Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

তৃতীয় ভারত-আফ্রিকা ফোরাম শীর্ষ বৈঠক

তৃতীয় ভারত-আফ্রিকা ফোরাম শীর্ষ বৈঠক

তৃতীয় ভারত-আফ্রিকা ফোরাম শীর্ষ বৈঠক

তৃতীয় ভারত-আফ্রিকা ফোরাম শীর্ষ বৈঠক

তৃতীয় ভারত-আফ্রিকা ফোরাম শীর্ষ বৈঠক

তৃতীয় ভারত-আফ্রিকা ফোরাম শীর্ষ বৈঠক

তৃতীয় ভারত-আফ্রিকা ফোরাম শীর্ষ বৈঠক


১) আমরা, আফ্রিকা মহাদেশের রাষ্ট্র ও সরকারসমূহের প্রতিনিধিত্বকারী প্রধানগণ, আফ্রিকা ইউনিয়ন (এইউ) এবং তার প্রতিষ্ঠানসমূহ, এবং প্রজাতান্ত্রিক ভারতের প্রধানমন্ত্রী, ২০১৫-র ২৯ অক্টোবর তারিখে নয়াদিল্লিতে “অগ্রগতিতে অংশীদারগণ: গতিশীল ও রূপান্তরমুখী উন্নয়ন কর্মসূচির লক্ষ্যে” শীর্ষক মূল ভাবনার অধীনে তৃতীয় ভারত-আফ্রিকা ফোরামের শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হয়েছি;

২) আমরা নয়াদিল্লিতে (৮-৯ এপ্রিল ২০০৮) অনুষ্ঠিত আমাদের প্রথম সম্মেলন এবং আদ্দিস আবাবা-য় (২৪-২৫ মে ২০১১) অনুষ্ঠিত আমাদের দ্বিতীয় সম্মেলনে গৃহীত ঘোষণাসমূহের কথা স্মরণ করছি এবং স্মরণ করছি এর পরবর্তিতে আমাদের কৌশলগত অংশীদারিত্বের ভিত্তিকে সংহত করার জন্য গৃহীত বর্ধিত সহযোগিতার কর্মকাঠামো ও সেই সূত্রে সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনার বিষয়ে;

৩) আমরা লক্ষ্য করেছি আজ মানবসমাজের প্রায় এক তৃতীয়াংশ ভারত ও আফ্রিকার সমন্বয়ে গঠিত। যাহোক, সুদীর্ঘ কাল ধরেই তাদেরকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় যথাযথ প্রতিনিধিত্ব করার বিষয়টি থেকে বাদ দিয়ে রাখা হয়েছে। এই সম্মেলন রাষ্ট্রসংঘের ৭০-তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী চলাকালে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এছাড়াও সমগ্র আফ্রিকা ভুখন্ডের প্রতীক স্বরূপ ওএইউ বা এইউ প্রতিষ্ঠার ৫০ বছরে এবং আফ্রিকার নবজাগরণ-এর সূত্রে এবং ৫০তম বার্ষিকীতে গুরুত্বপূর্ন ঘোষণা গৃহীত হওয়ার পর এবং আফ্রিকি ইউনিয়ন-এর দ্বারা আরোপিত যুগান্তকারী কর্মসূচি-২০৬৩ গৃহীত হওয়ার অব্যবহিত পরে এই প্রথম এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উপরন্তু বিগত বছরে গ্রুপ-৭৭-এর যুগান্তকারী ৫০-তম বার্ষিকীর পর এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই প্রথম। আমরা অবিলম্বে সঠিক আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাঠামো এবং অধিকাতর সাম্যতাপূর্ণ ব্যবস্থা সৃস্টির কাজে সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক প্রশাসনিক কাঠামোকে আরোও বেশি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সম্মিলিত পদ্ধতি বাস্তবায়নের জন্য দাবি জানাচ্ছি;

৪) আমরা এও লক্ষ্য করেছি, উন্নয়নের জন্য আর্থিক সহায়তাদানের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সুস্থিত উন্নয়নের জন্য রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক গৃহীত বিস্তারিত কর্মসূচি-২০৩০-এর অংশ হিসেবে এক গুচ্ছ সুস্থিত উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণে আমরা অন্যান্য অংশীদারিদের সঙ্গে ২০১৫-কে যুগান্তকারী বর্ষ হিসেবে চিহ্নিত করেছি এবং এই বিষয়টির উপরই ভিত্তি করে আদ্দিস আবাবা-য় তৃতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ২০১৫-র নভেম্বরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় জলবায়ু পরিবর্তনকে মোকাবিলা করতে একটি আশাব্যঞ্জক ঐকমত্যে পৌঁছানোর জন্য সমবেত হবে।এই বিষয়টি নিবিড়ভাবে অনুসৃত হবে নাইরোবিতে অনুষ্ঠিতব্য ডল্বুটিও-র ১০-ম মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে;

৫) আমরা পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত আসন্ন বৈঠকে ইতিবাচক সিদ্ধান্তের লক্ষ্যে তাকিয়ে আছি, আশা করছি এই বৈঠকে সমতা ও অভিন্ন নীতির উপর ভিত্তি করে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে আশাব্যঞ্জক ও যুক্তিসঙ্গত চুক্তি সম্পাদিত হবে যা একই সঙ্গে দায়বদ্ধতাকেও সৃচিত করবে।ভূ-উষ্ণায়ন বিষয়ক সমস্যাটি যথাযথভাবে প্রযুক্তিগত উপায়ে এবং এই পরিবর্তনকে আর্থিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার দ্বারা সমাধান করা সম্ভব।উন্নয়নশীল দেশগুলি যেখানে তাদের নিজেদের মতো করে আশাব্যঞ্জক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, সেংখানে এই জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সমস্যার সমাধানে যথাযথভাবে সহায়তার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে এবং এর ভারসাম্যযুক্ত প্রভাব থাকটাও প্রয়োজনীয়;

৬) আমরা আফ্রিকার দেশসমূহে অর্থনৈতিক ও উন্নয়নমূলক প্রয়োজনীয়তার উপর বিশেষ নজর দেওয়া ও অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টিতে গুরুত্ব দিচ্ছি এবং এইসব দেশের ক্ষয়ক্ষতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্বারা প্রয়োজনীয় সম্মীলিত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি উল্লেখ করছি।সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা তথা এম ডি জি-র প্রতি আমাদের অঙ্গীকারকে শক্তিশালী করতে সুস্থিত উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা তথা এস ডি জি গঠন করা হয়েছে এবং এ জন্য অর্থনৈতিক বিকাশ, শিল্পায়ন, পরিকাঠামো ও কর্মসংস্থানকে সুস্থিত উন্নয়নের চালিকা শক্তির ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে; এবং এই আশাব্যঞ্জক প্রয়াসসমূহ বাস্তবায়নের জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলিকে সহায়তা করতে ‘আদ্দিস আবাবা অ্যকশন এজেন্ডা’-র দ্বারা একটি প্যাকেজ উপহার হিসেবে দেওয়া হচ্ছে। দারিদ্র নির্মূলকরণ ও নির্ভরযোগ্য উন্নয়নের জন্য প্রযুক্তিগত সহযোগিতার কাঠামোকে শক্তিশালী করা ও বহুমুখী বাণিজ্যিক সহায়তা দরকার, এজন্য আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিবেশের সহায়তা এবং সম্প্রসারিত বিনিয়োগের প্রবাহ অব্যহত থাকা চাই| এসব প্রয়াসকে এর আগে কখনোই সেভাবে উৎসাহিত করা হয়নি। উন্নয়নশীল দেশগুলির প্রয়োজন অনুযায়ী একটি নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থার আদলে আন্তর্জাতিক আর্থিক পদ্ধতির সংস্কার কার্যকে অবশ্যকে আরোও বেশি গণতান্ত্রিক ও দায়িত্বশীল হতে হবে;

৭) আমরা পুনরায় একথাকে স্বীকৃতি জানাচ্ছি যে আফ্রিকা ও ভারতের জনগণ পরস্পরকে চেনে এবং ভারত মহাসাগর অতিক্রম করে তারা কয়েক সহস্রাব্দ ধরে বাণিজ্য করছে। আমাদের উভয়েরই রয়েছে ঔপনিবেশিক অতীত সম্পর্কে একই ধরনের অভিজ্ঞতা এবং আমরা তা সৌভ্রাতৃত্বের মাধ্যমে প্রতিহত করেছি; এবং বিশ্বায়নের ক্রমবর্দ্ধমান প্রবণতার মধ্যে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আমাদের মধ্যে আরোও যথাযথ ও স্বচ্ছতর অভিন্ন মেলবন্ধনের সম্পর্ক সুদৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ। আফ্রিকা ও ভারত তাদের জনসংখ্যাগত সুযোগের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অতি দ্রুত বিকশিত হচ্ছে এবং সমগ্র আফ্রিকা মহাদেশ জুড়ে ভারতীয় অভিবাসীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের বিষয়টিও এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

৮) আমরা একথাও মেনে নিচ্ছি যে আমাদের অংশীদারিত্ব স্বীকৃতির মর্মস্থলে দাঁড়িয়ে রয়েছে এবং আমাদের জনগণই আমাদের মৌল সম্পদ, এই জনগণ সক্ষম ও সুদক্ষ মানব সম্পদ যা সকলের জন্য সমৃদ্ধির ভিত্তিভূমি রচনা করতে পারে;

৯) আমরা পুনরায় একথা উচ্চারণ করছি আমাদের জনগণের মধ্যে বিনিময়কে উৎসাহিত করার পাশাপাশি পারস্পরিক বোঝাপড়া, সহযোগিতা ও প্রকৃত অর্থেই সৌভাতৃত্বের নীতির উপর ভিত্তি করে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক ক্ষেত্র সমূহে আফ্রিকা-ভারত সম্পর্ককে আরোও সম্প্রসারিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ;

১০) আমরা স্বীকৃতি দিচ্ছি যে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়ার মাধ্যমে গুণমানসম্পন্ন শিক্ষার সংস্থান বিস্তারিত করতে সহযোগিতা দরকার এবং আমাদের জনগণ ও প্রতিষ্ঠানগুলিকে শক্তিশালী করতে আধুনিক তথ্য-যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘টেলি-এডুকেশন’ পৌঁছে দিতে হবে। একইভাবে শ্রমিকদের ক্ষমতায়ণের জন্য তাদের দক্ষতা বিকাশের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ এবং অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের সক্ষম করে তুলতে হবে। আমাদের চলমান সহযোগিতার ক্ষেত্রে এটি অন্য একটি ক্ষেত্র যেখানে পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ দান, দক্ষতা বিকাশ, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান গঠনের ব্যাপক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে;

১১) আমরা লিঙ্গগত সমতা আনয়নে এবং মহিলাদের ক্ষমতায়ণের জন্য ২০১৫ থেকে যে প্রয়াস নিয়েছি তা সম্পাদন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ; আফ্রিকান ইউনিয়ন এই বছরটিকে “মহিলাদের ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন বর্ষ” হিসেবে চিহ্নিত করেছে। আরোও বেশি অহিংসার নীতি প্রতিষ্ঠায় ও পরিবেশগতভাবে নির্ভরযোগ্য সমাজ গঠনে, দারিদ্র নির্মূলকরণ ও মানবাধিকারকে উৎসাহদান ও সুরক্ষা দিতে হবে;

১২) আমরা নিশ্চিত করে বলছি, বিভিন্ন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক সংহতির প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা রয়েছে, পাশাপাশি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়েও হস্তক্ষেপগ না করার কথা সুনিশ্চিত করছি;

১৩) আমরা পুনরায় সুনিশ্চিত করছি মানবিক অধিকার এবং পাশাপাশি সাম্য ও পারস্পরিক উপকারের নীতির প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা রয়েছে;

১৪) আমরা বিশ্বাস করি রাষ্ট্রসংঘ আরোও বেশি স্বচ্ছ, যোগ্য ও কার্যকরভাবে কাজ করবে এবং সুস্থিত উন্নয়নের জন্য ‘কর্মসূচি-২০৩০’-এর লক্ষ্যে সমকালীন বাস্তবতা রাষ্ট্রসংঘের কেন্দ্রীয় সংগঠনগুলির বিন্যাসে অবশ্যই প্রতিফলিত হতে হবে এবং বিশ্বায়নের আধুনিক শক্তিগুলির দ্বারা সংকুচিত বিশ্ব, ব্যাপকতর অর্থে পরিবেশগত নিরাপত্তা থেকে শুরু করে আবহাওয়া পরিবর্তন পর্যন্ত বহুবিধ হুমকি ও সমস্যা মোকাবিলায় কাজ করতে হবে;

১৫) আমরা পুনরায় নিশ্চিত করে রাষ্ট্রসংঘের ব্যবস্থায় নিরাপত্তা পরিষদ সহ, প্রতিষ্ঠানটিকে আঞ্চলিকভাবে আরোও বেশি প্রতিনিধিত্বমূলক, গণতান্ত্রিক, গ্রহনযোগ্য ও কার্যকর করে গড়ে তোলার জন্য আমাদের অঙ্গীকারের কথা বলছি;

১৬) আমরা স্বীকৃতি দিচ্ছি, ভারত-আফ্রিকার মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী ও বহুমুখি উন্নয়নের অংশীদারিত্ব সাম্য, বন্ধুত্ব ও সৌভাতৃত্বের উপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে এবং তা এর সমস্ত রকম ক্ষেত্রে সাউথ-সাউথ সহযোগিতার প্রতিনিধিত্ব করছে যার মধ্যে শিক্ষাবৃত্তি, প্রশিক্ষণ দান, দক্ষতা বিকাশের মাধ্যমে মানব সম্পদ বিকাশের মতো বিষয়গুলি রয়েছে; এছাড়াও রয়েছে নানাবিধ সরকারি কল্যাণকর প্রকল্প রূপায়নের জন্য মঞ্জুরী ও সহজশর্তে ঋণের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তার সংস্থান| এছাড়া রয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিচর্যা ও পরিকাঠামো; বাণিজ্যিক চাওয়া-পাওয়া; প্রযুক্তিগত সহযোগিতা; জরুরিকালীন পরিস্থিতিতে মানবিক, আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তা; সামুদ্রিক সহযোগিতা; শান্তিরক্ষা বাহিনি মোতায়েন যে বাহিনি আবার উন্নয়নমূলক ও মানবিক নানাবিধ দায়িত্ব পালন করে; অন্যান্য বিষয় সমূহের মধ্যে রয়েছে অভিন্ন বিষয়ে ও কার্যকরণে বহুবিধ সঞ্চ সহযোগিতামূলক বিনিময় প্রয়াস;

১৭) আমরা মেনে নিচ্ছি যে সন্ত্রাসবাদ ও হিংসাত্মক চরমপন্থা বিভিন্ন দেশ ও আমাদের সমাজের সামনে একটি হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে এবং আমাদের সমাজকে চরমপন্থা তাদের সমস্ত রকম অভিব্যক্তির মাধ্যমে ধ্বংস করছে। সশস্ত্র গোষ্ঠিগুলি সহ রাষ্ট্রহীন সক্রিয়বাদীরা নতুন চেহারা নিয়ে তাদের ভৌগলিক এলাকা বিস্তৃত করছে, সম্পদ দখল করছে এবং উগ্রপন্থী মতবাদ ছড়াতে ও তাদের বাহিনিতে নিয়োগ করার জন্য নতুন নতুন উপায় ও উপকরণ ব্যবহার করছে। এই সমস্যা মোকাবিলায় দরকার আন্তর্জাতিক কৌশল ও সহযোগিতা। আমরা জোর দিয়ে বলছি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কোনো রকম আপোশ নয়অর্থাৎ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রক্ষা করার ক্ষেত্রে সন্ত্রাসের পক্ষে কোনো রকম ওজর-আপত্তি খাটে না। আমরা সব দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়ে একথা নিশ্চিত করে বলতে চাইযে, কোনো দেশ যেন তাদের এলাকাকে সীমান্তে ওপার থেকে সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপের জন্য ব্যবহার করতে না দেয়। এ ধরনের কার্যকলাপ চালাতে যেসব রাষ্ট্র অথবা তাদের ব্যবস্থাপনা সন্ত্রাসী গোষ্ঠিকে অথবা কোনো ব্যক্তি বিশেষকে প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে আর্থিক সহায়তা দেয় আমরা তাদের কঠোরভাবে নিন্দা করি;

১৮) আমরা জোর দিয়ে বলতে চাই মাদক ও মানব পাচার এবং অপহরণ, দস্যুবৃত্তি, এবং ক্ষুদ্র ও হাল্কা অস্ত্রের অবৈধ কারবারের মতো অন্যান্য সংগঠিত অপরাধের বিরুদ্ধে মোকাবিলা করতে আমাদের কঠোর দায়বদ্ধতা রয়েছে এবং এই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সম্মীলিতভাবে কাজ করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আমাদের এই আরব্ধ কাজের কথা আমরা পুনরায় উচ্চারণ করছি;

১৯) আমরা স্বীকার করছি আমাদের ব্যবসায় ক্রমসবদ্ধমান বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত যোগসূত্র আমাদের অংশীদারিত্বকে যোগাযোগের মাধ্যমে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মিশরেরশার্ম-এল-শেখ-এ ২৬ টি আফ্রিকার দেশের নেতৃবৃন্দ যে ‘ত্রিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি’ তথা টি এফ টি এ- তে সাক্ষার করেছেন আমরা তাকে স্বাগত জানাই। এই ২৬-টি দেশ তিনটি ‘আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সম্প্রদায়ের’ অন্তর্গত দক্ষিণ আফ্রিকা উন্নয়ন সম্প্রদায় (এমএডিসি), পূর্ব আফ্রিকা সম্প্রাদয় (ইএসি) এবং পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য অভিন্ন বাজার (সিওএমইএসএ)। আফ্রিকার অর্থনৈতিক সম্প্রাদয় (এইসি) প্রতিষ্ঠার জন্য ‘আবুজা চুক্তি’-তে ঘোষিত লক্ষ্য ও নীতি অনুযায়ী আফ্রিকার বাজারকে সুসংহত করার লক্ষ্যে ‘মহাদেশীয় মুক্ত বাণিজ্য এলাকা’ (সিএফটিএ) গঠন করতে আফ্রিকি ইউনিয়ন যে বোঝাপড়ার প্রক্রিয়ার সূচনা করেছে ভারত তার প্রশংসা করে এবং এইভাবে ২০১৭ সাল নাগাদ আপোষ মীমাংসার মাধ্যমে একটা নিষ্পত্তি করার লক্ষ্যে মহাদেশীয় মুক্ত বাণিজ্য এলাকা মধ্যস্থতাকারী ফোরাম (সিএফটিএ-এনএফ)গঠন করার কাজে যেভাবে সমর্থন যোগানো হচ্ছে ভারত তারও প্রশংসা করে। ভারত বাণিজ্য ও বিনিয়োগের যোগসূত্র সম্প্রসারণের জন্য এই সব উদীয়মান অর্থনৈতিক স্থাপত্যের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করতে সামনের দিকে তাকিয়ে আছে;

২০) আমরা পুনরায় ভারত ও আফ্রিকার মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের যে বিপুল সম্ভাবনাময় সম্প্রসারণ ঘঠছে তাকে স্বীকৃতি জানাই, এবং আফ্রিকার প্রতিষ্ঠানগুলি গড়ে তুলতে ভারত যে তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাত্পর্যময় অবদান রাখছে আফ্রিকা এ বিষয়টির প্রশংসা করে, এছাড়া আফ্রিকায় কাঁচা মালের মূল্যমানযুক্ত প্রক্রিয়াকরণে ও আফ্রিকার শিল্পায়নের জন্য ভারত যেভাবে সহায়তা করতে সে বিষয়টিরও প্রশংসা করে আফ্রিকা;

২১) আমরা লক্ষ্য করেছি, ভারত ও আফ্রিকার ব্যাপক এলাকা বিশিষ্ট জমি থাকার পাশাপাশি, সূদীর্ঘ সমুদ্র উপকুল রয়েছে এবং এছাড়াও রয়েছে বিপুল সংখ্যক দ্বীপ অঞ্চল। আমাদের জনগণের জীবন-জীবীকার ক্ষেত্রে মহাসাগর ও সমুদ্রের গুরুত্বকে এবং নীল অর্থাৎ সামুদ্রিক অর্থনীতি বিকাশের জন্য প্রাক-শর্ত হিসেবে সামুদ্রিক নিরাপত্তার বিষয়টিকে আমরা স্বীকৃতি জানাই। ভারত আফ্রিকাকে সহায়তা করতে কাজ করে যাবে এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে আফ্রিকার সুসংহত সামুদ্রিক কৌশল (এ ইউ ২০৫০ এ আই এম) বাস্তবায়নের জন্য আফ্রিকাকে যথাযথভাবে সমর্থন করবে;

২২) আমরা এ বিষয়টিও বিবেচনায় রেখেছি যে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক পরিবেশ এবং সংঘর্ষের পরিবর্তমান প্রকৃতি চিরাচরিত শান্তি রক্ষা মিশনের কার্যকারিতার সামনে নতুন ধরনের সমস্যা দাঁড় করিয়েছে;

২৩) আমরা আফ্রিকার কর্মসূচি ২০৬৩-র সঙ্গে তার প্রথম দশ বার্ষিকী রূপায়ন পরিকল্পনার যোগসূত্রকে প্রশংসা করছি এবং ভারত সরকারের দ্বারা অনুসৃত বিষয়গুলির প্রতি যেভাবে জোর দেওয়া হচ্ছে তারও প্রশংসা করি; এই পদ্ধতি শান্তি স্থাপনে যেমন সহায়তা করবে তেমনি দারিদ্র নির্মূলকরণ, স্থাস্থ্য পরিচর্যার সংস্থান, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, আধুনিক শক্তি পরিষেবার অভিমুখ, পরিকাঠামো, সম্পদ ও বাজারের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যমে আমাদের জনগনের জীবনে সমৃদ্ধি নিয়ে আসবে;

২৪) আমরা লিঙ্গ ও বয়স নির্বিশেষে সুস্থ জনসম্প্রদায় গঠনের বিষয়টিকে এবং জনগণের অত্যাবশকীয় আর্থিক বিকাশে অবদান রাখার দিকটিকে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে স্বীকৃতি জানাই। জনগণকে সর্বজনীন ও অভিন্ন প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদান এবং রোগ-ব্যধির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করাটা আমাদের আবশ্যিক অগ্রাধিকারের আওতায় রয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে গুণমানযুক্ত ও ব্যয়সাধ্য ওষধপত্রের যোগান দেওয়া ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা আমাদের মধ্যে সহযোগিতার এক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা;

২৫) আমরা লক্ষ্য করেছি দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নমূলক পরিকল্পনায়, পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদী জরুরি ব্যবস্থাপনায় মহাকাশ বিষয়ক প্রযুক্তি খুবই কার্যকর; এবং এ জন্যেই ডিজিটাল তথ্যাদি ও যোগাযোগ বিষয়ক প্রযুক্তি অতিদ্রুত আমাদের বিশ্বকে রূপান্তরীত করে চলেছে। যোগাযোগ এবং এইসব প্রযুক্তি ব্যবহারের উপায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, ম্যানুফেকচারিং, বাণিজ্য, আর্থিক পরিষেবা সহ সমস্ত ক্ষেত্রে বিস্তারিত হচ্ছে; এবং এভাবে জনগণের জন্য সমাজের ব্যাপক মাত্রায় ক্ষমতায়ন ঘটছে;

২৬) আমরা আফ্রিকা ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ভারত যে কর ও শুল্ক মুক্ত অর্থাৎ ‘ডিউটি ফ্রি ট্যারিফ প্রেফারেন্স’ প্রকল্প চালু করা হয়েছে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করি এবং সমস্ত আফ্রিকি দেশে এই প্রকল্পের সম্প্রসারণ একটি সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও উল্লেখ করছি;

২৭) আমরা খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষি বিষয়ক সামগ্রী সমূহের বিবেচনাপ্রসূত ব্যবহার যে গুরুত্বপূর্ণ সেই প্রসঙ্গে একমত পোষণ করি; এই প্রক্রিয়া আমাদের সকলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দায় ও সুযোগ তুলে ধরছে। এই্ পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আফ্রিকার তরফে গৃহীত ‘ব্যাপক আফ্রিকা কৃষি উন্নয়ন কর্মসূচি’ তথা সি এ এ ডি পি-র মতো মহাদেশীয় প্রকল্পের প্রশংসা করছি;

২৮) আমরা ‘আফ্রিকায় পরিকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচি’ তথা পি আই ডি এ-র প্রতি সমর্থন জানাই এবং দুই পক্ষের কৌশলগত গুরুত্বের দিক থেকে নীল অর্থাৎ সামুদ্রিক অর্থনীতিতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের তাৎপর্যের প্রশংসা করি;

২৯) আমরা আফ্রিকা-ভারত অংশীদারিত্বের অগ্রগতিতে স্লথতা সৃষ্টির জন্য যে সমস্ত প্রতিবন্ধকতা রয়েছে সেগুলর মোকাবিলা করতে দায়বদ্ধ এবং ভারত-আফ্রিকা ফোরাম সম্মেলনের কর্ম পরিকল্পনার পূর্ণ রূপায়ণের বিষয়টিকে সুনিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দেবার কাজ সম্পাদন করতে ঐকমত্য পোষণ করছি;

৩০) আমরা আমাদের বন্ধুত্বকে আরোও ঘনিষ্ঠ করার প্রয়োজনীয়তার প্রশংসা করছি এবং প্রয়োগের পক্ষে সম্ভবপর ক্ষেত্রগুলিতে আমাদের সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্বের উপর জোর দিচ্ছি যা ভারত ও আফ্রিকার জনগণের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে;

৩১) আমরা নির্মবর্ণিত ক্ষেত্রগুলিতে সহযোগিতা করতে একমত পোষণ করছি:

১) অর্থনৈতিক:

• বিনিয়োগ বিনিময়কে উৎসাহিত করতে এবং নতুন নতুন বাজার উন্মুক্ত করার মাধ্যমে প্রত্যক্ষ বাণিজ্যিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠাকে উদ্দীপিত করতে এবং সুস্থিত বিকাশ ও আর্থিক উন্নয়নের জন্য উভয় পক্ষের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের স্তরকে উজ্জীবীত করতে পরস্পরের কাজের ধারা অব্যহত রাখব;

• বিশেষ করে পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে আফ্রিকায় বিনিয়োগকে তেজি করার জন্য দীর্ঘমেয়াদী মূলধন যোগানের প্রবাহকে সহায়তা করা এবং এই প্রেক্ষাপটে ‘আফ্রিকায় পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য কর্মসূচি’ তথা পি আই ডি এ-কে সহায়তা করা, বিশেষভাবে সহায়তা করা ক্রমবর্দ্ধমান আর্থিক প্রবাহের কর্মসূচিকে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমস্ত সদস্যের প্রতি তহবিলের যোগান, বাণিজ্য বিনিময় এবংআর্থ-সামাজিক উন্নয়নে যেসব বিপত্তি রয়েছে সেগুলি দূর করতে প্রতিষেধকমূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আহ্বান রাখা হচ্ছে।

• ‘আফ্রিকার ভীষণভাবে ঋণগ্রস্থ দরিদ্র দেশগুলি, তথা এইচ আই পি সি-গুলিকে সুস্থিত উন্নয়নের নীতি ও ধারনার সঙ্গে ঐক্যমতের ভিত্তিতে ঋণ চাপ মুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে দেশগুলিকে উপকৃত করার জন্য সমস্ত রকম উদ্যোগ নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান রাখা হচ্ছে;

• যথাযথ প্রযুক্তির ব্যবহার ও বিকাশের পাশাপাশি আমাদের যে সব সাধারণ ও অভিন্ন সমস্যা সমাধানে উদীয়মান ও উচ্চমানের প্রযুক্তি সহায়তা করতে পারে সেগুলির জন্য সহযোগিতার ক্ষেত্রকে সম্প্রসারিত করা;

• মহিলাদের ক্ষমতায়ণের ক্ষেত্রে, মহিলাদের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও আইনসম্মত অবস্থান সম্প্রসারণে, মহিলাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিমন্ডলে অংশগ্রহনের জন্য উন্নততর সুযোগ বৃদ্ধির জন্য এবং মহিলাদের বিরুদ্ধে বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে যৌথ প্রয়াস অব্যাহত রাখতে সহযোগিতা ও সমন্বয় সাধনের কাজ করতে হবে;

২) বাণিজ্য ও শিল্প

• বাণিজ্য ও বিনিয়োগের যোগসূত্র সম্প্রসারণে যা এস এ ডি সি, ই এ সি এবং সি ও এম এস ই এ-কে কাছাকাছি নিয়ে এসেছে সেই ‘ত্রিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি’ অর্থাৎ টি এফ টি এ-র কর্মকাঠামোর আওতায় এবং অন্যান্য ‘আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সম্প্রদায়গুলি’-র কর্মকাঠামো সম্প্রসারণে নিবিড়ভাবে একত্রে কাজ করতে হবে;

• ‘আবুজা চুক্তি’-তে বর্ণিত লক্ষ্য ও নীতিমালার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আফ্রিকার বাজারকে সুসংহত করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ‘মহাদেশীয় মুক্ত বাণিজ্য এলাকা’ তথা সি ই এফ টি-এর প্রতিষ্ঠাকে, ‘আফ্রিকি অর্থনৈতিক সম্প্রদায়’ তথা এ সি-র প্রতিষ্ঠাকে এবং ২০১৭-র মধ্যে সি এফ টি এ- এন এফ-এর মীমাংসাসূত্রের লক্ষ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহনের প্রক্রিয়াকে সমর্থন করতে হবে;

• ভারতের তরফে যে কর ও শুল্ক মুক্ত তথা ডিউটি ফ্রি ট্যারিফ প্রেফারেন্স স্কিম তুলে ধরা হয়েছে তা আফ্রিকা ও ভারতের মধ্যে ক্রমবর্দ্ধমান বাণিজ্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে, এই প্রকল্পটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুততার সঙ্গে রূপায়িত করতে হবে;

• ডব্লুটিও বালি বাণিজ্য সরলীকরণ চুক্তি তথা বি টি এফ এ-র সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বাণিজ্য সহজ করার জন্য সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির জন্য মিলিতভাবে কাজ করতে হবে;

• ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগসমূহকে (এস এম ই) এবং মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পকে (এম এস আই) উভয় পক্ষের জনগণের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও উপার্জন সৃষ্টির লক্ষ্যে সহায়তা করতে হবে;

• আফ্রিকার ইঞ্জিনিয়ার, টেকনিশিয়ান, ম্যানেজার ও শ্রমিকদের পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা ও সৌর শক্তির মতো ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ভারতীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে আফ্রিকার শিল্প অঞ্চলগুলিতে দক্ষতা বিকাশ কেন্দ্র স্থাপনে উৎসাহ দানের মাধ্যমে ‘সরকারি বেসরকারি অংশীদারিত্ব’-কে (পি পি পি) অনুসরণ করতে হবে;

৩) কৃষি

• কৃষি ও খাদ্য সুরক্ষা ক্ষেত্রে যৌথ সহযোগিতাকে অনুসরণ করতে হবে এবং উৎপাদন বৃদ্ধি, জমির সংরক্ষণ ও পরিবেশের পাশাপাশি খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তাকে সুনিশ্চিত করতে ‘ব্যাপক আফ্রিকা কৃষি উন্নয়ন কর্মসূচি’ তথা সি এ এ ডি পি-র রূপায়ণকে সহায়তা করতে হবে;

• যথাযথ ও ব্যয়সাধ্য প্রযুক্তি, যথাযথভাবে সেচের ব্যবহার, বিভিন্ন জাতের শস্যের মানোন্নয়ন এবং অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে কৃষি পদ্ধতি উন্নত করার জন্য আমাদের সহযোগিতাকে আরো বাড়াতে হবে;

• কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি ও রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য কৃষি বাণিজ্য ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে উৎসাহ দিতে হবে;

৪) শক্তি

শক্তি পরিবহন ব্যবস্থা নির্মাণের পাশাপাশি সৌর, বায়ু, জল, ভূ-তাপ এবং জৈব-উপাদান সহ পুনর্নবীকরণ শক্তি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য আমাদের চালু সহযোগিতার ক্ষেত্রকে আরো গতিশীল করতে হবে;

৫) নীল/ সামুদ্রিক অর্থনীতি

• সামুদ্রিক সম্পদসমূহের নির্ভরযোগ্য উন্নয়নের লক্ষ্যে নীল/ সামুদ্রিক অর্থনীতিতে সহযোগিতাকে উন্নততর করতে হবে; আধুনিক আগাম সতর্কীকরণ যন্ত্রপাতি, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যান্য উপকুল ও সামুদ্রিক সমীক্ষার মাধ্যমে নির্ভরযোগ্য মৎসচাষ কেন্দ্রের উন্নয়ন, অবৈদ ও অনিয়ন্ত্রিত মৎস শিকার মোকাবিলা, সামুদ্রিক সম্পদের ব্যবস্থাপনা, অ-সামুদ্রিক সম্পদের সন্ধান, জলতাত্ত্বিক সমীক্ষা পরিচালনা, পরিবেশ বান্ধব পর্যটনের বিকাশ, পুনর্নবীকরণ শক্তির বিকাশ, দুর্যোগের ঝুঁকি কমিয়ে আনার জন্য নিবিড় সহযোগিতার উপর বিশেষভাবে জোর দিতে হবে;

৬) পরিকাঠামো

• জল সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক যোগাযোগ, সড়ক ও রেলপথ নির্মাণ এবং এগুলির মানোন্নয়ন সহ পরিকাঠামো ক্ষেত্রে সুলভে ও স্বল্প ব্যয়ের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ, ক্ষমতা গঠন, পরামর্শ দান ও প্রকল্প রূপায়ণে চলমান সহযোগিতার উপর জোর দিতে হবে;

৭) শিক্ষা ও দক্ষতা বিকাশ

• ইঞ্জিনিয়ারিং, চিকিৎসা প্রযুক্তি ও কৃষির মতো ক্ষেত্রগুলি সহ আফ্রিকার মানব সম্পদের দক্ষতাকে উজ্জীবীত করার প্রয়াসে ভারতের উচ্চশিক্ষার প্রধানতম প্রতিষ্ঠানগুলিতে আফ্রিকার শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদদের অংশগ্রহন ও নিবন্ধীকরণ প্রক্রিয়ার কাকে সহজতর ও সাবলীল করতে হবে;

• প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা সহ কৃষি, জল, অরণ্য অঞ্চল, খনিজ ও সামুদ্রিক সম্পদ, দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যবস্থাপনা ও দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস করা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের দূর নিয়ন্ত্রক প্রযুক্তির প্রয়োগের ব্যবহার এবং ক্ষমতা গঠনের মতো বিষয়গুলির ক্ষেত্রে সহযোগিতা;

• আই সি টি, আধুনিক প্রযুক্তি ও ভৌগলিক তথ্য ব্যবস্থারকে কার্যকর করতে আফ্রিকা ও ভারতে বৈজ্ঞানিক ও গবেষণা কেন্দ্রসমূহের মধ্যে সহযোগিতাকে উৎসাহ দান;

• রোগ-ব্যধি ও দুর্ঘটনার বিরুদ্ধে ব্যাঙ্ক, ঋণদান ও সামজিক বীমার মাধ্যমে আর্থিক সংযুক্তি ও ক্ষমতায়ন উন্নত করার পাশাপাশি প্রশাসনে নাগরিকদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং দারিদ্রের বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম ও দরিদ্রদের কাছে লাভের অংশ পৌঁছে দেওয়া, সরবরাহ পরিষেবার উন্নয়নের ক্ষেত্রে ডিজিটাল নেটওয়ার্ককে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা এবং এসব বিষয়ক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতা দরকার;

• বিশ্বায়ন ও তার প্রতিক্রিয়াজনিত সমস্যাগুলির মোকাবিলায় উভয়পক্ষের যুবকদের শক্তি ও ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য যুবকদের মধ্যে ক্ষমতা গঠন ও জ্ঞান বিনিময় কর্মসূচি পরিচালনার মাধ্যমে যুবকদের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে যৌথভাবে সমন্বয় ও সহযোগিতামূলক কাজের উন্নতিবিধান;

• উভয় পক্ষের দ্বারা সম্মতিক্রমে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবার কাজ চালিয়ে যেতে হবে;

৮) স্বাস্থ্য

• টেলিমেডিসিন ও চিরাচরিত ওষুধপত্র সহ রোগ-ব্যধি ও ব্যাপক অঞ্চলে রোগের প্রাদুর্ভাব ও সংক্রমণকে যৌথভাবে মোকাবিলা করা সহ এবং ব্যাপক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলির দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ওষুধ ও চিকিৎসার জন্য আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বয়সাধনে স্বাস্থ্য ও ওষুধশিল্প বিষয়ক ক্ষেত্রসমূহের বিকাশে যৌথ সহযোগিতার সম্প্রসারণ;

• ব্যাপক অঞ্চল জুড়ে রোগের প্রাদুর্ভাবজনিত সংক্রমণ সমস্যার মোকাবিলার পাশাপাশি টেলিমেডিসিন মেডিক্যাল মিশন, আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশ ও ব্যবহার, জেনেরিক মেডিসিনের যোগানে সম্প্রসারিত উপায়, চিরাচরিত ওষুধের ব্যবহারে উৎসাহদান ও নিয়ন্ত্রন পদ্ধতির মাধ্যমে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য পরিষেবা কর্মীদের প্রশিক্ষণ দানে সহযোগিতা;

• ডব্লুটিও টি আর আই পি এস চুক্তির অধীনে প্রাপ্ত সমস্ত ধরনের সাবলীলতা ও সুবিধাবলীর পূর্ণ ব্যবহারের দ্বারা উন্নয়নশীল দেশগুলির জনস্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রয়োজনীয়তা পূরণে ব্যয়সাধ্য ওষুধ ও উদ্ভাবিত পদ্ধতির প্রয়োগকে সুনিশ্চিত করার জন্য সহযোগিতা দরকার;

৯) শান্তি ও নিরাপত্তা

* শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সহযোগিতা চালিয়ে যাওয়া| যার মধ্যে রয়েছে অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির বিনিময়ের মাধ্যমে সংঘর্ষ প্রতিরোধ, সমাধান, ব্যবস্থাপনা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা; আঞ্চলিক ও মহাদেশীয় দ্রুত সতর্কতা ব্যবস্থা ও কৌশল শক্তিশালী করা; শান্তি রক্ষা ও শান্তির সংস্কৃতির প্রচারে মহিলাদের ভুমিকা বৃদ্ধি;

* শান্তি রক্ষা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় যোগদানের জন্য ক্ষমতা বৃদ্ধিতে আমাদের সহযোগিতাকে শক্তিশালী করা| যার মধ্যে রয়েছে আফ্রিকার সহায়ক বাহিনীকে (এ.এস.এফ.) সহায়তা করা, এবং নয়াদিল্লিতে রাষ্ট্রসংঘের শান্তিরক্ষা কেন্দ্রে (সি.ইউ.এন.পি.কে.) নতুন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনার জন্য ভারতের সাম্প্রতিক ঘোষণার দ্বারা; এবং আফ্রিকার শান্তিরক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সমূহে আফ্রিকার সহযোগী দেশগুলির বাহিনী থেকে আসা প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য সহায়তা; শান্তিরক্ষায় যেসব দেশের বাহিনী রয়েছে, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাদের অন্তর্ভুক্তির জন্য সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করা|

* রাষ্ট্রসংঘের সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার কৌশলকে আরও শক্তিশালী করায় উৎসাহিত করা; সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনুবর্তী হওয়ার ক্ষেত্রে সব দেশকে আহ্বান করা; এবং সব দেশকে এটা বলা যে, তাদের অঞ্চল যাতে আন্ত-সীমান্ত সন্ত্রাসবাদী তৎপরতার জন্য ব্যবহৃত না হয়| ইউ.এন.জি.এ.-এর ৭০-তম সম্মেলনে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ব্যপক নীতি গ্রহনে জরুরি ভিত্তিতে সহযোগিতার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আমরা আহ্বান করছি|

* শান্তির ক্ষেত্রে উৎসাহ প্রদান এবং সংঘর্ষ-পরবর্তী দেশগুলিতে উন্নয়নের কর্মসূচিতে সহায়তা করা|

* সন্ত্রাসবাদ যে সমস্ত রূপ ও আকারেই উদ্ভুত হোক, তাকে বাধা দেওয়া এবং এক্ষেত্রে পরবর্তী আন্তর্জাতিক সহায়তা বন্ধে বহুজাতিক অপরাধে বাধা দেওয়ার জন্য ভারত ও আফ্রিকার মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয় বৃদ্ধি|

* সমুদ্রপথে তার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখতে এবং দৌরাত্ম বন্ধে, নেশা জাতীয় দ্রব্য, অস্ত্র ও মানুষ পাচারের বহুজাতিক অপরাধকে নজরদারির মাধ্যমে প্রতিরোধে সহযোগিতা বৃদ্ধি|

১০) বহুক্ষেত্রীয় আঙিনা

* আন্তর্জাতিক পরিচালন কাঠামোয় আরও প্রতিনিধিত্ব, সমসাময়িক ভু-রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলনের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ জরুরি, যা আরও ন্যায়সঙ্গতভাবে সহায়তা করবে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও উন্নয়ন পরিকাঠামো ঠিক করবে|

* রাষ্ট্রসংঘে আফ্রিকার সাধারণ অবস্থান ভারতের নজরে রয়েছে এবং ‘এজুলউইনি’ সমঝোতা ও ‘সিরতে’ ঘোষণা অনুযায়ী রাষ্ট্রসংঘের বর্ধিত নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদে সম্পূর্ণ অধিকার সহ সঠিক মর্যাদা পাওয়ার জন্য আফ্রিকার দেশগুলির আকাঙ্ক্ষাকেও ভারত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে| আফ্রিকাও ভারতের অবস্থান এবং রাষ্ট্রসংঘের বর্দ্ধিত নিরাপত্তা পরিষদে সম্পূর্ণ অধিকার সহ স্থায়ী সদস্যপদ লাভের আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছে| আমরা ইউ.এন.জি.এ. সিদ্ধান্ত ৬৯/৫৬০-কে দ্রুত রূপায়নের প্রয়োজনীয়তায় জোর দিচ্ছি, যাতে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার কর্মসূচিতে বাস্তব ফলাফল পাওয়ায় চূড়ান্তভাবে উদ্যোগ নেওয়া যায়|

* উপনিবেশবাদ, বিদেশী বিদ্বেষ, জাতি বিদ্বেষ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ভারত ও আফ্রিকা একসঙ্গে যে লড়াই করেছিল, সেই লড়াইয়ের পেছনে যে নীতি রয়েছে তা স্মরণ করা ও পুনরায় নিশ্চিত করা|

* প্যালেস্তিনী জনগণের বৈধ অধিকারের জন্য গ্রহনযোগ্য সমাধানকে সমর্থন করা, যার ফলে ইসরায়েলের পাশপাশি প্যালেস্টাইনও যাতে শান্তিপূর্ণ ও স্বাধীনভাবে থাকতে পারে, যে বিষয়টি কুয়ার্তেত রোডম্যাপ, এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রসংঘ ও এ.ইউ. সমঝোতায় এবং আন্তর্জাতিক আইনের সংস্থানে অনুমোদন করা হয়েছে|

* সংযুক্ত রাষ্ট্রসংঘ, জি-৭৭ এবং বিশ্বের অন্যান্য রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বানিজ্যিক গোষ্ঠীতে থাকা অবস্থানের সমন্বয়কে আরও তীব্র করে তোলা, যাতে ভারত-আফ্রিকার সম্পর্কের প্রাণশক্তির ওপর ভিত্তি করে দু’দেশের ক্ষেত্রেই সাধারণ বিষয়গুলিকে যুগ্মভাবে মোকাবিলা করা যায়|

* উন্নত দেশগুলিকে আহ্বান জানানো যাতে তারা গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোয় তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে এবং আবহাওয়া পরিবর্তন নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের পরিকাঠামো সম্মেলনে (ইউ.এন.এফ.সি.সি.সি.) দেওয়া প্রতিশ্রুতিকে সম্মান জানিয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলিকে আর্থিক সংস্থানের পাশাপাশি প্রযুক্তি এবং সক্ষমতা তৈরিতে সহায়তা দিয়ে আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রভাবকে কার্যকরভাবে মোকাবিলায় সক্ষম করে তোলে|

* ফ্রান্সের প্যারিসে আসন্ন সি.ও.পি.-২১ সমঝোতা বৈঠকে একটি ব্যাপক ও গৌরবোজ্জ্বল জলবায়ু পরিবর্তনের চুক্তি চূড়ান্ত করতে সহযোগিতা ও সমন্বয় বৃদ্ধি|

* আফ্রিকার ভূমি মরক্কোর মারাকেশ-এ ২০১৬ সালে সি.ও.পি.-২২ অনুষ্ঠিত হওয়াকে স্বাগত জানানো এবং সংশ্লিষ্ট উন্নয়নশীল দেশগুলি যাতে এতে যোগ দেয় তা নিশ্চিত করতে একযোগে কাজ করায় সম্মতি|

* আমাদের জনগনের জন্য উন্নয়ন নিয়ে আসতে সু-প্রশাসনের উদ্যোগের প্রতিশ্রুতি| এক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা আমাদের সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাব| আরও সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচনী প্রক্রিয়া কার্যকর করতে আমরা আমাদের অভিজ্ঞতার আদান-প্রদান ও সহযোগিতাকে গভীরতর করব|

* ভারত ও আফ্রিকার মানুষদের মধ্যে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান ও সাংবাদিক বিনিময়ের পাশাপাশি বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে মতবিনিময়, এবং সাংস্কৃতিক বিনিয়োগে অসরকারি ক্ষেত্রকে উৎসাহিত করা যাতে দু’দেশের মানুষ তাদের সমাজের বাস্তবতা সম্পর্কে অবহিত হতে পারেন|

৩২) পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা

আমরা, রাষ্ট্র ও সরকারের প্রধানগণ এবং আফ্রিকার দেশগুলির প্রতিনিধিদের প্রধানগণ এবং প্রজাতান্ত্রিক ভারতের প্রধানমন্ত্রী কৌশলগত সহযোগিতার জন্য ভারত-আফ্রিকা ২০১৫ পরিকাঠামো গ্রহণে সম্মত হয়েছি| এবং ভারত-আফ্রিকা ২০১৫ পরিকাঠামো রুপায়নের ক্ষেত্রে কৌশলগত সহযোগিতায় নিয়মিত পর্যবেক্ষণ-পদ্ধতি প্রতিষ্ঠায় এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কর্ম পরিকল্পনা প্রণয়নে ঐকমত্য ঘোষণা করছি|

৩৩) পরবর্তী ভারত-আফ্রিকা শিখর সম্মেলন হবে ২০২০ সালে|

৩৪) আমরা, আফ্রিকার দেশগুলির সরকারের প্রধানগণ এবং আফ্রিকার দেশগুলির প্রতিনিধিদের প্রধানগণ, প্রজাতান্ত্রিক ভারতের মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী, ভারতের সরকার ও জনগণকে এই সম্মেলনের আয়োজন করায় এবং আমাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আতিথেয়তা প্রদান করায় ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি| তৃতীয় ভারত-আফ্রিকা শিখর সম্মেলনে অংশ গ্রহণ করায় এবং ভারত-আফ্রিকার সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করার পরামর্শের জন্য রাষ্ট্র ও সরকারের প্রধানগণ এবং আফ্রিকার দেশগুলির প্রতিনিধিত্বমূলক প্রধানদের ভারতের সরকার ও জনগনের পক্ষ থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ধন্যবাদ জানান|

নয়াদিল্লি, ২৯ অক্টোবর, ২০১৫-তে সম্পাদিত

SC/SRC/AD/DSC