পিএমইন্ডিয়া
দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবা পরিকাঠামো প্রসারের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর পৌরহিত্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য সুরক্ষা যোজনা (পিএমএসএসওয়াই)-র কাজ দ্বাদশ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার পরেও ২০১৯-২০ পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়েছে। এই কাজের জন্য মোট ১৪৮৩২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে। এই কর্মসূচির আওতায় নতুন এইম্সগুলি স্থাপন করা হবে এবং সরকারি মেডিকেল কলেজগুলি উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কেন্দ্রীয় ক্ষেত্রের এই কর্মসূচির লক্ষ্য হচ্ছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সুলভ স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রাপ্তিযোগ্যতার ক্ষেত্রে অসাম্যগুলি দূর করা এবং মেডিকেল শিক্ষার ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকা রাজ্যগুলিতে উচ্চ মানের মেডিকেল শিক্ষার ব্যবস্থা করা।
নতুন এইমস্ স্থাপনের ফলে কেবলমাত্র যে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার পরিবর্তন হবে তাই নয়, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলটিতে স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মী ঘাটতির সমস্যাও মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে এই ধরণের এইমস্ স্থাপনের জন্য সম্পূর্ণভাবে অর্থ ব্যয় করা হয়। এছাড়া, নতুন এইমস্গুলির কাজকর্ম চালানো এবং পরিচালনের ব্যয়ভারও পুরোপুরিভাবে কেন্দ্রীয় সরকার বহন করে থাকে।
অন্যদিকে, স্বাস্থ্য পরিষেবা কেন্দ্রগুলির উন্নয়ন কর্মসূচিতে সুপার স্পেশালিটি ব্লক/ট্রমা সেন্টার প্রভৃতি স্থাপনের ব্যবস্থা ছাড়াও কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকারগুলির মধ্যে ব্যয় ভাগাভাগির ভিত্তিতে পুরনো ও নতুন স্বাস্থ্য পরিষেবা কেন্দ্রগুলির জন্য মেডিকেল যন্ত্রপাতি কেনার সংস্থান রয়েছে।
বিভিন্ন রাজ্যের নতুন এইমস্ স্থাপনের ফলে, এক একটি এই ধরণের কেন্দ্রে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী সহ বিভিন্ন ধরণের প্রায় ৩,০০০ কর্মসংস্থান হবে। এছাড়াও, পরোক্ষভাবে এইমস্গুলিকে ঘিরে শপিং সেন্টার, ক্যান্টিন এবং অন্যান্য পরিষেবার জন্য কর্মসংস্থান হবে।
স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়ন কর্মসূচিটি নির্বাচিত কিছু সরকারি মেডিকেল কলেজে রূপায়ণ করা হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রত্যক্ষ নজরদারিতে ভারত সরকার নির্বাচিত এজেন্সির মাধ্যমে এই কাজ করা হবে। এই সব সরকারি মেডিকেল কলেজ স্নাতকোত্তর পর্যায়ে আসন বৃদ্ধি, অতিরিক্ত শিক্ষকের সংখ্যা বাড়ানো সহ শূন্য পদগুলি রাজ্য সরকার/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সরকার কর্তৃক পূরণের সংস্থানও রয়েছে।
নতুন এইমস্ স্থাপন এবং সরকারি মেডিকেল কলেজগুলির উন্নয়ন ও পরিবর্ধনের কাজ হাতে নেওয়া হলে নির্মাণের জন্যও বেশ কিছু কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
২০০৩ সালে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য সুরক্ষা যোজনা কর্মসূচিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য ছিল সারা দেশের বিভিন্ন রাজ্যে এইমস্ ধাঁচের সংস্থা গড়ে তোলা এবং রাজ্য সরকারের পুরনো মেডিকেল কলেজগুলির পরিকাঠামো উন্নয়ন।
প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য সুরক্ষা যোজনার আওতায় বিভিন্ন পর্যায়ে নিম্নলিখিত কাজগুলি করা হয়েছে অথবা হাতে নেওয়া হয়েছে।
|
প্রথম পর্যায় (২০০৬) |
ভোপাল, ভুবনেশ্বর, যোধপুর, পাটনা, রায়পুর, ঋষিকেশ (৬টি এইমস্) |
১৩টি মেডিকেল কলেজ |
|
দ্বিতীয় পর্যায় (২০০৯) |
পশ্চিমবঙ্গে এইমস্ (চতুর্থ পর্যায়ে স্থানান্তরিত) এবং উত্তর প্রদেশের রাইবেরিলি (১টি এইমস্) |
৬টি সরকারি মেডিকেল কলেজ |
|
তৃতীয় পর্যায় (২০১৩) |
কোনও নতুন এইমস্-এর কাজ হয়নি |
৩৯টি সরকারি মেডিকেল কলেজ |
|
চতুর্থ পর্যায় (২০১৪-১৫) |
পশ্চিমবঙ্গ, অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং উত্তর প্রদেশের পূর্বাঞ্চল (৪টি এইমস্) |
১৩টি সরকারি মেডিকেল কলেজ |
|
পঞ্চম পর্যায় (২০১৫-১৬) |
জম্মু ও কাশ্মীর, পাঞ্জাব, তামিলনাড়ু, হিমাচল প্রদেশ, অসম এবং বিহার (৭টি এইমস্) |
কোনও মেডিকেল কলেজের কাজ হয়নি |
|
পঞ্চম-‘এ’ পর্যায় (২০১৬-১৭) |
কোনও নতুন এইমস্-এর কাজ হয়নি |
মন্ত্রিসভা আইএমএস, বিএইচইউ এবং কেরলের শ্রীচিত্রা তিরুনাল ফর মেডিকেল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’র উন্নয়নের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে। |
|
ষষ্ঠ পর্যায় (২০১৭-১৮) |
গুজরাট ও ঝাড়খন্ড (২টি এইমস্) |
কোনও মেডিকেল কলেজের কাজ হয়নি |
|
মোট |
২০টি এইমস্ |
৭৩টি মেডিকেল উন্নয়ন প্রকল্প |
বাজেটে প্রকল্প ঘোষণার বর্ষ এবং পর্যায় | এইমস্ ধাঁচের সংস্থা | রাজ্য সরকারি মেডিকেল কলেজগুলির উন্নয়ন |
|---|
CG/PB/SB……02_May_2018