Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

ফরাসী রাষ্ট্রপতি ওল্যাঁদ-এর সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্য

ফরাসী রাষ্ট্রপতি ওল্যাঁদ-এর সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্য

ফরাসী রাষ্ট্রপতি ওল্যাঁদ-এর সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্য


মহামান্য রাষ্ট্রপতি ওল্যাঁদ, ফ্রান্সের মন্ত্রিগণ, প্রতিনিধিদলের সদস্যবৃন্দ এবং সংবাদ-মাধ্যমের সদস্যরা,

রাষ্ট্রপতি ওল্যাঁদ আপনি ভারতের একজন অভিন্নহৃদয় বন্ধু। আমাদের ৬৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের সমারোহে আপনাকে ভারতের পক্ষ থেকে আন্তরিক স্বাগত জানাই। আমাদের নিমন্ত্রণ স্বীকারের জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই।

রাষ্ট্রপতি মহোদয়, আপনি একটি মহান দেশের উপযুক্ত নেতা। ফ্রান্স এমন একটি দেশ, যার সঙ্গে আমাদের প্রাচীনতম এবং সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য কৌশলগত অংশীদারিত্ব রয়েছে।

ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস অনুষ্ঠানে আপনাকে প্রধান অতিথি হিসেবে স্বাগত জানাতে পেরে আমি ও সারা ভারত গর্ব অনুভব করবো।

আগামীকাল সারা ভারত ও বিশ্বের প্রত্যেক ভারতীয় প্রজাতন্ত্র দিবস পালন করবে।

নানা কারণে আগামীকাল আমাদের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। আগামীকাল আমরা এই নিয়ে পঞ্চমবার ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে কোনও ফরাসী সর্বাধিনায়ককে প্রধান অতিথি হিসেবে বরণ করবো।

অপরদিকে, ফ্রান্সই প্রথম দেশ, যাদের সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিরা আমাদের সেনাবাহিনীর সঙ্গে পায়ে-পা মিলিয়ে দিল্লির রাজপথে প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করে আমাদের সম্মান বৃদ্ধি করবে।

বন্ধুগণ,

ফ্রান্স সেই দেশ, যার সঙ্গে ভারত ১৮ বছর আগে নিজের প্রথম কৌশলগত অংশীদারিত্ব স্থাপন করেছিল।

ফ্রান্স সেই হাতেগোণা দেশগুলির অন্যতম, যাদের সঙ্গে ভারত অসামরিক পরমাণু সহযোগিতার ক্ষেত্রে সমঝোতা করেছে।

প্রতিরক্ষা, মহাকাশ এবং অন্যান্য কৌশলগত ক্ষেত্রেও আমাদের সম্পর্ক মজবুত, পুরোনো এবং নির্ভরযোগ্য।

প্রতিরক্ষা সহযোগের ক্ষেত্রে ৩৬টি রাফেল যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে কিছু আর্থিক বিষয় ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। এই অর্থসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতাগুলিও আমরা দ্রুত সমাধান করার ক্ষেত্রে সহমত।

ভারত ও ফ্রান্সের সম্পর্ক সময়ের কষ্টিপাথরে পরীক্ষিত। এই টানাপোড়েনে প্রতিটি পদক্ষেপে আমাদের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

গত এপ্রিলে ফ্রান্স সফরকালে আমি এবং রাষ্ট্রপতি ওল্যাঁদ আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও নিবিড় করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আজ তাঁর সঙ্গে আমার আলোচনায় যে সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া হয়েছে, সেগুলি আমাদের বহুমুখী সহযোগিতার ক্ষেত্রে যৌথ স্বপ্নকে বাস্তবরূপ দেবে।

রেল ইঞ্জিন থেকে শুরু করে কৃত্রিম উপগ্রহ নির্মাণ, সীমা সুরক্ষা থেকে মহাকাশ নিরাপত্তা, যৌথ প্রত্নতাত্ত্বিক খনন থেকে স্মার্ট সিটি নির্মাণ, সৌরশক্তি থেকে পরমাণু শক্তি, ‘নমস্তে ইন্ডিয়া’ থেকে আবার’ ‘বঁজুর ফ্রান্স’ সকল ক্ষেত্রে আমাদের যৌথ সিদ্ধান্তগুলি পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও নিবিড় করবে।

আমরা সহযোগিতার ক্ষেত্রে যেমন এগিয়েছি, উদ্ভূত সঙ্কটগুলি সম্পর্কেও আমরা সদাই সজাগ।

প্যারিস, পাঠানকোট কিংবা বিশ্বের অন্যান্য শহরে সন্তাসবাদী হামলা তেমনই একটি ভয়ানক সঙ্কট। সন্ত্রাসবাদ মানবতার শত্রু। আমার মতে, এর মোকাবিলায় সকল মানবতাবাদী দেশ ও শক্তিগুলিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

মহামান্য ওল্যাদঁ,

আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের রামধনু’তে পরিবেশ সুরক্ষা গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার পেয়েছে। আপনার নেতৃত্বে সম্প্রতি প্যারিসে ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন সফল হয়েছে। সেজন্য আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। এই সম্মেলনে বিশ্ব জলবায়ুর জন্য একটি নতুন পরিপ্রেক্ষিত স্বীকৃত হয়েছে। পাশাপাশি, ঐ সম্মেলনে আমি ও রাষ্ট্রপতি ওল্যাঁদ মিলে একটি আন্তর্জাতিক সৌরসংঘ গড়ে তুলেছি।

আমি খুব খুশি, একটু পরেই আমরা ঐ আন্তর্জাতিক সৌরসংঘে অন্তর্বর্তীকালীন সচিবালয় উদ্বোধন করবো, আর স্থায়ী সচিবালয়ের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করবো। আমাদের পারস্পরিক সম্পর্কের বিশেষত্ব হল এর সক্রিয়তা। সেজন্যই আমরা যথাসময়ে আমাদের সম্পর্কের পথে আর্থিক ঐ রাজনৈতিক সহযোগিতার সুযোগগুলিকে অনুভব করতে পারছি।

এতে কোনও দ্বিমত নেই, আর গতকাল চন্ডীগড়ে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল, দু’দেশের বাণিজ্য সম্মেলনে আমাদের মধ্যে ১৬টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। আমি নিশ্চিত, অদূর ভবিষ্যতে এই বাণিজ্য চুক্তিগুলি আমাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হয়ে উঠবে।

আমরা পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিকে এতটাই সুদৃঢ় করতে পেরেছি যে, অচিরেই দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সহযোগিতা অনেকগুণ বৃদ্ধি পাবে।

ভারতে নগরোন্নয়ন, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মানের স্মার্টসিটিগুলি গড়ে তুলতে, রেল ইঞ্জিন নির্মাণে, রেলপথ আধুনিকীকরণে, রেল স্টেশনগুলি উন্নয়নে এবং পরমাণু শক্তি বিকাশের মাধ্যমে উভয় দেশের অর্থ ব্যবস্থাকে লাভবান করবে। এই পরিপ্রেক্ষিতে আমি ফরাসী ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের ভারতে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানাই।

আমাদের উন্নয়নযাত্রায় আমরা দেশের আর্থিক উন্নতিকে অগ্রাধিকার দিই। ভারতের দক্ষ মানবসম্পদ ফ্রান্সের শিল্পক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নিতে পারে।

মহামান্য ওল্যাঁদ, ভারত ও ফ্রান্স এক নিরাপদ এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের জন্য কেবল প্রতিজ্ঞাবদ্ধ-ই নয়, তীব্রগতিতে সেদিকে এগিয়েও চলেছে।

এই সাফল্যের জন্য আমি আপনার সহযোগিতা এবং আন্তরিক প্রয়াসের জন্য কৃতজ্ঞ।

এই কটি কথা বলে আমি আরেকবার রাষ্ট্রপতি ওল্যাঁদ’কে ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে প্রধান অতিথি হিসেবে আন্তরিক স্বাগত জানাই।

ধন্যবাদ।

PG/SB/SB