Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

সম্পদ পুনরুদ্ধার সম্পর্কিত ষষ্ঠ বিশ্ব সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর বিবৃতি

সম্পদ পুনরুদ্ধার সম্পর্কিত ষষ্ঠ বিশ্ব সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর বিবৃতি

সম্পদ পুনরুদ্ধার সম্পর্কিত ষষ্ঠ বিশ্ব সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর বিবৃতি

সম্পদ পুনরুদ্ধার সম্পর্কিত ষষ্ঠ বিশ্ব সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর বিবৃতি

সম্পদ পুনরুদ্ধার সম্পর্কিত ষষ্ঠ বিশ্ব সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর বিবৃতি

সম্পদ পুনরুদ্ধার সম্পর্কিত ষষ্ঠ বিশ্ব সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর বিবৃতি

সম্পদ পুনরুদ্ধার সম্পর্কিত ষষ্ঠ বিশ্ব সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর বিবৃতি

সম্পদ পুনরুদ্ধার সম্পর্কিত ষষ্ঠ বিশ্ব সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর বিবৃতি

সম্পদ পুনরুদ্ধার সম্পর্কিত ষষ্ঠ বিশ্ব সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর বিবৃতি

সম্পদ পুনরুদ্ধার সম্পর্কিত ষষ্ঠ বিশ্ব সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর বিবৃতি

সম্পদ পুনরুদ্ধার সম্পর্কিত ষষ্ঠ বিশ্ব সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর বিবৃতি


মহাসচিব, ইন্টারপোল, মিঃ জার্গেন স্টক,

মঞ্চে উপবিষ্ট অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ,

ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ।

সম্পদ পুনরুদ্ধার সম্পর্কে ষষ্ঠ বিশ্ব মূল সম্মেলন এবং সি বি আই তথা রাজ্য দুর্নীতিদমন সংস্থাগুলির বার্ষিক সম্মেলনে উপস্থিত প্রতিনিধিবৃন্দের সামনে বক্তব্য রাখার সুযোগ পেয়ে আমি আনন্দিত। একইসঙ্গে এই সম্মেলনে যোগদানের জন্য বিদেশ থেকে আগত প্রতিনিধিদের জানাই স্বাগত সম্ভাষণ। আশা করি, আপনাদের এই ভারত সফর মনোরম ও স্মরণীয় হয়ে উঠবে।

সি বি আই-এর যে সমস্ত আধিকারিক বিশেষ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ আজ এখানে পদকে সম্মানিত হয়েছেন, তাঁদের আমি অভিনন্দন জানাই।

ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ,

বিশ্বের সবক’টি দেশের সরকারই দরিদ্র এবং প্রান্তিক মানুষদের জীবনযাত্রার মান পরিবর্তনে সচেষ্ট রয়েছে। এই উদ্দেশ্য পূরণের পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল দুর্নীতি।

ভারতে আমরা বর্তমানে জাতি গঠনের এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য ও সঙ্কল্প এক সমৃদ্ধ ভারত গড়ে তোলা। এমন এক ভারত আমরা গড়ে তুলতে চাই যেখানে –

• দেশের কৃষকরা সুদক্ষ হয়ে উঠবেন;

• আমাদের শ্রমিক ও কর্মীরা সন্তুষ্ট থাকবেন;

• দেশের নারী সমাজ ক্ষমতায়নের অধিকার ভোগ করবেন

এবং

• দেশের যুবসমাজ হয়ে উঠবে স্বনির্ভর।

এই লক্ষ্য পূরণ কিন্তু কোনভাবেই অসম্ভব নয়। তবে, এই লক্ষ্য পূরণে প্রয়োজন দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিরলস সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারত তাই অঙ্গীকারবদ্ধ।

দুর্নীতি এবং কালো টাকা উপার্জনের প্রবণতা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বন্ধ করতে আমার সরকার গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যেদিন আমরা ক্ষমতায় আসীন হই, সেদিন থেকেই এই বিষয়টি দেখার জন্য শীর্ষ আদালতের তত্ত্বাবধানে আমরা এক বিশেষ তদন্ত দল গড়ে তুলি। কালো টাকা সম্পর্কে সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য বিনিময়ের জন্য আমাদের সরকার বহু দেশের সঙ্গেই চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। বিদেশি অ্যাকাউন্ট খাতে বাধ্যতামূলকভাবে কর আদায়ের জন্য আইনের রূপায়ণে সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আন্তঃসরকারি পর্যায়ে এক চুক্তিও স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির আওতায় ভারতীয়দের বিদেশে গচ্ছিত অর্থের অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে ভারতের কর কর্তৃপক্ষ স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে।

বিদেশে সম্পদ ও কালো টাকা উপার্জনের ওপর কর আরোপ সম্পর্কিত একটি সুসংবদ্ধ ও যুক্তিযুক্ত আইন রূপায়ণের পথ প্রশস্ত করা হয়েছে। এর আওতায় অপরাধীদের কঠোর শাস্তিবিধান তথা তাদের অভিযুক্ত করারও সংস্থান রয়েছে।

সম্পদ যাতে সঠিকভাবে সুরক্ষিত থাকে সেই লক্ষ্যে আমরা চালু করেছি অর্থের বেআইনি লেনদেন প্রতিরোধ সম্পর্কিত একটি আইন। এই ব্যবস্থায় বিভিন্ন পনজি প্রকল্পে লক্ষ লক্ষ দরিদ্র বিনিয়োগকারী তাদের কষ্টার্জিত অর্থের বেশ কিছুটা অংশ ফেরতের সুযোগ পেতে পাবেন।

আমি আশা করি, হৃত সম্পদ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ সম্পর্কিত সংস্থা ‘স্টার’ এবং ইন্টারপোলের মধ্যে সহযোগিতার ফলশ্রুতিতে চুরি যাওয়া সম্পদের হদিশ এবং তা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।

কয়লা ব্লকের নিলাম এবং এফ এম রেডিও স্পেকট্রামের মতো বিষয়গুলিতে পদ্ধতিগত যে দুর্নীতির সন্ধান পাওয়া গেছে তা দমন করতে আমরা সম্প্রতি ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছি যাতে প্রাকৃতিক সহায়সম্পদের বন্টনে কোনরকম পক্ষপাতিত্বের ঘটনা না ঘটে। এর ফলে, সমগ্র ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বজায় রয়েছে এবং নাগরিকদের মনে সরকার সম্পর্কে আস্থার ভাবও ফিরে এসেছে। শুধু তাই নয়, এর ফলে বেশ কিছু রাজস্বও এসে পৌঁছেছে সরকারের ঘরে যা সাধারণ মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা হবে।

ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ,

পদ্ধতি মোতাবেক এবং নীতি পরিচালিত শাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার দিকে আমরা নজর দিয়েছি। আমরা গড়ে তুলতে চাই এমন এক শাসন ব্যবস্থার কাঠামো যা হয়ে উঠবে স্বচ্ছ, সংবেদনশীল এবং দায়বদ্ধ। সরল প্রযুক্তি এবং নীতিভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে দক্ষতার সঙ্গে অথচ নিঃশব্দে দুর্নীতি কিভাবে দূর করা যেতে পারে তার একটি দৃষ্টান্ত আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই।

আমরা যখন ক্ষমতায় এসেছিলাম, তখন আমাকে বলা হয় যে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে ভর্তুকিবাবদ সিলিন্ডারপ্রতি প্রায় ৪০০ টাকার মতো ব্যয় হয়। এই ভর্তুকির সুযোগ ধনী ও দরিদ্র উভয়ই ভোগ করেন। তখন আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি গ্যাস সংযোগের গ্রহীতাদের আধার-ভিত্তিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ভর্তুকির অর্থ সরাসরি জমা করার। এই একটিমাত্র পদক্ষেপেই ভর্তুকি দাবির ঘটনা কমে এসেছে প্রায় ৫ কোটির মতো। পরবর্তীকালে, সম্পন্ন গৃহস্থ পরিবারগুলির জন্য রান্নার গ্যাসের ওপর স্বেচ্ছায় ভর্তুকি ছেড়ে দেওয়ার এক অভিযান শুরু করি। আমদের এই আহ্বানে যে সাড়া আমরা পেয়েছি তা খুবই উৎসাহজনক। এখনও পর্যন্ত ৪৫ লক্ষ মানুষ রান্নার গ্যাসের ওপর স্বেচ্ছায় ভর্তুকি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।

বন্ধুগণ,

যে চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলা আমাদের এখন করতে হবে তার অন্যতম হল সরকারি খাতে ঘাটতির পরিমাণ হ্রাস করা। এর মধ্যে রয়েছে –

• সুদক্ষ ও কার্যকর সরকারি পরিষেবা প্রসারের ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপ্রতুলতা

• উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় নীতিগতভাবে প্রস্তুত না থাকা

এবং

• প্রকল্প রূপায়ণে দীর্ঘসূত্রিতা।

আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দক্ষ, কর্মমুখী এবং দায়বদ্ধ করে তোলার লক্ষ্যে আমার সরকার বেশি কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকারি কর্মীদের সংহতি ও সততা নিশ্চিত করতে এবং মিথ্যা ও অযৌক্তিক অভিযোগের হাত থেকে তাদের রক্ষা করতে আমার সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেইসঙ্গে, দুর্নীতিবাজদের শাস্তি দেওয়ার ব্যাপারে সরকার পুরোপুরি আপোষহীন। কাজকর্ম সন্তোষজনক না হওয়ায় এবং সরকারি পরিষেবাদানের ক্ষেত্রে ব্যর্থতার জন্য বিভিন্ন সরকারি সেবার ৪৫ জন পদস্থ আধিকারিককে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের পেনশনও কেটে নেওয়া হয়েছে।

ভদ্রমহিলা এবং ভদ্রমহোদয়গণ,

সংগঠিত অপরাধের ঘটনা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে যা সবক’টি দেশের অর্থনীতির বিরুদ্ধে এক বড় ধরনের হুমকি বিশেষ। এ কথা সুবিদিত যে অসৎ উপায়ে অর্জিত অর্থ সৎভাবে অর্থ উপার্জনকে প্রভাবিত করেছে। সংগঠিত অপরাধ বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির পরিপন্থী। দেশের অর্থনীতিতে তা শুধু অন্যায়ভাবে ভাগই বসায় না, অর্থনীতির এক বিরাট অংশকে নিয়ন্ত্রণ করারও চেষ্টা করে। অবৈধভাবে অর্থ সংগ্রহ মাদকচালান, অস্ত্রশস্ত্রের বেআইনি লেনদেন, মানুষ পাচার এবং সন্ত্রাসবাদের মতো সংগঠিত অপরাধকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

মাত্র কয়েকদিন আগে প্যারিসে যে ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটে গেল তা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে অর্থ সংগ্রহের প্রয়োজনে সন্ত্রাসবাদীরা যেনতেনপ্রকারেণ তাদের কার্যসিদ্ধি করতে তৎপর। মাদকের চোরাচালান, ব্যাঙ্ক ডাকাতি, জাল নোটের কারবার ইত্যাদি অপরাধমূলক ঘটনার মধ্য দিয়ে তারা অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে। কোন কোন ক্ষেত্রে রাষ্ট্র তাদের এই কাজে মদত দেয় কিংবা দুর্বল রাষ্ট্রগুলিতে এই উদ্দেশ্যে তাদের তৎপরতা বৃদ্ধি পেতে থাকে।

অর্থ সংগ্রহের সমস্তরকম রাস্তা বন্ধ করে দিলে সন্ত্রাসবাদীদের ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং আক্রমণের ঘটনা থেকেও তাদের নিরস্ত রাখা যায়। এজন্য প্রয়োজন ব্যবস্থাগত রক্ষাকবচ এবং সন্ত্রাসবাদ বিরোধী গোপন তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে অর্থ মঞ্জুরির বিষয়টিকে সঠিক পথে চালিত করা।

অপরাধের ঘটনা কোনদিকে যাচ্ছে তার গতিপ্রকৃতির দিকে লক্ষ্য রাখলে অপরাধ দমন সহজ হয়ে ওঠে। এই কারণেই সম্পদ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে এবং দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমূলক কাজকর্মের মতো অপরাধমূলক ঘটনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজন সবথেকে বেশি।

অপরাধীদের সম্পত্তি আটক এক ধরনের শাস্তি হিসেবেই দেখা হয়। শুধু তাই নয়, এর ফলে অপরাধ প্রবণতাকেও রোধ তথা নিরুৎসাহ করা সম্ভব। দুর্নীতিপ্রবণ সরকারি কর্মীদের শাস্তি হিসেবে তাদের অসৎ উপায়ে অর্জিত অর্থ ও সম্পদ আটক করার পরামর্শ কৌটিল্য তাঁর অর্থশাস্ত্রেও দিয়ে গেছেন।

রাজ্য দুর্নীতিদমন ব্যুরো এবং সি বি আই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ সম্পর্কে এই সম্মেলনে মত বিনিময় করবে জেনে আমি খুশি। দু’দশকের প্রাচীন এই ফোরাম দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত অপরাধীদের শুধুমাত্র অভিযুক্তই করবে না, সেইসঙ্গে এই সংস্থাগুলি তাদের কর্মপদ্ধতিও সংশোধন করবে যাতে দুর্নীতির দক্ষ মোকাবিলা সম্ভব হয়ে ওঠে।

ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ,

অর্থনৈতিক উদারীকরণ ও বিশ্বায়ন বিশ্বের যত্রতত্র অপরাধের মাত্রা বাড়িয়ে তুলেছে। আজকের দিনে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে অন্তত বেশ কয়েক ডজন দেশে অপরাধমূলক ঘটনা ঘটিয়ে ফেলা সম্ভব। তদন্তকারী সংস্থাগুলির কাজকর্ম জাতীয় সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তাই, পারস্পরিক আদানপ্রদানের ভিত্তিতে আমাদের সরকার তথ্য বিনিময়ের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বিশ্বে এক অভিন্ন মান বজায় রাখতে আগ্রহী। এর ফলে, যদি কেউ গোপন অর্থ জমা রাখেন সে সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ খুব সহজেই সম্ভব হয়ে ওঠে।

সম্পদ পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে ইন্টারপোল উত্তরোত্তর সক্রিয় ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছে। ২০০৯ সাল থেকে ‘গ্লোবাল ফোকাল পয়েন্ট ফোরাম’ সারা বিশ্বের আইন বলবৎকারী সংস্থা এবং দুর্নীতি দমন এজেন্সিগুলির মধ্যে দুর্নীতি সংক্রান্ত তথ্য বিনিময় কার্যকরভাবে রূপায়িত করছে।

এই প্রসঙ্গে ইন্টারপোলের ‘আই-সিকম’ ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা যায়। বিশেষ বিশেষ দুর্নীতি দমন সংস্থাগুলির মধ্যে এই ব্যবস্থায় ইন্টারনেট মারফৎ এক সুরক্ষিত তথ্য ও পরিসংখ্যান বিনিময়ের সূচনা করা হয়েছে। জটিল ক্ষেত্রগুলিতে সম্পদ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে তদন্ত ও অভিযানের ক্ষেত্রে ইন্টারপোলের নতুন বিজ্ঞপ্তিতে আরও কিছু নতুন ব্যবস্থার উল্লেখ থাকতে পারে। ইন্টারপোল এবং তার সহযোগী বিশ্বব্যাঙ্ক ও ‘ইউনোডিসি’র প্রচেষ্টাকে আমি সাধুবাদ জানাই।

ইন্টারপোল এবং ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির মধ্যে যে ভালোরকম বোঝাপড়ার সৃষ্টি হয়েছে তার ফলে বেশ কিছু পলাতক অপরাধীর খোঁজখবর মিলেছে বলে আমি জানতে পেরেছি। এই ধরনের সহযোগিতা আরও জোরদার হয়ে উঠুক এটাই আমাদের কাম্য। অনুসন্ধানমূলক তথ্য বিনিময়ের ক্ষেত্রে যে সমস্ত বাধা-বিপত্তি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে তা দূর করতে সি বি আই ভারতের আইন বলবৎকারী সংস্থা এবং বিদেশের এই ধরনের সংস্থাগুলিকে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করে আসছে। বিশ্বের সমস্ত দেশের আইন বলবৎকারী সংস্থাগুলির মধ্যে আরও বেশি করে সহযোগিতার প্রসারে সি বি আই ইন্টারপোলের পদ্ধতি ও ব্যবস্থা গ্রহণ করছে এ খবরও আমার কাছে এসেছে। শুধু তাই নয়, ইন্টারপোল দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য যে সমস্ত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সি বি আই তাতেও নানাভাবে সহযোগিতা করছে বলে জানা গেছে।

তদন্ত অনুসন্ধানের কাজে গাজিয়াবাদে এক আন্তর্জাতিক উৎকর্ষ কেন্দ্র গড়ে তোলার কাজ আমরা করছি। সাইবার অপরাধ সহ অপরাধের নতুন নতুন ক্ষেত্রগুলিতে তদন্ত, অনুসন্ধান এবং অভিযোগ দায়ের করার ক্ষেত্রে করণীয় বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে শিক্ষাদানের জন্য এই কেন্দ্রটিতে কোর্স চালু করা হবে। সাইবার অপরাধের মতো এ যুগের নতুন নতুন অপরাধের মোকাবিলায় কেন্দ্রীয়ভাবে এক প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গড়ে তোলারও পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।

ভারতের বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে এমন অনেক ঘটনার নজির রয়েছে যেখানে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞের মতামতকে ভিত্তি করে অপরাধ চিহ্নিত হয়েছে। এই কারণে ফরেন্সিক মতামতের ক্ষেত্রে যে বিপুল কাজ এখনও বাকি রয়ে গেছে তা সম্পূর্ণ করতে ভারতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ও কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

দুর্নীতি ও অপরাধের মূলে রয়েছে হৃত সম্পদ। যেখানে সেগুলি জমা করা হয় তা মূলত দেশের সীমানার বাইরে। অথচ, যে দেশ থেকে সেগুলি চুরি করা হয় সম্পদের ন্যয়সঙ্গত অধিকার সংশ্লিষ্ট ঐ দেশের নাগরিকদের। সম্পদ পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে কিছু কিছু আইনগত ও পদ্ধতিগত বাধা-বিপত্তি রয়েছে একথা আমরা জানি। এই ধরনের চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় পুলিশ এবং আইন বলবৎকারী সংস্থাগুলির মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করে তোলা দরকার। আমি আশা করব এই সম্মেলনে এই ধরনের এক সুযোগ আপনারা লাভ করবেন। আমি আরও আশা করি যে সমবেত প্রতিনিধিরা খুব চিন্তাভাবনার সঙ্গে তাঁদের মতামত তুলে ধরবেন এবং উপযুক্ত প্রয়োগ-পদ্ধতি ও নিয়মকানুন উদ্ভাবন করবেন যাতে চুরি যাওয়া সম্পদের সন্ধান পাওয়া যায়, সেগুলিকে চিহ্নিত করা যায় এবং তা আটক করে দেশে ফিরিয়ে আনা যায়।
ধন্যবাদ,

জয় হিন্দ।

PG/SKD/DM