আমরা তো সেই মানুষ যাদের ‘ব্যেন তক্তেন মুঞ্জিতা’ – এটাই জীবনের আদর্শ ছিল। সেজন্য প্রকৃতিকে শোষণের কোনও অধিকার আমাদের নেই। প্রকৃতিকে দোহন না করে প্রকৃতির উপযোগী হয়ে বাঁচা। প্রকৃতিকে দুরোপযোগের কোনও অধিকার আমাদের নেই। পৃথিবীতে প্রকৃতিকে শোষণের প্রবৃত্তি রয়েছে, ভারতে প্রকৃতিকে দোহন করতে আমাদের সংস্কারে বাধে। সেজন্যই বিশ্বকে বর্তমান সঙ্কট থেকে বাঁচানোর লড়াইয়ে ভারতেরই নেতৃত্ব দেওয়া উচিত। একথা মাথায় রেখেই ভারতে সমস্ত পরিকল্পনা রচনা করা উচিত। বিশ্ব আবহাওয়া পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আমাদের পথ দেখাবে, প্যারামিটার তৈরি করে দেবে আর আমরা সেগুলি মেনে চলব, এটা মেনে নেওয়া যায় না বাস্তবে। আমাদের হাজার হাজার বছরের যে ঐতিহ্য রয়েছে, আমরা বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে পারি, পথ দেখাতে পারি আর সেই সঙ্কট থেকে মুক্তি পাওয়ার পথ প্রশস্ত করতে পারি। এই বিশ্বাস নিয়ে আমরা এই সম্মেলন থেকে বেরোতে পারি। এভাবেই আমরা বিশ্বের তথা মানবতার সেবা করতে পারি। সেই লক্ষ্যে, আমরা নিজেদের ব্যবস্থায় যে ধরনের সময়োপযোগী পরিবর্তন আনা উচিত, যে ধরনের সংস্কার করা উচিত, তা করব। যেমন এখন আমি একথা তো বলব না যে …… আচ্ছা, কেউ কেউ মনে করেন পরিবেশ রক্ষণ এবং উন্নয়ন পরস্পর বিরোধী ব্যাপার। এই চিন্তার গোড়ায় গলদ রয়েছে। দুটোকেই পাশাপাশি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। কিছু “ডু’স অ্যান্ড ডোন্ট’স” রয়েছে, সেগুলি পালন করলেই তা সম্ভব। যেমন আমরা সম্প্রতি কয়লা খনিগুলির নিলাম করেছি, পাশাপাশি আগে পরিবেশ নিরাপত্তার খাতে যে কর ধার্য করা ছিল তার পরিমাণ চারগুণ বাড়িয়ে দিয়েছি, কারণ এটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রয়োজন থাকলে ব্যবস্থায় এমনই পরিবর্তন আনতে হবে। সঠিকভাবে সংস্কার করলে পরিণাম ভাল হবে। দ্বিতীয়ত, আমাদের এখানে অনেক ভ্রম অনেক গুজব ছড়ানো হয়। এখন জমি অধিগ্রহণ বিল নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এই বিলে কোথাও বনবাসী-আদিবাসী আরণ্যক ভূমি সম্পর্কে একটি শব্দও লেখা নেই। সেই মাটি, তার মালিকানা এই বিলের আওতায় রাখাই হয়নি। তবু এই বিল নিয়েই অষ্টপ্রহর সমালোচনা চলছে। সমালোচকরা হয় বিলের খসড়া ভালভাবে পড়েননি অথবা জেনেশুনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন। আমি মনে করি, সমাজকে বিভ্রান্ত করার এই অপচেষ্টা আপনাদের কাছে সামান্য ব্যাপার, এতে আপনাদের রাজনৈতিক লাভ হতে পারে, কিন্তু দেশের কতটা ক্ষতি হবে! দয়া করে আপনারা আর ভ্রান্তি ছড়াবেন না, সত্যের মাটিতে দাঁড়িয়ে বিতর্কে আসুন, সেই বিতর্কে পক্ষ-বিপক্ষ থাকতে পারে, এতে কোনও দোষ নেই, আমরা সবাই গণতান্ত্রিক দেশের নাগরিক। আপনারা যাকে সত্য বলছেন, তাতে দম নেই, সেজন্য মিথ্যে কথা বলে যাচ্ছেন। এভাবে দেশ চলতে পারে না আর সেজন্যই আমি বিশেষ করে এখানে বন বিভাগের সঙ্গে জড়িত যত মন্ত্রী এবং আমলারা রয়েছেন তাঁদের সামনে স্পষ্ট করে দিতে চাই যে ‘জমি অধিগ্রহণ আইন’ – এর আওতায় দেশের কোনও অরণ্যের ভূমি, আদিবাসীদের ভূমিকে রাখা হয়নি। আমরা জানি সেসব ভূমির সংরক্ষণে পৃথক আইন রয়েছে। সেসব ভূমি ঐ আইনবলে সংরক্ষিত রয়েছে এবং থাকবে। সেজন্য আপনারা কোনও গুজবে কান দেবেন না, নিজেরা বিভ্রান্ত হবেন না, জনসমাজে বিভ্রান্তি ছড়াবেন না। মিথ্যেকে প্রশ্রয় দিয়ে তার শিকার হবেন না। আজ এখানে বলা হয়েছে যে, দেশে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে। শুনে ভাল লাগে। সারা পৃথিবীর প্রায় সমস্ত দেশে বাঘের সংখ্যা কমছে। বিশ্বের মোট বাঘের দুই-তৃতীয়াংশ আমাদের দেশই রয়েছে, যা আমাদের গর্বের বিষয় এবং এই গৌরব মানবিক সংস্কৃতিরও দ্যোতক। এটি থেকেও বিশ্বের সর্বত্র বার্তা যাওয়া উচিত আমরা কী ধরণের মানবিক সংস্কৃতি নিয়ে বাঁচি যার ফলে এত দ্রুত আমাদের দেশে বাঘের সংখ্যা বাড়াতে পেরেছি। দেশের পূর্বাঞ্চল থেকে প্রতিদিন হাতির উপদ্রপের নানা খবর আসে। সম্প্রতি আমি একটি বিজ্ঞান পত্রিকাতেও পড়ছিলাম খুবই মজার কথা যা আপনারাও হয়তো জানেন, যখন ফসলের ক্ষেতে হাতির পাল এসে তছনছ করতে শুরু করে গ্রামের মানুষ তখন দিশেহারা হয়ে পড়ে বন দপ্তরের শরাণাপন্ন হন। বন দপ্তরের লোকেরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গ্রামে পৌঁছে হল্লা করে। কখনও তো দুই-তিনদিন চেষ্টা করে হাতির পালকে তাড়াতে পারেন না। কিন্তু, একটি বিজ্ঞান পত্রিকায় পড়লাম, এক জায়গায় গ্রামের মানুষ হাতির পালের আক্রমণ থেকে বাঁচার একটি প্রাকৃতিক উপায় খুঁজে পেয়েছেন। তারা ক্ষেতের আলে কিংবা গাছে মৌমাছির চাষ শুরু কতরে সুফল পেয়েছেন। সেসব এলাকায় হাতির পাল এলেও মৌমাছির গুঞ্জনে পালিয়ে যায়। আমাদের দেশে আগেও কোথাও এই প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে হাতির আক্রমণ রোখা সম্ভব হয়েছে কি না কে জানে। এসব লিখেটিখে রাখার ব্যাপার তো আর আমাদের গ্রাম দেশে নেই। অথচ এই প্রাকৃতিক উপায়ে হাতির পালের সঙ্গে গ্রামবাসীদের এবং বনকর্মীদের সংঘর্ষ এড়ানো গেলে অনেক ক্ষয়ক্ষতি, অনেক খরচ এড়ানো যায়। পাশাপাশি, হাতিরা যাতে অরণ্যে খাবার খুঁজে পায় সেদিকেও নজর রাখতে হবে। তা হলে আমরা নিরাপদে চাষবাসও করতে পারব আবার হাতি সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারব। আমার বলার তাৎপর্য হল, সমস্ত দেশের মানুষ নানাভাবে প্রাকৃতিক উপায়ে যেসব সমস্যার সমাধান করছে, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে সেগুলির পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনে গবেষণাগারে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আমরা সেগুলি সফলভাবে প্রয়োগ করতে পারি। আজ যখন পরিবেশ রক্ষা নিয়ে কথা হয়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কারখানা আর জ্বালানির প্রসঙ্গ আসে। সেদিক থেকে ভারত ঈশ্বরের আশীর্বাদধন্য দেশ যেখানে সর্বাধিক সূর্যের আলো প্রতিভাত হয়। সেই সূর্যালোককে আমরা কেমন করে সর্বাধিক কাজে লাগাব? এই চিন্তা মাথায় রেখে আমাদের সরকার সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি এবং জৈব শক্তির ক্ষেত্রে সব থেকে বেশি জোর দিয়েছে। একটি মজার কথা, বর্তমানে যেসব দেশ আবহাওয়া আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছে, সবাইকে জ্ঞান দিচ্ছে, তাদেরকে যখন আমরা পরমাণু প্রকল্পগুলিতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলি, কেননা পরমাণুশক্তি পরিবেশ সুরক্ষার সহায়ক শক্তি, তাদের কাছে পরমাণুশক্তি উৎপাদনের জ্বালানি চাইলে তারা তা দিতে নারাজ হন। আমি বিশ্বের সেসব অগ্রণী দেশের নাগরিকদের বিনীত অনুরোধ জানাই, ভারতের মতো দেশ পরিবেশ সুরক্ষার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিতে চাই, অসামরিক পরমাণুশক্তি ক্ষেত্রেও আমরা এগিয়ে যেতে চাই, আপনারা আমাদের পাশে দাঁড়ান। আমরা এখন সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি এবং ‘জৈবসার শক্তি’ ক্ষেত্রে এগিয়ে চলেছি। নগর প্রশাসকদের বলছি, আমরা স্বচ্ছ ভারতের কথা বলি কিংবা পরিবেশ সুরক্ষার কথা বলি, বর্জ্য জল এবং কঠিন বর্জ্য নিষ্কাশনের ব্যবস্থার ক্ষেত্রে আমাদের সাগ্রহে এগিয়ে যাওয়া উচিত। পি.পি.পি. মডেলে বা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে এগিয়ে চলা উচিত। বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ধন উপার্জনের ক্ষেত্রে নতুন নতুন ব্যবসা শুরু হয়েছে। নগর প্রশাসন ওই নতুন উদ্যোগপতিদের উৎসাহ দিয়ে বর্জ্য থেকে ধন উপার্জনের প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি করুন। দেখবেন, বিরাট পরিবর্তন আসবে। আমাদের দেশে পাঁচ শতাধিক শহরে এক লক্ষেরও বেশি মানুষ বসবাস করেন। এত মানুষের বর্জ্য নিষ্কাশনে শহরগুলির বাইরে হাজার হাজার একর ভূমিতে অবর্জনার পাহাড় জমছে। সেগুলিকে সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ব্যবহার করতে পারলে সেসব জমিও আবার চাষের কাজে উপযোগী হবে। পাশাপাশি, বর্জ্য জল নিষ্কাশন ব্যবস্থার মাধ্যমে সেচের কাজে লাগানো গেলে কঠিন বর্জ্য থেকে আসা সারের সংস্পর্শে ঐ পুনরুদ্ধার করা জমিগুলি সোনা ফলাবে। এতে চাষিরা উপকৃত হবেন, শহরের মানুষও তাজা, টাটকা জৈবসার থেকে উৎপন্ন উৎকৃষ্ট শস্য, সব্জি ও ফল পাবেন। জোগান বাড়লে দামও কমবে। দাম কমলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে। ফলে, জনস্বাস্থ্যের উন্নতি হবে। এভাবে সুসংহত দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমের আমরা গ্রাম ও শহর দুটিকেই বাঁচাতে পারব। অজ্ঞানতা আমাদের অনেক ক্ষতি করে। ফসল উৎপাদনের পর – যেমন – তুলো তুলে নেওয়ার পর গাছের বাকি অংশ জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। তা না করে সেগুলি টুকরো টুকরো করে মাটিতে মিশিয়ে দিলে এতে এত জলীয় পদার্থ থাকে যে পরবর্তী তিন মাস সেই জমিতে জলসেচ না করলেও চলে। এভাবে আমরা জলও বাঁচাতে পারি, ফসলও বাঁচাতে পারি। সব ক্ষেত্রে যে আধুনিক কোনও বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে, তা নয়। নাগরিক প্রশাসন সাগ্রহে পি.পি.পি. মডেলে বা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে এতে ‘ভাইব্রেটিং গ্যাপ ফান্ডিং’ – এর পথ বের করতে পারেন। এভাবে যেহেতু রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমবে, আপনারা রাসায়নিক সারের ক্ষেত্রে দেয় ভর্তুকির অর্থ বাঁচাতে পারবেন। আমি আপনাদের আশ্বাস দিচ্ছি যে আপনারা যদি ভর্তুকির অর্থ বাঁচাতে পারেন তা হলে সেই অর্থ আমরা ভাইব্রেটিং গ্যাপ ফান্ডিং খাতে আপনাদের হাতে তুলে দেব। এভাবে দেশের রাজকোষেও ধন বৃদ্ধি ঘটবে। আপনারা জৈবসার প্রকল্প থেকে উৎপন্ন গ্যাস উৎপাদন করতে পারলে, গ্যাস সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে দেয় ভর্তুকি বাঁচবে। ভর্তুকি বাঁচলে সেই অর্থও আমরা আপনাদের হাতে ভাইব্রেটিং গ্যাপ ফান্ডিং – এর জন্য তুলে দেব। এভাবে আমরা একটি মডেল বানিয়ে, ভারত সরকার, রাজ্য সরকারগুলি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে পরিবেশ সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে আমাদের নগরগুলিকে স্বচ্ছ রাখতে পারব। আবর্জনা থেকে ধন উপার্জন করার জন্য প্রস্তুত নতুন শিল্প গড়ার সহায়ক হয়ে কর্মসংস্থান বাড়াতে পারি। আবর্জনা থেকে নির্মিত বিকল্প ইট এত মজবুত হয় যে তা অনেক বড় অট্টালিকা নির্মাণে কাজে লাগে। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির বাইরে আগে যে ছাইয়ের পাহাড় জমে থাকত সেগুলি থেকে নতুন ইট নির্মাণের ঠিকে পেয়ে ঐ নতুন কোম্পানিগুলি দ্রুত ঐ বর্জ্যের পাহাড়কে সরিয়ে দিতে পারছে। তার মানে, এক্ষেত্রেও বর্জ্য থেকে সম্পদ নির্মাণের পথ প্রশস্ত হয়েছে। আমি নিশ্চিত, আপনারা আগামী দু-দিনে এ ধরণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খুব আলোচনা করবেন। ‘গঙ্গা সাফাই’ প্রকল্পের পাশাপাশি গঙ্গার দু-পারে বসবাসকারী মানুষ, গ্রাম ও শহরগুলি এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলির কাছে আমার অনুরোধ, এক্ষেত্রে কোনও সমঝোতায় আসবেন না। ব্যাঙ্কগুলিকে অনুরোধ করব, এসব প্রকল্পের জন্য কম সুদে ঋণের ব্যবস্থা করুন। কিন্তু অনুমোদনের পরই ঋণ দিন যাতে ‘সোয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট’ নির্মাণ নিশ্চিত করা যায়। একবার যদি আমরা আড়াই হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ গঙ্গাকে প্রতিনিয়ত তার জলে মিশতে থাকা প্রদূষণ থেকে মুক্ত করতে পারি তা সমগ্র বিশ্বের সামনে, সমগ্র দেশের সামনে একটি নতুন আস্থার বলয় নির্মাণ করবে। এই আস্থার বলয় নির্মাণের জন্য এই প্রকল্পকে আদর্শ প্রকল্পরূপে গড়ে তুলতে হবে। একবার সফল হলে আমরা সেই সাফল্যকে বজায় রাখার জন্য উঠেপড়ে লাগব। এই আস্থা গড়ে তুলতে হবে এবং তা গড়ে তোলা সম্ভব। একবার হাত ধুয়ে কোনও কিছুর পেছনে পড়ে গেলে তা থেকে সুফল পাওয়া সম্ভব। বিশেষ করে, যে পাঁচটি রাজ্যের উপর দিয়ে গঙ্গা প্রবাহিত হয়েছে সেই রাজ্যগুলিরই দায়িত্ব দুই পারের প্রায় ছয় হাজার গ্রাম আর শতাধিক শহরে প্রায় আটশো কারখানার বর্জ্য যা কিনা গঙ্গার জলকে প্রদূষিত করছে তা-কে লক্ষ্য করে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া, যাতে কোনও আবর্জনা এবং রাসায়নিক বর্জ্য নদীর জলে না মেশে। আপনারা দেখবেন, তা হলেই পরিবর্তন চোখে পড়বে। নিজের জলকে স্বচ্ছ রাখার কিছু ক্ষমতা গঙ্গার নিজেরই রয়েছে। আমরা তাকে আর নোংরা করব না এই সংকল্প নিলে তবেই গঙ্গা নিজেকে পরিষ্কার রাখবে। আজ গঙ্গার দু’পারের রাজ্যগুলির মন্ত্রীরা প্রশাসকদের সঙ্গে বসে ঠিক করে নিন কেমন করে এগিয়ে যাবেন। আমি আরেকবার এই প্রয়াসকে স্বাগত জানাই। আর আমি বিশ্বাস করে আরেকবার বলছি, এটা আমার স্বপ্নের বিষয়, আমাদের ডি.এন.এ.। আমাদের পূর্বজরা মানবজাতির অনেক সেবা করেছেন। পরিবেশ আন্দোলনে বিশ্বের নেতৃত্ব আমাদের হাতেই আসা উচিত। আপনারা এমনভাবে এগিয়ে যান যাতে সমগ্র বিশ্বকে দেখাতে পারি যে এটা আমাদের বিষয়। আমাদের পরম্পরায় এটা রয়েছে। বিশ্বকে আমরা শেখাতে পারব সেই ইচ্ছা ও শক্তি নিয়ে এই সভা থেকে প্রস্থান করছি। আপনাদের অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ।