পিএমইন্ডিয়া
উপস্থিত সকল মাননীয় ব্যক্তিবর্গ,
শ্রদ্ধেয় নীতিশজী বিস্তারিতভাবে সকলের নাম বলেছেন, সেজন্য আমি পুনরাবৃত্তি করছি না, আপনাদের সকলকে সাদর সম্ভাষণ জানাই।
পাটনা উচ্চ আদালতের শতবার্ষিকী উদযাপন সমারোহের এটি সমাপ্তি অনুষ্ঠান। পাশাপাশি, নতুন শতাব্দীর দায়িত্বপালনের সূত্রপাত। গত শতাব্দীতে এই উচ্চ আদালত যে কৃতিত্বের শিখরগুলি স্পর্শ করেছিল, যে পরম্পরার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মনে বিশ্বাস বাসা বেঁধেছিল যে সকল কর্মসংস্কৃতির মাধ্যমে সমাজে আশার সঞ্চার হয়েছে, তার মধ্যে যেগুলি সর্বোত্তম সেগুলিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। পাটনার আগামী শতাব্দীকাল, এই উচ্চ আদালতের আগামী শতাব্দীকাল কেমন হবে, তার ভিত মজবুত রাখার দায়িত্ব এখানে উপস্থিত সকলের।
আমরা এই ভিত যত মজবুত রাখবো, ততই সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রতি, গণতন্ত্রের প্রতি দেশের সাধারণ মানুষের আস্থা গভীর হতে থাকবে। এ ধরনের সমারোহের তাৎপর্য এটাই, পাশাপাশি নতুন সংকল্পের অবসর গড়ে ওঠে। আমি আশা করি, আজ শতবার্ষিকী সমাপনে ‘বার’ কিংবা ‘বেঞ্চ’ প্রত্যেকেই কেমন করে নতুন ‘বেঞ্চমার্ক’ – এর দিকে এগিয়ে যাবে, যে আদালতে একশো বছরের ঐতিহ্য রয়েছে, আমার বিশ্বাস, সেই আদালত দেশকে অনেক কিছু দেওয়ার সামর্থ্য রাখে। এই আদালতের বার থেকে অনেক কৃতবিদ্য পুরুষ দেশকে সেবা করেছেন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আগামীদিনেও আপনারা এই পরম্পরা জারি রাখবেন।
আমাদের দেশে খুব কম প্রতিষ্ঠানেরি অর্ধশতাব্দী কিংবা শতবর্ষ পালন করা হয়। আমি যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম, একবার একটি গ্রামের স্কুলে গিয়েছিলাম। ঐ গ্রামে শিক্ষিতের হার ছিল বড় জোর ৩০-৩২ শতাংশ। অথচ, গ্রামের স্কুলটির বয়স কত জিজ্ঞেস করে শুনি ১২০ বছর। আমি অবাক হয়ে যাই। যে গ্রামে ১২০ বছর আগে একটি স্কুল শুরু হয়েছে সেই গ্রামের শিক্ষার হার ৩০-৩২ শতাংশে থেমে রয়েছে কেন? তখন আমার মনে একটি প্রতিস্পর্ধা জন্ম নেয়, এই ব্যবস্থায় প্রাণসঞ্চার করতে না পারলে, গতি না আনতে পারলে, আধুনিক না করতে পারলে আমরা সময়ের সঙ্গে পা মিলিয়ে চলতে পারবো না, সময়ের দাবিও পূরণ করতে পারবো না। সেজন্য গোটা ব্যবস্থার উন্নয়নকে প্রাণবন্ত করে তুলতে অনেক শক্তির প্রয়োজন, দীর্ঘ সময় ধরে যুঝতে হয়। সেইলক্ষ্যে, আমাদের একশো বছরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে পারে।
এখানে বসে বসেই ভাবছিলাম, এই ভাবনাকে আপনারা পরামর্শ হিসেবে নিতে পারেন, প্রত্যেক বছর আমাদের আদালতগুলি কি একটি বুলেটিন প্রকাশ করতে পারে! এতে লেখা থাকবে, এই আদালতে বর্তমানে সর্বাধিক প্রাচীন মামলাটি এতটা পুরোনো, মনে করুন, ৪০ বছর বা ৫০ বছর পুরোনো। এতে একটি সংবেদনশীলতা তৈরি হবে। ফলে, সমাজে এই বিষয় নিয়ে, এর কারণ নিয়ে আলাপ-আলোচনা হবে, বারে বসে উকিলরা ভাববেন, আমরা এতো বছর ধরে এই বারে বসে আছি, এই মামলাটির নিষ্পত্তির জন্য কিছু করা উচিৎ! এমন একটা পরিবেশ তৈরি হলে তার পরিণাম লক্ষ্যণীয়, তা আমাদের পরিকল্পনা-মাফিক কাজ করার প্রেরণা যোগাবে। এ কাজ কঠিন নয়, অন্যায়ও নয়। আজ যাঁরা বসে আছেন ৫০ বছর পুরোনো মামলার নিষ্পত্তি না হওয়ার জন্য তাঁরা কেউই ব্যক্তিগতভাবে দায়ী নন। যাঁরা দায়ী তাঁরা প্রত্যেকেই অবসরে কিংবা প্রলোকে চলে গেছেন। কিন্তু এরফলে, পুরোনো মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ার চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসার একটি মানসিক পরিবেশ গড়ে উঠবে।
দ্বিতীয়ত, আজকাল আপনারা যে তথ্য প্রযুক্তির সাহায্য নিতে পারেন, সেই সৌভাগ্য পুরনো বার সদস্যদের ছিল না। তখন যে কোনও জটিল মামলা লড়তে দীর্ঘ সময় নানা রেফারেন্সের খোঁজে গবেষণায় অনেক সময় চলে যেত। আজ গুগল খোঁজের মাধ্যমে সহজেই উপযুক্ত কোনও মামলার রায় তুলে ধরে আপনারা নিজের মক্কেলের পক্ষে বিচার চাইতে পারেন। সেজন্য আমাদের বার, আমাদের বেঞ্চ, আমাদের আদালতকে আমরা কতটা প্রযুক্তি-বান্ধব ও প্রযুক্তি নির্ভর করে গড়ে তুলতে পারি, কত দ্রুত আমাদের ব্যবস্থায় ডিজিটাল সিস্টেমকে অপরিহার্য করে তুলতে পারি, তার ওপর নির্ভর করছে সওয়াল-জবাব, বিচার এবং বিচারের পরিসরে অনেক বড় আমূল পরিবর্তন আসার ক্ষেত্রে কত দ্রুত এগিয়ে যাওয়া যায়। আমাদের সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে।
আমাদের দেশের স্বাধীনতার আন্দোলনে সর্বাধিক নেতৃত্ব দিয়েছেন উকিল-ব্যরিস্টাররাই। বার সদস্যদের অনেকেই স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। নিজের আইনি বুদ্ধি ও মেধা প্রয়োগ করে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে তাঁরা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তারপরও নানা রাষ্ট্রীয় সংকটের সময় বার সদস্যরা আওয়াজ তুলেছেন, আদালত ভারতের মতো বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশের গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, ভারতের অখণ্ডতাকে নিশ্চিত করেছে। আজ আবার তেমনই আন্দোলন শুরু করার সময় এসেছে। আপনারা সময়ের দাবি মেনে এই আন্দোলন শুরু করলে বড় পরিবর্তন আনতে পারবেন।
কখনও কোনও Intuit গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে কিভাবে পরিবর্তন আসে। একটি ঘটনা আমার হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছিল, যা আজ আপনাদের বলতে চাইবো। কয়েক মাস আগে যুক্তরাজ্য সফরকালে আমাকে সেদেশের প্রধানমন্ত্রী একটি সনদ উপহার দিয়েছেন। বার-এর সনদ-এর একটি ইতিহাস আছে। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে দুটি ভিন্ন ধারা ছিল – অহিংস আন্দোলন আর সশস্ত্র সংগ্রাম। সশস্ত্র সংগ্রামের বিপ্লবী গুরুদের অন্যতম ছিলেন শ্যামজী কৃষ্ণবর্মা। লন্ডনের আদালতে ওকালতি করতেন আর ব্রিটিশ সরকারের নাকের কাছে বসেই বিপ্লবী কার্যকলাপ চালিয়ে যেতেন। মদনলাল ধিংড়ার মতো অনেক বিপ্লবী তাঁর অনুগামী ছিলেন। সেজন্য ১৯২০ সালে ব্রিটিশ আদালত তাঁর বার সনদ তুলে নেয়। সেই ঘটনার প্রায় একশো বছর পর বিগত সফরে যখন সেই আদালত ঘুরতে গেলাম তাঁরা সেই সনদ সসম্মানে ভারতের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। এখন ভাবুন, শতাব্দীকাল পর শ্যামজী কৃষ্ণবর্মার কোনও আত্মীয়-স্বজনও সেদেশে নেই কিন্তু তাঁর বারের উত্তরাধিকারীদের মনে হয়েছে যে এটা অন্যায় হয়েছিল, আর তাঁরা এই Initiative নিয়েছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাজ্য গেলে তাঁর হাতে এক সনদ সসম্মানে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করেছেন।
মানবিক মূল্যবোধের প্রতিবদ্ধতা সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক স্তরের চিন্তা-ভাবনা। আমরা এসব নিয়ে কেমন করে এগিয়ে যাবো?
এই আদালতের শতাব্দীকাল সমাপন সমারোহের মাধ্যমে একটি নতুন শতাব্দীকালের সূচনাও ঘটছে। এই সময়ে আপনাদের সকলকে শুভেচ্ছা জানাই। দেশ আপনাদের কাছ থেকেও অনেক আমানত পাবে। এই প্রত্যাশা নিয়ে আপনাদের অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই।
PG/SB/SB
In the last 100 years this HC scaled new heights. I hope the best aspects are carried forward in the years to come: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) March 12, 2016
This is also a time for new resolves and to think of new benchmarks: PM @narendramodi at Patna HC https://t.co/Iy8hu3Nre5
— PMO India (@PMOIndia) March 12, 2016
In the present we have something that we didn't earlier: the power of technology. Let's make the bar, bench & court tech savvy: PM
— PMO India (@PMOIndia) March 12, 2016
Quality of argument and judgment will improve with technology being used actively: PM @narendramodi https://t.co/Iy8hu3Nre5
— PMO India (@PMOIndia) March 12, 2016