পিএমইন্ডিয়া

দেশের নানা প্রান্ত থেকে সমাগত সকল সম্মানিতদের আমি স্বাগত জানাই। আপনাদের সকলকে, গোটা দেশকে লোহরি উৎসব উপলক্ষে অনেক অনেক শুভেচ্ছা। এই উৎসব বিশেষ করে, আমাদের দেশের অন্নদাতা সাথীদের ফসল কাটার ঋতুর উৎসব, অনন্ত খুশির উৎসব হয়ে উঠুক, এই মঙ্গলকামনা করি।
বন্ধুগণ, আজ দেশ গুরু গোবিন্দ সিং-এর প্রকাশ পর্ব পালন করছে। খালসা পন্থের স্রষ্টা, মানবতার রক্ষাকর্তা, মানবিক মূল্যবোধের প্রতি সমর্পিত শ্রদ্ধেয় গুরু গোবিন্দ সিং-কে আমার সশ্রদ্ধ প্রণাম। দেশ ও বিশ্বের সর্বত্র বসবাসকারী শিখ পন্থাবলম্বী এবং ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি সমর্পিত প্রাণ প্রত্যেক ব্যক্তিকে শুভেচ্ছা জানাই।
বন্ধুগণ, গত বছর আমরা গুরু গোবিন্দ সিং-এর ৩৫০তম জন্মজয়ন্তী বর্ষ পালন করেছি। শিখ পন্থার এই গুরুত্বপূর্ণ উৎসবকে স্মরণীয় করে তোলার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর উদ্দেশে ৩৫০ টাকা মূল্যের স্মারক মুদ্রা সমর্পণ করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে।
এমনিতে আমাদের হৃদয়ে শত শত বছর ধরেই গুরু গোবিন্দ সিং-এর প্রভাব রয়েছে, আগামী অনেক শতাব্দীকাল ধরে তাঁর প্রভাব থাকবেও। তাঁর আদর্শ ও মূল্যবোধ আমাদের জীবনকে একইভাবে প্রেরণা যুগিয়ে যাবে, দেশবাসীর পক্ষ থেকে তাঁর স্মৃতিকে অবিনশ্বর করে রাখার জন্য এটা আমাদের ছোট্ট প্রচেষ্টা।
বন্ধুগণ, শ্রদ্ধেয় শ্রী গুরু গোবিন্দ সিং-এর ব্যক্তিত্ব অনেক দর্শনের সঙ্গমে গড়ে উঠেছে। তিনি গুরু তো ছিলেনই, একজন শ্রেষ্ঠ ভক্তও ছিলেন। তিনি যত ভালো যোদ্ধা ছিলেন, তত ভালো কবি ও সাহিত্য স্রষ্টা ছিলেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি যতটা অনমনীয় ছিলেন, ততটাই শান্তির জন্য আগ্রহী ছিলেন। মানবতা, রাষ্ট্র ও ধর্ম রক্ষার জন্য, তাঁর আত্মবলিদানের কথা সারা পৃথিবী জানে।
ইন পুত্রন কে কারণ, ওয়ার দিয়ে সুত চার ।
চার মুয়ে তো ক্যায়া হুয়া, জীবিত কই হাজার ।।
হাজারো সন্তানের রক্ষার জন্য যিনি নিজের সন্তান তথা বংশধরদের বলিপ্রদত্ত করেছেন, দেশ ও ধর্মকে রক্ষা করার জন্য ত্যাগ ও বলিদানের এর থেকে বড় উদাহরণ কী হাতে পারে!
বন্ধুগণ, অসীম বীরত্বের পাশাপাশি তাঁর ধৈর্য্যশক্তি ছিল অদ্ভুত। তিনি সংঘর্ষ করতেন কিন্তু অতুলনীয় ত্যাগের পরাকাষ্টা ছিলেন। তিনি অন্যায় ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লড়তেন। তিনি মানুষের মধ্যে উঁচু-নিচু, জাতপাতের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। আমাদের নতুন ভারত নির্মাণের ক্ষেত্রে এসব মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
বন্ধুগণ, গুরু গোবিন্দ সিং জ্ঞানকে কেন্দ্রে রেখে নিজে সংকলন করা ‘গুরু গ্রন্থ সাহিব’-এর প্রতিটি শব্দকে জীবনের মন্ত্র করে নিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে এখন থেকে ‘গুরু গ্রন্থ সাহিব’ এবং এর প্রতিটি শব্দ যুগ যুগ ধরে আমাদের প্রেরণা যোগাবে। ‘পঞ্চ প্যায়ারে’ এবং ‘খালসা পন্থ’-এর রচনায়ও সমগ্র ভারতকে ঐক্যসূত্রে বাধার প্রচেষ্টা ছিল।
গুরু গোবিন্দ সিং-এর দীর্ঘ সময়ের মনন-চিন্তন এবং অধ্যয়নের পরিণামে খালসা পন্থের বিকাশ ঘটেছিল। তিনি বেদ, পুরাণ এবং অন্যান্য প্রাচীন গ্রন্থ পাঠ করেছেন। গুরু নানক দেব থেকে শুরু করে তেগ বাহাদুর পর্যন্ত শিখ পন্থের পরম্পরা এবং মোঘল শাসনকালে শিখ পন্থের ইতিহাস সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানতেন। দেশ-সমাজে ঘটমান প্রতিটি ঘটনা সম্পর্কে তিনি নিজের মতামত লিপিবদ্ধ করেছেন।
বন্ধুগণ, আপনাদের মধ্যে অনেকেই হয়তো ‘শ্রী দশম গ্রন্থ সাহেব’ পড়েছেন। ভাষা এবং সাহিত্যে তাঁর অদ্ভুত দখল ছিল। জীবনের প্রতিটি রসের ব্যাখ্যা তিনি এমনভাবে করেছে যে এই গ্রন্থের শিক্ষা সাধারণ মানুষের হৃদয় স্পর্শ করে। এর রচনাশৈলী, অলঙ্কার, ছন্দ ও প্রবাহ মন্ত্রমুগ্ধ করার মতো। ভারতীয় ভাষাগুলি সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান এবং শেখার আগ্রহ ছিল অতুলনীয়।
বন্ধুগণ, শ্রদ্ধেয় গোবিন্দ সিং-এর কাব্য ভারতীয় সংস্কৃতির রূপরেখা, দেশের আধ্যাত্মিক জীবন দর্শনের সরল অভিব্যক্তি। তাঁর ব্যক্তিত্ব যেমন বহুমাত্রিক ছিল, তেমনই তাঁর কাব্যও অনেক এবং বিবিধ বিষয়কে ধারণা করে এবং প্রেরণা যোগায়।
বন্ধুগণ, যে কোন দেশের সংস্কৃতি সে দেশের মহিমাকে উজ্জ্বল করে, সমৃদ্ধ করে এবং এর প্রচার-প্রসার করা সর্বদাই বিশ্বের শক্তিশালী সভ্যতাগুলির অগ্রাধিকার ছিল। বিগত সারে চার বছর ধরে আমাদের দেশ সেই প্রচেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। ভারতের যে সাংস্কৃতিক জ্ঞানের ঐতিহ্য রয়েছে, তাকে বিশ্বের সর্বত্র পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। যোগ থেকে শুরু করে আয়ুর্বেদ পর্যন্ত আমাদের সংস্কৃতির প্রতিষ্ঠাকে পুনঃস্থাপিত করার ক্ষেত্রে আমারা সফল হয়েছি। এই প্রক্রিয়া নিরন্তর জারি রয়েছে।
বন্ধুগণ, বিশ্ববাসীর আরোগ্য, সমৃদ্ধি এবং শান্তি কামনা করে আমাদের ঋষি, মুনি ও গুরুরা যে শিক্ষা দিয়ে গেছেন, চেষ্টা করা হচ্ছে সেগুলি থেকে যেন বিশ্ববাসী উপকৃত হতে পারেন। আমরা গুরু গোবিন্দ সিং-এর ৩৫০তম জন্মজয়ন্তী বর্ষ মহাড়ম্বরে পালন করেছি, এখন গুরু নানক দেবের ৫৫০তম জন্মজয়ন্তী সমারোহের প্রস্তুতিও চলছে। এটা আমাদের সরকারের সৌভাগ্য যে আমরা এই পবিত্র সমারোহের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বিশেষ সুযোগ পেয়েছি।
কেন্দ্রীয় সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে এই প্রকাশোৎসব দেশের সকল রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে উদযাপনের পাশাপাশি সারা পৃথিবীতে আমাদের ভারতীয় দুতাবাসগুলিতেও পালন করা হবে।
শুধু তাই নয়, আপনারা জেনেছেন যে কেন্দ্রীয় সরকারের অভূতপূর্ব প্রচেষ্টার ফলে করতারপুর করিডর গড়ে উঠছে। এখন গুরু নানকের প্রদর্শিত পথের অনুসারী প্রত্যেক ভারতীয়, প্রত্যেক শিখ, দূরবীনে না দেখে কোনরকম ভিসা ছাড়াই সশরীরে নারোয়াল গিয়ে গুরুদ্বার দরবার সাহিব দর্শন করতে পারবেন।
১৯৪৭-এর আগস্টে যে ভুল হয়েছিল, এটি তার প্রায়শ্চিত্য। আমাদের গুরুর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থান মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূর রয়ে গেছে, আমাদের সঙ্গে নেওয়া হয়নি। এই করিডর সেই লোকসানকে কম করার একটি উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা।
বন্ধুগণ, গুরু গোবিন্দ সিং হোন কিংবা গুরু নানক দেব, আমাদের প্রত্যেক গুরু ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁদের প্রদর্শিত পথেই আজ কেন্দ্রীয় সরকার ১৯৮৪-তে হওয়া অন্যায়ের সুবিচার পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দশকের পর দশককাল ধরে আমাদের মা-বোনেদের ছেলে-মেয়েরা যে অশ্রুপাত করে চলেছেন তা মোছার কাজ, তাঁদের সুবিচার পাওয়ানোর দায়িত্ব এখন দেশের বিচার বিভাগ পালন করবে।
বন্ধুগণ, আজকের এই পবিত্র দিনে আরেকবার গুরু গোবিন্দ সিং-এর প্রদর্শিত ১১ সূত্রীয় পথে চলার প্রয়োজন রয়েছে। আজ যখন ভারত একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র রূপে স্থাপিত হওয়ার পথে এগিয়ে চলেছে, তখন ভারতীয় ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে।
আমার বিশ্বাস যে, আমরা সকল গুরুর প্রদর্শিত পথে আমাদের নতুন ভারতের সঙ্কল্পকে আরও শক্তিশালী করতে পারব।
আরও একবার আপনাদের সবাইকে প্রকাশ পর্ব উপলক্ষে অভিনন্দন জানাই। আপনাদের জন্য নতুন বছর অনেক খুশি নিয়ে আসুক, এই কামনা নিয়ে –
জো বোলে, সো নিহাল ! … সৎ শ্রী অকাল !
***
CG/SB/DM/
A tribute to Sri Guru Gobind Singh Ji. https://t.co/7xNCkqWgF7
— PMO India (@PMOIndia) January 13, 2019
I bow to Sri Guru Gobind Singh Ji on his Jayanti.
— Narendra Modi (@narendramodi) January 13, 2019
ਮੈਂ ਸਾਹਿਬ-ਏ-ਕਮਾਲ ਸਰਬੰਸ ਦਾਨੀ ਸਾਹਿਬ ਸ੍ਰੀ ਗੁਰੂ ਗੋਬਿੰਦ ਸਿੰਘ ਮਹਾਰਾਜ ਜੀ ਦੇ ਪ੍ਰਕਾਸ਼ ਪੁਰਬ ਦੀ ਸਮੂਹ ਸੰਗਤਾਂ ਨੂੰ ਵਧਾਈ ਦਿੰਦਾ ਹਾਂ ਤੇ ਗੁਰੂ ਸਾਹਿਬ ਅੱਗੇ ਸੀਸ ਝੁਕਾਉਂਦਾ ਹਾਂ। pic.twitter.com/Pt4k2BgLDS