পিএমইন্ডিয়া
রাজ্যসভার সদ্য অবসরপ্রাপ্তসদস্যদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর বিদায়ী ভাষণ
রাজ্যসভার মাননীয় সভাপতি মহোদয় এবং সম্মানিত সদস্যবৃন্দ,
আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমাদেরকয়েকজন সঙ্গী এখন থেকে সংসদের এই উচ্চকক্ষে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে সমাজসেবায়তাঁদের ভূমিকাকে আরও শক্তিশালী করবেন। এই বিদায়ী সদস্যরা প্রত্যেকেই তাঁদের কর্মকালে এই সভাগৃহে দেশেরউজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে তাঁদের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করার চেষ্টাকরেছেন। তাঁদের এই অবদানকে দেশ কখনও ভুলতে পারবে না!
আপনাদের এই উত্তম সেবার জন্যে আমার পক্ষ থেকেঅনেক অনেক ধন্যবাদ এবং আপনাদের ভবিষ্যতের জন্য অনেক অনেক শুভেচ্ছা।
এই সভাগৃহে সেই বরিষ্ঠ মাননীয় সদস্যরা বসেনযাদের জীবনের অভিজ্ঞতা অধিবেশন গুলিতে মূল্য সংযোজন করে। সমাজ জীবনেরআশা-আকাঙ্ক্ষাগুলিকে একটি নিরপেক্ষ প্রাজ্ঞ মনোভাবের দাঁড়িপাল্লায় মেপে কোনটাভবিষ্যতের সমাজ ব্যবস্থার উপযোগী হবে আরকোনটা হবে না, তার মূল্যায়ন করার সামর্থ্য এই উচ্চকক্ষের থাকে , এই বরিষ্ঠ মাননীয়সদস্যদের থাকে। সেজন্য এখানে যা বলা হয়, তার একটা বিশেষ গুরুত্ব থাকে। সেইগুরুত্বই আমাদের নীতি নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণভূমিকা পালন করে।
আমাদের মধ্যে শ্রদ্ধেয় পরাশরণজির মতো মাননীয়সদস্য আছেন, যিনিনিজের জীবনে পেশাদারিত্বের পাশাপাশি একজন তপস্বীর জীবনযাপন করেন,এই সভাগৃহ আজকের পর থেকে তাঁর মতো মানুষের সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত হবে।
ভারতের গর্ব, দুই মহান খেলোয়াড় শ্রদ্ধেয়দিলীপজি এবং সচিনজির সান্নিধ্য থেকেও এই সভাগৃহ বঞ্চিত হবে। প্রফেসর ক্যুরিয়নসাহেবকেও তেমনি সবাই চিরদিন মনে রাখবেন । তাঁর সদাহাস্যময় চেহারা,যে কোনও কথাকে কিভাবে হেসে বলতে হয়, তা তাঁর কাছে সকলের শিক্ষণীয় বিষয়। সেজন্যেঅনেক সংকটের সময় এই সভা পরিচালনায় তাঁর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
এটা ঠিক যে, এখানে খুব কম সদস্যই রয়েছেন যাদেরসঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দল এবং রাজনৈতিক বিচার ধারার সম্পর্ক নেই । অনেক কম সদস্যই এমন আছেন।আমরা অধিকাংশই কোনও না কোনও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে এসেছি, তাই আমাদের বক্তব্যেসেই বিচার ধারার দৃষ্টিকোণকেপ্রতিস্থাপিত করার প্রচেষ্টা থাকা অত্যন্ত স্বাভাবিক।
কিন্তু সবুজ সভাঘরে যা হয় তাযে লাল সভাঘরেও হতে হবে তার কোনও মানে নেই। উচ্চ সভাঘরের আলাদা মর্যাদা রয়েছে যে!আজকের বিদায়ী সদস্যরা প্রত্যেকেই নিজেদের সেই মর্যাদা রক্ষা করে তাঁদের প্রাপ্যসম্ভ্রম আদায় করে গেছেন।
আমার মনে হয়, আপনাদের মধ্যেঅনেকেই হয়তো মনে মনে প্রস্তুত হয়ে এসেছেন যে এটা আপনাদের রাজ্যসভায় সর্বশেষঅধিবেশন, ছেড়ে যাওয়ার আগে একটি বড় ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়ে যাবেন, এমন কিছু বলে যাবেন,যা দেশের মানুষের সেবায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে, কিন্তু যাওয়ার আগে এবার আপনার আর সেসৌভাগ্য হয়নি। এর জন্যে শুধু কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়, কোনও নির্দিষ্ট পক্ষ দায়ী নয়।এখান থেকে ওখান পর্যন্ত প্রত্যেকেই দায়ী, যেজন্যে আপনারা ভাষণ দিতে পারলেন না!
ভালহত, আপনারা যদি বিদায়ের আগেও কোনও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নিজস্ব ভূমিকা পালন করে যেতে পারতেন! ছেড়ে যাওয়ার আগে মনেরাখার মতো কিছু রেখে যেতে পারলে আপনারা বিশেষ সন্তুষ্টি নিয়ে যেতেন। কিন্তু হয়তোএই সভাগৃহের কারণেই আপনারা সেই সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত থেকে গেলেন। গতকাল তো এমনও মনেহচ্ছিল যে আজ এই বিদায়ী অনুষ্ঠানও বাতিল না হয়ে যায়! কিন্তু শ্রদ্ধেয় চেয়ারম্যানমহোদয় অনেক চেষ্টা করে, সবাইকে বোঝানোর চেষ্টা করে সবাইকে সঙ্গে টানার ক্ষেত্রেসফল হন । শ্রীযুক্ত বিজয়ও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, তবেই এটা সম্ভবহয়েছে যে আজ সমস্ত বিদায়ী সদস্যরা সংক্ষেপে নিজেদের বক্তব্য রাখতে পারছেন। কিন্তুতবুও বিদায়ের আগে কোনও গুরুত্বপূর্ণসিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নিজস্ব ভূমিকা পালন করে যেতে পারলেন না , ইতিহাস যা সবসময় মনে রাখতো এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ারক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারলেন না ! অবশ্য আগে এ রকম সুযোগ আপনারাপেয়েছেন , এবং নিজেদের অবদানও রেখেছেন , যেজন্য দেশ আপনাদের মনে রাখবে , কিন্তু বিদায়ের আগেও কোনও গুরুত্বপূর্ণসিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নিজস্ব ভূমিকা পালন করে যেতে পারলে আপনাদের ভাললাগতো !
‘ তিনতালাক ’ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত যা আগামীদিনে ভারতের ইতিহাসেঅনেক বড় ভূমিকা পালন করবে , সেই সিদ্ধান্তে নিজেদের অবদানরাখার ক্ষেত্রে আপনারা বঞ্চিত রয়ে গেলেন । আপনাদের মধ্যে যারা পুনর্নির্বাচিত হয়ে আসবেন, তাঁদের অবশ্য এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করার সৌভাগ্য হবে।কিন্তু যারা আর আসবেন না তাঁদের মনে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগ্রহণের ক্ষেত্রে নিজস্ব ভূমিকা পালন না করতে পারার ক্ষোভ থেকে যাবে, আজ থেকে দশ বছর, কুড়ি বছর, ত্রিশ বছর পরেও এইক্ষোভ থেকে যাবে!
আমি আরেকবার যে মাননীয় সদস্যরা সাফল্যের সঙ্গে তাঁদের কার্যকাল শেষ করে বিদায়নিচ্ছেন, সেই সম্মানিত সদস্যদের শুভেচ্ছা জানাই। আপনাদের একজন সহকর্মী হিসেবে অনুরোধ জানাই, এটা ভাববেন না যে আপনার এইসভাগৃহে কার্যকাল সমাপ্ত হয়েছে বলে এই গোটা চত্বরে আর প্রবেশাধিকার রইলো না! আপনাদেরজন্যে এই চত্বরের দরজা সর্বদা খোলা থাকবে, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরও খোলা থাকবে।
দেশের স্বার্থে আপনাদের মনে যখন যে ভাবনার উদয় হবে, আপনারাঅবশ্যই আসবেন, আমার ভাল লাগবে। আপনার কথা শুনবো, তার গুরুত্ব বোঝার চেষ্টা করবোএবং আপনার ইচ্ছা অনুসারে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়ার, এবং সম্ভব হলে বাস্তবায়িত করারচেষ্টা অবশ্যই করবো।
আমি আরেকবার আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই, অনেকঅনেক শুভেচ্ছা জানাই।
PG /SB/NS/…
We bid farewell to some of our MP colleagues in the Rajya Sabha. They have contributed significantly to Parliament and we have all gained from their experience and insight: PM @narendramodi in the Rajya Sabha
— PMO India (@PMOIndia) March 28, 2018
The Rajya Sabha is a distinguished House, with eminent members serving here. This House plays a vital role in our democracy: PM @narendramodi https://t.co/0Tbiv8imV6
— PMO India (@PMOIndia) March 28, 2018
We will always remember the distinguished work of Parasaran Ji. Who can forget the manner in which Professor Kurien has contributed to the Rajya Sabha: PM @narendramodi in the Rajya Sabha
— PMO India (@PMOIndia) March 28, 2018
We will always remember the distinguished work of Parasaran Ji. Who can forget the manner in which Professor Kurien has contributed to the Rajya Sabha: PM @narendramodi in the Rajya Sabha
— PMO India (@PMOIndia) March 28, 2018