Search

পিএমইন্ডিয়াপিএমইন্ডিয়া

সাম্প্রতিক সংবাদ

বিষয়টিকে সরাসরি পিআইবি থেকে নেওয়া হয়েছে

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাংস্কৃতিক সদ্ভাবনা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাংস্কৃতিক সদ্ভাবনা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ


এখানে উপস্থিত সমস্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাংস্কৃতিক সদ্ভাবনা পুরস্কারপ্রাপকদের আমি অন্তর থেকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই। এর মাধ্যমে শ্রী রাজকুমার সিংহজিৎ সিংহ, শ্রী রাম সুতার এবং বাংলাদেশের প্রখ্যাত ছায়ানট সংস্থা সম্মানিত হল। এই সম্মান কলা ও সংস্কৃতির সম্মান। এই সম্মান জ্ঞানের সম্মান।

 

সংস্কৃতি যে কোন দেশেরই প্রাণশক্তি। এর মাধ্যমেই রাষ্ট্রের পরিচয় এবং অস্তিত্ব শক্তিশালী হয়ে ওঠে। যে কোন রাষ্ট্রের সম্মান এবং তার আয়ু সংস্কৃতির পরিপক্কতা এবং সাংস্কৃতিক শিকড়ের শক্তি থেকেই নির্ধারিত হয়।

 

ভারতের রয়েছে হাজার হাজার বছরের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ঐতিহ্য যা, পরাধীনতার দীর্ঘ কালখণ্ড এবং বিদেশি শত্রুর আক্রমণকে প্রতিহত করেও প্রভাবিত হয়নি। এটা সম্ভব হয়েছে, স্বামী বিবেকানন্দ এবং গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো অনেক মণীষীর অবদানের ফলে।

 

ভারতের সাংস্কৃতিক সামর্থ্য একটি রঙিন মালার মতো যার প্রতিটি পুঁতি ভিন্ন ভিন্ন রঙের শক্তি প্রদান করে। এদেশের প্রতি ক্রোশে জল বদলায়, আর চার ক্রোশে বদলায় বাণী। এটাই ভারতকে রঙের বৈচিত্র্যে এবং নানা মাত্রায় সমৃদ্ধ করে।

 

ভারতের এই শক্তিকে গুরুদেব বুঝেছিলেন এবং রবীন্দ্র সঙ্গীতে এই বিবিধতাকে ধারণ করেছিলেন। রবীন্দ্র সঙ্গীত সমগ্র ভারতের রং-এ রঙিন যা ভাষার সীমা অতিক্রম করে শ্বাশত হয়ে উঠেছে।

 

গুরুদেব, লোক-কলা এবং ঐতিহ্যশালী নৃত্যসমূহকে এ দেশের বহুমাত্রিক সংস্কৃতির পরিচায়ক বলে মনে করতেন। শান্তিনিকেতনে গেলে বোঝা যায় তিনি মণিপুরী নৃত্য শিক্ষক নবকুমার সিংহের দ্বারা কতটা প্রভাবিত হয়েছিলেন।

 

আজ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সদ্ভাবনা পুরস্কারে সম্মানিত শ্রী রাজকুমার সিংহজিৎ সিংহ এই সমৃদ্ধ সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করছেন। রাজকুমারজি মণিপুরী নৃত্যের প্রচার ও প্রসারে সমর্পিত প্রাণ। তিনি মণিপুরী নৃত্য পরম্পরার মাধ্যমে দেশের সাংস্কৃতিক সদ্ভাবকে সমৃদ্ধ করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। আশা করি, ভবিষ্যতেও তিনি এক্ষেত্রে আরও অবদান রাখবেন। এই পুরস্কারের জন্য আমার পক্ষ থেকে তাঁকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা।

 

বন্ধুগণ, গুরুদেব সমস্ত সীমার ঊর্ধ্বে উঠতে পেরেছিলেন। প্রকৃতি এবং মানবতার প্রতি সমর্পিত গুরুদেব সমগ্র বিশ্বকে নিজের বলে ভাবতেন। বিশ্বও তেমনই তাঁকে আপন করে নিয়েছিল। আজও আফগান জনগণের মুখে মুখে ‘কাবুলিওয়ালা’র গল্প শোনা যায়। আজও বিশ্বের অনেক শহরে তাঁর নাম জড়িত অনেক স্মারক রয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর নামে বিশেষ চেয়ার রয়েছে। সাড়ে তিন বছর আগে আমি যখন তাজিকিস্তান গিয়েছিলাম, তখন সেখানে গুরুদেবের মূর্তি উদ্বোধনের সৌভাগ্য হয়েছিল।

 

বন্ধুগণ, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকা একটি বিরল ঘটনা। কিন্তু গুরুদেবের প্রতি শ্রদ্ধাই বিশ্বভারতীর সমাবর্তনে আমার সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহোদয়ার উপস্থিতিকে সুনিশ্চিত করেছিল।

 

গুরুদেবের সৃষ্টি করা গান ‘আমার সোনার বাংলা’ বাংলাদেশের পরিচয়, সে দেশের জাতীয় সঙ্গীত। ভারত এবং বাংলাদেশের এই যৌথ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে আজকের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাংস্কৃতিক সদ্ভাবনা পুরস্কারপ্রাপক ছায়ানট সংস্থা। ছায়ানট-এর মানবতাবাদী এবং সাংস্কৃতিক মূল্য গুরুদেবের ভাবনাগুলিকে অভিব্যক্ত করে। আমি তাদের আজকের এই সম্মানের জন্য অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই।

 

বন্ধুগণ, গুরুদেব সম্পর্কে বলতে গিয়ে আমি প্রায়ই তাঁর গুজরাটে কাটানো দিনগুলির কথা উল্লেখ করি। তাঁর দাদা আমেদাবাদের কমিশনার ছিলেন এবং তাঁর বাড়িতে থাকার সময় গুরুদেব অনেক কবিতা লিখেছিলেন। গুরুদেবের সৃষ্টি ‘জন-গণ-মন’ গানটির ভাবনা সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলকে ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’ রচনার ক্ষেত্রে প্রভাবিত করেছে।

 

আমি অত্যন্ত আনন্দিত, আজ একটি জায়গায় গিয়ে এই দুই মহাপুরুষকে আমরা মেলাতে পেরেছি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাংস্কৃতিক সদ্ভাবনা পুরস্কারপ্রাপক শ্রী রাম সুতার মহোদয় আজ গুরুদেব এবং সর্দার প্যাটেলের মধ্যে একটি সেতু হয়ে উঠেছেন। সুতার মহোদয়ের মহান সৃষ্টি ‘স্ট্যাচু অফ ইউনিটি’ আমাদের দেশকে গর্বিত করেছে। জাতীয় ঐক্যের ভাবনাকে মজবুত করা এবং প্রত্যেক ভারতীয়ের গর্ব বৃদ্ধিকারী শ্রী সুতারকে আমি এই মহতী পুরস্কার পাওয়ার জন্য অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই। একটু আগেই আমি তাঁর ভাষণ শুনছিলাম। বয়স ৯৩ পেরিয়ে গেছে কিন্তু, তাঁর ভাষণের মূলমন্ত্র ছিল ‘আমার আরও অনেক কিছু করার বাকি’। এই বক্তব্য দেশের প্রত্যেক যুবককে প্রেরণা যোগাবে।

 

বন্ধুগণ গুরুদেবের কৃতিত্ব এবং তাঁর বার্তা স্থান, কাল এবং পরিস্থিতির ঊর্ধ্বে। মানবতাকে রক্ষা করার জন্য তাঁর আগ্রহকে আজ আরও শক্তিশালী করে তোলার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। আজ বিশ্ব যে ধরণের সমস্যার সম্মুখীন, সেগুলি থেকে উত্তরণের জন্য গুরুদেবকে বেশি বেশি করে পড়া এবং তার থেকে শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। আজ তিনি আরও অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছেন।

 

আমি গুরুদেবের গুরুদেবের কাব্যাংশ উচ্চারণ করেই আজকের বক্তব্য শেষ করব। তিনি লিখেছিলেন –

 

“আমি শুয়ে স্বপ্ন দেখেছি জীবনানন্দ।

আমি জেগে দেখেছি জীবনের সেবা।

আমি সেবায় পেয়েছি – সেবাতেই আনন্দ।”

 

আমরা সবাই এই সেবাভাবকে সম্বল করেই দেশের সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করার কাজ করে যাব, এই আশা নিয়ে আরেকবার আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা।

 

আমি মাননীয় রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানাই, তিনি সময় বের করে আজকের এই অনুষ্ঠানের শোভাবর্ধন করেছেন। ভাই মহেশ শর্মাকে অভিনন্দন জানাই যে তাঁর বিভাগ অত্যন্ত সুচারুভাবে একটি পুরস্কারের মাধ্যমে সেই ভাবনাগুলিকে একত্রিত করার প্রচেষ্টায় সফল হয়েছেন।

 

অনেক অনেক ধন্যবাদ।

 

CG/SB/DM/