পিএমইন্ডিয়া
পরমশ্রদ্ধেয় গৌতমানন্দজি মহারাজ, স্বামী জিতকামানন্দজি মহারাজ, স্বামী নির্ভয়ানন্দসরস্বতীজি, স্বামী বিরেশানন্দজি সরস্বতী মহারাজ, স্বামী পরমানন্দজি মহারাজ, দেশেরনানা প্রান্ত থেকে আগত ঋষি-মুনি-সন্ন্যাসীগণ এবং অধিবেশনে উপস্থিত হাজার হাজারনবীন প্রজন্মের সাথীগণ,
শতায়ুষিপরমপূজ্য সিদ্ধগঙ্গা মহাস্বামীজি,
ইয়বরগেপ্রণাম গলু
তুমকুরুরামকৃষ্ণ আশ্রমইপ্পত ঐদু বর্ষ স্বামী বিবেকানন্দ শিকাগো সন্দেশানুরা ইপ্পত ঐদুবর্ষ ভগিনী নিবেদিতানুরাত্রবতনে জন্মবর্ষ নিম্ম যুবা সমাবেশা – ত্রিবেণী সঙ্গমা
শ্রীরামকৃষ্ণা, শ্রী সারদা মাতে স্বামী বিবেকানন্দর সন্দেশ বাহকরাদ নন্নু প্রীতয় সোদরসোদরিয়েরগী প্রীতিয়া শুভাষয়গলু –
তুমকুরুরএই স্টেডিয়ামে এই সময়ে হাজার হাজার বিবেকানন্দ, হাজার হাজার ভগিনী নিবেদিতারপ্রাণশক্তির উচ্ছাস। চারিদিকে গেরুয়া রঙ এই প্রাণশক্তিকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।আপনাদের এই প্রাণশক্তির আশীর্বাদ আমি সশরীরে গিয়ে মাথা পেতে নিতে চেয়েছিলাম,সেজন্য তিন দিন আগে যখন স্বামী বিরেশানন্দজি সরস্বতীজির চিঠি পাই, তখন আমিমহানন্দে আপনাদের মাঝে আসতে চাইছিলাম। কিন্তু সময়ের কিছু মর্যাদা থাকে। আপনারাজানেন যে, আগামীকাল থেকে সংসদ অধিবেশন শুরু হচ্ছে, সেজন্য আমার পক্ষে এখান থেকেবেরিয়ে আসা সমস্যা হয়ে পড়ে। সশরীরে আপনাদের মাঝে আসতে পারিনি। কিন্তু আধুনিকবিজ্ঞান, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আপনাদের সবার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সৌভাগ্য আমারহয়েছে।
নবীনপ্রজন্মের সঙ্গে যে কোনও ধরনের আলাপচারিতা হলে, সর্বদাই তাঁদের কাছ থেকে আমরা কিছুনা কিছু শেখার সুযোগ পাই, আর সেজন্য আমি যথাসম্ভব চেষ্টা করি যাতে নবীনদের সঙ্গেবেশি করে মেলামেশা করতে পারি, তাদের কথা, তাদের আশা-আকাঙ্খার কথা জেনে, সেই অনুযায়ীযাতে কিছু কাজ করতে পারি!
এটাআমার সৌভাগ্য যে, আজ এই বিশাল যুব মহোৎসব এবং সাধু-ভক্ত সম্মেলনের শুভ উদ্বোধনেরসুযোগ পেয়েছি। তিন বছর আগে আমি যখন পূজনীয় শিবকুমার স্বামীজির আশীর্বাদ নিতেতুমকুরু গিয়েছিলাম, সেখানকার সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নবীন প্রজন্মের কাছ থেকে যেভালবাসা পেয়েছিলাম, তা কখনও ভুলতে পারব না! ভগবান বাসবেশ্বর আর স্বামীবিবেকানন্দের আশীর্বাদ ধন্য শিবকুমার স্বামীজি রাষ্ট্রনির্মাণ যজ্ঞে সমর্পিতপ্রাণ। আমি তাঁর উন্নত স্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ুর জন্য সর্বদাই ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনাজানাই।
বন্ধুগণ,এরকম সুযোগ খুব কমই আসে, যখন তিনটি মহান উপলক্ষের উৎসব একসঙ্গে পালন করা হয়,কিন্তু তুমকুরুর এবারের উৎসব আমাদের সামনে এক দিব্য ত্রিবেণী সংযোগ হয়ে উঠেছে।তুমকুরুতে রামকৃষ্ণ আশ্রম স্থাপনের ২৫ বছর, শিকাগোতে স্বামী বিবেকানন্দের প্রথমঐতিহাসিক ভাষণের ১২৫ বছর আর ভগিনী নিবেদিতার জন্ম সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষে এই উৎসবেরআয়োজন কতটা গুরুত্বপূর্ণ – তা আমি অনুভব করতে পারছি! এই তিন উপলক্ষের ত্রিবেণীসঙ্গমে ডুব দেওয়ার জন্য কর্ণাটকের হাজার হাজার নবীন প্রজন্মের মানুষ যেভাবে এই যুবমহোৎসবে একত্রিত হয়েছেন – এটাই বিরাট সাফল্য। আমি এই সাফল্যের জন্য পূজনীয়স্বামীজি, রামকৃষ্ণ মিশন এবং সমাগত সবাইকে অন্তর থেকে অনেক অনেক প্রণাম জানাই,অভিনন্দন জানাই।
আজকেরএই তিন আয়োজনের মধ্যমণি হলেন স্বামী বিবেকানন্দ। আমরা খুব ভালোভাবেই জানি, স্বামীবিবেকানন্দ কর্ণাটককে কতটা ভালোবাসতেন। আমেরিকা যাবার আগে, কন্যাকুমারী যাওয়ার পথেতিনি কিছুদিন কর্ণাটকে কাটিয়েছিলেন। তিনি আধ্যাত্মিকতাকে সময়ের প্রয়োজনীয়তার সঙ্গেযুক্ত করেছেন। দেশের গৌরবময় ইতিহাসকে বর্তমানের সঙ্গে জুড়েছেন। আমি অত্যন্তআনন্দিত যে, আজকের এই অনুষ্ঠান সাধু-ভক্তদের এই মহাসম্মেলন-ও তেমনই আমাদেরআধ্যাত্মিক বিস্তারকে এই যুব মহোৎসবের মাধ্যমে বর্তমানের সঙ্গে যুক্ত করার,আধুনিকতার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রেলের দুই সমান্তরাল লাইনের মতো একসঙ্গে দেশকেএগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছে।
এখানেদেশের সাধু-সন্ন্যাসী সমাজের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন নবীন প্রজন্ম। এখানে যেমন তীর্থনিয়ে কথা হচ্ছে, তেমনই প্রযুক্তি নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। ঈশ্বর চর্চার পাশাপাশি এখানেনতুন নতুন আবিষ্কারকেও প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এভাবে কর্ণাটকে আধ্যাত্মিক মহোৎসবআর যুব মহোৎসবের একটি মডেল বিকাশ লাভ করছে। আমি আশা করি, এই আয়োজন দেশের অন্যান্যপ্রান্তেও প্রেরণার স্রোত প্রবাহিত করবে। ভবিষ্যতের প্রস্তুতির জন্য আমাদেরঐতিহাসিক পরম্পরা আর বর্তমান যুবশক্তির এই মহাসম্মেলন সত্যিই অদ্ভুত।
আমরাযদি দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের কথা ভাবি, উনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীর সেই কালখন্ডেআমরা দেখতে পাই যে, দেশ মাতৃকাকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করানোর জন্য ভিন্নভিন্ন স্তরে তখন একটি সংযুক্ত সংকল্প কিভাবে অঙ্কুরিত হচ্ছে এবং ধীরে ধীরে মহীরূহেপরিণত হচ্ছে। তখন সাধু ও ভক্ত, গুরু-শিষ্য, আস্তিক-নাস্তিক, শ্রমিক কিংবা পেশাদারসমাজের সকল অংশের মানুষ একটিই সংকল্প নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন।
সেইসময়ে আমাদের দূরদ্রষ্টা সন্ন্যাসী স্পষ্টভাবে বুঝতে পেরেছিলেন যে, নানা ভাষা, নানাজাতি এবং ভিন্ন ভিন্ন বর্গে বিভাজিত সমাজ প্রবল পরাক্রান্ত ব্রিটিশের মোকাবিলাকরতে পারবে না। সেই দুর্বলতা দূর করতে তাঁরা বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন অংশে নানাভক্তি ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। সেই আন্দোলনগুলির মাধ্যমেই তাঁরাদেশবাসীকে জাতি-ধর্ম-বর্ণ-বর্গের ঊর্ধ্বে একত্রিত করতে পেরেছিলেন। সমাজকেঅভ্যন্তরীণ কুসংস্কার থেকে মুক্ত করার অভিযান চালিয়েছিলেন। যারা সেসব আন্দোলনেনেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তাঁরা দেশের সাধারণ মানুষকে, প্রত্যেক নাগরিককে সমান মর্যাদাদিয়েছেন, একই রকম সম্মান দিতে শিখিয়ে গেছেন। তাঁরা দেশের প্রয়োজন অনুধাবন করেনিজেদের আধ্যাত্মিক যাত্রাকে রাষ্ট্র নির্মানের যাত্রায় রূপান্তরিত করেন।অধ্যাত্মের সঙ্গে দেশভক্তি ও মানবিকতাকে জুড়ে জনসেবাকেই ঈশ্বরসেবার মাধ্যম করেতোলেন।
বন্ধুগণ,সেই সময়েই ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্র থেকে অসংখ্য ছাত্রছাত্রী ও পেশাদার স্বাধীনতাসংগ্রামে যুক্ত হয়েছেন উকিল, শিক্ষক, বৈজ্ঞানিক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার – এরকমঅসংখ্য পেশাদাররা দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনকে নতুন দিশা দিয়েছেন এবং স্বাধীনতার পরওতাঁরা রাষ্ট্র নির্মাণের ভিতকে শক্তিশালী করেছেন।
এইদুই প্রচেষ্টা যখন একসঙ্গে চলে তখন দেশ বৌদ্ধিক ও সামাজিক রূপে উঠে দাঁড়ায়। ফলে,ঐক্যবদ্ধ ভারতবাসী ইংরেজদের দেশ থেকে তাড়িয়েই ক্ষান্ত হন, স্বাধীনতার সংযুক্তসংকল্পকে সিদ্ধ করে দেখান।
স্বাধীনতারসাত দশক পর আজ দেশকে আরেকবার এমনই সংকল্প নিয়ে জনগণের অন্তর্নিহিত শক্তিকে জাগিয়েতোলার সংকল্প স্পষ্ট প্রতীয়মান হচ্ছে। গতকালই আপনারা দেখেছেন যে, উত্তর-পূর্বভারতে কী হয়েছে? গত পরশুই গোটা দেশ রং-এর উৎসব হোলি পালন করেছে, কিন্তু গতকালউত্তর-পূর্ব ভারতের তিনটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল আরেকবার গোটা দেশেরউৎসবের আবহ গড়ে তুলেছে।
আপনাদেরমনে হতে পারে যে, এই অনুষ্ঠানে ঐ নির্বাচনী ফলাফলের উল্লেখ কেন করছি! আমার মনে হয়,আপনাদের কাছে আমার মনের কথা স্পষ্ট করা উচিৎ। দেখুন, উত্তর-পূর্ব ভারতে কাল যেফলাফল দেখেছি, তাতে কে জিতল বা কে হারল, আমি এই ঘটনাকে রাজনৈতিক জয়-পরাজয়েরদাড়িপাল্লায় মাপতে চাই না। আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হ’ল উত্তর-পূর্ব ভারতের জনগণেরখুশিতে গোটা দেশ সামিল হয়েছে। এরকম উপলক্ষ খুব কমই আসে যে, উত্তর-পূর্বের কোনও সাফল্যদেশের সাফল্যে পর্যবসিত হয়। কিন্তু গতকাল যখন আমরা দেখলাম যে, গোটা দেশউত্তর-পূর্ব ভারতের জনগণের স্বপ্নের অনুরূপ, তাঁদের ভাবনার অনুরূপ সকাল থেকে টিভিরসামনে বসে গেছেন। যেন তাঁরা নিজেরাও সেই নির্বাচনী যুদ্ধে সামিল – এমনই অনুভবপ্রতিটি ভারতীয়র মনে ছিল।
আমিমনে করি যে, আমার উত্তর-পূর্ব ভারতের ভাই-বোনদের জন্য, তাঁরা যে জনাদেশ দিয়েছেন,সেটি একটি বড় পরিবর্তনের সূচক। রামকৃষ্ণ মিশন হোক কিংবা বিবেকানন্দ কেন্দ্র, হাজারহাজার কর্মকর্তা, জীবন সমর্পিত করা নবীন প্রজন্মের মানুষ ও সাধু-সন্ন্যাসীরাউত্তর-পূর্ব ভারতের জনকল্যাণের কাজে লিপ্ত হয়েছেন। সেজন্য আজ এখানে যাঁরা বসে আছেনতাঁরা খুব ভালোভাবেই জানেন যে, উত্তর-পূর্ব ভারতের বাস্তব পরিস্থিতি কী! সেজন্যউত্তর-পূর্ব ভারতের নির্বাচনী ফলাফলের পর গোটা দেশ যে উচ্ছ্বাস প্রদর্শন করেছে, তাপ্রত্যেক উত্তর-পূর্ব বাসীর সঙ্গে অবশিষ্ট ভারতের জনগণের ভাবনাকে যুক্ত করেছে। এইঘটনা তাঁদেরকে একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে যে, দেশের ঐক্য ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠভারত’-এর জন্য এই ভাবনার শক্তি অপরিসীম।
বন্ধুগণ,আগে আমাদের দেশে এমন সব নীতি ছিল, সরকার এমন সব সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, উত্তর-পূর্বভারতের মানুষের মনে বিচ্ছিন্নতা প্রকট হয়ে উঠেছিল। সাধারণ মানুষ উন্নয়নের অভাবেআস্থা ও আপনত্বের মুখ্য ধারার সঙ্গে নিজেদের বিচ্ছিন্ন অনুভব করতেন। এই ভাবনাথেকেই জন্ম নিয়েছিল অনেক নতুন নতুন সমস্যা। বিগত চার বছরে আমাদের সরকারের নীতি ওসিদ্ধান্তগুলি এই ব্যবধান ভরাট করার চেষ্টা করেছে, এই বিচ্ছিন্নতার মনোভাবকে দূরকরার চেষ্টা করেছে। আমরা উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের অবশিষ্ট অংশের জনগণেরআন্তরিক ঐক্য গড়ে তোলার সংকল্প নিয়েছি এবং এক্ষেত্রে অনেকটাই সফল হয়েছি।
আমিবিশেষ করে আপনাদেরকে ত্রিপুরার আদিবাসী অঞ্চলগুলির ভোটের ফল সম্পর্কে বলতে চাই। বন্ধুগণ,ত্রিপুরার মতো ছোট রাজ্যে ২০টি বিধানসভার আসন জনজাতি অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে রয়েছে।আমাদের দেশের মানুষের মনে একটি ভ্রম রয়েছে যে, যেখানে উপজাতিভুক্ত মানুষেরা থাকেন,সেখানেই মাওবাদীরা থাকে, নকশালরা থাকে, উগ্রবামপন্থীরা থাকে – লাগাতার এই ভুলধারনা প্রচারিত করে এই মানুষদের মূলস্রোত থেকে সরিয়ে রাখা হয়, ফলে সেসব অঞ্চলেবিচ্ছিন্নতাবাদীদের আখড়া গড়ে ওঠে। কিন্তু গতকাল ত্রিপুরার ভোটের ফলাফল একটি ভিন্নউদাহরণ স্থাপন করেছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের ঐ আদিবাসী ভাই-বোনেরা ভারতীয় জনতাপার্টির পক্ষে এক তরফা সমর্থন জানিয়ে রাজনীতিকে নস্যাৎ করেছে।
বন্ধুগণ,মৌলবাদের জবাব সংহতির মাধ্যমেই দেওয়া সম্ভব। জনগণের যে কোনও অংশ, যে কোনও বর্গযাতে নিজেকে মুখ্য ধারা থেকে বিচ্ছিন্ন না ভাবে তার জন্য আমাদের সরকার সংকল্পবদ্ধহয়ে লাগাতার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সংকল্প শক্তির এই প্রবাহ এই সময়ে কর্ণাটকেরতুমকুরু স্টেডিয়ামেও অনুভব করা সম্ভব। যেসব শ্রদ্ধেয় মানুষেরা মঞ্চে বসে আছেন,তাঁরা হয়তো আরও বেশি করে এটা অনুভব করছেন।
বন্ধুগণ,রাষ্ট্র নির্মাণে সমর্পিত এই সংকল্পকে স্বামী বিবেকানন্দের একটি বার্তার মাধ্যমেআরও ভালোভাবে বোঝা যেতে পারে। স্বামীজি বলেছিলেন, “জীবন ছোট, আত্মা অমর এবংঅন্তর্নিহিত এবং একটি জিনিসই নিশ্চিত, মৃত্যু। এসো আমরা একটি মহৎ ভাবনাকে গ্রহণকরি আর তা সম্পন্ন করতে সম্পূর্ণ জীবন উৎসর্গ করি”।
জীবনঅনেক ছোট, জীবন অনিশ্চিত, মৃত্যু নিশ্চিত। সেজন্য আমাদের সংকল্প গ্রহণ করে তা সম্পন্নকরতে সম্পূর্ণ জীবন উৎসর্গ করা উচিৎ।
আজউপস্থিত হাজার হাজার যুবক-যুবতীকে আমি একটি প্রশ্ন করতে চাই যে, এই একটি সংকল্প কীহওয়া উচিৎ? অনেকবার দেখেছি যে, কোনও যুবককে হঠাৎ যদি জিজ্ঞাসা করা হয় যে, তারজীবনের লক্ষ্য কী? তা হলে সে সরাসরি উত্তর দিতে পারে না। কারণ, অধিকাংশ মানুষইজীবনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিভ্রান্ত! বন্ধুগণ, আমাদের জীবনের সংকল্প ও লক্ষ্যনিজের কাছে স্পষ্ট হলে তবেই আমরা সাফল্যের পথে পা বাড়াতে পারি, দেশ ও মানবতাকেকিছু দিতে পারি। সংকল্প নিয়ে নিজের মনেই দ্বিধা থাকলে লক্ষ্য প্রাপ্তিও সম্ভব হয়না। রেল প্ল্যাটফর্মে পৌঁছনোর পর যাত্রী যদি না জানেন যে, কোথায় তিনি যাবেন, তাহলে সে কোন্ রেল গাড়িতে উঠবেন! স্বামী বিবেকানন্দের একটি বিখ্যাত উক্তি রয়েছে,“একটি ভাবনাকে গ্রহণ কর, সেই ভাবনাকে নিজের জীবন ভেবে নাও, স্বপ্ন দেখো, তা নিয়েবাঁচো, তোমার মস্তিষ্ক, পেশী ও স্নায়ুতন্ত্র, শরীরের প্রতিটি অঙ্গ যেন সেই ভাবনায়টইটুম্বুর হয়ে ওঠে এবং শুধু সেই ভাবনা নিয়ে বাঁচে। এটাই সাফল্যের পথ”।
আমিআজ এই যুব মহোৎসবে আগত প্রত্যেক যুবককে অনুরোধ জানাই যে, আপনারা নিজের সংকল্পস্পষ্ট করুন, জীবনে কী করতে চান, তা সর্বদাই নিজের কাছে স্পষ্ট থাকা চাই।
ভাইও বোনেরা, আজ আমাদের ভারত বিশ্বের সর্বাধিক নবীন জনসংখ্যার দেশ। ৬৫ শতাংশ মানুষেরবয়স ৩৫ বছরের কম। যুবসম্প্রদায়ের এই অসীম প্রাণশক্তি দেশের ভাগ্য বদলে দিতে পারে।গোটা দেশকে প্রাণশক্তিতে ভরপুর করে তুলতে পারে। ২০১৪ সালে কেন্দ্রীয় সরকারেরদায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে আমরা এই যুবশক্তির কথা মাথায় রেখে তাঁদের প্রাণশক্তিকেরাষ্ট্র নির্মাণের কাজে নিয়োজিত করার জন্য অনেক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি এবং আজও এইপ্রক্রিয়া চালু রয়েছে।
আপনাদেরহয়তো মনে আছে যে, আমরা সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করার পরই নবীন প্রজন্মের মানুষদেরদক্ষতা উন্নয়নের জন্য একটি স্বতন্ত্র মন্ত্রক গড়ে তুলেছিলাম। আগেও দেশে দক্ষতাউন্নয়নের কাজ হ’ত কিন্তু সরকারের ৪০-৫০টি মন্ত্রক ভিন্ন ভিন্নভাবে এই কাজটি করত।প্রত্যেক মন্ত্রী ও মন্ত্রকের দিশা ভিন্ন থাকায় কখনও পরস্পরের সঙ্গে দ্বন্দ্বওহ’ত। কিন্তু আমাদের সরকার সারা দেশে একটি মন্ত্রকের তত্ত্বাবধানে সুচারুভাবেদক্ষতা উন্নয়নের কাজ সম্পন্ন করার জন্য দেশের প্রত্যেক জেলায় দক্ষতা উন্নয়নকেন্দ্র গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যুবসম্প্রদায়কে শিল্প ক্ষেত্রের প্রয়োজনঅনুসারে স্বল্পকালীন ও দীর্ঘকালীন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষিত যুবকরা যাতেনিজেরাই ব্যবসা কিংবা শিল্পোদ্যোগ শুরু করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন, পাশাপাশিঅন্যদেরকেও কর্মসংস্থান দিতে পারেন, তা সুনিশ্চিত করতে তাঁদের কোনও রকম গ্যারান্টিছাড়াই ব্যাঙ্ক ঋণ দিতে সরকার প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা চালু করেছে। ইতিমধ্যেই এরমাধ্যমে প্রায় ১১ কোটি মানুষকে ঋণ প্রদান করা হয়েছে। এদের মধ্যে শুধু কর্ণাটকের ১কোটি ১৪ লক্ষেরও বেশি স্ব-উদ্যোগীদের ঋণ মঞ্জুর করা হয়েছে। এই প্রকল্পের ফলেই দেশ প্রায়৩ কোটি নতুন শিল্পোদ্যোগীকে পেয়েছে। আমার নবীন বন্ধুরা, এত কম সময়ে প্রায় ৩ কোটিনতুন শিল্পোদ্যোগী ইতিমধ্যেই দেশের অর্থ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেনিজেদের অবদান রাখতে শুরু করেছেন।
দক্ষতাউন্নয়ন ও স্বরোজগারকে উৎসাহদানের পাশাপাশি আমাদের সরকার এই নতুন শিল্পোদ্যোগগুলিউৎপাদিত পণ্যের বাজার তৈরি করার ক্ষেত্রেও অনেক কাজ করেছে। নীতিগত পরিবর্তনেরমাধ্যমে সরকারি কেনাকাটায় স্থানীয় পণ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া জিইএম বা গভর্নমেন্ট ই-মার্কেট নামক একটি নতুনঅনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। এর মাধ্যমে এখন যে কোনও যুবক, যেকোনও মহিলা কিংবা গ্রামের সাধারণ মানুষ নিজের কারখানায় উৎপাদিত পণ্য, এমনকি ঘরেতৈরি হস্তশিল্পজাত পণ্য যদি সরকারকে বিক্রি করতে চান, আর কেন্দ্রীয় সরকারিদপ্তরগুলিতে যদি সেই পণ্যের চাহিদা থাকে, তা হলে কোনও রকম দরপত্র ও দালালি ছাড়া,কোনও বড় কোম্পানির মধ্যস্থতা ছাড়াই সাধারণ মানুষের থেকে সেই পণ্য কেনা যেতে পারে।আমরা দেশের সকল রাজ্য সরকারকেও অনুরোধ জানিয়েছি যাতে, তারা নিজেদের সরকারিদপ্তরগুলির চাহিদা পূরণে এভাবেই রাজ্যের নবীন শিল্পোদ্যোগীদের উৎসাহ যোগাতে এইপোর্টালের সঙ্গে যুক্ত হন। ইতিমধ্যেই দেশের ২০টি রাজ্য সরকার এই অভিযানে কেন্দ্রীয়সরকারের হাতে হাত মিলিয়েছে।
বন্ধুগণ,আমাদের সরকারের নিরন্তর প্রয়াসে এখন দেশে এমন এক আবহ সৃষ্টি হয়েছে যে, আজকেরযুব-সম্প্রদায় দেশের প্রয়োজন অনুসারে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজের ক্ষমতায় কিছু করতেপারেন, নিজের উৎপাদিত পণ্যও বাজারে বিক্রি করতে পারেন। এই আবহ গড়ে ওঠা কতটাপ্রয়োজন, তা কর্ণাটকের যুবসম্প্রদায় আরও ভালোভাবে অনুভব করতে পারবেন। আপনাদের মতোকোটি কোটি নবীন প্রজন্মের মানুষের আশা-আকাঙ্খা পূরণের লক্ষ্যে সরকার স্টার্ট আপইন্ডিয়া, স্ট্যান্ড আপ ইন্ডিয়ার মতো কর্মসূচি চালু করেছে।
এইপ্রথম আমাদের সরকার রোজগারকে ট্যাক্স ইনসেনটিভের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। যেকোম্পানিগুলি নবীন শিক্ষানবিশদের গ্রহণ করেছে, তাঁদের কর ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এইশিক্ষানবিশদের বেতন থেকে প্রভিডেন্ট ফান্ড বাবদ যে টাকা কাটা হয়, সেখানেও সরকারআর্থিক সাহায্য দিচ্ছে। নবীনদের স্বরোজগারের ক্ষেত্রে যে কোম্পানিগুলির বার্ষিকলেনদেন ২ কোটি টাকা পর্যন্ত, আর যারা সম্পূর্ণ লেনদেন ডিজিটাল মাধ্যমে করেন,তাঁদেরকেও কর ছাড় দেওয়া হচ্ছে।
আমিস্বীকার করি যে আমাদের দেশের যুবসম্প্রদায়ের ‘সেন্স অফ মিশন’-এর কোনও অভাব নেই।তাঁরা নিজেদের ভাবনাকে আবিষ্কারমূলক সমাধানগুলিকে এভাবে বাস্তবায়িত করতে চান যাতেপদ্ধতি আরও সুদক্ষ ও সুলভ হয়। সেজন্য তাঁদের যে ধরনের উৎসাহ যোগানোর প্রয়োজন,সরকার তাই করছে।
বন্ধুগণ,উদ্ভাবনই উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ভিত্তি। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় এই ভাবনাকে সম্বলকরেই উদ্ভাবনকে বিদ্যালয় সংস্কৃতির অংশ করে তোলার কাজ করা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের অল্পবয়সী ছেলেমেয়েদের ভাবনাকে আবিষ্কারে রূপান্তরিত করার জন্য সরকার অটল ইনোভেশনমিশন-এর সূত্রপাত করেছে। ইতিমধ্যেই সারা দেশে ২ হাজার ৪০০-রও বেশি অটল টিঙ্কারিংল্যাবকে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয়সরকার আরেকটি বড় মিশন নিয়ে কাজ করছে, সেটা হ’ল দেশে ২০টি বিশ্ব মানের শিক্ষাসংস্থান গড়ে তোলা। দেশের ২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ‘ইন্সটিটিউট অফ এমিনেন্স’হিসাবে গড়ে তুলতে সরকারি ক্ষেত্রে ১০টি নির্বাচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্টসময়সীমা পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। এই‘ইন্সটিটিউট অফ এমিনেন্স’গুলি আধুনিক শিক্ষাক্ষেত্রে ভারতকে আবার জগতসভায় শ্রেষ্ঠআসন ফিরে পেতে সাহায্য করবে।
এবারেরবাজেটে আমরা RISE নামক একটি নতুন প্রকল্প চালু করেছি। এর মাধ্যমে সরকার আগামী চারবছরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারের জন্য ১ লক্ষ কোটি টাকা খরচ করবে।
কেন্দ্রীয়সরকার এবারের বাজেটে একটি ‘প্রাইম মিনিস্টার্স রিসার্চ ফেলোস্’ প্রকল্প ঘোষণাকরেছে। এর মাধ্যমে দেশের ১ হাজার অত্যন্ত মেধাবী কারিগরি বিদ্যার ছাত্রদের পিএইচডিপ্রোগ্রামের জন্য পাঁচ বছর ধরে মাসে ৭০-৮০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করাহবে।
ভবিষ্যতেরপ্রয়োজনসমূহ এবং আমাদের মানবসম্পদের শক্তিকে মাথায় রেখে এ ধরনের অনেক কেন্দ্রীয়প্রকল্পের মাধ্যমে কর্ণাটকের যুবসম্প্রদায় উপকৃত হতে পারেন। কেন্দ্রীয় সরকারেরউদ্যোগে আবিষ্কারের ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অফ থিঙ্কস্-এরক্ষেত্রের কর্ণাটকের যুবসম্প্রদায়ের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিচ্ছে। বিশেষকরে, স্মার্টসিটি মিশনের মাধ্যমে সারা দেশে কর্ণাটকের প্রতিভাবান যুবক-যুবতীদেরকর্মসংস্থান সহজ করে তুলেছে। তাঁদের প্রতিভার উন্নততর প্রয়োগ সুনিশ্চিত করেছে।
বন্ধুগণ,ভগিনী নিবেদিতা একবার বলেছিলেন, “এমন কি করা যায়, যাতে ভারতের ছাত্ররা অন্য কোনওদেশের নকল করবে না, নকল না করে তারা স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে”। এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেছেন,“তোমাদের শিক্ষা হওয়া উচিৎ হৃদয় ও আত্মার সম্মিলন এবং আত্মার সঙ্গে মস্তিষ্কের;তোমার মধ্যে তোমার অতীত এবং আধুনিক বিশ্বের একটি জীবন্ত সংযোগ”!
অর্থাৎ,নিজের ইতিহাস, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের মধ্যে সংযোগসাধনের প্রয়োজন রয়েছে। এই সংযোগেরশিকড় যতটা ঐতিহ্যের মধ্যে প্রোথিত থাকবে, দেশের যুবসম্প্রদায় ততটাই নিজেদেরশক্তিশালী অনুভব করবেন।
ভাইও বোনেরা, নিজের ঐতিহ্যকে সম্মান জানানোর এই ভাবনা সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারদ্বারা চালু করা ‘খেলো ইন্ডিয়া যোজনা’য় পরিলক্ষিত হয়। আর আমি বলি, যারা খেলেন,তাঁরাই প্রস্ফুটিত হন। সেজন্য আমরা নীতিগত পরিবর্তন এনেছি। ক্রীড়া ক্ষেত্রেগুরু-শিষ্য পরম্পরাকে উৎসাহ প্রদানের উদ্দেশ্যে সরকার বর্তমান ‘কোচ’দের থেকেও সেইগুরুদের বেশি সম্মান জানাবে, যাঁরা খেলোয়াড়দের আঙুল ধরে চলতে শিখিয়েছেন।আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পদকজয়ের পর এখন গুরুদেরও সম্মানরাশির একটি অংশ প্রদানকরা হবে।
এভাবেদেশের ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযোগসাধনের কথা মাথায় রেখে ‘খেলো ইন্ডিয়া’ কর্মসূচিতে কবাডিএবং খোখো’র মতো দেশী খেলাগুলিতে জোর দেওয়া হচ্ছে। এই প্রকল্প অনুসারে দেশেরপ্রত্যেক প্রান্ত থেকে প্রতিভা অন্বেষণের পর সরকার খেলোয়াড়দের আধুনিক মঞ্চপ্রদানের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, প্রতি বছর ১ হাজার নবীনক্রীড়াবিদকে বেছে নিয়ে তাঁদের অত্যাধুনিক ক্রীড়া পরিকাঠামোর মধ্যে প্রশিক্ষণেরউদ্দেশ্যে জনপ্রতি বার্ষিক ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দেবে।
বন্ধুগণ,‘বিদ্যার্থী দেবো ভবঃ’ শুধু আপনাদের শ্লোগান নয়, আমাদের মন্ত্রও বটে। শুধু তাই নয়,আমি আপনাদের অনুমতি নিয়ে এতে যুক্ত করতে চাই ‘যুবা দেবো ভবঃ – যুবা শক্তি দেবোভবঃ’।
যুবকদেরআমি দৈবশক্তিতুল্য ভাবি। কারণ, আমি যৌবনকে কোনও পরিস্থিতি কিংবা আয়ুর অবস্থা বলেমনে করি না। আমি একে একটি মানসিক অবস্থা বা স্থিতি বলে মনে করি। যুব শক্তি শুধুএটাই ভাববে না যে, যা আগে ছিল, তাই ভালো ছিল! যুব মন ভাববে, পুরাতন থেকে শিক্ষানিয়ে কিভাবে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ’কে উন্নততর করা যায়। সেজন্য তাঁরা দেশকে পরিবর্তনেরপথে নিয়ে যান, বিশ্বকে বদলানোর চেষ্টা করে্ন। যুব মন চায় যে, ভবিষ্যৎ-বর্তমান এবংঅতীত – এই দুয়ের থেকেই অনেক ভালো ও পাকাপোক্ত হোক।
সেজন্যআমি দেশের নবীন প্রজন্মের শক্তিকে প্রণাম জানাই। আপনারা হয়তো ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠভারত’ শব্দবন্ধটি শুনেছেন। সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেল-ই প্রথম দেশকে ঐক্যবদ্ধ করারজন্য ভগীরথ-এর ভূমিকা নিয়েছিলেন। দেশকে ঐক্যবদ্ধ করে তোলার মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্বেপৌঁছে দেওয়া দেশের জনগণের দায়িত্ব। মনে করুন, আপনাদের মধ্যে কারও ফরাসি কিংবাস্প্যানিশ ভাষা শেখার ইচ্ছে হ’ল – খুব ভালো কথা। বিশ্বের যে কোনও ভাষা শেখা খুবভালো কিন্তু কখনও কি আমাদের মনে হয় না যে, আমাদের এই দেশ এত বড়, প্রায় ১০০টি ভাষা,১ হাজার ৭০০টি কথ্যভাষা, এর মধ্য থেকে ১০-১২টি ভাষা আমরাও শিখি। অন্ততপক্ষে আমাদেরদেশের ১০-১২টি ভাষার ৫-৫০টি বাক্য বলতে শিখি। নিজের রাজ্য ছাড়াও অন্য ২-৪টি রাজ্যেপ্রচলিত ভাষার গান গাইতে শিখি। আমি মনে করি, দেশকে ঐক্যবদ্ধ করতে এই সামর্থ্য গড়েতোলা অত্যন্ত জরুরি। আর আমরা আমাদের সহজ স্বভাব রূপেই এই গুণকে বিকশিত করে তুলতেপারি। এই যে আমি ভাঙা ভাঙা উচ্চারণে কয়েকটি কন্নড় বাক্য বলেছি, তা কি আপনাদের হৃদয়স্পর্শ করেনি! আপনারা কিন্তু তখন ভাবেননি যে, মোদীজির উচ্চারণ ঠিক আছে কি না,ব্যাকরণ ঠিক আছে কি না! আপনারা এটাই ভেবেছেন যে, মোদীজি অন্তর থেকে আমাদের সঙ্গেযুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছে। আমি মনে করি, দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে এটি একটিভালো উপায়।
দেশএখন যে সংকল্প থেকে সিদ্ধির যাত্রাপথে বেরিয়ে পড়েছে, যে নতুন ভারতের স্বপ্নবাস্তবায়নের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে, তার সফল করার দায়িত্ব আমাদের দেশের নবীনপ্রজন্মের ওপর বর্তায়। তাঁদেরকে ভবিষ্যতের জন্য অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানিয়ে আমিআরেকবার নবীন প্রজন্মকে বলতে চাই যে, আমরা যেন স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শকে মনেরাখি। ভগিনী নিবেদিতার আদর্শকে মাথায় রাখি। জনসেবাই ঈশ্বরের সেবা। জীবের মধ্যেইশিব’কে দেখুন। এই একটি তত্ত্ব জ্ঞান আমাদের দেশের পরিবর্তনের পথে সরকারের উদ্যোগেযে প্রকল্পগুলি চালু করা হয়েছে, তা সে স্বচ্ছ ভারত অভিযান হোক, বেটি বাঁচাও-বেটিপড়াও হোক, বয়স্কদের জন্য আরোগ্য সেবার কাজ হোক, কৃষকদের জন্য আধুনিক প্রযুক্তিরসহায়তা হোক – এক একটি ক্ষেত্রে আপনারা নিজেদের যুক্ত করে এগিয়ে গেলে আমার দৃঢ়বিশ্বাস যে, আপনারা সবাই এই মহান সন্ন্যাসীদের সাধনাস্থল পবিত্র ভূমি তুমকুরুতেএসে উপস্থিত সাধু-সন্ন্যাসীদের থেকে প্রেরণা নিয়ে জীবনের পথে এগিয়ে যাবেন।
আপনাদেরসবাইকে নরেন্দ্র মোদী অ্যাপ-এ যুক্ত হওয়ার অনুরোধ জানাই। অনেকেই হয়তো ইতিমধ্যেইযুক্ত হয়েছেন, যাঁরা হননি আমার মনে তাঁদের সঙ্গেও যুক্ত হওয়ার অভিলাষ রয়েছে।আপনারা এর মাধ্যমে আমার সঙ্গে কথা বলুন। আপনাদের চিন্তাভাবনার আমার কাছে পৌঁছেদিন। এটা সত্যি কথা যে, আমি কন্নড় ভাষা বলতে পারি না। তাই হিন্দিতে বক্তব্যরেখেছি। কিন্তু আপনারা যদি আমার বক্তব্যকে কন্নড় ভাষায় শুনতে কিংবা পড়তে চান –সেজন্য আমি আমার টিমকে অনুরোধ জানাই যাতে আমার এই বক্তব্যটির প্রধান অংশগুলিআপনাদের জন্য কন্নড় ভাষায় অনুবাদ করে দেন। যাতে আপনারা নিজের ভাষায় দেখে ও শুনেআমার অনুরোধ রক্ষায় এগিয়ে আসেন।
আমিআজ এই ত্রিবেণী সঙ্গম আয়োজনের জন্য রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দ আশ্রমকে আরেকবার অনেক অনেকধন্যবাদ জানাই। সমাগত সকল সন্ন্যাসীদের প্রণাম জানাই। শিবগিরি মঠকে প্রণাম জানাই।আর উপস্থিত সমস্ত যুবক-যুবতীদের অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই।
অনেকঅনেক ধন্যবাদ।
PG/S B / SB…
तुमकूरू का ये स्टेडियम इस समय हजारों विवेकानंद, हजारों भगिनी निवेदिता की ऊर्जा से दमक रहा है। हर तरफ केसरिया रंग इस ऊर्जा को और बढ़ा रहा है: PM @narendramodi https://t.co/CqeCgasxvn
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2018
युवा पीढ़ी के साथ किसी भी तरह का संवाद हो, उनसे हमेशा कुछ ना कुछ सीखने को मिलता है: PM @narendramodi https://t.co/CqeCgasxvn
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2018
इसलिए मैं यथासंभव प्रयास करता हूं कि युवाओं से ज्यादा से ज्यादा मिलूं, उनसे बात करूं, उनके अनुभव सुनूं। उनकी आशाएं, उनकी आकांक्षाएं जानकर, उनके मुताबिक कार्य कर सकूं, इसका मैं निरंतर प्रयत्न करता हूं: PM @narendramodi https://t.co/CqeCgasxvn
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2018
भगवान वसवेश्वर और स्वामी विवेकानंद जी के आशीर्वाद से श्री शिवकुमार स्वामी जी राष्ट्र निर्माण के यज्ञ में जुटे हुए हैं। मैं उनके बेहतर स्वास्थ्य और उनकी दीर्घायु की प्रार्थना करता हूं: PM @narendramodi https://t.co/CqeCgasxvn
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2018
आज के तीनों आयोजनों के केंद्र बिंदु स्वामी विवेकानंद हैं। कर्नाटक पर तो स्वामी विवेकानंद जी का विशेष स्नेह रहा है। अमेरिका जाने से पहले, कन्याकुमारी जाने से पहले वो कर्नाटक में कुछ दिन रुके थे: PM @narendramodi https://t.co/CqeCgaK8TX
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2018
यहां तीर्थों की बात हो रही है, तो Technology की भी चर्चा है। यहां, ईश्वर की भी बात हो रही है और नए Innovations की भी चर्चा है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2018
कर्नाटक में Spiritual Festival और Youth Festival का एक नया मॉडल विकसित हो रहा है। मुझे आशा है कि ये आयोजन देशभर में दूसरों को प्रेरणा देगा। भविष्य की तैयारियों के लिए हमारी ऐतिहासिक परंपराओं और वर्तमान युवा शक्ति का ये समागम अद्भुत है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2018
अगर हम अपने देश के स्वतंत्रता आंदोलन पर ध्यान दें, उन्नीसवी और बीसवी शताब्दी के उस कालखंड पर गौर करें, तो पाएंगे कि उस समय भी अलग-अलग स्तर पर एक संयुक्त संकल्प देखने को मिला था: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2018
ये संयुक्त संकल्प था देश को गुलामी की बेड़ियों से मुक्त करने के लिए। तब संत समाज - भक्त समाज, आस्तिक – नास्तिक, गुरु- शिष्य, श्रमिक वर्ग – प्रोफेशनल वर्ग, जैसे समाज के विभिन्न अंग इस संकल्प से जुड़ गए थे: PM @narendramodi https://t.co/CqeCgaK8TX
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2018
उस समय हमारा संत ये स्पष्ट देख रहा था कि अलग-अलग जातियों में बंटा हुआ समाज, अलग-अलग वर्ग में विभाजित समाज अंग्रेजों का मुकाबला नहीं कर सकता: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2018
इसी कमजोरी को दूर करने के लिए उस दौरान देश में अलग-अलग हिस्सों में सामाजिक आंदोलन चले। इन आंदोलनों के माध्यम से देश को एकजुट किया गया, देश को उसकी आंतरिक बुराइयों से मुक्त करने का प्रयास किया गया: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2018
इन आंदोलनों की कमान संभालने वालों ने देश के सामान्य जन को बराबरी का मान दिया, सम्मान दिया। उन्होंने देश की आवश्यकता को समझते हुए अपनी आध्यात्मिक यात्रा को राष्ट्र निर्माण से जोड़ा। जनसेवा को उन्होंने प्रभु सेवा का माध्यम बनाया: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2018
आपने देखा कि परसों, पूरा देश होली के रंग में रंगा हुआ था। कल North East के नतीजों ने फिर एक बार पूरे देश में उत्सव का वातावरण बना दिया।मैं इसे एक पार्टी की जीत, एक पार्टी की हार के तौर पर नहीं देखता हूं। महत्वपूर्ण ये है कि North East के लोगों की खुशी में पूरा देश शामिल हुआ: PM
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2018
पहली बार ऐसा हुआ जब देश के अन्य राज्यों के लोग भी ये देखने के लिए सुबह से टीवी खोलकर बैठ गए कि मेरे उत्तर-पूर्व के भाइयों-बहनों ने क्या जनादेश दिया है। ये एक बहुत बड़ा बदलाव है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2018
पहले हमारे यहां नीतियां और निर्णय ऐसे हुए, कि उत्तर पूर्व के लोगों में alienation की भावना घर कर गई थी। लोग विकास की ही नहीं, विश्वास और अपनत्व की मुख्यधारा से भी खुद को कटा हुआ महसूस करने लगे थे: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2018
पिछले 4 वर्षों में हमारी सरकार की नीतियों-निर्णयों ने इस भावना को खत्म करने का काम किया है। हमने North East के भावनात्मक Integration का संकल्प लिया और उसे सिद्ध करके दिखाया है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2018
Radicalization का जवाब Integration से ही दिया जा सकता है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2018
हमें एक संकल्प तय करके उस पर अपना जीवन न्योछावर कर देना चाहिए: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2018
आज युवाओं के बीच, मैं सभी से प्रश्न करना चाहता हूं कि ये एक संकल्प क्या होना चाहिए? ये सवाल मैं इसलिए भी आपसे पूछ रहा हूं, क्योंकि जीवन में मैंने भी स्वयं से एक बार ये प्रश्न किया था। इस प्रश्न का हम जितना जल्दी सामना कर लें, जीवन में आगे का रास्ता उतना ही स्पष्ट हो जाता है: PM
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2018
आज हमारा भारत पूरी दुनिया का सबसे नौजवान देश है। 65 प्रतिशत से ज्यादा लोगों की आयु 35 वर्ष से कम है। युवा शक्ति की ये अपार ऊर्जा देश का भाग्य बदल सकती है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2018
2014 में सरकार बनने के बाद इसलिए हमारी सरकार ने Youth Power को ध्यान में रखते हुए, इस ऊर्जा का राष्ट्र निर्माण में इस्तेमाल करने के लिए अनेक फैसले लिए और ये प्रकिया निरंतर जारी है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2018
युवा अपने दम पर अपना बिजनेस शुरू कर सकें, उन्हें बिना बैंक गारंटी कर्ज मिल सके, इसके लिए सरकार द्वारा प्रधानमंत्री मुद्रा योजना चलाई जा रही है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2018
मुद्रा योजना के तहत अब तक देश में करीब-करीब 11 करोड़ Loan दिए गए हैं। कर्नाटक के नौजवानों के भी 1 करोड़ 14 लाख से ज्यादा लोन स्वीकृत किए गए हैं: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2018
Skill Development और Self-Employment को बढ़ावा देने के साथ ही हमारी सरकार ने नौजवानों के products के लिए बाजार बनाने का भी काम किया है। सरकार ने नीतिगत परिवर्तन किया है ताकि सरकारी खरीद में स्थानीय उत्पादों को ही प्राथमिकता मिले: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2018
Innovation ही बेहतर भविष्य का आधार है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2018
स्कूलों में कम उम्र के बच्चों के Ideas को Innovation में बदलने के लिए सरकार ने Atal Innovation Mission की शुरुआत की है। अब तक देशभर में 2400 से ज्यादा Atal Tinkering Labs को स्वीकृति दी जा चुकी है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2018
केंद्र सरकार एक और बहुत ही बड़े मिशन पर काम कर रही है और वो है देश में 20 वर्ल्ड क्लास शिक्षा संस्थान बनाने का काम: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2018
इस बजट में हमने RISE नाम से एक नई योजना भी शुरू की है। इसके तहत हमारी सरकार अगले चार साल में देश के Education System को सुधारने के लिए 1 लाख करोड़ रुपए खर्च करने जा रही है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2018
अपने इतिहास, अपने वर्तमान और अपने भविष्य के बीच कनेक्ट बनाना बहुत आवश्यक है। अपनी परंपराओं से जितना ये कनेक्ट मजबूत होगा, उतना ही देश का युवा, खुद को मजबूत महसूस करेगा: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2018
“विद्यार्थी देवो भव” सिर्फ आपका ही नहीं, हमारा भी मंत्र है। बल्कि मैं तो आपकी स्वीकृति से इसमें ये भी जोड़ना चाहूंगा- “युवा देवो भव: - युवाशक्ति देवो भव:” : PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2018
युवा सिर्फ ये नहीं सोचता कि जो पहले अच्छा था, वही बेहतर था। युवा ये सोचता है कि पुराने से सीख लकर वर्तमान और भविष्य को और बेहतर कैसे बनाया जाए: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2018
युवा चाहता है कि भविष्य, वर्तमान और अतीत दोनों से ज्यादा बेहतर और मजबूत हो: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) March 4, 2018