Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিদের যৌথ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ


নয়া দিল্লী ০৬ এপ্রিল ২০১৫: শ্রদ্ধেয় সম্মানিত ব্যক্তিগণ, এই ফোরাম’কে আমি খুব ভালোভাবে চিনি। কিন্তু আগে আমি ওখানে বসতাম, আজ আমি এখানে বসে আছি, আর যখন আমি ওখানে বসতাম তখন একটা ছোট কক্ষে মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্যের হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি একটি ছোট ফোরামে বসতেন, সংবাদমাধ্যম থাকত না, ক্যামেরা থাকত না, মন খুলে কথা বলা যেত, আর আমি একটু মন খুলেই কথা বলতাম। কিন্তু আজ আমি এতটা বলতে পারব কি না, জানি না। কিন্তু এটা আমি মানি যে, মন খুলে কথা বললেও অনেক কিছু বলতে ভয় পেতাম এবং হয়তো এখানে যে মুখ্যমন্ত্রীরা বসে আছেন তাঁদের মনেও এই দ্বিধা থাকবে যে বলব কি বলব না, আমাদের সমস্যার কথা বলব কি বলব না। আর, এই পরিস্থিতিতে আজ যখন এখানে বসছি, আমি অনুভব করছি যে, এই দুই মুখ্য ধারার মধ্যে আমাদের বার্তালাপ কেমন করে এগিয়ে যাবে, কেমন করে মন খুলে কথা বলতে পারব, পরস্পরকে শক্তি জোগাব, যে শক্তি ভারত’কে শক্তিশালী করবে। আমরা যদি এই কাজটা ঠিকঠাক করতে পারি তা হলে আমরা দেশের অনেক উপকার করতে পারবো। আমি সে বিষয়গুলিকে স্পর্শ করতে চাই না, যেগুলি নিয়ে সাধারণত এই ফোরামে প্রত্যেকবারই কথা হয়। বেশি কথা হয়, জমে থাকা মামলা নিয়ে। সবরওয়াল সাহেব ছিলেন, লাহোটি সাহেব ছিলেন, বালকৃষ্ণ সাহেব ছিলেন, তাঁদের সকলের কথা আমি শুনেছি এবং আজও তা নিয়ে কথা হচ্ছে। পূর্ববর্তী প্রধানমন্ত্রীদের ভাষণেও দেখবেন এই বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে। দ্বিতীয় বিষয় হল – প্রত্যেকেই এই ফোরামে দুর্নীতি নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা বলেছেন, সেজন্য দুর্নীতি নিয়েও আমি কোনও কথা বলব না। সবাই যখন বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করছেন, কিন্তু আমরা এখনও সমাধান খুঁজে পাইনি, হতে পারে আজই এই ফোরামের মিটিং – এর পর আলোচনায় আমরা কোনও উপায় খুঁজে পাবো। কিন্তু আমি সবসময় একথা ভাবি, আমরা সবাই এক ধরণেরই মানুষ, আমরা পৃথক পৃথক দায়িত্ব পালন করছি। এই পৃথক পৃথক কাজের দায়িত্ব আমরা নিজেদের যোগ্যতা, ক্ষমতা এবং যোগাযোগের কারণে পেয়েছি। কিন্তু, ন্যায়ের ক্ষেত্র এরকম নয়। তা প্রত্যেকের মধ্যে থেকে এলেও, আমাদের মধ্যে থেকে এলেও, ঈশ্বর তাঁদেরকে পবিত্র কাজের জন্য পছন্দ করেছেন। আপনাদের কাজ একটি পবিত্রকর্ম। আপনাদের কাজ ঈশ্বর আপনাদের মাধ্যমে করাতে চান, আর সেজন্য আমাদের জন্য নির্ধারিত কাজ যা দেশের ১২৫ কোটি নাগরিকের কাজ তা থেকে আপনাদের কাজ ভিন্ন। আর সেজন্যই আপনাদের দায়িত্বও অনেক এবং দেশ আপনাদের কাছ থেকে অনেক বেশি প্রত্যাশা করে। বিশেষ করে, সাধারণ নাগরিকরা আরও বেশি প্রত্যাশা করে। কারণ, তাঁদের মনে হয়, ঈশ্বরের কাছে তো পৌঁছতে পারব না, কিন্তু একটা জায়গা আছে যেখানে আমি ন্যায় পাবো। সেজন্য ভাগবানের কাছে পৌঁছতে পারলে কোথায় পৌঁছবেন, তা ভেবে তাঁরা আপনাদের দিকে তাকান, সেজন্যই আপনাদের কাজ কত বড় পবিত্র কাজ! আমার বিশ্বাস যে, আপনারা যেখানে বসে আছেন, সেখানে প্রত্যেক মুহূর্ত এসব কথা ভেবেই কাজ করেন। সাধারণ নাগরিকদের এসব কথা বইয়ে পড়ানো হয়নি। এই প্রতিষ্ঠান আপনাদের ব্যবহারের ফলে, আপনাদের পরম্পরার ফলে, আপনাদের চরিত্রের প্রভাবে সাধারণ মানুষের মনে নিজে থেকেই এই আস্থা জন্ম নিয়েছে। এই আস্থা বাইরে থেকে ইনজেক্ট করা হয়নি, এটা ইনভল্ভ হয়েছে, আর যখন আস্থা ইনভল্ভ হয় তখন তার মধ্যে অনেক বেশি ক্ষমতা থাকে। আর সেজন্যই আমার বিশ্বাস যে এই মহান পরম্পরাকে আমরা আরও বেশি করে জাগ্রত রাখব, আরও বেশি দীপ্যমান, তেজস্বী করে তুলব, এটি আমাদের দায়িত্ব। একটু আগে দাত্তু সাহেব মানবসম্পদের উৎকর্ষতার কথা বলছিলেন। আজকে তো আমরা ভাগ্যবান যে আমাদের কাছে এক্ষেত্রে যে মানবসম্পদ রয়েছে তার জন্য আমরা গর্ব অনুভব করি। কিন্তু আমাদের এটাও দায়িত্ব যে ভবিষ্যৎ প্রজন্মে কেমন মানবসম্পদ এক্ষেত্রে পাব, তা নিশ্চিত করা। সেজন্য আমাদের যত চিন্তা পরিকাঠামো নিয়ে, যত চিন্তা ডিজিটাল ফর্ম নিয়ে, আধুনিক প্রযুক্তির ফর্মকে আমাদের এই ব্যবস্থার উপযোগী করে তুলতে হবে ব্যবহারের জন্য। এর চেয়েও আমাদের কাছে বেশি চিন্তার বিষয় হল এই ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কেমন করে তৈরি করব, আমাদের মানবসম্পদ উন্নয়নের মেকানিজম কি হবে? উন্নত থেকে উন্নততর ব্রিড, আইনের শিক্ষক কেমন করে তৈরি করব। বিচার ব্যবস্থায় কেমন করে উন্নত থেকে উন্নততর ব্রিড জোগান দেব ইত্যাদি। আর সেজন্য আমাদের যে সব প্রতিষ্ঠান রয়েছে রাজ্য সরকারগুলির সব থেকে বড় দায়িত্ব হল আমাদের আইন পড়ানোর কলেজগুলি বা এই বিষয়ে পাঠদান করছে যে বিশ্ববিদ্যালয় সেগুলিকে কেমন করে সময়োপযোগী করে তোলা যায় সে বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া। আমরা এক্ষেত্রে যত বেশি জোর দেবো, ততই আমরা সফল হব। আমি যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম, তখন সামনে বসতাম। একবার আমাদের সভায় এই জমে থাকা মামলা নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। একজন হাইকোর্টের বিচারপতি যে বিবরণ দিয়েছিলেন তা শুনে অন্ততপক্ষে আমি চমকে উঠেছিলাম। তিনি বলেছিলেন, আমাদের আদালত তো সপ্তাহে তিন-চারদিন কাজ হয়, আর তাও কেবল দু-তিন ঘন্টার জন্য, তা হলে বলুন, আমরা জমে থাকা মামলাগুলি কেমন করে নিষ্পত্তি করব। আমার মনে হল, ওকে জিজ্ঞাসা করি যে এটা কি সত্যি কথা তিনি বললেন, অন্য কোনো কারণ না, আসলে আমরা যে বাড়িতে বসি সেখানে আলো কম আসে, আর বিদ্যুৎও প্রায়শই থাকে না। আপনারা কল্পনা করতে পারেন, আমরা বিচারপতিদের বারবার প্রশ্ন করি যে, এত মামলা কেন জমে আছে, কিন্তু কেউই ভাবি না যেখানে বিদ্যুৎ পর্যন্ত থাকে না যেই আদালতে, সেই আদালত কত ঘন্টা চলবে। কত দিন এমনভাবে চলবে, ন্যায় প্রক্রিয়া কেমন করে এগিয়ে যাবে। আর সেজন্য সমস্ত দায়িত্ব এক তরফা নয়। আবার কখনও এটাও জানতে পেরেছি যে, আদালতে কেন বিদ্যুৎ নেই। জানতে পেরেছি যে, কোনও নক্ষত্র আদালতে গিয়ে স্টে নিয়ে এসেছেন, সেজন্য ওখানে বিদ্যুতের স্তম্ভ পোঁতা যাবে না। এখন বলুন ওরা কোথায় যাবেন, কিন্তু এই সমস্যাগুলিকে দূর করা কঠিন নয়। ভারত সরকারের একটি বড় প্রকল্প হল ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’। এই ডিজিটাল ইন্ডিয়ায় আমার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী আমরা যত তাড়াতাড়ি প্রযুক্তির ব্যবহার করে আমাদের বিচার ব্যবস্থাকে এর অন্তর্গত করতে পারব, তত তাড়াতাড়ি আমাদের গুণগত উৎকর্ষে পরিবর্তন আসবে, আমাদের সমস্ত কাজে এই গুণগত উৎকর্ষের পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। একটা সময় ছিল, যখন রেফারেন্সের জন্য দশটি বই খুঁজতে হত, আজকে যে কেউই খুব সহজে গুগল গুরুর কাছে চলে যান, দু’মিনিটের মধ্যেই গুরুজি তথ্য সরবরাহ করে। এটা খুব বড় সুবিধা, আমাদের বিচার ব্যবস্থাকে যত দ্রুত এই সুবিধার লাভ এনে দিতে পারব, পুরোনো সমস্ত রায়ের সংগ্রহ থাকবে, বিচারপতিরা তা ব্যবহার করতে পারবেন। গতকাল আমার সঙ্গে চন্দ্রচূড় সাহেবের দেখা হয়েছিল। তিনি বলছিলেন যে, এলাহাবাদ হাইকোর্টে ইতিমধ্যেই ৫০ কোটি পৃষ্ঠা ডিজিটাল করা হয়েছে। অনেক বড় কাজ, অনেক কাজ হয়েছে। আর আমি এটা বুঝি যে যত দ্রুত এসব হবে, আগামীদিনে এক্ষেত্রে দক্ষতা আনতে তা তত বেশি কাজে লাগবে। কখনও কখনও তো মনে হয়, আমাদের দেশে শক্তিশালী বিচার ব্যবস্থা চাই নাকি সক্ষম বিচার ব্যবস্থা চাই? আমি চাই যে, এই ফোরামে বসে থাকা সমস্ত বিশিষ্ট ব্যক্তিরা স্বীয় ক্ষমতায় আলোচনা করুন। আমরা শক্তিশালী হতে যাচ্ছি, যত দ্রুত শক্তিশালী হতে যাচ্ছি, আর শক্তিশালী হওয়া ভুল নয় কিন্তু ততটাই দ্রুততার সঙ্গে নির্ভুল হওয়া অনিবার্য হয়ে পড়েছে। আমাদের বিচার ব্যবস্থা শক্তিশালী হোক, আমাদের বিচার ব্যবস্থা নির্ভুলও হোক। শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি সক্ষম হওয়ারও প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কারণ, সাধারণ মানুষের জন্য এটা একটা আস্থার জায়গা। আমি সেই পরম্পরার মানুষ, আর আমি নিজেকে সেই পরম্পরার মানুষ হওয়ার ফলে ভাগ্যবান মনে করি। ভাগ্যবান এই জন্য যে ২৪ ঘন্টা আমার চুলচেরা বিচার হয়। প্রত্যেক মুহূর্তে আমি ডান পা রেখেছি কি বাম পা রেখেছি, আমাদের মতো মানুষের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচার হয়, আর সময় এতো বদলে গিয়েছে যে, আজ থেকে দশ বছর আগে যে খবর ‘গসিপ’ কলমে স্থান পেত তা আজ ‘ব্রেকিং নিউজ’ – এ রূপান্তরিত হয়েছে। এতো পার্থক্য হয়েছে, যা কখনও গসিপ কলমে রাখতেও সম্পাদক পঞ্চাশ বার ভাবতেন, তা আজ অনায়াসে ব্রেকিং নিউজ হিসেবে পরিবেশন করা হয়। আর আমাদের ২৪ ঘন্টা হিসেব চলতে থাকে। এজন্য আমার গর্ববোধ হয়। আর সেজন্যই প্রত্যেক পাঁচ বছরে সাধারণ মানুষের কাছে হিসাবও দিতে হয়। এই প্রতিষ্ঠান, রাজনীতিকদের অনেক বদনাম রয়েছে। কিন্তু তারপরও আজ আমি বলতে পারি, এই রাজনীতিকরাই নিজেদেরকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এতগুলি প্রতিষ্ঠানের জন্ম দিয়েছেন। আইন-কানুনও তাঁরাই বানিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন, তার স্বায়ত্তশাসন আমাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করলেও আমরাই এই কমিশন সৃষ্টি করেছি। আর.টি.আই. আমাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করে, সেটাও আমরাই বানিয়েছি। শুধু তাই নয়, আমরা এখন লোকপালের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছি। আমাদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরাই এসব প্রতিষ্ঠান তৈরি করছি, কারণ আমরা জানি, ব্যক্তি যতই ভাল হোক না কেন, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা ভাল না হলে যে কোনও সময়েই পতনের সম্ভাবনা থাকে। আমি মানি যে, বাড়িতে মা-বাবা টাকা-পয়সা তালাচাবি দিয়ে রাখেন, তা কি শুধু চোরের হাত থেকে বাঁচার জন্য। তালা-চাবি চোরেদের কাছে খুবই সামান্য ব্যাপার। তারা তো পুরো সিন্দুকটাই তুলে নিয়ে যেতে পারে। বাবা-মা এজন্যই তালাচাবি দিয়ে রাখেন যাতে বাড়ির শিশুদের স্বভাব খারাপ না হয়। রাজনৈতিকদের ক্ষেত্রেও এটি সত্য। আমরা ভাগ্যবান সবাই আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকেন, আমাদের ধমক দেন, আমাদের সমালোচনা করেন, আমাদের চামড়া খুলে নেন। আপনাদের সেই সৌভাগ্য নেই। আপনারা কখনও সমালোচনা শুনতে পান না, এমনকি যাদের সাজা দেন, ফাঁসি দেন, তারাও বাইরে গিয়ে বলে, আমার বিচার ব্যবস্থার ওপর বিশ্বাস রয়েছে, উপরে গিয়ে আমি বিচার পাবো। অর্থাৎ, এই প্রতিষ্ঠানে এতটাই বিশ্বাসযোগ্যতা রয়েছে। আর যখন সমালোচনা অসম্ভব হয়ে পড়ে, তখন সময়ের চাহিদা অনুসারে, আমাদের অভ্যন্তরীণ সমীক্ষার ব্যবস্থা থাকা উচিত। আসুন, আমরা সেরকম অভ্যন্তরীণ সমীক্ষার একটি ‘ডায়নামিক’ ব্যবস্থা গড়ে তুলি। আর তাতে সরকারের কোনও হস্তক্ষেপ থাকা উচিত না। রাজনৈতিক নেতাদের তো একদমই হস্তক্ষেপ থাকা উচিত না। এহেন ব্যবস্থার বিকাশ না ঘটলে আমাদের কি করা উচিত? আমরা সেই অভ্যন্তরীণ ডি.এন.এ.-র বিকাশ না ঘটালে যে আস্থা জনগণের মধ্যে সঞ্চারিত হয়েছে তা আঘাতপ্রাপ্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে। আমি মানি, যে এতে দেশের অনেক ক্ষতি হবে। আমরা যাঁরা সরকারে বসি, তাঁরা ভুল করলে সেটা ঠিক করার দায়িত্ব আপনাদের। কিন্তু যদি আপনারা ভুল করেন, তা হলে তো আপনাদের এই অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা ছাড়া আর কোনও উপায় থাকে না। সেজন্য আমাদের ভুল করার অধিকার নেই, কিন্তু তা সত্ত্বেও যদি আমরা ভুল করি তা হলে কোথাও তা শুধরানোর সুযোগ রয়েছে। কিন্তু আপনারা ভুল করলে সে সুযোগ নেই। আমরা যখন নিজেদেরকে ঐশ্বরিক শক্তির মূর্ত প্রতীক হিসেবে দেখি, তখন আমরা এটা ধরেই নিই যে আমাদের কোনও সমালোচনা হবে না, আর আমাদেরকেই বারবার আপনাদের সমালোচনা করতে হবে, আর সেটা খুব কঠিন কাজ, আমি জানি এটা খুব কঠিন কাজ। সংবিধানের আওতার মধ্যে রায় দেওয়া কঠিন নয়, কিন্তু আপনারা দু’মিনিটের মধ্যে দুধকে দুধ আর জলকে জল আলাদা করে বলতে পারেন, ঈশ্বর আপনাদের সেই শক্তি দিয়েছেন, একটি তৃতীয় নেত্র দিয়েছেন, কিন্তু ‘পার্সেপশন’ আর বাস্তবের মধ্যে পার্থক্য খোঁজা খুবই কঠিন। আমরা কি কখনও ভেবে দেখেছি যে, কোনও নক্ষত্র বিশেষ কি পরোক্ষে আমাদের সম্পূর্ণ বিচার ব্যবস্থাকে সঞ্চালন করছে? এক ধরণের হুজুগ তুলে বিচার ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা চালাচ্ছে? বা সংবিধানের আওতার মধ্যে থেকেই রায় দেওয়াটা কঠিন কাজ নয়? কিন্তু ‘পার্সেপশন’ এর পরিবেশে রায় দেওয়া আরও বেশি কঠিন কাজ। আর সেজন্য আজ থেকে পনেরো-কুড়ি বছর আগে বিচার ব্যবস্থায় যে মুক্তির আনন্দ ছিল, সেই আনন্দ আজ আর নেই। বিচারকরাও ভয় পান যে, বাইরে এইসব চলছে সেক্ষেত্রে আমি এরকম রায় দিলে কি হবে? এমনই পরিস্থিতি! এখন আমাদের সকলের চেষ্টা করা উচিত এমন কিছু করা যাতে বিচার ব্যবস্থার শক্তি বৃদ্ধি হয়। সবারই চেষ্টা করা উচিত, যাঁরা সরকার চালাচ্ছেন, যাঁরা সংবাদমাধ্যমে বসে আছেন কিংবা যাঁরা ‘ফাইভ স্টার অ্যাক্টিভিস্ট’। আমরা যদি এই প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী না করে উঠতে পারি তা হলে নিজেদের পায়েই কুড়ুল মারব। সেজন্য আমার মতে পরিবর্তন আনা বাঞ্ছনীয়। পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে আমি উপযুক্ত ব্যবস্থার পক্ষপাতি। দারিদ্র্যকে নিয়ে গর্ব করার দর্শনে আমি বিশ্বাস করি না, তা না হলে হাজার বছর ধরে সেই গরিব ব্রাহ্মণের কথা পড়ছি, যে জীর্ণবস্ত্র পরেছিলেন, আর তপস্যা করতেন বলে সবাই তাঁকে বড় মানত। সময় বদলে গিয়েছে। উন্নত থেকে উন্নততর পরিকাঠামো কেন থাকবে না। আমি আপনাদের আশ্বাস দিচ্ছি যে এটাই আমাদের সরকারের প্রাথমিক লক্ষ্য। এবার চতুর্দশ অর্থ কমিশনে রাজ্যগুলিকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করে প্রায় ৯ হাজার ৭৪৯ কোটি টাকা সরাসরি বিচার ব্যবস্থাকে দেওয়া হয়েছে। আমি এই রাজ্যগুলিকে অনুরোধ করব, তারা এই অর্থ অন্য কোনও খাতে খরচ না করে বিচার ব্যবস্থার হাতেই তুলে দিন। তা হলে দেখবেন নিজে থেকেই অনেক ছোটখাটো সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আমার আশা, শ্রদ্ধেয় মুখ্যমন্ত্রীগণ এক্ষেত্রে ব্যক্তিগত উদ্যোগ নেবেন। একবার আমি হিসেব করে দেখেছিলাম, ৩৫ পয়সায় বিচার পাওয়া যায়। গতকাল থেকে বিচারপতিদের সংস্পর্শে এসে আমি আরেকবার হিসাব করে দেখলাম, এখন আর ৩৫ পয়সায় বিচার পাওয়া যায় না। এখন বিচার পেতে হলে গড়ে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা খরচ হয়। আমি মনে করি, ভারতের মতো বিশাল দেশে এই ব্যবস্থা খুবই শক্তিশালী। শুধু আমাদের দেখতে হবে, জমে থাকা মামলাগুলি বিশেষ করে, দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাসকারী পরিবারগুলির মামলা কতটা কমানো যায়। অবশ্য, ধনী ব্যক্তিদেরই বেশি মামলা হয়, গরিবদের কাছে উকিল জোগাড় করার পয়সা থাকে না। গরিবদের জন্য ছোট ছোট ব্যবস্থা রয়েছে। লোক আদালত জাতীয় ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত। অবসরপ্রাপ্ত বিচারকরাও চাকুরিরত বিচারকদের হাতে হাত মিলিয়ে এমন পরিকাঠামোর বিস্তার ঘটাবেন, যাতে দরিদ্ররা লাভবান হন। লাহোটি সাহেব একটি বিষয়ের ওপর বক্তব্য রাখছিলেন, যে আজকাল পরিবারগুলি ভেঙে যাচ্ছে এবং এত দ্রুত ভেঙে যাচ্ছে সেটি চিন্তার বিষয়। আমরা কি এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারি, যেখানে মন খুলে কথাবার্তা হবে সমস্যা নিয়ে আলাপ-আলোচনা ও সমাধানের উপায় বের করা হবে, এ ধরণের যতগুলি পরিবার আদালত গড়ে তুলতে পারবো ততই আমাদের সমাজ উপকৃত হবে। ভারতের মতো দেশে এভাবে পরিবারগুলি ভেঙে যাওয়া খুবই দুঃখের কথা। কিভাবে এই সামাজিক ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে পারি, তা নিয়ে সকলের চিন্তা-ভাবনা করা উচিত। দরিদ্র মানুষের বিচারের স্বার্থে লোক আদালত যতটা গুরুত্বপূর্ণ পরিবারগুলিকে ভেঙে যাওয়া থেকে বাঁচাতে পরিবার আদালত ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে, নারীশক্তির এই ব্যবস্থা খুবই শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে, একে আমরা আরও আধুনিক, আরও গতিশীল কেমন করে গড়ে তুলতে পারি? আদালতে এসে প্রত্যেকেরই মনে হওয়া উচিত যে দু-কদম তুমি এগিয়েছ, দু-কদম আমি এগিয়েছি, সমাধান হয়ে গিয়েছে। আর এগোনো উচিত নয়, এখন তুমি তোমার কাজ করো, আমি আমার কাজ করছি। এভাবেই সমাধান হলে সকলের মঙ্গল হবে। সরকারের মধ্যেও এমন সব ব্যবস্থা বিকশিত হয়েছে যে, সব আদালতে চলে যায়। এমন অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা থাকা উচিত যে ট্রাইব্যুনালে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। অধিকাংশই অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিরাই তো ট্রাইব্যুনালগুলির নেতৃত্ব দেন। কিন্তু আমি এসে যা দেখেছি তাতে খুবই হতাশ হয়েছি। আজ ভারত সরকারের কাছে আমার মনে হয় প্রায় শ-খানেক ট্রাইব্যুনাল চলছে এবং প্রায় প্রত্যেক মন্ত্রকের তিন থেকে চারটি ট্রাইব্যুনাল চলছে। আর এই ট্রাইব্যুনালগুলির ডিসপোজাল আরও বেশি দুশ্চিন্তার জন্ম দিচ্ছে। আমি চাই, সুপ্রিম কোর্টের বরিষ্ঠ বিচারপতিরা বসে আলাপ-আলোচনা করে স্থির করুন যে ট্রাইব্যুনাল নামক ব্যবস্থায় প্রকৃতই প্রক্রিয়ার গতি বাড়ছে কি বাড়ছে না। আমার মনে হয় এতো ট্রাইব্যুনালের প্রয়োজন নেই। ট্রাইব্যুনালের পেছনে বাজেটের অনেক টাকা খরচ হয়ে যায়। এই টাকা বিচার ব্যবস্থার হাতে গেলে আদালতের শক্তি বাড়বে। একে অন্যকে দোষারোপ না করে এ বিষয় নিয়ে আন্তরিকভাবে আমাদের চিন্তা করা উচিত। এখানে অনেক বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। সেজন্য সেগুলি নিয়ে আমি আর বলছি না, কিন্তু যে মহান পরম্পরায় আমরা লালিত-পালিত, সেই পরম্পরায় আইন এবং বিচারের মধ্যে কোনও সমঝোতা করা সম্ভব নয়। তা হলে, সমাজ এবং ব্যবস্থাগুলি ভেঙে পড়বে। এখন সময় বদলে গিয়েছে। আগে নির্দিষ্ট সময়ে আমরা যত বিষয় নিয়ে কাজ করতাম তার রূপ বদলে গিয়েছে। এখন ‘ক্রিমিনাল অফেন্স’ থেকে ‘ইকনোমিক অফেন্স’ বেড়ে গিয়েছে। এখন আমাদের দক্ষতা সেগুলি সমাধানের ক্ষেত্রে কাজে লাগানো উচিত। সারা পৃথিবীতে সাইবার ক্রাইম বেড়ে চলেছে। এই অপরাধীদের কোনও সীমা নেই, এরা ‘গ্লোবাল কমিউনিটি’র অপরাধী। আমাদের আইনের মধ্যে এই বিষয় নিয়ে নতুন মাত্র যোগ করতে হবে। আমরা কি কখনও ভেবেছি, যে আগামীদিনে ‘মেরিটাইম ল’ নিয়ে মাথা ঘামাতে হবে, অর্থাৎ, পরিবর্তিত যুগের নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ আসছে, আর আমি মনে করি, আগামী কুড়ি-পঁচিশ বছরের মধ্যে মহাকাশ সংক্রান্ত আইন প্রণয়নেরও প্রয়োজন হবে। এই মহাকাশ কার দখলে, আর কার নয়। তখন এই সমস্ত বিষয় আন্তর্জাতিক আদালতের আওতায় চলে আসবে। তার মানে, আমাদের নিজেদের সতর্ক থাকতে হবে। আজ আইনি প্রক্রিয়ায় ‘ফরেন্সিক সায়েন্স’ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। কিন্তু আমাদের কাছে, আমাদের বার এবং বেঞ্চের কাছে তেমন বৈজ্ঞানিক জ্ঞান কি রয়েছে? কারণ, সেই প্রজন্মের এসব শেখার প্রয়োজন পড়েনি। আমি যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম, সেখানে একটি ‘ফরেন্সিক সায়েন্স ইউনিভার্সিটি’ নির্মাণ করেছিলাম, যা পৃথিবীর একমাত্র ‘ফরেন্সিক সায়েন্স ইউনিভার্সিটি’। অন্যত্র কলেজ রয়েছে অথবা ফরেন্সিক সায়েন্স নিয়ে ডিপার্টমেন্ট রয়েছে, আমরা বিচারকদেরও সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে নিযুক্ত করেছি, এক্ষেত্রে গুজরাট হাইকোর্টের বিচারপতিরা আমাকে সাহায্য করেছেন। প্রায় সমস্ত জেলা বিচারপতিদের ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ে দু-দিনের কোর্স করতে হয়েছে। কারণ, এটা এমন বিজ্ঞান যা আগামীদিনে বিচার প্রক্রিয়ায় এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আমাদের উচিত এ ব্যাপারে আরও চিন্তাভাবনা করা এবং বিচার ব্যবস্থার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহারকে আরও প্রসারিত করা। আমরা আরেকটি সমস্যা অনুভব করছি। সাধারণ মানুষ তো আমাদেরকে নির্বাচিত করে আইন প্রণয়নের জন্য পাঠিয়েছেন, কিন্তু আমরা অনেকটা সময় অন্য কাজে ব্যয় করি। সংসদে বসে আমরা কি করি, আপনারা জানেন। আমার অভিজ্ঞতা অনুসারে, আইনের খসড়া তৈরি করা, খসড়াকে আইনে রূপান্তরের মাঝে সময় লাগে কারণ তার শব্দ রচনায় কিছু না কিছু খামতি থেকে যায়, আর তা যখন বিচার ব্যবস্থার কাছে যায়, সেগুলিকে সঠিক অনুবাদ করতে বছরের পর বছর পেরিয়ে যায়। আর যখন তা হয়, ততদিনে তা অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। যতদিন আমাদের ল ইউনিভার্সিটি ইত্যাদিতে আমরা খসড়া রচনার জন্য সঠিক মানবসম্পদ তৈরি না করতে পারব, আর আইন রূপায়ণের সময়ে তাদের ব্যবহার না পারব, এ ধরণের সমস্যা ততই বাড়তে থাকবে। আমরা তো আর ঋষি-মুনি নই যে একদম ত্রুটিমুক্ত আইন রূপায়ণ করতে পারব। কিন্তু যতটা সম্ভব বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার করা উচিত, এটা আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আমার অভিজ্ঞতা বলে, এই ধরণের মানবসম্পদ আমরা পাই না। আগামীদিনে এই অভাব কেমন করে দূর করবো। এটা আমাদের দায়িত্ব তা হলে আগামীদিনে সংবিধানের সমস্ত মর্যাদা পালন করে সুআইন প্রণয়ন সম্ভব হবে। আমাদের দেশে প্রত্যেক বিষয় নিয়েই আইন প্রণয়নের অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমর মতে, সংবিধান নিজেই প্রত্যেক বিষয়ে সমস্ত ব্যবস্থা রেখেছে। কিন্তু, আমরা শুধু সেগুলিকে খারিজ করে নতুন আইন প্রণয়নের ফিকিরে থাকি। এটা বিরাট একটা বোঝা। আমি একটি কমিটি তৈরি করেছি। সেই কমিটিকে অপ্রয়োজনীয় আইন বাদ দেওয়ার অনুরোধ করেছি। সম্প্রতি আমি এমন প্রায় ৭০০-র মতো আইন বাতিল করার অনুমোদন ক্যাবিনেট থেকে নিয়ে নিয়েছি। কিন্তু তারপরও আমার সামনে তেমন ১৭০০ আইন রয়েছে। আমার স্বপ্ন যে প্রতিদিন একটি করে আইন বাতিল করব। আমার পাঁচ বছর মেয়াদে প্রতিদিন একটি করে আইন বাতিল করার স্বপ্ন আমি দেখছি। এই আইনের জঞ্জালে আমাদের সম্পূর্ণ বিচার ব্যবস্থা ফেঁসে আছে। এই বিষয়ে ভাবনা-চিন্তা করার দায়িত্ব এক্সিকিউটিভদের। রাজ্যগুলিকেও আমি অনুরোধ করছি, ছোট ছোট দল বানিয়ে অপ্রয়োজনীয় আইনগুলিকে বাতিল করে দিন। আমাদের ব্যবস্থাকে যত সরল বানাতে পারব মানুষ তত সহজে বুঝতে পারবেন কি হতে পারে আর কি হতে পারে না। সাধারণত, মানুষ আইন ভাঙতে চান না। সাধারণ মানুষ আইন মনেই চলতে চান। কিন্তু, তাঁরা যাতে আইন মেনে চলতে পারেন সেরকম সুবিধা তৈরি করে দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের। আমরা যদি এই বোঝা হালকা করতে পারি তা হলে নিজেরাই মুক্তির শ্বাস নিতে পারব আর এই মুক্তির শ্বাস একটি নতুন আস্থার জন্ম দিতে পারে। এই লক্ষ্য নিয়ে আমাদের এগিয়ে যাওয়া উচিত। আমরা রাজনীতির লোক হই কিংবা শাসন ব্যবস্থার কর্ণধার, আমাদের সংবিধান আমাদের প্রত্যেকের জন্যই মর্যাদা নির্দিষ্ট করে রেখেছে, কিন্তু আমাদের শাস্ত্রেও আমাদের মর্যাদা নির্দিষ্ট আছে। যদি আমি বলি, উপনিষদের দিকে নজর দিন তা হলে দেখবেন উপনিষদ বলে, ‘শস্ত্রয় শত্রম যতঃ ধর্মঃ, শস্ত্রয় শত্রম যতঃ ধর্মস্য’, অর্থাৎ আইন রাজারও ওপরে, রাজার রাজা। সেজন্যই আজকে যাঁরা শাসন ক্ষমতায় রয়েছেন, তাঁরা যতই গুণী এবং তেজস্বী মানুষ হয়ে থাকুন না কেন, আইন তাঁদেরও ওপরে। এই মূলমন্ত্র নিয়েই আমাদের চলতে হবে। আমরা যে দায়িত্বের অধিকারী হই না কেন, আমাদের কর্তব্য তা সুসম্পন্ন করা। আর মহাভারতে ভীষ্ম একটি কথা বলেছিলেন, ‘ধর্মনঃ প্রজাঃ সর্বাঃ রক্ষন্তি স্মঃ পরস্পরমঃ’ যা সমাজ জীবনকে পরিচালিত করার জন্য একটি শক্তি হিসেবে পরিগণিত হতে পারে। আইনকে সম্মান জানানোর ভাবনাই মুখ্য শক্তি যা সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে রাখতে পারে। দেশের একতা এবং অখণ্ডতার জন্য এই মূলমন্ত্র যা আমরা হাজার হাজার বছর আগে পেয়েছি, এই সংস্কারগুলি নিয়েই আমরা এগিয়ে যাব। আমরা অনেক কিছু করতে পারব। আমি আরেকবার আপনারা সবাই …. আপনাদের মাঝে এসে কথা বলার জন্য আমাকে সুযোগ দিয়েছেন, সেজন্য কৃতজ্ঞতা জানাই। আমি খাতায়-কলমে কম কাজ করি, বেশি লেখাপড়া জানি না, যা মনে আসে বলে দিই, আর আমি চাই না আপনারা সেগুলিকে বিচারকের মানদণ্ডে বিচার করুন, একজন সাধারণ মানুষের মনে আসা প্রশ্ন এবং উত্তর হিসেবে এগুলিকে দেখবেন আর তার মধ্যে যদি কিছু ভাল পান, সেটিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন, না হলে আমাকে ফিরিয়ে দেবেন। অনেক অনেক ধন্যবাদ।