Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

ভারত-মালয়েশিয়া কৌশলগত সহযোগিতা প্রসার সম্পর্কে যৌথ বিবৃতি

ভারত-মালয়েশিয়া কৌশলগত সহযোগিতা প্রসার সম্পর্কে যৌথ বিবৃতি

ভারত-মালয়েশিয়া কৌশলগত সহযোগিতা প্রসার সম্পর্কে যৌথ বিবৃতি

ভারত-মালয়েশিয়া কৌশলগত সহযোগিতা প্রসার সম্পর্কে যৌথ বিবৃতি

ভারত-মালয়েশিয়া কৌশলগত সহযোগিতা প্রসার সম্পর্কে যৌথ বিবৃতি

ভারত-মালয়েশিয়া কৌশলগত সহযোগিতা প্রসার সম্পর্কে যৌথ বিবৃতি


মালয়েশিয়ার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দাতো শ্রী মহম্মদ নাজিব তুন আব্দুল রাজাক-এর আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী সরকারিভাবে মালয়েশিয়া সফর করেন ২৩ নভেম্বর, ২০১৫ তারিখে। এর আগে তিনি আসিয়ান-ভারত শীর্ষ বৈঠক এবং পূর্ব এশিয়া শীর্ষ বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন ২১-২২ নভেম্বর, ২০১৫ তারিখে। দুই প্রধানমন্ত্রী পুত্রজয়া’তে সরকারিভাবে আলাপ-আলোচনায় মিলিত হন এবং যৌথভাবে কুয়ালালামপুরের ব্রিকফিল্ডস্‌-এ তোরানা গেট-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এই গেটটি হল – ভারত-মালয়েশিয়া মৈত্রী সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে মালয়েশিয়ার প্রতি ভারতের এক প্রীতি উপহার।

দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে উষ্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে সরকারি পর্যায়ে আলাপ-আলোচনাঅনুষ্ঠিত হয়। সাম্প্রতিককালে এই দুটি দেশের সম্পর্ক যে ঘনিষ্ঠতর হয়ে উঠেছে সেই বিষয়টি স্বীকার করেন দুই প্রধানমন্ত্রী-ই। দুটি দেশের মধ্যে মন্ত্রী পর্যায়ে এবং অন্যান্য সরকারি স্তরে যে সমস্ত বিষয়ে মতবিনিময় হয়েছে তার উল্লেখ করে দু’জনেই বলেন যে, কৌশলগত সহযোগিতার পূর্ণ সম্ভাবনা সদ্ব্যবহা্রের উপযোগী ক্ষেত্র এখন প্রস্তুত।

দুর্ঘটনাগ্রস্ত মালয়েশিয়ার বিমান এম এইচ-৩৭০ আরোহীদের মৃত্যুর ঘটনায় শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির প্রতি সমবেদনা জানান দুই নেতাই। ঐ সময়ে ভারত যেভাবে সমস্ত রকম সাহায্য নিয়ে মালয়েশিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছিল, তার স্মৃতি রোমান্থন করেন দুই প্রধানমন্ত্রী-ই।

দুই নেতাই পর্যটন ও সংস্কৃতি বিনিময়ের বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এই বিনিময় কর্মসূচি উৎসাহজনকভাবে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। এছাড়াও, ধর্ম বিশ্বাস ও ধর্মাচারণের ক্ষেত্রেও দু’দেশের জনসাধারণের মধ্যে যথেষ্ট মিল ও সাদৃশ্য রয়েছে। এছাড়া, এক বিশাল সংখ্যক ভারতীয় বহু প্রজন্ম ধরেই মালয়েশিয়ায় বসবাস করছেন। দু’দেশের মধ্যে উন্নয়নকে আরও উৎসাহিত করে তোলার লক্ষ্যে তাঁদের অবদানও অনস্বীকার্য। বিচিত্র ও মিশ্র সংস্কৃতির মিলন প্রসঙ্গে দুই নেতাই অঙ্গীকার করেন যে, গণতন্ত্র, উন্নয়ন এবং বহুত্ববাদের মধ্য দিয়ে এই ধরণের সাংস্কৃতিক সমন্বয়কে আরও জোরদার করে তোলা হবে।

এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলে অর্থনৈতিক বিকাশ, অগ্রগতি এবং স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে ভারত ও মালয়েশিয়া যে বিরাট অবদানের স্বাক্ষর রেখেছে তারও অবতারণা করেন দুই প্রধানমন্ত্রী। তাঁরা বলেন, এই অঞ্চলে শান্তি, নিরাপত্তা এবং উন্নয়নের কাজে গতিসঞ্চারের দায়িত্ব রয়েছে ভারত ও মালয়েশিয়া দুটি দেশেরই। শুধু তাই নয়, আর্থ-সামাজিক স্বার্থ এবং আশা-আকাঙ্খার সফল প্রতিফলন বাস্তবায়িত করতে উন্নয়ন ও অগ্রগতির কাজ বিশ্বের অন্যত্রও প্রসারের দায়িত্ব গ্রহণ করবে এই দুটি রাষ্ট্র। বহু বছর ধরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতির বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দুই নেতাই কৌশলগত এই অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সংকল্প গ্রহণ করেন।

দুই প্রধানমন্ত্রী এরপর ২০১৫-২০২০ এই সময়কালের জন্য সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি সম্পর্কিত একটি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন। এছাড়াও, প্রকল্প রূপায়ণ ও তত্ত্বাবধান এবং সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কিত দুটি মউ স্বাক্ষরিত হয় দুই নেতার উপস্থিতিতে।

দু’দেশের অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করে তোলার লক্ষ্যে দুই প্রধানমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রসারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, এই ধরণের সহযোগিতা দু’দেশের স্বার্থেই আরও নিবিড় করে তুলতে হবে। যে সমস্ত বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করে তোলা সম্পর্কে দুই নেতা মতবিনিময় করেন, তার মধ্যে রয়েছে – রাজনৈতিক পরামর্শদান, অর্থ, বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার প্রসার, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, শিক্ষা ও পর্যটন, মানবসম্পদ, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সরকারি প্রশাসন এবং আঞ্চলিক তথা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা প্রসার।

দুই নেতার মধ্যে আলোচনাক্রমে স্থির হয়েছে যে, নিয়মিত শীর্ষ বৈঠকের আয়োজন, দু’দেশের বিদেশ মন্ত্রীর নেতৃত্বে যৌথ কমিশনের পরবর্তী বৈঠকের প্রস্তুতি, শিল্প ও বাণিজ্য, পরিবহণ, পূর্ত ও পরিকাঠামো ইত্যাদি ক্ষেত্রে দু’দেশের ক্যাবিনেট পর্যায়ে নিয়মিত বৈঠক ও মতবিনিময়, দু’দেশের বিদেশ মন্ত্রক পর্যায়ে নিয়মিত শলাপরামর্শ, সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশ ও উন্নয়নে সহযোগিতা ইত্যাদি। এছাড়াও, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত সহযোগিতা, জোরদার অর্থনৈতিক কর্মপ্রচেষ্টা, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী পর্যায়ে নিয়মিত বৈঠক, নির্মাণ ও পরিকাঠামো, বেসরকারি ক্ষেত্রগুলির সঙ্গে সংযোগ রক্ষা, ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’, স্মার্ট সিটি’ এবং দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিতে মালয়েশিয়ার অংশগ্রহণ, মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক কর্মপ্রচেষ্টা ও প্রকল্পে ভারতের সক্রিয় সমর্থন ইত্যাদি ক্ষেত্রেও জোরদার সম্পর্ক গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন দুই প্রধানমন্ত্রী। প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে জোরদার করে তুলতে বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়মিত বৈঠক ও মতবিনিময়, প্রতিরক্ষা সচিব বা মহাসচিব পর্যায়ে পরবর্তী ভারত-মালয়েশিয়া প্রতিরক্ষা বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি, এস ইউ-৩০ ফোরাম গঠন, বিপর্যয় মোকাবিলা, ভারতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের শান্তিরক্ষা প্রচেষ্টার সঙ্গে মালয়েশিয়ার শান্তিরক্ষাকারী কেন্দ্রের সংযোগ স্থাপন ইত্যাদি ক্ষেত্রেও সহযোগিতা প্রসারের অঙ্গীকার করা হয়।

বর্তমান বছরে মালয়েশিয়ায় ভারত উৎসবের সাফল্যের পরিপ্রেক্ষিতে এই ধরণের দ্বিপাক্ষিক উৎসবের নিয়মিত আয়োজন, উচ্চ শিক্ষা ক্ষেত্রে দু’দেশের ছাত্রছাত্রীদের জন্য সুযোগ-সুবিধার প্রসার, কুয়ালালামপুরে ভারতীয় সংস্কৃতি কেন্দ্রটিকে ‘নেতজি সুভাষ চন্দ্র বোস ভারতীয় সংস্কৃতি কেন্দ্র’ – এই নতুন নামে চিহ্নিত করা ইত্যাদি ক্ষেত্রেও সহমত প্রকাশ করেন দুই প্রধানমন্ত্রী।

অন্যান্য যে ক্ষেত্রগুলিতে দুই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনাক্রমে সহযোগিতা প্রসারের অঙ্গীকার করা হয়, তার মধ্যে রয়েছে – মালয়েশিয়ার অর্থনীতিতে ভারতীয় কর্মীদের অংশগ্রহণ, কার্যনির্বাহী গোষ্ঠীর যৌথ বৈঠকের মাধ্যমে শ্রম সমস্যা নিরসনে ক্ষেত্রে দু’দেশের সহযোগিতা, মালয়েশিয়ায় প্রাচীন ভারতীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা সিদ্ধা ও আয়ুর্বেদের প্রচার ও প্রসার, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়, বিশেষত, নিরন্তর জ্বালানি শক্তি উন্নয়ন ও উদ্ভাবন প্রচেষ্টায় জোরদার সহযোগিতা, ভারতের কর্মী ও পেনশন সংক্রান্ত মন্ত্রকের সঙ্গে সরকারি সেবা ও পরিষেবা দপ্তরের সহযোগিতা, বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, বৈদ্যুতিন পরিচালন ব্যবস্থা ইত্যাদি ক্ষেত্রেও সহযোগিতা প্রসারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

ভারত ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা প্রসার ছাড়াও বিকাশ, উন্নয়ন, শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার স্বার্থে সহযোগিতার বাতাবরণ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও গড়ে তোলার অঙ্গীকার নেয় দুটি দেশই। এ ব্যাপারে ভারত ও মালয়েশিয়া পরস্পরের সঙ্গে সহযোগিতা অটুট ও অক্ষুন্ন রাখবে বলে ঘোষণা করা হয়।

PG/SKD/SB/S