পিএমইন্ডিয়া
সভার আগে আমি এখানে মুম্বাই-এর হাসপাতালে দূর্ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। এ বিষয়ে আমার মুখ্যমন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। রাজ্যসরকার পীড়িত পরিবারকে যথাসম্ভব সাহায্য করছে। এই দূর্ঘটনায় যেসব পরিবার তাদের আপনজনদের হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমি পূর্ণ সমবেদনা প্রকাশ করছি।
বন্ধুগণ,
সাংবাদিক দ্বারা পরিচালিত সঠিক সাংবাদিকতার প্রতি দায়বদ্ধ রিপাবলিক টিভি একটি শক্তিশালী সংবাদমাধ্যম রূপে প্রতিষ্ঠিত। অত্যন্ত কম সময়ে আপনাদের এই চ্যানেল নিজস্ব পরিচয় গড়ে তুলেছে। আপনারা সবাই দেশের জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পরিবেশনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। আমি রিপাবলিক টিভির ব্যবস্হাপক ও পরিচালকবৃন্দ এবং এতে কর্মরত প্রত্যেক সাংবাদিককে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত সংবাদদাতা এবং স্ট্রিংগারদের শুভেচ্ছা জানাই। দেশের পরিস্হিতি এবং গতিপ্রকৃতিকে বিশ্লেষনের জন্য এ ধরণের সম্মেলনের আয়োজন করে আপনারা জনগণকে নতুন ভাবনার নতুন সমাধানের আলোকবর্তিকা প্রদর্শন করছেন। সেজন্য আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা।
বন্ধুগণ,
স্বাধীনতার আগে স্বাধীনতা সংগ্রামীরা সাংবাদিকতায় যুক্ত ছিলেন। তাদের কলমে তখনকার খবরের কাগজগুলিতে স্বাধীনতার বিউগল বাজাতেন। স্বাধীন ভারতে সুখি, সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তুলতে ইতিবাচক সংবাদেরও অনেক প্রয়োজন রয়েছে। যাতে দেশবাসীর মনে কিছু করার ইচ্ছা জাগে, তারা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন। স্বাধীনতার আন্দোলনে প্রাণশক্তির মতোই সুশাসনের আন্দোলনের জন্যও সমানভাবে প্রাণশক্তি সঞ্চারিত হওয়া উচিত। ভারতকে বিশ্বের একটি শক্তিশালী দেশ রূপে গড়ে তুলতে অনেক ক্ষেত্রেই আমাদের আন্তর্জাতিক উচ্চতায় পৌঁছতে হবে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, খেলাখুলা এই সমস্ত ক্ষেত্রে বিশ্বে ভারতকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমাদের সংবাদমাধ্যমকেও আন্তর্জাতিক মানের হয়ে উঠতে হবে, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নিজস্ব পরিচয় গড়ে তুলতে হবে। এটাই সময়ের চাহিদা। আজ ভারতের সংবাদমাধ্যমকে এই চ্যালেঞ্জ স্বীকার করে নিতে হবে।
বন্ধুগণ,
সার্জিং ইন্ডিয়া এই দুটি শব্দ ১৩০ কোটি ভারতবাসীর ভাবনাকে তুলে ধরে। এটি সেই অনুভব, সেই স্পন্দন যা আজ সমগ্র বিশ্ব অনুভব করছে। ভারত, সমাজ জীবনের প্রত্যেক ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের সঠিক স্হানের দিকে দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। ভারতের অর্থ ব্যবস্হা, এদেশের প্রতিভা, সামাজিক ব্যবস্হা, সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ কিংবা সামরিক শক্তি- প্রত্যেক স্তরে ভারতের পরিচয় আরো শক্তিশালী হয়ে উঠছে।
বন্ধুগণ,
আজ আমি সংবাদমাধ্যমের মঞ্চে দাঁড়িয়ে আছি, আপনারা প্রশ্ন করা পছন্দ করেন, সেইজন্য আমিও কিছু প্রশ্ন দিয়ে নিজের বক্তব্য শুরু করবো। বলা হয় ‘যেমন সঙ্গ, তেমনি রঙ্গ’। আপনাদের সঙ্গে কিছুক্ষণ থাকার সুযোগ পেয়ে আমার মনেও অনেক প্রশ্ন জেগে ওঠে। আপনাদের প্রশ্নের মধ্যে যেমন অনেককিছু লুকিয়ে থাকে, আমার প্রশ্নেও তেমনি আপনারা সার্জিং ইন্ডিয়া-র অনেক উত্তর নিজে থেকেই পেয়ে যাবেন।
বন্ধুগণ,
চার বছর আগে কি কেউ ভেবেছিলেন যে ভারত এতো দ্রুত ৫ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির ক্লাবে সদস্য হওয়ার দিকে পা বাড়াবে? চার বছর আগে কি কেউ ভেবেছিলেন‘ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস’-এর তালিকায় ভারত ১৪২তম স্হান থেকে এত দ্রুত ৭৭তম স্হানে চলে আসবে, আর এত দ্রুত এক্ষেত্রে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ৫০টি দেশের তালিকায় স্হান করে নেওয়ার দিকে দ্রুত গতিতে এগিয় যাবে?চার বছর আগে কি কেউ ভেবেছিলেন ভারতে রেলের শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কামরায় ভ্রমণকারী যাত্রীদের তুলনায় বেশি মানুষ বিমানযাত্রা করতে শুরু করবে?চার বছর আগে কি কেউ ভেবেছিলেন যে ভারতের রিক্সাচালক, সব্জি বিক্রেতা এবং চা বিক্রেতারাও ভিম অ্যাপ ব্যবহার করবেন, নিজেদের পকেটে রুপো ডেবিট কার্ড রেখে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করবেন?
চার বছর আগে কি কেউ ভেবেছিলেন যে ভারতের বিমান পরিবহন ক্ষেত্রে এত দ্রুত এগিয়ে যাবে, যে কোম্পানীগুলিকে এক হাজার নতুন উড়োজাহাজ কেনার অর্ডার দিতে হবে? আপনারা শুনে অবাক হবেন যে স্বাধীনতার পর থেকে এখনও পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ভারতে ৪৫০টি উড়োজাহাজ যাত্রী পরিবহনে ব্যস্ত রয়েছে। কাজেই মাত্র এক বছরে এক হাজারটি নতুন বিমান কেনার অর্ডার এদেশে পরিবর্তনের সূচক নয় কি?চার বছর আগে কি কেউ ভেবেছিলেন যে ভারতে জাতীয় জলপথ বিষয়টি বাস্তবায়িত হবে? কলকাতা থেকে একটি পণ্যবোঝাই জাহাজ গঙ্গা নদীর পথ বেয়ে বেনারস পর্যন্ত পৌঁছে যাবে?চার বছর আগে কি কেউ ভেবেছিলেন যে ভারতে নির্মিত ইঞ্জিনহীন কোন রেলগাড়ি ঘন্টায় ১৮০ কিলোমিটার বেগে ভারতীয় রেলপথে ছুটে বেড়াবে?
চার বছর আগে কি কেউ ভেবেছিলেন যে ভারত একবারে শতাধিক উপগ্রহ উৎক্ষেপনের রেকর্ড গড়বে?শুধু তাই নয় রকেট তৈরির ক্ষেত্রে দেশ এতো এগিয়ে যাবে?চার বছর আগে কি কেউ ভেবেছিলেন যে স্টার্ট আপের ক্ষেত্র থেকে শুরু করে খেলাধুলা পর্যন্ত সকল ক্ষেত্রে ভারতের সাফল্য এতো বেশি বৃদ্ধি পাবে?
বন্ধুগণ,
চার বছর আগে কি কেউ ভেবেছিলেন যে একদিন হেলিকপ্টার কেলেঙ্কারির এতো বড়ো ক্রীড়নক ক্রিশ্চিয়েন মিশেলকে ভারতে আনা যাবে?চার বছর আগে কেউ ভাবেনি যে ১৯৮৪-র শিখ নিধন যজ্ঞে অপরাধী কংগ্রেস নেতারা সাজা পেতে পারেন? জনগণ বিচার পাবেন? এই পরিবর্তন কিভাবে এসেছে?একই দেশ, একই জনগণ, শাসনতন্ত্রও আগের মতোই, দেশের সম্পদের উৎসগুলিও একই, তাহলে এই পরিবর্তন কিভাবে এসেছে?
বন্ধুগণ,
আমাদের দেশে একটি মনবৃত্তি গড়ে উঠেছে যে, যখনই কেউ সরকারের বিরুদ্ধে আরোপ লাগিয়ে আদালতে যায়, তখন মনে করা হয় যে সরকার ভুল আর অভিযোগকারী ঠিক। কিন্তু এই প্রথমবার আমরা দেখতে পেলাম সরকারের দিকে দুর্নীতির অভিযোগ জানিয়ে বিরোধী দল দেশের সর্বোচ্চ আদালতে গেছে, আর আদালত পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচার করে তাদের জানিয়ে দিয়েছে যে, যা হয়েছে স্বচ্ছ ভাবে হয়েছে, সৎ ভাবে হয়েছে। আমাদের দেশে এমনটাও যে হতে পারে তা চার বছর আগে ভাবেনি।
ভাই ও বোনেরা,
আমি প্রায়ই দেখি, আপনারা সংবাদ প্রচারের সময় পূর্ববর্তী এবং বর্তমান দুটি জানালায় দুটি ভিন্ন পরিস্হিতিকে সুন্দরভাবে পরিবেশন করেন। আমার কাছেও তেমনি পূর্ববতী এবং বর্তমান চিত্রগুলি রয়েছে, যা সার্জিং ইন্ডিয়াকে আরও প্রভাবশালী করে তোলে।
বন্ধুগণ,
আজ দেশের সামনে ২০১৪ পূর্ববর্তী একটি চিত্র রয়েছে যেখানে পরিচ্ছন্নতার মাত্রা ছিল ৪০ শতাংশেরও কম। আর ২০১৮-র শেষে সেই মাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে ৯৭ শতাংশ অতিক্রম করেছে। ২০১৪-র আগে দেশের ৫০ শতাংশ জনগণের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ছিল না। আর ২০১৮-র শেষ পর্যন্ত দেশের প্রত্যেক পরিবার এখন ব্যাঙ্কিং ব্যবস্হার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ২০১৪-র আগে দেশে করদাতার সংখ্যা ছিল ৩ কোটি ৮০ লক্ষ। এবছর সেই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৭ কোটি হয়েছে।
২০১৪ সালের আগে দেশের মাত্র ৬৫ লক্ষ ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি কর প্রদানের জন্য নথিভুক্ত ছিলেন। কিন্তু বিগত দেড় বছরে ৫৫ লক্ষ নতুন ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি কর নথিভুক্তিকরণের জন্য এগিয়ে এসেছেন। ২০১৪ সালের আগে দেশে মোবাইল ফোন নির্মাণকারি কোম্পানীর সংখ্যা ছিল মাত্র দুই। আর আজ দেশে মোবাইল ফোন নির্মাণকারি কোম্পানীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ১২০ থেকেও বেশি হয়েছে। ২ থেকে ১২০।
বন্ধুগণ,
এই পরিবর্তন ‘সার্জিং ইন্ডিয়া’র অনেক শক্তিশালী চিত্রকে সামনে তুলে ধরে। নীতি নিয়ন্ত্রিত প্রশাসন এবং সংকল্প হিসেবে নেওয়া স্বচ্ছ নীতিকে সম্বল করে আমাদের সরকার এগিয়ে যাচ্ছে। ফলস্বরূপ আজ ভারতে দ্বিগুন গতিতে মহাসড়কগুলি গড়ে উঠছে। দ্বিগুন গতিতে রেললাইন বসানো হচ্ছে, বৈদ্যুতিকীকরণ করা হচ্ছে, ১০০-র বেশি নতুন বিমানবন্দর এবং হেলিবন্দর নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। ৩০-৪০ বছরে ধরে থেমে থাকা কিংবা ঝুলে থাকা অনেক প্রকল্প দ্রুত গতিতে সম্পূর্ণ করা হচ্ছে।
আজ আপনি ভারতের যেকোন জায়গায় যান না কেন, একটি সাইনবোর্ড অবশ্যই দেখতে পাবেন ‘কাজ চলছে’।
বন্ধুগণ,
এই সাইনবোর্ড একটি প্রতীক, শুধুই সড়কপথ, ফ্লাইওভার, মেট্রো সম্প্রসারণ নয়, এখানে নতুন ভারত গড়ে তোলার কাজ চলছে। আজ আমি এমন একটি শহরে দাঁড়িয়ে আপনাদের সামনে বক্তব্য রাখছি, যেটি কখনও থামেনা, ঢিমেতেতালে চলে না। আমি এখানে দাঁড়িয়ে আপনাদের একথা বলতে চাই যে আজ ভারতও এমন একটি দেশ যা কখনও থামবে না, ধীর গতিতেও চলবেও না- নতুন ভারত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বন্ধুগণ,
এখানে মুম্বাই-এ ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ মুম্বাই ট্রান্স হার্বার লিঙ্ক নির্মাণ, মুম্বই-আমেদাবাদ বুলেট ট্রেন প্রকল্প, ডাবল লাইন সাব-আর্বান করিডরের কাজ, কয়েক হাজার কিলোমিটার মেট্রো করিডরের কাজ- এই সমস্ত কিছু ২০১৪ সালে কেন্দ্রে বিজেপি সরকার আসার পর থেকে শুরু হয়েছে। আমাকে বলা হলেছে, আন্ধেরি-ভিরার-এর ব্যস্ত এলাকায় নতুন ট্রেন চালু করা হচ্ছে। ফলে রেললাইনের পরিবহন ক্ষমতা ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।
বন্ধুগণ,
দেশের এই প্রয়োজন আগেও ছিল। মুম্বাই-এ এই সকল পরিকাঠামো নির্মাণ ও পরিষেবার প্রয়োজন কয়েক দশক ধরেই অনুভূত হচ্ছিল। কিন্তু কাজ আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর শুরু হয়েছে। ভাবুন এমনকি কেন? এই প্রশ্নেরও জবাব আমি আপনাদের দিতে চাই। আর চেষ্টা করবো আপনাদের মতো করেই জবাব দেব।
আমি যখনই সময় পাই, অর্ণব গোস্বামীর অনুষ্ঠান দেখি ও তার থেকে বেশি শুনি। কিভাবে তিনি অনেক পরস্পর বিরোধী অতিথি নিয়ে বসে প্রশ্নোত্তরের অনুষ্ঠান আয়োজন করেন। টু উইন্ডো এবং মাল্টিপল উইন্ডোর সমাহারে এ এক চিত্তাকর্ষক অনুষ্ঠান।
বন্ধুগণ,
এমনিই একটি মাল্টিপল উইন্ডো প্রতি মাসে দিল্লীর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও আয়োজিত হয়। সেখানে আমাদের সরকারের চালু করা দেশের বিভিন্ন স্হানে কয়েক দশক ধরে থেমে থাকা প্রকল্পগুলির তদারকি আমি নিজে একই পদ্ধতিতে করে থাকি। বিগত চার বছর ধরে আমরা এমনিই যুগ যুগ ধরে ফাইল চাপা পরে থাকা জনকল্যাণকারী প্রকল্প খুঁজে বের করে নতুন করে বাস্তবায়নের কাজ চালু করেছে। এভাবে সমীক্ষার মাধ্যমে পুরনো প্রকল্পগুলির মধ্যে থেকে ইতিমধ্যে প্রায় ১২ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। এ ধরনের এক একটি প্রকল্পের গুরুত্ব কতটা, সেগুলি খুঁজে বের করে চালু করতে কতটা পরিশ্রম হয়েছে, তা আমি আপনাদের মুম্বাইয়ের উদাহরণ দিয়ে বোঝাতে চাই।
বন্ধুগণ,
প্রায় তিন বছর আগে যখন এ ধরনের ‘প্রগতি’ বৈঠকে নবি মুম্বাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রসঙ্গ উঠেছিল তখন আমি অবাক হয়ে যাই। এই বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য কমিটি গঠিত হয়েছিল ১৯৯৭ সালে নভেম্বর মাসে। তখন থেকে প্রায় ২০ বছর ধরে শুধু এখান থেকে ওখানে ফাইল চালাচালি হচ্ছিল। আমি বলবো, ফাইল উড়ছিলো। মাঝে কতো সরকার এলো-গেলো। ফাইলগুলি উড়তে থাকে, কিন্তু বিমান ওড়ার কোনো ব্যবস্হা আর হয় না।
প্রগতি বৈঠকে এমনি মাল্টিপল উইন্ডোর মাধ্যমে একথা জেনে সমস্ত সংশ্লিষ্ট আধিকারিক ও বিভাগগুলিকে একসঙ্গে মুখোমুখি এনে আমাদের সরকার এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে সমস্ত প্রতিবন্ধকতা দুর করেছে, আর এখন নবি মুম্বাই বিমানবন্দরের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।
ভাবুন, শুধু একটিমাত্র প্রকল্পের কথা শোনালাম। এমনই সারা দেশে অসংখ্য প্রকল্পের কাজ প্রায় ১২ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে চলেছি। সার্জিং ইন্ডিয়া-এর পিছনে যে কর্মসংস্কৃতির পরিবর্তন এসেছে, এটা তার জলজ্যান্ত জীবন্ত উদাহরণ।
বন্ধুগণ,
কয়েক বছর আগে একটি মঞ্চে আমি দুই বন্ধুর গল্প শুনিয়েছিলাম। একবার এই দুই বন্ধু জঙ্গলে ঘুরতে গেছে। সেই ঘন জঙ্গলে অনেক হিংস্র পশু ছিল। এই দুই বন্ধুর কাছেও নিরাপত্তার স্বার্থে উৎকৃষ্ট মানের পিস্তল-বন্দুক ছিল। তারা এক জায়গায় গাড়ি থামিয়ে ঘুরে বেরাচ্ছে, তখনই হঠাৎ একটি বাঘ চলে আসে। তাদের অস্ত্রশস্ত্র তো গাড়িতে ছিল। কিন্তু সেগুলি রেখেই তারা ঘুরতে বেরিয়েছে। এখন তারা কী করবে? পালিয়ে কোথায় যাবে? তখনই তাদের মধ্যে একজন পকেট থেকে রিভলবারের লাইসেন্স বের করে বাঘকে দেখায় যে আমার কাছে লাইসেন্স আছে।
বন্ধুগণ,
আমাদের দেশে এমনটাই হয়ে আসছে। যেকোন কিছুর জন্য আইন প্রণয়ন করা হতো, কিন্তু বাস্তবায়িত হতো না। আমাদের পূর্ববর্তী সরকারগুলির কাজ করার পদ্ধতি এমনই ছিল। যখন আমি গল্পটা বলেছিলাম, তখন আমি প্রধানমন্ত্রী ছিলাম না। আমি বলেছিলাম, আইন থেকে এগিয়ে যথাযথভাবে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে। সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করার পর আমরা কিভাবে আইনের থেকে কাজকে অগ্রাধিকার দিয়েছি, তা আপনাদের বলছি।
বন্ধুগণ,
বিগত সরকার খাদ্য নিরাপত্তা আইন পাশ করেছিল। অনেক ঢাক-ঢোল পিটিয়ে তার গুণকীর্তন চলতো। ২০১৪ সালে আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর দেখি দেশের মাত্র ১১টি রাজ্যে এই আইন বাস্তবায়িত হয়েছে। ভাবুন, এতো ঢাক-ঢোল পেটানোর পর দেশের অর্ধেক জনসংখ্যাও এর দ্বারা উপকৃত হয়নি।
আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের সবকটি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই আইন বাস্তবায়িত করি। এভাবেই ২০১৩-১৪ সালে আলোচনা হতো পরিবার পিছু ১০টি রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার দেওয়া হবে নাকি ১২টি ! এই সিলিন্ডার নিয়ে প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে নির্বাচন বৈতরনী পার হওয়ার চেষ্টা চলছিল। কিন্তু বাস্তবে ২০১৪ পর্যন্ত ভারতের মাত্র ৫৫ শতাংশ বাড়িতে রান্নার গ্যাসের সংযোগ ছিল।
বন্ধুগণ,
আমরা যেকোন সমস্যার স্হায়ী সমাধানের কাজ করি। যে ব্যবস্হাগুলি দশকের পর দশক ধরে দেশের উন্নয়নকে থামিয়ে রেখেছিল, আমরা সেগুলির সমাধান কিংবা বাতিল করার কাজ এগিয়ে নিয়ে চলেছি। আমি আপনাদের ‘ইনসলভেন্সি অ্যান্ড ব্যাঙ্করাপ্টসি কোড’ বা ‘আইবিসি’-র উদাহরণ দিতে চাই।
বন্ধুগণ,
আমাদের দেশে ঋণ নিয়ে একটি আজব পরম্পরা ছিল যে কোন গরিব বা নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষ এক লক্ষ টাকা ব্যাঙ্ক ঋণ নিলে তা ফেরত দেওয়া পর্যন্ত নিস্তার ছিলনা। কিন্তু দেশের কয়েক হাজার এমনি বড়ো বড়ো কোম্পানী ব্যাঙ্ক থেকে ৫-১০ লক্ষ নয় ৫-১০ কোটি নয়, ৫০০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতো। কিন্তু সে টাকা নানা কারণে সময়মতো ফেরত দিত না। কিন্তু সেই কোম্পানীগুলির মালিকদের কিছুই হতো না।
বন্ধুগণ,
স্বাধীনতার পর ৭০ বছর ধরে দেশে এই ব্যবস্হায় চলছিল। কেন জানেন? এই কোম্পানীগুলি একটি বিশেষ ধরনের সুরক্ষা কবচের নিরাপত্তা পেত। ভাই ও বোনেরা আমি অনেক সমস্যার সম্মুখী হয়ে অনেক চাপের সামনে নতিস্বীকার না করে ২০১৬ সালে ‘ইনসলভেন্সি অ্যান্ড ব্যাঙ্করাপ্টসি কোড’ প্রণয়ন করে ঐ ধনীর দুলালদের সুরক্ষা কবচকে ভেঙে দিয়েছি। আজ আমি গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, কেউ আর কোম্পানী ভালভাবে চলছে না এই বাহানায় হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ফেরত না দেওয়ার চিন্তাও করতে পারবে না। এখন তারা নিজে নিজেই ঋণ পরিশোধ করবেন।
ভাই ও বোনেরা,
মাত্র দু বছরের মধ্যে এই ধরনের কোম্পানীগুলি নিজে থেকেই ১ লক্ষ ২৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ পরিশোধ করেছে। এরমধ্যে অনেক টাকা ছিল ছোট ছোট সরবরাহকারী, ছোট ছোট শিল্পপতি এবং ক্ষুদ্র-অতিক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রাপ্য টাকা। এই আইনের ফলে বড়ো কোম্পানীগুলির কাছ থেকে ইতিমধ্যেই আরো ১ ল৭ ৭৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ হয়েছে। তারমানে এই নতুন আইন প্রণয়নের ফলে বিগত দু বছরে প্রায় ৩ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ পরিশোধ করতে বাধ্য হয়েছেন অনেক কোটিপতি। এই প্রক্রিয়া আজও জারি রয়েছে।
বন্ধুগণ,
এভাবে যারা ব্যাঙ্ক লুন্ঠন করে পালিয়ে যেতেন, তাদের জন্যও কঠিন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এখন শুধু দেশে নয়, এহেন অপরাধীদের বিদেশে থাকা সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত হচ্ছে। এধরনের অপরাধীরা আর যাতে বিশ্বের কোনও প্রান্তে লুকানোর জায়গা না পায় তা সুনিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকার দায়বদ্ধ।
বন্ধুগণ,
ভারতে দুর্নীতিকে স্বাভাবিক বলে মেনে নেওয়া হতো। কিন্তু বিগত চার বছরে আমরা এই পরিস্হিতি পরিবর্তনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এখনও অনেকে দেশকে ভুল বোঝানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু আমি সত্যের শক্তিতে বিশ্বাস রাখি। সত্যনিষ্ট দেশবাসীদের প্রতি আমার সম্পূর্ণ আস্হা রয়েছে।
ভাই ও বোনেরা,
আজ ভারতের বিদেশনীতি, আভ্যন্তরীণ বিভিন্ন নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে আমরা কাউকে তুষ্ট রাখার চাপ নিয়ে চলি না। আমাদের সমস্ত নীতি, সমস্ত প্রকল্প সর্বজন হিতায়, সর্বজন সুখায়- রাষ্ট্রহিতের স্বার্থে ঠিক করা হয়।
সেজন্য আজ ভারতীয় পাসপোর্টের শক্তিবৃদ্ধি হয়েছে। আজ সমগ্র বিশ্ব ভারতের কন্ঠস্বরকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে শুনছে। বিশ্বের সমস্ত শক্তিশালী সংস্হায় এখন উচ্চপদে ভারতীয়রা আসীন হচ্ছেন। এমনকি‘ওপেক’এর মতো ভারতের প্রতিনিধিত্ব না থাকা সত্ত্বেও ভারতের কন্ঠস্বরকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বন্ধুগণ,
বিশ্বময় ভারতের প্রতি ক্রমবর্ধমান আস্হা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উন্নতির ফলে ভারতকে প্রতারণাকারী, আমাদের ব্যবস্হাগুলিকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলা ব্যক্তিদের এখন বিদেশের থেকেও বন্দি করে দেশে আনা সম্ভব হচ্ছে।
বন্ধুগণ,
রাজনৈতিক জীবনে যখন শুচিতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায় আর জনগণের জন্য কাজ করার দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি পায়, তখন নিজে থেকেই কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস বাড়ে। আমাদের দেশে কয়েক দশক ধরে জিএসটি চালু করার দাবি ছিল। আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে বলতে পারি যে আজ আমরা জিএসটিকে সফলভাবে চালু করে বাজারে অসাম্য দুর করতে পেরেছি, এবং ব্যবস্হার কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থব্যবস্হায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
সমাজের পরিশ্রমী মানুষেরা এখন ইন্সপেক্টররাজ থেকে মুক্ত একটি স্বচ্ছ, সরল ব্যবস্হায় ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারছেন। গোটা দেশে এতো বড় কর সংস্কার বাস্তবায়িত করতে প্রত্যেক নাগরিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। আমাদের ব্যবসায়িদের এবং জনগণের উৎসাহের ফলেই ভারত এতোবড়ো পরিবর্তন আনতে সফল হয়েছে। উন্নত দেশগুলিতেও এতো সহজে ছোটখাটো কর সংস্কার বাস্তবায়ন সম্ভব হয়না।
জিএসটি বাস্তবায়নের আগে দেশে নিবন্ধীকৃত ব্যবসায়ী সংস্হার সংখ্যা ছিল মাত্র ৬৬ লক্ষ। এখন তা বৃদ্ধি পেয়ে ১ কোটি ২০ লক্ষ হয়েছে। গোড়ার দিকে জিএসটি ভিন্ন ভিন্ন রাজ্যে প্রচলিত ভেট এবং এক্সাইজ ব্যবস্হার আড়ালে এগিয়ে চলেছিল। কিন্তু সমস্ত সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীদের সঙ্গে, অর্থনীতিবিদ ও কর আবেদনকারীদের সঙ্গে, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে, রাজ্যসরকারগুলির সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ধীরে ধীরে এতে যথাযথ পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়েছে।
বন্ধুগণ,
আজ জিএসটি ব্যবস্হা অনেকটাই প্রতিষ্ঠিত। আমরা এখনও প্রয়োজনীতা অনুসারে জনগণের প্রয়োজন অনুসারে এতে পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে দায়বদ্ধ। ইতিমধ্যেই আমরা ৯৯ শতাংশ পণ্যকে ১৮ শতাংশ কিংবা তার থেকেও কম করের আওতায় আনার মতো পরিস্হিতিতে পৌঁছতে পেরেছি। অদূর ভবিষ্যতে এক্ষেত্রে সাফল্য আসবে। তারপর যে এক শতাংশ বিলাসবহুল পণ্য বাকি থাকবে, সেগুলি ১৮ শতাংশের আওতার বাইরে থেকে যাবে। যেমন- কেউ যদি উড়োজাহাজ কেনেন, কিংবা দামি গাড়ি, মদ, সিগারেট ইত্যাদি। আমরা জিএসটিকে যথাসম্ভব সহজ এবং জনগণের জন্য সুবিধাজনক করে তুলতে চাই। সেজন্য আমরা লাগাতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
বন্ধুগণ,
আমার এবং আমার সরকারের চিন্তা ও লক্ষ্য অত্যন্ত স্পষ্ট। বিশ্বের সর্ববৃহৎ নবীন প্রজন্মের মানুষের দেশ ছোট স্বপ্ন দেখে বাঁচতে পারেনা। স্বপ্ন, আকাঙ্খা এবং লক্ষ্য সর্বদাই অত্যন্ত উচ্চমানের হওয়া উচিত। আমরা সততার সঙ্গে বড়ো লক্ষ্য সাধনের পথে এগিয়ে যাব এবং লক্ষ্য সাধন করেই ছাড়বো। লক্ষ্য ছোট হলে সাফল্যও ছোটই আসবে।
বন্ধুগণ,
বর্তমান সরকারি ব্যবস্হা বিগত ৭০ বছরের ক্রমবিবর্তনে গড়ে উঠেছে। বিগত চার-সাড়ে চার বছর ধরে আমরা সেই ব্যবস্হা নিয়ে কাজ করছি। কিন্তু আজ কাজ করার গতি অনেকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের লক্ষ্য, দেশের প্রত্যেক নাগরিকের নিজস্ব বাড়ি থাকে, প্রত্যেক বাড়িতে যেন ২৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ, পরিশ্রুত পানীয় জল, পরিবেশবান্ধব জ্বালানী থাকে সেই লক্ষ্যে ভারত আজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা, নবীন প্রজন্মের কর্মসংস্হান, বয়স্কদের ঔষধপত্র, কৃষকদের জন্য সেচের ব্যবস্হা, প্রত্যেক মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনা- এই লক্ষ্যগুলি সাধনের জন্য আমাদের প্রতিটি মুহূর্ত সমর্পিত।
বন্ধুগণ,
একটি নতুন বিশ্বাস নিয়ে, নতুন ভারত বিশ্ব মানচিত্রে নিজের ভূমিকা নির্ণয় করার ক্ষেত্রে এগিয়ে চলেছে। নতুন গ্লোবাল অর্ডারে নিজেদের ভূমিকাকে পুনর্সজ্ঞায়িত করছে। আগামী দুদিনে দেশ ও বিশ্বের বিভিন্ন স্হান থেকে আগত অতিথি-সাংবাদিক ও বিশেষজ্ঞরা এসব বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করবেন। সেজন্য আপনাদের সকলকে আমার পক্ষ থেকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা। নতুন প্রাণশক্তি সঞ্চারিত নতুন ভারতকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে আপনাদের এই প্রচেষ্টার জন্য উপস্হিত সকলকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, যে স্বপ্ন নিয়ে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন নবীন প্রজন্মের মানুষ রিপাবলিক টিভিকে প্রয়োগ করছে, যা এখন হিন্দি ভাষাতেও সমানভাবে প্রচারিত হচ্ছে, প্রসারিত হচ্ছে। দেশের অন্যান্য ভাষাতেও প্রচার ও প্রসারের কথা ভাবা হচ্ছে ; গোটা বিশ্বে সংবাদমাধ্যম হিসাবে নিজেদের উচ্চস্হানে আসীন করার স্বপ্ন নিয়ে আপনারা এগিয়ে যাবেন এই শুভেচ্ছা সহ অনেক অনেক ধন্যবাদ।
CG/SB/NS/
भारत की अर्थव्यवस्था हो, भारत की प्रतिभा हो, भारत की सामाजिक व्यवस्था हो, भारत के सांस्कृतिक मूल्य हों या फिर भारत की सामरिक ताकत, हर स्तर पर भारत की चमक और बढ़ रही है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) December 18, 2018
क्या चार साल पहले किसी ने सोचा था कि भारत इतनी जल्दी फाइव ट्रिलियन डॉलर Economies के क्लब में शामिल होने की तरफ अपना कदम बढ़ा देगा: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) December 18, 2018
क्या चार साल पहले किसी ने सोचा था कि Ease of Doing Business की रैंकिंग में 142 से 77 पर आ जाएगा, भारत टॉप 50 में आने की ओर बढ़ चलेगा: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) December 18, 2018
क्या चार साल पहले किसी ने सोचा था कि भारत में एसी ट्रेन में चलने वाले लोगों से ज्यादा लोग हवाई सफर करने लगेंगे: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) December 18, 2018
क्या चार साल पहले किसी ने सोचा था कि रिक्शा चलाने वाला भी, सब्जी वाला भी और चायवाला भी BHIM App का इस्तेमाल करने लगेगा, अपनी जेब में रूपे डेबिट कार्ड रखकर अपना आत्मविश्वास बढ़ाएगा: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) December 18, 2018
क्या चार पहले किसी ने सोचा था कि भारत का एविएशन सेक्टर इतना तेज आगे बढ़ेगा कि कंपनियों को एक हजार नए हवाई जहाज का ऑर्डर देना पड़ेगा: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) December 18, 2018
क्या चार साल पहले किसी ने सोचा था कि भारत में नेशनल वॉटरवेज एक सच्चाई बन जाएंगे, कोलकाता से एक जहाज गंगा नदी पर चलेगा और बनारस तक सामान लेकर आएगा: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) December 18, 2018
क्या चार साल पहले किसी ने सोचा था कि भारत एक बार में सौ सैटेलाइट छोड़ने का रिकॉर्ड बनाएगा, गगनयान के लक्ष्य पर काम करेगा: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) December 18, 2018
क्या चार साल पहले किसी ने सोचा था कि Start Up की दुनिया से लेकर Sports की दुनिया में भारत की प्रतिष्ठा इतनी ज्यादा बढ़ जाएगी: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) December 18, 2018
चार साल पहले ये भी किसी ने नहीं सोचा था कि एक दिन हेलीकॉप्टर घोटाले का इतना बड़ा राजदार, क्रिश्चियन मिशेल भारत में होगा, सारी कड़ियां जोड़ रहा होगा: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) December 18, 2018
चार साल पहले ये भी किसी ने नहीं सोचा था कि 1984 के सिख नरसंहार के दोषी कांग्रेस नेताओं को सज़ा मिलने लगेगी, लोगों को इंसाफ मिलने लगेगा: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) December 18, 2018
हमारे यहां एक साइकोलॉजी रही है कि जब सरकार के खिलाफ आरोप लगाते हुए कोई अदालत में जाता है, तो माना जाता है कि सरकार गलत होगी और आरोप लगाने वाला सही। घोटाले हों, भ्रष्टाचार के आरोप हों, यही एक मानसिकता रही है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) December 18, 2018
लेकिन ये भी पहली बार हुआ है जब कुछ सरकार पर भ्रष्टाचार का आरोप लगाते हुए देश की सबसे बड़ी अदालत गए और अदालत ने उन्हें दो टूक जवाब मिला कि जो काम हुआ है, वो पूरी पारदर्शिता से हुआ है, ईमानदारी से हुआ है। हमारे देश में ऐसा भी होगा, चार साल पहले ये भी किसी ने नहीं सोचा था: PM
— PMO India (@PMOIndia) December 18, 2018
मैं अकसर देखता हूं कि आप लोग ब्रॉडकास्ट के दौरान पहले और अब की Two Window, यानि दो स्थितियों का फर्क बहुत दिलचस्पी से दिखाते हैं। मेरे पास भी पहले और अब की बहुत दिलचस्प तस्वीर है जो Surging India को और प्रभावी बनाती है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) December 18, 2018
आज देश के सामने 2014 से पहले की एक तस्वीर है जब स्वच्छता का दायरा 40 प्रतिशत से भी कम था। अब 2018 के अंत में वही दायरा बढ़कर 97 प्रतिशत पहुंच चुका है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) December 18, 2018
आज देश के सामने 2014 के पहले की तस्वीर है, जब देश के 50 प्रतिशत लोगों के पास बैंक खाते नहीं थे। अब 2018 के अंत में, देश के हर परिवार बैकिंग सिस्टम से जुड़ चुका है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) December 18, 2018
आज देश के सामने 2014 के पहले की एक और तस्वीर है जहां टैक्स देने वालों की संख्या 3 करोड़ 80 लाख थी। अब इस साल ये संख्या बढ़कर लगभग 7 करोड़ हो चुकी है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) December 18, 2018
आज देश के सामने 2014 के पहले की एक तस्वीर है जहां मोबाइल बनाने वाली सिर्फ 2 कंपनियां थीं। आज उन्हीं मोबाइल मैन्यूफैक्टरिंग कंपनियों की संख्या बढ़कर 120 के पार हो गई है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) December 18, 2018
पहले और अब का ये बदलाव, Surging India की बहुत मजबूत तस्वीर को सामने रखता है। ये सब इसलिए हो रहा है कि आज देश में Policy Driven Governance और Predictable Transparent Policies को आधार बनाकर हमारी सरकार आगे बढ़ रही है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) December 18, 2018
इसी का नतीजा है कि आज भारत में दोगुनी रफ्तार से हाईवे बन रहे हैं, दोगुनी रफ्तार से रेल लाइनों का दोहरीकरण हो रहा है, बिजलीकरण हो रहा है, 100 से ज्यादा नए एयरपोर्ट और हेलीपोर्ट पर काम हो रहा है, 30-30, 40-40 साल से अटकी हुई योजनाओं को पूरा किया जा रहा है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) December 18, 2018
आज आप भारत में कहीं भी जाएं, एक साइनबोर्ड जरूर देखने को मिलेगा- ‘Work in Progress’. साथियों, ये साइनबोर्ड सही मायने में ये दिखाता है कि ‘India in Progress’. सिर्फ सड़कें, फ्लाईओवर, मेट्रो नहीं, यहाँ नया भारत बनाने का काम हो रहा है : PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) December 18, 2018
मैं आज उस शहर में हूं, जिसके लिए कहते हैं ‘The city that never stops’. मैं यहां खड़ा होकर आपको ये कहना चाहता हूं कि Today, ‘India is a country that never stops’. न रुकेंगे, न धीमा पड़ेंगे, न थमेंगे : ये इंडिया ने ठान लिया है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) December 18, 2018
मुझे याद है करीब तीन साल पहले ‘प्रगति’ की बैठक में नवी मुंबई इंटरनेशनल एयरपोर्ट का विषय आया था, तो मैं हैरान रह गया था। मुंबई में दूसरे एयरपोर्ट को लेकर नवंबर 1997 में पहली बार कमेटी बनी थी। तब से लेकर करीब-करीब 20 साल तक सिर्फ फाइलें ही इधर से उधर दौड़ती रहीं: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) December 18, 2018
इस बीच कितनी सरकारें आईं, कितनी चली गईं। लेकिन नवी मुंबई एयरपोर्ट की फाइल आगे नहीं बढ़ पाई: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) December 18, 2018
प्रगति की बैठक में Multiple Window बनाकर, सारे अफसरों, सारे विभागों को एक साथ, आमने-सामने लाकर, हमारी सरकार ने इस प्रोजेक्ट के सामने आ रहे सारे रोड़े दूर किए, और अब नवी मुंबई एयरपोर्ट पर तेजी से काम चल रहा है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) December 18, 2018
सोचिए, ये सिर्फ एक प्रोजेक्ट की कहानी है। और मैं फिर बता दूं, ऐसे ही 12 लाख करोड़ रुपए के प्रोजेक्ट्स को हम आगे बढ़ा चुके हैं। Surging India के पीछे, जो कार्यसंस्कृति में बदलाव आया है, ये उसका उदाहरण है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) December 18, 2018
पिछली सरकार Food Security Act लेकर आई, बहुत हल्ला किया गया, बहुत तालियां बटोरी गईं, लेकिन हम जब 2014 में सत्ता में आए तब तक सिर्फ 11 राज्यों के लोगों को ही इसका लाभ मिलता था: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) December 18, 2018
सोचिए इतनी तालियां बटोरने के बाद भी भारत की एक तिहाई जनता को इसका लाभ नहीं मिलता था। हमने आने के बाद सुनिश्चित किया कि पूरे भारत को इसका लाभ मिले : PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) December 18, 2018
हमारी सरकार, समस्याओं के स्थाई समाधान के लिए काम कर रही है, देश के सामने जो चुनौतियां हैं, उनके Permanent Solutions की ओर बढ़ रही है। हम ऐसी व्यवस्थाओं को तोड़ रहे हैं, खत्म कर रहे हैं, जिन्होंने दशकों से देश के विकास को रोक रखा था: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) December 18, 2018
भ्रष्टाचार को भारत में न्यू नॉर्मल मान लिया गया था। भारत में ये तो चलता ही है, इतना तो चलता ही है। अगर कोई सामने से आवाज़ उठाता था, नियम-कायदों की याद दिलाता था, तो सामने से तुरंत जवाब मिलता था कि, ये भारत है, यहां ऐसा ही चलता है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) December 18, 2018
ऐसा ही क्यों चलना चाहिए? स्थिति को वैसा ही क्यों रहना चाहिए? ऐसी स्थिति को बदलना क्यों नहीं चाहिए: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) December 18, 2018
पिछले 4 साढ़े चार साल में, मैं इसी स्थिति को बदलने का प्रयास कर रहा हूं, देश को पीछे ले जाने वाली बंदिशों को तोड़ने का काम कर रहा हूं। कुछ लोग देश को भ्रमित करने में जुटे हुए हैं। लेकिन मुझे सत्य की शक्ति पर भरोसा है, और सत्यनिष्ठ देशवासियों पर भरोसा है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) December 18, 2018
जब सार्वजनिक जीवन में सुचिता, पारदर्शिता हो और लोगों के लिए काम करने के प्रति, Conviction हो, कमिटमेंट हो तो बड़े और कड़े फैसले लेने का हौसला आता है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) December 18, 2018
हमारे देश में दशकों से जीएसटी की मांग थी। आज हम संतोष के साथ कह सकते हैं कि जीएसटी लागू होने के बाद बाजार की विसंगतियां दूर हो रही हैं और सिस्टम की कार्यक्षमता बढ़ रही है। अर्थव्यवस्था में पारदर्शिता की तरफ हम बढ़ रहे हैं: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) December 18, 2018
समाज के मेहनती औऱ उद्यमी लोग, जो बाजार से जुड़े हैं, उन्हें एक साफ-सुथरी, सरल, इंस्पेक्टर राज से मुक्त व्यवस्था मिल रही है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) December 18, 2018
पूरे भारत ने एक-मन होकर, इतने बड़े टैक्स रीफॉर्म को लागू करने के लिए प्रयास किया। हमारे कारोबारियों और लोगों के इसी जज्बे का परिणाम है कि भारत इतना बड़ा बदलाव करने में सफल हो सका: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) December 18, 2018
विकसित देशों में भी छोटे-छोटे टैक्स रीफॉर्म लागू करना आसान नहीं होता है।
— PMO India (@PMOIndia) December 18, 2018
जीएसटी लागू से पहले रजिस्टर्ड इंटरप्राइजेज की संख्या मात्र 66 लाख थी।
जो अब बढ़कर 1 करोड़ 20 लाख हो गई है: PM @narendramodi
शुरुआती दिनों में जीएसटी अलग-अलग राज्यों में वैट और एक्साइज की जो व्यवस्था थी, उसी की छाया में आगे बढ़ रहा था। जैसे-जैसे विचार-विमर्श हुआ, धीरे-धीरे इसमें भी बदलाव आते रहे: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) December 18, 2018
हमारा ये मत है कि GST को जितना सरल और सुविधाजनक किया जा सकता है, उसे किया जाना चाहिए: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) December 18, 2018
मेरा और मेरी सरकार की सोच और विजन स्पष्ट है। दुनिया का सबसे बड़ी युवा आबादी वाला देश छोटे सपने नहीं देख सकता: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) December 18, 2018
सपने, आकांक्षाएं और लक्ष्य तो ऊंचे ही होने चाहिए। हम बड़े लक्ष्य की तरफ ईमानदारी से प्रयास करेंगे, तो उसे प्राप्त भी करेंगे। लेकिन लक्ष्य ही छोटा रखोगे तो सफलता भी छोटी ही नजर आएगी: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) December 18, 2018
सरकार का पूरा सिस्टम, पूरी मशीनरी 70 वर्ष के सतत विकास से बनी है। 4 साढ़े 4 वर्ष पहले भी यही सिस्टम था, यही मशीनरी थी। लेकिन आज काम करने की स्पीड और स्केल दोनों कई गुणा बढ़ गए हैं: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) December 18, 2018
आज अनेक लक्ष्य ऐसे हैं जिनकी तरफ हम तेज़ी से आगे बढ़ रहे हैं। सबके पास अपना घर हो, हर घर में 24 घंटे रोशनी हो, साफ पानी और साफ ईंधन सबको सुलभ हो, इन लक्ष्यों के बहुत नज़दीक हम पहुंच रहे हैं: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) December 18, 2018
बच्चों को पढ़ाई, युवा को कमाई, बुज़ुर्गों को दवाई, किसान को सिंचाई और जन-जन की सुनवाई, इन लक्ष्यों की प्राप्ति के लिए एक-एक पल हमारा समर्पित है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) December 18, 2018
क्या चार साल पहले किसी ने सोचा था! pic.twitter.com/fJinJNT5Tu
— Narendra Modi (@narendramodi) December 18, 2018
Today there are two pictures in front of us.
— Narendra Modi (@narendramodi) December 18, 2018
First, the state of affairs before 2014.
Second, the state of affairs post 2014.
Take any parameter, the work done in the last four years is quick, effective and people-friendly. pic.twitter.com/tLuTKUHKkL
Today, India is a country that never stops.
— Narendra Modi (@narendramodi) December 18, 2018
न रुकेंगे, न धीमा पड़ेंगे, न थमेंगे: ये इंडिया ने ठान लिया है। pic.twitter.com/hmeMTVlwbN
Here is an example of how the work culture has changed in India today, indicative of a Surging India. pic.twitter.com/TguLVV92gt
— Narendra Modi (@narendramodi) December 18, 2018
GST marks a historic leap for the nation.
— Narendra Modi (@narendramodi) December 18, 2018
We firmly believe that GST must be as simple as possible and we are also working constantly in that direction. pic.twitter.com/FNUybx8uxl
सुनिए दो मित्र और शेर की मजेदार कहानी... pic.twitter.com/EMfCLlcYAk
— Narendra Modi (@narendramodi) December 18, 2018
पहले जब बड़ी कंपनियां बैंकों का पैसा नहीं लौटाती थीं, तो इनके मालिकों को कुछ नहीं होता था।
— Narendra Modi (@narendramodi) December 18, 2018
70 साल से देश में यही हो रहा था। जानते हैं क्यों? क्योंकि इन कंपनियों को खास सुरक्षा कवच मिला हुआ था।
2016 में Insolvency and Bankruptcy Code बनाकर मैंने इस सुरक्षा कवच को तोड़ दिया। pic.twitter.com/daf42riE9S