Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

ব্রিক্‌স নেতৃবৃন্দের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর বিবৃতি

ব্রিক্‌স নেতৃবৃন্দের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর বিবৃতি

ব্রিক্‌স নেতৃবৃন্দের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর বিবৃতি


মাননীয় বিশিষ্টজন,

ব্রিক্‌স-এর অর্থনৈতিক কর্মপ্রচেষ্টার জন্য আমরা গর্বিত।এই উদ্যোগ গ্রহণের ফলে শুধুমাত্র ব্রিক্‌স অর্থনীতিই শক্তিশালী হয়ে উঠবে না, এর সুফল লাভ করবে সমগ্র উন্নয়নশীল বিশ্বই।

ব্রিক্‌স-এর প্রতিনিধি হিসেবে জি-২০-র কর্মসূচি ও কর্মপ্রচেষ্টায় অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্ষেত্রগুলিকে আমাদের অবশ্যই চিহ্নিত করতে হবে।

প্রথমত – উন্নয়নের প্রশ্নে জি-২০’তে অবশ্যই অগ্রাধিকার দিতে হবে কয়েকটি বিষয়কে, সেগুলি হল :-

 ২০৩০ সাল পর্যন্ত নিরন্তর উন্নয়ন কর্মসূচির সফল রূপায়ণ এবং সেজন্য পর্যাপ্ত তহবিল গঠন।

দ্বিতীয়ত –বিশ্বে আর্থিক সহায়তার যোগানের প্রশ্নে জি-২০-র উচিৎ এই ব্যবস্থাগুলির দিকে নজর রাখা :

 বিশ্বের অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলির পুনর্গঠনের লক্ষ্যে গৃহীত সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন।

 বহুমুখী তথা আঞ্চলিক অর্থ প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে বৃহত্তর সহযোগিতা।

 উন্নয়নশীল দেশগুলিতে পরিকাঠামো গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক যোগান।

 পরবর্তী প্রজন্মের উপযোগী জলবায়ু অনুকূল পরিকাঠামো গঠন, যার মধ্যে বর্জ্য থেকে পরিকাঠামোর উপযোগী উপকরণ অনুসন্ধানের ওপর গুরুত্ব।

 ২০৩০ সালের আগেই বিশ্বের সবকটি দেশের স্বার্থেই ব্যয়সাশ্রয়ী ব্যবস্থা গ্রহণ।

 দুর্নীতি দমনে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়সাধন এবং বিদেশে মজুত হিসাব বহির্ভূত অর্থের লেনদেন ও পাচার বন্ধ করা।

তৃতীয়ত –বাণিজ্যিক কাজকর্মের ক্ষেত্রে আমাদের অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে এই বিষয়গুলির ওপর :-

 নিয়মনীতি ভিত্তিক বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে তোলা এবং নতুন নতুন বাণিজ্যিক উদ্যোগগুলি যাতে বিশ্ব বাণিজ্যে কোনও রকম বিচ্ছিন্নতার প্রশ্রয় না দেয়, তা নিশ্চিত করা।

 দোহা উন্নয়ন কর্মসূচির দ্রুত রূপায়ণ।

 দক্ষ পেশাদার কর্মীদের আরও বেশি করে কাজে লাগানো এবং বিশ্বে দক্ষ কর্মীদের চাহিদা ও নিয়োগের জন্য এক বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

চতুর্থত –জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় জি-২০ ভুক্ত দেশগুলির উচিৎ এই বিষয়গুলিতে অগ্রাধিকার দেওয়া :

 রাষ্ট্রসঙ্ঘের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় সি ও পি-২১-এর আলাপ-আলোচনাকে ফলপ্রসূ করে তোলা।

 জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের কাজে উন্নয়নশীল দেশগুলিকে সহায়তাদান।

 বিশুদ্ধ এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি সম্পর্কে গবেষণা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত কাজকর্মের প্রসার ঘটানো, যাতে বিশুদ্ধ জ্বালানি শক্তির সুলভ ব্যবহার সম্ভব করে তোলা যায়।

 পরবর্তী প্রজন্মের উপযোগী জলবায়ু প্রতিরোধী পরিকাঠামো গঠন এবং উন্নয়নে সহায়তাদান।

 ভারতের প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক সৌর সমঝোতার বিষয়টিকে সহায়তাদান।

পঞ্চমত –জি-২০ গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির উচিৎ, নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলায় বিশ্বে এক শক্তিশালী কর্মপদ্ধতি উদ্ভাবন করা, যাতে নজর দিতে হবে, এই বিষয়গুলির ওপর : –

 সন্ত্রাসবাদীদের কাছে কোনও রকম অর্থ সহায়তা ও অস্ত্রশস্ত্রের যোগান বন্ধ করতে এক বিশ্ব প্রকৌশল স্থির করা, যাতে সন্ত্রাসবাদীদের সমস্ত রকম যোগাযোগের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া যায়।

 সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলির কাছে অস্ত্রশস্ত্র ও বিস্ফোরক সামগ্রীর যোগান পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।

 সন্ত্রাসবাদী কাজকর্মকে ধ্বংস করতে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে গড়ে তুলতে হবে এক বিশেষ আইনি ব্যবস্থা।

 সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলি যাতে অপরাধমূলক কাজকর্মের জন্য সাইবার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখা।

 আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কে সুসংহত আলোচনা বৈঠক আহ্বান করা।

ব্রিক্‌স অর্থনীতি যে উত্তরোত্তর স্থায়ী ও শক্তিশালী হয়ে উঠবে সে ব্যাপারে আমি দৃঢ় আত্মপ্রত্যয়ী।বিশ্ব অর্থনীতিতে শক্তির যোগান দেবে ব্রিক্‌স অর্থনীতি।

মাননীয় বিশিষ্ট ভদ্রমণ্ডলী,

ব্রিক্‌স অর্থনৈতিক সহযোগিতা কৌশল এক মূল্যবান কাঠামোগত দলিল – একথা আমাদের মনে রাখতে হবে।

বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক বিষয়সমূহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ রক্ষাকারী গোষ্ঠীর উচিৎ প্রকৌশল সূত্রের সময়-ভিত্তিক বাস্তবায়নে এক কার্যসূচি ছকে ফেলা।

প্রকৌশলের অন্তর্ভুক্ত অন্তত দুটি করে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্ষেত্রে প্রত্যেক ব্রিক্‌স সদস্য রাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দিতে হবে।

রাশিয়ান চেয়ারম্যানশিপের সময়কাল হল প্রথম যৌথ বৈঠক আহ্ববানের উপযুক্ত সময়।

যৌথ বৈঠকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক তথা বিনিয়োগ সংক্রান্ত সুযোগ-সুবিধার প্রসারে একটি খসড়া প্রস্তুত করা যেতে পারে।

মাননীয় বিশিষ্টজন,

আশা করি যে, নতুন উন্নয়ন ব্যাঙ্ক অনতিবিলম্বেই তার কাজকর্ম শুরু করবে।এর আগে আমি উফা’তে যে কথা বলেছিলাম, এখানে তারই পুনরাবৃত্তি করে বলবো যে, এই ব্যাঙ্কের প্রথম প্রকল্পটি হওয়া উচিৎ ব্রিক্‌সভুক্ত দেশগুলিতে বিশুদ্ধ জ্বালানির অনুসন্ধানের ওপর।

আমাদের উচিৎ, এই ধরণের উদ্যোগকে সাহায্য ও সমর্থনের জন্য ‘নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক ইন্সটিটিউট’অর্থাৎ এন ডি বি আই-এর মতো একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, যা চিন্তাভাবনা, অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞানের তথ্যভাণ্ডার হিসেবে সমস্ত রকম সহায়তার যোগান দেবে।

মাননীয় ভদ্রমণ্ডলী,

ভারত সর্বদাই পারস্পরিক আস্থা, শ্রদ্ধা এবং স্বচ্ছতার মনোভাব নিয়ে ব্রিক্‌স-এর অংশীদার দেশগুলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করে যাবে।

উফা’য় আমি কতকগুলি বিষয়ের ওপর মতবিনিময় করেছিলাম।এর মধ্যে ছিল –বাণিজ্য মেলা, কৃষি গবেষণা, রেল সম্পর্কে সমীক্ষা ও গবেষণা, ডিজিটাল উদ্যোগ, জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি, বিভিন্ন দেশ, শহর এবং আঞ্চলিক তথা স্থানীয় পর্যায়ে সহযোগিতার প্রসার, চলচ্চিত্র ও ক্রীড়াসূচি বিনিময় ইত্যাদি।

আমরা এই বিষয়গুলির ওপর অবশ্যই কাজ করবো এবং ব্রিক্‌স-এর কার্যসূচিতে আরও নতুন নতুন চিন্তাভাবনা সংযোজন করবো।

ব্রিক্‌স’কে আরও শক্তিশালী করে তুলতে এবং তার ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করে তুলতে আমরা আপনাদের সঙ্গে একযোগে কাজ করে যাব।

আগামী বছর অষ্টম শীর্ষ বৈঠকে ভারতে আপনাদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার অপেক্ষায় রইলাম।

আপনাদের সকলকে জানাই ধন্যবাদ।

PG/SKD/SB/S