পিএমইন্ডিয়া
মান্যবর রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন,
গণমাধ্যমের সদস্যগণ,
রাশিয়ার অসামরিক বিমানের উপর সন্ত্রাসী হামলায় জীবনহানির কারণে এবং সিরিয়ায় দুর্ভাগ্যজনকভাবে সামরিক জেট বিমান ভূপাতিত হওয়ার জন্য গভীর শোক ব্যক্ত করে আমি বক্তব্য শুরু করছি। এই শোক ও সঙ্কটের মুহূর্তে আমরা রাশিয়ার জনগণের সাথে সৌভ্রাতৃত্বের বন্ধনে পাশে আছি।
রাষ্ট্রপতিজি, আপনাকে এই উদার ও উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ জানাই। আপনি ভারত-রাশিয়া মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্বের স্থপতি এবং এই পরিবর্তনশীল বিশ্বে আপনার নেতৃত্ব সুদৃঢ় ভাবে আমাদের সম্পর্ককে অগ্রগতি ও বিকাশের পথে বজায় রেখেছে।
রাষ্ট্রপতিজি, আমাদের কৌশলগত অংশীদারিত্বের প্রতি আমি সবসময়ই গভীর শ্রদ্ধাশীল ও গুণমুগ্ধ। এটা ভারতের প্রতিরক্ষা, উন্নয়ন ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে শক্তি ও সাফল্য অর্জনের উৎস। এবং আমাদের জনগণের মধ্যে যথার্থ অর্থেই সদিচ্ছা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বর্তমান রয়েছে।
আমি যখন ভবিষ্যতের দিকে তাকাই, তখন দেখতে পাই ভারতের অর্থনৈতিক রূপান্তর এবং একটি ভারসাম্যযুক্ত, স্থিতিশীল, সর্বব্যাপী ও বহু-মেরুবিশিষ্ট বিশ্বের রূপদানে রাশিয়া এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।
আমরা গত দু’দিন ধরে অতি উচ্চমানের আলোচনা করেছি এবং তা খুবই ফলপ্রসূ হয়েছে।
এর ফলে এই সম্পর্ক বিশেষ ধরণের ও সুবিধাজনক কৌশলগত অংশীদারিত্বের যথার্থ পরীক্ষার মুখোমুখি হতে সক্ষম সে বিষয়ে আমার প্রত্যয় আরো গভীরতর হয়েছে।
আমরা এই কৌশলগত অংশীদারিত্বের ভবিষ্যৎ গঠন প্রকৃতির ভিত্তি স্থাপন করেছি।
মেক-ইন-ইন্ডিয়া মিশনের আওতায় ভারতে কামভ-২২৬ হেলিকপ্টার নির্মাণ সংক্রান্ত আন্ত:সরকার পর্যায়ের চুক্তি প্রতিরক্ষা মঞ্চের ক্ষেত্রে প্রথম বড় মাপের প্রকল্প। এটা আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের সঙ্গে সঠিকভাবে খাপ খেয়েছে।
আমরা অন্যান্য প্রতিরক্ষা প্রস্তাবের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু অগ্রগতি ঘটাতে পেরেছি। এসব প্রয়াস ভারতে প্রতিরক্ষা নির্মাণকে তেজি করবে এবং অত্যাধুনিক পরবর্তী প্রজন্মের সাজসরঞ্জমের জন্য ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে প্রস্তুত রাখবে।
পারমানবিক শক্তির ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতার পরিসর বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা দু’টি স্থানে রাশিয়ার ১২টি পারমানবিক রি-অ্যাক্টর কেন্দ্রের জন্য আমাদের পরিকল্পনাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আজকের চুক্তি এইসব রি-অ্যাক্টর কেন্দ্রে ভারতের মেনুফেকচারিং প্রক্রিয়াকে বৃদ্ধি করবে। এটা আমার মেক-ইন-ইন্ডিয়ার পক্ষে সহায়ক। আমি রাষ্ট্রপতি পুতিনকে তাঁর এই সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানাই।
বিশ্বের বৃহত্তম হাইড্রোকার্বণের মজুত ভান্ডার হিসেবে, বিশেষ করে আমাদের কৌশলগত অংশীদারিত্বের কারণে, রাশিয়া হতে পারে ভারতের শক্তি নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ উৎস। রাষ্ট্রপতি পুতিনের সহায়তা নিয়ে আমরা রাশিয়ার হাইড্রোকার্বণ ক্ষেত্রে ভারতীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি করছি।
আমাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে বিস্তৃত করতে রাষ্ট্রপতি পুতিন এবং আমি সৃজনশীল পদ্ধতিতে এগিয়ে চলেছি। আমাদের বিগত শীর্ষ বৈঠকের সূত্র ধরে, ভারত বিশ্বের বৃহত্তম অকর্তিত হীরার রপ্তানিকারক দেশ, রাশিয়ার সাথে প্রত্যক্ষ বাণিজ্যকে সহজতর করতে বিশেষভাবে নোটিফাইড অঞ্চল সৃষ্টি করেছে এবং ভারত বিশ্বের ৯০% অকর্তিত হীরার প্রক্রিয়াকরণ করে থাকে।
দ্বিতীয়ত, আমরা পরিবহন ক্ষেত্রেও কাজ করছি। আমাদের ‘গ্রিন করিডোর’ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। ইরানের মধ্য দিয়ে ‘ইন্টারন্যাশনাল নর্থ-সাউথ ট্রানজিট করিডোর’ তাৎপর্যপূর্ণভাবে পরিবহনের সময় ও খরচ কমিয়ে আনবে।
তৃতীয়ত, আমরা ‘ভারত-ইউরেশিয়ান ইকনোমিক ইউনিয়ন ফ্রি-ট্রেড এগ্রিমেন্ট’-এর লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছি। মধ্য এশিয়ায় এটা আমাদের সুবিধা দেবে।
চতুর্থত, আমরা আমাদের বেসরকারি ক্ষেত্রকে পরস্পরের সাথে আরো ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়ে তুলতে উৎসাহিত করছি। আমাদের মধ্যে অতি সম্প্রতি সি ই ও ফোরামের একটি অতি উচ্চমানের বৈঠক হয়েছে। আজকের চুক্তি ও ঘোষণাগুলো আমাকে এই প্রত্যয় দিচ্ছে যে, আমরা উভয় দিকেই বিনিয়োগ ও বাণিজ্য ব্যাপক হারে বৃদ্ধির বিষয়টি দেখতে পাব।
রাষ্ট্রপতি পুতিন এবং আমি বিশ্ব স্তরের বিভিন্ন প্রসঙ্গে আমাদের অবস্থান সম্পর্কে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে আমাদের সুদৃঢ় প্রতিশ্রুতিকে গভীরতর করতে মনোভাব অতি উচ্চমাত্রায় এক-কেন্দ্রমুখী।
রাষ্ট্রসংঘে আমাদের মধ্যে সুদৃঢ় সহযোগিতা রয়েছে। ব্রিকস, পূর্ব এশিয়া সম্মেলন, জি-২০ এবং এখন সাংহাই সহযোগিতা সংগঠন-এ (এস সি ও) আমাদের সদস্যপদ আমাদের অংশীদারিত্বকে বিশ্বব্যাপী চরিত্র দান করেছে। মধ্য এশিয়া এবং আফগানিস্তান সহ ইউরেশিয়া থেকে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল পর্যন্ত বৃত্তাকার পরিধি জুড়ে এটা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
আমরা একযোগে বিশ্বাস করি যে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে গোটা বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং সমবেতভাবে কোনো রকম পার্থক্য ও ভেদাভেদ ছাড়াই সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় সুসমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে।
আমরা পশ্চিম এশিয়ায় স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের জন্য এবং এই অঞ্চলে উগ্রবাদকে প্রতিহত করতে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত রাজনৈতিক বোঝাপড়া জরুরী বলে একমত পোষণ করি।
বস্তুত, আমাদের সময়ের সমস্যাগুলির মোকাবিলা করতে পরস্পরের সঙ্গে সহানুভূতি সহ সব দেশকে অবশ্যই কাছাকাছি আসতে হবে।
রাষ্ট্রপতি পুতিনের সঙ্গে আমার সম্পর্ককে গভীরতর করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমরা মিলিতভাবে আমাদের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরোও গতিময় ও সন্তোষজনক করতে আমরা নতুন দিকদর্শন নির্ণয় করেছি।
এ বছর আমি দুবার রাশিয়া সফর করতে পেরে খুবই আনন্দিত, আগামী বছর ব্রিকস-এর বার্ষিক তথা শীর্ষ সম্মেলনের জন্য রাষ্ট্রপতি পুতিনকে আমি ভারতে স্বাগত জানাতে আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করছি।
ধন্যবাদ।
SC/JC/SRC/DSC//AGT
PM appreciates strong India-Russia partnership in defence, diplomacy and development. He is speaking at the Joint Press Meet.
— PMO India (@PMOIndia) December 24, 2015
President Putin and I are moving towards expanding India-Russia economic ties: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) December 24, 2015
Confident that we will see increase in trade and investment: PM @narendramodi on India-Russia ties
— PMO India (@PMOIndia) December 24, 2015
World must unite and combat terror without distinguishing between terror groups and target countries: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) December 24, 2015
India-Russia ties truly meet the test of a special & privileged strategic partnership. Spoke at the press meet. https://t.co/z35oZwIKJX
— Narendra Modi (@narendramodi) December 24, 2015