পিএমইন্ডিয়া
মাননীয় সভাপতিজি, মাননীয়রাষ্ট্রপতিজি ’র ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এইসভায় করা হয়েছে| প্রায় ৩৮ জন সদস্য নিজের নিজের মতামত উপস্থাপন করেছেন| প্রথমভাষণের মধ্য দিয়ে শ্রীযুক্ত অমিত ভাই শাহজি প্রস্তাব রেখেছিলেন এবং বিনয়সহস্রবুদ্ধেজি এর সমর্থন করেছেন| শ্রীমান গুলাম নবি আজাদ, ডি.পি. ত্রিপাঠী, প্রমোদতেওয়ারি, সর্দার বলবন্ত সিংহ, নরেশ আগরওয়াল, দিলীপ কুমার তির্কি, সঞ্জয় রাওয়ত,আনন্দ শর্মা, ডেরেক ও ’ব্রায়েন, ডি. রাজা, সঞ্জয় সিংহ,সুখেন্দু শেখর রায়, টি.কে. রঙ্গরাজন, টি.জি. ভেঙ্কটেশ সহ অনেক মাননীয় সদস্য নিজেরমতামত উত্থাপন করেছেন| কর্মসংস্থান নিয়ে হোক, দুর্নীতি নিয়ে হোক, কৃষকদের আয়েরকথাই হোক, বিদেশ নীতিই হোক, সুরক্ষা ব্যবস্থাই হোক, বা আয়ুষ্মান ভারতই হোক —এরকম অনেক বিষয়ের ওপর সবাই নিজের মতামত রেখেছেন| গুলাম নবীজি ’র কথা তো আমি এখানে বসে শুনেছি, বাকিদের কথা আমি আমার কক্ষে বসে শুনেছি,তাই ওনার শরীরের ভাষাও দেখার সুযোগ পেয়েছি| তিনি যখন বংশবাদের ওপর আলোচনা করছিলেন,আর একটি পরিবারকে বাঁচানোর জন্য অনেক কিছু বলছিলেন, যা বলছিলেন তা যাই হোক, কিন্তুসেসময় ওনার সরলতা খুব ভালো দেখাচ্ছিল| বেশিরভাগই আমি দেখলাম, এখন যেমন আনন্দজি ’র কথা শুনছিলাম| তো গুলাম নবীজি থেকে শুরু করে আনন্দ শর্মাজি পর্যন্তবেশিরভাগই শুধুমাত্র নিজেদের পুরনো সরকারের কথা বলারই সুযোগ নিচ্ছিলেন| বাইরে তোকেউ শোনার নেই, তাই এখানে তো বলতে হবেই| যাইহোক, কংগ্রেস পার্টি বা এই রাজনৈতিকদলের কী করা উচিত, তা নিয়ে আমার কিছু বলার অধিকার নেই| আপনি আয়ুষ্মান ভারত যোজনানিয়ে আলোচনায় আমেরিকা ও ব্রিটেনের উদাহরণ দিয়েছেন| কিন্তু আমেরিকার মডেল ওব্রিটেনের মডেল এবং ভারতের সামাজিক অবস্থার মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত| কিছু বিষয়ওখানে সফল হলে আমাদের এখানে সফল নাও হতে পারে| কিন্তু কোনো কিছু ওখানে বিফল হলেইআমাদের এখানেও ব্যর্থ হতে পারে, এমন যুক্তি ঠিক নয়| আমাদেরকে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গিথেকে চিন্তা করতে হবে নিজেদের দেশের জন্য| কিন্তু আসল কারণ হচ্ছে, প্রায় ৫০-৫৫ বছরক্ষমতায় থাকার ফলে মাটি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক বিষয়| আর এর জন্যএ ধরনের চিন্তাধারা ও মানসিকতা আসাও স্বাভাবিক| কিন্তু আমি মনে করি না এর ফলে কেউএই বিষয়টি মেনে নিতে অস্বীকৃত হবেন যে, আমাদের দেশে চিকিত্সার ক্ষেত্রে অনেক কিছুকরার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে| আর অনেক কিছু করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলার অর্থ এই নয় যে,গুলাম নবীজি যখন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন তখন কিছুই করেননি| কিছু তো কাজ করেছেন|কিন্তু আরও অনেক কিছু করার প্রয়োজনীয়তা যে রয়েছে, তা তো অস্বীকার করা যায়না| আরসেজন্য আমাদেরকে আলোচনার এই বিষয়টিকেও উপলব্ধি করতে হবে যে, দেশের আশা-আকাঙ্ক্ষারঅনুসারে কিছু আলোচনা আমরা কীভাবে করতে পারি| এটা ঠিক যে আমরা আয়ুষ্মান ভারত যোজনানিয়ে এসেছি| হতে পারে এতে কিছু ঘাটতি রয়েছে, কিন্তু এই যোজনা তো দেশের জন্যই| কোনোদলের জন্য নয়| সেজন্য আমি চাইবো যে, কংগ্রেসের বন্ধুরাও একটি টাস্ক ফোর্স তৈরিকরুন, অন্যান্য দলের লোকেরাও নিজেদের টাস্ক ফোর্স গঠন করুন, তারপর আয়ুষ্মান ভারতযোজনার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করুন| তাতে যদি কোনো ঘাটতি থাকে তাহলে আমি নিশ্চয়ই সময়দেবো| আমি নিজেকে সময় দেবো| আসল উদ্দেশ্য কী? চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হচ্ছে, দেশের গরিবও নিম্ন-মধ্যবিত্ত অংশের পরিবারের ক্ষেত্রে যদি অসুখ-বিসুখ হয়, তাহলে যা কিছু সেইপরিবারের কর্তা করে থাকে, তা সম্পূর্ণ শূন্যে এসে পৌঁছায়| সবকিছু নেগেটিভ বাঋণাত্মক হতে থাকে| কখনও সুদখোর মহাজনের কাছ থেকে সুদে টাকা নিয়ে চিকিত্সা করাতেহয়| কখনও কখনও তিনি ভাবেন ছেলেদের ঋণের দায়ে ফেলবেন না| অসুখ বিসুখ মেনে নাও, আয়ুযদি কম হয়েও যায়, তা হোক| এই মানসিকতা হয়ে যায়| আর কে করেছে, কে করেনি, ৭০ বছর কেনহয়নি, এ ধরনের প্রশ্ন উঠতেই পারে| কিন্তু আমার আলোচনার বিষয় তা নয়| আমাদের কি এ ধরনেরকিছু করা উচিত, নাকি উচিত নয়| সরকার যা ভাবে| আপনাদের মতো আমাদের চিন্তাধারা নয় যেভগবান সবকিছু আমাকেই দিয়েছেন| আমি বিশ্বাস করি যে, এই সভায় আমার চেয়েও বেশি বিদ্বান ওঅভিজ্ঞতা সম্পন্ন মানুষ রয়েছেন| আমরা আলোচনায় বসে, একসঙ্গে মিলে বসে আয়ুষ্মান ভারতযোজনাকে দেশের ৪০-৫০ কোটি মানুষের সুস্বাস্থ্যের জন্য তুলে ধরে এক বিশ্বাসের জন্মদিতে পারি কী? আর যদি একবার… এটাতো বিমা ’র প্রকল্প| আর সেজন্য আমি মনে করি যে বিমারক্ষেত্রে কী ধরনের ব্যবস্থা হয়ে থাকে, তা আমরা জানি| তাই বাজেটের সংস্থান ছাড়াআলোচনা করে আটকানোর কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই| এই বিষয়টি নিয়ে আমরা খুব ভালোভাবেইজানি| কিন্তু দেশের গরিব মানুষরা যেন এর সুযোগ পান| আর আমি মনে করি, এখানে কারোএতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়| হ্যাঁ, যোজনা চালু করার পর যদি কোনো ঘাটতি দেখা দেয়,কিন্তু তাতে যদি মনোযোগ না গিয়ে থাকে, তাহলে আলোচনা করা যেতেই পারে| এখন পরামর্শেরপর্যায়ে একটি প্রকল্পের প্রাথমিক বিষয় প্রস্তুত করা হয়েছে| আমরা সবাই মিলে এটাকেআরও ভালো কীভাবে করতে পারি, আর সেজন্য আমি তো চাই যে, ভালো পরামর্শ আসা উচিত| আরআজ যারা টিভিতে আমার ভাষণ শুনছেন তাঁদের কাছেও আমার অনুরোধ যে, এতে যদি আপনারাকোনো ভালো সঠিক কোনো বিষয় দিতে পারেন, তাহলে দিন| দেশের গরিব মানুষের জন্য করা,এতে কোনো দলে প্রশ্ন থাকে না| আমি মনে করি আমরা সবাই মিলে এই বিষয়টিকে আরও সামনেএগিয়ে নিয়ে যাবো|
এটা ঠিক যে, যদি আমি এখানে বসে ইংরেজিতে নাইন (9)লিখি, তাহলে আমি মনে করিনা যে ওখানে বসে থাকা কোনো ব্যক্তি একে নাইন হিসেবেঅস্বীকার করবেন| কিন্তু ওখানে বসে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে তা সিক্স (6) মনে হবেআমি এখানে ইংরেজিতে নাইন লিখলে আমি ভুল করছিনা, কিন্তু আপনি যদি একে সিক্স দেখেন,তাহলে আমি কী করবো| কেননা আপনি তো ওখানে বসে আছেন| আর সেজন্য আমি মনে করি যে, এখনকেউ আমাকে বলুন, ভারতের বাণিজ্য সহজতার ক্ষেত্রে (ease of doing business) যদি ক্রমপর্যায়েরউন্নতি হয়, তাহলে আমরা দুঃখিত হব কেন| এটা কি দেশের প্রতিটি নাগরিকের গর্ব হওয়ারবিষয় নয় যে, বাণিজ্য সহজতার বিষয়ে উন্নতি হয়েছে| বিশ্বে আমাদের এক ভালো ভাবমূর্তিতৈরি হয়েছে| আর তা আমরা করেছি নাকি আপনারা করেছেন সেই বিষয় নিয়ে, আমরা যখননির্বাচনে যাবো তখন সেই খেলা খেলে নেবো| কিন্তু যখন দেশের কথা আসে, তখন যেখানেভালো, আমরা সেখানে চলে যাই| যখন রেটিং এজেন্সি দিয়ে থাকে, তখন আমার ওপর চাপ সৃষ্টিকরা সম্ভব না হলে সেই রেটিং এজেন্সির ওপরই আক্রমণ করা হতে থাকে| পৃথিবীর অন্য কোথাওসম্ভবত এমন হয়না| আর সেজন্যই আমি কখনও কখনও মনে করি, আমাদের ভারতীয় জনতা পার্টিরসমালোচনা হওয়া উচিত| খুব ভালোভাবে করা উচিত| আপনাদের অধিকার| মোদিরও সমালোচনা করাউচিত| খুব ভালোভাবে করা উচিত| চুল ছিঁড়ে দেওয়া উচিত| গণতন্ত্রে আপনাদের সম্পূর্ণঅধিকার রয়েছে| কিন্তু বিজেপি ’র নিন্দা করতে করতে আপনারা ভুলে গিয়ে ভারতের নিন্দা করতেশুরু করে দেন| বিষয় থেকে আপনারা সরে যান| আপনারা মোদির ওপর আক্রমণ করতে করতে ভারতেরওপর আক্রমণ শুরু করে দেন| বিজেপি আর মোদি পর্যন্ত আপনারা যা করেন, তা রাজনীতিতেআপনাদের অধিকার এবং আপনাদের তা করা উচিত| কিন্তু এর জন্য কি মর্যাদা লঙ্ঘন করবেন ! এতে দেশের অনেক ক্ষতি হয়েযায়| আর এটা ঠিক যে আমার মতো মানুষ এখানে বসে আছে, তার স্বীকৃতি আপনারা কখনও দেবেননা| কীভাবে স্বীকৃতি দেবেন| কখনও স্বীকার করবেন না| আপনাদের কষ্ট আমি বুঝতে পারি|কিন্তু দয়া করে দেশের ক্ষতি হোক, বিশ্বের কাছে দেশ সম্পর্কে ভাবনা খারাপ হোক…|এখানে একটি বিষয় উঠে আসছে| রাষ্ট্রপতিজি তাঁর ভাষণে নিউ ইন্ডিয়ার কল্পনা করেছেন|স্বামী বিবেকানন্দজিও নব ভারতের আলোচনা করেছিলেন| মহাত্মা গান্ধীজিও ইয়ং ইন্ডিয়ারকথা বলেছিলেন| আমাদের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতিজিও যখন পদে ছিলেন, তখন তিনিও নতুনভারতের ধারণার কথা বলেছিলেন| তাই আমি জানিনা এতে কি সমস্যা হচ্ছে| আমাদের নিউইন্ডিয়া চাইনা| আমাদের তো সেই ভারত চাই, আমাদের পুরনো ভারত চাই| আমি তো মনে করিযে, আমাদের গান্ধীওয়ালা ভারত চাই| আমিও গান্ধীওয়ালা ভারত চাই| কেননা গান্ধীজিবলেছিলেন, এখন স্বাধীনতা পাওয়া গেছে, এখন কংগ্রেসের আর কোনো প্রয়োজন নেই|কংগ্রেসকে ভেঙ্গে দেওয়া উচিত| কংগ্রেস-মুক্ত ভারতের ভাবনা মোদি ’র নয়, গান্ধীজির|আমরা তো সেই পদচিহ্ন ধরে এগিয়ে চলার চেষ্টা করছি| এখন আপনাদের সেই ভারত চাই| আপনারা,বলছেন আমাদের সেই ভারত চাই| তাহলে কি সেনার জিপ কেলেঙ্কারির ভারত, নাকি ডুবোজাহাজকেলেঙ্করির ভারত, নাকি বোফর্স কেলেঙ্কারির ভারত, নাকি হেলিকপ্টার কেলেঙ্কারিরভারত| আপনাদের নিউ ইন্ডিয়া চাই না, আপনাদের সেই ভারত চাই| আপনাদের কি সেই ভারতচাই, ইমার্জেন্সির সময়কার, জরুরি অবস্হাকালীন সময়ের, দেশ কে জেলখানা বানিয়ে দেওয়ারসময়কার| জয়প্রকাশ নারায়ণ, মোরারজি ভাই দেশাইদের জেলে বন্দি করে রাখা, দেশের লক্ষলক্ষ মানুষকে জেলে বন্দি করে রাখা, ইমার্জেন্সির ভারত চাই| এরকম চান আপনাদের ভারত|গণতান্ত্রিক অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া, দেশের সংবাদপত্রে তালা লাগিয়ে দেওয়া| এই ভারতআপনারা চান| আপনাদের… আপনাদের কী ধরনের ভারত চাই, সেই ভারত কি, বড় গাছ পড়েযাওয়ার পর… বড় গাছ পড়ে যাওয়ার পর, হাজার হাজার নির্দোষ শিখকে হত্যা করা হয়|আপনাদের…আপনাদের নিউ ইন্ডিয়া চাই না| আপনাদের ভারত চাই| সেই ভারত… আপনাদের সেইভারত চাই| আপনাদের সেই ভারত চাই, যে তন্দুর কাণ্ড হয়ে যায়, আর প্রভাবশালী মানুষেরসামনে প্রশাসন নুয়ে পড়ে| সেই ভারত চাই| হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ীকেবিমানে বসিয়ে… বিমানে বসিয়ে তাকে দেশের বাইরে নিয়ে যায়| এই আপনাদের ভারত চাই|দাভোসে… দাভোসে আপনারাও গিয়েছিলেন, দাভোসে আমিও গিয়েছিলাম| কিন্তু আপনারা…আপনারা কারো চিঠি নিয়ে কাউকে পাঠাতেন| আপনাদের সেই ভারত চাই| আর সেজন্যই আপনাদেরনিউ ইন্ডিয়া চাই না|
যেখানে জনধন যোজনার কথা রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেছেন|আপনারা জনধন নিয়েও আলোচনা করেছেন, বলেছেন এটা তো কিছুই নয়, আগেই হয়েছে| আমি চাইযে, অন্তত তথ্যকে যেন আমরা স্বীকার করি| রাজনৈতিকভাবে যা বলার তা বলে যান| যখনআমরা ৩১ কোটি জনধন একাউন্ট-এর কথা বলি| তার সবগুলোই হচ্ছে ২০১৪ সালে আমাদের সরকারগঠন হওয়ার পরের সময়ের কথা… আর সেই রেকর্ড কেউ পাল্টাতে পারবে না| এই রেকর্ডপাওয়া যায়, আর সেজন্য আমি চাই যে, তথ্যকে কিছুটা ঠিকঠাক করে নিলে ভালো হবে| আপনারাএটাও বলেছেন যে, আমি নেম চেঞ্জার (নাম পাল্টানোওয়ালা), গেম চেঞ্জার (কাজপাল্টানোওয়ালা) নয়|
আমাদের কাজকর্ম দেখলে এবং সত্যি বলতে গেলে, আপনারাবলবেন যে আমরা তো এইম চেঞ্জার (লক্ষ্য পাল্টানেওয়ালা)| আমরা লক্ষ্যের পিছু ধাওয়াকরার মানুষ, আর লক্ষ্য আমরা অর্জন করেই থাকি| আর সেজন্য আমরা যে লক্ষ্য নির্ধারিতকরি, সেই লক্ষ্য সময়মত পার করার জন্য পথ-নির্দেশ তৈরি করি, সংস্থান পৌঁছে দেই,কঠোর পরিশ্রম করি| যাতে দেশকে সমস্যা থেকে মুক্তি দেওয়ার পথে কিছুটা আমরাও যোগদান করতেপারি| আর সেজন্য কংগ্রেসের এই আকুলতা স্বাভাবিক, ভাই… আমাদের জয়-জয়কার করো,আমাদের বারেবারে মনে করো, সব জায়গায় আমাদের মনে করো —আপনাদের এই ইচ্ছা হওয়া খুবই স্বাভাবিক|আর এখন এইসব শুনতে শুনতে আপনাদের অভ্যাসও হয়ে গেছে যে, এ ছাড়া আরও কোনো বিষয় ভেতরেমানানসই হয়না|
আমি খুশি হবো, আর আপনারাও রেকর্ড পরীক্ষা করে নেবেনযে, পনেরোই আগস্টে লালকেল্লাতে আপনাদের যতজন প্রধানমন্ত্রীকে, কংগ্রেস পার্টিরপ্রধানমন্ত্রী যিনিই দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, তাঁর ভাষণে কোনো অন্য সরকারের,অন্য কোনো রাজ্য সরকারের দ্বারা দেশের ভালোর জন্য করা কোনো কাজ যা হয়েছে, তারউল্লেখ করা হয়নি| একমাত্র আমিই যে কিনা লালকেল্লা থেকে বলি, দেশ আজ যেখানেপৌঁছেছে, তা এখন পর্যন্ত থাকা সব সরকারের অবদানের জন্য, সমস্ত রাজ্য সরকারগুলোর অবদানেরজন্যও| আর এতে কোনো সংকোচ হওয়া উচিত নয়| আর আমরা এজন্য বিচলিত নই যে, আপনারা অটলজি ’র নাম স্মরণ করুন,আমরা বিচলিত নই| আপনারা বাধ্য হয়ে যদি বলেন, তাহলে ঠিক আছে| আপনাদের যা ঠিক মনেহয়, নাম আপনারা দিন| আর আপনারা এও বলেছেন, ২০১৪ সালের আগে যা কিছু হয়েছে, তা আপনাদেরখাতায় চলে গেছে| কৃতিত্ব নেওয়ার খুব ইচ্ছা হচ্ছে| আর আপনাদের নিয়মটাও খুব অসাধারণ|যখন আমি ছোট ছিলাম তখন দেখতাম গ্রামের ছোট ছোট বাচ্চারা ক্রিকেট খেলতো, আর শেষপর্যন্ত দেখা যেতো যে ঝগড়া শুরু হয়ে গেছে| তখন আমি আশ্চর্য হতাম যে, এক্ষুনি এরাখেলছিল আর এক্ষুনি আবার ঝগড়া করছে| তো শেষে দেখলাম, যে তাদের মধ্যে একটা নিয়ম ছিল,ব্যাটটা যার ছিল সে ব্যাটিং করতো, আর যখনই সে আউট হয়ে যেতো, সে বলতো, না ভাই, আমিচলে যাচ্ছি| আপনারাও এরকমই, ব্যাটিং শুধু আপনারাই করবেন নাকি| আর যদি ব্যাটিং নাপাওয়া যায়, তাহলে খেলা শেষ, চলে যাচ্ছি, এরকম হয়না ভাই|
আধার-এর কথা আসে| তাহলে আপনারা বলেন, কাজ আমাদের আরআপনি কৃতিত্ব নিয়ে যাচ্ছেন| ভালো, যদি আপনারা তা বলে থাকেন| কিন্তু আপনাদের এটামনে রাখা উচিত| আর আমি চাইবো ৭ জুলাই ১৯৯৮, এই সংসদে, তখন সভাপতি মহোদয় সদস্যছিলেন, আর একজন সদস্য হিসেবে তিনি প্রশ্ন করেছিলেন, তখনকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রীলালকৃষ্ণ আদবানিজি জবাব দিয়েছিলেন, সেই জবাবে তিনি বলেছিলেন, বহুমুখী জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করা হবে পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেশন কার্ড, হেলথ কেয়ার,শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া, পাবলিক প্রাইভেট সেক্টরে কাজ, জীবন ও সাধারণ বিমারপাশাপাশি জমির রেকর্ড এবং শহুরে সম্পত্তির মালিকানার ক্ষেত্রে| আধার-এর বীজসেখানেই ছিল|
কুড়ি বছর আগে…
মাননীয় সভাপতিজি আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি যে,রেনুকাজিকে কিছু বলবেন না, রামায়ণ ধারাবাহিকের পর এ ধরনের হাসি শোনার সৌভাগ্য আজইহয়েছে|
কুড়ি বছর আগে এই স্বপ্ন অটল বিহারী বাজপেয়িজির ছিল|কিন্তু কংগ্রেস বলছে যে, আধার তারাই শুরু করেছে, তাহলেও আপনাদের কৃতিত্ব দেওয়ারক্ষেত্রে আমাদের কোনো সমস্যা নেই| আধার আপনাদের|
আমি দলের আগে দেশকে রাখি| আর আমার নির্ণয়ের মূল ভিত্তিদেশের ভালোর প্রতি থাকে| আজ কৃতিত্ব দাবী করার জন্য আপনারা অধৈর্য, এটা খুবস্বাভাবিক| এস.আই.টি. তৈরি করার জন্য সুপ্রিম কোর্ট আদেশ দিয়েছিল| আপনারা তিন বছরপর্যন্ত এর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেননি, সেই কৃতিত্ব আপনাদেরই হওয়া উচিত| আর আমরাপ্রথম এস.আই.টি. গ্রহণ করেছি, কিন্তু আপনারা বলতে পারেন আমাদের সামনে এই বিষয়এসেছিল|
কালো টাকার বিরুদ্ধে কাজ করার কৃতিত্বও কংগ্রেস গ্রহণকরুক| কংগ্রেস ২৮ বছর পর্যন্ত বেনামি সম্পত্তি আইনকে কার্যকর করেনি| সেটার কৃতিত্বওআপনারা নিয়ে নিন| আর এখন পর্যন্ত ৩৫ শো কোটি টাকার বেশি সম্পত্তি —আপনাদের জানা উচিত,মননীয় আনন্দজি আপনি দীর্ঘক্ষণ থেকে এখানে বসে আছেন এবং আপনার বলার একটা বিশেষেস্টাইল রয়েছে| আপনি তো বরফের ছোরা বানিয়ে ঢোকাতে পারেন, বোঝাই যাবে না| কিন্তু এইবেনামি সম্পত্তির আইন ২৮ বছর আগেই পাশ হয়ে গেছে, সব কক্ষেই পাশ হয়ে গেছে| কিন্তুতার রুলস বানানো হয়নি, বিজ্ঞপ্তি করা হয়নি, আর আটকে ছিল| কে আটকে ছিল, এতে কোনোবিপক্ষ-টিপক্ষ দায়ী ছিলনা| জানার জন্য| আমার ভালো লেগেছে আপনার মতো বিদ্বানেরাওকিছু…
এখন পর্যন্ত ৩৫ শো কোটি টাকার বেনামী সম্পত্তিবাজেয়াপ্ত করা হয়েছে| এখন আপনার সময়ে এতো বেশি বেনামী সম্পত্তি হয়েছে, তাহলে তো কৃতিত্বপাওয়াই উচিত.. কৃতিত্ব তো পাওয়াই উচিত| আপনাদের জন্য এসব কিছুই কৃতিত্ব| গোটাদুনিয়া বদলে গেছে, ইনসলভেন্সি কোড, ব্যাঙ্করাপ্সি ল ’| আমি মনে করিনা যে, আপনাদের তা জানাছিলনা| কিন্তু আপনাদের কৃতিত্ব হওয়া উচিত যে, অনেক মানুষের সুবিধার ছিল, কিন্তুআপনারা তা করেননি| কৃতিত্ব আপনাদের হওয়া উচিত| দেশের শিল্প ক্ষেত্রে বিশ্বসম্প্রদায়ের ভারতের প্রতি বিশ্বাস তৈরি হোক, ভারতের আইন কানুনের প্রতি বিশ্বাসতৈরি হোক| আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি| এক পদ এক পেনশন চার দশক পর্যন্ত দেশের চোখেধুলো দিয়ে যাচ্ছিল আর ৫০০ কোটি টাকার বাজেট দিয়ে নির্বাচনে চলে যায়| এমনই পরিবেশহয়েছিল, কি করা| এখন যখন আমরা এসেছি তখন, আমরা দেখলাম যে রেকর্ড পর্যন্ত নেই কোনোবিষয়ের, গভীরভাবে সমীক্ষা পর্যন্ত করা হয়নি| আর যখন আমরা চালু করেছি, ১১ হাজারকোটি টাকার প্রয়োজন হয়, ১১ হাজার কোটি টাকার| আপনারা ৫০০ কোটি দিয়ে কীভাবে দিয়েদিতেন| তো এই কৃতিত্ব সমস্ত আপনাদেরই হবে| জি.এস.টি. ’র জন্যমাঝরাতে বৈঠক হলো| কংগ্রেস একে বয়কট করলো| সমস্ত দল এলো| আর আপনাদের এটা মনে হতেলাগলো যে, এর কৃতিত্ব আমাদের হয়ে যাবে… আর আপনারা মেনে নিন অথবা না মানুন,জি.এস.টি. নিয়ে আপনারা যা কিছু করছেন, এর যত নেতিবাচক বিষয় ছিল সেগুলো আপনাদেরখাতায় জমা হচ্ছিল, আর হতে থাকবে, আর দেশের জনগণের মাথায় তা ঢুকে যাবে| আপনারাভাবুন, কৃতিত্ব কেউ নিয়ে না যায় এই চিন্তা… আর নিজের কৃতিত্ব পেয়ে যাচ্ছিলেন|
যখন নীম কোটিং-এর কথা এলো| আপনাদের দিক থেকে বলা হলো,আপনারা শুরু করেছেন| দেখুন বিষয়গুলো আপনারা অল্পস্বল্প শুরু করে ছেড়ে দিলেন| আরআপনারা তাতে ক্যাপ লাগিয়ে দিলেন যে, এর চেয়ে বেশি দেওয়া যাবেনা| তখন সেই যোজনারলাভ থেকে ক্ষতিই বেশি হয়| নীমু কোটিং-এর পেছনে দু ’টি বিষয় ছিল| যা আপনারাও জানতেন| এক,ইউরিয়ার শক্তি বেড়ে যায়| তাই কম ইউরিয়ায় কৃষকের কাজ চলে যায়| দুই, গুণগত মানেপরিবর্তন আসে, যার ফলে উত্পাদন বেড়ে যায়| এটা স্বীকৃত বিষয় ছিল| আর তাছাড়া ইউরিয়াকৃষকদের কাছে যাওয়ার পরিবর্তে কারখানায় চলে যেতো| বিল কিন্তু কৃষকদেরই দিতে হতো|ভর্তুকি কৃষকদের নামেই যেতো| আর চলে যেতো কারখানায়| এখন একশ শতাংশ নিমু কোটিংহচ্ছে| তাতে তা কোনো কারখানায় কাজে লাগছে না| আপনারাও জানতেন| ৩৫ শতাংশ করে ৬৫শতাংশের দরজা কার জন্য খুলে রেখেছিলেন| এই কৃতিত্ব আমি কাকে দেবো?
আর সেজন্য মনে করি যে, ১০০ শতাংশের পেছনে আমরা লেগেরয়েছি| শুধু তাই নয়, আমদানি হয়ে যেসব ইউরিয়া আসে, সেগুলোও আসার আগে তাতে নিম কোটিংহয়| এটা সেজন্যই হয়েছে, কেননা এখন ইউরিয়ার কোনো ঘাটতি হয়না| নইলে আমি যখনমুখ্যমন্ত্রী ছিলাম, তখন আমাকে প্রতি বছর দু ’-তিনটি চিঠি প্রধানমন্ত্রীকে ইউরিয়ার জন্যলিখতে হতো| আমি যখন এখানে এসেছি, তখনও প্রথম দিকে মুখ্যমন্ত্রীদের কাছ থেকেইউরিয়ার জন্য চিঠি আসতো| এখন আর একটাও চিঠি আসেনা| কোনো লাঠিচার্জও হয় না| ইউরিয়ামানুষ পাচ্ছেন| কিছু বিষয় বদলে দেওয়া যায়| আমি এটা বলতে চাই, কখনও কখনও রাজনীতিএতোটাই প্রভাবশালী হয়ে থাকে যে, আর এই বিষয়টি সঠিকই যে, বারবার নির্বাচন, বারবারনির্বাচনের ফলে কোনো যোজনার কাজ শেষ হোক বা নাই হোক, আমরা শিলান্যাস করে দিই| ফিতাকেটে দিই, তক্তা লাগিয়ে দিই| আর এর পরিণাম কী হয়েছে| এখন দেখুন আমাদেরকে রেলেরবাজেটে নতুন ঘোষণা বন্ধ করতে হলো| রেলের বাজেট তো মঞ্জুর হয়ে গেলো, কিন্তু যখন আমিদেখলাম রেলের বাজেটে আগের সরকার পনেরোশো ’র বেশি এমন ট্রেনেরযোজনা মঞ্জুর করে দিয়েছিল, পরে যেগুলোর দেখার জন্যও কেউ ছিল না| এমনি এমনি ঘোষিতহয়ে যেতো| কিছুদিন সভায় হাততালি পড়ল| কোনো পত্রিকায় ছাপা হয়ে গেল| সেই এম.পি. ঘরেগিয়ে মালা পরে নিলেন, হয়ে গেল| এই সংস্কৃতিতে দেশের অনেক ক্ষতি হয়েছে|
আর আপনারা জেনে আশ্চর্য হবেন, আমি একটা প্রগতিটেকনোলজি ’র ব্যবহার করে উদ্যোগ নিয়েছিলাম| আর আমি সমস্ত থেমে থাকা প্রকল্পেরপর্যালোচনা করতে থাকি| সব রাজ্যের মুখ্য সচিব থাকেন অনলাইনে, ভারত সরকারের সব সচিবথাকেন অনলাইন, আর আমি অনলাইনে সবার সঙ্গে আলোচনায় বসি| আপনারা জেনে বিস্মিত হবেন,এমন সব প্রকল্প সামনে এসেছে, যেগুলো ৩০ থেকে ৪০ বছর আগে স্থির হয়েছিল|ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপিত হয়ে যায়| পরে কাগজে এর কোনো চিহ্নই নেই| এরকম, যখন আমিএক-এক করে পর্যালোচনা করতে শুরু করলাম, সমস্ত ডিপার্টমেন্ট-এর তথ্য একসঙ্গে নিয়েআসতে থাকলাম, আমি এটা করিনি যে, আগের সরকার ছিল, আমার কোনো দায়িত্ব নেই, না, তাকরিনি| এটা দেশের বিষয়, ধারাবাহিকতা, সরকার আসে, যায়, আপনি বসুন, অন্য কেউ বসুন,তৃতীয় কেউ বসুন, এটাকে তো বন্ধ করা যায়না| গণতন্ত্র, কিন্তু সরকারে এই মানসিকতাচলে না যে, এটা তো জয়রাম রমেশের সময় হয়েছিল, না, একে তালা লাগিয়ে দাও| এমন হয়না|আমি খুঁজে বের করেছি, আপনারা বিস্মিত হবেন যে, ৯ লক্ষ কোটি টাকার বেশি প্রকল্প আমিএখন পর্যন্ত পাশ করেছি| সমস্ত মন্ত্রককে যুক্ত করেছি যে, ৩০-৪০ বছরের পুরনো হোক,যা হোক| এখন সেইসব প্রকল্প সেসময় হয়ে যেতো, তাহলে হয়ত কিছু হাজার কোটি টাকায় হয়েযেতো| কিন্তু আজ ৯ লক্ষ, ১০ লক্ষ কোটি টাকার প্রজেক্ট হয়ে গেছে| আর সেজন্য এই কাজযা আমরা করছি| সরকার আপনারাও চালিয়েছেন, আমরাও চালাচ্ছি| আর যারাই সরকারে আসে,তাদেরকেই চালাতে হয়| তাদের দায়িত্ব| কিন্তু বিষয়গুলোকে ভালোভাবে চালানো , আর এই যে সমস্ত জায়গায় ভিত্তিপ্রস্তর, আপনাদের নামের, যেসব প্রস্তর হয়তকোথাও কোথাও চুরিও হয়ে গেছে| কিন্তু কৃতিত্ব সমস্ত আপনাদের কাছেই যেতে হবে|যোজনাগুলো আপনাদেরই|
এখানে যখন আমাদের আজাদ সাহেব খাদ্য নিরাপত্তা বিলেরকথা বলেছেন, এবং তারিখের সঙ্গে বলেছেন| আমি আপনার কাছে প্রশ্ন করব, যেকেউ প্রশ্নকরবে, আপনি যে তারিখ বলেছেন, আমরা তো তার পরে এসেছি| এক বছর পরে এসেছি| এক বছরেআপনারা কেনো হতে দেননি| আর আপনারা সুপ্রিম কোর্টের কথা শুনিয়ে প্রশ্ন করেছেন যে,সুপ্রিম কোর্ট প্রশ্ন করেছে| আপনাদের জানা উচিত যে, কেরালায় যেখানে আপনাদের সরকারছিল, তারাতো এটাকে স্বীকৃতিই দেয়নি| সুপ্রিম কোর্ট ডান্ডা দিয়েছিল| কিন্তু আপনারাএখন সেটাও আমাদের ওপর দিয়ে দিচ্ছেন| আপনাদেরই করা উচিত ছিল| আর আমি মনে করি, যাআমরা স্থির করি তা সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েই করা উচিত|
এখন সারের কারখানা খোলার ক্ষেত্রে তো আপনারা বলছেন,আমাদের সময়ে হয়েছিল, আমাদের আমলে হয়েছিল| কিন্তু বন্ধ হয়ে যাওয়াটাও আপনাদের সময়েইহয়েছিল| হাজার হাজার মানুষ বেকার হয়েছিলেন আপনাদের সময়েই, সেটারও কৃতিত্ব নিয়েযান| আর সেজন্য আজ আমরা তা বলব ৎ করছি, আর নীতিগত পরিবর্তনকরে করছি| আজ দেখুন, উত্তরপ্রদেশে গোরখপুর, বিহারে বরৌনি, ঝাড়খণ্ডে সিঙ্গরি, এইসবইউরিয়ার কারখানা যেগুলো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, সেগুলোকে দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ারজন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি| জগদীশপুর-হলদিয়া, গ্যাস পাইপ লাইন তার সঙ্গে আমরা তাকেজুড়ে দিয়েছি| এই নীতিগত পরিবর্তন করেছি, যাতে তারা গ্যাস পেয়ে গেলে কারখানাচালানোয় সুবিধা হয়ে যাবে| আর সেটা দেশের সেই এলাকা, যেখানে এই ধরনের ব্যবস্থা করলেপূর্ব ভারতের উন্নয়নের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে| আর তা এমন রাজ্য নয়, যেখানে ভারতীয়জনতা পার্টির ঝান্ডা উড়ছে| দেশের জন্য প্রয়োজন হচ্ছে পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোরউন্নয়ন| দেশের ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন হতে হবে| এই সহজ সরল উন্নয়নের থিওরির ওপরভিত্তি করেই আমরা কাজ করছি| আর আমার বিশ্বাস যে, আপনারা এইসব বিষয়গুলোকে তারিফকরবেন|
আমাদের মাননীয় সদস্য শ্রী অমিত শাহ ’র ভাষণ হয়েছে| আরআমার ভালো লেগেছে যে, আজাদ সাহেব তাতে খুঁজে বের করে বলেছেন, আপনি এতো লম্বা ভাষণদিলেন কিন্তু সর্দার প্যাটেলের নাম কেন নিলেন না| আমার ভালো লেগেছে যে, আপনিসর্দার সাহেবকে স্মরণ করেছেন|
সম্প্রতি গুজরাতে নির্বাচন হয়েছে| এই নির্বাচনে আমাদেরবাবু ভাই বসেছিলেন, যেখানে সর্দার প্যাটেল কংগ্রেস পার্টির সমস্ত লেখায় সর্দারসাহেব ছিল| আমার এতো ভালো লেগেছে যে, আচ্ছা ঠিক আছে, অনেক বছরের পর এই দিনও এসেছে|কিন্তু যখন আমি এটা ভাবছিলাম যে, এই পরম্পরা হয়ত চলতে থাকবে, কিন্তু গুজরাটেরনির্বাচন শেষ হলো আর যেখানে আপনাদের দলের কর্মসূচি ছিল, এখনও সেই পুরনো চিত্র দেখাযেতে পারে| পেছনের ব্যাকড্রপে কোথাও সর্দার সাহেব নেই| আর এই সময় পত্রিকাতে লিখেছেযে, এক সপ্তাহের পর আপনাদের যেখানে কর্মসূচি চলছিল, সেখানে সর্দার সাহেব গায়েব হয়েগেছেন| আর এটাও মনে রাখুন আমরা সর্দার সাহেবের নাম দেওয়া, আমাদের অধ্যক্ষজি উল্লেখকরেননি| তা আপনি ব্যবহার করার প্রচেষ্টা করেছেন, এটাও মনে করুন যে, সর্দার সাহেবকেএবং বাবা সাহেব আম্বেদকরকে ভারত রত্ন কখন দেওয়া হয়েছে| এতো বছর কেন চলে গেল| আরসেজন্য আপনারা আলোচনা করুন, দোষারোপ করুন| আর এটা রাষ্ট্রপতিজি ’র অভিভাষণের বাইরেরবিষয় ছিল, কিন্তু তার পরও আপনি তা তূলেছেন, তো ভালো কথা, তুলেছেন| কিন্তু যখনআপনারা কোনো বিষয় উঠান, তখন চারটি আঙ্গুল নিজেদের দিকে থাকে, তা ভুলবেন না, এটাইআমার… আপনারা বিস্মিত হবেন …আপনারা এমন ভাবে… দেশ জুড়ে এমনভাবে কাজ হয়েছে,হয়ত আপনাদের কাজের পদ্ধতিতে এমন সূক্ষ্মভাবে দেখার অভ্যাস ছিলনা|
আমার সৌভাগ্য যে আমি দীর্ঘ সময় ধরে মুখ্যমন্ত্রীছিলাম| আর সেজন্য… আজাদ সাহেবও মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তো জানেন যে অনেক গভীরভাবেদেখতে হয়| শরদ রাও দীর্ঘ সময় মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তাঁরও জানা আছে যে, অনেকগভীরভাবে দেখতে হয়| মুখ্যমন্ত্রী এদিক-ওদিক যেতে পারেন না, তাকে অনেক বিস্তৃতভাবেদিতে হয়| আর আমরা যারা মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম, তাঁদের সব জানা আছে| কিন্তু এখানে তোমুখ্যমন্ত্রী অনেক কম আসেন| যারা আসেন তার ছোটখাটো কোনো দফতর নিয়ে বসে থাকেন| আমারওপর অনেক বড় দায়িত্ব এসে পড়েছে| আর সেজন্য সেই অভ্যাস আমার কাজে আসছে|
আমাদের দেশে আগের বছরগুলোতে যা সেচের প্রকল্প হয়েছিল,তাতে বাঁধ হয়ে তৈরি হয়ে গেছে| কিন্তু জল কেন? ক্ষেতের জন্য তো আমরা নেটওয়ার্কইতৈরি করতে পারিনি| ৪০-৪০, ৫০-৫০ বছর, অর্থাত কেউ কল্পনা করে দেখুন, ছয় তলা বাড়িতৈরি করে দিয়ে তাতে সিঁড়ি নেই লিফ্টও নেই| এই ধরনের কাজ কীভাবে হয়ে গেল| আমিসেগুলোর থেকে ৯৯টিকে চিহ্নিত করেছি| হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে কাজ শুরুকরেছি| জল যাতে কৃষকদের কাছে পৌঁছাতে পারে সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেছি| আর ৫০টিপ্রকল্প সম্পূর্ণ হয়ে গেছে এবং বাকিগুলো দ্রুতই যাতে সমাপ্ত হয়ে যেতে পারে সেইলক্ষ্যে কাজ চলছে|
প্রশ্ন হচ্ছে আপনারা বানিয়েছেন,–বানিয়েছেন, ভালো কাজকরেছেন —ভালোকরেছেন, কিন্তু চিন্তাধারা অসম্পূর্ণ কাজ অসম্পূর্ণ, আর টাকা গেল, ফল পাওয়া গেলনা| আরও ভালো হতো যদি ব্যাপক হতো, সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি হতো, সামগ্রিক হতো| তাআপনাদের আমলে যেসব কাজ হয়েছে, সেগুলোই যদি সম্পূর্ণ করা হতো, তাহলে দেশের ভালোহতো| আপনারা করেননি, তা আমি বলছি না| কিন্তু কিছু করার মত কাজ কীভাবে করা উচিত,তাতে অনেক বড় ঘাটতি রয়ে গেছে| যাদের ভালো কাজ করার সুযোগ এসেছে, তাদের দায়িত্ব হয়যে বিষয়গুলো….
আর সেজন্য দেখেছেন হয়তো, আমরা এসে এক বড় পরিবর্তনকরেছি… আমরা আমাদের দেশে বেশিরভাগ বাজেট বরাদ্দ হওয়া অর্থাত সেখান থেকেইবেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সন্তুষ্ট হওয়া হতো| তালি দেওয়া হতো, তা বরাদ্দ হয়ে যেতো|ব্যয়ের দিকে দেখার সংখ্যা খুব কমই| এরফলে কী হয়েছে, তা দেখার সংখ্যা আরও কম|পরিণতিতে কী হয়েছে, তার কোনো আলোচনাই হতো না| আমরা সমস্ত কর্মসংস্কৃতি এমন বানিয়েদিয়েছি| এই সরকার আগ্রহ দেখিয়েছে, আর পার্লামেন্টে রাখে পরিণতির প্রতিবেদন, যাতেটাকা যে কাজের জন্য বের হয়েছিল, সেই কাজে লেগেছে কি লাগেনি| আর সেজন্য পরিণতিতেজোর দেওয়া দিকে আমাদের প্রয়াস থাকা উচিত|
এখানে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে|আমি আশ্চর্য হয়েছি যে, কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার ক্ষেত্রে কার আপত্তি থাকতে পারে|কোনো আপত্তি থাকতে পারেনা| আর আমরা এজন্য নয় যে, এর সঙ্গে কোনো রাজনীতি রয়েছে,এখানে বসে থাকা সমস্ত ব্যক্তির মনেই এই ধারণা আছে যে, ভারী এই এক কাজ যা আমাদেরকরতে হবে| এখন তা কীভাবে হবে| জমির ভাগাভাগি বাড়ছে| পরিবারের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়,যদি পরিবারে ১০ বিঘা জমি থাকে, তাহলে তার ছেলেমেয়েদের মধ্যে তা কমে ২ বিঘা, ১বিঘাতে এসে দাঁড়ায়| তাতে সমস্যা বৃদ্ধি পায়| তাতে আমাদের প্রযুক্তি নির্ভর কৃষিরদিকে যেতেই হবে| আমাদের আধুনিক হতেই হবে| আর আমরা যদি তা করি তাহলে পরিবর্তন আসবে|মৃত্তিকা স্বাস্থ্যপত্র এক প্রয়াস| প্রতি ফোঁটায় আরও বেশি ফসল, লঘু সেচ এক প্রয়াস|স্প্রিংকলার… এমন এক সময় ছিল যখন আমাদের দেশে বন্যার জল ছাড়া আখ-এর ফসল হতই না|সেটা প্রথাগত ছিল| তখন ভাবা হতো যে আখের ক্ষেতের জন্য জমি একদম জলে পরিপূর্ণ হওয়াভালো| কিন্তু অভিজ্ঞতা থেকে… আমি তো গুজরাতে ছিলাম… আমার তো নিয়ম ছিলস্প্রিংকলার দিয়ে আখের চাষের ফলাফল খুব ভালো হয়েছে| ধীরে ধীরে দেশ জুড়ে তো জলবাঁচবে| এ ধরনের অনেক প্রয়োগ আছে| আগে সবার জানা ছিল, কলার ক্ষেত যারা করতেন, কলারফল পাওয়ার পর তার যে গাছ থাকত, সেটাকে পরিষ্কার করার জন্য তাকে পয়সা দিতে হতো| একএকরে ৫ হাজার, ১০ হাজার, ১৫ হাজার দিতে হতো|
আমাদের এখানে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এনিয়ে যে কাজ করেছে —তাতে কলার গাছ থেকেতার ফাইবার বের করেছে, সুতো বানিয়েছে, কাপড় তৈরি করেছে| আর খুব ভালো গুণমানের কাপড়তৈরি হচ্ছে| শুধু তাই নয়, যেখানে শুকনো জমি রয়েছে সেখানে এগুলো কেটে রেখে দিলে ৯০দিন পর্যন্ত সেখানে জল ছাড়াই গাছপালার বৃদ্ধি হয়| যা বর্জ্য ছিল, তা এখন সম্পদেপরিণত হয়েছে| এখন মানুষ এটা নেওয়ার জন্য আসেন, আর তার জন্য একর প্রতি ১০ হাজার, ১৫হাজার টাকা দিয়ে যাচ্ছেন| আমাদের দেশে কৃষির যে বর্জ্য রয়েছে, সেদিকেও যদি আমরাগুরুত্ব দিই, তাহলেও আমরা তাঁদের আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারি| আর দেশ যদিচিনি… আমাদের দেশে চিনি বেশি হয়ে গেলেও কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, চিনি কমে যায়তাহলেও কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন| এক্ষেত্রে বেশিরভাগ কৃষকদের দ্বারা চালানো ফেক্টরি|এখন আমরা ইথানল ১০ শতাংশ করে দিয়েছি| এর জন্য যখন এই চাপ আসবে চিনির বাজারে,বৈশ্বিক প্রভাব থাকে যদি তাহলে ইথানলের দিকে সরিয়ে দিলে কৃষকদের সুরক্ষার সম্ভাবনাহয়ে যাবে|
কিষান সম্পদ যোজনাও| আমরা জানি লক্ষ কোটি টাকা আমাদেরএর জন্য নষ্ট হচ্ছে যে, ক্ষেত থেকে বাজার পর্যন্ত এই শৃঙ্খলায় কোনো না কোনো দুর্বলঅংশ রয়েছে| পরিকাঠামোর অনেক ধরেনর দুর্বলতা থাকে| আমাদের বীজ থেকে বাজার পর্যন্তযখন ব্যাপক দৃষ্টিভঙ্গি হবে, তখন প্রয়াস হবে এবং আমরা সেজন্যই সেই লক্ষ্যে কাজকরছি|
আমি মনে কি, ই-নাম যোজনা হোক, ই-নাম যোজনা তো এখন শুরুহয়েছে| কিছু রাজ্য রয়েছে যারা এ.পি.এম.সি. আইনে যে পরিবর্তন করা প্রয়োজন ছিল, তাকরেনি| কিন্তু প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা ই-নামের ওপর অনলাইন বিক্রি করেকৃষকরা করছেন| ৩৬ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা খুব বড় বিষয়, শুভ সূচনা| তা সেটা আমিমনে করি অনেকটা এগিয়ে যাবে|
আমাদেরকে মূল্যযুক্ত করার দিয়ে যেতে হবে| কৃষক যদিসবুজ লঙ্কা বিক্রি করে তাহলে খুব কম টাকা পাওয়া যায়| কিন্তু লঙ্কা যদি লাল হওয়াপর্যন্ত থাকে, তাহলে তা লাল হয়ে পাউডার হয়| পাউডার হয়ে প্যাকিং হয়, আর যদি খুবভালোভাবে ব্র্যান্ডিং করা হয়, তাহলে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি পায়| আমাদের মূল্যযুক্তকরার দিকে যেতে হবে|
আমাদের কৃষকদের ব্যবহারিক কাজকর্ম, আজ যদি ক্ষেত্রেমধ্যে সৌরশক্তির ফার্ম যুক্ত করা হয়, তাহলে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি পেতে পারে| সৌরপাম্প তার জন্য বিদ্যুতও উত্পাদন করতে পারে| সৌর পাম্প চালানো যেতে পারে| আর সেইবিদ্যুত রাজ্য সরকার কিনে নিতেও পারে| তাহলে তাদের একটা বড় খরচ কমে যাবে|
আজ আমরা বাঁশ, ব্যাম্বুকে ৯০ বছর ধরে, আপনাদের দোষ নয়|নব্বই বছর ধরে আইন চলে আসছে যে, এটা তো গাছ (ট্রি), একে কাটা যাবেনা| যেখানে গোটাপৃথিবীতে বাঁশকে ঘাস (গ্রাস)-এর পর্যায়ে রাখা হয়েছে| আজ কৃষকগণ তাঁদের ক্ষেতেরসীমান্তে বাঁশ চাষ করতে পারেন| বাঁশের চাষে তাঁর ফসলের কোনো ক্ষতি হয়না| এটা তোবাড়তি আয়| আর ভারত আজ কোটি কোটি টাকার বাঁশ আমদানি করে| আমরা দেশলাইয়ের জন্য বাঁশবাইরে থেকে নিয়ে আসি| ঘুড়ির জন্য বাঁশ বাইরে থেকে নিয়ে আসি| ধুপকাঠির জন্য বাঁশবাইরে থেকে নিয়ে আসি| তাই এটা এক ছোট সিদ্ধান্ত যা কৃষকদের আয় বৃদ্ধিতে শক্তিযোগাবে|
আমাদের কৃষকগণ মৌমাছি —আমি তো আশ্চর্য যে মৌমাছির ক্ষেত্রেকতকিছু করার ছিল, আমরা সেগুলো করতে পারিনি| কেন করতে পারিনি, তা নিয়ে বিস্মিত| এখনআমরা চার বছরে ১১টি ইন্টিগ্রেটেড বী কিপিং ডেভেলপমেন্ট সেন্টার তৈরি করে দিয়েছি|আর মধুর উত্পাদনে ৩৮ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে| এই মধু এখন বিশ্বের বাজারে যাচ্ছে| আরসবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, যেদিকে আমাদের মনোযোগ দেওয়া জরুরি, আজ পৃথিবী হোলিস্টিকস্বাস্থ্য সুরক্ষার দিকে এগিয়ে চলেছে| দুনিয়া এখন পরিবেশ-বান্ধব জীবনের দিকে সচেতনহয়েছে| আর সেজন্য রাসায়নিক মোমের জায়গায় মৌমাছির মোমের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে|আমাদের এই মৌমাছির কাজ অনেক বড় সংখ্যায় মৌমাছির মোমের উত্পাদনে বৃদ্ধি নিয়ে আসতেপারে যে, ভবিষ্যতে আমরা এক্ষেত্রে অনেক বড় বিশ্ব বাজার দখল করতে পারি| আর আমাদেরকৃষকরা এগুলো একটা গাছের নিচেই করতে পারেন —পশু পালন,মত্স্যচাষ, পোল্ট্রি, মূল্যযুক্ত করা —এরকম কিছু বিষয় রয়েছে,যেগুলোকে আমরা একসঙ্গে যুক্ত করে নিয়ে কৃষকদের ঘরে পৌঁছে দেবো| আমি এটা মনে করিনাযে, কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করতে গিয়ে কোনো সমস্যা হতে পারে| কৃষকদের শক্তি বৃদ্ধি হতেপারে| আমাদের সবাইকে সম্মিলিতভাবে প্রয়াস করতে হবে, আর আমরা তা করবো| তাতে ফলঅবশ্যই পাওয়া যাবে| আর আমাদের সেই লক্ষ্যে প্রয়াস হওয়া উচিত|
আজ আমাদের দেশে স্বচ্ছ ভারত অভিযানকে নিয়ে রসিকতা করাহচ্ছে, মেক ইন ইন্ডিয়া নিয়ে রসিকতা করা হচ্ছে, জনধন যোজনা নিয়ে রসিকতা হচ্ছে,আন্তর্জাতিক যোগ দিবস নিয়ে রসিকতা হচ্ছে, কালো টাকা নিয়ে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কেরসিকতা করা হচ্ছে, সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে|
কিন্তু আপনারা আমাকে বলুন, ও.বি.সি. আয়োগের সংবিধানেরমার্যাদা পাওয়াটা… কে এর বিরোধিতা করছিল…এতো বছর ধরেই তো এর দাবি ছিল| আপনাদেরকোনো সমস্যা ছিল হয়ত, তাই এটা করেননি| এই সভায় এটাকে… এই কমিটিতে দাও, ওইকমিটিতে দাও, অভাবে আটকে ছিল| আমরা কি এই কাজটা করতে পারতাম না?
এটা যখন খুলেছে, বিরোধিতা করার যখন কোনো সাহস হয়না,জনতা জনার্ধনকে মোকাবিলা করার শক্তি থাকেনা, আজ ও.বি.সি. সমাজের ভেতরে যেআকাঙ্ক্ষা জেগেছে, আজ ও.বি.সি. সমাজ যে সচেতন হয়েছে, ও.বি.সি. নিজের অধিকারের জন্যময়দানে এসেছে| আর আপনাদের রাজনীতিতে খোলাখুলিভাবে কথা বলার সাহস করত না, সেজন্যভাষণবাজি করে করছেন| কিন্তু এই দেশের ও.বি.সি. সমাজ দেশকে কিছু যারা দেন, তাদেরমধ্যে আছেন, তাহলে তাঁরা যদি কিছু চেয়ে থাকেন, তাহলে আমি চাইবো যে রাজনীতি ছেড়েদিয়ে এবং নতুন নতুন বিষয় যুক্ত করার নামে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করার বদলে একে পাশকরুন|
তিন তালাক… যদি আপনাদের মনে হয় যে, তিন তালাক নিয়েআপনারা যে ধরনের আইন চাইছেন, তাহলে ৩০ বছর আগে যখন বিষয়টি আপনাদের হাতে এসেছিল,তখন কে আপনাদের বাধা দিয়েছে| আপনারা যেভাবে চাইছেন সেভাবে তৈরি করতেন, অন্তত করতেনতো| কিন্তু আপনাদের রাজনীতি… আপনাদেরই মন্ত্রীর ভাষণ ছিল… ছিল সেখানে তিনতালাক কেন বাদ যাওয়া দরকার| কিন্তু যখন চারদিক থেকে আওয়াজ উঠল, রাজনীতি সংকটে পড়েগেলো, ভোট ব্যাংক সমস্যায় পড়ে গেলো, আর হটাত করে সেই মন্ত্রীকেও যেতে হলো, আর এইমিশনকেও শেষ হতে হলো| আর সেজন্য যেসব কারণ বলা হচ্ছে, ভারতের সমস্ত ক্রিমিনালআইনের মধ্যে যেখানে সাজা আছে, সেখানেই এই যুক্তি কার্যকর হতে পারে| যেমন, ভাই ও তোএকজনকে হত্যা করেছে, কিন্তু বাড়ির একমাত্র ছেলে, ত্রিশ বছর বয়স, তাহলে তার জেলেযাওয়ার আইন কেনো তৈরি হলো| বুড়ো মা-বাবা কী খাবেন| হিন্দু দুটি বিয়ে করলে সে জেলেযাবে, তার জন্য সাজা আছে| তখন আপনাদের চিন্তা হয়নি যে, তার পরিবারের মানুষ কিখাবে| আছে সাজা? আর সেজন্য আমি মনে করিনা যে, যেকেউ এ নিয়ে অধ্যয়ন করবে, তাহলে সেআশ্চর্য হবে যে, আপনারা কোন বিষয়ের কথা বলছেন|
কখনও কখনও আমার মনে হয়, হয়ত আমাদের নরেশজি খুবসহানুভূতি দেখিয়েছিলেন, নাকি তিনি সম্মানহানি করছিলেন, তা বলা কঠিন| কিন্তু অনেককিছু বলছিলেন| ভয়, জেল নিয়ে তো আমি ভুক্তভোগী| ১৫ বছর ধরে কী কী ভুগেছেন আমি জানি|কিন্তু আইন আইনের কাজ করবে, নাকি করবে না, আর আপনি এখানে বলছেন, কারো ছেলেকেফাঁসিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তাকে সমস্যা ফেলা হচ্ছে| কতটুকু করা হচ্ছে| আর আমি মনে করি এধরনের আলোচনায় আইনকে উপহাস করা হচ্ছে, নাকি হচ্ছে না| আইন ঠিক করবে যে, কী হবে| আরসেজন্য আমাকে উত্তর দিয়ে সাহায্য করো, এভাবে আমাকে সাহায্য করো|
এক কবি দুষ্যন্ত কুমারের কবিতার শব্দ হচ্ছে —
ওঁর আবেদন হচ্ছে যে আমি তাকে সহায়তা করি,
ওঁর আবেদন হচ্ছে যে আমি তাকে সহায়তা করি,
পাঁজরের কাছে চাকু ’র অনুরোধ তো দেখুন|
নারীদের বিরুদ্ধে অত্যাচার, আমি মনে করি না নারীদেরবিরুদ্ধে যে এই অত্যাচার তা কংগ্রেস, বিজেপি, বা অমুক পার্টির কোনো বিষয়| হতেইপারেনা| আর আপনারা যে চিন্তা দেখিয়েছেন, সেই চিন্তা খুবই স্বাভাবিক বিষয়| আজাদসাহেব যা বলেছিলেন| আর সেজন্য আমি লালকেল্লা থেকে বলার সাহস দেখিয়েছিলাম যে….মেয়েদের জন্য তো অনেক কিছুই বলা হয়ে থাকে, কিন্তু কেউ তো জিজ্ঞেস করুন ছেলে কেনরাতে দেরী করে আসে? কেউ তো জিজ্ঞেস করুন বেটা রাতে কোথায় যায়, কার সঙ্গে মেলামেশাকরে? কেউ তো ভাবুন যে, ছেলেদেরও তো সংস্কার করার চিন্তা রয়েছে| আমরা কি এক স্বরেসেইসব মায়েদের চিন্তাভাবনায় যুক্ত করতে পারিনা, সেইসব বাবাদের চিন্তাভাবনায় যুক্তকরতে পারিনা, সেসব শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চিন্তাভাবনায় যুক্ত করতে পারিনা যে, কারো নাকারো ছেলেই তো যে অন্য কারো না কারো মেয়ের ওপর অত্যাচার করছে| কারো না কারো তোছেলে| আমরা কি সবাই এক স্বরে এই বিষয় নিয়ে সমাজ… আর শেষ পর্যন্ত এটা সামাজিকদূষণ… আর তাতে যত বেশি আমরা মিলেমিশে কাজ করবো, আর সেজন্যই আমি চাই যে, আমরা এইসমস্ত বিষয়ে উজ্জ্বলা যোজনা, মহিলা সশক্তিকরণের এক বড় কাজ করেছি, কিন্তু আমাদেরওতা চিন্তা করতে হবে যে, আর আমি তো চাইবো যে সভার মাধ্যমে দেশের স্টার্ট-আপ ’দের কাছে বিশেষ ভাবেআহ্বান জানাবো|
ক্লিন কুকিং —এই কাজ আমাদেরকে একটা মিশন মোডে করা উচিত| আরযদি সম্ভব হয় তাহলে সোলার নির্ভর নতুন এমন চুলার উদ্ভাবনা হোক, এমন উদ্ভাবন হোক,যাতে গরিবের খাবার তৈরিতে যাতে এক টাকাও খরচ না হয়| আর গ্যাস পরিবহনে খরচও বেঁচেযায়| আর নিজের ঘরেই সোলারের ব্যবস্থা থাকবে| আর আধুনিক এ ধরের উদ্ভাবনার মাধ্যমেচুলা তৈরি হতে পারে| পরিচ্ছন্ন রান্না —এটা আমাদের সাধারণজীবনের পরিবেশের জন্য, মহিলাদের স্বাস্থ্যের জন্য আবশ্যক বিষয়| আর এটা কোনওরাজনৈতিক কর্মসূচী নয়, দেশের হিতের জন্য কাজ| আমরা মিলেমিশে একে এগিয়ে নিয়ে যাবো|
এখানে আলোচনা হয়েছে যে, স্বচ্ছ ভারতের বিজ্ঞাপনে এতোএতো খরচ হয়েছে| আমি চাইনা কারো খারাপ লাগুক, এ ধরনের কোনো কথা বলায়, কিন্তু আপনারাসরকারে ছিলেন| আপনারা সর্বজনীন জীবনেই থাকেন| শৌচালয় স্বচ্ছতার বিষয় যত পরিমাণেপরিকাঠামোর বিষয়, তার চেয়ে বেশি স্বভাবগত আচরণগত বিষয়| অভ্যাসের বিষয়| আর সেজন্যপৃথিবীতে এ নিয়ে অধ্যয়ন করা সবাই এনিয়ে এই কথাই বলেছেন| আপনারা যখন সরকারে ছিলেন,তখনও এতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল যে, যতক্ষণ না অভ্যাসগত পরিবর্তন আসবে না, ততক্ষণপর্যন্ত এতে সাফল্য আসবে না| এখন বিজ্ঞাপন যা আছে তা সরকারের কাজের জাঁকজমক নয়,অভ্যাসগত পরিবর্তনের জন্য ছোট ছোট ঘটনাগুলোকে নিয়ে মানুষকে সচেতন করার কাজ হচ্ছে|আর এটা বলার আগে আমাদের এটা ভুলে গেলে চলবে না যে, প্রত্যেক গরিব মানুষের টাকাথেকে তহবিলে আসা টাকা, পরিবারের কিছু মানুষের জন্মদিনে পত্রিকাগুলোতে এক-একটি পাতাজুড়ে বিজ্ঞাপন ছাপা হতো| দেশের কতো টাকা তা হিসেব করে দেখুন| একই পরিবারের মানুষেরজন্মদিনের বিজ্ঞাপনে কত টাকা খরচ হয়েছে, চমকে যাবেন| অন্যদিকে এটা অভ্যাসগতপরিবর্তনের জন্য, আর আমাদের সবাইকে প্রয়াস করতে হবে| আপনাদেরও যেখানে রাজ্য সরকাররয়েছে, তাদেরকেও আপনারা বলুন যে, অভ্যাসগত পরিবর্তনের জন্য বাজেট বরাদ্দ করারজন্য| মানুষকে শিক্ষিত করুন|
সম্মাননীয় সভাপতিজি আমাদের রাষ্ট্রপতি….
আমাদের মাননীয় আজাদ সাহেব বোফর্স-এর বিষয়টিকে খুববিস্তৃতভাবে বলেছেন, আর কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করেছেন| আমি একটা উদ্ধৃতি পড়তে চাই|এই উদ্ধৃতি কংগ্রেসের এক প্রবীণ মন্ত্রী এবং পরে নির্বিবাদ রাষ্ট্রপতি শ্রী আর.বেঙ্কটরমণজি ’র আত্মকথার অংশ হয়েছে| ‘আত্মকথা হে জব ম্যায় রাষ্ট্রপতিথা ’—আর. বেঙ্কটরমণজি ’র, সেখানে তিনিলিখেছেন —তাঁর সঙ্গে জে.আর.ডি. টাটা ’রসাক্ষাত হয়েছিল, আরও সেই সাক্ষাতের বিষয়ে তিনি বইতে লিখেছিলেন —লিখেছিলেন টাটা বলেছিলেন, কামান ও অন্যান্য সুরক্ষা সামগ্রী কেনারক্ষেত্রে রাজীব গান্ধী বা ওঁর পরিবারের লাভ হোক অথবা না হোক, কিন্তু এটাকে উপেক্ষাকরা কষ্ট হবে যে কংগ্রেস দল কোনো কমিশন পায়নি| তাঁর মনে হয়েছে যে ১৯৮০-এর পরথেকে… আমি আর. বেঙ্কটরমণজি ’র বই পড়ছি, আমি কিছু বলছি না…তাঁর মনে হয়েছে যে ১৯৮০-এর পর থেকে শিল্পপতিদের কাছ থেকে চাঁদা চাওয়া হয়নি আরপার্টির খরচ এ ধরনের বাণিজ্য থেকে পাওয়া কমিশন থেকে চলছিল|
আর সেজন্য… এটা তো আর. বেঙ্কটরমণজি ছিলেন| প্রবীণনেতা ছিলেন আপনাদের এবং রাষ্ট্রপতি ছিলেন| যেখানে কখনও পরিবারতন্ত্র-এর কথা এসেছে,সেখানে খুব দুঃখ হয়েছে, ক্ষোভ হওয়াও স্বাভাবিক| আমি চাই না আপনাদের কারো রাজনীতিতেআঘাত আসুক| আমি চাইব না| কিন্তু আপনাদেরই একজন মহাশয় যার প্রচার মাধ্যমে জ্ঞাপিতরয়েছে, তিনি কী বলেছেন, সুলতানি চলে গেছে, কিন্তু আমরা এখনও সুলতানের মতো ব্যবহারকরছি| আমি জয়রামজি ’র উন্মুক্ত মনের জন্য ধন্যবাদ জানাই|
নিম্ন-মধ্যবিত্ত অংশ, মধ্যবিত্ত অংশ দেখুন দ্রব্যমূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বেশি প্রভাব মধ্যবিত্তের ওপর পড়ে| আর আগে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি কোথায়পর্যন্ত পৌঁছেছিল, তা আমরা সবাই জানি| আমরা প্রচেষ্টা করেছি যে, মূল্যবৃদ্ধি যাতে২ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে নিয়ন্ত্রণে থাকে| যদি যে গতিতে যে ক্রমানুসারে মূল্যবৃদ্ধিবৃদ্ধি হচ্ছিল, সেই গতিতে চললে নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তের জীবন যাপন কতটুকুমুশকিল হয়ে যেতো, তা আপনারা কল্পনা করতে পারেন| এইসব পদক্ষেপের মাধ্যমে তাদেরসুরক্ষিত করার কাজ মধ্যবিত্তদের বাঁচানোর কাজ আমরা করেছি| গরিব ও মধ্যবিত্ত পরিবারনিজের বাড়ি তৈরি করতে চান, তো ব্যাংকের সুদের হার কমিয়ে দিয়ে তাকে ভর্তুকি দিয়েতাকে উত্সাহিত করার কাজ, খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ এই সরকার করেছে|
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা শহুরে —এতে নতুন পর্যায়েরআমরা নির্মাণ করেছি| আর ঘর তৈরি করার জন্য ৯ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণে ৪ শতাংশ ছাড়দেওয়া হয়েছে| এটা মধ্যবিত্তের ক্ষেত্রে, যার নিজের ঘর তৈরি করার আকাঙ্ক্ষা রয়েছে,তা পূরণ করার কাজ হচ্ছে| আর ১২ লক্ষ টাকার ঘর হয়ে থাকলে ৩ শতাংশ সুদে ছাড় দেওয়ারকাজ হয়েছে| সেরকম গ্রামের ভেতর পুরনো ঘর আছে| এখন পরিবার বড় হয়ে গেছে| তাই ঘরওকিছুটা বড় করতে হবে| একটা বা দুটি ঘর করতে হবে| তাহলে দুই লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণআমরা ৩ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিয়েছি| এই সমস্ত বিষয় নিম্নবিত্ত শ্রেণী, মধ্যবিত্তশ্রেণীর ইচ্ছা পূরণ করার জন্য সহায়তার বিষয়|
এইরকম রিয়েল এস্টেট রেগুলেটিং অ্যাক্ট —আর.ই.আর.এ. —এতে মধ্যবিত্তের মধ্যে যারা ঘর তৈরি করা নিয়ে চিন্তিত থাকতেন, তাদের জন্যএতে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে| আমরা এতে কিছু নিয়ম করেছি, যার সুফল সাধারণ মানুষপেয়েছেন, ক্রেতা সুরক্ষা আইন আর এতে ক্রেতা ক্ষমতায়নে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে|
মানুষ যাতে সস্তায় ওষুধ পান, ভারতীয় জন-ওষধি আর ৮০০ –এর বেশি ওষুধ অনেকসস্তায় দেওয়া হচ্ছে| আর আপনারা দেখে থাকবেন, যেসব মানুষ এই ওষুধ ব্যবহার করছেন,তারা অনুভব করছেন যে, তাদের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ খরচ কমে গেছে| হাঁটুর প্রতিস্থাপনেঅপারেশন করানোর খরচ কমেছে| স্টেন্ট লাগানোর খরচ কমানো হয়েছে| ডায়ালিসিস… আমাদেরদেশে এখন কিডনির সমস্যা এতো বেড়ে গেছে| কিন্তু আমাদের এখানে নিয়মিতভাবে ডায়ালিসিসকরার জন্য হয় জেলা সদরে অথবা বড় শহরে যেতে হতো| আমরা এক মিশন হিসেবে কাজ করেছি|প্রায় ৫০০-এর বেশি জেলায় খুব সাধারণ টাকা নিয়ে ডায়ালিসিসের ব্যবস্থা হচ্ছে, আর এখনপর্যন্ত আমার জানা মতে প্রায় ২২ লক্ষের বেশি ডায়ালিসিস হয়েছে| এই সবকিছু মানবতারদৃষ্টিকোণ থেকে করা কাজ| যেগুলোতে আমরা গুরুত্ব দিয়েছি|
এল.ই.ডি. ভাল্ব-এর জন্য কি লাভ হয়েছে, তা আপনারাভালোভাবেই জানতে পারছেন| কোটি কোটি টাকা মধ্যবিত্তের পকেট থেকে বেঁচে যাচ্ছে|প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পাচ্ছে|
এক বিষয় রাষ্ট্রপতিজি নিজের ভাষণে বলেছেন| আর এ বিষয়েআমার ধারণা হচ্ছে, এটা কোনো সরকারের কাজ নয়| কোনো দলেরও কাজ নয়| দেশ নিয়ে যাদেরচিন্তা রয়েছে, এধরনের সমস্ত মানুষের কাজ| আর এই সভায় বসে থাকা সবার কাজ| সবার সমানসমান কাজ| আরও কিছু বিষয় রাষ্ট্রপতিজি স্পষ্ট করেছেন| আগে প্রণবদা যখন রাষ্ট্রপতিছিলেন, তখন তিনিও উল্লেখ করেছিলেন| এনিয়ে আগেও অনেকে নিজের নিজের মতামত রেখেছেন|আর তা হচ্ছে, লোকসভা ও বিধানসভার নির্বাচন একসঙ্গে করা| এটা ঠিক যে রাজ্যসভায় যারাআসেন, তাদের কাছে এই নির্বাচনের টানা-হ্যাঁচড়া কী হয়ে থাকে, তা যাঁরা রাজ্যসভা ওলোকসভা দুই জায়গাতে গেছেন, তাঁরা জানেন| কিছু মানুষ পরাজিত হয়েও পরে রাজ্যসভায়পৌঁছান, তাঁরাও জানেন যে কতটুকু কঠিন অবস্থায় পড়তে হয়| কিন্তু কখনও ভাবতে হবে যে,এক সুস্থ গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে, কেননা ভারতের গণতন্ত্র অনেকটাই পরিণত হয়েছে, আমাদেরসবাইকে সাহস করে সুস্থ পরম্পরার পথে আমরা যেতে পারি কি? আর আমি চাইবো যে, ১৯৬৭ সালপর্যন্ত এভাবেই চলছিল, লোকসভা বিধানসভা একসঙ্গে প্রায় ১৯৬৭ পর্যন্ত চলেছিল| এতে দু ’-একটি ব্যতিক্রম হতেপারে, কিন্তু চলেছিল| আর সেসময় কারো কোনো সমস্যা হচ্ছিল না| কিন্তু পরে কোনো নাকোনো রাজনৈতিক কারণে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে, আর এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, একটানির্বাচন এলো, শেষ হওয়ার পর আরেকটি নির্বাচনের প্রস্তুতি এসে যায়, দ্বিতীয়টি হয়েগেলে তৃতীয়টি| আর এর চাপ কেন্দ্র সরকারের ওপর ও রাজ্য সরকারে ওপর পড়ে|যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোতে এক সুন্দর পরিবেশ হওয়া উচিত| নির্বাচনের চার-ছয় মাসআমরা বুঝতে পারি যে, তুমি-আমি করতে করতেই চলে যায়| কিন্তু চার-সাড়ে চার বছর তোকমপক্ষে আমরা মিলেমিশে দেশের জন্য কাজ করতে পারি| আমাদের সম্পূর্ণ ক্ষমতা কাজেলাগাতে পারি| সেই লক্ষ্যে আমাদের কাজ করা উচিত| আর আমি চাই যে, এনিয়ে এক ব্যাপকআলোচনা হোক| আর আপনারা দেখবেন এখন যখন লোকসভার নির্বাচন হবে, তখন চারটি রাজ্য এরসঙ্গে একসঙ্গে নির্বাচন| অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, অরুনাচল ও ওড়িশা| সমস্যা কি তাআমরা ভালোভাবেই জানি| ২০০৯ সালে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে লোকসভারনির্বাচনে| ২০১৪ সালে তা প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছে গেছে| এক হাজার থেকে চারহাজার| শুধু এটুকুই নয়, ২০১৪ সালের পর যেসব বিধানসভার নির্বাচন হয়েছে, তাতে এখনপর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়ে গেছে|
এটা আমরা কল্পনা করতে পারি| ভারতের মতো দেশ, যেখানেগরিবদের জন্য অনেক কিছু পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব| আমাদের নির্বাচনের মধ্যেআমাদের ১ কোটিরও বেশি মানুষ ৯ লক্ষ ৩০ হাজার পোলিং স্টেশনে তাদের ডিউটি থাকে|প্রচুর সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী নির্বাচনের কাজে লেগে থাকে| নিরাপত্তার বিষয়ে নতুননতুন বিষয় এসে যায়| আর আমাদের বাহিনী শুধুমাত্র সেই কাজেই লেগে থাকে| এটা দলাদলিরবাইরের বিষয়| দেশের ভালোর বিষয়ে হয়ত মতভেদও হতে পারে, কিন্তু আলোচনা যেনতর্কাতর্কি দিয়ে শুরু না হয়| একটা সুনির্দিষ্ট পদ্ধতিতে আমাদেরকে আলোচনা করতে হবে|মিলেমিশে বসে কোনো রাস্তা খুঁজতে হবে| আর আমার মনে হয়ে, আমরা এতে এগিয়ে যেতে পারব|আমরা এ ধরনের অনেক সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যেগুলো পৃথিবীর অনেক দেশের কাছে আশ্চর্য বলেমনে হয়| এতোগুলো দল আর এ ধরনের সিদ্ধান্ত হতে পারে? কিন্তু এই সভায় বসা মানুষেরাইবর্তমান কালেই তা করেছেন| শ্রেষ্ঠ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন| ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্যলাভদায়ক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন| আমি মনে করি যে, আরও একবার দুই সভায় থাকা সমস্তমহানুভবের সামনে এক বড় সৌভাগ্য এসেছে যে, আমরা তা করি|
মাননীয় সভাপতি, অনেক বিষয় নিয়ে মহানুভবেরা অনেক কিছুবলেছেন| রাষ্ট্রপতি ’র অভিভাষণ এক পরিপূর্ণ অভিভাসণ| লক্ষ্য কী হবে, গতি কী হবে, উদেশ্য কী হবেআর সাধারণ মানুষের ভালোর জন্য আমরা কীভাবে এগিয়ে যাবো, তার এক, যতটুকু সময়সীমাথাকে, তার মধ্যে তা রাখার প্রয়াস তিনি করেছেন| আমরা সবাই সর্বসম্মতিক্রমেসম্মাননীয় রাষ্ট্রপতির অভিভাষণের স্বীকৃতি দিয়ে ধন্যবাদ প্রস্তাব পাশ করি| এইপ্রত্যাশা নিয়ে আমি আমার সমর্থন জানিয়ে আমার ভাষণ শেষ করছি|
অনেক অনেক ধন্যবাদ|
A.D.
MPs spoke about Ayushman Bharat and some of them began to compare with USA and Britain. I think every nation has its own context, challenges and nature of working.
— PMO India (@PMOIndia) February 7, 2018
What I am sure we agree on is that there is a lot of work to be done in our health sector: PM @narendramodi in RS
Let us work together in providing the poor quality and affordable healthcare: PM @narendramodi https://t.co/1qKFcSzd6v
— PMO India (@PMOIndia) February 7, 2018
We are always looking for suggestions, feedback and input on our schemes. After all, we are working for the nation and the poor: PM @narendramodi in the Rajya Sabha https://t.co/1qKFcSzd6v
— PMO India (@PMOIndia) February 7, 2018
I fail to understand why some people feel bad when India improves its ease of business rankings: PM @narendramodi https://t.co/1qKFcSzd6v
— PMO India (@PMOIndia) February 7, 2018
We want Mahatma Gandhi's India. Even the Congress wants 'Gandhi's India.' - the India of the Emergency, Bofors, Chopper scams : PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) February 7, 2018
When a big tree falls......remember these lines...is this the India Congress wants: PM @narendramodi in the Rajya Sabha
— PMO India (@PMOIndia) February 7, 2018
Congress wants the India of the Tandoor Case.
— PMO India (@PMOIndia) February 7, 2018
I also went to Davos, you also went to Davos. But the difference is- you went with a letter to save someone: PM @narendramodi to the Congress party
You call us name changers....we are aim changers - we work hard and have ushered in a paradigm shift in the working of the Government. Innovative projects are being thought about and completed in a time bound manner: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) February 7, 2018
Congress keeps saying we brought Aadhaar. Let me remind them about a debate in the Rajya Sabha in 1998 and what LK Advani Ji said. It is in his speech that you will find the genesis of Aadhaar: PM @narendramodi in Rajya Sabha
— PMO India (@PMOIndia) February 7, 2018
The eastern parts of India have to develop and that is why more resources are being devoted towards these states: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) February 7, 2018
During the Gujarat campaign I was happy- I thought at least now the Congress realised the greatness of Sardar Patel. Sadly, one week after the results Sardar Patel was missing in Congress posters: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) February 7, 2018
Look at what all you mocked- Swachh Bharat, Make in India, surgical strikes, Yoga Day.
— PMO India (@PMOIndia) February 7, 2018
You are free to mock as you please but why are you blocking the bill for OBC Commission? Why are you blocking Triple Talaq Bill.
Are you not sensitive to the aspirations of OBCs: PM to INC
We are working to ensure that every Indian has his or her own home: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) February 7, 2018
Let us have a constructive discussion on holding simultaneous Lok Sabha and Vidhan Sabha elections in the various states: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) February 7, 2018
While discussing Aadhaar, let us not forget that the root of the idea originated during Atal Ji’s Government, mentioned by Advani Ji in the Rajya Sabha in 1998. pic.twitter.com/gtr5GPJACk
— Narendra Modi (@narendramodi) February 7, 2018
Our fight for justice for the OBC communities and Muslim women will continue.
— Narendra Modi (@narendramodi) February 7, 2018
The anti-OBC and anti-women stand of the Congress is fully exposed. pic.twitter.com/yU8oP1icTX
It is time for a constructive debate on simultaneous Lok Sabha and Vidhan Sabha elections in the various states. pic.twitter.com/O4AOrBf3gb
— Narendra Modi (@narendramodi) February 7, 2018
Now is the time to give India a healthcare system that makes quality treatment affordable. We will ensure this through Ayushman Bharat. pic.twitter.com/Vy5bqyvehH
— Narendra Modi (@narendramodi) February 7, 2018