Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

২৯ নভেম্বর, ২০১৮ তারিখে আর্জেন্টিনায় ‘শান্তির জন্য যোগ’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

২৯ নভেম্বর, ২০১৮ তারিখে আর্জেন্টিনায় ‘শান্তির জন্য যোগ’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

২৯ নভেম্বর, ২০১৮ তারিখে আর্জেন্টিনায় ‘শান্তির জন্য যোগ’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

২৯ নভেম্বর, ২০১৮ তারিখে আর্জেন্টিনায় ‘শান্তির জন্য যোগ’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ


আর্জেন্টিনার সমর্পিত প্রাণ যোগসাধকবৃন্দ,

ভারত এবং ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি অগাধ ভালোবাসা যাঁদের, সেই আর্জেন্টিনার জনগণ,

আর্জেন্টিনায় বসবাসকারী ভারতীয় ভাই ও বোনেরা,

আর্ট অফ লিভিং-এর কর্মকর্তা এবং সদস্যবৃন্দ,

 

নমস্কার!

 

বুয়েনাস তার্দর্স। বুয়েনস এয়ারেস-এ সকাল, দুপুর এবং বিকেল বুয়েনস, অর্থাৎ প্রকৃতিক পরিবেশ অত্যন্ত সুন্দর থাকে। মহর্ষি পতঞ্জলির ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত আপনাদের সকলকে ১২৫ কোটি ভারতবাসীর পক্ষ থেকে আমার অনেক অনেক অভিনন্দন। আমি আর্ট অফ লিভিং-এর সদস্যদের এবং আপনাদের সবাইকে এই জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের জন্য হৃদয় থেকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই।

 

বন্ধুগণ,

 

আমি ২৪ ঘন্টারও বেশি সময় ধরে ১৫ হাজারেরও বেশি কিলোমিটার অতিক্রম করে কিছুক্ষণ আগেই বুয়েনস এয়ারেস-এ পৌঁছেছি। কিন্তু আপনাদের উৎসাহ এবং ভালোবাসা দেখে আমার একদমই মনে হয়নি যে ভারতের বাইরে আছি। এখানে অনেক মানুষ অত্যন্ত নিপুণভাবে এবং যথাবিধি সূর্য নমস্কার করছিলেন। আর্জেন্টিনার এই রূপোলি সন্ধ্যায় আমি আপনাদের যোগ সাধনা দেখে তরতাজা হয়ে উঠেছি এবং উৎসাহে চনমনে।

 

বন্ধুগণ,

 

আজকের কর্মসূচির নাম ‘শান্তির জন্য যোগ’। যোগের যে কোন কর্মসূচির এর থেকে ভালো নাম খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। যোগের মাধ্যমে আমাদের মন ও শরীর উভয়েই সুস্থ থাকে। যোগ শরীরকে শক্তি দেয় আর মনকে শান্তি। যখন ব্যক্তির মনে শান্তি থাকবে, তখনই পরিবার, সমাজ ও দেশে শান্তি বিরাজমান থাকবে। স্বাস্থ্য, সুস্থতা এবং শান্তির জন্য বিশ্বকে ভারতের উপহার হল যোগ। ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে এই মূল্যবোধের প্রতি আর্জেন্টিনা-সহ সমগ্র বিশ্বের দায়বদ্ধতা প্রদর্শিত হয়। ‘সর্বে সন্তু সুখিনঃ’ এবং ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ – এই ভারতীয় দর্শনের এটাই ফলিত অভিব্যক্তি। আমি জেনে খুশি হয়েছি যে এ বছর বুয়েনস এয়ারেস-এ যোগ দিবস উপলক্ষে ১০ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন।

 

বন্ধুগণ,

 

যোগের অর্থ হল যুক্ত করা। এই প্রক্রিয়া আমাদের সুস্থতা ও সুখের সঙ্গে যুক্ত করে। আর আজ এখানে যোগ হাজার হাজার কিলোমিটারের দূরে থাকা ভারত এবং আর্জেন্টিনার মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজ করছে। আমাদের জনগণকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করছে। আত্মীয়তার সম্পর্কে আবদ্ধ করছে। উভয় দেশের মধ্যে দুটি বিশাল মহাসাগর এবং মহাদেশ পেরিয়ে প্রায় ১৫ হাজার কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়। উভয় দেশের মধ্যে সময়ের পার্থক্য ৮ ঘন্টা ৩০ মিনিট। অর্থাৎ, এখন আপনাদের এখানে সন্ধ্যা, আর ভারতে মানুষ ব্রহ্মমুহূর্তের সাধনা শুরু করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

 

কিন্তু আপনাদের যোগাভ্যাস দেখিয়ে দিল যে ভারত এবং আর্জেন্টিনা পরস্পরের সংস্কৃতিকে এতটাই ভালোবাসে যে এই হাজার হাজার কিলোমিটারের দূরত্ব এখানে একটি পরিসংখ্যান মাত্র। আর্জেন্টিনাবাসী ভারতীয় দর্শন, কলা, সঙ্গীত এবং নৃত্যকে ভালোবাসে। আর ভারতীয়রা আর্জেন্টিনার ফুটবলকে ভালোবাসে। এখানকার ফুটবল তারকাদের লক্ষ লক্ষ অনুগামী ভারতে রয়েছে। মারাদোনার নাম তো আমাদের দেশের মানুষের মুখে মুখে, এমনকি প্রবাদের মধ্যেও এসে গেছে।

 

এখন ভারতের একটি রাজ্য ওড়িশায় হকি বিশ্বকাপ চলছে। সেজন্য ভারতবাসী অত্যন্ত উৎসাহে তা নিয়ে ব্যস্ত। আজই আর্জেন্টিনার দল সেখানে প্রথম ম্যাচ জিতেছে। আমি শুনেছি, খুবই টানটান উত্তেজনাময় খেলা হয়েছে। আমি আর্জেন্টিনা হকি টিমকে পরবর্তী খেলাগুলির জন্য শুভেচ্ছা জানাই।

 

ভারত এবং আর্জেন্টিনার জনগণের স্বপ্ন এবং প্রত্যাশা একইরকম। উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্ক সৌহার্দ্যপূর্ণ। আমরা উভয়েই উন্নয়নশীল এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ-সম্পন্ন দেশ। উভয়েই বিশ্ব মঞ্চে পরস্পরের পাশে দাঁড়ায়।

 

আজ ভারতের বন্ধু আর্জেন্টিনা জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের সফল আয়োজন করায় ভারত অত্যন্ত গর্ববোধ করছে। এই শীর্ষ সম্মেলনে যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে কথা হবে তার মধ্যে রয়েছে – বিশ্ব অর্থনীতি, সুদূরপ্রসারী উন্নয়ন, পরিবেশের পরিবর্তন, বিদেশে পলায়মান আর্থিক তছরূপকারী ইত্যাদি। এই বিষয়গুলি শুধু ভারত এবং আর্জেন্টিনা নয়, সমগ্র বিশ্বের হিতের সঙ্গে যুক্ত।

 

আমাদের উভয় দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার অপার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যবসা, ঔষধি, তেল ও গ্যাস, তথ্যপ্রযুক্তি এবং মহাকাশ – এমনই বেশ কিছু ক্ষেত্রে আমরা পরস্পরের সাফল্য থেকে উপকৃত হতে পারি।

 

ভারত এবং আর্জেন্টিনার পারস্পরিক সহযোগিতা জল, স্থল এবং আকাশে পরস্পরের জন্য একটি নতুন সোনালী ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে। এই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য আপনাদের সকলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনারা প্রত্যেকেই ভারতের রাষ্ট্রদূত। আপনাদের অবদান প্রতিনিয়ত উভয় দেশের মধ্যে সেতু নির্মাণ করছে। আজ আমাদের মধ্যে যোগ আরেকটি নতুন সেতুবন্ধন গড়ে তুলেছে। আমি চাইব আমরা এমন আরও অনেক সুযোগ গড়ে তুলব যা উভয়ের মধ্যে সম্পর্ক ও সহযোগিতা বাড়ায়। ভারত এবং আর্জেন্টিনার উন্নয়নে ট্যাঙ্গো নৃত্যের গতি আসবে। আত্মীয়তার উষ্ণতায় আমরা মেতে উঠব।

 

বন্ধুগণ,

 

আর্জেন্টিনার প্রবাসী ভারতীয় এবং ভারতবন্ধুদের আমি ভারতকে আরও বিস্তারিতভাবে জানার জন্য আমন্ত্রণ জানাই। আর্জেন্টিনায় বসবাসকারী সমস্ত ভারতীয় জানুয়ারি মাসে কাশীতে আয়োজিত প্রবাসী ভারতীয় দিবসে অবশ্যই আসবেন এবং আর্জেন্টিনাবাসী আপনাদের বন্ধু-বান্ধবদেরও অবশ্যই নিয়ে আসবেন।

 

সেই সময় আপনারা সবাই প্রয়াগরাজে অর্ধ কুম্ভের আবহে, ভারতের সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি, পরিবর্তমান ভারত, নতুন ভারতের দর্শন করতে পারবেন। আমাকে এখানে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য এবং আপনাদের সঙ্গে বসে যোগ নিয়ে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার জন্য আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আর্ট অফ লিভিং এবং তার প্রচেষ্টাকে আমি অকুন্ঠ সাধুবাদ জানাই।

 

শ্রীমতী প্যাট্রিসিয়া সোসাকে কৃতজ্ঞতা জানাই। তিনি যোগের এই সুরম্য সন্ধ্যাকে সুরময় করে তুলেছেন। তাঁর সুরের ছন্দে আপনারা নিজে থেকেই যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। যোগ এভাবেই বিশ্বকে যুক্ত করতে থাকে। ভালো থাকবেন। শান্ত থাকবেন, সুখী থাকবেন।

 

মুচাস গ্রাসিয়াস,

ধন্যবাদ।

 

SSS/SB/DM/…