Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

মুম্বাই-এ দুটি মেট্রোরেল করিডরের ভূমি পূজা এবং

মুম্বাই-এ দুটি মেট্রোরেল করিডরের ভূমি পূজা এবং

মুম্বাই-এ দুটি মেট্রোরেল করিডরের ভূমি পূজা এবং

মুম্বাই-এ দুটি মেট্রোরেল করিডরের ভূমি পূজা এবং

মুম্বাই-এ দুটি মেট্রোরেল করিডরের ভূমি পূজা এবং

মুম্বাই-এ দুটি মেট্রোরেল করিডরের ভূমি পূজা এবং

মুম্বাই-এ দুটি মেট্রোরেল করিডরের ভূমি পূজা এবং

মুম্বাই-এ দুটি মেট্রোরেল করিডরের ভূমি পূজা এবং

মুম্বাই-এ দুটি মেট্রোরেল করিডরের ভূমি পূজা এবং

মুম্বাই-এ দুটি মেট্রোরেল করিডরের ভূমি পূজা এবং

মুম্বাই-এ দুটি মেট্রোরেল করিডরের ভূমি পূজা এবং

মুম্বাই-এ দুটি মেট্রোরেল করিডরের ভূমি পূজা এবং

মুম্বাই-এ দুটি মেট্রোরেল করিডরের ভূমি পূজা এবং

মুম্বাই-এ দুটি মেট্রোরেল করিডরের ভূমি পূজা এবং


মঞ্চে উপবিষ্ট সকল মাননীয় ব্যক্তিবর্গ আর বিপুল সংখ্যায় উপস্থিত প্রিয় ভাই ও বোনেরা,

আজ ১১ অক্টোবর। জয়প্রকাশ নারায়ণের জন্মজয়ন্তী। জয়প্রকাশজীর জন্মজয়ন্তীতে আজ আমি মুম্বাইয়ে বিশেষ করে, বাবাসাহেব আম্বেদকরের স্মারক সৌধ নির্মাণে ভূমি পূজা করার সুযোগ পেয়েছি। ভারতের সংবিধানের জন্মদাতা বাবাসাহেব আম্বেদকর আমাদের জন্য যে গণতান্ত্রিক অধিকারসমূহ নথিভুক্ত করে গেছেন, সেই গণতান্ত্রিক অধিকারগুলির অপব্যবহার করা হলে সেই পাপ থেকে ভারতের সংবিধানের আত্মাকে বাঁচাতে, সংবিধানের মূল উদ্দেশ্যগুলিকে রক্ষা করতে জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে দেশব্যাপী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন জয়প্রকাশ নারায়ণ। সেজন্য এই সুযোগকে আমি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি।

আজ এখানে আমি বেশ কিছু পরিকল্পনার শুভ রূপায়ণের সূত্রপাত করার সুযোগও পেয়েছি। বিশ্বের যে কোনও দেশের বন্দর এলাকা কতটা সমৃদ্ধ তা দেশের সার্বিক সমৃদ্ধির পরিচয় বহন করে। সমুদ্রতটবর্তী দেশগুলি অর্থনীতির অগ্রগতি আর বন্দরের সক্রিয়তা সমানুপাতিক। ভারত’কে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতে নিজের স্থান পোক্ত করতে তার বন্দর ক্ষেত্রকে মজবুত করার প্রয়োজন রয়েছে। বন্দর ক্ষেত্রে প্রসার ও উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে, আধুনিকীকরণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। আজ আমি গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, পূর্ববর্তী ১০ বছরে যা হয়নি, আমাদের নীতিনজী বিগত ১৫ মাসের ক্ষুদ্র পরিসরে তা করে দেখিয়েছেন। তাঁর উদ্যোগে গোটা বন্দর ক্ষেত্র নতুন শক্তি ও গতি পেয়েছে।

সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে অনেক আলাপ-আলোচনা হয়। আজ আমি প্রত্যক্ষ করছি, সিঙ্গাপুরের সঙ্গে মিলিতভাবে ৮ হাজার কোটি টাকার পুঁজি নিবেশ মুম্বাই তথা ভারতের বন্দর ক্ষেত্রে নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে। এর মাধ্যমে শুধু এখানকার মানুষের কর্মসংস্থান নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রও প্রশস্ত হবে। আমার ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র স্বপ্ন সাকার হলে, যাঁরা এদেশে নির্মাণ ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করবেন, তাঁদের উৎপাদিত পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে সওদা করার জন্য উন্নত বন্দর ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন রয়েছে। আমরা যে গতিতে কাজ করছি, তার ফলস্বরূপ দেশে দ্রুত পণ্য উৎপাদনের কর্মযজ্ঞ শুরু হয়ে যাবে। আর সেসব পণ্য বিশ্ব বাজারে রপ্তানি করতে হবে। তাই, আমাদের বন্দর উন্নয়নে পিছিয়ে থাকলে চলবে না।

প্রত্যেক সরকারই কম-বেশি আমাদের দেশের বন্দর উন্নয়নের কথা ভেবেছে। কিন্তু, আজ নিছকই বন্দর উন্নয়ন দিয়ে কাজ চলবে না। আজ প্রয়োজন বন্দর-কেন্দ্রিক উন্নয়ন, বন্দরের সঙ্গে যুক্ত হতে হবে যথেষ্ট পরিকাঠামোর উন্নয়ন ও সুগম যোগাযোগ ব্যবস্থা; রেলপথ, সড়কপথ, বিমানবন্দর, হিমঘর, গুদামঘরের সুষম নেটওয়ার্ক। সেজন্য আমাদের দেশের গোটা সমুদ্রতটকে যুক্ত করতে আমরা একটি সাগরমেলা প্রকল্প হাতে নিয়েছি। শ্রদ্ধেয় অটল বিহারী বাজপেয়ী এই সাগরমেলা প্রকল্পের সূত্রপাত করেছিলেন। কিন্তু, সরকার পরিবর্তনের পর পরবর্তী সরকারের চিন্তাভাবনা অন্য রকম থাকায় এই কর্মযজ্ঞ থেমে ছিল। আমরা সরকারে এসে অটলজীর সেই স্বপ্নকে সাকার করার কাজে হাত দিয়েছি। আমরা যেহেতু সহযোগিতামূলক, প্রতিযোগিতামূলক ‘ফেডেরালিজম’-এ বিশ্বাস করি, আমরা সমুদ্র তীরবর্তী রাজ্যগুলির সহযোগিতায় এই কর্মযজ্ঞকে সম্পন্ন করার প্রয়াস নিয়েছি। সমুদ্রতটবর্তী রাজ্যগুলির মধ্যে ভালো বন্দর নির্মাণ ও বন্দর উন্নয়নের প্রতিযোগিতা হোক। কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতায় রাজ্য সরকারগুলি নিজের রাজ্যে বন্দর ক্ষেত্রে যথাসাধ্য উন্নয়ন করুক। আমরা সেই লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছি, আজকের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনও সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই। পণ্য পরিবহণ ও গুদামজাত করার খরচ কমাতে পারলে লাভের মাত্রা বাড়ে, প্রসারের সুযোগ বাড়ে, মজুরদের সম্মান সহকারে বাঁচার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাদানের অবসর বাড়ে। দরিদ্র মানুষের কল্যাণে উন্নয়নের এই পথ প্রশস্ত করার লক্ষ্যে আজ আমরা নীতিনজীর নেতৃত্বে এগিয়ে চলেছি, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করছি।

ইরানের চাবাহার বন্দর উন্নয়নে ভারত সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে। আমরা মনে করি, আগামীদিনে দুটি ক্ষেত্র আরও প্রভাবশালী হয়ে উঠবে – প্রথমটি সামুদ্রিক আর দ্বিতীয়টি মহাকাশ প্রযুক্তি। একবিংশ শতাব্দীতে এই দুই ক্ষেত্র অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। আর সেজন্যই ভারত মহাকাশ প্রযুক্তি ও সামুদ্রিক ক্ষেত্রে দ্রুত এগিয়ে যেতে চায়।

আমাদের নীতিনজীর কাছে প্রশস্ত পথ রয়েছে। মহারাষ্ট্রে তাঁর কাজ আমরা আগেও দেখেছি। বিগত সরকারের কার্যকালে দেশে প্রতিদিন গড়ে কত কিলোমিটার সড়কপথ নির্মিত হতো, তা নিয়ে আমি আজ আলোচনা করতে চাই না। এ বিষয়ে যাঁরা জানেন, তাঁরা খোঁজ নিলে জানতে পারবেন, আমাদের দেশে প্রতিদিন গড়ে কত কিলোমিটার সড়কপথ নির্মিত হয়। আজ আমি অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে বলতে পারি যে, নীতিনজীর নেতৃত্বে গতি এসেছে, আজ দেশে প্রতিদিন গড়ে ১৫ কিলোমিটার সড়কপথ নির্মাণ সম্পন্ন হচ্ছে। আমরা পরিকাঠামো ক্ষেত্রে জোর দিতে চাই, তাই এই গতি আরও বাড়াতে চাই। সড়ক নির্মাণে টাকা খরচ হয় কিন্তু সড়ক নির্মিত হলে আমদানি বাড়ে, এটাই পথের শক্তি।

আমি শ্রীমান দেবেন্দ্রজী’কে শুভেচ্ছা জানাতে চাই। আমাদের দেশে একটি মেট্রোরেলের ডি.পি.আর. চূড়ান্ত করতে দেড় থেকে দু’বছর লেগে যায়। কিন্তু, তিনি মাত্র চার মাসের মধ্যে এই ডি.পি.আর. চূড়ান্ত করে দিয়েছেন। যাঁরা এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত, তাঁরা জানেন, আমাদের দেশে মাত্র চার মাসে এমনটি আগে কেউ করতে পারেননি। এতো দ্রুত কাজ করার স্বভাব আমাদের নেই। দেবেন্দ্রজী এই স্বভাবকে পেছনে ফেলে পরিবর্তনশীল শহরগুলি উন্নয়নের গতি বাড়ানোর অনুকূলে কাজ করলেন। পরিবেশ-বান্ধব উন্নয়নের ক্ষেত্রে গণ-পরিবহণের বিরাট ভূমিকা রয়েছে। যেভাবে আমাদের শহরগুলি বাড়ছে, এই বৃদ্ধিকে আগে সঙ্কট বলে ভাবা হতো, আর আমি এই প্রসারকে সুযোগ বলে মনে করি। নগর বৃদ্ধিকে আমি বোঝা নয়, অগ্রগতির সুযোগ ভাবি। সেই সুযোগকে মাথায় রেখে আমাদের সকল পরিকল্পনা নির্ধারণ করা উচিত।

আজ আমরা দেশের ৫০টি শহরে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক চালু করার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছি। আমরা রেলে ১০০ শতাংশ সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের দরজা খুলে দিয়েছি। এর পরিণামে আজ দেশি-বিদেশি অনেক সংস্থা রেলে বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। ৪০০-রও বেশি রেল স্টেশন শহরগুলির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। অনেক অব্যবহৃত জমি দখল করে রয়েছে কিন্তু প্ল্যাটফর্ম ছাড়া আর কিছু নেই। টিকিট উইনডো, বিশ্রামাগার আর প্ল্যাটফর্ম। এগুলিকে আমরা বহুতল রেল স্টেশনে পরিণত করতে চাই। শহরের কেন্দ্রস্থলে অব্যবহৃত মূল্যবান জমিতে এই বহুতল নির্মাণের মাধ্যমে আমরা বহুমুখী উন্নয়নের কাজে হাত লাগাতে চাই। নীচ দিয়ে ট্রেন যাবে, ওপরে উন্নয়নের কাজ চলবে।

এই মেট্রোরেলের কাজে হাজার হাজার কোটি টাকা অবশ্যই খরচ হয়, কিন্তু পরিষেবাও অনেক উন্নত হয়। এখনতো প্রযুক্তিও অনেক আধুনিক হয়েছে। সেজন্য সমস্ত প্রক্রিয়ায় গতির সম্ভাবনা বাড়ছে আর সেই সুযোগকে কাজে সঠিকভাবে লাগানোর জন্য শ্রীমান দেবেন্দ্রজী’কে ধন্যবাদ জানাই।

আমাদের সুরেশ প্রভুজী রেল মন্ত্রকেও খুব ভালো কাজ করে দেখিয়েছেন। রেলপথের প্রসার, গেজ রূপান্তরণ, ডিজেল ইঞ্জিন থেকে ইলেক্ট্রিক ইঞ্জিন পরিষেবার রূপান্তরণ – এইসব প্রক্রিয়াগুলি শ্লথ গতিতে চলছিল। আজ গতি এসেছে। সেই গতির সুফলও আমরা পাচ্ছি। বাবাসাহেব আম্বেদকর রেলপথ নেটওয়ার্কের সামাজিক মূল্যাঙ্কন করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সমাজ থেকে অস্পৃশ্যতা দূরীকরণে এবং জাতপাতের ব্যবধান ঘটাতে রেলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সেজন্য তিনি গণপরিবহণ ব্যবস্থার ওপর বেশি জোর দিয়েছিলেন।

আমাদের দেশে কৃষকদের জন্য এতদিনে সেচ ব্যবস্থা যতটা উন্নত হওয়া উচিত ছিল, তা এখনও হয়নি। তাঁদের জীবন এখনও বর্ষা নির্ভর। যথাযথ বর্ষা না হলে তাঁদের জীবনযাপন দূরূহ হয়ে ওঠে। খরার সময় কৃষকদের প্রতি করুণা দেখানো এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অধিক আর্থিক বরাদ্দ দাবি করার যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন তা থেকে বেরিয়ে সমস্যার গোড়ায় গিয়ে সমাধানের অভিনন্দনযোগ্য চেষ্টা করেছেন। আজ তিনি আমাকে বলছিলেন, প্রায় ৬ হাজার ২০০ গ্রামে জল সঞ্চয়ের জন্য ১ লক্ষেরও বেশি ছোট ছোট প্রকল্প নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে, অনেক জায়গায় জলস্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। সেজন্য এবার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি কৃষক রবি ফসল ঘরে তুলতে পারবেন। আর চাষের খরচও কমেছে। প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা খরচ করে এতো বড় কাজ এতো দ্রুত সম্পাদন করা গেছে, এর মধ্যে ৩০০ কোটি টাকা স্বেচ্ছাসেবকদের পারিশ্রমিক দেওয়া হয়েছে। আমি সেসব স্বেচ্ছাসেবকদের অভিনন্দন জানাই, আপনারা দেশকে পথ দেখিয়েছেন।

এহেন সঙ্কটের মোকাবিলায় জল সঞ্চয় একটি বড় উপায়। আমি গুজরাটে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি যে, শুষ্ক ভূমিতে যেখানে বৃষ্টি খুব কম হয়, ১০ বছর ধরে নিয়মিত জল সঞ্চয়ের অভিযান চালিয়ে লক্ষ লক্ষ ছোট ছোট বাঁধ নির্মাণ করে আমাদের কৃষকদের সঙ্কটের মোকাবিলায় শক্তিশালী করে তুলতে পেরেছিলাম। আমি দেবেন্দ্রজী’কে আরও দুটি পরামর্শ দিতে চাই। প্রথমত, আমাদের ক্ষুদ্রচাষীরা তাঁদের ক্ষেতের আল বেঁধে অনেক জমি নষ্ট করেন। এক একটি আলের পেছনে প্রায় এক মিটার প্রশস্ত জমি নষ্ট হয়। এভাবে সারা দেশে কয়েক লক্ষ একর জমি আল বেঁধে নষ্ট হয়। আমার পরামর্শ হল – আলের পরিবর্তে মূল্যবান গাছ লাগিয়ে সীমানা নির্দিষ্ট করলে জমিও নষ্ট হবে না, আবার ১৫-২০ বছর পর গাছ বড় হলে প্রতিটি গাছ থেকে ২-৫ লক্ষ টাকার কাঠ বিক্রি করতে পারবেন। দ্বিতীয়টি হল – দুই প্রতিবেশী কৃষক মিলে দু’জনের জমির মাঝে সৌর প্যানেল লাগালে তা থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে, যা সেচের কাজে লাগানো যাবে, বাড়িতে ছেলেমেয়েরা পড়াশুনা করতে পারবে, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ স্থানীয় প্রশাসন কিনে নিতে পারে। আরকটি বিষয় যা আমাদের মহারাষ্ট্রে বিশেষ করে, বিদর্ভ এলাকায় খুব কার্যকরি হতে পারে সেটা হল মৌমাছি পালন। কৃষকরা যদি মাছি পালনের প্রশিক্ষণ নেন, তা হলে ফসলের পাশাপাশি মধু উৎপাদনের মাধ্যমেও তাঁরা রোজগার করতে পারবেন। এখন সারা পৃথিবীতে মধুর চাহিদা রয়েছে। মধু সহজে নষ্ট হয় না, কয়েক বছর ধরে থেকে যায়। এভাবেই আমরা তাঁদেরকে জৈব চাষের জন্য উৎসাহ জোগাতে পারি। বিশেষ করে, শহরের উপকন্ঠে যেসব গ্রাম রয়েছে, সেখানকার মহিলারা সমিতি বানিয়ে ছোট ছোট গর্ত করে সেখানে কেঁচোর চাষ করতে পারেন। সেই গর্তগুলিতে শহরের আবর্জনা ফেললে কেঁচোরা দ্রুত সেই আবর্জনাকে জৈবসারে পরিণত করে দেবে। কৃষকরা সেই জৈবসার তাঁদের ক্ষেতে ব্যবহার করলে রাসায়নিক মুক্ত উন্নত ফসল উৎপাদন করতে পারবেন। আর তাঁদের উৎপন্ন ফসল, ফল-মূল, শাকসব্জি তুলনামূলক বেশি দামে শহরের বাজারে বিক্রি করতে পারবেন। এভাবে বহুমুখী সক্রিয়তার মাধ্যমে আমাদের কৃষকদের সাহায্য করা যেতে পারে। আমাদের দেবেন্দ্রজী যে ধরনের সৃষ্টিশীল উদ্যোগ নিচ্ছেন, তা আগামীদিনে মহারাষ্ট্রের কৃষি জগতে এক আমূল পরিবর্তন আনবে এবং তা গোটা দেশের সামনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে আমার বিশ্বাস।

আজ আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শুভ সূচনার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। ইন্দু মিল্স-এর জমিতে বাবাসাহেব আম্বেদকরের স্মারক সৌধ নির্মাণের ভূমি পূজার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। এই স্মারক ভারতে নতুন চেতনা উন্মেষের উৎস হয়ে উঠবে। এভাবেই বাবাসাহেব আম্বেদকরের পঞ্চতীর্থ নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত থাকার সৌভাগ্য আমার হল। মধ্যপ্রদেশের মৌ’তে বাবাসাহেব আম্বেদকরের স্মারক সৌধ নির্মিত হয়েছে। দিল্লির আলিপুর রোড-এও ২৫ বছর ধরে ফাইল চাপা প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে, আমি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছি। এই প্রকল্প সম্পন্ন হতে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা খরচ হবে। বাবাসাহেবের মাতা-পিতা রত্নাগিরি জেলার অম্বাবডে গ্রামে থাকতেন, সেখানে মহারাষ্ট্র সরকারের সহযোগিতায় স্মারক সৌধ নির্মিত হয়েছে। আজ এখানে স্মারক সৌধ নির্মাণের কাজ শুরু হল আর পঞ্চম তীর্থটি হবে লন্ডনে, যেখানে বাবাসাহেব আম্বেদকর থাকতেন। ভারত থেকে যাঁরা লণ্ডনে ঘুরতে যাবেন, তাঁদের জন্য এটি একটি প্রেরণা কেন্দ্র হয়ে উঠবে, বিশ্ববাসী সেখানে গিয়ে ভারতের সংস্কৃতি এবং অর্থনৈতিক দর্শনকে অধ্যয়ন করতে পারবেন। এর মাধ্যমে ভারত বিশ্ব মহলের কাছে নিজের বক্তব্য প্রকাশে সুযোগ পাবে।

এই পঞ্চতীর্থের নির্মাণ ভারতীয় জনতা পার্টির শাসনকালেই হয়েছে। এসব নিয়ে আমি রাজনীতি করতে চাই না। কিন্তু, আমার মনের কথা না বলে থাকতে পারি না। যে মহাপুরুষ দেশকে সংবিধান দিয়েছেন, তাঁর তৈলচিত্র সংসদে রাখার ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী সরকারগুলি কোনও উদ্যোগ নেয়নি। ১৯৯০ সালে ভারতীয় জনতা পার্টির সমর্থনে অ-কংগ্রেসী সরকার ক্ষমতায় এলে প্রথমবার ভারতের সংসদে বাবাসাহেব আম্বেদকরের তৈলচিত্র স্থান পেয়েছিল।

আমরা জানি, অন্যরা ভারতরত্ন কবে পেয়েছেন। কিন্তু, বাবাসাহেব আম্বেদকর’কে তাঁরা ভারতরত্ন দিয়ে উঠতে পারেননি। যে ধরনের সামন্ততান্ত্রিক মানসিকতার লোকজন দেশের ক্ষমতায় ছিলেন, তাঁরা একজন দলিত সন্তানকে মেনে নিতে পারেননি। আজ এখানে অনেকেই বসে আছেন, যাঁরা তাঁদের সারা জীবন বাবাসাহেব আম্বেদকরের দর্শন মেনে কাজ করে চলেছেন, তাঁদেরকেও বলতে চাই, হয়তো আমার কথা আপনাদের ভালো লাগবে না, তবু সাহস করে বলছি, আমরা যদি বাবাসাহেব আম্বেদকর’কে শুধুই দলিতের মসীহা বলে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই, তার থেকে বড় অপমান তাঁর পক্ষে কিছু হতে পারে না। এটা দূরদৃষ্টির অভাব। বাবাসাহেব শুধু ভারতের নয়, গোটা বিশ্বের দলিত, পীড়িত, বঞ্চিত, শোষিত মানুষের প্রেরণার উৎস। বিশ্ব মার্টিন লুথার কিং-এ জানে। কিন্তু, বাবাসাহেব আম্বেদকর’কে জানে না, এটা আমাদের দুর্ভাগ্য। সেজন্য আমাদের দায়িত্ব তিনি কেমন পরিবেশে জন্মগ্রহণ করেছেন, কিভাবে প্রতিপালিত হয়েছেন, আর এতো অত্যাচার-অপমান সহ্য করার পর কিভাবে নিজেকে মহাপুরুষ গড়ে তুলেছেন, সে বৃত্তান্ত বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে হবে। তিনি যে সংবিধান রচনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন, সেখানে কোনও কটুতা নেই, কোনও প্রতিশোধ চরিতার্থ করার চেষ্টা করেননি। সেজন্যই আমি বাবাসাহেব আম্বেদকর’কে এতো শ্রদ্ধা করি।

আমি কখনও ভাবি, যদি বাবাসাহেব আম্বেদকর না থাকতেন, তা হলে মোদী কোথায় থাকতো? আমার মতো সাধারণ মানুষকে কে পাত্তা দিতেন? বাবাসাহেবের জন্যই আমার মতো একজন সাধারণ মানুষ দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পেরেছেন। বাবাসাহেব আমাদের বলেছেন, শিক্ষিত হও, দলিত, শোষিত, বঞ্চিত গরিব মানুষেরা শিক্ষাকে জীবনের ধর্ম করে তোলো। এটাই বাবাসাহেবের শিক্ষা। তিনি আমাদেরকে সংগঠিত হতে শিখিয়েছেন।

আমি খুশি, আজ নীতিনজী বলছিলেন, এখানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মরত দলিত সমাজের মানুষ নানা প্রান্ত থেকে এসে হাজির হয়েছেন। বাবাসাহেবের প্রতি আমাদের সকলের সবচেয়ে বড় শ্রদ্ধাঞ্জলি হল সংগঠিত থাকা, ঐক্য, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সদা প্রস্তুত থাকা। সেজন্যই আমার ভাই ও বোনেরা, ইন্দু মিল্স-এর জমিতে এই স্মারক সৌধ নির্মিত হচ্ছে। যেদিন এই জমি আমি সাধারণের জন্য উৎসর্গ করেছিলাম, সেদিনও বলেছিলাম, আজ এর স্থাপত্য রূপায়িত হচ্ছে, তখনও বলছি, এই স্মারক সৌধ এমন একটি শান্তিস্থল হওয়া উচিত, যাতে সাধারণ মানুষ এখানে এসে একটু বিশ্রাম নিতে পারেন। এই স্মারক সৌধের চারপাশে যে বিশাল ভূমি রয়েছে, সেখানে একটি ঘন অরণ্য গড়ে উঠুক। মহারাষ্ট্রে প্রায় ৪০ হাজার গ্রাম রয়েছে। আমি প্রতিটি গ্রামের মানুষের কাছে আবেদন রাখছি, প্রত্যেক গ্রাম থেকে কমপক্ষে একটি গাছ এনে এখানে পুঁতে দিন। কোন্ গাছ লাগাবেন সেটা এখান থেকে জেনে যান। আর যে যাঁর সাধ্য মতো এক-দুই-পাঁচ টাকা করে দান করুন। প্রত্যেক গ্রাম থেকে গাছ পিছু ১১ হাজার টাকা দান করতে পারেন। এভাবেই এই স্মারক সৌধ শুধুই ইঁট, কাঠ, পাথরের সৌধ থেকে একটি শান্তি স্থল হয়ে উঠতে পারে। গোটা বিশ্বের কাছে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপিত হতে পারে। পাশাপাশি, প্রত্যেক গ্রামের মানুষ এই স্মারক সৌধের সঙ্গে আত্মীয়তার বন্ধনে জড়িয়ে পড়বেন। তাঁরা ভাববেন, আমার গ্রামের একটি গাছও ঐ শান্তি বনে রয়েছে।

দ্বিতীয়ত, ভারতের সকল রাজ্য থেকে একটি করে গাছ এনে লাগানো হোক, বিশ্বের সকল দেশ থেকে একটি করে গাছ এনে লাগানো হোক। এভাবেই ইন্দু মিল্স-এর এই সবুজের সঙ্গে গোটা বিশ্বের সবুজকে যুক্ত করা যাবে। এই নতুন কল্পনা দেশের সাধারণ মানুষকে এই মহাপুরুষের স্মারক সৌধের সঙ্গে আত্মিক যোগাযোগ গড়ে তুলবে। ভারতে এমন কোনও মহাপুরুষের স্মারক সৌধ নেই, যাঁর সঙ্গে সরাসরি ৪০ হাজার গ্রামের ভালোবাসা রয়েছে। এমনও হতে পারে সপ্তাহে একদিন বা মাসে একদিন গ্রামের মানুষ এই চৈত্য ভূমি দেখতে আসবেন। এভাবেই এই মহাপুরুষের স্মৃতিতে নির্মিত পঞ্চতীর্থ গণতন্ত্রে আস্থা রক্ষাকারীদের জন্য সামাজিক ঐক্যের তীর্থ ক্ষেত্র হয়ে উঠবে।

ভাই ও বোনেরা, আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা গুজব রটানোর জন্য মানুষের মনে ভ্রম সৃষ্টি করার জন্য এক দল মানুষ সর্বদাই প্রস্তুত। তাঁদেরকে আমি বলতে চাই, আজ ভারতের যে রাজ্যগুলিতে সর্বাধিক দলিত জনসংখ্যা রয়েছে, সর্বাধিক আদিবাসী রয়েছেন, সর্বাধিক অন্যান্য পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর মানুষজন রয়েছেন, অধিকাংশ সেই রাজ্যগুলির মানুষ ভারতীয় জনতা পার্টিকে ক্ষমতায় এনেছেন। মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, পাঞ্জাব এবং সবচেয়ে আদিবাসী মানুষ যে রাজ্যে থাকেন মহারাষ্ট্র, গুজরাট, রাজস্থান, ছত্তিশগড় এবং ওড়িশা এবং ঝাড়খন্ডে ভারতীয় জনতা পার্টি কিংবা আমাদের শরিক দল ক্ষমতায় রয়েছে। এর মানে, বাবাসাহেব আম্বেদকর যাঁদের কথা ভেবেছেন, সেই দলিত, পীড়িত, শোষিত মানুষজনের প্রতিনিধিত্ব করছে, এই রাজ্য সরকারগুলি এবং বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার।

দ্বিতীয়ত, যখনই নির্বাচন আসে তখনই একটি গুজব রটানো হয় যে, ভারতীয় জনতা পার্টি ক্ষমতায় এলে সংরক্ষণ ব্যবস্থা উঠিয়ে দেবে। অটল বিহারী বাজপেয়ীকেও এই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। তিনি এর বিরুদ্ধে অনেক কথা বলেছেন। এবার আমরা ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই এ ধরনের গুজব রটানো হয়েছিল। বাবাসাহেব আম্বেদকর আমাদের যা দিয়েছেন, তা দেশকে শক্তিশালী করেছে। কেউ সেই শক্তির কন্ঠরোধ করতে পারবে না। আর সেজন্যই এতো গুজব রটিয়েও তারা রাজনৈতিক সুবিধা নিতে পারেনি। সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করা, গুজবের মাধ্যমে সমাজে ভ্রম সৃষ্টি করার প্রচেষ্টা বারংবার ব্যর্থ হয়েছে। আমি দারিদ্র্য দেখেছি। দরিদ্রের যন্ত্রণা আমি জানি। সেজন্য জানি, এখনও গরিবদের জন্য অনেক কিছু করতে হবে, দলিত, পীড়িত, শোষিত, বঞ্চিত মানুষজনকে পেছনে ফেলে দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। সেজন্যই যেদিন সংসদের নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি, তখনও প্রধানমন্ত্রী হইনি, সেদিনই আমি নিজের ভাষণে বলেছিলাম যে, আমার সরকার দরিদ্র মানুষের প্রতি সমর্পিত, দরিদ্রের কল্যাণের জন্যই আমরা বেঁচে থাকবো, দেশের গরিব মানুষের দারিদ্র্য থেকে মুক্তি চাই – এই মুক্তির পথ আলাদা-আলাদা হতে পারে। আমাদের পথ হল – সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়া। সেজন্য গুজবের মাধ্যমে সমাজকে আতঙ্কিত করার নোংরা খেলা বন্ধ হোক, একে রাজনীতি বলে না। আসুন, সবাই মিলেমিশে কাজ করি। শহর ও গ্রামের গরিব মানুষদের দারিদ্র্য দূরীকরণের কাজে সবাই হাতেহাত মিলিয়ে কাজ করি। রাজ্য হোক কিংবা কেন্দ্র যে যেখানে সুযোগ পাবো আন্তরিকভাবে আমরা কাজ করলে পরিবর্তন আসবেই।

আপনারা আমার সঙ্গে বলুন, আমি বলবো বাবাসাহেব আম্বেদকর। আপনারা বলবেন অমর রহে অমর রহে।

বাবাসাহেব আম্বেদকর’ (অমর রহে অমর রহে)

বাবাসাহেব আম্বেদকর’ (অমর রহে অমর রহে)

বাবাসাহেব আম্বেদকর’ (অমর রহে অমর রহে)

২৬ নভেম্বর ভারতের সংবিধানের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। বাবাসাহেবের জীবনেও এটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। সেজন্য ভারত সরকার এই ২৬ নভেম্বরকে গোটা দেশে সংবিধান দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভারতের প্রত্যেক স্কুল ও কলেজের ছাত্রছাত্রীরা এই দিনে সংবিধান কী, কিভাবে রচিত হয়েছে, কারা রচনা করেছেন? এই সমস্ত বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা করবে। সেজন্য সরকার ঐ দিনটিকে সংবিধান দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আমি আরেকবার আপনাদের সবার কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। অনেক অনেক ধন্যবাদ।

PG/SB/SB/S