Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

শ্রীনগরে শের-এ-কাশ্মীর স্টেডিয়ামে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

শ্রীনগরে শের-এ-কাশ্মীর স্টেডিয়ামে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

শ্রীনগরে শের-এ-কাশ্মীর স্টেডিয়ামে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

শ্রীনগরে শের-এ-কাশ্মীর স্টেডিয়ামে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

শ্রীনগরে শের-এ-কাশ্মীর স্টেডিয়ামে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

শ্রীনগরে শের-এ-কাশ্মীর স্টেডিয়ামে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

শ্রীনগরে শের-এ-কাশ্মীর স্টেডিয়ামে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

শ্রীনগরে শের-এ-কাশ্মীর স্টেডিয়ামে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

শ্রীনগরে শের-এ-কাশ্মীর স্টেডিয়ামে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

শ্রীনগরে শের-এ-কাশ্মীর স্টেডিয়ামে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

শ্রীনগরে শের-এ-কাশ্মীর স্টেডিয়ামে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

শ্রীনগরে শের-এ-কাশ্মীর স্টেডিয়ামে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

শ্রীনগরে শের-এ-কাশ্মীর স্টেডিয়ামে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

শ্রীনগরে শের-এ-কাশ্মীর স্টেডিয়ামে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

শ্রীনগরে শের-এ-কাশ্মীর স্টেডিয়ামে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

শ্রীনগরে শের-এ-কাশ্মীর স্টেডিয়ামে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

শ্রীনগরে শের-এ-কাশ্মীর স্টেডিয়ামে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

শ্রীনগরে শের-এ-কাশ্মীর স্টেডিয়ামে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ

শ্রীনগরে শের-এ-কাশ্মীর স্টেডিয়ামে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ


বিপুল সংখ্যায় সমাগত আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা,

এটা আমার সৌভাগ্য যে ইতিমধ্যেই সব থেকে বেশিবার কাশ্মীর সফরকারী প্রধানমন্ত্রীদের তালিকায় আমার নাম স্থান পেয়েছে। কাশ্মীর আমাকে টানে। কাশ্মীরীদের ভালোবাসাকে আমি অনুভব করি। আমি যখন ভারতীয় জনতা পার্টির সাংগাঠনিক কাজ করতাম, তখন অনেকবার এই রাজ্যে এসেছি। অনেক প্রত্যন্ত এলাকায় যাবার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। এখানকার ভালোবাসাকে আমি অনুভব করেছি, সেজন্য গত বছরের বন্যার সময় আপনারা যে চরম দুর্দশায় কাটিয়েছেন, তা আমি দিল্লিতে বসে অনুভব করতে পেরেছি। তখন-ই ছুটে চলে এসেছি। তৎকালীন সরকারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আপনাদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবের যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি।

তারপর দেওয়ালি উৎসব আসে, দিল্লিতে বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে দেওয়ালি উপভোগ করা আমার পক্ষে সহজ ছিল। কিন্তু, আমি আপনাদের বন্যাবিধ্বস্ত দুর্দশা লাঘবের জন্য এখানে চলে আসি। এখানে যখন বন্যা হয়, তখন চিনের রাষ্ট্রপতি ভারত সফরে এসেছিলেন। তিনি ১৭ সেপ্টেম্বর আমার জন্মদিনে গুজরাটে আমার বাড়িতে গিয়ে জন্মদিন পালন করতে চেয়েছিলেন। আগে থেকেই তাঁর এই পরিকল্পনার কথা জানিয়ে রেখেছিলেন। সেভাবেই তাঁর ও আমার সফরের আয়োজন করা ছিল। তিনি এলে, আমি তাঁকে যথারীতি স্বাগত জানাই, সম্মান জানাই। কিন্তু তখন-ই কাশ্মীরে ভয়ানক বন্যা হওয়ায় আমি তাঁকে বলি, আমার কাশ্মীরের মানুষ দুর্যোগগ্রস্হ, আমি জন্মদিন পালন করতে পারবো না। হ্যাঁ, আমার মায়ের পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নিতে গিয়েছিলাম। আমি যেরকম সামাজিক অবস্থা থেকে উঠে এসেছি, আগে জন্মদিনে মা’কে প্রণাম করলে মা আমাকে পাঁচসিকে দিতেন, তারপর পাঁচ টাকা এবং সর্বাধিক এগারো টাকা। কিন্তু, গত বছর আমাকে অবাক করে দিয়ে তিনি আমাকে পাঁচ হাজার টাকা দেন। তারপর বলেন, ‘বাবা এই টাকা কাশ্মীরের বন্যা পীড়িতদের কল্যাণে খরচ করিস’! এই সংস্কার, এই পরম্পরা ও ঐতিহ্যের শক্তি আমাকে আপনাদের দুঃখ-কষ্টে পাশে দাঁড়ানোর প্রেরণা দেয়, শক্তি জোগায়।

আপনাদের ভালোবাসা আমার সাহস বাড়ায়। আমি যে মন্ত্র নিয়ে শাসন ব্যবস্থা কাঁধে তুলে নিয়েছি, তা হল – ‘সবার সঙ্গে – সবার উন্নয়ন’। ভারতের কোনও প্রান্তের সঙ্গে না থাকতে পারলে আমার স্বপ্ন অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। আর সেজন্যই ভারতের প্রতিটি প্রান্ত, প্রতিটি ভূ-ভাগ, প্রত্যেক ব্যক্তির সঙ্গ আমি চাই। প্রতিটি অঞ্চলের প্রত্যেক নাগরিকের উন্নয়ন চাই। এই স্বপ্ন সাকার করতে হলে আমাকে জম্মু ও কাশ্মীরে সেই দিন ফিরিয়ে আনতে হবে, যখন ভারতের প্রতিটি নাগরিক এখানে ঘুরতে আসার জন্য মুখিয়ে থাকতেন। কেরল, তামিলনাডু, আসাম, নাগাল্যান্ড, মহারাষ্ট্র কিংবা গুজরাট, প্রত্যেক রাজ্যের এমনকি সাধারণ মানুষও সামান্য পয়সা জমিয়ে ছুটিতে সপরিবারে কাশ্মীর বেড়াতে আসতে চাইতেন। সেইসব দিন আমাকে ফিরিয়ে আনতে হবে।

১২৫ কোটি ভারতবাসীর মনে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে, ইচ্ছে জাগাতে হবে, যাতে তাঁরা কাশ্মীর ঘুরতে এসে আপনাদের ভালোবাসাকে অনুভব করেন, আর প্রকৃতি যে স্বর্গ রচনা করেছে, প্রত্যেকে নিজের জীবনকালে অন্তত একবার সেই স্বর্গে থাকার অনুভুতি উপভোগ করতে পারেন। এই স্বপ্ন নিয়ে আমি এগিয়ে চলেছি। কে বলে আমরা সঙ্কট জয় করতে পারবো না? আমি সঙ্কট থেকে উঠে দাঁড়ানো এবং সঙ্কট মোচনের দর্শনে বিশ্বাস করি। সঙ্কট যতই গভীর হোক না কেন, আমি দেখেছি তাকে পরাস্ত করার ইচ্ছা মনের মধ্যে প্রবল হলেই আমরা বাঁচার প্রেরণা পাই।

২০০১ সালে যখন গুজরাটে ভূমিকম্প হয়েছিল, আমরা মৃত্যুর চাদরে মুখ ঢেকে শুয়েছিলাম। গোটা বিশ্বের মনে হয়েছিল, গুজরাট আর উঠে দাঁড়াতে পারবে না। হাজার হাজার মানুষ মারা গিয়েছিলেন, লক্ষাধিক ঘরবাড়ি ধ্বংস স্তুপে পরিণত হয়েছিল, গোটা অর্থ ব্যবস্থা নড়বড়ে হয়ে গিয়েছিল। সকলের স্বপ্ন ধূলিস্যাৎ হয়েগিয়েছিল, অনেকেরই চোখের জল মুছে দেবার মতো কেউ বেঁচে ছিলেন না। কিন্তু, আমি সঙ্কল্প নিয়েছিলাম, গুজরাটকে ঐ পরিস্থিতি থেকে বের করে আনতে হবে। আর ভাই ও বোনেরা, তখন বিশ্বের অনেক বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, বিশ্ব ব্যাঙ্কের বক্তব্য ছিল, চারপাশ থেকে সবাই সাহায্য করলেও ঐ পরিস্থিতি থেকে উঠে দাঁড়াতে গুজরাটের কমপক্ষে ৭ বছর লাগবে। কিন্তু, ভাই ও বোনেরা, আমরা যেভাবে একের পর এক সুপরিকল্পিত কর্মসূচি নিয়ে এগোতে থাকি, সরকারের প্রত্যেক কর্মচারী যেভাবে নিরলস পরিশ্রম করতে থাকেন, সাধারণ মানুষ যেভাবে প্রতিটি কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন, মাত্র তিন বছরের মধ্যেই ঐ ভূমিকম্প বিধ্বস্ত অঞ্চলগুলি উঠে দাঁড়িয়ে ছুটতে শুরু করে। যে কচ্ছ, ভূজ অঞ্চল ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প বিধ্বস্ত হয়েছিল, সেই অঞ্চলগুলি এখন ভারতে সর্বাধিক উন্নয়নশীল জেলাগুলির তালিকায় সবার উপরে স্থান করে নিয়েছে।

সেজন্যই আমি বলছি – কাশ্মীর অনেক কষ্ট সহ্য করেছে, অনেক সঙ্কটের মোকাবিলা করেছে, দু-দুটি প্রজন্মের নবযুবক-যুবতীদের স্বপ্ন চুরমার হয়ে গিয়েছে। এসব জেনেও এই বিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি যে, আমার কাশ্মীর আবার তেমনই ভূস্বর্গে পরিণত হবে, তেমনই উৎসাহ, তেমনই সমৃদ্ধি, সেই সোনালি ভবিষ্যৎ আমি চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি। আর আমি নিছকই স্বপ্ন দেখি তা নয়, সেসব স্বপ্নকে সাকার করতে একের পর এক সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ নিই। প্রত্যেক সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সেই পরিকল্পনাগুলি বাস্তবায়নের চেষ্টায় সাফল্য পাই।

১৭ মাস আগে ভারতের যে কোনও খবরের কাগজ দেখুন, যে কোনও টিভি চ্যানেলের বিতর্কগুলি রেকর্ডিং ইউটিউব-এ গিয়ে দেখতে পারেন, বিশ্বের যে কোনও রেটিং এজেন্সির মূল্যায়নও দেখতে পারেন, সবাই সমস্বরে বলছিলেন, ভারত ডুবছে, ভারতের সর্বনাশ আসন্ন, আর্থিক দূরাবস্থা, দুর্নীতি কুশাসন, পরিবারতন্ত্র, ভাই-ভাইপোতন্ত্রের মতো রোগগুলি ভারতকে সর্বনাশের পথে ঠেলে দিচ্ছে। ১৭ মাস আগে এই সঙ্কটের কথা, সর্বনাশের বিপদ ঘন্টা আমাদের কানে প্রতিনিয়ত গুঞ্জরিত হতো। কিন্তু, পরবর্তী ১৭ মাসের মধ্যেই গোটা দুনিয়ার সর্বাধিক উন্নয়নশীল বড় দেশগুলির তালিকায় ভারতের নাম উপরের দিকে স্থান করে নিয়েছে।

চিন আমাদের থেকে এত এগিয়ে গিয়েছিল যে আমরা তাদের সঙ্গে কোনও তুলনাতেই যেতে পারতাম না। কিন্তু, আজ সর্বক্ষেত্রে আমাদের সঙ্গে চিনের তুলনা করা হয় এবং কয়েকটি ক্ষেত্রে আমরা চিনকে ছাড়িয়ে গিয়েছি। মাত্র ১৭ মাসের মধ্যে এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে।

প্রতি বছর আমরা একটা নিয়মিত রিপোর্ট পাই – ‘ট্রান্সপেরেন্সি ইন্টারন্যাশনাল’। এখানে আসতে আসতে আমি এ বছরের রিপোর্টটা পড়ছিলাম বিশ্বের কোন্‌ দেশে দুর্নীতির পরিমাণ কতো, কোথায় দুর্নীতি বাড়ছে, কোথায় কমছে – এই রিপোর্টে এই সব ক্ষেত্র সমীক্ষার ফল ও তুলনামূলক বিশ্লেষন থাকে। আমি দেখি, গত ৫০ বছরে প্রথমবার ঐ তালিকায় ভারত উন্নতি করেছে। মাত্র ১৭ মাসে আমরা স্বচ্ছ প্রশাসনের উন্নয়নে চিনকেও ছাড়িয়ে পূর্ববর্তী স্থান ৯৫ থেকে এখন ৮৫-তে উঠে এসেছি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে দেশব্যাপী যে সংঘর্ষ চলছে, দুর্নীতি দমনে সে সাফল্যও আমরা বিগত ১৭ মাসে পেয়েছি তা-ই আমাদের স্থানকে উন্নত করেছে। এই অগ্রগতি প্রমাণ করেছে যে ভারত চাইলে পারে।

ভাই ও বোনেরা, ভারতের স্বভাব, কাশ্মীরের স্বভাব তার থেকে আলাদা নয়। তাছাড়া, একটু আগেই আমাদের শ্রদ্ধেয় মুখ্যমন্ত্রী মুফতি মহম্মদ সঈদ সাহেব যে কথা বলছিলেন, এ রাজ্যের মানুষের শক্তি আছে, সামর্থ্য আছে, শুধু সামান্য সুব্যবস্থা থাকলেই তাঁরা রাজ্যটিকে উন্নয়নের নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারবেন। আমি মুফতি সাহেবের কথায় ভরসা করি, আপনাদের উপর আমার ভরসা আছে, না হলে ২০ বছর ধরে লাগাতার এত যাতনা সহ্য করার পরও এহেন পরিবেশ দেখা যেত না। এই উৎসাহ ভরা পরিবেশ-ই আপনাদের ইচ্ছা শক্তি, সামর্থ্য ও শক্তির প্রমাণ। আপনারা কাশ্মীরকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে কতটা আগ্রহ তার প্রমাণ।

ভাই ও বোনেরা, আমাদের অটলজীর প্রদর্শিত পথে এগিয়ে যেত হবে। কাশ্মীরের উন্নয়নে আমার দুনিয়ার আর কারও উপদেশ কিংবা বিচার-বিশ্লেষ ণের প্রয়োজন নেই। এই মাটিতে, এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে অটল বিহারী বাজেপেয়ী মহোদয় যে কথা বলেছিলেন, তার থেকে মূল্যবান বার্তা আর কিছুই হতে পারে না। তিনি তিনটি মন্ত্র দিয়েছিলেন, ‘কাশ্মীরীয়ত, জমুরিয়ত এবং ইনসানিয়ত’ অর্থাৎ কাশ্মীরী অস্মিতা, গণতন্ত্র এবং মানবতা – এই তিনটি স্তম্ভে কাশ্মীরের উন্নয়নকে দাঁড় করাতে হবে, মজবুত করে তুলতে হবে।

বাজেপেয়ীজী যে গণতন্ত্রের কথা বলতেন, তখনকি কেউ ভাবতে পেরেছিলেন যে, কাশ্মীরের জনসাধারণ এত দ্রুত গণতন্ত্রকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রথমে লোকসভা নির্বাচন ও পরে বিধানসভা নির্বাচনে এত বিপুল পরিমাণ ভোট দিয়ে লোকসভা ও বিধানসভায় জনপ্রতিনিধি পাঠাবেন? আর আজ যখন মুফতি সাহেব বলছিলেন, পঞ্চায়েতের অধিকার বৃদ্ধির কথা, তিনি তো অটলজীর বলা ‘জমুরিয়ত’-এর কথাই বলছেন। এটাই তো গণতন্ত্রের শক্তি। প্রতিটি গ্রামে নির্বাচিত পঞ্চায়েত গড়ে উঠবে, প্রত্যেক পঞ্চায়েতের উন্নয়নের অধিকার থাকবে। গ্রামবাসীরা নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরা নেবেন, উন্নয়নের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার বেছে নেবেন, রাজ্য ও দেশের সরকার তাদের হাত ধরে তাদের উন্নয়নে সহযোগী হবে। এভাবে আমাদের প্রতিটি গ্রাম শক্তিশালী হবে। কাশ্মীরের মানুষ বাজপেয়ীজীর গণতন্ত্রের স্বপ্নকে সফল করার পথে এগিয়ে চলেছেন, সেজন্য আমি কাশ্মীরের লক্ষ লক্ষ ভাই-বোনেদের অভিনন্দন জানাই – তারা এই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে তুলছেন।

ভাই ও বোনেরা, কাশ্মীরী অস্মিতাকে বাদ দিলে ভারত অসম্পূর্ণ। ভারতের প্রতিটি প্রান্তের প্রত্যেক মানুষের অস্মিতা জুড়েই তো ভারত। সেজন্য এই কাশ্মীরী অস্মিতা ভারতের অহঙ্কার ও গর্বের বিষয়, শৌর্যের প্রতীক। সত্যিকারের ধর্মনিরপেক্ষতার জন্ম এই মাটিতেই। সুফি পরম্পরার জন্ম কোথায় হয়েছে? এই মাটিতেই। এই মাটি আমাদের যুক্ত হতে শিখিয়েছে, সম্পর্ক গড়ে তুলতে শিখিয়েছে। এই পরম্পরাই আমাদের প্রিয় কাশ্মীরী অস্মিতা।

আর পৃথিবীতে যত পরিবর্তনই আসুক না কেন, মানুষ আকাশে গৃহ নির্মাণের কৌশল আবিষ্কার করে নিলেও ‘মানবতা’ ছাড়া কোনও কিছুই এগোতে পারবে না! আর সেজন্যই জীবনযাত্রা মান যত উন্নতই হোক, প্রযুক্তি আমাদের যতই এগিয়ে দিক, আমরা যতই সম্পদশালী হয়ে উঠি না কেন, আমাদের অন্তরাত্মাই বাঁচার প্রেরণা জোগাবে, সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে আমরা পরের তরে এই ভাবনা আমাদের শক্তি জোগাবে। আর সেজন্যই কাশ্মীরী অস্মিতা, গণতন্ত্র এবং মানবতার মন্ত্রকে সম্বল করে এগিয়ে যেতে হবে।

ভাই ও বোনেরা, সাম্প্রতিক অতীতে মুফতি সাহেব এবং আমাদের নির্মল সিংহ মহোদয়ের সঙ্গে অনেক বিস্তারিত আলোচনার সৌভাগ্য হয়েছে। আমাদের ডাগো মহোদয় অনেক মন্ত্রীদের সঙ্গে নিয়ে আমার সঙ্গে বেশ কয়েকবার দেখা করেছেন, কাশ্মীরের উন্নয়ন নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। তাঁদের সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কাশ্মীর উন্নয়নের যে খসড়া আমরা এঁকেছি তাকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সাকার করতেই হবে। আমার অগ্রাধিকার গত বছরের ভয়ানক বন্যায় যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যাঁদের বাড়িঘর, বেঁচে থাকার প্রাথমিক উপাদানগুলি ধ্বংস হয়ে গেছে, সেরকম প্রতিটি পরিবার ও গ্রামকে সেই সঙ্কট থেকে বের করে আনা। সেজন্য আমি এর আগে ১ হাজার কোটি টাকা দেবার ব্যবস্থা করেছিলাম। তারপরও প্রয়োজন অনুসারে টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি। এই কাজে কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু ও কাশ্মীরের সরকারের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে থাকবে। কাশ্মীরের ভাই ও বোনদের আমি এই ব্যাপারে আশ্বস্ত করতে চাই। কিন্তু, বিপদে পাশে দাঁড়িয়ে চোখের জল মোছা, ঘর-দোকান মেরামতি করে দেওয়াকে আমি উন্নয়ন বলি না। সঙ্কটে তো একে অপরের পাশে দাঁড়াতেই হবে। কিন্তু এখানেই থেমে থাকলে চলবে না। আমাদের এগিয়ে যেতে হবে, কাশ্মীরের উন্নয়নকে অনেক এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হল – জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ-এর নবীন প্রজন্মের কর্মসংস্থান। তাঁদের কর্মসংস্থানেই আমাদের সকল সমস্যার সমাধান নিহিত। এই প্রসঙ্গে আমি দেশের নানা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে, আই এ এস, আই পি এস, আই আই টি, আই আই এম-এর প্রবেশিকা পরীক্ষায় ভারতের অন্যান্য প্রান্তের যুবক-যুবতীদের সঙ্গে টেক্কা দিয়ে সাফল্য অর্জন করা এই প্রদেশের নবীন প্রজন্মের বিপুল সংখ্যক যুবক-যুবতীকে অভিনন্দন জানাই। আপনারা প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, এই সামর্থ্য কাশ্মীরের নবীন প্রজন্মের রয়েছে। আমি এই সামর্থ্যকে খুব ভালো করে বুঝি।

এই স্টেডিয়ামে আমি আগে যখন এসেছিলাম, তখনই ভেবেছি, ৩০ বছর আগে এখান ম্যাচ খেলা হতো, এখানে আবার আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা উচিত। এই রাজ্যের খেলোয়াড় পারভেজ রসুল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেশের মর্যাদা বাড়িছে। তাঁর জন্য আমাদের গর্ব হয়। তাঁর রাজ্যে এত সুন্দর স্টেডিয়াম রয়েছে, এখানে আন্তর্জাতিক ম্যাচ হবে না কেন? আমাদের দেশে বিশ্বের অনেক শ্রেষ্ঠ ক্রিকেট খেলোয়াড় জন্ম নিয়েছেন। শচীন তেন্ডুলকর, যুবরাজ, শেহবাগ কিংবা ধোনির মতো অনেকেই গোটা বিশ্বে জনপ্রিয়। তাঁরা ছক্কা মারেন, তাঁদের হাতের ব্যাটটা কিন্তু আমার কাশ্মীরের মাটিতে নির্মিত। কাশ্মীরের উইলো কাঠ দিয়েই সবচাইতে ভালো ক্রিকেট ব্যাট তৈরি হয়। এই সামর্থ্যকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। যাতে এখানকার নবীন প্রজন্মের মানুষের অধিক কর্মসংস্থান হয়, তেমন উন্নয়নের মডেল ঠিক করে এগোচ্ছি। সেজন্য আমরা পর্যটনকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। পর্যটনই কাশ্মীরের নবীন প্রজন্মকে সর্বাধিক রোজগার দেবে।

বর্তমানে যে পর্যটন ব্যবস্থা রয়েছে, তাকে আমাদের আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে হবে। পরিকাঠামো উন্নত করে তুলতে হবে। আজ ভারতে প্রতি বছর প্রায় ১৭৫ লক্ষ মানুষ, মধ্যবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্ত মানুষ ছুটি নিয়ে ৫-৭ দিনের জন্য বিদেশ ঘুরতে যান। দুবাই গেলেও তো বিদেশেই যান। আমরা কাশ্মীর ভ্রমণে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করে, আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তুলতে পারলে তাঁদের ৫ শতাংশকেও যদি ছুটিতে কাশ্মীরে আনতে পারি, তা হলে কাশ্মীরের পর্যটন কতটা বৃদ্ধি পাবে? আজ কাশ্মীরে সারা বছরে ৪০-৫০ হাজার বিদেশি পর্যটক আসেন। সেই সংখ্যাকে আমরা কিভাবে ৫ লক্ষে পরিণত করবো? এখানে বারো মাস ‘অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম’ এবং ‘ইকো ট্যুরিজম’-এর সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের ডাল হ্রদের হাউস-বোটগুলি, শিকারাগুলি আগে কতো সচল ছিল, সেগুলিকে আবার আগের মতো সদা ব্যস্ত করে তুলতে হবে। কাশ্মীরের যা কিছু পরম্পরাগতভাবে সারা পৃথিবীতে জনপ্রিয় যেমন – পশমিনা, কেসর, আপেল এগুলিকে বেশি করে বিশ্ব বাজারে পৌঁছে দিতে চাই। এগুলির ট্রেড মার্ক ডেভেলপ করে উন্নত প্যাকেজিং-এর মাধ্যমে বিশ্ব বাজারে পৌঁছে দিতে পারলে যে পরিমাণ অর্থ আপনাদের হাতে আসবে, তাতে স্থানীয় পশু পালক, তাঁতী, হস্তশিল্পী, ফলচাষী – গ্রামবাসীরা আরও বেশি করে কর্ম সংস্থান পাবেন, তাঁদের রোজগার অনেক বৃদ্ধি পাবে। কৃষি ক্ষেত্রে কাশ্মীরে যত সম্ভাবনা রয়েছে, দেশের অন্য অনেক রাজ্যের তা নেই। সেজন্য আমরা এই দিকগুলিকেই অগ্রাধিকার দিতে চাই।

পরিকাঠামো ক্ষেত্রে অনেক কাজ করতে হবে। আজ জম্মু থেকে শ্রীনগর আসতে হলে ৯-১১ ঘন্টা সময় লাগে। অনেক পর্যটক-ই সেজন্য দ্বিধাগ্রস্ত থাকেন, পিছিয়ে যান। আমরা নীতিনজীর নেতৃত্বে যে চার লেনের সড়ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছি, তার জন্য ৩৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছি। আগামী আড়াই বছরের মধ্যে এই মহাসড়ক কর্মসূচি সম্পন্ন হলে জম্মু থেকে শ্রীনগর আসতে আর এতো সময় লাগবে না। নতুন ট্যানেলগুলি প্রায় ৬৫-৭০ কিলোমিটার পথ সংক্ষেপ করে তুললে মাত্র সাড়ে তিন থেকে চার ঘন্টায় পৌঁছে যাওয়া যাবে।

আপনারা কল্পনা করতে পারেন, উন্নয়ন আমাদের জীবনকে কতটা সহজ করে তুলতে পারে। আমরা এই রাজ্যের রেলপথকেও সম্প্রসারিত করতে চাই। মুফতি সাহেব বলছিলেন, চিন দেশে পার্বত্য এলাকায় এতো রেলপথ নির্মিত হয়েছে, আমাদের দেশে কেন নয়? আমি বলি, এটা সম্ভব। সেজন্য ভাই ও বোনেরা, বিদ্যুৎ পরিষেবা, উন্নত জল সরবরাহ এবং মহাসড়কের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আজ আর শুধু হাইওয়ে দিয়ে চলবে না, আইওয়ে-রও প্রয়োজন রয়েছে। ইনফরমেশন ওয়ে – অপ্টিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক গোটা বিশ্বের সঙ্গে কাশ্মীরকে যুক্ত করবে, মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই আমরা যাবতীয় পরিষেবা পাবো, সেদিন আর দূরে নেই। আমরা কাজে লেগে পড়েছি। এখানে যত দ্রুত কলসেন্টার গড়ে তোলা যাবে, নবীন প্রজন্মের কর্মসংস্থান হবে, কাশ্মীরের ছেলেমেয়েরা দ্রুত ইংরাজি শিখতে পারেন, সামান্য পড়াশুনা না করলে তারাও কলসেন্টারের মাধ্যমে বিশ্ব মানের পরিষেবা দিয়ে নিজেদের রোজগার বাড়াতে পারবেন।

পাশাপাশি, বয়স্কদের জন্য ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা, ঔষধালয়, জম্মু-কাশ্মীর-লাদাখে এইম্‌স মানের আধুনিকতম হাসপাতাল গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে আমরা এগিয়ে চলেছি। এই রাজ্যে আমরা আই আই টি এবং আই আই এম-এর মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে চাই, যাতে আমাদের ছাত্রছাত্রীরা এই রাজ্যে বসেই আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষালাভ করতে পারে।

দরিদ্র পরিবারে সাধারণ যুবক-যুবতীদের জন্য দক্ষতা উন্নয়নের অভিযান শুরু করেছি, হস্তশিল্পে নতুন নতুন ডিজাইনের আমদানি হবে, এখানকার শিল্পকলা বিশ্ব বাজারে বাজারজাত হবে। কারিগরি বিদ্যার সংমিশ্রণে আমাদের হস্তশিল্পকে কতটা গতি প্রদান করা যায়, উৎকর্ষ বৃদ্ধি হয়, উৎপাদন বাড়ান যায়, অপচয় কিভাবে হ্রাস করা যায়, প্যাকেজিং কত উন্নত করা যায় এই দিকগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি। আপনাদের সকলকে সঙ্গে নিয়ে আমরা আমাদের হস্তশিল্পে জোয়ার আনতে চাই।

আর সেজন্যই, ভাই ও বোনেরা, এই সকল স্বপ্ন সফল করতে কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য ৮০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করছে। আমি অন্তর থেকে চাই, এই ৮০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ আপনাদের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজে লাগুক। কাশ্মীরের নবীন প্রজন্মকে বলীয়ান করে তুলতে এই টাকা কাজে আসুক। এক নতুন কাশ্মীর, এক আধুনিক কাশ্মীর, এক প্রগতিশীল কাশ্মীর নির্মাণে কাজে লাগুক – এই ৮০ হাজার কোটি টাকা। এই স্বপ্ন নিয়ে আমি এবার আপনাদের কাছে এসেছি। ভাই ও বোনেরা, এই ৮০ হাজার কোটি-ই শেষ নয়, এটি শুভ সূচনা মাত্র। আমি যে স্বপ্নের কথা বলেছি, সেগুলি বাস্তবায়িত করে দেখান। তা হলে দেখবেন, আবার দিল্লির খাজানা আপনাদের জন্য আবার খুলে যাবে। এই দিল্লির খাজানাই শুধু আপনাদের নয়, আমাদের হৃদয়ও আপনাদের জন্য।

আমি লাদাখের ভাই ও বোনদের বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই, বিগত পার্বত্য পরিষদ নির্বাচনে আমাদের সাংসদ মহোদয় এবং তাঁর দলকে আপনারা যে গণতন্ত্রের শক্তি প্রদর্শন করেছেন, সেজন্য আজ কাশ্মীরের মাটিতে এসে আপনাদের অভিনন্দন জানাই। ভাই ও বোনেরা, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের প্রয়োজন অনুসারে উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া নিয়ে আমি আপনাদের মুখ্যমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা সেভাবেই কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আমি আরেকবার কাশ্মীরের মাটিকে প্রণাম জানাই, আপনাদের সকলকে অভিনন্দন জানাই। আশা করি, এই রাজ্যের নবীন প্রজন্ম এক নতুন কাশ্মীর, শক্তিশালী কাশ্মীর গড়ে তুলতে এগিয়ে আসবেন। আপনাদের অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা জানাই।

PG/SB/SB/S