পিএমইন্ডিয়া
প্রধানমন্ত্রী শ্রী ক্যামেরন,
গণমাধ্যমের সকল বন্ধুরা,
প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন, আমাদের পারস্পরিক সম্পর্কের প্রতি যে মনোভাব দেখিয়েছেন তার জন্য আপনাকে কৃতজ্ঞতা জানাই। ভারত ব্রিটেন সম্পর্ককে মজবুত করার ক্ষেত্রে আপনার এই অবদান অবিস্মরণীয়। সেজন্য আমি অন্তর থেকে আপনাকে ধন্যবাদ জানাই। আপনার নিমন্ত্রণ, উষ্ণ অভ্যর্থনা এবং যেভাবে আপনি আমাকে সময় দিয়েছেন, সেজন্যও কৃতজ্ঞতা জানাই।
যুক্তরাজ্য সফরে এসে আমি অত্যন্ত খুশি। এই সম্পর্ক ভারতের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। ঐতিহাসিকভাবে আমরা পরস্পরকে ভালোভাবে চিনি। আমাদের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক অতুলনীয়। মূল্যবোধে সাদৃশ্য থাকায় আমাদের সম্পর্ক বৈশিষ্ট্যপূর্ণ এবং জীবন্ত। আমাদের সম্পর্ক নিরন্তর ব্যবসা ও বিনিয়োগ, সুরক্ষা ও প্রতিরক্ষা, শিক্ষা ও বিজ্ঞান, পরিবেশ-বান্ধব শক্তি উৎপাদন ও স্বাস্থ্য, কারিগরি বিদ্যা এবং আবিষ্কার, কলা ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে নিরন্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমাদের যৌথ স্বার্থ দু’দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
আজ আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনা আরও নিবিড় করতে হবে। আমরা নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হবো। আমাদের যৌথ মূল্যবোধকে ভিত্তি করে অন্যান্য ক্ষেত্রে উন্নয়নে আমরা যৌথ উদ্যোগ নেবো। পাশাপাশি, প্রতিটি ক্ষেত্রে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও নিবিড় করে তুলবে।
আজ আমরা অসামরিক পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষর করেছি। এটা আমাদের পারস্পরিক বিশ্বাসের প্রতীক। পরিবেশ দূষণের ফলে আবহাওয়া পরিবর্তনকে রুখতে আমরা দৃঢ় সংকল্প। ভারতের গ্লোবাল সেন্টার ফর ক্লিন এনার্জি পার্টনারশিপ-এ ব্রিটেন সহযোগী হবে এই রকম-ই সমঝোতা হয়েছে। ফলস্বরূপ, আন্তর্জাতিক নিউক্লিয়ার ইন্ডাস্ট্রির নিরাপত্তা ও সুরক্ষা আরও মজবুত হবে।
যুক্তরাজ্যের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা আরও জোরদার করাকে আমরা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি, এর মধ্যে প্রতিরক্ষা বাণিজ্য এবং নিয়মিত যৌথ মহড়াও অন্তর্ভুক্ত। এই যৌথ প্রয়াস নিরন্তর বৃদ্ধি পাবে।
আমি অত্যন্ত আনন্দিত, আগামী ২০১৬’র ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতে যে আন্তর্জাতিক ‘ফ্লিট রিভিউ’ অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে যুক্তরাজ্যও অংশগ্রহণ করবে। ভারত প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আধুনিকীকরণে জোর দিচ্ছে, সেজন্য আমরা প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষেত্রে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র মিশনকে আগ্রাধিকার দিচ্ছি। আমার বিশ্বাস, যুক্তরাজ্য এক্ষেত্রেও আমাদের সঙ্গ দেবে।
অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আামাদের পারস্পরিক সম্পর্কের স্তম্ভ-স্বরূপ। আমার বিশ্বাস, এই সম্পর্ক আগামীদিনে আরও নিবিড় হবে। ভারতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অপার সম্ভবনা রয়েছে। আর ব্রিটেনের আর্থিক ক্ষমতা এবং সামর্থ রয়েছে। যুক্তরাজ্য ভারতে তৃতীয় বৃহত্তম বিনিয়োগকারী দেশ। ভারতও যুক্তরাজ্যে যতটা বিনিয়োগ করে তা ইউরোপের বাকি দেশগুলিতে মোট বিনিয়োগের চেয়ে বেশি। ভারতে যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগ প্রস্তাবগুলিকে দ্রুত বাস্তবায়িত করতে আমরা ভারতে একটি ‘ফাস্ট ট্র্যাক মেকানিজম’-এর অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা ‘ভারত-যুক্তরাজ্য সি ই ও ফোরাম’-এর পুনর্গঠনকে স্বাগত জানাই।
লন্ডনের অর্থনৈতিক বাজারকে আমরা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহার করবো। আপনারা শুনলে খুশি হবেন, আমরা ভারতীয় রেলের জন্য লন্ডনে ‘রেলওয়ে রুপি বন্ড’ চালু করতে চলেছি। ঐতিহাসিকভাবে ভারতীয় রেলের যাত্রা এদেশ থেকেই শুরু হয়েছিল। আগামী দু’দিনে আমাদের বাণিজ্য ক্ষেত্রের সঙ্গে এদেশের বাণিজ্য ক্ষেত্রের যেসব চুক্তি সম্পাদিত হবে, যে সকল গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আমরা শুনবো, সেগুলির জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।
আবহাওয়া পরিবর্তন নিয়ে আমরা যে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পরিকল্পনা নির্ণয় করেছি তা আমাদের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে সমৃদ্ধ করবে। আমি আশা করি, আগামীদিনে প্যারিস শহরে যে ‘ইউ এন কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ’ অনুষ্ঠিত হবে সেখানে এই গ্রহের কল্যাণে একটি দূরদৃষ্টি-সম্পন্ন এবং ‘লো-কার্বন’ ভবিষ্যৎ নির্মাণের ক্ষেত্রে আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক একটি নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে।
ভারতের জাতীয় অগ্রাধিকার সম্পর্কিত বেশ কিছু বিষয়ে আমরা সহমত হয়েছি, যেমন – ‘স্মার্ট সিটি’, স্বাস্থ্য, নদী দূষণ রোধ, দক্ষতা নির্মাণ এবং শিক্ষা। আমাদের এই সহমত কারিগরি ক্ষেত্রে গবেষণা ও আবিষ্কারের ভিত্তিকে মজবুত করে তুলবে। এশিয়ায় শান্তি ও স্থিরতা বৃদ্ধিতে বিশেষ করে, দক্ষিণ এবং পশ্চিম এশিয়ায় সামুদ্রিক সুরক্ষা, সাইবার নিরাপত্তাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় আজ ও আগামীকাল প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন-এর সঙ্গে আমার আলাপ-আলোচনা ইতিবাচক ভূমিকা নেবে।
সবশেষে, রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্য পদ এবং আন্তর্জাতিক ‘এক্সপোর্ট কন্ট্রোল রেজিম্স’-এ ভারতের সদস্যপদের জন্য ব্রিটেনের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ, সেজন্য আমি প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন’কে কৃতজ্ঞতা জানাই। আজ এদেশের সংসদে বক্তব্য রাখার সম্মান পেয়েছি তারপর, ভারত-যুক্তরাজ্য বাণিজ্য শীর্ষ সম্মেলনে বক্তব্য রাখবো। এখানে আমাদের দেশ এবং দু’দেশের সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখার সুযোগ পেয়ে আমি ধন্য।
আজ আমরা আমাদের কৌশলগত অংশীদারিত্বের অনুকূলে একটি উচ্চাকাঙ্খী সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যে সিদ্ধান্ত আমরা নিয়েছি তা সফল করার জন্য আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস এবং দায়িত্ববোধ সুস্পষ্টভাবে আমাদের সম্পর্ককে আজ একটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।
ধন্যবাদ।
PG/SB/SB/S
My statement to the media at the press briefing with PM @David_Cameron. @Number10gov https://t.co/yWkStlZR4w.
— Narendra Modi (@narendramodi) November 12, 2015