Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

লোকসভায় রাষ্ট্রপতির অভিভাষণের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর জবাবি ভাষণ


লোকসভায় রাষ্ট্রপতির অভিভাষণের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ তাঁর জবাবি ভাষণ দেন। সাংসদদের তিনি তর্ক-বিতর্কে অংশ নিয়ে এক আলাদা মাত্রা যোগ করা এবং তাঁদের সুচিন্তিত মতামত পেশ করার জন্য ধন্যবাদ দেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের উদ্দেশ্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, তাঁর সরকার ভারতের সাধারণ মানুষের স্বার্থে কাজ করছে, মানুষের আশা-আকাঙ্খার প্রতি সংবেদনশীল, সৎ, স্বচ্ছ, দুর্নীতি বিরোধী এবং দ্রুত গতিতে উন্নয়নের পক্ষপাতি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, ভারতে বিগত চার বছরে লক্ষ্যণীয় অগ্রগতি হয়েছে। প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ থেকে ইস্পাত ক্ষেত্র, স্টার্ট আপ, দুগ্ধ ও কৃষি, বিমান পরিবহণ – প্রায় সব ক্ষেত্রেই ভারতের অগ্রগতি ছিল লক্ষ্যণীয়। ‘আমরা এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইস্পাত উৎপাদনকারী, দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফোন নির্মাতা, বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম মোটরগাড়ি নির্মাতা হয়ে উঠেছি। আমরা এখন বিপুল পরিমাণে শস্য উৎপাদনকারী দেশেও পরিণত হয়েছি।

তাঁর সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্যের কথা বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ৫৫ মাসে তাঁর সরকার কি সাফল্য পেয়েছে, তা সহজেই দেখা যাচ্ছে। আর বিগত ৫৫ বছরে কি হয়েছে, তাও দেখা গেছে। স্বাস্থ্য বিধান ক্ষেত্রে ৯৮ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে। দেশের মানুষের জন্য ১০ কোটির বেশি শৌচালয় নির্মিত হয়েছে। বিগত ৫৫ বছরে ১২ কোটি রান্নার গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। শেষ ৫৫ মাসে ১৩ কোটি রান্নার গ্যাসের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। উজ্জ্বলা যোজনায় দেওয়া হয়েছে ৬ কোটি। যে গতিতে কাজ হয়েছে এবং কাদের স্বার্থে এই কাজ করা হয়েছে, তা আপনারাই ঠিক করুন।

বিরোধীদের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, এক সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার কি কাজ করতে পারে, তা মানুষ দেখেছেন। তাঁরা ‘মহামিলাবট’ বা ভেজাল সরকার চান না, এমনকি এই সরকার সফলও হবে না।

শ্রী মোদী বলেন, যে কেউ তাঁর সম্বন্ধে খোলাখুলি সমালোচনা করতে পারেন, কিন্তু সমালোচনার সময়ে দেশের স্বার্থের কথাও মনে রাখতে হবে।

দুর্নীতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতিগ্রস্থ মানুষকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে তাঁর সরকার নিরন্তর কাজ করে চলেছে।

বেনামী আইন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকারের উদ্যোগেই বেনামী সম্পত্তি আইন কার্যকর হয়েছে। বেনামী সম্পত্তিধারী মানুষ এখন এই আইনের মাধ্যমে ধরা পড়ছেন।

রাফাল প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী যাবতীয় অভিযোগের বিশদে জবাব দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে যাঁরা বিতর্কের সূত্রপাত করেছিলেন, তাঁরা মনে করেন, প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত কোনও চুক্তি গোপন অভিসন্ধি বা উৎকোচ ছাড়া সম্পূর্ণ হতে পারে না।

অনুৎপাদক সম্পদ সম্পর্কে শ্রী মোদী বিগত সরকারকে দায়ী করে বলেন, এই পরম্পরা তাঁদেরই সৃষ্ট। যারা দেশ ছেড়েছে, তারা এখন হিসাবে ট্যুইটারে কান্নাকাটি করছে। ‘এদের বক্তব্য আমি ৭ হাজার ৮০০ কোটি টাকা নিয়েছি, কিন্তু সরকার আমার ১৩ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে’।

শ্রী মোদী আরও বলেন, সরকার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলির কাছ থেকে তহবিল সংক্রান্ত বিস্তারিত বিবরণ চেয়ে পাঠানোয় প্রায় ২০ হাজার এ ধরণের সংগঠনের কাজকর্ম বন্ধ হয়ে গেছে। ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা।

সাধারণ মানুষের জীবনযাপনের মানোন্নয়নে এনডিএ সরকারের কাজকর্মের খতিয়ান পেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারগুলির তুলনায় বর্তমান সরকার মূল্য বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করেছে।

এক স্বাস্থ্যকর ভারত গড়ে তুলতে তাঁর অঙ্গীকারের পুনরায় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওষুধপত্রের পাশাপাশি, চিকিৎসা পরিষেবা এবং অস্ত্রোপচারের খরচ কমানো হয়েছে।

কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, পরিবহণ ক্ষেত্রে সর্বাধিক কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিগত চার বছরে ৬ লক্ষের বেশি নতুন পেশাদার কর্মী বাহিনীতে যোগ দিয়েছেন। সাধারণ মানুষের জন্য বিপুল সংখ্যক কাজের সুযোগ তৈরি করেছেন। তিনি আরও জানান, ২০১৭-র সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৮-র নভেম্বর পর্যন্ত ১৫ মাসে কর্মচারী ভবিষ্যনিধি তহবিলের আওতায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ মানুষ অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এদের ৬৪ শতাংশের বয়স ২৮ বছরের কম। তিনি লোকসভাকে আরও জানান, জাতীয় পেনশন ব্যবস্থার আওতায় ১ কোটি ২০ লক্ষেরও বেশি মানুষ অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

ভারতের বৈদেশিক নীতি ভারত’কে বিশ্ব আঙিনার সম্মুখভাগে নিয়ে এসেছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের বক্তব্য কি, তা মানুষ শুনেছেন। তিনি জানান, প্যারিস চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার আগেও বিশ্বের ক্ষমতাবান নেতারা ভারতকে নিয়ে আলোচনা করতেন। ইজরায়েল ও প্যালেস্তাইনের পাশাপাশি, ভারত সৌদি আরব ও ইরানেরও বন্ধু হয়ে উঠতে চায় বলে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন।

ভারতের অগ্রগতিতে আগামী প্রজন্মের ভূমিকার প্রশংসা করে শ্রী মোদী বলেন, একবিংশ শতাব্দীতে যাঁরা জন্মগ্রহন করেছেন, তাঁরা ভোটদাতা হতে চলেছেন। এই প্রেক্ষিতে এরা সকলেই ভারতের অগ্রগতিতে উপযুক্ত রূপ দান করতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবেন।

ভারতবাসীর আশা-আকাঙ্খা তাঁর সরকার পূরণ করে চলবে, একথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণ শেষ করেন।

CG/BD/SB